× হোম রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া সিটিজেন জার্নালিজম বিচিত্র ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য আফগানিস্তান ১৫ আগস্ট কী-কেন স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও যৌনতা-প্রজনন ইউরোপ অন্যান্য উদ্ভাবন প্রবাসী আফ্রিকা ক্রিকেট শারীরিক স্বাস্থ্য আমেরিকা দক্ষিণ এশিয়া সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ মানসিক স্বাস্থ্য ব্লকচেইন অন্যান্য ভাষান্তর ফুটবল অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
Complaint against former president Sahabuddin and Hamid in the tribunal
google_news print-icon

সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন ও হামিদের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ

সাবেক-রাষ্ট্রপতি-সাহাবুদ্দিন-ও-হামিদের-বিরুদ্ধে-ট্রাইব্যুনালে-অভিযোগ
ছবি: সংগৃহীত

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের সহযোগী ও নির্দেশদাতা হিসেবে দায়বদ্ধতার অভিযোগে সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের বিরুদ্ধে গভীর তদন্তের আবেদন জানিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

রোববার (২৬ জুলাই) ‘বাংলাদেশ আজাদ পার্টি’র পক্ষ থেকে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থায় এই লিখিত অভিযোগটি জমা দেওয়া হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করে অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল হাসিনুর রহমান সাংবাদিকদের জানান যে, সাবেক দুই রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন ও আবদুল হামিদের শাসনকালের ভূমিকা নিবিড়ভাবে খতিয়ে দেখার জন্য এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

দায়ের করা অভিযোগে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয় যে, বৈষম্যবিরোধী জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চরম সংকটময় সময়ে রাষ্ট্রের সশস্ত্র তিন বাহিনীর সাংবিধানিক সর্বাধিনায়ক পদে আসীন থাকা সত্ত্বেও মো. সাহাবুদ্দিন সাধারণ নাগরিকদের সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় কোনো ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি। এর পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে চলা গুম, নির্বিচারে হত্যা এবং বহুল আলোচিত গোপন বন্দিশালা বা কথিত ‘আয়নাঘর’-সংক্রান্ত মারাত্মক সব মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধেও তিনি রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে প্রকাশ্যে কোনো অবস্থান নেননি, যা মূলত এসব অপরাধের প্রতি তাঁর নীরব সমর্থনেরই সামিল বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ আজাদ পার্টির প্রতিনিধিরা বলেন, পিলখানার নির্মম হত্যাকাণ্ড, শাপলা চত্বরের যৌথ অভিযান এবং দেশের বিভিন্ন সময়ের আলোচিত গুম-খুনের ঘটনাগুলোর সময় রাষ্ট্রপ্রধান ও সশস্ত্র বাহিনীর প্রধানের দায়িত্বে ছিলেন আবদুল হামিদ ও মো. সাহাবুদ্দিন। ফলে আন্তর্জাতিক আইনের সুপিরিয়র রেসপনসিবিলিটি বা ঊর্ধ্বোতন কর্তৃপক্ষের দায়বদ্ধতা নীতির ভিত্তিতে তাঁদের সামগ্রিক ভূমিকার নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার দাবি করা হয়েছে।

অন্যদিকে একই দিনে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের উত্তাল সময়ে পলায়নরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া ও সহযোগিতার দায়ে সদ্য পদত্যাগী সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে পৃথক আরেকটি অভিযোগ দায়ের করেছে ‘রাষ্ট্র সংলাপ ফোরাম’। রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সংশ্লিষ্ট বিভাগে জমা দেওয়া এই অভিযোগে বলা হয়, ক্ষমতার পালাবদলের সময় সাংবিধানিক পদের অপব্যবহার করে শেখ হাসিনাকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে তিনি সহায়তা প্রদান করেছিলেন। ফলে এই বিষয়েও আলাদাভাবে তদন্ত সম্পন্ন করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।

মন্তব্য

আরও পড়ুন

সর্বশেষ সংবাদ

বাংলাদেশ
Sukher Khamar gave a land deed to 1000 founders

এক হাজার ফাউন্ডারকে জমির দলিল দিল সুখের খামার

* শেয়ারের মূল্য ২,৯৫,০০০ থেকে বেড়ে ৩,৪৫,০০০ টাকা  ঘোষণা
এক হাজার ফাউন্ডারকে জমির দলিল দিল সুখের খামার ছবি: নিউজবাংলা

