দীর্ঘ প্রতীক্ষার সিরাজগঞ্জ বগুড়া রেললাইন নির্মাণের উদ্যোগ সরকার নিলেও এর সুফল থেকে বঞ্চিত হতে যাচ্ছে রেল সিটি খ্যাত সিরাজগঞ্জ। এতে সিরাজগঞ্জবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। রেল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করা একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করে বলেন, ‘জমি শহরে, রেলপথ বাইরে; চারশ একর জমির রমরমা বাণিজ্য করছে অসাধু কিছু জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের কর্মকর্তা এবং স্বয়ং রেলওয়ের কিছু কর্মকর্তা।’
সূত্র বলছে, যদি রেল সিরাজগঞ্জ শহর হয়ে যায়, তাহলে জেলা প্রশাসকের জোরপূর্বক রিয়োজুম করা সম্পত্তি হাত ছাড়া হয়ে যাবে, ফলে নামে-বেনামে ইজারা হাত ছাড়ার শঙ্কা রয়েছে। এ ছাড়া রেলওয়ের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তাও চায়না শহরকেন্দ্রিক রেললাইন স্থাপন করা হোক, মাঝ শহরের ভালো ভালো জায়গা নামে-বেনামে ইজারা দিয়ে ক্ষতি পূরণ আদায় করছে।
একটি চক্র, নামমাত্র কৃষি লিজ, কোথাও মৌখিকভাবে দিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এ ছাড়া নতুন লাইন স্থাপন করা হলে, নতুন জমি অধিগ্রহণ, নতুন বাণিজ্যের ভিত্তি বাস্তবায়নের চেষ্টা।
তথ্য বলছে, জেলা প্রশাসকের রিয়োজুমকৃত সম্পত্তি ফেরতের জন্য রেল মন্ত্রণালয় থেকে একাধিকবার নির্দেশনা দিলেও আজও তা কর্ণপাত করেনি সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক।
এ বিষয়ে রেলওয়ের ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা নিযুক্ত আইনজীবী জুলফিকার জানান, রেলওয়ের জায়গা নিয়ে বেশ কিছু জেলায় রিট দায়ের করা হয়েছে। সিরাজগঞ্জেও হয়েছে, তবে আমি নতুন এসেছি। এ বিষয়ে আপনি উল্লাপাড়া কানুনগো সাথে যোগাযোগ করেন।
উল্লাপাড়া কানুনগো আবু বক্কর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আইনজীবী ভালো জানে, কোথায় মামলা হয়েছে কি না।
এ বিষয়ে চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি সাইদুর রহমান বাচ্চু জানান, আমরা শহরকেন্দ্রিক রেলওয়ে স্টেশন চাই। এজন্য আগামী আরও বড় আকারের মানববন্ধন করা হবে।
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলাম জানান, ২০১১ সালে রিয়োজুমকৃত সম্পত্তি ফেরত চেয়েছে রেল মন্ত্রণালয়, এমন কোনো তথ্য আমার কাছে নেই।
এ সময় তিনি আরও বলেন, ‘রেল লাইন শহরকেন্দ্রিক চাওয়া, অনেক দেরি হয়ে গেছে। এখন যদি ডিপিপি পরিবর্তন করে নতুনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তবে সম্ভব হবে।’
প্রকল্পের আওতায় বগুড়া থেকে সিরাজগঞ্জ পর্যন্ত সরাসরি প্রায় ৭৬ কিলোমিটার নতুন ডুয়েলগেজ রেলপথ নির্মাণ করা হবে। বগুড়া সদর, কাহালু, শাজাহানপুর, শেরপুর, রায়গঞ্জ, কামারখন্দ ও সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলায় প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে।
বর্তমানে বগুড়া-সিরাজগঞ্জ পথে ট্রেন চলাচলের জন্য প্রায় ১৯০ কিলোমিটার ঘুরে যেতে হয়। ট্রেনগুলোকে সান্তাহার, নাটোর ও পাবনার ঈশ্বরদী হয়ে অতিরিক্ত পথ অতিক্রম করতে হয়। এতে সময় বেশি লাগে, পরিচালন ব্যয়ও বেশি হয়। নতুন রেললাইন চালু হলে এ পথে দূরত্ব ১১৪ কিলোমিটার কমবে এবং যাত্রার সময় প্রায় তিন ঘণ্টা সাশ্রয় হবে। একই সঙ্গে রাজধানী ঢাকার সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের দ্রুত, নিরাপদ ও সাশ্রয়ী রেল যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে বলে আশা করছে রেলওয়ে।
