কিশোরগঞ্জ শহরে সিমেন্টবোঝাই ট্রাকের চাপায় মোহাম্মদ তুহিন (১০) নামে এক স্কুলছাত্র নিহত হয়েছে। মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে ছুটে যাওয়া পুলিশের টহলদলের সদস্যরা জানতে পারেন, নিহত শিশুটি ওই টহলদলে থাকা গাড়িচালক পুলিশ সদস্য শামসুল হকেরই ছেলে। শুক্রবার (২৪ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কিশোরগঞ্জ শহরের জনতা স্কুল রোড এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত মোহাম্মদ তুহিন কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার গাড়িচালক পুলিশ সদস্য শামসুল হকের ছেলে। সে গাইটাল জনতা স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী।
কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ডিউটি অফিসার তানিয়া নাজনীন জানান, সকালে থানায় একটি মোবাইল নম্বর থেকে ফোন করে জানানো হয়, জনতা স্কুল রোড এলাকায় একটি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। সিমেন্টবোঝাই একটি ট্রাকের চাপায় এক স্কুলছাত্র নিহত হয়েছে। তবে নিহত শিশুটির পরিচয় তখনও জানা যায়নি। খবর পেয়ে থানার একটি টহলদল ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা দেয়। ওই টহলদলে ছিলেন গাড়িচালক পুলিশ সদস্য শামসুল হকও।
ঘটনাস্থলে পৌঁছে টহলদলের সদস্যরা দেখতে পান, ট্রাকের চাপায় নিহত স্কুলছাত্রটি আর কেউ নয়, টহলদলে থাকা গাড়িচালক পুলিশ সদস্য শামসুল হকেরই ছেলে তুহিন।
জানা গেছে, সকালে গাইটাল এলাকার বাসা থেকে সাইকেল নিয়ে জনতা স্কুল রোড এলাকায় ঘুরতে বের হয় তুহিন। এ সময় একটি সিমেন্টবোঝাই ট্রাক তাকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি মো. আবুল কালাম ভূঞা জানান, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে হাসপাতালের মর্গে নেওয়া হয়েছে। দুর্ঘটনায় জড়িত ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে। তবে ট্রাকের চালক পালিয়ে গেছেন। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
ছবি: সংগৃহীত
খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মুহাম্মদ মাছুদের বিশেষ উদ্যোগ, আন্তরিকতা ও নেতৃত্বে উৎসবমুখর ও আবেগঘন পরিবেশে প্রাক্তন শিক্ষার্থী সম্মেলন ২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেল ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এ সম্মেলনে কুয়েটের বিভিন্ন ব্যাচের প্রায় ৬০০ জন প্রাক্তন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন।
প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করা, তাঁদের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতাকে কুয়েটের ভবিষ্যৎ উন্নয়নে কাজে লাগানো এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রযাত্রায় প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের আরও সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে ভাইস-চ্যান্সেলরের বিশেষ উদ্যোগে এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। তাঁর এ উদ্যোগে দীর্ঘদিন পর কুয়েটের বিভিন্ন ব্যাচের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা একত্রিত হওয়ার সুযোগ পান।
জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এরপর পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত এবং অত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়াত শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের রুহের মাগফিরাত, দেশ ও জাতির কল্যাণ এবং কুয়েটের সার্বিক উন্নতি, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে বক্তব্য প্রদান করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মুহাম্মদ মাছুদ। তিনি তাঁর বক্তব্যে দায়িত্ব গ্রহণের পর কুয়েটে গৃহীত বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড এবং গবেষণা ও একাডেমিক ক্ষেত্রে অর্জিত অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরেন। একইসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং কুয়েটকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে আরও এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তিনি তুলে ধরেন।