বগুড়ার কাহালু উপজেলায় ৩০ বিঘা জমির ওপর গড়ে ওঠা বাংলাদেশের প্রথম কমিউনিটি ভিত্তিক এগ্রো ট্যুরিজম প্রজেক্ট ‘সুখের খামার এগ্রো ভিলেজ’- এর এক হাজার ফাউন্ডারের হাতে জমির দলিল বুঝিয়ে দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

শনিবার (২৫ জুলাই) রাতে রাজধানীর ধানমন্ডিটে অবস্থিত ম্যারিয়ট কনভেনশন হলে জমকালো আয়োজন ‘ফাউন্ডারস নাইট ২০২৬’- অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সুখের খামার এগ্রো লিমিটেডের চেয়ারম্যান মো. তাসদীখ হাবীব ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক জোবায়ের ইসলাম সংশ্লিষ্টদের হাতে এই দলিল বুঝিয়ে দেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সম্মানিত প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক এমপি। আরও উপস্থিত ছিলেন সুখের খামারের চারজন সম্মানিত উপদেষ্টা, ৪০ সদস্যের অ্যাডভাইজরি কমিটির সদস্যবৃন্দ এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের কর্মীরা।

অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলেন, সৃজনশীল কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে বর্তমান সরকার কাজ করছে। তিনি বলেন, শুধু চাকরি নয়, খেলাধুলাসহ বিভিন্ন খাতে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, প্রতিটি খাতের অগ্রগতি সরকার নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং সুখের খামারের মতো উদ্যোগের পাশে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় সব সময় থাকবে। দেশের প্রতিটি পরিবারের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য বলেও জানান তিনি।

প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান মো. তাসদীখ হাবীব বলেন, ‘ফাউন্ডাররা আমাদের কাছে বিনিয়োগকারী নন- তাঁরা মালিক, প্রতিষ্ঠাতা ও দাতা। তাঁদের আস্থার মর্যাদা রক্ষাই আমাদের প্রথম অঙ্গীকার।’

সুখের খামার এগ্রো লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জোবায়ের ইসলাম অনুষ্ঠানে বর্তমান সময়ে এগ্রো ভিলেজের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, ‘আমরা শুধু একটি খামার বা রিসোর্ট গড়ছি না - আমরা এমন একটি মডেল গড়ছি যা ব্যবসার পাশাপাশি একটি গ্রামকে বদলে দেয়।

আজকের এই আয়োজন প্রমাণ করল, হাজারো মানুষ সেই স্বপ্নে বিশ্বাস রাখেন।’

এদিকে প্রকল্পের দৃশ্যমান অগ্রগতি ও সম্পদমূল্য বৃদ্ধির ধারাবাহিকতায় সুখের খামার এগ্রো ভিলেজের প্রতিটি শেয়ারের মূল্য ২ লক্ষ ৯৫ হাজার টাকা থেকে বেড়ে জুলাই ২০২৬ থেকে ৩ লক্ষ ৪৫ হাজার টাকা নির্ধারিত হয়েছে। প্রতিষ্ঠার মাত্র দেড় বছরের মধ্যে এই মূল্যবৃদ্ধি প্রাথমিক অংশীদারদের আস্থার প্রতিদান বলে উল্লেখ করেন আয়োজকরা।

অনুষ্ঠানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্বে প্রত্যেক ফাউন্ডিং শেয়ারহোল্ডারের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয় তাঁদের জমির দলিল, শেয়ার সনদ, চুক্তিপত্র এবং সুখের খামার ফাউন্ডেশনের লাইফটাইম মেম্বারশিপ সনদ। আয়োজকরা জানান, শরীয়াহভিত্তিক মুশারাকা পদ্ধতিতে পরিচালিত এই প্রকল্পে প্রতিটি অংশীদার সাফ কবলা দলিলে জমিসহ খামার ও রিসোর্টের আইনি মালিকানা পাচ্ছেন — যা বাংলাদেশে এ ধরনের উদ্যোগে নজিরবিহীন।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, গত দেড় বছরে পূর্ণাঙ্গ রিসোর্ট চালুর আগেই প্রকল্পটি পরিদর্শন করেছেন দুই হাজারের বেশি অতিথি, রাত্রিযাপন করেছেন নয় শতাধিক, এসেছেন সাতজন বিদেশি ভ্রমণকারী। প্রকল্পের মাধ্যমে বাগইল গ্রামে যুক্ত হয়েছে এক কোটি টাকার নতুন অর্থনীতি, কর্মসংস্থান হয়েছে ৪০ জনের, ‘সুখের হাসি’ প্রকল্পে স্বাবলম্বী হয়েছেন ১০ জন নারী। সামনে রয়েছে ১০০ রুমের আন্তর্জাতিক মানের এগ্রো রিসোর্ট, জামে মসজিদ ও হাফিজিয়া এতিমখানা মাদ্রাসা নির্মাণের কর্মসূচিও।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Corrupt people can never be true patriots Biman Minister

