× হোম রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া সিটিজেন জার্নালিজম বিচিত্র ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য আফগানিস্তান ১৫ আগস্ট কী-কেন স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও যৌনতা-প্রজনন ইউরোপ অন্যান্য উদ্ভাবন প্রবাসী আফ্রিকা ক্রিকেট শারীরিক স্বাস্থ্য আমেরিকা দক্ষিণ এশিয়া সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ মানসিক স্বাস্থ্য ব্লকচেইন অন্যান্য ভাষান্তর ফুটবল অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
The government appointed contractually on the top posts of 12 company boards and corporations
google_news print-icon

১২ সংস্থা, বোর্ড ও করপোরেশনের শীর্ষ পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিল সরকার

১২-সংস্থা-বোর্ড-ও-করপোরেশনের-শীর্ষ-পদে-চুক্তিভিত্তিক-নিয়োগ-দিল-সরকার
ফাইল ছবি

১২টি গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা, বোর্ড ও করপোরেশনের শীর্ষ পদে নতুন করে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়েছে সরকার। গত বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখার উপসচিব মো. গোলাম রব্বানী স্বাক্ষরিত পৃথক ১২টি প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব পদ ছাড়া বাকি ১১টি প্রতিষ্ঠানের প্রধান পদে গ্রেড-২ মর্যাদায় এক বছরের জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক পদে গ্রেড-২ মর্যাদায় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেয়েছেন মো. সালাহ্উদ্দিন সরকার।

একই গ্রেডে বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের (বোয়েসেল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে মোহাম্মদ রাশেদুল হক, বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশনের চেয়ারম্যান পদে মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) চেয়ারম্যান পদে এ টি এম আবদুল বারী ড্যানী এবং বাংলাদেশ জাতীয় সমাজকল্যাণ পরিষদের নির্বাহী সচিব পদে মো. কামরুজ্জামান (কামরুজ্জামান দুলাল) নিয়োগ পেয়েছেন।

এছাড়া বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল করপোরেশনের চেয়ারম্যান পদে আবদুল খালেক, বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্যশিল্প করপোরেশনের চেয়ারম্যান পদে মো. শামসুজ্জামান (সুরুজ), বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে কাজী রওনাকুল ইসলাম (টিপু), বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের চেয়ারম্যান পদে মো. জাকির সিদ্দিকি, বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) চেয়ারম্যান পদে বেনজীর আহমেদ এবং বাংলাদেশ জুট করপোরেশনের চেয়ারম্যান পদে মো. মামুন হাসানকে গ্রেড-২ মর্যাদায় এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব পদে এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেয়েছেন মো. সামসুল আলম।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা অন্য কোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকলে, যোগদানের আগে সেসব সম্পর্ক ছিন্ন করতে হবে।

যোগদানের তারিখ থেকে পরবর্তী এক বছরের জন্য তাদের এই চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ কার্যকর হবে।

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Now people are cooperating in time they will demand accountability Water Resources Minister

