প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সময় টেলিভিশনের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আহমেদ জোবায়েরের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। রোববার (২৬ জুলাই) দুপুরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. রাকিবুল হাসান আসামিপক্ষের আইনজীবীর করা জামিন আবেদন নাকচ করে এ আদেশ দিয়েছেন। এর আগে গত ১২ জুলাই (রোববার) এ মামলায় তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে আদালত। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী আলমগীর হোসাইন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে এ মামলায় গত ১৮ জুন বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) আত্মসমর্পণ করলে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ঢাকার এডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসাইনের আদালত এই আদেশ দেন। ওইদিন এ মামলায় তিনজনের জামিন মঞ্জুর হয়।
সে সময় জামিন মঞ্জুর হওয়া তিন আসামিরা হলেন- আহমেদ রাফিদ কাদের ঋভু, শেখ মাহমুদ ইয়াসিন ও সানি চৌধুরী। এর আগে আদালতের সমন উপেক্ষা করায় গত ১৭ জুন আহমেদ জোবায়েরসহ ছয় আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তার পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল। চার আসামি আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইলে আদালত এই সিদ্ধান্ত দেন।
প্রতারণা, বিশ্বাসভঙ্গ এবং কাগজপত্র জালিয়াতির অভিযোগে আহমেদ জোবায়েরসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে গত ১০ মে আদালতে মামলা দায়ের করেন সৈয়দ আসাদুজ্জামান। ওইদিনই আদালত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সমন জারি করে ১৭ জুনের মধ্যে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশনা দেন। নির্ধারিত তারিখে কেউ আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় বিচারক তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। মামলায় পরোয়ানাভুক্ত অন্য দুই আসামি হলেন আহমেদ জোবায়েরের স্ত্রী শামীমা সুলতানা চৌধুরী এবং সন্তান সারাফ নাওয়ার জয়ীতা।
ছবি: সংগৃহীত
চিত্রনায়ক রিয়াজ, ফেরদৌস ও সাংবাদিক আনিস আলমগীরসহ ২৭ জনের বিরুদ্ধে তদন্তের আবেদন জানিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে আবেদন করেছে রাষ্ট্র সংলাপ ফোরাম (এসডিএফ)। রোববার (২৬ জুলাই) ট্রাইবুনালের চিফ প্রসিকিউটর বরাবর লিখিত ওই আবেদন জানান এসডিএফের কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব আল নূর মোহাম্মদ আয়াস। জুলাই গণহত্যায় প্ররোচনাসহ বিভিন্ন অভিযোগে ওই ২৭ জনের বিরুদ্ধে তদন্তের আবেদন জানানো হয়।
যাদের বিরুদ্ধে আবেদন জানানো হয় তারা হলেন ফেরদৌস আহমেদ (তৎকালীন ঢাকা-১০ আসনের সংসদ সদস্য ও চিত্রনায়ক), মেহের আফরোজ শাওন (অভিনেত্রী ও নির্মাতা), রিয়াজ আহমেদ (চিত্রনায়ক), অরুণা বিশ্বাস (অভিনেত্রী), শমী কায়সার (নাট্যব্যক্তিত্ব), রোকেয়া প্রাচী (অভিনেত্রী ও নির্দেশক), মাহিয়া মাহি (চিত্রনায়িকা), নিপুণ আক্তার (চিত্রনায়িকা), তানভীন সুইটি (অভিনেত্রী), রুবি হক (নাট্যব্যক্তিত্ব), জ্যোতিকা জ্যোতি (অভিনেত্রী), সাজু খাদেম (অভিনেতা), সোহানা সাবা (অভিনেত্রী), পিয়া জান্নাতুল (মডেল ও আইনজীবী), শামীমা তুষ্টি (অভিনেত্রী ও বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের নেত্রী), হিরো আলম (অভিনেতা), আশা হাবীব ভাবনা (অভিনেত্রী), সাইমন সাদিক (চিত্রনায়ক), সুজাত আজিম (অভিনেত্রী), জায়েদ খান (চিত্রনায়ক ও নির্বাচনী প্রচারকারী), আজিজুল হাকিম (অভিনেতা), চন্দন রেজা (অভিনেতা), আসাদুজ্জামান নূর (প্রবীণ অভিনেতা ও সাবেক সংস্কৃতিমন্ত্রী), মারিয়া কিসপট্টা (মডেল), শায়লা ফারজানা মোমিন মেহেদী, সোমা ইসলাম (টেলিভিশন উপস্থাপিকা) এবং আনিস আলমগীর (সাংবাদিক)।