ভাইস-চ্যান্সেলর বলেন, “প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শক্তি। তাঁদের মেধা, অভিজ্ঞতা, সাফল্য ও আন্তরিক সহযোগিতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রাকে আরও বেগবান করতে পারে। কুয়েটের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পারস্পরিক যোগাযোগ ও সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক উন্নয়নে তাঁদের সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি পাবে।”
সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা ভাইস-চ্যান্সেলরের বিশেষ উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং এ ধরনের সম্মেলনের আয়োজন করায় তাঁকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। তাঁরা বলেন, ভাইস-চ্যান্সেলরের উদ্যোগে আয়োজিত এ সম্মেলন প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কুয়েটের সম্পর্ককে আরও গভীর ও প্রাণবন্ত করেছে। একইসঙ্গে তাঁরা কুয়েটের অগ্রযাত্রাকে আরও বেগবান করতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ প্রদান করেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা কুয়েটকে বিশ্বমানের শিক্ষা, গবেষণা ও শিক্ষার্থীবান্ধব প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে তাঁদের অভিজ্ঞতা, মেধা ও সামর্থ্য দিয়ে সর্বাত্মক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তাঁরা ভাইস-চ্যান্সেলরের নেতৃত্বে কুয়েটের শিক্ষা, গবেষণা, উদ্ভাবন ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে চলমান উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতেও বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
দীর্ঘদিন পর সহপাঠী, বন্ধু ও শিক্ষকদের সঙ্গে মিলিত হয়ে প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা স্মৃতিচারণ, পারস্পরিক মতবিনিময় ও আনন্দ-উচ্ছ্বাসে অংশ নেন। ভাইস-চ্যান্সেলরের বিশেষ উদ্যোগে আয়োজিত এ সম্মেলন প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক বন্ধন আরও দৃঢ় করার পাশাপাশি তাঁদের সঙ্গে কুয়েটের সম্পর্ককে নতুন মাত্রায় উন্নীত করে।
ছবি: সংগৃহীত
ফরিদপুরে হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব উল্টো রথযাত্রা নানা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ও বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এ উপলক্ষে শুক্রবার (২৪ জুলাই) দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। সকাল ৮টায় শ্রীধাম শ্রীঅঙ্গনের উদ্যোগে ব্রাহ্মণকান্দাস্থ শ্রীঅঙ্গন থেকে উল্টো রথযাত্রা শুরু হয়।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে উৎসবের শুভ উদ্বোধন করেন এমপি চৌধুরী নায়াব ইউসুফ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে সংসদ সদস্য উপস্থিত দূর-দূরান্ত থেকে আগত পুণ্যার্থী ও ভক্তদের সাথে শুভেচ্ছা ও কুশল বিনিময় করেন।
শোভাযাত্রাটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে গোয়ালচামট শ্রীঅঙ্গনে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে ধর্মীয় আলোচনা, নাম সংকীর্তন এবং ভক্তদের মাঝে প্রসাদ বিতরণ করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে চৌধুরী নায়াব ইউসুফ বলেন, "ফরিদপুর সবসময়ই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সর্বজনীন ভাতৃত্ববোধের এক অনন্য মিলনমেলা।
এ ধরণের ধর্মীয় ও ঐতিহ্যবাহী উৎসব আমাদের পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও ঐক্যের বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করে। অনুষ্ঠানে বিএনপি দলীয় নেতৃবৃন্দসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, শ্রীঅঙ্গন পরিচালনা পর্ষদের নেতৃবৃন্দ এবং সর্বস্তরের ভক্তবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