এখন মানুষ সহযোগিতা করছে সময় গেলে জবাবদিহি চাইবে: পানিসম্পদ মন্ত্রী

এখন মানুষ সহযোগিতা করছে সময় গেলে জবাবদিহি চাইবে: পানিসম্পদ মন্ত্রী ছবি: সংগৃহীত

‘এখন মানুষ সহযোগিতা করছে, সময় গেলে জবাবদিহি চাইবে’ বলে মন্তব্য করে পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, ৫ মাস হয়েছে আমরা (বিএনপি) এসেছি। যখন এক-দেড় বছর যাবে, মানুষ আমাদের কাছে জবাবদিহিতা আশা করবে। এখন কিন্তু সাধারণ মানুষ আমাদেরকে প্রশ্ন করে না। এখন উনারা আমাদেরকে সহযোগিতা করছেন, কাজটা শুরু করার জন্য। কিন্তু সময় যেতে বেশিক্ষণ লাগে না।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেলে লক্ষ্মীপুর পৌরসভার লামচরি জামে মসজিদ কমিটির সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, আমরা সবাই আশা করেছিলাম, সরকারই থাকুক আমাদের দাবির প্রতি সবাই সম্মান দেবে। নির্বাচনের এক মাসের মাথায় আমরা প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে কাজ শুরু করেছি। অনেকেই বলতে পারেন এটি দীর্ঘদিনের প্ল্যান ছিল। প্ল্যানতো অনেক কিছুই থাকে, স্বপ্ন অনেক কিছুই থাকে। কিন্তু বাস্তবায়নটা কোথায় আটকে আছে, সেটাকে ঠিক করে সেই কাজটাকে দৃশ্যমান করে নিয়ে আসা সেটাই আসল ব্যাপার। সেজন্য প্রধানমন্ত্রী লক্ষ্মীপুরবাসীর প্রতি খুবই আন্তরিকতা দেখিয়েছেন।

এ সময় বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক সাহাব উদ্দিন সাবু, লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোহাম্মদ ইউছুফ, কমলনগর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সৈয়দ মোহাম্মদ সামছুল আলম, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হাছিবুর রহমান, টুমচর ইসলামিয়া কামিল মাদরাসার সাবেক অধ্যক্ষ হারুন আল মাদানি ও রামগঞ্জ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর হুমায়ুন কবির প্রমুখ।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Vegetables are more raw chillies increasing the discomfort in the market

বাজারে অস্বস্তি বাড়াচ্ছে সবজি, বেশি কাঁচামরিচে

* মাসের ব্যবধানে দাম বেড়ে তিনগুণ * প্রতিটি সবজির কেজি শতকের ঘর ছুঁয়েছে * মাছ-মাংস আগের দামেই স্থিতিশীল
বাজারে অস্বস্তি বাড়াচ্ছে সবজি, বেশি কাঁচামরিচে ছবি: সংগৃহীত

টানা বর্ষণ আর বৈরী আবহাওয়ার জেরে সপ্তাহের ব্যবধানে দাম বেড়েছে কাঁচা বাজারে। বাজারে সবচেয়ে বেশি অস্বস্তি ছড়াচ্ছে রান্নার অন্যতম প্রয়োজনীয় উপাদান কাঁচামরিচ। মাত্র এক মাসের ব্যবধানে নিত্যপ্রয়োজনীয় এই পণ্যের দাম বেড়ে পৌঁছেছে প্রায় তিনগুণে।

রাজধানীর বিভিন্ন খুচরা ও পাইকারি বাজার ঘুরে দেখা যায়, গত চার সপ্তাহ আগে যে কাঁচামরিচ প্রতি কেজি ৭০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, বর্তমানে সেই মরিচ কিনতে ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে ২৪০ টাকা পর্যন্ত।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাজধানীর ব্যস্ততম কারওয়ান বাজার, হাতিরপুল ও রায়সাহেব বাজার সরেজমিনে পরিদর্শন করে দেখা যায়, মানভেদে কাঁচামরিচ প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ২২০ থেকে ২৪০ টাকার মধ্যে। অথচ গত সপ্তাহেও রাজধানীর বাজারগুলোতে মরিচের কেজি ছিল ১২০ টাকা। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে দাম দ্বিগুণ হয়েছে, আর চার সপ্তাহের হিসাবে তা তিনগুণ ছাড়িয়েছে।

মরিচের সঙ্গে লাগামহীনভাবে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বেগুনের দামও। গত সপ্তাহে যে বেগুন ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছিল, চলতি সপ্তাহে তা একলাফে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫০ টাকায়।

কাঁচা বাজারের সার্বিক চিত্র পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, বাজারে দুয়েকটি পণ্য ছাড়া প্রায় প্রতিটি সবজির কেজি এখন শতকের ঘর ছুঁয়েছে বা তার ওপরে উঠে গেছে। বর্তমানে বাজারে উচ্ছে প্রতি কেজি ১০০ থেকে ১২০ টাকা, পটোল ৮০, ঢ্যাঁড়স ১০০, ঝিঙা ১০০, চিচিঙ্গা ৮০-১০০, শসা ১২০-১৩০ এবং গাজর ১৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