আল নূর মোহাম্মদ আয়াস লিখেন, ‘আমাদের অভিযোগ হলো, ওই ব্যক্তিবর্গের বিরুদ্ধে জুলাই গণঅভ্যুত্থান-সংক্রান্ত ঘটনাবলীতে মানবতাবিরোধী অপরাধ, গণহত্যায় প্ররোচনা, সহযোগিতা, উসকানি বা সংশ্লিষ্ট অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ বিভিন্ন সময়ে জনপরিসরে উপস্থাপিত হয়েছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও আইনানুগ তদন্তের স্বার্থে আমরা এই অভিযোগ দাখিল করছি।’
ছবি: সংগৃহীত
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের কার্যক্রম ও দেশের মুদ্রানীতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভূমিকা, মুদ্রানীতির লক্ষ্য, বাস্তবায়ন কৌশল ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে একটি বিস্তারিত প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করা হয়।
কমিটির সভাপতি মুশফিকুর রহমান এমপির সভাপতিত্বে রোববার (২৬ জুলাই) জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের উপস্থাপনার পর কমিটির সদস্যরা বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন এবং দেশের আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বিনিয়োগ পরিবেশ, ব্যাংকিং খাতের চ্যালেঞ্জ ও মুদ্রানীতির কার্যকারিতা নিয়ে মতামত দেন।
বৈঠকে কমিটির সদস্য ও অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, মো. জালাল উদ্দিন, মঈনুল ইসলাম খান, মো. শাহাদাত হোসেন, মো. সাইফুল আলম, সৈয়দ জয়নুল আবেদীন ও মো. আবুল হাসনাত বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন।
এছাড়া বৈঠকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সচিব, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে দেশের আর্থিক খাতের সার্বিক পরিস্থিতি, বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিগত কার্যক্রম ও অর্থনীতির বিভিন্ন সূচক নিয়ে সদস্যরা মতবিনিময় করেন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের বিষয়ভিত্তিক উপস্থাপনা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর খিলক্ষেতের ৩০০ ফিট এক্সপ্রেসওয়েতে প্রাইভেটকারে যাত্রী তুলে মুক্তিপণ আদায় করা একটি চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সম্প্রতি এক ব্যাংক কর্মকর্তাকে অপহরণের ঘটনার সূত্র ধরে এই চক্রটি শনাক্ত হয়।
রোববার (২৬ জুলাই) বেলা ১২টার দিকে খিলক্ষেত থানায় আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান ডিএমপির গুলশান বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) এম তানভীর আহমেদ।
গ্রেপ্তারেরা হলেন মো. সুবেদ রানা (৩১) এবং মো. মিরন ওরফে সুজন (৫৪)।
ডিসি জানান, এক ব্যাংক কর্মকর্তার করা মামলার পরিপ্রেক্ষিতে খিলক্ষেত থানার একটি অভিযানিক দল রাজধানীর মিরপুর-২ এলাকা থেকে মো. সুবেদ রানাকে গ্রেপ্তার করে।
পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রোববার ভোর রাত সাড়ে ১২টার দিকে মুন্সিগঞ্জ সদর থানাধীন মুক্তারপুর এলাকা থেকে মো. মিরন ওরফে সুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মিরপুরের মনিপুর এলাকা থেকে ছিনতাইয়ের কাজে ব্যবহৃত একটি প্রাইভেট কার উদ্ধার করা হয়।
খিলক্ষেত থানা সূত্রে জানা যায়, গত ২১ জুন সকালে সাড়ে ৯টার দিকে নারায়ণগঞ্জের কাঞ্চন ব্রিজ যাওয়ার উদ্দেশে কুড়িল বিশ্বরোডস্থ বিআরটিসি কাউন্টারের সামনে গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছিলেন জনৈক ব্যাংকার মোহাম্মদ কামরুজ্জামান। তখন অপহরণকারী ওই চক্রটি কাঞ্চন ব্রিজ যাওয়ার কথা বলে ওই ব্যাংকারকে তাদের প্রাইভেট কারের পেছনের সিটে উঠিয়ে নেয়।
