× হোম রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া সিটিজেন জার্নালিজম বিচিত্র ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য আফগানিস্তান ১৫ আগস্ট কী-কেন স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও যৌনতা-প্রজনন ইউরোপ অন্যান্য উদ্ভাবন প্রবাসী আফ্রিকা ক্রিকেট শারীরিক স্বাস্থ্য আমেরিকা দক্ষিণ এশিয়া সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ মানসিক স্বাস্থ্য ব্লকচেইন অন্যান্য ভাষান্তর ফুটবল অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
Shooter Chanchal remanded for 3 days in connection with the shooting death of Jubo Dal worker in the capital
google_news print-icon

রাজধানীতে যুবদল কর্মীকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় শ্যুটার চঞ্চলের ৩ দিনের রিমান্ড

রাজধানীতে-যুবদল-কর্মীকে-গুলি-করে-হত্যার-ঘটনায়-শ্যুটার-চঞ্চলের-৩-দিনের-রিমান্ড
ফাইল ছবি

রাজধানীর কাফরুল থানা এলাকায় যুবদলকর্মী ইউসুফ আলী ওরফে পারভেজকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার শ্যুটার মো. চঞ্চল মোল্যাকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়েছে। শনিবার (২৫ জুলাই) বিকেলে কাফরুল থানার অস্ত্র আইনের মামলায় তদন্ত কর্মকর্তার রিমান্ড আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদ এ রিমান্ডের আদেশ দিয়েছেন।

এ দিন আসামি চঞ্চল মোল্যাকে আদালতে হাজির করা হয়। এরপর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও কাফরুল থানার উপপরিদর্শক ইউসুফ আলী ভূইয়া তার ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। তবে এসময় আসামিপক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, গত শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাত ১১টার দিকে কাফরুল থানাধীন এলাকায় একই থানার বিএনপির সদস্য সচিব মো. হাফিজুল ইসলাম বাবু ও ভিকটিম ইউসুফসহ অন্যান্য লোকজন নিজেদের মধ্যে কথাবার্তা বলছিলেন। এ সময় আসামি চঞ্চল ও তার সহযোগী পলাতক অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী পূর্ব পরিকল্পিতভাবে ইউসুফকে লক্ষ্য করে গুলি করেন।

গুলিটি ইউসুফের বুকের ডান পাশে লেগে পিঠ দিয়ে বের হয়ে যায়। তিনি মাটিতে পড়ে গেলে লোকজন আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে ছুটাছুটি শুরু করলে আসামিরা এলোপাতাড়ি গুলি চালাতে থাকেন।

এলোপাতাড়ি গুলিতে সবজি বিক্রেতা নালাম সরদার ও পথচারী মো. মনির হোসেন গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। উপস্থিত লোকজন গুলিবিদ্ধ ইউসুফ, নালাম সরদার ও মনিরকে চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে ইউসুফ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

এ সময় পালাতে গেলে কাফরুল থানাধীন একটি দোকানের সামনে আসামি চঞ্চল মোল্যাকে উপস্থিত লোকজন অস্ত্র-গুলিসহ আটক করে গণপিটুনি দেন। পরে পুলিশ গিয়ে তাকে হেফাজতে নেয়।

তার দেহ তল্লাশি করে বিদেশি পিস্তল ও চার রাউন্ড গুলি জব্দ করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে আসামি চঞ্চল নিজের পরিচয় জানান। পাশাপাশি জিহাদ মোল্লা, মো. জিয়ারুল ও হাসানসহ অজ্ঞাতদের নাম প্রকাশ করেন। এ ঘটনায় কাফরুল থানায় অস্ত্র আইনে মামলা করা হয়।

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
The current government is pulling the country out of fragile economy Power Minister

ভঙ্গুর অর্থনীতি থেকে দেশকে টেনে তুলছে বর্তমান সরকার: বিদ্যুৎমন্ত্রী

ভঙ্গুর অর্থনীতি থেকে দেশকে টেনে তুলছে বর্তমান সরকার: বিদ্যুৎমন্ত্রী ছবি: সংগৃহীত

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, আওয়ামী লীগ আমলের ভঙ্গুর অর্থনীতি থেকে দেশকে টেনে তুলছে বর্তমান সরকার। একইসঙ্গে বিদ্যুৎ ঘাটতি দূর করতে আগামী পাঁচ বছরে দেশে ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

শনিবার (২৫ জুলাই) বগুড়ার মম ইন কনভেনশন সেন্টারে ‘উত্তরাঞ্চলের পাঁচটি জেলার উন্নয়ন প্রেক্ষিত: সমস্যা, সম্ভাবনা ও করণীয়’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মন্ত্রী। বগুড়া ইতিহাস চর্চা ও গবেষণা কল্যাণ সংস্থা এই সেমিনারের আয়োজন করে।

এ সময় মন্ত্রী আরও বলেন, ইতিহাস বিকৃতি ও ফ্যাসিবাদের কারণে দীর্ঘ দুই দশক ধরে পিছিয়ে থাকা উত্তরাঞ্চলকে দেশের অর্থনৈতিক মূলধারায় ফেরাতে সুষম ও সমন্বিত উন্নয়নের বিশেষ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সরকার।