প্রকল্পের আওতায় ৮৬ দশমিক ৫১ কিলোমিটার মূল রেললাইন এবং ৩৭ কিলোমিটার লুপলাইন নির্মাণ করা হবে। করতোয়া নদীর ওপর ২৪৬ মিটার এবং ইছামতী নদীর ওপর ২০৫ মিটার দৈর্ঘ্যের দুটি বড় সেতুসহ মোট ১২১টি ছোট-বড় সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের ওপর একটি রেল ওভারপাস এবং ঢাকা-নাটোর মহাসড়কের ওপর একটি রোড ওভারপাস নির্মাণ করা হবে।
এই পথে মোট ১১টি স্টেশন থাকবে। এর মধ্যে সিরাজগঞ্জ জংশন, কৃষ্ণদিয়া, রায়গঞ্জ, চান্দাইকোনা, সনকা, শেরপুর, আরিয়া বাজার ও রাণীরহাটে নতুন আটটি স্টেশন নির্মাণ করা হবে। অন্যদিকে বগুড়া, কাহালু ও সদানন্দপুর স্টেশন পুনর্নির্মাণ করা হবে। এ ছাড়া রাণীরহাট এলাকায় একটি ‘ওয়াই’ আকৃতির রেললাইন নির্মাণ করা হবে, যার একটি শাখা বগুড়ার দিকে এবং অন্যটি কাহালুর দিকে যাবে।
ভারতের লাইন অব ক্রেডিটের পরিবর্তে এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (AIIB) এবং বাংলাদেশ সরকারের যৌথ অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে।
উল্লেখ্য, সিরাজগঞ্জ রেলওয়ের প্রায় ৪শ একর জায়গা। কিন্তু খাজনা আসে অল্প কিছু অংশ থেকে। রেলওয়ের ইয়ার্ড ও দোকান অল্প, অন্যান্য থেকে ২৫ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় হয়। বাণিজ্যিক হারে ৪৫ টাকা করে ১ একর জায়গার রাজস্ব মাত্র। অথচ সম্পূর্ণ জায়গা যদি সরকার নিয়ন্ত্রণে আনতে পারত তাহলে শত কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হতো।
ব্রিটিশ শাসনামলে ব্যবসা-বাণিজ্যের সুবিধার্থে জেলা শহরে গড়ে তোলা হয় ৪টি রেলস্টেশন। একসময়ে তকমা পাওয়া রেলসিটি খ্যাত সিরাজগঞ্জ শহরটি উত্তর, দক্ষিণ এবং শহরের পূর্ব পাশ দিয়ে যমুনার ঘাটে গিয়ে পৌঁছাত ট্রেন। ভুল পরিকল্পনায় হারিয়ে যেতে বসেছে সেই রেলসিটি। সিরাজগঞ্জ শহরও হতে পারত লন্ডন সিটির মতো।
ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নির্মিত এবং সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেওয়া রাজীব শাহের কথিত ‘ভাসমান মসজিদ’ উচ্ছেদ করেছে কর্তৃপক্ষ। রোববার (২৬ জুলাই) বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) ও গণপূর্ত অধিদপ্তরের যৌথ অভিযানে বিতর্কিত এ স্থাপনাটি সম্পূর্ণ ভেঙে ফেলা হয়।
বিগত কয়েক দিন ধরেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ আলোচনায় ছিল মসজিদটি। উদ্যানের মুক্তিযোদ্ধা জাদুঘর ও নাট্যশালার মাঝামাঝি স্থানে করা হয় মসজিদটি। সেখানে ইট দিয়ে মেঝে তৈরি করে কার্পেট ও জায়নামাজ বিছানো ছিল। ওপরে ত্রিপল টানিয়ে নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা করা হয়। অজুর জন্য পানির ট্যাংক এবং একটি অস্থায়ী ওয়াশরুমও স্থাপন করা হয়েছিল।
অভিযানের সময় সেখানে কয়েকটি কোরআন শরীফ, রেহেল, কোরআনের বাংলা অনুবাদ এবং কয়েকটি ট্রাংক পাওয়া যায়। সোহরাওয়ার্দী উদ্যান থেকে রাজীব শাহের কথিত মসজিদ উচ্ছেদ বিষয়ে