গ্রীষ্মকালীন সবজির মধ্যে কাঁকরোল ৯০-১০০, এ ছাড়া পাকা টমেটো ১২০-১৪০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। লাউ বিক্রি হচ্ছে ৮০-৯০ টাকায়।

গত সপ্তাহের বাজারদরের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, এসব সবজির দাম কেজিপ্রতি গড়ে ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। তবে কাঁচা পেঁপে মিলছে কিছুটা কম দামেই, প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়। এ ছাড়া মিষ্টি কুমড়া প্রতি পিস ৪০ থেকে ৫০ টাকা, চাল কুমড়া ৬০-৮০ এবং কাঁচা কলা প্রতি হালি ৩০-৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

অন্যদিকে সবজির বাজার অস্থিতিশীল থাকলেও মাংস ও নিত্যপ্রয়োজনীয় অন্য পণ্যের বাজার মোটামুটি আগের অবস্থাতেই রয়েছে।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, গরুর মাংস প্রতি কেজি ৮৫০ এবং খাসির মাংস ১২০০ টাকায় স্থির রয়েছে। পোলট্রি পণ্যের মধ্যে ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৮০ ও কক মুরগি ৩৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর নিত্যপ্রয়োজনীয় আলু প্রতি কেজি ৪০ এবং পেঁয়াজ মানভেদে ৫০-৬০ টাকা কেজিতে খুচরা বাজারে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

বাজারের এই ঊর্ধ্বমুখী দামে সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। প্রতিদিনের মতো কারওয়ান বাজারে কেনাকাটা করতে আসা মধ্যবিত্ত ক্রেতা মো. রফিক আফসোস প্রকাশ করে জানালেন, বাজারে এলে কোনো না কোনো পণ্যের দাম বাড়ানো অবস্থায় পাওয়া যায়। এভাবে দাম বাড়তে থাকলে সাধারণ মানুষের বেঁচে থাকাই কঠিন হয়ে পড়বে। বাজারে চড়া দামে কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে। তাও আবার সেগুলোর মান ভালো না।

‘কিছুদিন আগেও যেসব সবজি ৭০-৮০ টাকায় কিনেছি, সেগুলো এখন ১০০ টাকার নিচে পাওয়া যাচ্ছে না। ভাজি করে খাওয়ার জন্য একটি বেগুন নিয়েছি, তার দামও ৪০ টাকা’— বলছিলেন রফিক।

একই হতাশার কথা জানালেন হাতিরপুল বাজারে কেনাকাটা করতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী জসীম উদ্দীন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বললেন, ‘আমাদের মতো নির্দিষ্ট মানুষের আয়ের সঙ্গে বাজারের ব্যয়ের কোনো ভারসাম্য থাকছে না। প্রতিবার বাজারে এলেই হিসাব ও বাজেট এলোমেলো হয়ে যায়। প্রতিটি সবজির দাম যদি ১০০ টাকা ছাড়িয়ে যায়, তবে একটি সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবার প্রতিদিন পাতে কী খাবে? সংসারের খরচ সামলাতে প্রতি সপ্তাহে আমাদের চাল, ডাল ও অন্যান্য খাদ্যপণ্যের বাজেট কাটছাঁট করে সবজি কেনার টাকা মেলাতে হচ্ছে।’

এদিকে কাঁচামরিচ ও সবজির এই অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধির পেছনে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও সরবরাহের ঘাটতিকে দায়ী করছেন খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা। রায়সাহেব বাজারে দীর্ঘদিন ধরে সবজি বিক্রি করছেন মো. মিলন।

পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে মিলন বলছিলেন, একটানা ভারি বৃষ্টির কারণে দেশের প্রধান প্রধান সবজি উৎপাদনকারী অঞ্চলের বহু ক্ষেতে পানি জমে গেছে। জমিতে দীর্ঘদিন পানি জমে থাকলে মরিচ ও সবজি গাছের শিকড় পচে যায়। আবার বৃষ্টিতে ফুলও ঝরে পড়ে। আবার অনেক অঞ্চল থেকে সবজি সংগ্রহ করাও সম্ভব হচ্ছে না বৃষ্টির কারণে। সরবরাহ কমে যাওয়ার কারণেই বাজারে পণ্য কম আসছে এবং পাইকারিতেই দাম বেড়ে যাচ্ছে।

তবে বৃষ্টি কমে বাজারে নতুন সবজির সরবরাহ আবার স্বাভাবিক হলে সবজির দাম নিচে নেমে আসবে। আর যদি বৃষ্টি অব্যাহত থাকে, তবে আগামী কয়েকদিন দাম আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন এই বিক্রেতা।

বাজারসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, শুধু বৃষ্টি বা আবহাওয়ার অজুহাত দিয়ে পণ্যের দাম কৃত্রিমভাবে বাড়ানো হচ্ছে কি না তা খতিয়ে দেখা জরুরি। বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পরিবহন ও সরবরাহব্যবস্থা সচল রাখার পাশাপাশি পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে নিয়মিত সরকারি তদারকি বাড়ানো দরকার।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
New fuel prices

নতুন করে জ্বালানির দাম

নতুন করে জ্বালানির দাম ছবি: সংগৃহীত

দেশে নতুন করে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে দর কিছুটা বাড়লেও গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দেশে জ্বালানির দাম তুলনামূলক কম ছিল।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) দুপুরে সিলেট সদর উপজেলার লাক্কাতুরা চা-বাগান এলাকায় চা-শ্রমিকদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণে দিনব্যাপী বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা, পরিবার পরিকল্পনা ও শিশুস্বাস্থ্যসেবা ক্যাম্পের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

ভোক্তা অধিদপ্তর, দুদক ও বিটাকসহ ৫ সংস্থার গুরুত্বপূর্ণ পদে নতুন নিয়োগ

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে শুল্ক আরোপের বিষয়ে জানতে চাইলে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, নতুন করে শুল্ক আরোপের ফলে আগের পরিস্থিতির সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির কোনো বাস্তব পরিবর্তন ঘটেনি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আগের যে নীতি ছিল, দেশটির নিজস্ব আইন অনুযায়ী নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ায় একই হারে শুল্ক বহাল থাকবে, তবে তা নতুন নিয়মে কার্যকর হবে। ফলে নতুন শুল্ক আরোপের প্রভাব বাস্তবে একই থাকছে।

অনুষ্ঠানে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানসহ জেলা ও মহানগর বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
5 more patients died due to measles symptoms about 100 lakhs

হামের উপসর্গে মৃত্যু আরও ৫, রোগী প্রায় সোয়া লাখ

হামের উপসর্গে মৃত্যু আরও ৫, রোগী প্রায় সোয়া লাখ ফাইল ছবি

হাম ও হামের উপসর্গে মৃত্যু থামছেই না। হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু হলো। এছাড়া নতুন করে আরও ১ হাজার ১৩৭ শিশুর শরীরে হাম ও উপসর্গ দেখা গেছে। এতে গত ১৫ মার্চ থেকে শুক্রবার (২৪ জুলাই) পর্যন্ত সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা এক লাখ ২২ হাজার ১৫০ জনে দাঁড়িয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, নতুন ১৮৭ জন নিয়ে নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা ১৫ হাজার ১৯৪ জন। সন্দেহজনক হাম রোগে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এক লাখ চার হাজার ৭১৭ জন। একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন এক লাখ এক হাজার ৫৬ জন। এসসয় সন্দেহজনক হামে মোট ৭১৫ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

কোটি কোটি শিশু এখনো ঝুঁকিতে: সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার পর ২০২৬ সালের এপ্রিলে সরকার হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি শুরু করে। প্রথমে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় এবং পরে সারা দেশে এ কর্মসূচি চালানো হয়। এতে ছয় মাস থেকে পাঁচ বছরের কম বয়সি এক কোটি ৮০ লাখ শিশুকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়। সরকারের দাবি, নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার বেশি শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে।

