প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা, জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে আনার লক্ষ্যে পিরোজপুরে জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (২৭ জুলাই ২০২৬) সকাল ১০:০০ ঘটিকায় জেলা প্রশাসনের আয়োজনে পিরোজপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ‘শহীদ আব্দুর রাজ্জাক-সাইফ মিজান স্মৃতি’ সভাকক্ষে এই সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবু সাঈদ।
সভায় জেলার সার্বিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করা হয়। প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় আগাম পূর্বপ্রস্তুতি, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার জনগণকে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে স্থানান্তর, সাইক্লোন শেল্টার বা আশ্রয়কেন্দ্রগুলোর ব্যবহারোপযোগিতা নিশ্চিতকরণ, পর্যাপ্ত ত্রাণসামগ্রী মজুত ও সুষম বণ্টন এবং জরুরি সেবার প্রস্তুতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। একই সাথে যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে উদ্ধার কার্যক্রম দ্রুত ও মসৃণ করতে সকল দপ্তরের মধ্যে নিবিড় সমন্বয়ের ওপর জোর দেওয়া হয়।
সভাপতি ও জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ তাঁর বক্তব্যে বলেন, "দুর্যোগের সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে আনতে আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সহায়তার কোনো বিকল্প নেই।" তিনি দুর্যোগ মোকাবিলায় জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির আওতাধীন সকল দপ্তরকে সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালনের কঠোর নির্দেশনা প্রদান করেন।
সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকবৃন্দ, জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধানগণ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধিবৃন্দ, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, স্বাস্থ্য বিভাগ এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রতিনিধিসহ জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সম্মানিত সদস্যবৃন্দ।
সভায় উপস্থিত সকল সদস্য জনগণের জানমাল রক্ষায় সর্বোচ্চ প্রস্তুতি গ্রহণ, তথ্য আদান-প্রদান ব্যবস্থা সচল রাখা এবং যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রতিটি দপ্তরকে সর্বদা সজাগ ও প্রস্তুত থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
ছবি: সংগৃহীত
খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুকৃবি) নতুন ভিসি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি সম্প্রসারণ শিক্ষা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আসাদুজ্জামান সরকার।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সরকারি সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা থেকে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্যের অনুমোদনক্রমে খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০১৫-এর ১০(১) ধারা অনুযায়ী ড. মো. আসাদুজ্জামান সরকারকে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
নিয়োগের শর্ত অনুযায়ী, তিনি যোগদানের তারিখ থেকে চার বছর অথবা অবসর গ্রহণের তারিখ যেটি আগে হবে, সে সময় পর্যন্ত উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করবেন।
এ ছাড়া তিনি বর্তমান পদের সমপরিমাণ বেতন-ভাতা পাবেন এবং বিধি অনুযায়ী পদসংশ্লিষ্ট অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে তাঁকে সার্বক্ষণিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবস্থান করতে হবে।
প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, প্রয়োজন হলে রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য যেকোনো সময় এ নিয়োগ বাতিল করতে পারবেন।
জনস্বার্থে এ আদেশ জারি করা হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।
