নওগাঁর মহাদেবপুরে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ৮২ শিক্ষার্থীকে বাইসাইকেল ও ৫৫ নারীকে সেলাই মেশিন দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। শুক্রবার (২৪ জুলাই) জেলা ১১টায় উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে বাইসাইকেল ও সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নওগাঁ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হুদা বাবুল।
এসময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মানুজরা মুশাররফসহ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও উপকারভোগীরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য ফজলে হুদা বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সমতলের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীসহ পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে অত্যন্ত আন্তরিক। এদেশে কাউকে পেছনে ফেলে নয়, সবাই একসাথে এগিয়ে যাবে। শিক্ষা ও আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি করে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী জনগোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন নিশ্চিতে এ ধরনের উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের শিক্ষা গ্রহণে উৎসাহিত করার পাশাপাশি নারীদের স্বাবলম্বী হয়ে উঠতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নের জন্য বিশেষ এলাকার জন্য উন্নয়ন সহায়তা (পার্বত্য চট্রগ্রাম ব্যতিত) শীর্ষক কর্মসূচির আওতায় ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে উপজেলার ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে বাইসাইকেল এবং নারীদের মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয়।
ছবি: সংগৃহীত
কুমিল্লার নবগঠিত বাঙ্গরা উপজেলার সাংবাদিকদের নিয়ে ‘বাঙ্গরা উপজেলা প্রেস ক্লাব’-এর নতুন কার্যকরী কমিটি গঠন করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকেলে বাঙ্গরা উমালোচন উচ্চ বিদ্যালয়ের হলরুমে আয়োজিত প্রেসক্লাবের এক সাধারণ সভায় সর্বসম্মতিক্রমে আগামী ২ বছরের জন্য ১৭ সদস্যবিশিষ্ট এ কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়।
সভায় সাংবাদিক জাহাঙ্গীর আলম ইমরুল সভাপতিত্ব করেন এবং অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন এম কে আই জাবেদ।
নবগঠিত ১৭ সদস্যের কমিটিতে সভাপতি পদে মো. জাহাঙ্গীর আলম ইমরুল, সাধারণ সম্পাদক পদে এম কে আই জাবেদ এবং সাজ্জাদ হোসেন শিমুল সাংঠনিক সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।
কমিটির অন্যান্য পদে দায়িত্বপ্রাপ্তরা হলেন, সহ-সভাপতি: হাফেজ মোঃ নজরুল ইসলাম, যুগ্ম সম্পাদক: আবুল বাশার, কোষাধ্যক্ষ: মো. ওবায়দুল্লাহ, দপ্তর সম্পাদক: আলমগীর হোসেন, প্রচার সম্পাদক: সাইফুল সরকার, সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক: মো. জুম্মান আলী, তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পাদক: সাইদুজ্জামান ভূঁইয়া, সমাজকল্যাণ সম্পাদক: মো. বিল্লাল হোসেন, ক্রীড়া সম্পাদক: আশিক মিয়া, ধর্মবিষয়ক সম্পাদক: ফয়সাল আহমেদ। কার্যনির্বাহী সদস্য হলেন, আনোয়ার হোসেন, মো. সাখাওয়াত হোসেন, রনি আহমেদ এবং অলিউল্লাহ ভূঁইয়া।
এছাড়া কার্যনির্বাহী কমিটির পাশাপাশি প্রেস ক্লাবের সহযোগী সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন, আব্দুল আলীম, সুজন মুন্সী, রাশেদ মিয়া, শেখ এনামুল হক, ইকবাল হোসেন, শাওন ভূঁইয়া এবং মীর জাহিদ হাসান।
সাধারণ সভায় বক্তারা নতুন কমিটির সদস্যদের বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা চর্চার মাধ্যমে বাঙ্গরা উপজেলার উন্নয়ন ও স্থানীয় মানুষের অধিকার রক্ষায় বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
ছবি: সংগৃহীত
ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু, এমপি বলেছেন, বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার প্রদান করেছে। স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে সরকারের পূর্ণ সহযোগিতা থাকবে।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাজশাহী ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনে ২২ থেকে ২৪ জুলাই পর্যন্ত তিন দিনব্যাপী তিন থেকে আঠারো বছর বয়সী শিশু শিক্ষার্থীদের হৃদরোগ সনাক্তকরণ ও চিকিৎসা কার্যক্রমের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। চীনের ফুওয়াই ইউনান কার্ডিওভাসকুলার হাসপাতালের শিশু হৃদরোগ বিভাগ ও ঢাকা জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল এর যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে রাজশাহী ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন।
