× হোম রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া সিটিজেন জার্নালিজম বিচিত্র ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য আফগানিস্তান ১৫ আগস্ট কী-কেন স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও যৌনতা-প্রজনন ইউরোপ অন্যান্য উদ্ভাবন প্রবাসী আফ্রিকা ক্রিকেট শারীরিক স্বাস্থ্য আমেরিকা দক্ষিণ এশিয়া সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ মানসিক স্বাস্থ্য ব্লকচেইন অন্যান্য ভাষান্তর ফুটবল অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
In Jeevannagar there is no relief in vegetables and fish and meat markets
google_news print-icon
টানা বৃষ্টিপাতের প্রভাব

জীবননগরে সবজিতে অস্বস্তি, স্বস্তি নেই মাছ ও মাংসের বাজারেও

জীবননগরে-সবজিতে-অস্বস্তি-স্বস্তি-নেই-মাছ-ও-মাংসের-বাজারেও
বিপাকে নিম্ন আয়ের মানুষ

চলতি বর্ষা মৌসুমে টানা বৃষ্টিপাতের প্রভাবে নষ্ট হয়ে গেছে অধিকাংশ সবজি ক্ষেত। বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ায় চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে সব ধরনের সবজির দাম এখন আকাশ ছোঁয়া। এক সপ্তাহের ব্যবধানে বেগুনের দাম বেড়েছে দ্বিগুণ। তিনগুণ ঝাঁঝ বেড়েছে কাঁচা মরিচের। তাছাড়াও প্রতিটি সবজির দাম কেজি প্রতি ২০ থেকে ৫০ টাকা বেড়েছে। স্বস্তি নেই মাছ ও মুরগির মাংসের দোকানেও। এতে চরম বিপাকে পড়েছে নিম্ন আয়ের মানুষ।

জীবননগর উপজেলার উথলী বাসস্ট্যান্ডে সাপ্তাহিক কাঁচা বাজারে গিয়ে একই চিত্র চোখে পড়ে। সবজির দাম বেড়ে যাওয়াতে কমে গেছে ক্রেতাদের সংখ্যা। বাজার ঘুরে দেখা যায় বেগুন ৬০-৭০ টাকা কেজি থেকে বেড়ে হয়েছে ১২০ টাকা। কাঁচামরিচের দাম তিনগুণ বেড়ে ৩০০-৩২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে পটল ও ধেড়সের দাম ২০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৬০ টাকা, ৪০ টাকার শশার দাম বেড়ে হয়েছে ৮০ টাকা, কলা ও মিষ্টিকুমড়ার দাম কেজিতে বেড়েছে ২০ টাকা, পেপে ১০ টাকা কেজি থেকে বেড়ে হয়েছে ২৫ টাকা, রসুনের দাম কেজিতে বেড়েছে ২০ টাকা, কচু বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা কেজি, ছোট সাইজের লাউ ৫০-৬০ টাকা পিচ বিক্রি হচ্ছে, তাছাড়াও শাকের আঁটিতে ১০ টাকা করে দাম বেড়েছে।

তবে আলু, পেঁয়াজ, আমড়া, করোলা, ওলসহ কিছু সবজির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

মাছের বাজারে তেলাপিয়া মাছ ১৭০-১৮০ টাকা থেকে বেড়ে ২২০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। পাঙ্গাশ, রুই, কাতলা, মৃগেল, পোনা মাছ কেজিতে ৩০-৪০ টাকা বেড়েছে। দেশি প্রজাতির মাছগুলো ৮০০-১০০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।

মুরগির মাংসের দোকানে গিয়ে দেখা যায় বয়লার মুরগীর দাম ১৬০-১৭০ টাকা কেজি থেকে বেড়ে ১৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। লেয়ার মুরগি ৪০০ ও সোনালী মুরগি ৩৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

বিক্রেতারা জানান, টানা বৃষ্টিপাতের প্রভাবে হঠাৎ করে বাজারে সবজির সরবরাহ অনেক কমে গেছে। যার কারনে দাম কিছুটা বেড়ে গেছে। আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে বাজারও স্বাভাবিক হয়ে যাবে।

ক্রেতারা অস্বস্তি প্রকাশ করে বলেন, এক সপ্তাহের ব্যবধানে সব ধরনের সবজির দাম লাগামহীনভাবে বেড়ে গেছে। কিন্তু সেই তুলনায় আমাদের আয় রোজগার বাড়েনি। সবজির বাজারে আসলে পকেটের টাকা ফুরিয়ে গেলেও বাজারের ব্যাগ ভর্তি হচ্ছে না। বাজারে এসে সব টাকা সবজি কিনতে চলে গলে মুদি মালামাল কিনব কিভাবে?