তবে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, লক্ষ্যমাত্রাই প্রকৃত শিশুসংখ্যার তুলনায় কম ছিল।

জুনে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনে একই বয়সি প্রায় দুই কোটি ২৬ লাখ শিশু অংশ নেয়। সে হিসাবে প্রায় ৪৬ লাখ শিশু হামের টিকাদান কর্মসূচির বাইরে থেকে যেতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রোগপ্রতিরোধ ঘাটতির কারণেই জাতীয় পর্যায়ে টিকাদান কর্মসূচি চালানোর পরও সংক্রমণ পুরোপুরি থামেনি। প্রাদুর্ভাবে মোট মৃত্যুর প্রায় ৮০ শতাংশই পাঁচ বছরের কম বয়সি শিশু।

বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের এক গবেষণায় দেখা গেছে, হাম নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া প্রায় ৮০ শতাংশ শিশুই আগে হামের টিকা পায়নি।

আবার আইসিডিডিআর,বি এবং বাংলাদেশ শিশু হাসপাতালের ১৯ গবেষকের আরেকটি বিশ্লেষণে দেখা যায়, এপ্রিল-মে মাসে চিকিৎসা পাওয়া ৩৪১ শিশুর মধ্যে যারা মারা গেছে, তাদের ৫২ শতাংশের বয়স ছিল নয় মাসের কম। অর্থাৎ নিয়মিত টিকাদানের পূর্ণ সময়সূচি শেষ করার আগেই তারা আক্রান্ত হয়েছিল।

ডব্লিউএইচওর তথ্যেও দেখা গেছে, চলমান প্রাদুর্ভাবে প্রতি পাঁচজন আক্রান্তের চারজনই পাঁচ বছরের কম বয়সী।

চিকিৎসকদের মতে, টিকা না পাওয়া ও অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের ক্ষেত্রে নিউমোনিয়াই হামজনিত মৃত্যুর প্রধান কারণ।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকা সংগ্রহে জটিলতা এবং নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির দুর্বলতা পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করেছে।

এ বছর সায়েন্স সাময়িকীতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে টিকা কেনার নতুন পদ্ধতি চালুর পর সরবরাহে বিলম্ব হয় এবং সেটি হামের পুনরুত্থানে ভূমিকা রাখে।

বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ রিয়াজ মোবারক বলেন, টিকাদান কর্মসূচির দুর্বলতাই বর্তমান সংকটের অন্যতম কারণ। তিনি জানান, অনেক মা নিজেও হামের টিকা না পাওয়ায় তাদের নবজাতক প্রয়োজনীয় মাতৃ-অ্যান্টিবডি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

তিনি নিয়মিত টিকাদানের আওতা দ্রুত বাড়ানো, রোগ নজরদারি জোরদার, গবেষণা সম্প্রসারণ এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত উদ্যোগে রোগপ্রতিরোধ ঘাটতি দূর করার আহ্বান জানান। তার মতে, তা না হলে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসের সবচেয়ে বড় হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলা করা কঠিন হবে।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Investment driven production and employment key to Bangladeshs future growth Finance Advisor

বিনিয়োগনির্ভর উৎপাদন ও কর্মসংস্থানই বাংলাদেশের পরবর্তী প্রবৃদ্ধির চাবিকাঠি: অর্থ উপদেষ্টা

বিনিয়োগনির্ভর উৎপাদন ও কর্মসংস্থানই বাংলাদেশের পরবর্তী প্রবৃদ্ধির চাবিকাঠি: অর্থ উপদেষ্টা ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের পরবর্তী প্রবৃদ্ধির ধাপে দেশীয় বাস্তবতা এবং পরিবর্তিত বৈশ্বিক ভূঅর্থনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি বিনিয়োগনির্ভর উন্নয়ন মডেল অনুসরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) বেঙ্গল ডেল্টা কনফারেন্স ২০২৬ (বিডিসি ২০২৬)-এর এক অধিবেশনে তিনি বলেন, ‘আমাদের এমন একটি মডেল অনুসরণ করতে হবে, যেখানে বিনিয়োগ উৎপাদনের পথ তৈরি করবে, উৎপাদন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে, কর্মসংস্থান করের হার না বাড়িয়েই রাজস্ব বৃদ্ধি করবে এবং সেই রাজস্ব শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে ব্যয় করা হবে।’