ছবি: সংগৃহীত
নড়াইলের কালিয়া উপজেলার নড়াগাতী থানার জয়নগর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. মনি মিয়া শেখ (৪৫) দুর্বৃত্তদের হামলায় নিহত হয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাত সাড়ে ১১টার দিকে ইউনিয়নের পানিপাড়া গ্রামের কামরুল ঠাকুরের বাড়ির পাশে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
নিহত মনি মিয়া শেখ চর-জয়নগর গ্রামের বাসিন্দা এবং জয়নগর ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত সদস্য ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাতে পুঠিমারি বাজার থেকে কেনাকাটা শেষে নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন মনি মিয়া শেখ। পথে পানিপাড়া গ্রামের কামরুল ঠাকুরের বাড়ির কাছে পৌছালে আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা একদল দুর্বৃত্ত দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর অবস্থায় ঘটনাস্থলেই ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।
পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কালিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানোর পরামর্শ দেন চিকিৎসক। ঢাকায় নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন মুরুব্বী জানান,এলাকার আধিপত্য বিস্তার ও মাদবরি নিয়ে মনি মিয়া শেখের সঙ্গে আনছার জমাদ্দারের দ্বন্দ্ব সংঘাত চলে আসছে। ধারণা করা হচ্ছে এরই ধারাবাহিকতায় মনি মিয়াকে হত্যা করা হতে পারে।
এ ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে নড়াগাতী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে। হত্যাকাণ্ডের পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
নড়াগাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রহিম জানান, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে। তিনি বলেন,হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে।
ছবি: সংগৃহীত
নওগাঁর মহাদেবপুরে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ৮২ শিক্ষার্থীকে বাইসাইকেল ও ৫৫ নারীকে সেলাই মেশিন দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। শুক্রবার (২৪ জুলাই) জেলা ১১টায় উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে বাইসাইকেল ও সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নওগাঁ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হুদা বাবুল।
এসময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মানুজরা মুশাররফসহ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও উপকারভোগীরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য ফজলে হুদা বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সমতলের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীসহ পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে অত্যন্ত আন্তরিক। এদেশে কাউকে পেছনে ফেলে নয়, সবাই একসাথে এগিয়ে যাবে। শিক্ষা ও আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি করে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী জনগোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন নিশ্চিতে এ ধরনের উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের শিক্ষা গ্রহণে উৎসাহিত করার পাশাপাশি নারীদের স্বাবলম্বী হয়ে উঠতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নের জন্য বিশেষ এলাকার জন্য উন্নয়ন সহায়তা (পার্বত্য চট্রগ্রাম ব্যতিত) শীর্ষক কর্মসূচির আওতায় ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে উপজেলার ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে বাইসাইকেল এবং নারীদের মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয়।