অধিকাংশ ক্রেতারা সবজির দাম বৃদ্ধিতে বাজার সিন্ডিকেটকে দায়ী করে প্রশাসনকে নিয়মিত বাজার মনিটরিং করার দাবি জানান।

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Ban on fishing in Kaptai Lake extended for another 10 days

কাপ্তাই হ্রদে মাছ আহরণে নিষেধাজ্ঞা আরও ১০ দিন বৃদ্ধি

কাপ্তাই হ্রদে মাছ আহরণে নিষেধাজ্ঞা আরও ১০ দিন বৃদ্ধি ছবি: সংগৃহীত

রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদে মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন ও নিরাপদ বংশবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে মাছ আহরণের ওপর চলমান নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ আরও ১০ দিন বৃদ্ধি করা হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ১০ আগস্ট মধ্যরাত পর্যন্ত হ্রদে সব ধরনের মাছ আহরণ ও বাজারজাতকরণ বন্ধ থাকবে। ১১ আগস্ট থেকে কাপ্তাই হ্রদে পুনরায় মাছ আহরণ শুরু হবে। সোমবার সকালে রাঙামাটি জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে কাপ্তাই হ্রদ থেকে মৎস্য আহরণ ও বাজারজাতকরণ সংক্রান্ত বিএফডিসির কাপ্তাই হ্রদ মৎস্য উন্নয়ন কেন্দ্রের এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

রাঙামাটি জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফীর সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন বিএফডিসির কাপ্তাই হ্রদ মৎস্য উন্নয়ন কেন্দ্রের কমান্ডার মো. ফয়েজ আল করিম, জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধিরা এবং মৎস্য ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ।

সভায় জানানো হয়, মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন নিশ্চিত করতে গত ২৪ এপ্রিল দিবাগত মধ্যরাত থেকে কাপ্তাই হ্রদে সব ধরনের মাছ আহরণের ওপর তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়, যা ৩১ জুলাই পর্যন্ত কার্যকর থাকার কথা ছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হ্রদের পানি আশানুরূপ বৃদ্ধি না পাওয়া এবং মাছের প্রজনন কার্যক্রম সন্তোষজনক পর্যায়ে না পৌঁছানোয় নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ আরও ১০ দিন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মৎস্য ব্যবসায়ীদের নেতারা বলেন, কাপ্তাই হ্রদের পানির বর্তমান পরিস্থিতি এবং মাছের বংশবৃদ্ধির স্বার্থ বিবেচনা করেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে হ্রদের মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ হবে এবং দীর্ঘমেয়াদে সরকার, জেলে ও মৎস্য ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্ট সবাই উপকৃত হবেন।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
50 thousand rupees fined in 3 clinics in Magura

মাগুরায় ৩ ক্লিনিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা

মাগুরায় ৩ ক্লিনিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ছবি: সংগৃহীত

লাইসেন্স নবায়নসহ স্বাস্থ্য সেবায় নানা অনিয়মের কারণে জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের যৌথ অভিযানে মাগুরায় ৩টি ক্লিনিকে অভিযান চালিয়ে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

সোমবার দুপুরে মাগুরা শহরের হাসপাতাল পাড়া ও পিটিআই পাড়ায় অবস্থিত ইবনে সিনা ক্লিনিক, পলি ক্লিনিক এবং সাইন্স ল্যাব ক্লিনিকে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

সিভিল সার্জন ডা. শামীম কবির এবং এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা অংশ নেন।

মাগুরা সিভিল সার্জন শামীম কবির সাংবাদিকদের বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী সারাদেশে অবৈধ ক্লিনিকের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় মাগুরায় এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। জনস্বার্থে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করতে এবং অনিয়ম রোধে এ ধরনের অভিযান নিয়মিত পরিচালনার কথা জানিয়েছে জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Four arrested in connection with the murder of a lawyer in Bagerhat 