উদ্যানের ভ্রাম্যমাণ পানি বিক্রেতা ও স্থানীয়রা জানান, কয়েক মাস আগে এখানে থাকা শুরু করেন রাজীব শাহ। পরে তিনি ধান লাগান। বেশ কয়েকটি ফুলগাছও লাগান। নিজের থাকার জন্য ছোট্ট খুপড়ি ঘরও করেন। একপর্যায়ে নিজ উদ্যোগে রাজীব মসজিদ নির্মাণ করেন।
ছবি: সংগৃহীত
পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙামাটি-বান্দরবান- চন্দ্রঘোনা-রাইখালী সড়কে কর্ণফুলী নদীর ওপর নির্মিত হতে যাচ্ছে দেশের প্রথম চার লেনের ক্যাবল স্টেইড সেতু। প্রায় ১ হাজার ৬৮৯ কোটি টাকা ব্যয়ে ৫২৩ মিটার দীর্ঘ এই দৃষ্টিনন্দন সেতু নির্মিত হলে রাঙামাটি, চট্টগ্রাম ও বান্দরবানের কয়েক লাখ মানুষের দীর্ঘ চার দশকের ফেরি-নির্ভর যাতায়াতের অবসান ঘটবে। একই সঙ্গে সময় ও অর্থ সাশ্রয়ের পাশাপাশি পার্বত্য অঞ্চলের পর্যটন, কৃষি ও সামগ্রিক অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কর্ণফুলী নদীর এই ফেরিঘাট ১৯৮৪ সাল থেকে তিন জেলার মানুষের যাতায়াতের প্রধান ভরসা। কিন্তু প্রতিদিন ফেরির জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা, বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগ এবং জরুরি রোগী, গর্ভবতী নারী ও কৃষিপণ্যবাহী যানবাহনের ভোগান্তি যেন নিত্যদিনের চিত্র। অনেক সময় ঝুঁকি নিয়ে ছোট সাম্পানে নদী পার হতে বাধ্য হন সাধারণ মানুষ।
এই দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ দূর করতেই সরকার চন্দ্রঘোনা-রাইখালী সড়কে কর্ণফুলী নদীর ওপর দেশের প্রথম চার লেনের ক্যাবল স্টেইড সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে।
প্রকৌশলগত দিক থেকে ক্যাবল স্টেইড সেতু আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর একটি স্থাপনা। এতে প্রধান পিলার থেকে শক্তিশালী ইস্পাতের ক্যাবলের মাধ্যমে সেতুর ডেক বা রাস্তা ধারণ করা হয়। ফলে নদীর মাঝখানে অতিরিক্ত পিলারের প্রয়োজন হয় না এবং নাব্যতা অক্ষুন্ন রেখেই মজবুত ও নান্দনিক সেতু নির্মাণ সম্ভব হয়। সেতুটিতে আধুনিক টোল প্লাজা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিতে স্মার্ট হেলথ মনিটরিং সিস্টেমও থাকবে।
প্রকল্পটি বর্তমানে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের অধীনে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে সেতুটি যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। এটি চালু হলে বান্দরবান এবং খাগড়াছড়িসহ পার্বত্য চট্টগ্রামের মধ্যে দ্রুত, নিরাপদ ও বাধাহীন যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে উঠবে। পাশাপাশি পর্যটকদের জন্য তিন পার্বত্য জেলা থেকে কক্সবাজার যাতায়াত আরও সহজ হবে।
চন্দ্রঘোনা এলাকার বাসিন্দা সুমন বলেন, "সেতুটি নির্মাণ হলে এই এলাকার রোগীদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হবে। ফেরির জন্য আর দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হবে না।"
বান্দরবান-চন্দ্রঘোনা-রাইখালী সড়কের মোটরসাইকেল আরোহী মিন্টু চাকমা বলেন, "বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে কর্ণফুলী নদীতে স্রোত বেড়ে গেলে ফেরিতে চলাচল করতে খুব কষ্ট হয়। দ্রুত সেতু নির্মাণ হলে হাজারো মানুষের দুর্ভোগ লাঘব হবে।"