গাড়িতে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে দুইজন ওই ব্যাংকারের হাত পেছনে নিয়ে বেঁধে ফেলে এবং তার সঙ্গে থাকা নগদ পাঁচ হাজার টাকা ও একটি ভিভো ফোন ছিনিয়ে নেয়। পাশাপাশি তাকে মারধর করে মুক্তিপণ হিসেবে ৫ লাখ টাকা দাবি করে এবং গাড়িটি ৩০০ ফিট এলাকাসহ বিভিন্ন জায়গায় ঘোরাতে থাকে।
একপর্যায়ে ভুক্তভোগী কামরুজ্জামান তার কর্মস্থলের সহকর্মী মো. রবিউল ইসলামের মাধ্যমে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালসংলগ্ন ফুটওভার ব্রিজের নিচে ৫ লাখ টাকা নিয়ে গ্রেপ্তার মো. সুবেদ রানাকে দেন। এরপর ওই অপহরণকারী চক্র সোয়া ১১টার দিকে কামরুজ্জামানকে ৩০০ ফিটের নিলা মার্কেট গোল চত্বরের পাশে নামিয়ে দিয়ে পালিয়ে যায়। এই ঘটনায় পরদিন খিলক্ষেত থানায় মামলা করেন ওই ব্যাংকার।
ডিসি এম তানভীর আহমেদ জানান, গ্রেপ্তার মিরনের বিরুদ্ধে আগে থেকেই ৯টি মামলা রয়েছে এবং সুবেদ রানার বিরুদ্ধে ৪টি মামলা রয়েছে। এই চক্রটি শুধু রাজধানী নয়, দেশের বিভিন্ন এলাকায় একই কৌশলে অপরাধ চালিয়ে আসছিল।
ফাইল ছবি
রাজধানীতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) নিয়মিত অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় বিভিন্ন অপরাধে জড়িত অভিযোগে ৪৬৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময়ে তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ মাদক, একটি বিদেশি পিস্তল, গুলি, দুটি পিকআপ, মোবাইল ফোন ও মাদক বিক্রির নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। একইসঙ্গে এসময় একজন ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।
রোববার (২৬ জুলাই) এসব তথ্য জানান ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী।
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রমনা বিভাগ কর্তৃক ৩১ জন, লালবাগ বিভাগ কর্তৃক ৫৪ জন, ওয়ারী বিভাগ কর্তৃক ৪৭ জন, মতিঝিল বিভাগ কর্তৃক ৪৭ জন, তেজগাঁও বিভাগ কর্তৃক ৬৩ জন, মিরপুর বিভাগ কর্তৃক ১২৫ জন, গুলশান বিভাগ কর্তৃক ৩৬ জন, উত্তরা বিভাগ কর্তৃক ৫৯ জন ও গোয়েন্দা বিভাগ কর্তৃক ১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় তাদের হেফাজত হতে ৭০ কেজি ১০০ গ্রাম গাঁজা, ১৬৫৩ পিস ইয়াবা, ৫০ পুরিয়া হেরোইন, ৮৬ বোতল এস্কাফ সিরাপ (ফেন্সিডিল), ১ টি বিদেশি পিস্তল, ১ টি ম্যাগজিন, ৪ রাউন্ড গুলি, ২টি পিকআপ, ৭ টি মোবাইল ফোন, মাদক বিক্রয়ের নগদ ১৭ হাজার ৫৫০ টাকা ও ১ জন ভিকটিমকে উদ্ধার করা হয়।
রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে মাদকদ্রব্য উদ্ধারসহ তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। একই সময়ে ৪০টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।
ছবি: সংগৃহীত
জয়পুরহাট জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আরিফ হোসেনের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তার স্ত্রী শামিয়া খান এশা। ওই নারীর দাবি, ওই পুলিশ কর্মকর্তা নিজের গাড়ি ব্যবহার করে হিলি থেকে মাদক সংগ্রহ করে জয়পুরহাটের বিভিন্ন জায়গায় সরবরাহ করতেন। এ ছাড়া যৌতুক দাবি, মাদক গ্রহণসহ একাধিক নারীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগও তুলেছেন ওই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।