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশে গবাদিপশুর ব্রুসেলোসিস রোগ শুধু দুগ্ধ খামারের অর্থনীতিতেই বড় আঘাত হানছে না, বরং খামারিদের অজান্তেই কোটি কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি করছে।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) একদল গবেষকের দীর্ঘ দুই বছরের গবেষণায় উঠে এসেছে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য। গবেষণায় দেখা গেছে, সক্রিয় ব্রুসেলোসিসে আক্রান্ত একটি গাভী সুস্থ গাভীর তুলনায় দৈনিক গড়ে ১.০১ লিটার এবং কোনো বাহ্যিক লক্ষণ ছাড়াই সুপ্ত বা লুকিয়ে থাকা রোগে আক্রান্ত গাভী দৈনিক গড়ে ০.৫৩ লিটার কম দুধ দেয়। এর ফলে দেশের বড় ডেইরি খামারগুলোতে বছরে গড়ে প্রায় ২ কোটি ৪১ লাখ টাকা পর্যন্ত ক্ষতি হচ্ছে।
সম্প্রতি আন্তর্জাতিক গবেষণা সাময়িকী অ্যানিমেল ডিজিজ-এ প্রকাশিত এ গবেষণায় দেখা যায়, গাভী বাচ্চা প্রসবের পর ফুল না পড়া বা ‘রিটেইন্ড প্লাসেন্টা’ ব্রুসেলোসিসের সবচেয়ে বড় ঝুঁকিপূর্ণ কারণ।
গবেষণাটির সার্বিক বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন এর প্রধান গবেষক বাকৃবির মেডিসিন বিভাগের ল্যাবরেটরি অব এপিডেমিওলজি অ্যান্ড প্রিভেন্টিভ মেডিসিন-এর অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. আনিসুর রহমান।
অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. আনিসুর রহমানের নেতৃত্বে পরিচালিত এই গবেষণায় আরো ছিলেন একই বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সিদ্দিকুর রহমান, অধ্যাপক ড. এম. আরিফুল ইসলাম। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ও পিএইচডি শিক্ষার্থী মো. শফিউল আলম। গবেষক দলের অন্য সদস্যরা হলেন মো. নাজমুল ইসলাম, বিশ্ব জ্যোতি অধিকারী, শান্তা ইসলাম, আর. এস. মাহমুদ এবং মুহাম্মদ আকতারুজ্জামান।
এছাড়া রোগ শনাক্তের আধুনিক গাণিতিক পদ্ধতি নিয়ে এই দলের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করেছেন গ্রিসের থেসালি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই বিশেষজ্ঞ লেফটেরিস মেলেটিস ও পলিক্রোনিস কস্তুলাস। সরকারের লাইভস্টক অ্যান্ড ডেইরি ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (এলডিডিপি)-এর অর্থায়নে এবং প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় এই গবেষণা মাঠপর্যায়ে সম্পন্ন হয়।
২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের প্রধান দুধ উৎপাদনকারী অঞ্চলের ১৭টি বড় বাণিজ্যিক ডেইরি খামার থেকে মোট ২,৬৯৬টি দুগ্ধবতী গাভীর তথ্য ও দুধের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। আধুনিক ল্যাব পরীক্ষা এবং উন্নত গাণিতিক পদ্ধতি (বায়েসিয়ান মিক্সড-ইফেক্টস মাল্টিনোমিয়াল রিগ্রেশন) ব্যবহার করে গাভীগুলোকে সুস্থ, সুপ্ত সংক্রমণ এবং সক্রিয় ব্রুসেলোসিসে আক্রান্ত এই তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়।
সাধারণত ব্রুসেলোসিস আক্রান্ত গরুকে কেবল 'সুস্থ' কিংবা 'আক্রান্ত' হিসেবে বিবেচনা করা হলেও এই গবেষণায় প্রথমবারের মতো সুপ্ত সংক্রমণকে বিশেষভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ বিষয়ে অধ্যাপক আনিস বলেন, "ব্রুসেলোসিস সবসময় বাইরে থেকে বোঝা যায় না। অনেক গরুর শরীরে রোগটি লুকিয়ে বা সুপ্ত অবস্থায় থাকে। বাইরে থেকে সুস্থ মনে হলেও ওই গরুর দুধ উৎপাদন কমছে এবং পরবর্তীতে এই রোগ সক্রিয় হতে পারে।"
অন্যদিকে সক্রিয় রোগে আক্রান্ত গরুর ক্ষেত্রে গর্ভপাত, গর্ভফুল আটকে যাওয়া এবং প্রজনন ব্যর্থতার মতো স্পষ্ট লক্ষণ দেখা দেয়। জীবাণুটি গাভীর জরায়ু ও গর্ভফুলের ক্ষতি করার কারণে গাভী সময়মতো গরম হয় না এবং দীর্ঘ মেয়াদে উৎপাদনক্ষমতা হারিয়ে ফেলে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ে দুধ উৎপাদনে।
গবেষণার অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বড় ডেইরি খামারগুলোতে ব্রুসেলোসিসের কারণে বছরে গড়ে প্রায় ২ কোটি ৪১ লক্ষ টাকার ক্ষতি হতে পারে, যার সিংহভাগই আসে দুধ উৎপাদন কমে যাওয়ার কারণে।
