× হোম রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া সিটিজেন জার্নালিজম বিচিত্র ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য আফগানিস্তান ১৫ আগস্ট কী-কেন স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও যৌনতা-প্রজনন ইউরোপ অন্যান্য উদ্ভাবন প্রবাসী আফ্রিকা ক্রিকেট শারীরিক স্বাস্থ্য আমেরিকা দক্ষিণ এশিয়া সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ মানসিক স্বাস্থ্য ব্লকচেইন অন্যান্য ভাষান্তর ফুটবল অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
MP Bachchu Mollar visited the affected area of ​​Padma River in Daulatpur
google_news print-icon

দৌলতপুরে পদ্মা নদীর ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন এমপি বাচ্চু মোল্লার

দৌলতপুরে-পদ্মা-নদীর-ভাঙনকবলিত-এলাকা-পরিদর্শন-এমপি-বাচ্চু-মোল্লার
ছবি: সংগৃহীত

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার পদ্মা নদীর ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর) আসনের সংসদ সদস্য রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা। ভাঙনের তীব্রতা দেখে তিনি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলে জরুরি ভিত্তিতে ভাঙন প্রতিরোধে অতিরিক্ত ৩ কোটি টাকা বরাদ্দের দাবি জানান। গত শনিবার (২৫ জুলাই) উপজেলার মরিচা ইউনিয়নের কোলদিয়াড় এলাকায় ভাঙন পরিস্থিতি পরিদর্শন করেন তিনি। এ সময় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা এবং এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।

পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে সংসদ সদস্য রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা বলেন, এলাকার মানুষের জানমাল রক্ষায় তিনি জাতীয় সংসদে একাধিকবার পদ্মা নদীর স্থায়ী নদীশাসনের বিষয়টি তুলে ধরেছেন। এরই মধ্যে অস্থায়ীভাবে ভাঙন প্রতিরোধে ২ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং সেই অর্থে পানি উন্নয়ন বোর্ড জিও ব্যাগ ফেলে কাজ করছে। তবে ভাঙন অব্যাহত থাকায় আরও ৩ কোটি টাকা বরাদ্দের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলের কারণে পদ্মা, মাথাভাঙ্গা ও হিসনা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। এর প্রভাবে দৌলতপুর উপজেলার মরিচা ইউনিয়নের মাজদিয়াড়, কোলদিয়াড়, ফয়জুল্লাহপুর ও হাটখোলাপাড়াসহ অন্তত চারটি স্থানে পদ্মা নদীতে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে।

গত ১৫ থেকে ২০ দিনে শতাধিক একর আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। পাটসহ বিভিন্ন মৌসুমি ফসল হারিয়ে কয়েকশ কৃষক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। ভাঙন অব্যাহত থাকায় আবাদি জমির পাশাপাশি বসতভিটাও হারানোর শঙ্কায় রয়েছেন নদীতীরবর্তী বাসিন্দারা।

কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলাম জানান, ভাঙনপ্রবণ এলাকাগুলো নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। জরুরি ভিত্তিতে ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি অতিরিক্ত জিও ব্যাগ ফেলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এদিকে নদীপাড়ের বাসিন্দারা জানান, প্রতিবছরের মতো এবারও পানি বৃদ্ধির সঙ্গে নদীভাঙন শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ফসলি জমি হারিয়ে অনেক পরিবার নিঃস্ব হয়ে পড়ছে। তাই সাময়িকভাবে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন প্রতিরোধের পরিবর্তে স্থায়ী নদীশাসন ও টেকসই প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে সমস্যার স্থায়ী সমাধান চান তারা।

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Govt reviewing corruption allegations against former president Law Minister

সাবেক রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ পর্যালোচনা করছে সরকার: আইনমন্ত্রী

সাবেক রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ পর্যালোচনা করছে সরকার: আইনমন্ত্রী ছবি: সংগৃহীত

সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ও ইসলামী ব্যাংকের পরিচালক থাকাকালীন ওঠা বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

তিনি জানান, চলমান এসব অভিযোগের গভীর তদন্ত শেষে জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়ে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