লন্ডনের এসওএএস ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের অর্থনীতির অধ্যাপক মুশতাক খানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত ওই অধিবেশনে ড. তিতুমীর সরকারের অর্থনৈতিক কৌশল তুলে ধরেন।

‘বাংলাদেশ অ্যান্ড এ চেঞ্জিং ওয়ার্ল্ড: আনচার্টেড টাইমস, ইমার্জিং অর্ডারস অ্যান্ড দ্য পলিটিক্স অব কেয়ার’ প্রতিপাদ্যে অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘সরকার ধাপে ধাপে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক সুরক্ষা খাতে ব্যয় বাড়িয়ে একটি গণতান্ত্রিক কল্যাণরাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে কাজ করছে।’

তিনি জানান, অর্থনৈতিক ধাক্কার সময় ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী যাতে দারিদ্র্যের মধ্যে না পড়ে, সে জন্য সার্বজনীন জীবনচক্রভিত্তিক সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সংস্কারের বিষয়ে ড. তিতুমীর বলেন, ‘দক্ষতা উন্নয়ন, নাগরিক শিক্ষা, উদ্ভাবন এবং তৃণমূল পর্যন্ত বিস্তৃত একটি জাতীয় স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।’

সুশাসন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সরকারের সংস্কার কর্মসূচির মূল ভিত্তি হলো বৈধতা, জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা। তার ভাষায়, যদি একটি সরকারের বৈধতা থাকে, তবে জবাবদিহিও থাকে। সেবাদান মানেই বৈধতা, সেবাদান মানেই জবাবদিহি এবং সেবাদান মানেই স্বচ্ছতা।’

ড. তিতুমীর বলেন, ‘বর্তমান সরকার একটি নাজুক আর্থিক পরিস্থিতি উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছে। তবে সংসদে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় সরকারের ওপর রূপান্তরমূলক সংস্কার বাস্তবায়নের দায়িত্বও বেড়েছে।’

রাজস্ব আহরণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘করের হার বাড়ানোর পরিবর্তে সরকার প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।’ তার মতে, দীর্ঘদিন ধরে উপেক্ষিত দুটি বিষয়—প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা এবং দুর্নীতি, ভাড়া-অন্বেষণ (রেন্ট-সিকিং) ও কর অব্যাহতির মতো ‘ত্রুটির উপাদান’—এখন সরকারের বিশেষ নজরে রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘রাজস্ব ফাঁকফোকর কমানো এবং আইন প্রয়োগ জোরদারের ফলে ইতোমধ্যে ইতিবাচক ফল পাওয়া যাচ্ছে।’ উদাহরণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস উল্লেখযোগ্য রাজস্ব অবদান রেখেছে। রাজস্ব আদায় আরও শক্তিশালী করতে তিনটি টাস্কফোর্সও গঠন করা হয়েছে।

তবে কর ফাঁকি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে সরকার এখনও সক্ষম নয় বলে স্বীকার করেন ড. তিতুমীর। তিনি বলেন, ‘আমরা এখনও কর ফাঁকি মোকাবিলায় পুরোপুরি সক্ষম নই। এর জন্য প্রয়োজনীয় সক্ষমতা গড়ে তুলতে হবে।’

আর্থিক খাত সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘খেলাপি ঋণ ও ব্যাংক পুনঃমূলধনীকরণসহ দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো সমাধানে সরকার কাজ করছে। আমরা কোনো বিষয় আড়াল করছি না। সমস্যাগুলো সম্পর্কে আমরা অবগত এবং সেগুলো নিয়ে কাজ করছি।’