রাঙামাটি-বান্দরবান সড়কে চলাচলকারী বাসযাত্রী মো. মান্নান বলেন, "চন্দ্রঘোনায় কর্ণফুলী নদীর ওপর সেতু না থাকায় ফেরিতে পারাপারের জন্য অনেক সময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। এতে যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। দ্রুত সেতুটি নির্মাণ হলে আমরা এই দীর্ঘদিনের কষ্ট থেকে মুক্তি পাব এবং যাতায়াত অনেক সহজ ও দ্রুত হবে।"
এ প্রসঙ্গে রাঙামাটি সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ চাকমা বলেন, কাপ্তাইয়ের চন্দ্রঘোনা এলাকায় কর্ণফুলী নদীর ওপর সেতু নির্মাণে সরকার উদ্যোগ নিয়েছে। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের ব্রিজ ম্যানেজমেন্ট উইং সম্ভাব্যতা সমীক্ষা শেষে দেশের প্রথম চার লেনের ক্যাবল স্টেইড সেতুর প্রকল্প প্রস্তাব তৈরি করেছে এবং তা প্রধান প্রকৌশলীর দপ্তর হয়ে ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
তিনি বলেন, "মূল সেতুর দৈর্ঘ্য হবে ৫২৩ মিটার এবং প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৬৮৯ কোটি টাকা। প্রকল্প প্রস্তাব একনেকে অনুমোদন পেলে সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হবে। সেতুটি বাস্তবায়িত হলে রাঙামাটি ও বান্দরবান জেলার মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে।"
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, এই সেতু শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নই করবে না, বরং পার্বত্য চট্টগ্রামের পর্যটন, কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও আঞ্চলিক অর্থনীতিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। তাই দ্রুত প্রকল্পের অনুমোদন ও বাস্তবায়ন দেখতে চান পাহাড়ের সর্বস্তরের মানুষ।
ছবি: সংগৃহীত
গাজীপুরের টঙ্গীতে আবাসিক গ্যাস সংযোগে গ্যাস প্রবাহ চালুর দাবিতে তিতাস গ্যাস অফিস ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছে এলাকাবাসী। রোববার (২৬ জুলাই) বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত টঙ্গীর গোপালপুর তিতাস গ্যাস অফিস ঘেরাও করেন গাজীপুর সিটি করপোরেশন ৫৩ ওয়ার্ডের তিতাস গ্রাহকরা।
এসময় বক্তব্য রাখেন, গাজীপুর সিটি করপোরেশন ৫৩নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মো. জাহাঙ্গীর আলম, ৫৩নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আনিসুর রহমান শিপন, সাধারণ সম্পাদক সাদেক হোসেন, লিটন মিয়া, আব্দুল মান্নান, মোস্তফা জামান।
এতে আরো উপস্থিত ছিলেন, আমান উল্লাহ, আব্দুস সালাম মাদবর, সুন্দর আলী, মাওলানা শরিফুল ইসলাম, মো. শহীদুল্লাহ, মোহাম্মদ হাসান, সাবিয়া খাতুন, হালিমা আক্তার, কথামনি, উম্মে সালমা, রেশমা আক্তার, খাজিদা আক্তার, কল্পনা খাতুন, প্রীতি আক্তার, তিথি বেগম ও বিউটি আক্তার প্রমুখ।
এসময় বক্তারা বলেন, নিয়মিত গ্যাস বিল পরিশোধ করে আসলেও দীর্ঘদিন যাবত তিতাস গ্যাস কোম্পানী আমাদের বাসাবাড়িতে নিয়মিত গ্যাস সরবরাহ করছে না। এতে রান্না বান্না করতে না পেরে এলাকার মানুষ চরম কষ্ট ভোগ করছে। এমন অবস্থা চলতে থাকলে আমরা বাধ্য হয়ে 'নো গ্যাস, নো বিল' নীতি অবলম্বণ করবো।
এছাড়াও ঘেরাও কর্মসূচি থেকে ভবিষ্যতে বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেয়ার হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন তারা।