মন্ত্রী বলেন, ইতিহাসকে বিকৃত করার একমাত্র দল কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ। তারা নিজেদের মতো ইতিহাস তৈরি করে। সব ইতিহাস ভুলে গিয়ে ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকার ঈর্ষান্বিতভাবে উত্তরাঞ্চলকে উন্নয়ন বঞ্চিত করেছে। আওয়ামী লীগের রেখে যাওয়া ভঙ্গুর অর্থনৈতিক অবস্থা থেকে দেশকে টেনে তোলার জন্য কাজ করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সেমিনারে মন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়েছিল বৈষম্যের বিরুদ্ধে। তবে মুক্তিযুদ্ধের পর ক্ষমতায় এসেই আওয়ামী লীগ সম্পদ কুক্ষিগত করে আরও বড় বৈষম্য তৈরি করেছিল।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, বর্তমান সরকারের শাসনামলে দুর্নীতি ও অর্থপাচার বন্ধ হয়ে উন্নয়ন ত্বরান্বিত হওয়ায় একটি পক্ষ অপপ্রচার চালাচ্ছে। দীর্ঘ ২০ বছর অবহেলার শিকার হওয়া উত্তরাঞ্চলের পাঁচ জেলার পরিকল্পিত উন্নয়নে বর্তমান সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ।

বিশেষ অতিথি হিসেবে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী বলেন, উত্তরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের আঞ্চলিক বঞ্চনা ও বৈষম্য দূর করে সারা দেশে সুষম উন্নয়ন পৌঁছে দিতে সরকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করছে।

বগুড়ার প্রবীণ বুদ্ধিজীবী ডা. সিএম ইদরিসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে বিশেষ আলোচনা তুলে ধরেন গাইবান্ধা-১ আসনের সংসদ সদস্য মাজেদুর রহমান। তিনি প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ ও নাগরিক সেবা ত্বরান্বিত করতে অবিলম্বে ‘বগুড়া বিভাগ’ গঠনের জোর দাবি জানান।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডা. মতিউর রহমান। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সরকারি মুজিবুর রহমান ভান্ডারী মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ ড. বেলাল হোসাইন এবং শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন আয়োজক সংস্থার উপদেষ্টা ডা. মশিউর রহমান। পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ও সাংবাদিক সৈয়দ ফজলে রাব্বী ডলার।

অনুষ্ঠানে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা (বগুড়া-৬), আব্দুল মুহিত তালুকদার (বগুড়া-৩), ইকরামুল বারী টিপু (নওগাঁ-৪), জাহিদুল ইসলাম ধলু (নওগাঁ-৫), শেখ মো. রেজাউল ইসলাম (নওগাঁ-৬), মো. আব্দুল করিম (গাইবান্ধা-২), আবুল কাওছার নজরুল ইসলাম (গাইবান্ধা-৩), আব্দুল ওয়ারেস (গাইবান্ধা-৫), ফজলুর রহমান সাইদ (জয়পুরহাট-১), আইনুল হক (সিরাজগঞ্জ-৩), সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য সুরাইয়া জেরিন রনিসহ বগুড়া সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এমআর ইসলাম স্বাধীন, বগুড়া জেলা পরিষদ প্রশাসক এ কে এম আহসানুল হক তৈয়ব জাকির, জয়পুরহাট জেলা পরিষদ প্রশাসক মাসুদ রানা প্রধান, টিএমএসএসের নির্বাহী পরিচালক ড. হোসনে আরা বেগম এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের প্রায় ২৫ জন অধ্যাপক ও গবেষক উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Drugs can wipe out new generation Lands Minister

মাদক নতুন জেনারেশনকে শেষ করে দিতে পারে: ভূমিমন্ত্রী

মাদক নতুন জেনারেশনকে শেষ করে দিতে পারে: ভূমিমন্ত্রী ছবি: সংগৃহীত

ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু বলেছেন, মাদক নিউ জেনারেশনকে শেষ করে দিতে পারে। কোনো শিক্ষার্থী যাতে মাদকাসক্ত না হয়ে পড়ে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। মাদক নিউ জেনারেশনকে শেষ করে দিতে পারে। একজন ব্যক্তির পক্ষে, সরকারের পক্ষে একা কখনো এটা রোধ করা সম্ভব নয়। এটা রোধ করতে পারে গোটা জাতি ও আমাদের দেশের জনগণ। এতে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখতে পারেন শিক্ষক সমাজ।

শনিবার (২৫ জুলাই) রাজশাহী সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ অডিটোরিয়ামে ২০২৬-শিক্ষাবর্ষের ছাত্রকল্যাণ পরিষদের অভিষেক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত আপনারা চেষ্টা করবেন এই মাদক থেকে ছাত্ররা, বাচ্চারা যেন দূরে থাকে। ভালো ছাত্ররাই অনেক সময় ইফেক্টেড হয়। যদি জানতে পারেন তাহলে বাসায় চলে যাবেন। নিজ সন্তানের মতো বাবা-মাকে সাথে নিয়ে বসে আলোচনা করুন, তাকে উপদেশ দেবেন। এই কঠিন বিপদ থেকে জাতিকে রক্ষা করার জন্য তাকে আসক্তিমুক্ত করবেন। ঘৃণা করে আইনের হাতে ঠেলে দিলে সে আরো খারাপের পথে যাবে। তাকে ভালোবাসা, মমতা, শিক্ষা দিয়ে ভালো পথে ফিরিয়ে নিয়ে আসতে হবে।

মন্ত্রী বলেন, আমরা চেষ্টা করছি ১৮ বছর এর না হলে কেউ মোবাইল ব্যবহার করতে পারবে না। আমি আশা করছি খুব তাড়াতাড়ি এটাতে আমরা যাব।

মন্ত্রী আরও বলেন, আমি জানি আপনারা আমার চেয়ে অনেক বেশি ভালো জানেন। আমি খুবই আনন্দবোধ করছি, যেই প্রতিষ্ঠানে আজকে আমার ছাত্র-ছাত্রী, ভাই বোনেরা নির্বাচিত হয়ে শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে শপথ নিয়েছে। এই শপথটাই আমাকে সেই দিনগুলোতে ফিরিয়ে নিয়ে গেছে। এরকম শপথ আমিও নিয়েছিলাম। এটি ক্ষমতা নয়, এটি দায়িত্ব। অল্প বয়সের অনেকের অনেক লোভ হয়, কিন্তু আমরা যেন কেউ লোভে না পড়ি। আজকে যারা নেতৃত্ব দিয়েছে, আমি তাদের সফলতা চাই।

শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে ভূমিমন্ত্রী বলেন, রাজশাহী টিচার্স ট্রেনিং কলেজ শুধু রাজশাহী নয়, বাংলাদেশ নয়, এই পুরো মহাদেশে, সারাবিশ্বে অনেক বরেণ্য শিক্ষাবিদ সৃষ্টি করেছে। আপনারা এই প্রতিষ্ঠানের রাষ্ট্রদূত। আপনাদের কথাবার্তা, আপনাদের চলাচল, আপনাদের অনেক শিক্ষা আর সবকিছুই অন্যরা দেখবে। রাজশাহী, রাজশাহীর টিচার্স ট্রেনিং কলেজ যেটা আজকে চিন্তা করে, সারা দেশই তার পরে চিন্তা করে। আপনারা সেই গর্বিত প্রতিষ্ঠানের ট্রেনিং, শিক্ষা এবং ডিগ্রি অর্জন করতে এসেছেন। আপনাদের অনেক সমস্যা আছে। সরকার বাজেটে শিক্ষাক্ষেত্রে সর্বোচ্চ অর্থ বরাদ্দ করেছে। আমরা একটা হোস্টেলের কথা লিখেছিলাম। কিন্তু এখন দেখি ছাত্র-ছাত্রী ভাইদের মনে দুঃখ হবে, সেই জন্য দু’টি নতুন হোস্টেল যেন হয় তার ব্যবস্থা করা হবে।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Parents killed by only son

একমাত্র ছেলের হাতে মা-বাবা খুন

একমাত্র ছেলের হাতে মা-বাবা খুন ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় একমাত্র ছেলের এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাতে মা-বাবার মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনার পর নিজের ঘর থেকে ঘাতক ছেলেকে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার হাইলধর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের পূর্ব গুজরা এলাকার চৈতন্য মহাজন বাড়িতে এ হত্যার ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন ওই এলাকার স্থানীয় মৃত রেবতি দাশ গুপ্তার ছেলে স্বপন দাশ গুপ্ত (৬৫) এবং তার স্ত্রী কল্পনা দাশ (৫৫)। ঘাতক হলেন তাদের একমাত্র ছেলে রিমন দাশ গুপ্ত (৪২)।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী নিহত কল্পনা দাশের ছোটো জা তিথি দাশ বলেন, ‘ছেলেটি দীর্ঘদিন মাদকাসক্ত ছিল। কয়েকবার মাদক নিরাময় কেন্দ্রেও ছিল। আজ সকালে তারা মা-বাবা-ছেলে বাইরে গিয়ে পৌন ১২টার দিকে বাড়ি পৌঁছে। এর কিছুক্ষণ পরই ছেলেটি ছুরিজাতীয় জিনিস দিয়ে তার মাকে আঘাত করতেছিল। মাকে বাঁচাতে তার বাবা এগিয়ে গেলে ছেলে তার বাবাকেও আঘাত করে। এ সময় আমরা দৌড়ে আশপাশের মানুষ ডাকতে যাই। এসে দেখি তার মা ঘটনাস্থলে মারা গেছে। আর বাবাকে আনোয়ারা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

বাবার মৃত্যুর বিষয়ে আনোয়ারা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহাতাব উদ্দিন চৌধুরী বলেন, গুরুতর আহত অবস্থায় স্বপন দাশ গুপ্তকে হাসপাতালে আনা হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে চমেক হাসপাতালে প্রেরণের সময় তার মৃত্যু হয়। আমরা পুলিশকে বিষয়টি জানিয়েছি।

এ বিষয়ে আনোয়ারা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মাহমুদুল হাসান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে ঘাতক ছেলেকে আটক করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। হাসপাতালেও আরেকটি মরদেহের খবর পাওয়া গেছে। মরদেহগুলোকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে এবং এই ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Millionaires increased by 2 thousand 209 people in three months

তিন মাসে কোটিপতি বাড়ল ২ হাজার ২০৯ জন

তিন মাসে কোটিপতি বাড়ল ২ হাজার ২০৯ জন ফাইল ছবি

তিন মাসের ব্যবধানে কোটিপতি বেড়েছে ২ হাজার ২০৯ জন। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। গত ডিসেম্বর শেষে এই ধরনের ব্যক্তি অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ছিল ৩৮ হাজার ৪৩৬টি।

প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের মার্চ মাস শেষে ব্যাংকে ৫০ কোটি টাকার বেশি জমা আছে এমন গ্রাহকদের সংখ্যা মাত্র ১৫ জন। গেল বছরের একই সময়ে এ সংখ্যা ছিল ২২ জন। তবে গত বছরের ডিসেম্বরে এই সংখ্যা ১৩ জনে নেমে এলেও চলতি বছরের মার্চে ২ জন বেড়ে ১৫ জন হয়েছে।

এ ছাড়া ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ১ কোটি টাকা বা তার বেশি অর্থ জমা আছে এমন গ্রাহকদের অ্যাকাউন্টসংখ্যা ৪০ হাজার ৬৪৫টি।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
9 people including children drowned in Kishoreganj in two days

কিশোরগঞ্জে দুই দিনে পানিতে ডুবে শিশুসহ ৯ জনের মৃত্যু

কিশোরগঞ্জে দুই দিনে পানিতে ডুবে শিশুসহ ৯ জনের মৃত্যু ছবি: সংগৃহীত

কিশোরগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলায় পৃথক ঘটনায় দুই দিনে পানিতে ডুবে শিশুসহ নয়জনের মৃত্যু হয়েছে।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) সকাল থেকে শনিবার (২৫ জুলাই) বিকেল পর্যন্ত ইটনা, মিঠামইন, নিকলী, বাজিতপুর, কটিয়াদী, ভৈরব ও কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলায় এসব দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতদের মধ্যে পাঁচ বছর বয়সী চার শিশু, দুই কিশোর, এক যুবক ও একজন ফিজিওথেরাপিস্ট রয়েছেন।