ড. আনিস বলেন, "খামারিরা সাধারণত গাভীর গর্ভপাত হলেই ব্রুসেলোসিসের কথা ভাবেন। কিন্তু লক্ষণহীন সুপ্ত রোগের কারণেও প্রতিদিন গাভীপ্রতি প্রায় আধা লিটার দুধ কমছে। সক্রিয় রোগ হলে ক্ষতি এক লিটার বা তারও বেশি। ফলে খামারিরা বুঝতে না পেরেই প্রতিদিন বড় অংকের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। তাই খামারে গর্ভপাত, গর্ভফুল আটকে যাওয়া, গাভী গরম না হওয়া বা বারবার প্রজনন ব্যর্থতা দেখলে দেরি না করে ভেটেরিনারিয়ানদের পরামর্শ নিয়ে পরীক্ষা করানো উচিত।"
তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, ব্রুসেলোসিস মানুষের জন্যও একটি বিপজ্জনক জুনোটিক রোগ। আক্রান্ত গরুর কাঁচা দুধ পান করা বা সংক্রমিত প্রাণীর সংস্পর্শে এলে মানুষও এ রোগে আক্রান্ত হতে পারে।
ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে এই গবেষণায় বিভিন্ন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার খরচ ও লাভের হিসাবও করা হয়েছে। অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. আনিসুর রহমান বলেন, "আমাদের অর্থনৈতিক গবেষণায় দেখা গেছে, পরিকল্পিত গণটিকাদানই হলো সবচেয়ে লাভজনক ব্যবস্থা। এই পদ্ধতিতে প্রতি ১ টাকা বিনিয়োগে গড়ে ৮ টাকা ১৪ পয়সা পর্যন্ত ক্ষতি এড়ানো সম্ভব। অন্যদিকে, আক্রান্ত গরু শনাক্ত করে খামার থেকে বাদ দেওয়ার পদ্ধতিটি সরকারি ক্ষতিপূরণ না থাকলে সাধারণ খামারিদের জন্য বেশ ব্যয়বহুল।"
বাংলাদেশে ব্রুসেলোসিস নিয়ন্ত্রণে উচ্চ ঝুঁকির গাভী দ্রুত শনাক্তকরণ, নিয়মিত রোগ নজরদারি এবং প্রজননস্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা জোরদার করার পাশাপাশি বড় খামারের মতো দেশের ছোট ছোট খামারগুলোতেও এ বিষয়ে আরও বিস্তৃত গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ছবি: সংগৃহীত
মাদারীপুর জেলা প্রশাসন ও বন বিভাগের যৌথ উদ্যোগে উদযাপিত হলো বৃক্ষরোপণ অভিযান, বৃক্ষমেলা-২০২৬ ও বর্ণাঢ্য র্যালী। ‘বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ সবার আগে বাংলাদেশ’-এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে শুক্রবার (২৪ জুলাই) সকালে জেলা প্রশাসক মিজ্ মর্জিনা আক্তারের সভাপতিত্বে উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন মাদারীপুর সদর-২ আসনের সংসদ সদস্য জাহান্দার আলী মিয়া।
বৃক্ষরোপণের প্রয়োজনীয়তা ও এর গুরুত্ব তুলে ধরে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার উপর বক্তারা আলোকপাত করে সবাইকে বেশি-বেশি গাছের চারা রোপণের আহ্বান জানান।
এসময় প্রধান অতিথি এমপি জাহান্দার আলী মিয়া বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশে ৫ বছরে ২৫ কোটি গাছের চারা রোপণের যে কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন আমরা তার বাস্তবায়নে প্রশাসন সহ সর্বস্তরের মানুষদের সচেতন ও সম্পৃক্ত করে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি জোরদার করেছি, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা করে নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য এই কর্মসূচিকে সামাজিক আন্দোলন হিসাবে ঘরে-ঘরে মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে কেননা পরিবেশ না বাঁচলে মানুষ বাঁচবে না, দেশ বাঁচবে না’।
উক্ত কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার মোঃ হাবিবুর রহমান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ডক্টর রহিমা খাতুন, সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ শরীফুল আবেদীন কমল, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মিজানুর রহমান মুরাদ সহ সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, সাধারণ শিক্ষার্থী, গণমাধ্যম কর্মী ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিবৃন্দ।
পরে এক বর্ণাঢ্য র্যালীটি সরকারি সমন্বিত ১০ তলা ভবন প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয়ে প্রধান-প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
মন্তব্য