এর আগে পৃথক প্রজ্ঞাপনে খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সদ্য সাবেক উপাচার্য ড. মো. নাজমুল আহসানকে অব্যাহতি দেওয়ার তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, ২০২৪ সালের ২৯ অক্টোবরের প্রজ্ঞাপনের (ঙ) নম্বর শর্তানুসারে এবং খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০১৫ এর ১০(১) ধারা অনুযায়ী তাকে উক্ত পদ হতে অব্যাহতি দেওয়া হলো। একইসঙ্গে তাকে তার মূল পদ—খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন রিসোর্স টেকনোলজি ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক হিসেবে পুনরায় যোগদানের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
ছবি: সংগৃহীত
প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা, জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে আনার লক্ষ্যে পিরোজপুরে জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (২৭ জুলাই) সকাল ১০:০০ ঘটিকায় জেলা প্রশাসনের আয়োজনে পিরোজপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ‘শহীদ আব্দুর রাজ্জাক-সাইফ মিজান স্মৃতি’ সভাকক্ষে এই সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবু সাঈদ।
সভায় জেলার সার্বিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করা হয়। প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় আগাম পূর্বপ্রস্তুতি, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার জনগণকে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে স্থানান্তর, সাইক্লোন শেল্টার বা আশ্রয়কেন্দ্রগুলোর ব্যবহারোপযোগিতা নিশ্চিতকরণ, পর্যাপ্ত ত্রাণসামগ্রী মজুত ও সুষম বণ্টন এবং জরুরি সেবার প্রস্তুতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। একই সাথে যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে উদ্ধার কার্যক্রম দ্রুত ও মসৃণ করতে সকল দপ্তরের মধ্যে নিবিড় সমন্বয়ের ওপর জোর দেওয়া হয়।
সভাপতি ও জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ তাঁর বক্তব্যে বলেন, "দুর্যোগের সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে আনতে আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সহায়তার কোনো বিকল্প নেই।" তিনি দুর্যোগ মোকাবিলায় জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির আওতাধীন সকল দপ্তরকে সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালনের কঠোর নির্দেশনা প্রদান করেন।
সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকবৃন্দ, জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধানগণ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধিবৃন্দ, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, স্বাস্থ্য বিভাগ এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রতিনিধিসহ জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সম্মানিত সদস্যবৃন্দ।
সভায় উপস্থিত সকল সদস্য জনগণের জানমাল রক্ষায় সর্বোচ্চ প্রস্তুতি গ্রহণ, তথ্য আদান-প্রদান ব্যবস্থা সচল রাখা এবং যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রতিটি দপ্তরকে সর্বদা সজাগ ও প্রস্তুত থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ সোসাইটি অফ মেডিসিন এবং খুলনা মেডিকেল কলেজের মেডিসিন বিভাগের উদ্যোগে ‘ডেঙ্গুর বর্তমান পরিস্থিতি ও হালনাগাদ ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক সেমিনার মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু।
প্রধান অতিথি বলেন, সর্বশক্তি নিয়োগ করে সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে একটি পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও বাসযোগ্য খুলনা মহানগরী গড়ে তোলা হবে। ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় চিকিৎসকসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে আরও সচেতন ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ডেঙ্গুর প্রকোপ শুরু হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে রোগীদের ব্যবস্থাপত্র প্রদান, প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ এবং মশক নিধন কার্যক্রম ইতোমধ্যে জোরদার করা হয়েছে।