নিহত ব্যক্তিরা হলেন বাজিতপুর পৌরসভার মীরারবন্দ এলাকার সুজন মিয়ার ছেলে মো. তাসিন (৫) ও শাওন মিয়ার মেয়ে জান্নাতুল মাওয়া (৫), ইটনা উপজেলার বড়িবাড়ী ইউনিয়নের পাঁচকাহনীয়া গ্রামের নাঈম মিয়ার মেয়ে ফাইজা আক্তার (৫), নিকলী উপজেলার কারপাশা ইউনিয়নের নানশ্রী গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে মোহাম্মদ হাকিম (৫), গাজীপুরের টঙ্গীর এরশাদ নগর এলাকার মাদ্রাসাছাত্র আরিফ হোসেন (১২), কটিয়াদী উপজেলার দক্ষিণ লোহাজুরি গ্রামের মজলু মিয়ার ছেলে নাঈম মিয়া (১১), ভৈরব উপজেলার জগন্নাথপুর মধ্যপাড়া এলাকার সোহেল মিয়ার ছেলে শুভ ইসলাম স্মরণ (১২), কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার লতিবাবাদ ইউনিয়নের ডুবাইল গ্রামের হেলাল উদ্দিনের ছেলে মোহাম্মদ ফয়সাল (২২) এবং একই উপজেলার গাইটাল এলাকার ফিজিওথেরাপিস্ট মো. বাছির উদ্দিন মিলন (৩৮)।

পুকুরে ডুবে শিশুর মৃত্যু:

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (২৪ জুলাই) সকাল আটটার দিকে নিকলী উপজেলার নানশ্রী গ্রামে বাড়ির পাশে বড় ভাই ও অন্য শিশুদের সঙ্গে খেলছিল হাকিম। খেলার একপর্যায়ে অসাবধানতাবশত সে বাড়ির পাশের পুকুরে পড়ে যায়। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে নিকলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নিকলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

হাওরে গোসল করতে নেমে মাদ্রাসাছাত্রের মৃত্যু:

একই দিন সকাল সাড়ে ১১টার দিকে গাজীপুরের টঙ্গীর এরশাদ নগরের বাইতুল কোরআন কওমি মাদ্রাসার এক শিক্ষক ও প্রায় ৪০ জন শিক্ষার্থী শিক্ষা সফরে মিঠামইনের হাওর এলাকায় আসেন। হাওর ভ্রমণ শেষে ইসলামপুর ঘাট এলাকায় গোসল করতে নামলে পানির তীব্র স্রোতে ভেসে যায় মাদ্রাসাছাত্র আরিফ হোসেন। পরে সহপাঠী, শিক্ষক ও স্থানীয় লোকজন খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। দুপুরের দিকে ঘটনাস্থলের কাছ থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মিঠামইন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনোয়ার হোসেন এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বোতল আনতে গিয়ে বিলে ডুবে মৃত্যু:

দুপুর দুইটার দিকে কটিয়াদী উপজেলার দক্ষিণ লোহাজুরি গ্রামের নাঈম মিয়া কয়েকজন সহপাঠীর সঙ্গে গ্রামের বিলে গোসল করতে যায়। সাঁতার না জানায় সে প্লাস্টিকের একটি বোতল ভাসমান সহায়তা হিসেবে ব্যবহার করছিল। গোসল শেষে বাড়ি ফেরার পথে বোতলটি বিলে ফেলে আসার কথা মনে পড়ে। পরে একা সেটি আনতে ফিরে গেলে পা পিছলে গভীর পানিতে পড়ে যায় সে। দীর্ঘ সময় বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। কটিয়াদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

নদীতে ভেসে ওঠে নিখোঁজ শিশুর মরদেহ:

এর আগে বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বাড়ি থেকে গোসল করতে বের হয়ে নিখোঁজ হয় ভৈরব উপজেলার জগন্নাথপুর মধ্যপাড়া এলাকার শুভ ইসলাম স্মরণ। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও তার সন্ধান পাননি। শুক্রবার (২৪ জুলাই) সকালে তার বাবা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরে বিকেলে জগন্নাথপুর এলাকার নদীতে তার মরদেহ ভেসে ওঠে। খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে। ভৈরব থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) লিটন বোস এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মেয়েকে বাঁচিয়ে প্রাণ দিলেন বাবা:

শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেলে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার গাইটাল এলাকার বাসিন্দা ফিজিওথেরাপিস্ট মো. বাছির উদ্দিন মিলন পরিবার নিয়ে হাওরে বেড়াতে যান। নৌকায় ভ্রমণের সময় মিঠামইন উপজেলার হাসানপুর ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় তার ছোট মেয়ে অসাবধানতাবশত পানিতে পড়ে যায়। মেয়েকে বাঁচাতে সঙ্গে সঙ্গে হাওরের পানিতে ঝাঁপ দেন মিলন। তিনি মেয়েকে উদ্ধার করতে সক্ষম হলেও নিজে তীব্র স্রোতে তলিয়ে যান।

পরে স্থানীয় নৌকাচালক ও এলাকাবাসী দীর্ঘ সময় খোঁজাখুঁজি করে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মেয়েকে বাঁচাতে নিজের জীবনের কথা না ভেবেই পানিতে ঝাঁপ দিয়েছিলেন মিলন। তাঁর আত্মত্যাগে মেয়েটি প্রাণে বেঁচে গেলেও তিনি আর ফিরে আসেননি। করিমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেব খান এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

খালে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু:

শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে বাজিতপুর পৌরসভার মীরারবন্দ এলাকায় খালের পানিতে ডুবে মারা যায় দুই শিশু তাসিন ও জান্নাতুল মাওয়া। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুপুরে তারা বাড়ির পাশে খেলছিল। একপর্যায়ে দুজনই পাশের খালে পড়ে যায়। দীর্ঘ সময় বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে স্বজনেরা খালে নেমে তাদের মরদেহ উদ্ধার করেন। বাজিতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম শহীদুল্লাহ এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তাবলিগ জামাতে গিয়ে নদীতে ডুবে যুবকের মৃত্যু:

শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার নীলগঞ্জ বাজার নদীর ঘাটে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হন মোহাম্মদ ফয়সাল (২২)। তিনি লতিবাবাদ ইউনিয়নের ডুবাইল গ্রামের হেলাল উদ্দিনের ছেলে। ফয়সাল কয়েকজন মুসল্লির সঙ্গে নীলগঞ্জ বাজার জামে মসজিদে তাবলিগ জামাতে গিয়েছিলেন।

কিশোরগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মোমেন মুর্শেদ জানান, গোসল করতে নেমে ফয়সাল পানিতে তলিয়ে যান। সঙ্গে থাকা লোকজন আশপাশে খোঁজাখুঁজি করে তার সন্ধান না পেয়ে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন। পরে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। প্রায় তিন ঘণ্টা পর বেলা পৌনে চারটার দিকে ঘটনাস্থলের কাছাকাছি এলাকা থেকে ফয়সালের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

হাওরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু:

এ ছাড়া ইটনা উপজেলার বড়িবাড়ী ইউনিয়নের পাঁচকাহনীয়া গ্রামের নাঈম মিয়ার মেয়ে ফাইজা আক্তার (৫) পানিতে ডুবে মারা গেছে।

ইটনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুল্লাহ খান জানান, শুক্রবার দুপুরে বাড়ির পাশে হাওরের পানিতে বড় বোন রৌজা আক্তারের সঙ্গে গোসল করতে নামে ফাইজা। গোসলের একপর্যায়ে সে পানিতে তলিয়ে যায়। পরে শনিবার দুপুরে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল গিয়ে তার মরদেহ উদ্ধার করে।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Real journalism based on objective and data based information Information Minister

বস্তুনিষ্ঠ ও ডেটাভিত্তিক তথ্যের ভিত্তিতেই পরিচালিত হয় প্রকৃত সাংবাদিকতা: তথ্যমন্ত্রী

বস্তুনিষ্ঠ ও ডেটাভিত্তিক তথ্যের ভিত্তিতেই পরিচালিত হয় প্রকৃত সাংবাদিকতা: তথ্যমন্ত্রী ছবি: সংগৃহীত

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এ কথা বলেছেন, মতামত, অনুমান কিংবা অ্যাক্টিভিজম দিয়ে সাংবাদিকতা হয় না। বরং বস্তুনিষ্ঠ সত্য ও ডেটাভিত্তিক তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই প্রকৃত সাংবাদিকতা পরিচালিত হয়। শনিবার (২৫ জুলাই) সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে ঢাকা ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালেটিকস (দায়রা) আয়োজিত ‘বেঙ্গল ডেল্টা কনফারেন্স-২০২৬’ এর একটি প্যানেল আলোচনায় অংশ নিয়ে এ কথা বলেন।

‘দক্ষিণ এশিয়ার গণমাধ্যম কি ভিন্ন ভিন্ন রূপে একই ধরনের হুমকির সম্মুখীন হয়?’ শীর্ষক এ প্যানেল আলোচনায় আরও অংশ নেন হিমাল সাউথ এশিয়ানের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক কনক মণি দীক্ষিত, সাবেক প্রেস সচিব ও ওয়াদা পত্রিকার সম্পাদক শফিকুল আলম এবং দ্য হিন্দু’র কূটনৈতিক সম্পাদক সুহাসিনী হায়দার।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন নেত্র নিউজের এক্সিকিউটিভ এডিটর নাজমুল আহসান।

প্যানেল আলোচনায় তথ্যমন্ত্রী বলেন, সাংবাদিকতা মূলত একজন স্বাধীন সাংবাদিকের নিজস্ব চিন্তাভাবনা, দার্শনিক দৃষ্টিভঙ্গি ও সামাজিক পর্যবেক্ষণের ওপর নির্ভর করে। সাংবাদিকরা তাদের নিজস্ব চোখ ও লেখনীর মাধ্যমে ঘটনাপ্রবাহ ফুটিয়ে তোলেন। তবে পেশাদারিত্ব বজায় রাখতে তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা নিশ্চিত করা সবচেয়ে জরুরি।

দক্ষিণ এশিয়ার গণমাধ্যমের বর্তমান চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, আঞ্চলিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও পাকিস্তানের মতো দেশগুলোর গণমাধ্যমের মূল সংকটগুলো প্রায় একই রকম। অতীতে কেবল বাকস্বাধীনতাই আলোচনার মূল বিষয় থাকলেও বর্তমান প্রযুক্তি ও মোবাইল সাংবাদিকতার যুগে ভুয়া তথ্য ও অপতথ্য প্রতিরোধ করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্তি থেকে রক্ষা করাই গণমাধ্যমের প্রধান দায়িত্ব হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সাংবাদিকতা নিয়ে সাধারণ মানুষের ধারণা ও দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, সাংবাদিকতার কোনো একক সংজ্ঞা নেই। এটি আগের চেয়ে অনেক বেশি বিভাজিত। সমাজে কোনো একটি বিষয়ে মানুষের মতামত ভিন্ন হতে পারে। তবে দায়িত্বশীল সাংবাদিকের কাজ হলো আবেগ বা দৃষ্টিভঙ্গির ঊর্ধ্বে উঠে আসল সত্য প্রকাশ করা।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, সাংবাদিকদের ‘অ্যাক্টিভিস্ট’ হওয়া উচিত নয়। সাংবাদিকের মূল দায়িত্ব হলো উপাত্তের ওপর দাঁড়িয়ে সত্যকে উন্মোচন করা। ডেটা বা সুনির্দিষ্ট তথ্য ছাড়া কোনো ধারণাই খবর হতে পারে না। সমাজকে সঠিকভাবে বুঝতে ও ফুটিয়ে তুলতে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদচর্চার পরিবেশ বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।