দুর্নীতিবাজ কখনোই প্রকৃত দেশ প্রেমিক হতে পারে না: বিমানমন্ত্রী

দুর্নীতিবাজ কখনোই প্রকৃত দেশ প্রেমিক হতে পারে না: বিমানমন্ত্রী ছবি: সংগৃহীত

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যাটন মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা বলেছেন, যদি আমাদের ভেতরে দেশপ্রেম না থাকে, তাহলে আমাদের দ্বারা কোন কিছুই করা সম্ভব হবে না। কারণ একজন প্রকৃত দেশ প্রেমিক মানুষ কখনো দুর্নীতিবাজ হতে পারে না। আজকে তোমরা যারা শিক্ষার্থী আছে, আগামীদিনে তোমরা বাংলাদেশের হাল ধরবে। সুতরাং দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে তোমাদের পড়ালেখা করতে হবে।

তিনি বলেন, একই সঙ্গে আমাদের যার যার অবস্থান থেকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে সততা, নিষ্ঠা ও দায়িত্ববোধের সাথে কাজ করতে হবে এবং দেশেকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। রোববার (২৬ জুলাই) দুপুরে মানিকগঞ্জ সরকারি দেবেন্দ্র কলেজের স্নাতক প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ এবং বার্ষিক সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগীতার পুরুস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বিমানমন্ত্রী আরো বলেছেন, আমাদের মূল লক্ষ্য হতে হবে দেশপ্রেম। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান শিখিয়েছেন কিভাবে দেশকে ভালোবাসতে হয় এবং বেগম খালেদা জিয়া শিখিয়েন আছেন কিভাবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাড়াতে হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিখাচ্ছেন কিভাবে সামাজিক মানবিক ও জনবান্ধব সরকার গঠনের মাধ্যমে জনগণকল্যাণে কাজ করতে হয়।

অনুষ্ঠানে সরকারি দেবেন্দ্র কলেজের অধ্যক্ষ মুহাম্মদ মাহফিল খানের সভাপতিত্বে জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারওয়ার আলম ও জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট জামিলুর রশিদ খানসহ সুধজনেরা রক্তব্য রাখেন।

এর আগে মন্ত্রী কলেজে শহীদ জিয়া, মুক্তিযোদ্ধা ও জুলাই স্মৃতি কর্ণার উদ্বোধনসহ কলেজ চত্ত্বরে বৃক্ষরোপণ করেন।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Four unions of Satkania are suffering due to road collapse due to mountain landslides

পাহাড়ি ঢলে সড়ক ধসে বিচ্ছিন্ন সাতকানিয়ার চার ইউনিয়ন, ভোগান্তিতে মানুষ

পাহাড়ি ঢলে সড়ক ধসে বিচ্ছিন্ন সাতকানিয়ার চার ইউনিয়ন, ভোগান্তিতে মানুষ ছবি: সংগৃহীত

টানা ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোতে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ কেরানিহাট–হাঙ্গারমুখ সড়কের বড় অংশ বিলীন হয়ে গেছে। কার্তিকের দোকান থেকে পূর্ব পাশের মন্দির পর্যন্ত প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০ মিটার সড়ক ধসে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত। এতে ওই সড়কে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। ভোগান্তিতে পড়েছেন ঢেমশা, নলুয়া, আমিলাইশ ও চরতী ইউনিয়নের অন্তত লক্ষাধিক মানুষ।

সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ক্ষতিগ্রস্ত অংশজুড়ে দুই থেকে তিন ফুট গভীর গর্ত তৈরি হয়েছে। কোথাও কোথাও পিচঢালা সড়কের কোনো অস্তিত্বই নেই। প্রবল স্রোতে রাস্তার নিচের মাটি সরে গিয়ে দুই পাশ ধসে পড়েছে। কিছু স্থানে রাস্তার ইট পাশের জমিতে ছড়িয়ে পড়েছে। ভাঙা অংশে পানি জমে ছোট পুকুরের মতো আকার ধারণ করায় দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বেড়েছে। এ কারণে স্থানীয় প্রশাসন মানুষকে সতর্কতার সঙ্গে চলাচলের পরামর্শ দিয়েছে।

সড়কটির একটি বড় অংশ সম্পূর্ণ চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ায় স্থানীয়দের চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়কে যেতে আনুফকিরের দোকান হয়ে প্রায় তিন কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ ঘুরতে হচ্ছে। এতে সময়ের পাশাপাশি পরিবহন ব্যয়ও বেড়েছে। জরুরি রোগী হাসপাতালে নেওয়া, শিক্ষার্থীদের স্কুল-কলেজে যাতায়াত, কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণ এবং ব্যবসা-বাণিজ্যেও প্রতিদিন ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, কেরানিহাট–হাঙ্গারমুখ সড়কটি ঢেমশা, নলুয়া, আমিলাইশ ও চরতী ইউনিয়নের মানুষের অন্যতম প্রধান যোগাযোগপথ। প্রতিদিন হাজারো মানুষ এই সড়ক ব্যবহার করে কেরানিহাট হয়ে চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়কে ওঠেন। কৃষিপণ্য, মাছ, সবজি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রেও সড়কটির গুরুত্ব অনেক। সড়কটি অচল হয়ে পড়ায় স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।

পূর্ব গাটিয়াডেঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা মোস্তাক আহমেদ বলেন, ‘এই সড়কটি চারটি ইউনিয়নের মানুষের জীবনরেখা। এখন রাস্তার বিশাল অংশ ভেঙে পুকুরের মতো গর্ত হয়ে গেছে। কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। বাধ্য হয়ে প্রতিদিন প্রায় তিন কিলোমিটার ঘুরে মহাসড়কে যেতে হচ্ছে। বিশেষ করে রোগী, শিক্ষার্থী ও কর্মজীবী মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। দ্রুত সংস্কার না হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।"

এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কটি পরিদর্শন করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব শাহজাহান চৌধুরী এবং সাতকানিয়া উপজেলা প্রকৌশলী সবুজ কুমার দে। তারা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ঘুরে দেখে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন এবং সার্বিক ক্ষয়ক্ষতির খোঁজ নেন।

পরিদর্শন শেষে সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী বলেন, ‘সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় সাতকানিয়ার বিভিন্ন সড়ক, কালভার্ট ও জনপদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। কেরানিহাট–হাঙ্গরমুখ সড়কটি চারটি ইউনিয়নের মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মানুষের দুর্ভোগ কমাতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে। প্রয়োজনীয় বরাদ্দ নিশ্চিত করে যত দ্রুত সম্ভব যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।’

উপজেলা প্রকৌশলী সবুজ কুমার দে বলেন, ‘বন্যার পানির প্রবল স্রোতে সড়কটির বড় অংশ ধসে গেছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে। জরুরি ভিত্তিতে সংস্কার ও পুনর্নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তাব ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।’

স্থানীয়দের দাবি, সাম্প্রতিক বন্যায় উপজেলার বিভিন্ন সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কেরানিহাট–হাঙ্গারমুখ সড়কের এই অংশের ক্ষতি সবচেয়ে বেশি। তাই দ্রুত অন্তর্বর্তীকালীনভাবে যান চলাচলের ব্যবস্থা এবং পরে টেকসই নকশায় সড়কটি পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। তাদের মতে, এই সড়ক শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়; চারটি ইউনিয়নের শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম প্রধান অবলম্বন। তাই দ্রুত সংস্কার না হলে জনজীবন ও স্থানীয় অর্থনীতিতে এর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Welcoming the new Executive Engineer of LGED in Satkhira

সাতক্ষীরায় এলজিইডির নতুন নির্বাহী প্রকৌশলীকে বরণ

সাতক্ষীরায় এলজিইডির নতুন নির্বাহী প্রকৌশলীকে বরণ ছবি: সংগৃহীত

সাতক্ষীরা জেলা ঠিকাদার কল‍্যাণ সমিতির আয়োজনে সাতক্ষীরা এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলী এ এস এম তারিকুল হাসান খানের বদলিজনিত বিদায় সংবর্ধনা ও নতুন নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মনিরুজ্জামানের বরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