স্ট্যাচুটরি রেগুলেটরি অর্ডার (এসআরও) প্রসঙ্গে ড. তিতুমীর বলেন, “অতীতে এসআরওকে ‘নিলাম বাজারে’ পরিণত করা হয়েছিল, যেখানে প্রভাবশালীরা বিশেষ সুবিধা পেতেন। সরকার সেই সংস্কৃতি বন্ধে কাজ করছে।”

তিনি বলেন, ‘যদি আপনি প্রভাবশালী হন, তাহলে একটি এসআরও জারি করিয়ে সব ধরনের সুবিধা পেয়ে যেতেন। এসব ইচ্ছামাফিক কর-ছাড় আমরা পর্যালোচনা করছি এবং নিশ্চিত করছি যাতে এই এসআরও সংস্কৃতি আর না থাকে।’

তিনি আরও বলেন, ‘কর আরোপ ও সরকারি অর্থ ব্যয়ের সিদ্ধান্ত নির্বাহী বিভাগের পরিবর্তে সংসদের মাধ্যমেই হওয়া উচিত। কোথা থেকে অর্থ সংগ্রহ করা হবে এবং কোথায় ব্যয় করা হবে, তা সার্বভৌম সংসদই নির্ধারণ করবে। এটিই সরকারের সংস্কারের মূল ভিত্তি।’

শিল্পায়নকে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য অপরিহার্য উল্লেখ করে ড. তিতুমীর বলেন, ‘দীর্ঘদিন পর বাংলাদেশে আবার শিল্পনীতি নিয়ে কার্যকর আলোচনা শুরু হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে শিল্পনীতি ফিরে এসেছে। উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানো এবং রপ্তানি বহুমুখীকরণ—২০২৯ সালে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের আগে এসব বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হবে।’

সরকারের সংস্কার কর্মসূচি নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করে ড. তিতুমীর বলেন, ‘চলতি অর্থবছরেই এর প্রাথমিক সুফল পাওয়া যাবে। আমরা আশা করছি, বাংলাদেশকে নিয়ে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, তা বাস্তবায়ন করতে পারব।’

বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপের প্রসঙ্গে তিনি জানান, মধ্যপ্রাচ্যের সংকট ও আন্তর্জাতিক জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশকে প্রায় ৩ দশমিক ৪৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অতিরিক্ত ব্যয় করতে হয়েছে, যদিও এসব সংকট সৃষ্টিতে দেশের কোনো ভূমিকা ছিল না।

তিনি বলেন, ‘যে সংকট আমাদের সৃষ্টি নয়, তার জন্যই আমাদের ৩ দশমিক ৪৬ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করতে হয়েছে। একই সঙ্গে কৃষি ও ভোক্তাদের জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির চাপ থেকে সুরক্ষা দিতে সরকারকে আর্থিক ভারসাম্যও রক্ষা করতে হয়েছে।’

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Muktangan was not freed from possession of the car even at the expense of one and a half crore rupees

দেড় কোটি টাকা ব্যয়েও গাড়ির দখলমুক্ত হলো না মুক্তাঙ্গন

দেড় কোটি টাকা ব্যয়েও গাড়ির দখলমুক্ত হলো না মুক্তাঙ্গন ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর মুক্তাঙ্গনে প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয় করেও গাড়ির দখলমুক্ত করা গেল না। উন্নয়নকাজ অর্ধসমাপ্ত রাখায় থমকে আছে প্রকল্প। আর এই সুযোগে পার্কের জন্য নির্ধারিত জায়গাটি আবারও ব্যক্তিগত গাড়ির পার্কিংয়ে পরিণত হয়েছে।

গুলিস্তান জিরো পয়েন্ট থেকে পুরানা পল্টনের দিকে হাঁটলে রাস্তার পাশেই মুক্তাঙ্গন। আশির দশকের রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রামের সাক্ষী এই স্থান একসময় ছিল সভা-সমাবেশের পরিচিত ঠিকানা। তবে পরবর্তী সময়ে এটি পরিণত হয় ব্যক্তিগত গাড়ি পার্কিংয়ের জায়গায়।