প্যানেল আলোচনায় সাবেক প্রেস সচিব ও ওয়াদা পত্রিকার সম্পাদক শফিকুল আলম বলেন, প্রিন্ট বা টেক্সট যুগের চেয়ে বর্তমান ডিজিটাল যুগে সমাজ ও সংবাদকক্ষগুলো সবচেয়ে বেশি বিভাজিত হয়ে পড়েছে। প্রতিনিয়ত সাংবাদিকদের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই ও আনুগত্যের পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, সত্তর থেকে আশির দশকে সংবাদপত্র বন্ধ বা সেন্সরশিপের মাধ্যমে গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ করা হতো। আর এখন পুরো নিউজ রুম বা সাংবাদিকদের নানা সুযোগ-সুবিধা ও প্রলোভনের মাধ্যমে প্রভাবিত করা হয়।

প্রযুক্তির পরিবর্তন ও টেক্সট সাংবাদিকতার ভবিষ্যৎ সম্পর্কে শফিকুল আলম বলেন, টেক্সট বা প্রিন্ট সাংবাদিকতায় আর আগের মতো অর্থ বা অর্থনৈতিক স্থায়িত্ব নেই। মানুষ এখন আর দীর্ঘ লেখা পড়তে চায় না। নির্দিষ্ট কিছু ক্যাটাগরি ছাড়া টেক্সটভিত্তিক সাংবাদিকতা সংকুচিত হয়ে আসছে। আর এর জায়গা দখল করে নিচ্ছে ভিডিওভিত্তিক ডিজিটাল মাধ্যম।

আলোচনায় অংশ নিয়ে ‘দ্য হিন্দু’র কূটনৈতিক সম্পাদক সুহাসিনী হায়দার বলেন, গণমাধ্যমের দায়িত্ব অনেক। তবে সাংবাদিকদের মূলত তিনটি বিষয় থেকে দূরে থাকতে হয়। প্রথমত, তারা সরকার বা ক্ষমতার অংশীদারদের মুখপাত্র নন। দ্বিতীয়ত, সাংবাদিকরা ‘অ্যাক্টিভিস্ট’ বা আন্দোলনকারী নন। তাদের কাজ কোনো পক্ষ নেওয়া নয়, বরং সত্যকে বিশ্লেষণ করে তুলে ধরা। তৃতীয়ত, সাংবাদিকতা কোনো বিনোদন নয়। সংবাদের কাজ হচ্ছে মানুষকে অবহিত ও সচেতন করা।

দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের সাংবাদিকদের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে সুহাসিনী হায়দার আরও বলেন, বিগত কয়েক বছরে দক্ষিণ এশিয়া ধারণার কিছুটা ঘাটতি তৈরি হয়েছে এবং আঞ্চলিক যোগাযোগ কমে গেছে।

তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে কেবল সীমান্ত, ভূ-রাজনীতিই মূল চ্যালেঞ্জ নয়। বরং জলবায়ু পরিবর্তন, পানির সংকট, প্রযুক্তির ক্ষতিকর প্রভাব, এআই এবং অপপ্রচারের মতো বিষয়গুলো এ অঞ্চলের জন্য নতুন হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব নিত্যনতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলভিত্তিক সমন্বিত সমাধান জরুরি।

এদিকে আজ দুপুরে রাজধানীর অন্য একটি হোটেলে ‘গ্লোবাল কনফারেন্স অন এআই লিডারশিপ অ্যান্ড ফ্ল্যাগশিপ প্রেস্টিজ অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশকেও এগিয়ে যেতে হবে উল্লেখ করে অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তিকে কার্যকরভাবে কাজে লাগিয়ে কর্মক্ষমতা ও দক্ষতা বাড়াতে হবে। কারণ এআই নিয়ে আধুনিক যুগের সাথে তাল মিলিয়ে কাজ করাই এখন সময়ের দাবি।

সম্মেলনে দেশ-বিদেশের প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, নীতিনির্ধারক, গবেষক ও শিক্ষাবিদগণ এআই, ডিজিটাল নেতৃত্ব, সুশাসন, সাইবার নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক সহযোগিতা নিয়ে বিভিন্ন অধিবেশনে বক্তব্য রাখেন।

দিনব্যাপী এ সম্মেলনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে এআই প্রযুক্তিতে বিশেষ অবদানের জন্য গুণীজনদের সম্মাননা প্রদান করা হয়।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
From constables to additional IGPs new horizons for women members of the police

কনস্টেবল থেকে অতিরিক্ত আইজিপি, নেতৃত্বে নতুন দিগন্ত পুলিশের নারী সদস্যদের

কনস্টেবল থেকে অতিরিক্ত আইজিপি, নেতৃত্বে নতুন দিগন্ত পুলিশের নারী সদস্যদের ছবি: সংগৃহীত

১৯৭৪ সালে বাংলাদেশ পুলিশে প্রথমবারের মতো নারী সদস্য নিয়োগের পাঁচ দশকেরও বেশি সময় পর দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীতে নারীরা নেতৃত্বের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছেন।

এক সময় সহায়ক দায়িত্বে সীমাবদ্ধ থাকা নারী পুলিশ সদস্যরা এখন বাহিনীর প্রতিটি স্তরে দায়িত্ব পালন করছেন। কমিউনিটিতে টহলরত কনস্টেবল থেকে শুরু করে অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত আইজিপি) পদমর্যাদার কর্মকর্তা পর্যন্ত সব পর্যায়েই তাদের সক্রিয় উপস্থিতি রয়েছে।