রোববার (২৬ জুলাই) দুপুরে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির আয়োজনে আয়োজিত নবীন আইনজীবীদের বরণ ও প্রশিক্ষণ কর্মশালা শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। আইনমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, বর্তমান সরকার কোনো ব্যক্তির প্রতি অন্যায় বা অবিচার করতে চায় না, তবে যেকোনো অভিযোগের সত্যতা নিবিড়ভাবে যাচাই করা হচ্ছে। তদন্ত প্রক্রিয়ায় অভিযোগের সত্যতা মিললে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী অবশ্যই উপযুক্ত আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সংক্রান্ত প্রক্রিয়া নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী নিশ্চিত করেন যে, সংবিধানের সুস্পষ্ট বিধান অনুসরণ করেই পরবর্তী সার্বিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে এবং এ ক্ষেত্রে সরকার পূর্ণাঙ্গ সাংবিধানিক পথই অনুসরণ করবে।

অনুষ্ঠানে দেশের বিগত আমলের দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের চিত্র তুলে ধরে তিনি দাবি করেন, বিগত ১৬ বছরে বাংলাদেশ থেকে প্রায় ২৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিদেশে পাচার করা হয়েছে, যা দেশের দুই থেকে তিনটি জাতীয় বাজেটের মোট পরিমাণের সমতুল্য। অর্থনৈতিক অনিয়মের নজির হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, খুলনায় মাত্র পৌনে চার কিলোমিটার সড়ক নির্মাণে ২৮০ কোটি টাকা বরাদ্দ এবং পিরোজপুরে এলজিইডির সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পে মূলত কাগজে-কলমে কাজ দেখিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি তিনি জানান, জুলাই অভ্যুত্থান-সংক্রান্ত সমস্ত মামলা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করে দ্রুত নিষ্পত্তির বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং বর্তমানে মিথ্যা মামলা দায়েরের প্রবণতা আগের তুলনায় বহুলাংশে কমে এসেছে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত নবীন আইনজীবীদের পেশাগত দিকনির্দেশনা দিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, আইন পেশায় রাতারাতি সফল হওয়ার কোনো সংক্ষিপ্ত বা সহজ পথ নেই; বরং নিয়মিত অধ্যয়ন, আইনি দক্ষতা অর্জন, পেশাগত সততা বজায় রাখা এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার দৃঢ় মানসিকতা নিয়েই এই পেশায় সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।

একই সঙ্গে তিনি দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স বা আপসহীন অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান, এমনকি অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজের রাজনৈতিক দলের কেউ হলেও কোনো ছাড় না দেওয়ার পরামর্শ দেন। চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতি কর্তৃক আয়োজিত এই কর্মশালায় প্রায় ১ হাজার ৫৪ জন নবীন আইনজীবী অংশ নেন, যেখানে আইনজীবীদের পেশাগত নৈতিকতা বজায় রাখা, দায়িত্ববোধ নিশ্চিত করা ও সামাজিক মর্যাদা রক্ষার বিষয়গুলোর ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Arrest warrant for 8 people including Sheikh Hasina and Benazir in Ekramul murder

একরামুল হত্যাকাণ্ডে শেখ হাসিনা ও বেনজীরসহ ৮ জনের নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

একরামুল হত্যাকাণ্ডে শেখ হাসিনা ও বেনজীরসহ ৮ জনের নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছবি: সংগৃহীত

কক্সবাজারের টেকনাফে দেশজুড়ে বহুল আলোচিত একরামুল হক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মোট ১১ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এর পাশাপাশি এই গুরুত্বপ্রদ মামলায় অভিযুক্ত পলাতক ৮ জন আসামির বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে এবং বর্তমানে অন্য মামলায় কারাবন্দী থাকা ৩ জন আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করার জন্য নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।

রোববার (২৬ জুলাই) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল আনুষ্ঠানিক শুনানি শেষে এই আদেশ দেন। উক্ত বিচারিক প্যানেলের অন্য দুই সদস্য ছিলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

এর আগে রোববার (২৬ জুলাই) সকালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে তদন্ত সংস্থার চূড়ান্ত প্রতিবেদন ও আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্রটি জমা দেওয়া হয়।

ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে রাষ্ট্রপক্ষের গুরুত্বপূর্ণ শুনানি পরিচালনা করেন প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন। তিনি আসামিদের বিরুদ্ধে একরামুলকে বেআইনিভাবে তুলে নেওয়া ও হত্যার মতো ভয়াবহ মানবতাবিরোধী অপরাধের সুনির্দিষ্ট ও বিস্তারিত বিবরণ ট্রাইব্যুনালের সামনে তুলে ধরেন এবং ফরমাল চার্জটি আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করার আরজি জানান। দীর্ঘ আইনি যুক্তিতর্ক ও শুনানি শেষে আদালত প্রসিকিউশনের আবেদন মঞ্জুর করেন এবং মামলার পরবর্তী আনুষ্ঠানিক আদেশের জন্য আগামী ২৫ আগস্ট দিন ধার্য করেন।

মামলার হেভিওয়েট আসামিদের তালিকায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাড়াও রয়েছেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এবং সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ। এর পাশাপাশি তৎকালীন দায়িত্বপ্রাপ্ত সামরিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহাবুব আলম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ উদ্দিন, কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান, মেজর রুহুল আমিন, সেনা কর্মকর্তা নাজমুস সাকিব, সেনা কর্মকর্তা আশিকুর রহমান এবং কক্সবাজারের সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদির নাম এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অভিযুক্ত এই ১১ জনের মধ্যে সাবেক এমপি আবদুর রহমান বদি, কর্নেল আনোয়ার লতিফ ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহাবুব আলম বর্তমানে পৃথক অন্যান্য মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন।

উল্লেখ্য, বিগত ২০১৮ সালের ২৬ মে রাতে কক্সবাজারের টেকনাফে তথাকথিত মাদকবিরোধী অভিযানের নামে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হন একরামুল হক। তিনি টেকনাফ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের নির্বাচিত কাউন্সিলর ও উপজেলা যুবলীগের সভাপতি হিসেবে স্থানীয় রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। ঘটনার নির্মম মুহূর্তে তাঁর স্বজন ও শিশুকন্যার সাথে আকুতিমাখা শেষ ফোনালাপের একটি লোমহর্ষক অডিও রেকর্ড দেশ-বিদেশের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয় এবং আইনি ও মানবিক কাঠগড়ায় ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Complaint against former president Sahabuddin and Hamid in the tribunal

সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন ও হামিদের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ

সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন ও হামিদের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ ছবি: সংগৃহীত

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের সহযোগী ও নির্দেশদাতা হিসেবে দায়বদ্ধতার অভিযোগে সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের বিরুদ্ধে গভীর তদন্তের আবেদন জানিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

রোববার (২৬ জুলাই) ‘বাংলাদেশ আজাদ পার্টি’র পক্ষ থেকে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থায় এই লিখিত অভিযোগটি জমা দেওয়া হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করে অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল হাসিনুর রহমান সাংবাদিকদের জানান যে, সাবেক দুই রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন ও আবদুল হামিদের শাসনকালের ভূমিকা নিবিড়ভাবে খতিয়ে দেখার জন্য এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

দায়ের করা অভিযোগে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয় যে, বৈষম্যবিরোধী জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চরম সংকটময় সময়ে রাষ্ট্রের সশস্ত্র তিন বাহিনীর সাংবিধানিক সর্বাধিনায়ক পদে আসীন থাকা সত্ত্বেও মো. সাহাবুদ্দিন সাধারণ নাগরিকদের সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় কোনো ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি। এর পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে চলা গুম, নির্বিচারে হত্যা এবং বহুল আলোচিত গোপন বন্দিশালা বা কথিত ‘আয়নাঘর’-সংক্রান্ত মারাত্মক সব মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধেও তিনি রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে প্রকাশ্যে কোনো অবস্থান নেননি, যা মূলত এসব অপরাধের প্রতি তাঁর নীরব সমর্থনেরই সামিল বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ আজাদ পার্টির প্রতিনিধিরা বলেন, পিলখানার নির্মম হত্যাকাণ্ড, শাপলা চত্বরের যৌথ অভিযান এবং দেশের বিভিন্ন সময়ের আলোচিত গুম-খুনের ঘটনাগুলোর সময় রাষ্ট্রপ্রধান ও সশস্ত্র বাহিনীর প্রধানের দায়িত্বে ছিলেন আবদুল হামিদ ও মো. সাহাবুদ্দিন। ফলে আন্তর্জাতিক আইনের সুপিরিয়র রেসপনসিবিলিটি বা ঊর্ধ্বোতন কর্তৃপক্ষের দায়বদ্ধতা নীতির ভিত্তিতে তাঁদের সামগ্রিক ভূমিকার নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার দাবি করা হয়েছে।