বাগেরহাটে আইনজীবী খুনে জড়িত চারজন আটক 

বাগেরহাটে আইনজীবী খুনে জড়িত চারজন আটক 

বাগেরহাটের চাঞ্চল্যকর সাবেক ছাত্রদল নেতা ও এপিপি অ্যাডভোকেট নিজাম উদ্দিন শান্ত হত্যাকাণ্ডের ৫০ ঘন্টার মধ্যে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি সহ চারজনকে আটক করেছে বাগেরহাট জেলা পুলিশ। সোমবার বিকাল তিনটায় বাগেরহাট জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার।

‎বাগেরহাট জেলা পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে এদের সনাক্ত করে আটক করতে সক্ষম হয়। আটককৃতদের একজন হত্যাকাণ্ডের আগের থেকেই নিহত শান্তর সঙ্গে মোটরসাইকেলে ছিলো। আটককৃতদের বাড়ী বাগেরহাট সদরের মির্জাপুর এলাকায়।

‎উল্লেখ্য, গত শনিবার গভীর রাতে অ্যাডভোকেট নিজাম উদ্দিন শান্ত চেম্বার থেকে বাড়িতে ফেরার পথে বাগেরহাট শহরের হাড়িখালী তেঁতুলতলা এলাকায় একদল দুর্বৃত্ত মোটরসাইকেলের গতি রোধ করে ছুরি দিয়ে উপর্যুপুরি কুপিয়ে ফেলে রাখে, পরবর্তীতে পুলিশ এসে উদ্ধার করে বাগেরহাট জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এদিকে নির্মম এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে গত রোববার মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্যরা।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Gift of 2000 tree saplings to pedestrians in Natore

নাটোরে পথচারীদের দুই হাজার গাছের চারা উপহার

নাটোরে পথচারীদের দুই হাজার গাছের চারা উপহার

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলা ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ‘জাতীয় লক্ষ্যমাত্রা ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে নাটোরে পথচারীদের মাঝে দুই হাজার গাছের চারা উপহার দেওয়া হয়েছে এবং জলবায়ু সচেতনতামূলক কর্মসূচি হয়েছে। সোমবার সকালে নাটোরের কানাইখালি এলাকায় এসআরআই ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের আয়োজনে এই কর্মসূচি হয়। অনুষ্ঠানে সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও সভাপতিত্ব করেন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এবং এসআরআই ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা জিল্লুর রহমান খান চৌধুরী বাবুল।

এসআরআই ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান এবং কমনওয়েলথ স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের ভিপি শেখ রিফাদ মাহমুদের পরিচালনায় এতে প্রধান অতিথি ছিলেন, নাটোর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আসাদুজ্জামান আসাদ এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মিজানুল হক ডিউক।

সভাপতির বক্তব্যে জিল্লুর রহমান খান চৌধুরী বাবুল বলেন, ‘তীব্র দাবদাহ থেকে রক্ষা ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় আমাদের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। আসুন, আমরা প্রত্যেকে অন্তত একটি করে গাছ লাগাই এবং আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর, সবুজ ও নিরাপদ নাটোর গড়ে তুলি। পরিবেশ রক্ষায় তরুণের পাশাপাশি সকল স্তরের নাগরিকদের সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি।’

ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শেখ রিফাদ মাহমুদ জানান, এসআরআই ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে দশ হাজার বৃক্ষরোপণ ও বিতরণ কর্মসূচি চলমান রয়েছে।

বিনামূল্যে মানসম্পন্ন চারা পেয়ে পথচারী, রিকশাচালক ও পথচারী সাধারণ মানুষ উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন এবং চারাগুলোর সঠিক পরিচর্যা করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানে এসআরআই ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের সদস্য ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
In Chabi the construction of buildings without complying with the law is cutting the hill

চবিতে আইন না মেনে ভবন নির্মাণ, কাটা পড়ছে পাহাড়

চবিতে আইন না মেনে ভবন নির্মাণ, কাটা পড়ছে পাহাড় ছবি: সংগৃহীত

২৩০০ একরের সবুজ ক্যাম্পাস চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। পাহাড়ঘেরা এই ক্যাম্পাস দিন দিন যেন সমতলে রূপান্তর হচ্ছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমতি ছাড়াই নতুন ভবন নির্মাণের জন্য পাহাড় কাটছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

​বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন দপ্তরের পাশেই কাটা হচ্ছে পাহাড়। দোতলা ভবন নির্মাণের জন্য শ্রমিকরা সেখানে কাজ করছেন। পাশেই পড়ে আছে উপড়ে ফেলা গাছের শিকড় এবং নির্মাণযন্ত্র।