জেলা ঠিকাদার কল‍্যাণ সমিতির সাতক্ষীরা জেলা সভাপতি আলহাজ আব্দুস সবুরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সদ‍্য যোগদানকৃত নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান ও সদ‍্য বিদায়ী নির্বাহী প্রকৌশলী এ এস এম তারিকুল হাসান খান।

জেলা ঠিকাদার কল‍্যাণ সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ ফরহাদ হোসেন তপুর সঞ্চালনায় এ সময় বক্তব্য রাখেন জেলা ঠিকাদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক শাহিনুর রহমান বাবু, শ‍্যামনগর উপজেলা ঠিকাদার কল‍্যাণ সমিতির আসাদুল্লাহ বাহার আশু। কালীগঞ্জ উপজেলা ঠিকাদার সমিতির সভাপতি রফিকুল ইসলাম, আশাশুনির সভাপতি আব্দুস সালাম, দেবহাটার মোকলেছুর রহমান, মামুনুর রহমান সুমন সাধারণ সম্পাদক সাতক্ষীরা সদর, মীর রফিকুল ইসলাম বাবু কলারোয়া, ইকবাল জমাদ্দার ঊর্ধ্বতন সভাপতি, মো. আকরাম হোসেন খান বাপ্পি যুগ্ম সম্পাদক জেলা কমিটি, আব্দুল হাকিম সহসভাপতি ও সাংবাদিক আবু সাঈদ প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, ‘সাতক্ষীরাকে সুন্দর করে সাজানোর জন্য সাতক্ষীরা ঠিকাদার কল‍্যাণ সমিতি সরকারের সকল ধরনের কর্মকাণ্ডকে বাস্তবায়ন করবে। ঠিকাদাররা সুষ্ঠু এবং সফলভাবে কাজ সম্পন্ন করা, বিভিন্ন ধরনের সমস্যা তাৎক্ষণিকভাবে সমাধানের জন্য উদ্যোগ নেওয়া।

সরকারি নিয়ম অনুযায়ী কাজ করা এবং তার জন্য এলজিইডি কর্মকর্তাসহ সকল স্তরের সহযোগিতা কামনা করেন। বিদায়ী নির্বাহী প্রকৌশলীর বিভিন্ন কর্মময় জীবনী নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন এবং তার জন্য দোয়া কামনা করেন। এ সময় সাতক্ষীরার সাতটি উপজেলার ঠিকাদাররা উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
76 km new railway line will speed up the economy of northern region

৭৬ কিলোমিটার নতুন রেললাইন, গতি পাবে উত্তরাঞ্চলের অর্থনীতি

* শহরকেন্দ্রিক স্টেশনের দাবি সিরাজগঞ্জবাসীর * ৪০০ একর রেলভূমি ঘিরে এলাকাবাসীর ক্ষোভ
৭৬ কিলোমিটার নতুন রেললাইন, গতি পাবে উত্তরাঞ্চলের অর্থনীতি ফাইল ছবি

দীর্ঘ প্রতীক্ষার সিরাজগঞ্জ বগুড়া রেললাইন নির্মাণের উদ্যোগ সরকার নিলেও এর সুফল থেকে বঞ্চিত হতে যাচ্ছে রেল সিটি খ্যাত সিরাজগঞ্জ। এতে সিরাজগঞ্জবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। রেল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করা একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করে বলেন, ‘জমি শহরে, রেলপথ বাইরে; চারশ একর জমির রমরমা বাণিজ্য করছে অসাধু কিছু জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের কর্মকর্তা এবং স্বয়ং রেলওয়ের কিছু কর্মকর্তা।’

সূত্র বলছে, যদি রেল সিরাজগঞ্জ শহর হয়ে যায়, তাহলে জেলা প্রশাসকের জোরপূর্বক রিয়োজুম করা সম্পত্তি হাত ছাড়া হয়ে যাবে, ফলে নামে-বেনামে ইজারা হাত ছাড়ার শঙ্কা রয়েছে। এ ছাড়া রেলওয়ের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তাও চায়না শহরকেন্দ্রিক রেললাইন স্থাপন করা হোক, মাঝ শহরের ভালো ভালো জায়গা নামে-বেনামে ইজারা দিয়ে ক্ষতি পূরণ আদায় করছে।