নিজেকে ভুক্তভোগী দাবি করে শামিয়া খান এশা সংবাদ সম্মেলনে জানান, পরকীয়া সম্পর্কে বাধা, দাবি করা যৌতুক না দেওয়ায় তাকে শারীরিক-মানসিক নির্যাতন ও শিশুসন্তানসহ বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। রোববার (২৬ জুলাই) সকালে রাজধানীর বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্র্যাব) মিলনায়তনে এ সংবাদ সম্মেলন করেন শামিয়া খান এশা।
এশা সংবাদ সম্মেলনে জানান, তার স্বামী আরিফ হোসেন নিজ গাড়িতে দিনাজপুরের হিলি থেকে মাদক বহন করে জয়পুরহাটসহ বিভিন্ন জায়গায় সরবরাহ (সাপ্লাই) করতেন। তার দায়িত্বপ্রাপ্ত এলাকায় অধস্তন কোনো পুলিশ কর্মকর্তা যেন সন্দেহ না করেন, সে কারণে তিনি মাদকপাচারে নিজের গাড়ি ব্যবহার করতেন।
পুলিশ কর্মকর্তা আরিফ হোসেন নিজেও মাদক নেন বলে অভিযোগ করেন এশা। এশা অভিযোগ করেন, তার স্বামী পরকীয়ার সঙ্গে যুক্ত। ২০১৯ সালে বিয়ের পর থেকে তার স্বামী মাদক সেবন ও একাধিক নারীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। প্রতিবাদ করলে তার ওপর নির্যাতন চালানো হতো।
ওই নারীর দাবি, সংসার টিকিয়ে রাখতে ইতোপূর্বে যৌতুক হিসেবে ৪০ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি আরও ৫০ লাখ টাকা দাবি করা হয়েছে। সেই টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে এ বছরের শুরুতে সাড়ে পাঁচ বছরের মেয়েসহ তাকে মারধর করে জয়পুরহাটের বাসা থেকে বের করে দেওয়া হয়।
এশা আরও জানান, গত ৩০ মে ঢাকার মোহাম্মদপুরের বছিলায় স্বামীকে এক নারীর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে প্রতিবাদ করলে আবারও মারধরের শিকার হন তিনি। প্রতিকার চেয়ে পুলিশ সদর দপ্তরে অভিযোগ দায়েরের পাশাপাশি গত ৫ জুলাই ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে যৌতুক নিরোধ আইনে একটি মামলা করেছেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে এশার দাবি, মামলার পর ক্ষিপ্ত হয়ে গত ৯ জুলাই পুলিশ কর্মকর্তা আরিফ হোসেন নিজের প্রভাব খাটিয়ে নিজ আওতাধীন জয়পুরহাট সদর থানায় তার ও তার বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে পাল্টা একটি চুরির মামলা করেছেন।
অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে জয়পুরহাট থেকে প্রত্যাহার ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তিনি।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আরিফ হোসেন। তিনি জানান, তার স্ত্রীর পরিবার প্রতারণার সঙ্গে জড়িত। তার স্ত্রীর পূর্বের একটি বিয়ের তথ্য গোপন রেখে তার সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
অতিরিক্ত এ পুলিশ সুপারের ভাষ্য, চলতি বছরের জানুয়ারিতে স্ত্রী বাসা থেকে টাকা, স্বর্ণালঙ্কার, পাসপোর্ট, ব্যাংক চেক ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র নিয়ে চলে যান। পরে ফেব্রুয়ারিতে তিনি তালাকের নোটিশ পাঠান।
যৌতুক নেওয়া ও দাবির অভিযোগও নাকচ করে আরিফ হোসেন বলেন, ‘অভিযোগের প্রমাণ দিতে পারলে সমপরিমাণ অর্থ ফেরত দেব।’
আরিফ হোসেনের দাবি, স্ত্রীর আগের বিয়ে ও প্রতারণার তথ্য প্রকাশ্যে আসায় সেগুলো আড়াল করতেই তার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ আনা হচ্ছে।
ছবি: সংগৃহীত
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক মো. আবদুস সালাম বলেছেন, মানুষ মানুষের পাশে দাঁড়ালে দেশের বড় বড় সমস্যারও সমাধান সম্ভব। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে বন্যা, ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসসহ নানা দুর্যোগে দেশের মানুষ যেভাবে একে অপরের পাশে দাঁড়িয়েছে, তাতে মানবিকতাই বাঙালির সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। এ ধরনের উদ্যোগ শুধু ইহকাল নয়, পরকালেও কল্যাণ বয়ে আনবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