​জানা যায়, চলতি বছরের ১ এপ্রিল দপ্তরের নতুন ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হয়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্স’ ভবনটি নির্মাণ করছে। প্রথম ধাপে প্রায় ১১ হাজার বর্গফুট এলাকাজুড়ে ভবনের একটি অংশ নির্মাণ করা হবে। এ ধাপের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩ কোটি ৭২ লাখ টাকা। আগামী বছরের মার্চের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। দ্বিতীয় ধাপে প্রায় ২২ হাজার বর্গফুট এলাকায় তিনতলা ভবন নির্মাণ করা হবে।

​বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন (১৯৯৫) অনুযায়ী, পাহাড়ি জায়গা বা টিলার আয়তন যাই হোক না কেন, পরিবেশ অধিদপ্তরের পূর্বানুমতি ছাড়া পাহাড় বা টিলা কাটা বা মোচন করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ব্যক্তিগত, সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত—যেকোনো মালিকানাধীন পাহাড়ই এই আইনের আওতাভুক্ত। এ ছাড়া পাহাড় না কেটে কেবল পাহাড়ি জমিতে ভবন নির্মাণ করতে চাইলেও ৫,০০০ বর্গমিটারের বেশি আয়তনের প্রকল্পের ক্ষেত্রে ‘পরিবেশগত প্রভাব নিরূপণ’ (EIA) করে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেওয়া বাধ্যতামূলক।

​এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী আব্দুল আহাদ বলেন, ‘পরিবেশ অধিদপ্তরকে আমরা চিঠি দিয়ে অবগত করেছি, তারপর কাজ শুরু করেছি। ৫ হাজার বর্গমিটারের কম হওয়াতে আমরা অনুমতির প্রয়োজন মনে করছি না।’

​তবে চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক জমির উদ্দিন জানান, পাহাড় কাটতে হলে পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য। অনুমতি ছাড়া পাহাড় কাটা হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

​বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিবেশ ও প্রকৃতি নিয়ে কাজ করা সংগঠন ‘গ্রিন ভয়েস’-এর সভাপতি অনিক সরকার বলেন, ‘পাহাড় কেটে প্রশাসন খুবই বাজে কাজ করেছে। প্রশাসন যথাযথ জবাবদিহি না করলে আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ করব।’

​বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মোহাম্মদ আল-ফোরকানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘এখানে পাহাড় কাটা হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয় পুরোটাই পাহাড়ঘেরা, ভবন নির্মাণ করতে হলে কিছুটা তো ছাঁটতেই হয়। তবে আমরা পরিবেশ রক্ষায় সচেতন আছি এবং সুরক্ষার জন্য পাশে একটি দেয়াল নির্মাণ করব।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমরা পরিবেশ অধিদপ্তরকে চিঠি দিয়েছি। আর ৫ হাজার বর্গমিটারের কম জায়গায় ভবন করলে আলাদা অনুমতির প্রয়োজন নেই।’

​প্রশাসনের এই কর্মকাণ্ডে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যেও তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষার্থী আদিল বলেন, ‘পাহাড় কেটে ভবন নির্মাণ করা মোটেও উচিত হচ্ছে না। এমনিতেই চবিতে প্রায়ই পাহাড় ধস হচ্ছে, এমনকি কাটা পাহাড়ের দিকেও সম্প্রতি পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। প্রশাসনের উচিত বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী ও পরিবেশবিদদের সাথে আলোচনা করে টেকসই সিদ্ধান্ত নেওয়া।’

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The government is losing crores of revenue in the pocket of the syndicate in Gaibandha
ড্রেজিংয়ের বালু হরিলুট

গাইবান্ধায় সিন্ডিকেটের পকেটে কোটি টাকা, রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার

গাইবান্ধায় সিন্ডিকেটের পকেটে কোটি টাকা, রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার ছবি: সংগৃহীত