এব্যাপারে টঙ্গী তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিসন এন্ড ডিট্রিবিউশন পিএলসি টঙ্গী জোনের ব্যবস্থাপক মো. মেজবাউর রহমান বলেন, চট্টগ্রামে একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বিকল হয়ে যাওয়ায় গ্যাস সরবরাহ বিঘ্ন ঘটছে। আগামী ৪-৫ দিনের মধ্যে এলএনজি টার্মিনালটি সচল হয়ে গেলে গ্যাস প্রবাহের চাপ বৃদ্ধি পাবে।
ছবি: সংগৃহীত
বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের সাথে মৌসুমী ফল উৎসবের আয়োজন করেছে ফেনীর ইতিহাস ও ঐতিহ্যভিত্তিক সংগঠন নরনিয়া। রোববার (২৬ জুলাই) সকালে শহরের মিজান রোড রোডস্থ ফেনী বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক বিদ্যালয় মিলনায়তনে ব্যতিক্রমধর্মী এই ফল উৎসবের আয়োজন করা হয়।
এসময় বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের মাঝে চলতি ফল মৌসুমের সুস্বাদু আম, আনারস, তাল, পেয়ারা, কলা, লটকন, গাব, আমলকি, পায়েলা, খেজুর, ড্রাগন, আমড়া, জাম্বুরাসহ বিভিন্ন প্রকারের ফল উপস্থাপন করা হয়।
ফল উৎসবে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশু, শিশুদের অভিভাবক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক-শিক্ষিকা, নরনিয়া সংগঠনের পরিচালনা পরিষদের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুরা অত্যন্ত আনন্দঘন পরিবেশে বিভিন্ন রকমের মৌসুমী ফলের সাথে পরিচিত হন এবং তৃপ্তির সাথে উপভোগ করেন।
ফল উৎসবে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় ক্রিকেটার মো. সাইফ উদ্দিন।
এ সময় নরনিয়া সংগঠনের সিনিয়র সদস্য আলাল উদ্দিন আলাল, মুহিবুল হক চৌধুরী রাসেল, সহ-সভাপতি ড. জহির উদ্দিন, সহ-সভাপতি জাকারিয়া ফারুক, সাধারণ সম্পাদক ইমন উল হক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আইনুল হক এমিল, অর্থ সম্পাদক এডভোকেট অমিত মজুমদার, প্রচার প্রকাশনা ও দপ্তর সম্পাদক মুহাম্মদ আবু তাহের ভূঁইয়া, ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মোর্শেদা হ্যাপি, সদস্য ইঞ্জিনিয়ার শওকত চৌধুরী, ইঞ্জিনিয়ার শামিম কবির ভূঁইয়া, জাহিদুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের মাঝে নরনীয়ার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এমিলের পরিবেশিত গান সকলকে বিমোহিত করেন।
ছবি: নিউজবাংলা
বগুড়ার কাহালু উপজেলায় ৩০ বিঘা জমির ওপর গড়ে ওঠা বাংলাদেশের প্রথম কমিউনিটি ভিত্তিক এগ্রো ট্যুরিজম প্রজেক্ট ‘সুখের খামার এগ্রো ভিলেজ’- এর এক হাজার ফাউন্ডারের হাতে জমির দলিল বুঝিয়ে দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
শনিবার (২৫ জুলাই) রাতে রাজধানীর ধানমন্ডিটে অবস্থিত ম্যারিয়ট কনভেনশন হলে জমকালো আয়োজন ‘ফাউন্ডারস নাইট ২০২৬’- অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সুখের খামার এগ্রো লিমিটেডের চেয়ারম্যান মো. তাসদীখ হাবীব ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক জোবায়ের ইসলাম সংশ্লিষ্টদের হাতে এই দলিল বুঝিয়ে দেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সম্মানিত প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক এমপি। আরও উপস্থিত ছিলেন সুখের খামারের চারজন সম্মানিত উপদেষ্টা, ৪০ সদস্যের অ্যাডভাইজরি কমিটির সদস্যবৃন্দ এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের কর্মীরা।
অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলেন, সৃজনশীল কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে বর্তমান সরকার কাজ করছে। তিনি বলেন, শুধু চাকরি নয়, খেলাধুলাসহ বিভিন্ন খাতে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, প্রতিটি খাতের অগ্রগতি সরকার নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং সুখের খামারের মতো উদ্যোগের পাশে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় সব সময় থাকবে। দেশের প্রতিটি পরিবারের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য বলেও জানান তিনি।
প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান মো. তাসদীখ হাবীব বলেন, ‘ফাউন্ডাররা আমাদের কাছে বিনিয়োগকারী নন- তাঁরা মালিক, প্রতিষ্ঠাতা ও দাতা। তাঁদের আস্থার মর্যাদা রক্ষাই আমাদের প্রথম অঙ্গীকার।’
সুখের খামার এগ্রো লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জোবায়ের ইসলাম অনুষ্ঠানে বর্তমান সময়ে এগ্রো ভিলেজের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, ‘আমরা শুধু একটি খামার বা রিসোর্ট গড়ছি না - আমরা এমন একটি মডেল গড়ছি যা ব্যবসার পাশাপাশি একটি গ্রামকে বদলে দেয়।
আজকের এই আয়োজন প্রমাণ করল, হাজারো মানুষ সেই স্বপ্নে বিশ্বাস রাখেন।’
এদিকে প্রকল্পের দৃশ্যমান অগ্রগতি ও সম্পদমূল্য বৃদ্ধির ধারাবাহিকতায় সুখের খামার এগ্রো ভিলেজের প্রতিটি শেয়ারের মূল্য ২ লক্ষ ৯৫ হাজার টাকা থেকে বেড়ে জুলাই ২০২৬ থেকে ৩ লক্ষ ৪৫ হাজার টাকা নির্ধারিত হয়েছে। প্রতিষ্ঠার মাত্র দেড় বছরের মধ্যে এই মূল্যবৃদ্ধি প্রাথমিক অংশীদারদের আস্থার প্রতিদান বলে উল্লেখ করেন আয়োজকরা।
অনুষ্ঠানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্বে প্রত্যেক ফাউন্ডিং শেয়ারহোল্ডারের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয় তাঁদের জমির দলিল, শেয়ার সনদ, চুক্তিপত্র এবং সুখের খামার ফাউন্ডেশনের লাইফটাইম মেম্বারশিপ সনদ। আয়োজকরা জানান, শরীয়াহভিত্তিক মুশারাকা পদ্ধতিতে পরিচালিত এই প্রকল্পে প্রতিটি অংশীদার সাফ কবলা দলিলে জমিসহ খামার ও রিসোর্টের আইনি মালিকানা পাচ্ছেন — যা বাংলাদেশে এ ধরনের উদ্যোগে নজিরবিহীন।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, গত দেড় বছরে পূর্ণাঙ্গ রিসোর্ট চালুর আগেই প্রকল্পটি পরিদর্শন করেছেন দুই হাজারের বেশি অতিথি, রাত্রিযাপন করেছেন নয় শতাধিক, এসেছেন সাতজন বিদেশি ভ্রমণকারী। প্রকল্পের মাধ্যমে বাগইল গ্রামে যুক্ত হয়েছে এক কোটি টাকার নতুন অর্থনীতি, কর্মসংস্থান হয়েছে ৪০ জনের, ‘সুখের হাসি’ প্রকল্পে স্বাবলম্বী হয়েছেন ১০ জন নারী। সামনে রয়েছে ১০০ রুমের আন্তর্জাতিক মানের এগ্রো রিসোর্ট, জামে মসজিদ ও হাফিজিয়া এতিমখানা মাদ্রাসা নির্মাণের কর্মসূচিও।
ছবি: সংগৃহীত
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যাটন মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা বলেছেন, যদি আমাদের ভেতরে দেশপ্রেম না থাকে, তাহলে আমাদের দ্বারা কোন কিছুই করা সম্ভব হবে না। কারণ একজন প্রকৃত দেশ প্রেমিক মানুষ কখনো দুর্নীতিবাজ হতে পারে না। আজকে তোমরা যারা শিক্ষার্থী আছে, আগামীদিনে তোমরা বাংলাদেশের হাল ধরবে। সুতরাং দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে তোমাদের পড়ালেখা করতে হবে।