শিল্প পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক গাজী জসিম উদ্দিন বাসসকে বলেন, কঠোর পরিশ্রম, নিষ্ঠা, পেশাদারিত্ব ও দক্ষতার মাধ্যমে নারী পুলিশ সদস্যরা কনস্টেবল থেকে অতিরিক্ত আইজিপি পর্যন্ত প্রতিটি স্তরে নিজেদের সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘কনস্টেবল থেকে অতিরিক্ত আইজি পর্যন্ত প্রতিটি পর্যায়ে নারীরা অর্পিত দায়িত্ব সফলভাবে পালন করছেন। এটি অত্যন্ত ইতিবাচক একটি অগ্রগতি। কর্মদক্ষতার দিক থেকে তারা কোনো অংশেই পিছিয়ে নেই।’

শিল্প পুলিশের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতে অধিকাংশ শ্রমিক নারী হওয়ায় শ্রম অসন্তোষ নিরসনে নারী পুলিশ সদস্যরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নারী পুলিশ সদস্যদের অবদান ছাড়া শিল্পাঞ্চলে শ্রম অসন্তোষ কার্যকরভাবে মোকাবিলা করা কঠিন হতো।

শিল্প পুলিশ ইউনিট-৩, চট্টগ্রামে কর্মরত পুলিশ সুপার মাহমুদা বেগম ১৬ বছরের কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, বাহিনীর নারী সদস্যদের আন্তরিকতা, পেশাদারিত্ব ও নিষ্ঠা তাকে অনুপ্রাণিত করে।

তিনি বলেন, পেশাগত দক্ষতার মাধ্যমে নারী কর্মকর্তারা অতিরিক্ত মহাপরিদর্শকের মতো উচ্চ পদে পৌঁছেছেন, যা আরও বেশি নারীকে পুলিশে যোগদানে উৎসাহিত করছে।

অপরাধ বিভাগে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে মাহমুদা বলেন, ধর্ষণ বা পারিবারিক সহিংসতার শিকার নারীরা আমাদের কাছে এলে অনেক বেশি খোলামেলা কথা বলেন, কারণ তারা মনে করেন আমরা তাদের অনুভূতি বুঝতে পারি।

তিনি বলেন, অনেক নারী ও শিশু ভুক্তভোগী পুরুষ কর্মকর্তাদের সামনে তাদের ট্রমার অভিজ্ঞতা বলতে সংকোচ বোধ করেন। নারী তদন্তকারী হিসেবে দ্রুত আস্থা অর্জন করা সম্ভব হয়, যা তদন্তে প্রমাণ সংগ্রহের মান উন্নত করতে সহায়তা করে।

পুলিশ সুপার মাহমুদা বেগম বলেন, আগের প্রজন্মের তুলনায় বর্তমানে নারী পুলিশ সদস্যদের পেশাগত সুযোগ-সুবিধা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

তার ভাষায়, ‘জ্যেষ্ঠ নারী কর্মকর্তারা যখন নবীন সহকর্মীদের দিকনির্দেশনা দেন, তখন তা পুরো বাহিনীর মধ্যে আত্মবিশ্বাস সৃষ্টি করে। এখন বাংলাদেশ পুলিশে যোগ দেওয়া তরুণীরা জানেন, নিষ্ঠা ও পেশাগত উৎকর্ষের মাধ্যমে নেতৃত্বের উচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানো সম্ভব।’

শিল্প পুলিশে কাজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে মাহমুদা বলেন, নারী পোশাক শ্রমিকরা নারী কর্মকর্তাদের কাছে নিজেদের সমস্যার কথা বলতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন এবং তিনি সবসময় তাদের সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করেন।

তিনি জরুরি পরিস্থিতিতে বা পুলিশি সহায়তার প্রয়োজন হলে নারী শ্রমিকদের জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করার পরামর্শ দেন।

যদিও নারী সদস্যদের সংখ্যা ও দায়িত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, তবুও নেতৃত্ব, তদন্ত ও অপারেশনাল পুলিশিংয়ে সমান প্রতিনিধিত্ব অর্জনের পথ এখনও অনেক বাকি বলে মনে করেন নারী কর্মকর্তারা।

সম্প্রতি রাজারবাগ বাংলাদেশ পুলিশ অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ পুলিশ উইমেন নেটওয়ার্কের (বিপিডব্লিউএন) ২০২৪-২০২৭ কৌশলগত পরিকল্পনা বাস্তবায়নবিষয়ক ঢাকা বিভাগীয় পরামর্শ কর্মশালায় এ বিষয়টি বিশেষভাবে উঠে আসে।

বাংলাদেশ পুলিশে ১৯৭৪ সালে প্রথম নারী সদস্য নিয়োগের মধ্য দিয়ে এক ঐতিহাসিক অধ্যায়ের সূচনা হয়। সে সময় তাদের দায়িত্ব মূলত প্রশাসনিক ও সীমিত পরিসরের ছিল।

কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নারীরা প্রাতিষ্ঠানিক নানা বাধা অতিক্রম করে আজ কনস্টেবল, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই), উপপরিদর্শক (এসআই), পরিদর্শক, সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি), অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, পুলিশ সুপার (এসপি), উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি), অতিরিক্ত ডিআইজি এবং অতিরিক্ত আইজিপি পদমর্যাদার বিভিন্ন দায়িত্বে কর্মরত রয়েছেন।

বাংলাদেশ পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বাহিনীতে ১৭ হাজার ৯৭০ জন নারী সদস্য কর্মরত রয়েছেন, যা মোট জনবলের ৯ দশমিক ০৭ শতাংশ।