গাইবান্ধার সাঘাটা ও গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় বাঙালী নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে করা ড্রেজিং প্রকল্পের বিপুল পরিমাণ উত্তোলিত বালু এখন খোলা আকাশের নিচে হরিলুটের শিকার হচ্ছে। জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের চরম উদাসীনতা, আমলাতান্ত্রিক দীর্ঘসূত্রতা এবং রহস্যজনক অকর্মণ্যতার সুযোগে দিনে-দুপুরে ও রাতের আঁধারে গায়েব হয়ে যাচ্ছে রাষ্ট্রীয় এই সম্পদ। ফলে একদফা নদী ড্রেজিংয়ের সুফল যেমন ভেস্তে যেতে বসেছে, অন্যদিকে সরকারি কোষাগার হারাচ্ছে কোটি টাকার রাজস্ব।

পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ‘বাঙালি-করতোয়া-ফুলজোর-হুরাসাগর নদীর সিস্টেম ড্রেজিং/পুনঃখননসহ তীর সংরক্ষণ’ শীর্ষক মেগা প্রকল্পের অধীনে ২০১৯ সালে সিরাজগঞ্জ, বগুড়া ও গাইবান্ধায় মোট ২১৭ কিলোমিটার নদী খনন কার্যক্রম শুরু হয়। এই বিশাল কর্মযজ্ঞ পরিচালনা করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড। ২১৭ কিলোমিটারের মধ্যে গাইবান্ধা জেলার সাঘাটা ও গোবিন্দগঞ্জ অংশ কেটে বাঙালি নদীর ২৪ কিলোমিটার সফলভাবে ড্রেজিং সম্পন্ন করা হয়।

খননকালে নদীর তলদেশ থেকে উত্তোলিত বালু ও মাটি তীরবর্তী এবং দূরবর্তী বিভিন্ন পয়েন্টে বিশাল বিশাল ‘ডাইক’ বানিয়ে সংরক্ষণ করা হয়। ড্রেজিং কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর সেনাবাহিনীর সংশ্লিষ্ট বিভাগ উত্তোলিত এসব বালু পর্যায়ক্রমে স্থানীয় জেলা প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করে। উদ্দেশ্য ছিল, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী নিলামে বিক্রি করে রাষ্ট্রীয় রাজস্ব আদায় করা।

আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও নিলামে স্থবিরতা: সরকার নির্ধারিত বালু বিক্রি এবং দরপত্র প্রক্রিয়া পরিচালনার জন্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে ৭ সদস্যের একটি ‘জেলা মাটি/বালি নিলাম কমিটি’ পুনর্গঠন করা হয়। এই শক্তিশালী কমিটির আহ্বায়ক করা হয় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব)-কে এবং সদস্য সচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয় গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীকে। এছাড়াও কমিটিতে এলজিইডি, সড়ক ও জনপথ, সেনাবাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সদস্য হিসেবে রয়েছেন।

নথি অনুযায়ী, এই নিলাম কমিটি ২০২৩ সালের ১৭ জুলাই থেকে ধারাবাহিকভাবে নিলাম আহ্বান করে সরকারের বিপুল রাজস্ব অর্জনে সফল হয়েছিল। তবে বিপত্তি ঘটে ২০২৫ সালের ২২ মে তারিখের পর। উক্ত তারিখের পর রাজস্ব শাখার ৬৩৮ নম্বর স্মারকে ঘোষিত নিলাম বিজ্ঞপ্তির অবশিষ্ট থাকা ৯টি প্যাকেজ এবং সেনাবাহিনী থেকে নতুন করে হস্তান্তর করা ৩টিসহ মোট ১২টি প্যাকেজ সম্পূর্ণ থমকে যায়। এরপর আর কোনো অজানা কারণে নিলাম দরপত্র আলোর মুখ দেখেনি।

সম্প্রতি সাঘাটা ও গোবিন্দগঞ্জের ডাইক এলাকাগুলো সরজমিনে ঘুরে যে চিত্র দেখা গেছে, তা এক কথায় ভয়াবহ। উন্মুক্ত স্থানে কোনো প্রহরা বা তদারকি না থাকায় পুরো এলাকা এখন স্থানীয় বালু খেকো সিন্ডিকেটের দখলে।

বিলুপ্ত ডাইক: সাঘাটার দোহাইল-১ ও দোহাইল-২ ডাইকের শতভাগ বালু লুট হয়ে গেছে। সরেজমিনে গিয়ে সেখানে ডাইক বা সরকারি বালুর কোনো চিহ্নও খুঁজে পাওয়া যায়নি।