রোববার (২৬ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর কারওয়ানবাজার মোড়ে পান্থকুঞ্জ পার্কসংলগ্ন ভালো কাজের হোটেলের এ শাখা ব্যতিক্রমী ও পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ ‘রিসাইকেল করুন, সবুজ বাংলাদেশ গড়ুন’-এ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘ভালো কাজের হোটেল’র মতো মানবিক উদ্যোগ শুধু ক্ষুধার্ত মানুষের মুখে খাবারই তুলে দিচ্ছে না, পরিবেশ সংরক্ষণেও অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে।
প্রশাসক বলেন, ‘মানুষের জন্য মানুষ’- এ দর্শনকে বাস্তবে রূপ দিয়েছে ‘ভালো কাজের হোটেল’। দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটি ক্ষুধার্ত ও অসহায় মানুষের জন্য নিয়মিত খাবারের ব্যবস্থা করে আসছে। ফলে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ অন্তত একবেলার খাবার পাচ্ছেন।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ভালো কাজের হোটেল বর্তমানে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও কুড়িগ্রামসহ দেশের মোট ১৭টি স্থানে প্রতিদিন প্রায় ৪ হাজার ৫০০ জন ছিন্নমূল ও অসহায় মানুষের জন্য বিনামূল্যে খাবারের ব্যবস্থা করছে। এ উদ্যোগের সবচেয়ে ব্যতিক্রমী দিক হলো এখানে খাবারের বিনিময়ে কোনো অর্থ গ্রহণ করা হয় না; বরং প্রত্যেক অতিথির কাছ থেকে নেওয়া হয় একটি করে ভালো কাজের হিসাব। এ উদ্যোগের মাধ্যমে রুট লেভেলের মানুষদের ভালো কাজে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে, যা সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
এ মানবিক কার্যক্রমকে আরও পরিবেশবান্ধব ও টেকসই করতে ভালো কাজের হোটেল এবার খাবারের বিনিময়ে অন্যান্য ভালো কাজ গ্রহণের পাশাপাশি ‘রিসাইকেল করুন, সবুজ বাংলাদেশ গড়ুন’- এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ব্যবহৃত প্লাস্টিক সামগ্রী, বোতল, পলিথিন, ডাবের খোসা, পুরাতন টায়ারসহ বিভিন্ন পুনর্ব্যবহারযোগ্য বর্জ্য ভালো কাজ হিসেবে গ্রহণের উদ্যোগ নিয়েছে।
এ প্রসঙ্গে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, ‘রাজধানীতে বর্ষাকালে জলাবদ্ধতার অন্যতম কারণ প্লাস্টিক ও পলিথিন বর্জ্য। এসব বর্জ্য নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে ঢাকা শহরকে বাসযোগ্য রাখা কঠিন হবে। ভালো কাজের হোটেল এ ক্ষেত্রে একটি অনুকরণীয় উদ্যোগ নিয়েছে।’
প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রমে অনুপ্রাণিত হয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা, অর্থাৎ বছরে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা অনুদান দেওয়ার ঘোষণা দেন আবদুস সালাম। তিনি বলেন, ‘এ সহায়তা প্রতিষ্ঠানটির মানবিক কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখবে।’
ঢাকাবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ভালো কাজের হোটেলের মতো আরও সামাজিক উদ্যোগ গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে প্রত্যেকে নিজ নিজ দায়িত্ব থেকে রাজপথে একটি টিস্যুও না ফেলে নগর পরিচ্ছন্ন রাখার অভ্যাস গড়ে তুললে ঢাকা আরও বাসযোগ্য হয়ে উঠবে।’
পরিবেশ রক্ষার প্রসঙ্গ টেনে আবদুস সালাম বলেন, ‘ঢাকার বায়ুদূষণ উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। তাই ব্যাপক বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই।’ ভালো কাজের হোটেলের পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ সাধারণ মানুষকে আরও সচেতন ও উদ্বুদ্ধ করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
মন্তব্য