নারী সদস্যরা বর্তমানে মহানগর পুলিশ, জেলা পুলিশ, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন), স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি), অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), ট্যুরিস্ট পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ, নৌ পুলিশ, পুলিশ সদর দপ্তর এবং জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনেও দায়িত্ব পালন করছেন।

এছাড়া জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে সর্বনারী ফর্মড পুলিশ ইউনিট মোতায়েনের মাধ্যমে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক পর্যায়েও প্রশংসা অর্জন করেছে।

২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে বাংলাদেশ পুলিশ উইমেন নেটওয়ার্ক (বিপিডব্লিউএন) নারী পুলিশ সদস্যদের পেশাগত উন্নয়নের প্রধান প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে।

সংগঠনটির পাঁচটি কৌশলগত অগ্রাধিকার হলো— সব পর্যায়ে নারী সদস্যদের প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি, নেতৃত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদে উন্নীত করা, পেশাগত ও তদন্ত দক্ষতা বাড়ানো, নিরাপদ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা এবং জেন্ডার-সংবেদনশীল পুলিশিং জোরদার করা।

কর্মশালায় বিপিডব্লিউএনের সাধারণ সম্পাদক ও পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি (প্রশিক্ষণ-২) মোছা. শাহালা পারভীন নারী কর্মকর্তাদের নেতৃত্ব বিকাশ ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের ওপর গুরুত্বারোপ করে ২০২৪-২০২৭ কৌশলগত পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন।

কর্মশালায় সাইবার অপরাধ তদন্ত, সাইবার সচেতনতা, মানসিক সুস্থতা, কর্মস্থলের নিরাপত্তা এবং যৌন হয়রানি প্রতিরোধে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়ন সম্পর্কেও বিভিন্ন অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।

ইউএন উইমেনের প্রতিনিধিরা ভুক্তভোগীকেন্দ্রিক পুলিশিং বিষয়ে কারিগরি অধিবেশন পরিচালনা করেন এবং তদন্তে জেন্ডার-সংবেদনশীল পদ্ধতি অনুসরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বিপিডব্লিউএন ও ইউএন উইমেনের প্রশিক্ষণে ভুক্তভোগীকেন্দ্রিক তদন্ত, ট্রমা-সচেতন সাক্ষাৎকার গ্রহণ এবং নারী ও শিশুদের জন্য সমন্বিত সহায়তা সেবার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

মহানগর পুলিশ ইউনিটে কর্মরত একজন নারী উপপরিদর্শক বলেন, নারী কর্মকর্তারা বড় ধরনের অপারেশন পরিচালনায়ও সক্ষমতার পরিচয় দিয়েছেন।

তিনি বলেন, সময়ের সঙ্গে আমাদের দায়িত্ব বেড়েছে। তবে গোয়েন্দা কার্যক্রম, অপরাধ তদন্ত ও অপারেশনাল নেতৃত্বের সুযোগও একইভাবে বাড়ানো উচিত। নারী কর্মকর্তারা বারবার প্রমাণ করেছেন যে আমরা পেশাদারিত্বের সঙ্গে জটিল অভিযান পরিচালনা করতে সক্ষম।

ঢাকা বিভাগীয় কর্মশালায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদলের পক্ষে এনরিকো লরেনজোন বলেন, বিপিডব্লিউএনের কৌশলগত পরিকল্পনার সফল বাস্তবায়ন নির্ভর করবে টেকসই প্রাতিষ্ঠানিক অঙ্গীকার এবং জাতীয় পর্যায়ের নেতৃত্বের ওপর।

এদিকে ইউএন উইমেনের এন্ডিং ভায়োলেন্স অ্যাগেইনস্ট উইমেন ইউনিট-এর ব্যবস্থাপক শ্রাবণা দত্ত নারী কর্মকর্তাদের পেশাগত সক্ষমতার ঘাটতি চিহ্নিত করার আহ্বান জানান, যাতে ভবিষ্যৎ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম আরও কার্যকরভাবে পরিচালনা করা যায়।

বাংলাদেশ পুলিশের আধুনিকায়ন কার্যক্রমে নারীদের ক্রমেই কেন্দ্রীয় ভূমিকায় আনা হচ্ছে। সাইবার অপরাধ তদন্ত জোরদার করা, ভুক্তভোগীকেন্দ্রিক পুলিশিং সম্প্রসারণ এবং নেতৃত্বে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানোর মাধ্যমে বাহিনী ধীরে ধীরে তার কার্যক্রমে নতুন রূপ দিচ্ছে।

বর্তমানে বাংলাদেশ পুলিশের মোট সদস্যের মাত্র ৯ শতাংশের কিছু বেশি নারী হলেও অন্তর্ভুক্তিমূলক অংশগ্রহণের ধারা অব্যাহত রয়েছে। পুলিশ নেতৃত্ব, উন্নয়ন সহযোগী এবং নারী কর্মকর্তারা মনে করেন, নিয়োগ বৃদ্ধি, নেতৃত্বের সুযোগ সম্প্রসারণ, বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ এবং অপারেশনাল দায়িত্ব বাড়ানো হলে কনস্টেবল থেকে অতিরিক্ত আইজিপি পর্যন্ত প্রতিটি স্তরে নারীরা আরও কার্যকর অবদান রাখতে পারবেন।

বিপিডব্লিউএনের ২০২৪-২০২৭ কৌশলগত পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে নারী পুলিশ সদস্যরা আশা করছেন, তাদের অগ্রযাত্রার আগামী অধ্যায় শুধু সংখ্যাগত বৃদ্ধি নয়, বরং সমান সুযোগ, আরও শক্তিশালী নেতৃত্ব এবং জনগণের বৈচিত্র্য প্রতিফলিত করে এমন একটি আধুনিক পুলিশ ব্যবস্থা গড়ে তোলার মধ্য দিয়ে চিহ্নিত হবে।

মন্তব্য

p
উপরে