অন্যদিকে একই দিনে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের উত্তাল সময়ে পলায়নরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া ও সহযোগিতার দায়ে সদ্য পদত্যাগী সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে পৃথক আরেকটি অভিযোগ দায়ের করেছে ‘রাষ্ট্র সংলাপ ফোরাম’। রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সংশ্লিষ্ট বিভাগে জমা দেওয়া এই অভিযোগে বলা হয়, ক্ষমতার পালাবদলের সময় সাংবিধানিক পদের অপব্যবহার করে শেখ হাসিনাকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে তিনি সহায়তা প্রদান করেছিলেন। ফলে এই বিষয়েও আলাদাভাবে তদন্ত সম্পন্ন করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Agriculture based industries should be developed instead of chasing jobs Local Government Minister

চাকরির পেছনে না ছুটে কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তুলতে হবে: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী

চাকরির পেছনে না ছুটে কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তুলতে হবে: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ছবি: সংগৃহীত

শুধু চাকরির পেছনে না ছুটে কৃষিভিত্তিক শিল্প, অ্যাগ্রো বিজনেস ও উদ্ভাবনী কৃষি উদ্যোগের মাধ্যমে নিজেদের উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য নতুন ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশের কৃষি খাতে অপার সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে তরুণরা উদ্যোক্তা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলে কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা সম্ভব।

রোববার (২৬ জুলাই) রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি) নবীন শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রামে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, কৃষিতে পড়াশোনা করলেই সবাইকে শুধু সরকারি চাকরিতে যেতে হবে—এমন নয়। কৃষির সঙ্গে সম্পর্কিত ব্যবসা, শিল্প ও প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগের মাধ্যমে নিজেদের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি অন্যদের জন্যও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে হবে।

মন্ত্রী বলেন, শিক্ষিত তরুণদের কর্মসংস্থান বর্তমানে বড় চ্যালেঞ্জ। তাই শুধু ডিগ্রি অর্জন নয়, দক্ষতা, সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী চিন্তার বিকাশ ঘটিয়ে নতুন উদ্যোগ নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। একই সঙ্গে কৃষিকে আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও উৎপাদনশীল খাতে রূপান্তরের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়ানো এবং নতুন প্রযুক্তি কৃষকের কাছে পৌঁছে দেওয়া প্রয়োজন। কৃষির উন্নয়নে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, গবেষক ও মাঠপর্যায়ের কৃষকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহ্দী আমিন বলেন, বাংলাদেশের কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও কৃষি গবেষণায় শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্রে নবীন শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

শেকৃবির উপাচার্য ড. মোঃ আব্দুল লতিফের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য আনিছুর রহমান, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলিসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Gazipur City Corporation announced a budget of 5 thousand crore rupees

৫ হাজার কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা গাজীপুর সিটি করপোরেশনের

৫ হাজার কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ছবি: সংগৃহীত

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। রোববার (২৬ জুলাই) দুপুরে নগর ভবনের মিলনায়তনে আয়োজিত বাজেট সভায় ৫ হাজার ১০২ কোটি ৩৫ লাখ ৮ হাজার টাকার বাজেট ঘোষণা করা হয়। বাজেট পেশ করেন সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শওকত হোসেন সরকার। সভায় নির্বাহী কর্মকর্তা মিজ তিন জিলা খানমের সভাপতিত্বে রাখেন সিটি করপোরেশনের সচিব, হিসাবে রক্ষণ কর্মকর্তা গোলাম কিবরিয়া প্রমুখ।