তিনি বলেন, মাঠপর্যায়ের সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানের জন্য প্রতিদিন দুই দফায় কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। আমাদের লক্ষ্য, কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে রোগীর সংখ্যা কমিয়ে আনা, যাতে হাসপাতালে রোগীর চাপ কম থাকে।
জলাবদ্ধতা নিরসনের বিষয়টিকে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে প্রশাসক বলেন, এ সমস্যা সমাধানে আমরা ধারাবাহিকভাবে কাজ করছি এবং ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছি। ডেঙ্গু মোকাবিলায় আগামীকাল থেকে নতুন উদ্যমে এবং দ্বিগুণ শক্তি নিয়ে আরও বিস্তৃত ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বাংলাদেশ সোসাইটি অফ মেডিসিন খুলনা শাখার আহবায়ক প্রফেসর ডা. পরিতোশ কুমার রায়ের সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. গোলাম মাসুদ, মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের পরিচালক ডা. কাজী আইনুল ইসলাম, খুলনা মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সৈয়দ আমানুল ইসলাম ও হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. সুজাত আহমেদ। স্বাগত বক্তৃতা করেন বাংলাদেশ সোসাইটি অফ মেডিসিন খুলনা শাখার সদস্য সচিব ও সহযোগী অধ্যাপক (মেডিসিন) ডা. শেখ মোয়াজ্জেম হোসেন।
ডেঙ্গু বিষয়ক কী-নোট পেপার উপস্থাপন করেন খুলনা মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক (মেডিসিন) ডা. মো: নজরুল ইসলাম, সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো: নাজমুল কবির ও ডা. মোহাম্মদ কবীর উল ইসলাম। ধন্যবাদ জানান অপসোনিন ফার্মা লি. এর ডেপুটি সেলস ম্যানেজার অসিম কুমার ভৌমিক।
ছবি: নিউজ বাংলা
নারায়ণগঞ্জ সদর থানায় দায়ের করা পুলিশের গাড়ি বহরে হামলার মামলায় আদালতে হাজিরা দিয়ে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুরে নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নুরুল হুদা চৌধুরীর আদালতে তিনি হাজিরা দেন।
আদালতে হাজিরা শেষে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেন, নির্দোষ হয়েও আমি অপরাধী। নারায়ণগঞ্জে আমি সব সময় প্রতিবাদ করেছি হত্যা, অন্যায় ও জুলুমের বিরুদ্ধে- আর আজকে আমি-ই কী অপরাধী? এটার বিচারে আমার আল্লাহ আছেন, নারায়ণগঞ্জবাসী আছেন- তারা দেখবেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে কোট পুলিশের পরিদর্শক আব্দুস সালাম বলেন, সদর থানার একটি মামলায় সেলিনা হায়াৎ আইভীর হাজিরার নির্ধারিত তারিখ ছিল। সেই মামলায় তিনি আজ আদালতে হাজিরা দিয়েছেন। এই মামলায় তিনি ইতোমধ্যে জামিনে রয়েছেন।
আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আওলাদ হোসেন বলেন, পুলিশের গাড়ি বহরে করা হামলার মামলায় ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী হাইকোর্ট থেকে ইতিমধ্যে জামিন পেলে তা চেম্বার কোর্টে যায়। সেখানে পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চের আপিল বিভাগে জামিনের রুল নিষ্পত্তি হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আজকে ওনার হাজিরা ছিল। যেহেতু উনি দীর্ঘদিন কারাবাসী ছিলেন, শারীরিক অসুস্থ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সার্বিক দিক বিবেচনা করে আসামির পরিবর্তে আইনজীবী হাজিরা প্রদান করবে এই মর্মে গত তারিখে আদালতে দরখাস্ত দাখিল করা হয়। আজ শুনানি শেষে অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত আমাদের সেই আবেদন মঞ্জুর করেছেন। ফলে আগামীতে আসামির পরিবর্তে তার আইনজীবীরা হাজিরা প্রদান করবে। যতদিন পর্যন্ত মামলাটি বিচারের জন্য সংশ্লিষ্ট আদালতে না নেওয়া হয় ততদিন পর্যন্ত আসামির পরিবর্তে আইনজীবীরা হাজিরা প্রদান করতে পারবে।