একটি চক্র, নামমাত্র কৃষি লিজ, কোথাও মৌখিকভাবে দিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এ ছাড়া নতুন লাইন স্থাপন করা হলে, নতুন জমি অধিগ্রহণ, নতুন বাণিজ্যের ভিত্তি বাস্তবায়নের চেষ্টা।

তথ্য বলছে, জেলা প্রশাসকের রিয়োজুমকৃত সম্পত্তি ফেরতের জন্য রেল মন্ত্রণালয় থেকে একাধিকবার নির্দেশনা দিলেও আজও তা কর্ণপাত করেনি সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক।

এ বিষয়ে রেলওয়ের ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা নিযুক্ত আইনজীবী জুলফিকার জানান, রেলওয়ের জায়গা নিয়ে বেশ কিছু জেলায় রিট দায়ের করা হয়েছে। সিরাজগঞ্জেও হয়েছে, তবে আমি নতুন এসেছি। এ বিষয়ে আপনি উল্লাপাড়া কানুনগো সাথে যোগাযোগ করেন।

উল্লাপাড়া কানুনগো আবু বক্কর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আইনজীবী ভালো জানে, কোথায় মামলা হয়েছে কি না।

এ বিষয়ে চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি সাইদুর রহমান বাচ্চু জানান, আমরা শহরকেন্দ্রিক রেলওয়ে স্টেশন চাই। এজন্য আগামী আরও বড় আকারের মানববন্ধন করা হবে।

এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলাম জানান, ২০১১ সালে রিয়োজুমকৃত সম্পত্তি ফেরত চেয়েছে রেল মন্ত্রণালয়, এমন কোনো তথ্য আমার কাছে নেই।

এ সময় তিনি আরও বলেন, ‘রেল লাইন শহরকেন্দ্রিক চাওয়া, অনেক দেরি হয়ে গেছে। এখন যদি ডিপিপি পরিবর্তন করে নতুনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তবে সম্ভব হবে।’

প্রকল্পের আওতায় বগুড়া থেকে সিরাজগঞ্জ পর্যন্ত সরাসরি প্রায় ৭৬ কিলোমিটার নতুন ডুয়েলগেজ রেলপথ নির্মাণ করা হবে। বগুড়া সদর, কাহালু, শাজাহানপুর, শেরপুর, রায়গঞ্জ, কামারখন্দ ও সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলায় প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে।

বর্তমানে বগুড়া-সিরাজগঞ্জ পথে ট্রেন চলাচলের জন্য প্রায় ১৯০ কিলোমিটার ঘুরে যেতে হয়। ট্রেনগুলোকে সান্তাহার, নাটোর ও পাবনার ঈশ্বরদী হয়ে অতিরিক্ত পথ অতিক্রম করতে হয়। এতে সময় বেশি লাগে, পরিচালন ব্যয়ও বেশি হয়। নতুন রেললাইন চালু হলে এ পথে দূরত্ব ১১৪ কিলোমিটার কমবে এবং যাত্রার সময় প্রায় তিন ঘণ্টা সাশ্রয় হবে। একই সঙ্গে রাজধানী ঢাকার সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের দ্রুত, নিরাপদ ও সাশ্রয়ী রেল যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে বলে আশা করছে রেলওয়ে।

প্রকল্পের আওতায় ৮৬ দশমিক ৫১ কিলোমিটার মূল রেললাইন এবং ৩৭ কিলোমিটার লুপলাইন নির্মাণ করা হবে। করতোয়া নদীর ওপর ২৪৬ মিটার এবং ইছামতী নদীর ওপর ২০৫ মিটার দৈর্ঘ্যের দুটি বড় সেতুসহ মোট ১২১টি ছোট-বড় সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের ওপর একটি রেল ওভারপাস এবং ঢাকা-নাটোর মহাসড়কের ওপর একটি রোড ওভারপাস নির্মাণ করা হবে।

এই পথে মোট ১১টি স্টেশন থাকবে। এর মধ্যে সিরাজগঞ্জ জংশন, কৃষ্ণদিয়া, রায়গঞ্জ, চান্দাইকোনা, সনকা, শেরপুর, আরিয়া বাজার ও রাণীরহাটে নতুন আটটি স্টেশন নির্মাণ করা হবে। অন্যদিকে বগুড়া, কাহালু ও সদানন্দপুর স্টেশন পুনর্নির্মাণ করা হবে। এ ছাড়া রাণীরহাট এলাকায় একটি ‘ওয়াই’ আকৃতির রেললাইন নির্মাণ করা হবে, যার একটি শাখা বগুড়ার দিকে এবং অন্যটি কাহালুর দিকে যাবে।