সভায় জানানো হয়, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এবার ৫ হাজার ১০২ কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের ৩ হাজার ৪৬৩ কোটি ৬ লাখ ৯৭ হাজার টাকার সংশোধিত বাজেটও উপস্থাপন করা হয়। প্রস্তাবিত বাজেট অনুযায়ী, মোট আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫১০২ কোটি ৩৫ লাখ ৮ হাজার টাকা, ব্যয় ২ হাজার ৪৮০ কোটি ৪৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এর মধ্যে প্রারম্ভিক স্থিতি ২৪৩৭ কোটি ২৬ লাখ ৩৩ হাজার টাকা, রাজস্ব (সাধারণ তহবিল) থেকে ৪৪৩ কোটি ৩৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা, পানি সরবরাহ তহবিল থেকে ৭০ কোটি ৮০ লাখ ৭৫ হাজার টাকা, সরকারি উন্নয়ন খাতে ১৪০ কোটি টাকা এবং বৈদেশিক সহায়তাপুষ্ট ও ডিপিপি ভিত্তিক প্রকল্প থেকে ২০১০ কোটি ৯১ লাখ ৫০ হাজার টাকা আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।

অন্যদিকে, ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৪৮০ কোটি ৪৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এর মধ্যে রাজস্ব (সাধারণ তহবিল) খাতে ৪১৭ কোটি ৬৯ লাখ ৬০ হাজার টাকা, পানি সরবরাহ খাতে ৭৮ কোটি ৪ লাখ ৭০ হাজার টাকা, সরকারি অনুদানে উন্নয়ন খাতে ১৩৯ কোটি ৭৫ লাখ টাকা, নিজস্ব রাজস্বভিত্তিক উন্নয়ন প্রকল্পে ২৩৬ কোটি ২৫ লাখ টাকা এবং বৈদেশিক সহায়তাপুষ্ট ও ডিপিপি ভিত্তিক প্রকল্পে ১ হাজার ৬০৮ কোটি ৭৩ লাখ ২০ হাজার টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব করা হয়েছে। অর্থবছর শেষে সমাপনী স্থিতি দাঁড়াবে ২ হাজার ৬২১ কোটি ৮৭ লাখ ৫৮ হাজার টাকা।

এদিকে, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে মোট আয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৪৬৩ কোটি ৬ লাখ ৯৭ হাজার টাকা এবং মোট ব্যয় ১ হাজার ২৫ কোটি ৮০ লাখ ৬৪ হাজার টাকা। সংশোধিত বাজেট অনুযায়ী সমাপনী স্থিতি রয়েছে ২ হাজার ৪৩৭ কোটি ২৬ লাখ ৩৩ হাজার টাকা।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The Garo hills of Sherpur are unique in their mountain beauty and culture

পাহাড়ি সৌন্দর্য আর সংস্কৃতিতে অনন্য শেরপুরের গারো পাহাড়

পাহাড়ি সৌন্দর্য আর সংস্কৃতিতে অনন্য শেরপুরের গারো পাহাড় ছবি: সংগৃহীত

ওপারে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের তুরা জেলা আর এপারে গারো পাহাড় অধ্যুষিত বাংলাদেশের ‌শেরপুর জেলা। শেরপুরের গারো পাহাড়ে দাঁড়ালেই দেখা মিলে প্রতিবেশী দেশ ভারতের বিভিন্ন চিত্র। জেলার নালিতাবাড়ী, ঝিনাইগাতী ও শ্রীবরদী তিন উপজেলার গারো পাহাড়ের সৌন্দর্য দেখতে প্রতিনিয়তই দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পর্যটকরা ছুটে আসেন। বলতে গেলে সারাদেশের পর্যটককে শেরপুরে টেনে আনে গারো পাহাড়ের সৌন্দর্য।

গারো পাহাড়ের উঁচু ও ঢালে মিলিয়ে উল্লেখযোগ্য পর্যটন কেন্দ্রগুলো হলো, মধুটিলা ইকোপার্ক, গজনী অবকাশ, পানিহাঁটা তারানী পাহাড়, হাড়িয়াকোনা পাহাড়, ভাইরাল আগর বাগান, বারোমারি মিশন, দাওধারা কাটাবাড়ি পর্যটন কেন্দ্র ইত্যাদি। এসব স্থানে সারাদেশ এমনকি দেশের বাইরে থেকেও ঘুরতে আসেন ভ্রমণপিপাসুরা। বিশেষ করে শীত মৌসুমে বা ঈদের ছুটিতে ঢল নামে পর্যটকদের।