২০২১ সালে মুক্তাঙ্গন দখলমুক্ত করে আধুনিক জনপরিসর গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয় ডিএসসিসি। মোট বরাদ্দ ছিল ২ কোটি ৮১ লাখ টাকা।

পরিকল্পনায় ছিল শিশুদের পার্ক, বাস্কেটবল কোর্ট, ক্রিকেট পিচ, হাঁটার পথ, সবুজায়ন, সীমানা দেয়াল, দুটি নান্দনিক প্রবেশদ্বার, গ্যালারি, ডিজিটাল বিলবোর্ড, ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও বৈদ্যুতিক আলোকসজ্জা।

একটি সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশনও (এসটিএস) নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) সূত্রে জানা গেছে, এ পর্যন্ত প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্কেটবল কোর্ট, সামনের বাউন্ডারি, রক্ষণাবেক্ষণ কক্ষ, ড্রেন ও স্ল্যাব, বৈদ্যুতিক খুঁটি, একটি পূর্ণ ফটক এবং আরেকটি ফটকের আংশিক কাজ শেষ হয়েছে। তবে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে না পারায় প্রথম ঠিকাদারের চুক্তি বাতিল করে ২০২৩ সালের শেষ দিকে নতুন ঠিকাদার নিয়োগ দেয় সিটি করপোরেশন।

ডিএসসিসির অঞ্চল-৩ এর নির্বাহী প্রকৌশলী জহির আহমেদ বলেন, ‘প্রথম ঠিকাদার নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে পারেনি। পরে নতুন ঠিকাদার কাজ শুরু করে এবং অর্ধেকের বেশি কাজ সম্পন্ন করেছিল।’

জুলাই অভ্যুত্থানের পর স্থানীয় একটি পক্ষ মুক্তাঙ্গনে সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন ও অন্যান্য স্থাপনা নির্মাণের বিরোধিতা শুরু করে। এলাকাবাসীর পক্ষে জামাল উদ্দিন নামে এক ব্যক্তি হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন।

২০২৫ সালের ২০ এপ্রিল বিচারপতি মো. আকরাম হোসেন চৌধুরী ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর বেঞ্চ ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও ঢাকা জেলা প্রশাসককে ৬০ দিনের মধ্যে বিরোধ নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন।

ডিএসসিসির আইন কর্মকর্তা মো. তারিন ইসলাম বলেন, ‘একটি পক্ষ সেখানে এসটিএসসহ কোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণের বিরোধিতা করে আদালতে রিট করে। আদালত মীমাংসার নির্দেশ দিলে গত বছর আমরা সব পক্ষকে নিয়ে বসে বিষয়টির সমাধান করেছি। তবে এরপরও ওই প্রকল্পের কাজ আর শুরু হয়নি।’

নির্বাহী প্রকৌশলী জহির আহমেদ বলেন, ‘২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর একটি পক্ষ সেখানে স্থাপনা নির্মাণের বিরোধিতা করে আদালতে রিট করে। তখন থেকেই কাজ বন্ধ রয়েছে। পরে কাজের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় গত বছর দ্বিতীয় ঠিকাদারের সঙ্গেও চুক্তি বাতিল করা হয়।’

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা গেছে, বাস্কেটবল কোর্ট, ওয়াকওয়ে, ড্রেন, বৈদ্যুতিক খুঁটি ও একটি প্রবেশদ্বার নির্মিত হলেও দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ থাকায় বিভিন্ন স্থাপনার অংশ ভেঙে পড়েছে। বৈদ্যুতিক খুঁটির কিছু যন্ত্রাংশও নেই। শিশুদের খেলাধুলা ও মানুষের অবসর কাটানোর জন্য নির্মিতব্য পার্কের জায়গায় সারিবদ্ধভাবে রাখা হয়েছে ব্যক্তিগত গাড়ি।

মন্তব্য

p
উপরে