তিনি বলেন, একই সঙ্গে আমাদের যার যার অবস্থান থেকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে সততা, নিষ্ঠা ও দায়িত্ববোধের সাথে কাজ করতে হবে এবং দেশেকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। রোববার (২৬ জুলাই) দুপুরে মানিকগঞ্জ সরকারি দেবেন্দ্র কলেজের স্নাতক প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ এবং বার্ষিক সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগীতার পুরুস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিমানমন্ত্রী আরো বলেছেন, আমাদের মূল লক্ষ্য হতে হবে দেশপ্রেম। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান শিখিয়েছেন কিভাবে দেশকে ভালোবাসতে হয় এবং বেগম খালেদা জিয়া শিখিয়েন আছেন কিভাবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাড়াতে হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিখাচ্ছেন কিভাবে সামাজিক মানবিক ও জনবান্ধব সরকার গঠনের মাধ্যমে জনগণকল্যাণে কাজ করতে হয়।
অনুষ্ঠানে সরকারি দেবেন্দ্র কলেজের অধ্যক্ষ মুহাম্মদ মাহফিল খানের সভাপতিত্বে জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারওয়ার আলম ও জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট জামিলুর রশিদ খানসহ সুধজনেরা রক্তব্য রাখেন।
এর আগে মন্ত্রী কলেজে শহীদ জিয়া, মুক্তিযোদ্ধা ও জুলাই স্মৃতি কর্ণার উদ্বোধনসহ কলেজ চত্ত্বরে বৃক্ষরোপণ করেন।
ছবি: সংগৃহীত
টানা ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোতে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ কেরানিহাট–হাঙ্গারমুখ সড়কের বড় অংশ বিলীন হয়ে গেছে। কার্তিকের দোকান থেকে পূর্ব পাশের মন্দির পর্যন্ত প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০ মিটার সড়ক ধসে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত। এতে ওই সড়কে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। ভোগান্তিতে পড়েছেন ঢেমশা, নলুয়া, আমিলাইশ ও চরতী ইউনিয়নের অন্তত লক্ষাধিক মানুষ।
সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ক্ষতিগ্রস্ত অংশজুড়ে দুই থেকে তিন ফুট গভীর গর্ত তৈরি হয়েছে। কোথাও কোথাও পিচঢালা সড়কের কোনো অস্তিত্বই নেই। প্রবল স্রোতে রাস্তার নিচের মাটি সরে গিয়ে দুই পাশ ধসে পড়েছে। কিছু স্থানে রাস্তার ইট পাশের জমিতে ছড়িয়ে পড়েছে। ভাঙা অংশে পানি জমে ছোট পুকুরের মতো আকার ধারণ করায় দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বেড়েছে। এ কারণে স্থানীয় প্রশাসন মানুষকে সতর্কতার সঙ্গে চলাচলের পরামর্শ দিয়েছে।
সড়কটির একটি বড় অংশ সম্পূর্ণ চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ায় স্থানীয়দের চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়কে যেতে আনুফকিরের দোকান হয়ে প্রায় তিন কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ ঘুরতে হচ্ছে। এতে সময়ের পাশাপাশি পরিবহন ব্যয়ও বেড়েছে। জরুরি রোগী হাসপাতালে নেওয়া, শিক্ষার্থীদের স্কুল-কলেজে যাতায়াত, কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণ এবং ব্যবসা-বাণিজ্যেও প্রতিদিন ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, কেরানিহাট–হাঙ্গারমুখ সড়কটি ঢেমশা, নলুয়া, আমিলাইশ ও চরতী ইউনিয়নের মানুষের অন্যতম প্রধান যোগাযোগপথ। প্রতিদিন হাজারো মানুষ এই সড়ক ব্যবহার করে কেরানিহাট হয়ে চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়কে ওঠেন। কৃষিপণ্য, মাছ, সবজি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রেও সড়কটির গুরুত্ব অনেক। সড়কটি অচল হয়ে পড়ায় স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।
পূর্ব গাটিয়াডেঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা মোস্তাক আহমেদ বলেন, ‘এই সড়কটি চারটি ইউনিয়নের মানুষের জীবনরেখা। এখন রাস্তার বিশাল অংশ ভেঙে পুকুরের মতো গর্ত হয়ে গেছে। কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। বাধ্য হয়ে প্রতিদিন প্রায় তিন কিলোমিটার ঘুরে মহাসড়কে যেতে হচ্ছে। বিশেষ করে রোগী, শিক্ষার্থী ও কর্মজীবী মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। দ্রুত সংস্কার না হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।"
এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কটি পরিদর্শন করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব শাহজাহান চৌধুরী এবং সাতকানিয়া উপজেলা প্রকৌশলী সবুজ কুমার দে। তারা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ঘুরে দেখে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন এবং সার্বিক ক্ষয়ক্ষতির খোঁজ নেন।
পরিদর্শন শেষে সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী বলেন, ‘সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় সাতকানিয়ার বিভিন্ন সড়ক, কালভার্ট ও জনপদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। কেরানিহাট–হাঙ্গরমুখ সড়কটি চারটি ইউনিয়নের মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মানুষের দুর্ভোগ কমাতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে। প্রয়োজনীয় বরাদ্দ নিশ্চিত করে যত দ্রুত সম্ভব যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।’
উপজেলা প্রকৌশলী সবুজ কুমার দে বলেন, ‘বন্যার পানির প্রবল স্রোতে সড়কটির বড় অংশ ধসে গেছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে। জরুরি ভিত্তিতে সংস্কার ও পুনর্নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তাব ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।’
স্থানীয়দের দাবি, সাম্প্রতিক বন্যায় উপজেলার বিভিন্ন সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কেরানিহাট–হাঙ্গারমুখ সড়কের এই অংশের ক্ষতি সবচেয়ে বেশি। তাই দ্রুত অন্তর্বর্তীকালীনভাবে যান চলাচলের ব্যবস্থা এবং পরে টেকসই নকশায় সড়কটি পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। তাদের মতে, এই সড়ক শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়; চারটি ইউনিয়নের শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম প্রধান অবলম্বন। তাই দ্রুত সংস্কার না হলে জনজীবন ও স্থানীয় অর্থনীতিতে এর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
মন্তব্য