এসব পর্যটন কেন্দ্রের পাশাপাশি গারো পাহাড়ের বিশেষ আকর্ষণ হচ্ছে বন্যহাতি। এখানকার পাহাড়গুলোতে ৫০-৬০টি হাতির বিচরণ সবসময়ই থাকে। পুরো গারো পাহাড় অঞ্চলে বর্তমানে প্রায় দুই শতাধিক ছোট-বড় বন্যহাতি রয়েছে। হাতি দেখতেও ভিড় করেন দর্শনার্থীরা। তবে এসব বন্যহাতি স্থানীয় লোকজনের ফসল ও বাড়িঘরে প্রায়ই তান্ডব চালায়। হাতির আক্রমণে মারা যায় মানুষ, ফসল রক্ষায় কৃষকদের দেওয়া বৈদ্যুতিক ফাঁদে মৃত্যু হয় হাতিরও।

এ অঞ্চলে বসবাসকারী গারো, কোচসহ বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর নিজস্ব ভাষা, পোশাক, সংস্কৃতি, ঐতিহ্যবাহী খাবার ও জীবনযাত্রাও পর্যটকদের কাছে আলাদা আকর্ষণ তৈরি করেছে। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত আনারস, কলা, কমলা, আদা, হলুদ, লটকন ও অন্যান্য পাহাড়ি কৃষিপণ্যও দর্শনার্থীদের নজর কাড়ে।

তবে পর্যটন খাতের সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও বেশ কিছু সমস্যা রয়ে গেছে। অনেক সড়ক এখনো সরু ও ঝুঁকিপূর্ণ। উন্নত মানের আবাসন, পর্যটক তথ্যকেন্দ্র, পর্যাপ্ত শৌচাগার, নিরাপদ পার্কিং, আধুনিক রেস্তোরাঁ এবং জরুরি চিকিৎসাসেবার ঘাটতি রয়েছে। ফলে অনেক পর্যটক এক দিনের মধ্যেই ফিরে যেতে বাধ্য হন।

পর্যটন সংশ্লিষ্টরা জানান, গারো পাহাড়কে কেন্দ্র করে আধুনিক পর্যটন মাস্টারপ্ল্যান, উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা, মানসম্মত আবাসন, ডিজিটাল প্রচারণা, নিরাপত্তা জোরদার এবং স্থানীয় সংস্কৃতিভিত্তিক উৎসবের আয়োজন করা গেলে শেরপুর দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্যে পরিণত হতে পারে।

মধুটিলা ইকোপার্ক: মধুটিলা ইকোপার্ক শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী উপজেলার পোড়াগাঁও ইউনিয়নে সীমান্তবর্তী গারো পাহাড় এলাকায় অবস্থিত একটি জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র। ১৯৯৯ সালে এই বনকে পরিবেশ-উদ্যান বা ইকোপার্ক হিসেবে ঘোষণা করা হয়। প্রায় ৩৮৩ একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত এই পার্কে রয়েছে কৃত্রিম লেক, ওয়াচ টাওয়ার, মিনি চিড়িয়াখানা, বিভিন্ন প্রাণীর ভাস্কর্য, পিকনিক স্পট এবং শিশুদের খেলার জায়গা।

বনবিভাগের মধুটিলা রেঞ্জ কর্মকর্তা বলেন, ‘মধুটিলা ইকোপার্ক শুধু একটি পর্যটন কেন্দ্র নয়, এটি জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, পরিবেশ শিক্ষা এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক অনন্য মিলনস্থল। পর্যটকদের জন্য নিরাপদ ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করতে বন বিভাগ নিয়মিত কাজ করছে। আমরা সবাই যদি বন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে সচেতন হই, তাহলে এই ইকোপার্ক ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আরও সমৃদ্ধ সম্পদ হিসেবে টিকে থাকবে‌। ইকোপার্কে যেসকল সমস্যা রয়েছে এগুলো আমরা স্থানীয় প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে সমাধানের চেষ্টা করে যাচ্ছি। পার্কের ভিতরে কিছু সংস্কার হয়েছে আরো সংস্কারের জন্য আমরা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করেছি।

গজনী অবকাশ: গজনী অবকাশ কেন্দ্র ঝিনাইগাতী উপজেলার গারো পাহাড়ের পাদদেশে ভারতের মেঘালয় সীমান্ত ঘেঁষা একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় প্রাকৃতিক পর্যটন কেন্দ্র। শেরপুর জেলা শহর থেকে প্রায় ২৮-৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই অবকাশ কেন্দ্রটিতে ছোট-বড় টিলা, পাহাড়ি ঝরনা, লেক ও কৃত্রিম জলপ্রপাত রয়েছে। ১৯৯৩ সালে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে গড়ে ওঠা ৯০ একরের এই পর্যটন স্পটটিতে দর্শনার্থীদের জন্য রয়েছে প্যাডেল বোট, ঝুলন্ত ব্রিজ, ওয়াচ টাওয়ার এবং শিশু পার্ক, মিনি চিড়িয়াখানা ইত্যাদি। গজনী অবকাশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও নিয়মিত সংস্কারের ফলে এখানে দর্শনার্থীর সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। গজনী অবকাশ কেন্দ্রের ভেতরের হোটেলগুলোতে পাহাড়ি রান্নার বিশেষ স্বাদের বুনো মুরগির মাংস এবং গারো পাহাড় এলাকার ঐতিহ্যবাহী শুটকি ভর্তা ও পিঠা পাওয়া যায়। এছাড়া সাদা ভাত, দেশি মুরগি, এবং বিভিন্ন পদের দেশীয় ভর্তার সুব্যবস্থা রয়েছে। প্রকৃতির কাছাকাছি থাকতে চাইলে গজনী পার্কের ঠিক পাশেই রয়েছে বনরাণী ফরেস্ট রিসোর্ট।

দর্শনার্থী হাসান মিয়া, কাওসার, হাবিবুল্লাহ, আনিছুর রহমানসহ আরো কয়েকজন জানান, গজনী অবকাশের সৌন্দর্য দেখে ভালোই লাগলো। এখানে এলে মন ভালো হয়ে যায়। আমরা প্রায়ই আসি।’

শেরপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘পর্যটকদের নজর কাড়ার মতো গারো পাহাড়ঘেরা শেরপুর জেলায় অনেক সুন্দর প্রাকৃতিক স্থান রয়েছে। এর মধ্যে জেলা প্রশাসনের আওতাধীন অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র গজনী অবকাশ। গজনী অবকাশকে আধুনিকায়ন করার জন্য আমরা ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছি।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The death of 3 members of the same family in gas explosion is a shadow of grief in Devidwar

গ্যাস বিস্ফোরণে একই পরিবারের ৩ জনের মৃত্যু, দেবিদ্বারে শোকের ছায়া

গ্যাস বিস্ফোরণে একই পরিবারের ৩ জনের মৃত্যু, দেবিদ্বারে শোকের ছায়া ছবি: সংগৃহীত

নতুন সংসার ঘিরে বুকভরা হাজারো স্বপ্ন আর একরাশ আশা নিয়ে স্বামী ও আট বছরের ছোট্ট ভাগনীকে সাথে করে রাজধানীতে পাড়ি জমিয়েছিলেন ফাহিমা আক্তার। ভেবেছিলেন, ইট-পাথরের শহরে নিজেদের মেধা ও পরিশ্রমে গড়ে তুলবেন ভালোবাসার সুন্দর একটি নীড়। কিন্তু বিধাতা হয়তো লিখেছিলেন অন্য এক করুণ ইতিহাস! একটি অবহেলা আর গ্যাস লাইনের বিষাক্ত লিকেজ মুহূর্তের মধ্যেই তাদের সব স্বপ্ন পুড়িয়ে ছাই করে দিল।

দগ্ধ হয়ে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে জীবনের সাথে তীব্র পাঞ্জা লড়ে অবশেষে শনিবারে সন্ধ্যায় না ফেরার দেশে চলে গেলেন কুমিল্লার দেবিদ্বারের মেয়ে ফাহিমা।