এর আগে গত বছরের ৯ মে ভোরে নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগের নিজ বাসা থেকে আইভীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রেফতার করে নিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়ি বহরে হামলা হয়। সেই ঘটনায় মামলা হলে আইভীকে আসামি করা হয়।
পরে তাঁকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের ঘটনায় হওয়া তিনটি হত্যা মামলা ও দুটি হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। পরে দফায় দফায় মোট ১২টি মামলায় আইভীকে গ্রেফতার দেখানো হয়। আর এসব মামলায় তিনি দীর্ঘদিন কারাভোগ করার পর গত ৩ জুন তিনি জামিনে কারামুক্ত হন।
ছবি: সংগৃহীত
আওয়ামী লীগ সরকারের সময় অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত ১ হাজার ৫২২ জন পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যকে পুনর্বহালের দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে ‘ভিকটিম পুলিশ পরিবার’। সোমবার এই কর্মসূচি পালন করেন ভুক্তভোগীরা। এসময় তারা প্রধানমন্ত্রীর মানবিক হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
চাকরিচ্যুত পুলিশ সদস্যরা বলেন, কোনো সুনির্দিষ্ট অপরাধ, শৃঙ্খলাভঙ্গ বা দুর্নীতির অভিযোগ ছাড়াই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ১ হাজার ৫২২ জন পুলিশ সদস্যকে চাকরিচ্যুত ও বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়।
এতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক, মানসিক ও অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে রয়েছে। তাদের দাবি, সরকার পরিবর্তনের পর তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মানবিক বিবেচনায় পুনর্বহালের পক্ষে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত ও আদেশ দিলেও তা এখনও বাস্তবায়ন হয়নি।
ফলে চাকরিচ্যুত পুলিশ সদস্য ও তাদের পরিবারের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। এমতাবস্থায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মানবিক বিবেচনায় পুনর্বহালের আদেশ বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি ও মানবিক হস্তক্ষেপ কামনা করছেন তারা।
ছবি: নিউজ বাংলা
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার রাজকান্দি রেঞ্জের সংরক্ষিত বনাঞ্চল রক্ষায় বন বিভাগের আইনানুগ উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে এক জটিল ও বিতর্কিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বিশাল সরকারি বনভূমি জবরদখল মুক্ত করতে প্রশাসন ধারাবাহিকভাবে একের পর এক অভিযান চালালেও, স্থানীয় একটি প্রভাবশালী ভূমি দখলকারী চক্র ও অসৎ স্বার্থান্বেষী মহল অভিযানকে থামিয়ে দিতে নানামুখী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মাধ্যমে অসত্য, বিকৃত ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে বন কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগতভাবে লক্ষ্যবস্তু করছে এবং জনমনে চরম বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে। উচ্ছেদ অভিযানের পর ঢালাওভাবে গাছ কাটার সংখ্যা বাড়িয়ে বলা এবং কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা চাঁদা দাবির নাটক সাজানো হলেও, গভীর অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে অভিযোগের চরম অসংগতি ও দখলদারদের আসল চক্রান্ত।
গাছের সংখ্যা ও চাঁদার দাবিতে অসংগতির পাহাড়
উচ্ছেদ অভিযানের পরপরই একটি সুনির্দিষ্ট পক্ষ বিভিন্ন মাধ্যমে সোরগোল তোলে যে অভিযানে ১,২০০টি ফলন্ত মালটা ও কমলা গাছ কেটে সাবাড় করা হয়েছে। তবে ঘটনার তীব্রতায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনায় গঠিত উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি সরেজমিন পরিদর্শন ও মোথা গণনায় দেখতে পায়, কেটে ফেলা গাছের প্রকৃত সংখ্যা ৬২৫টি। অর্থাৎ জনমত নিজেদের পক্ষে টানতে তথ্যের চরম অতিরঞ্জন করা হয়েছে।