ভারতের লাইন অব ক্রেডিটের পরিবর্তে এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (AIIB) এবং বাংলাদেশ সরকারের যৌথ অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে।

উল্লেখ্য, সিরাজগঞ্জ রেলওয়ের প্রায় ৪শ একর জায়গা। কিন্তু খাজনা আসে অল্প কিছু অংশ থেকে। রেলওয়ের ইয়ার্ড ও দোকান অল্প, অন্যান্য থেকে ২৫ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় হয়। বাণিজ্যিক হারে ৪৫ টাকা করে ১ একর জায়গার রাজস্ব মাত্র। অথচ সম্পূর্ণ জায়গা যদি সরকার নিয়ন্ত্রণে আনতে পারত তাহলে শত কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হতো।

ব্রিটিশ শাসনামলে ব্যবসা-বাণিজ্যের সুবিধার্থে জেলা শহরে গড়ে তোলা হয় ৪টি রেলস্টেশন। একসময়ে তকমা পাওয়া রেলসিটি খ্যাত সিরাজগঞ্জ শহরটি উত্তর, দক্ষিণ এবং শহরের পূর্ব পাশ দিয়ে যমুনার ঘাটে গিয়ে পৌঁছাত ট্রেন। ভুল পরিকল্পনায় হারিয়ে যেতে বসেছে সেই রেলসিটি। সিরাজগঞ্জ শহরও হতে পারত লন্ডন সিটির মতো।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Govt reviewing corruption allegations against former president Law Minister

সাবেক রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ পর্যালোচনা করছে সরকার: আইনমন্ত্রী

সাবেক রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ পর্যালোচনা করছে সরকার: আইনমন্ত্রী ছবি: সংগৃহীত

সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ও ইসলামী ব্যাংকের পরিচালক থাকাকালীন ওঠা বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

তিনি জানান, চলমান এসব অভিযোগের গভীর তদন্ত শেষে জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়ে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

রোববার (২৬ জুলাই) দুপুরে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির আয়োজনে আয়োজিত নবীন আইনজীবীদের বরণ ও প্রশিক্ষণ কর্মশালা শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। আইনমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, বর্তমান সরকার কোনো ব্যক্তির প্রতি অন্যায় বা অবিচার করতে চায় না, তবে যেকোনো অভিযোগের সত্যতা নিবিড়ভাবে যাচাই করা হচ্ছে। তদন্ত প্রক্রিয়ায় অভিযোগের সত্যতা মিললে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী অবশ্যই উপযুক্ত আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সংক্রান্ত প্রক্রিয়া নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী নিশ্চিত করেন যে, সংবিধানের সুস্পষ্ট বিধান অনুসরণ করেই পরবর্তী সার্বিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে এবং এ ক্ষেত্রে সরকার পূর্ণাঙ্গ সাংবিধানিক পথই অনুসরণ করবে।

অনুষ্ঠানে দেশের বিগত আমলের দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের চিত্র তুলে ধরে তিনি দাবি করেন, বিগত ১৬ বছরে বাংলাদেশ থেকে প্রায় ২৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিদেশে পাচার করা হয়েছে, যা দেশের দুই থেকে তিনটি জাতীয় বাজেটের মোট পরিমাণের সমতুল্য। অর্থনৈতিক অনিয়মের নজির হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, খুলনায় মাত্র পৌনে চার কিলোমিটার সড়ক নির্মাণে ২৮০ কোটি টাকা বরাদ্দ এবং পিরোজপুরে এলজিইডির সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পে মূলত কাগজে-কলমে কাজ দেখিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি তিনি জানান, জুলাই অভ্যুত্থান-সংক্রান্ত সমস্ত মামলা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করে দ্রুত নিষ্পত্তির বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং বর্তমানে মিথ্যা মামলা দায়েরের প্রবণতা আগের তুলনায় বহুলাংশে কমে এসেছে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত নবীন আইনজীবীদের পেশাগত দিকনির্দেশনা দিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, আইন পেশায় রাতারাতি সফল হওয়ার কোনো সংক্ষিপ্ত বা সহজ পথ নেই; বরং নিয়মিত অধ্যয়ন, আইনি দক্ষতা অর্জন, পেশাগত সততা বজায় রাখা এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার দৃঢ় মানসিকতা নিয়েই এই পেশায় সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।