একই দুর্ঘটনায় দগ্ধ হয়ে বৃহস্প‌তিবার (২৩ জুলাই) রা‌তে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান তার স্বামী আনোয়ার হোসেন শাহিন এবং শুক্রবা‌রে (২৪ জুলাই) মারা যান প্রিয় ভাগনী হাফসা। একই পরিবারের তিনজনের এমন মর্মান্তিক বিদায়ে দেবিদ্বারে এখন বইছে শোকের মাতম, স্বজনদের কান্নায় বাতাস ভারি হয়ে উঠেছে।

​নিহত ফাহিমা আক্তার দেবিদ্বার উপজেলার গোমতী আবাসিক এলাকার গোলাম হোসেনের ছোট মেয়ে। তিনি জাফরগঞ্জ মীর আব্দুল গফুর ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে অনার্সে ভর্তি হয়েছিলেন। পড়াশোনার পাশাপাশি কেক তৈরি ও পোশাক বিক্রিসহ নানা পণ্যের অনলাইন উদ্যোক্তা হিসেবে নিজের একটা শক্ত অবস্থান তৈরি করতে চেয়েছিলেন। স্বপ্ন ছিল নিজের ব্যবসাকে অনেক দূর এগিয়ে নেওয়ার। সেই লক্ষ্যেই স্বামী শাহিনের হাত ধরে উঠে এসেছিলেন রাজধানীর বাড্ডার ভাড়া বাসায়। পরম মমতা আর মায়ের স্নেহে বড় করে তুলবেন—এই আশায় সাথে করে নিয়ে এসেছিলেন বড় বোনের আট বছরের শিশুকন্যা হাফসাকে।

​পরিবার জানায়, গত বছরের ১৯ সেপ্টেম্বর দেবিদ্বারের ৯ নং গুনাইঘর উত্তর ইউনিয়নের বাঙ্গুরী গ্রামের মীর্জা আলী ব্যাপারী বাড়ির শাহিনের সাথে বিয়ে হয় ফাহিমার। দেড় মাস আগে তারা রাজধানীর উত্তর বাড্ডা এলাকার একটি ভবনের নিচতলায় বাসা ভাড়া নেন। তাদের সাথে ঢাকায় পড়তে এসেছিল ফাহিমার ভাগনী হাফসা। গত ২১ জুলাই রাত আনুমানিক ৩টার দিকে হঠাৎ বাসাটায় গ্যাস লাইনের লিকেজ থেকে বিকট শব্দে ঘটে এক ভয়াবহ বিস্ফোরণ। মুহূর্তের মধ্যে আগুনের লেলিহান শিখা ছড়িয়ে পড়ে দুটি কক্ষে।

​আগুনের জ্বলন্ত দাহে আশঙ্কাজনকভাবে দগ্ধ হন ফাহিমা, তার স্বামী শাহিন ও শিশু হাফসা। উদ্ধার করে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের ঢাকা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। সেখানে শরীরের ৭০ শতাংশ দগ্ধ নিয়ে ফাহিমা কয়েক দিন মৃত্যুর সাথে লড়ে শনিবার সন্ধ্যায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার আগেই পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে চলে যায় তার স্বামী ও সা‌থে থাকা ভাগনী হাফসা।

​দুর্ঘটনায় মৃত্যুর পর শুক্রবার (২৪ জুলাই) বাদ মাগ‌রিব শিশু হাফসাকে দাফন করা হয় তার বাবার বাড়ি দেবিদ্বারের সুলতানপুর গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে। আর শা‌হিন‌কে দাফন করা হয় বাঙ্গুরী গ্রা‌মে তার পা‌রিবা‌রিক কবরস্থা‌নে। রোববার সকাল সাড়ে ৯টায় দেবিদ্বার পৌর সদরের গোমতী আবাসিক এলাকার চানমিয়া মার্কেট মাঠে ফাহিমার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর সকাল সাড়ে ১০টায় বাঙ্গুরী গ্রামে শাহিনের পারিবারিক কবরস্থানে স্বামীর পাশেই দাফন হয় ফাহিমার।

মন্তব্য

p
উপরে