ট্রাক্টরে করে লুটপাট: দাঙাবাড়ী ও কিংকরপুর ডাইক থেকে প্রতিদিন ‘কাকড়া’ (স্থানীয় ট্রাক্টর) বোঝাই করে অবাধে বিক্রি করা হচ্ছে সরকারি বালু। স্থানীয়রা জানান, দিনের আলোতেও কোনো ভয়ডর ছাড়া এসব বালু নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

প্রকৃতির পেটে কোটি টাকা: সাঘাটার পাকুরতলা, কিংকর এবং গোবিন্দগঞ্জের পারসোনাইডাঙা ডাইকগুলো নদী তীরবর্তী হওয়ায় চলতি বর্ষায় অতিবৃষ্টি ও নদীর তীব্র তোড়ে কোটি কোটি টাকার বালু পুনরায় নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে।

অবৈধ দখলের পাঁচতারা: কোনো কোনো খালি বা আংশিক খালি ডাইকে ইতোমধ্যে স্থানীয় প্রভাবশালীরা গাছপালা রোপণ ও ঘাস চাষ শুরু করেছে। এমনকি তারা ডাইকের জমিকে নিজস্ব মালিকানাধীন দাবি করে স্থায়ী দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে।

অভিযোগের তীর মূলত জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের রাজস্ব শাখার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আল মামুনের দিকে। পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় নির্ভরযোগ্য সূত্রের দাবি, পাউবো কর্মকর্তা ও প্রকৌশলীরা একাধিকবার নিলামের প্রক্রিয়া সচল করার অনুরোধ নিয়ে এডিসির (রাজস্ব) দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন। এমনকি ঊর্ধ্বতন সচিব পর্যায়ের রেফারেন্স দেওয়া সত্ত্বেও তিনি কোনো কর্ণপাত করেননি, উল্টো তটস্থ করে রেখেছেন সংশ্লিষ্টদের।

কমিটির ভেতরের চরম সমন্বয়হীনতার রূপ স্পষ্ট হয় অন্য সদস্যদের বক্তব্যে। এলজিইডিয়ার নির্বাহী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম জানান, তিনি যোগদানের পর বালু নিলাম সংক্রান্ত কোনো সভাতেই আহ্বান পাননি। একই সুর সাঘাটা ইউএনও আশরাফুল কবীরের কণ্ঠেও।

অন্যদিকে, অভিযুক্ত এডিসি (রাজস্ব) আল মামুনের ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জুম মিটিংয়ের অজুহাতে সংযোগ কেটে দেন এবং পরবর্তীতে ক্ষুদে বার্তা ও কার্যালয়ে উপস্থিত হয়েও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় কৃষক মোনারুল ইসলাম বলেন, ট্রাক্টর ভরে দিন-রাত বালু তুলে নিয়ে যাচ্ছে। আমরা বাধা দিলে আমাদেরই ভয় দেখানো হয়। প্রশাসন সব দেখেও অন্ধ সেজে আছে। ড্রেজিং করে লাভ কী হলো যদি বালুই চুরি হয়ে নদী আবার ভরাট হয়ে যায়?

বিষয়টি নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় রাজনৈতিক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।

সংসদ সদস্য (গাইবান্ধা-৫) আব্দুল ওয়ারেস বলেন, ‘সরকারি সম্পদ এভাবে হরিলুট হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক এবং এটি সরাসরি দায়িত্বশীলদের অবহেলার প্রমাণ। এর পেছনে কারা জড়িত তা কঠোরভাবে খতিয়ে দেখা দরকার।

গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক মাসুদুর রহমান মোল্লা আশ্বস্ত করে বলেন, সরকারি সম্পদ চুরির পেছনে যারাই দায়ী থাকুক, তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেন নিলাম বন্ধ রাখা হলো তা গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে।

নদী বাঁচানোর নামে শত কোটি টাকা খরচে উত্তোলিত বালু যদি সিন্ডিকেটের পকেটে যায় কিংবা পুনরায় নদীতে ভেঙে পড়ে, তবে তার চেয়ে বড় রাষ্ট্রীয় অপচয় আর হতে পারে না। গাইবান্ধাবাসীর দাবি—অবিলম্বে আমলাতান্ত্রিক চক্রান্ত ভেঙে অবিক্রীত ১২টি প্যাকেজের দ্রুত উন্মুক্ত পুনঃনিলাম করতে হবে এবং লোপাট হওয়া কোটি টাকার বালু উদ্ধারে নিরপেক্ষ বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে।

মন্তব্য

p
উপরে