একই সঙ্গে তিনি দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স বা আপসহীন অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান, এমনকি অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজের রাজনৈতিক দলের কেউ হলেও কোনো ছাড় না দেওয়ার পরামর্শ দেন। চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতি কর্তৃক আয়োজিত এই কর্মশালায় প্রায় ১ হাজার ৫৪ জন নবীন আইনজীবী অংশ নেন, যেখানে আইনজীবীদের পেশাগত নৈতিকতা বজায় রাখা, দায়িত্ববোধ নিশ্চিত করা ও সামাজিক মর্যাদা রক্ষার বিষয়গুলোর ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Arrest warrant for 8 people including Sheikh Hasina and Benazir in Ekramul murder

একরামুল হত্যাকাণ্ডে শেখ হাসিনা ও বেনজীরসহ ৮ জনের নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

একরামুল হত্যাকাণ্ডে শেখ হাসিনা ও বেনজীরসহ ৮ জনের নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছবি: সংগৃহীত

কক্সবাজারের টেকনাফে দেশজুড়ে বহুল আলোচিত একরামুল হক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মোট ১১ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এর পাশাপাশি এই গুরুত্বপ্রদ মামলায় অভিযুক্ত পলাতক ৮ জন আসামির বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে এবং বর্তমানে অন্য মামলায় কারাবন্দী থাকা ৩ জন আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করার জন্য নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।

রোববার (২৬ জুলাই) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল আনুষ্ঠানিক শুনানি শেষে এই আদেশ দেন। উক্ত বিচারিক প্যানেলের অন্য দুই সদস্য ছিলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

এর আগে রোববার (২৬ জুলাই) সকালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে তদন্ত সংস্থার চূড়ান্ত প্রতিবেদন ও আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্রটি জমা দেওয়া হয়।

ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে রাষ্ট্রপক্ষের গুরুত্বপূর্ণ শুনানি পরিচালনা করেন প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন। তিনি আসামিদের বিরুদ্ধে একরামুলকে বেআইনিভাবে তুলে নেওয়া ও হত্যার মতো ভয়াবহ মানবতাবিরোধী অপরাধের সুনির্দিষ্ট ও বিস্তারিত বিবরণ ট্রাইব্যুনালের সামনে তুলে ধরেন এবং ফরমাল চার্জটি আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করার আরজি জানান। দীর্ঘ আইনি যুক্তিতর্ক ও শুনানি শেষে আদালত প্রসিকিউশনের আবেদন মঞ্জুর করেন এবং মামলার পরবর্তী আনুষ্ঠানিক আদেশের জন্য আগামী ২৫ আগস্ট দিন ধার্য করেন।

মামলার হেভিওয়েট আসামিদের তালিকায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাড়াও রয়েছেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এবং সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ। এর পাশাপাশি তৎকালীন দায়িত্বপ্রাপ্ত সামরিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহাবুব আলম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ উদ্দিন, কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান, মেজর রুহুল আমিন, সেনা কর্মকর্তা নাজমুস সাকিব, সেনা কর্মকর্তা আশিকুর রহমান এবং কক্সবাজারের সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদির নাম এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অভিযুক্ত এই ১১ জনের মধ্যে সাবেক এমপি আবদুর রহমান বদি, কর্নেল আনোয়ার লতিফ ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহাবুব আলম বর্তমানে পৃথক অন্যান্য মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন।

উল্লেখ্য, বিগত ২০১৮ সালের ২৬ মে রাতে কক্সবাজারের টেকনাফে তথাকথিত মাদকবিরোধী অভিযানের নামে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হন একরামুল হক। তিনি টেকনাফ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের নির্বাচিত কাউন্সিলর ও উপজেলা যুবলীগের সভাপতি হিসেবে স্থানীয় রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। ঘটনার নির্মম মুহূর্তে তাঁর স্বজন ও শিশুকন্যার সাথে আকুতিমাখা শেষ ফোনালাপের একটি লোমহর্ষক অডিও রেকর্ড দেশ-বিদেশের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয় এবং আইনি ও মানবিক কাঠগড়ায় ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়।

মন্তব্য

p
উপরে