একইভাবে চাঁদা না দেওয়ার কারণে গাছ কেটে ফেলা হয়েছে—এমন মনগড়া অভিযোগ তোলে দখলদার আলীম উল্ল্যা ও তার পরিবার। কিন্তু অনুসন্ধানে তাদের নিজ নিজ বক্তব্যের মধ্যেই একাধিক হাস্যকর বৈপরীত্য ধরা পড়ে।
আলীম উল্ল্যার নিজের দাবি, চাঁদার অঙ্ক ছিল ৫ লাখ টাকা।
আলীম উল্ল্যার স্ত্রী সালমা বেগম দাবি করেন, বন বিভাগ তাদের কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা চেয়েছিল।
আলীম উল্ল্যার পিতা মহেব উল্লা সম্পূর্ণ নতুন গল্প ফাঁদে দাবি করেন, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ৩ দফায় ইতোমধ্যে ৮৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে।
সবচেয়ে তাজ্জব বিষয় হলো, পরিবারটি দাবি করে তারা গত ৩ বছর ধরে রেঞ্জ কর্মকর্তা প্রীতম বড়ুয়া ও বিট কর্মকর্তা অর্জুন কান্তি দস্তিদারের কাছে নিপীড়িত হচ্ছে এবং নিয়মিত টাকা দিয়ে আসছে। অথচ দাপ্তরিক রেকর্ড বলছে—প্রীতম বড়ুয়া কর্মস্থলে যোগ দিয়েছেন মাত্র ৭ মাস এবং অর্জুন কান্তি দস্তিদার ১৭ মাস আগে। পরবর্তীতে জেরা করা হলে মহেব উল্লা নিজেই স্বীকার করেন, রেঞ্জ কর্মকর্তাকে তারা কখনোই কোনো টাকা দেননি। এমনকি যার মাধ্যমে টাকা হস্তান্তরের দাবি করা হয়েছিল, সেই ভাগিনা আব্দুস সালাম স্পষ্ট জানিয়েছেন, টাকা লেনদেনের পুরো বিষয়টি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ও মিথ্যা।
মূলত উচ্ছেদ অভিযানটি কোনো আকস্মিক ঘটনা ছিল না, বরং এর পেছনে রয়েছে সরকারি কর্মকর্তাদের ওপর হামলার গুরুতর অপরাধ।
অনুসন্ধানে জানা যায়, আলীম উল্ল্যা সরকারি খাসিয়া ও বাঙালি ভিলেজারদের জন্য বরাদ্দকৃত ভূমির বাইরে গিয়ে কোনো অনুমোদন ছাড়াই প্রায় ৫ একর সংরক্ষিত বনভূমি জবরদখল করেন। সেখানে তিনি টিলা কেটে পুকুর নির্মাণ ও ফিসারি বানান।
সম্প্রতি তারা বনের ভেতর মাটি কেটে আরও একটি বিশাল গর্ত খনন শুরু করলে বিট কর্মকর্তা অর্জুন কান্তি দস্তিদারের নেতৃত্বে টহল দল বাধা দেয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে দখলদারেরা বনকর্মীদের ওপর অতর্কিত আক্রমণ চালায়। এতে বনকর্মী শাহিনুর আলম গুরুতর আহত হন এবং আসামিরা বনকর্মী শাহ আলমের সাথে থাকা সরকারি অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালায়। আইনশৃঙ্খলার এই গুরুতর লঙ্ঘনের পর বন আইনে মামলা হয় এবং যৌথ বাহিনীর মাধ্যমে বৃহৎ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়।
রাজকান্দি বন রেঞ্জের আদমপুর, কামারছড়া ও কুরমা বিটের প্রায় ৬ হাজার একর সংরক্ষিত বনভূমি দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ পানের বরজ, রিসোর্ট ও অন্য বাণিজ্যিক কাজে জবরদখল হয়ে আছে। বিশাল এই বনাঞ্চল পাহারায় জনবল অত্যন্ত অপ্রতুল—যেমন আদমপুর বিটের ১৩ হাজার ৮০ হেক্টর বনভূমি রক্ষায় আছেন মাত্র একজন বিট কর্মকর্তা ও চারজন বনপ্রহরী।
এমন সীমাবদ্ধতার মধ্যেও রেঞ্জ কর্মকর্তা প্রীতম বড়ুয়া দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে অদম্য সাহসিকতার সাথে একের পর এক অভিযান পরিচালনা করে আসছেন। সাম্প্রতিক সময়েই কামারছড়া, আদমপুর ও কুরমা বিট থেকে কয়েক একর সংরক্ষিত জমি উদ্ধার, অবৈধ টিনের ঘর ও পানের বরজ ধ্বংস এবং চা বাগানের ক্ষতি বাবদ ৯ লাখ ৪ হাজার ৩৭৬ টাকা সরকারি রাজস্ব আদায় করা হয়েছে।
ঘটনার সুরাহায় গঠিত ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (যুগ্মসচিব) আশরাফুর রহমান জানান, সরেজমিনে ভুক্তভোগী, বন বিভাগ ও স্থানীয়দের বক্তব্য পর্যালোচনা করে দ্রুত সরকারের নিকট প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।
এদিকে এলাকার সচেতন মহলের মতে, রাষ্ট্রীয় বন সম্পদ রক্ষা করা কোনো একক বিভাগের বিষয় নয়, এটি সার্বজনীন জাতীয় দায়িত্ব। কিন্তু দায়িত্ব পালনকালে বন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অসত্য ও বানানো চাঁদার নাটক সাজিয়ে তাদের মানসিকভাবে কোণঠাসা করার এই সংস্কৃতি অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। ভূমি দখলকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়ে সরকারি উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রাখাই এখন সময়ের দাবি।
মন্তব্য