চীনের সাথে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা স্মরণ করে ভূমিমন্ত্রী বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শহীদ জিয়াউর রহমান চিনের সাথে বন্ধুত্বের সূচনা করেছিলেন এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের মাধ্যমে এই সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।
অবকাঠামোগত উন্নয়নের কথা উল্লেখ করে প্রধান অতিথি বলেন, কোর্ট-নাটোর রোড থেকে হার্ট ফাউন্ডেশনে আসার সংযোগ সড়কটি প্রশস্ত করার জন্য একটি বিশেষ প্রকল্প গ্রহণ করা হবে। তিনি এ বিষয়ে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন ও আরডিএ-কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশনা দেন।
এসময় তিনি চীনের অত্যাধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে রাজশাহীতে বিশ্বমানের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
রাজশাহী ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের সভাপতি মো. আব্দুল মান্নান এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চীনের ফুওয়াই ইউনান কার্ডিওভাসকুলার হসপিটালের ডেপুটি ডাইরেক্টর ইনচার্জ ও বিশেষজ্ঞ দলের টিম লিডার লু-জিয়াং, বিভাগীয় কমিশনার ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি) কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির, জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম, জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের বিভাগীয় প্রধান ও ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের আজীবন সদস্য প্রফেসর ডা. মো. আতাউল হক, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের চীফ কনসালটেন্ট ও ডাইরেক্টর প্রফেসর ডা. মো. রইছ উদ্দিন, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের সহসভাপতি মো. হাসেন আলী ও মো. মাকসুদুল করিম সম্রাট। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চিকিৎসক, সমাজসেবক, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং গণমাধ্যমকর্মীরা।
ছবি: সংগৃহীত
নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরের উপজেলা সড়কের বটগাছের নিচ থেকে ঘুমন্ত অবস্থায় উদ্ধারকৃত শিশুটির পরিচয় পাওয়া গেছে। পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতায় তাকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। শুক্রবার (২৪ জুলাই) সকাল ১০ টায় সৈয়দপুর থানা থেকে শিশুটিকে তার বাবা ও নানি এসে নিয়ে গেছে।
উদ্ধার শিশুটির নাম সুমাইয়া। বয়স চার বছর। তার বাবার নাম এরশাদ। পেশায় একজন ভিক্ষুক। তিনি বদরগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনে বসবাস করেন। গ্রামের বাড়ি বদরগঞ্জ উপজেলার ৭ নং গোপীনাথপুর ইউনিয়নে। শিশুটির মা তাকে ছেড়ে পালিয়ে গেছে।
জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাতে দীর্ঘ সময় ধরে উপজেলা রোডে বটগাছের নিচে শিশুটিকে শুয়ে থাকতে দেখে এলাকাবাসী। তখন পাশেই উপজেলা প্রশাসনে খবর দিলে রাত ৮ টার দিকে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কর্মকর্তাসহ অন্যান্য কয়েকজন কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়।
তারা পুলিশ ও মিডিয়ার সামনে তাকে ঘুম থেকে ডেকে তোলে। জেগে উঠে অনেক অপরিচিত মানুষ দেখে একটু ভীত হলেও পরক্ষনেই স্বাভাবিক হয় শিশুটি। এসময় জিজ্ঞেস করলে সে নিজের নাম বাঘ বলে জানায়। মা নেই। গাড়িতে (ট্রেন) চড়ে এসেছে। বাবার নাম বা কোথায় থেকে আসছে তা বলতে পারছিল না। এমতাবস্থায় উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তার তত্বাবধানে শিশুটিকে রাখা হয়।
এরপর ফেসবুকসহ বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রচার এবং প্রশাসনিক ভাবে যোগাযোগ করা হয়। এর প্রেক্ষিতে বদরগঞ্জের একজন অনলাইন এক্টিভেস্ট এর মাধ্যমে জানতে পেরে রাতেই শিশুটির বাবা চলে আসে সৈয়দপুরে। গতকাল শুক্রবার সকালে থানা চত্বরে সুমাইয়াকে তার বাবার কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। এসময় সৈয়দপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাব্বির হোসেন, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা নুর মোহাম্মদ, থানার অফিসার ইনচার্জ রেজাউল করিম রেজা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
ছবি: সংগৃহীত
খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মুহাম্মদ মাছুদের বিশেষ উদ্যোগ, আন্তরিকতা ও নেতৃত্বে উৎসবমুখর ও আবেগঘন পরিবেশে প্রাক্তন শিক্ষার্থী সম্মেলন ২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেল ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এ সম্মেলনে কুয়েটের বিভিন্ন ব্যাচের প্রায় ৬০০ জন প্রাক্তন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন।
প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করা, তাঁদের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতাকে কুয়েটের ভবিষ্যৎ উন্নয়নে কাজে লাগানো এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রযাত্রায় প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের আরও সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে ভাইস-চ্যান্সেলরের বিশেষ উদ্যোগে এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। তাঁর এ উদ্যোগে দীর্ঘদিন পর কুয়েটের বিভিন্ন ব্যাচের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা একত্রিত হওয়ার সুযোগ পান।
জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এরপর পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত এবং অত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়াত শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের রুহের মাগফিরাত, দেশ ও জাতির কল্যাণ এবং কুয়েটের সার্বিক উন্নতি, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে বক্তব্য প্রদান করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মুহাম্মদ মাছুদ। তিনি তাঁর বক্তব্যে দায়িত্ব গ্রহণের পর কুয়েটে গৃহীত বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড এবং গবেষণা ও একাডেমিক ক্ষেত্রে অর্জিত অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরেন। একইসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং কুয়েটকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে আরও এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তিনি তুলে ধরেন।
ভাইস-চ্যান্সেলর বলেন, “প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শক্তি। তাঁদের মেধা, অভিজ্ঞতা, সাফল্য ও আন্তরিক সহযোগিতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রাকে আরও বেগবান করতে পারে। কুয়েটের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পারস্পরিক যোগাযোগ ও সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক উন্নয়নে তাঁদের সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি পাবে।”
সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা ভাইস-চ্যান্সেলরের বিশেষ উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং এ ধরনের সম্মেলনের আয়োজন করায় তাঁকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। তাঁরা বলেন, ভাইস-চ্যান্সেলরের উদ্যোগে আয়োজিত এ সম্মেলন প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কুয়েটের সম্পর্ককে আরও গভীর ও প্রাণবন্ত করেছে। একইসঙ্গে তাঁরা কুয়েটের অগ্রযাত্রাকে আরও বেগবান করতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ প্রদান করেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা কুয়েটকে বিশ্বমানের শিক্ষা, গবেষণা ও শিক্ষার্থীবান্ধব প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে তাঁদের অভিজ্ঞতা, মেধা ও সামর্থ্য দিয়ে সর্বাত্মক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তাঁরা ভাইস-চ্যান্সেলরের নেতৃত্বে কুয়েটের শিক্ষা, গবেষণা, উদ্ভাবন ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে চলমান উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতেও বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
দীর্ঘদিন পর সহপাঠী, বন্ধু ও শিক্ষকদের সঙ্গে মিলিত হয়ে প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা স্মৃতিচারণ, পারস্পরিক মতবিনিময় ও আনন্দ-উচ্ছ্বাসে অংশ নেন। ভাইস-চ্যান্সেলরের বিশেষ উদ্যোগে আয়োজিত এ সম্মেলন প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক বন্ধন আরও দৃঢ় করার পাশাপাশি তাঁদের সঙ্গে কুয়েটের সম্পর্ককে নতুন মাত্রায় উন্নীত করে।
ছবি: সংগৃহীত
ফরিদপুরে হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব উল্টো রথযাত্রা নানা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ও বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এ উপলক্ষে শুক্রবার (২৪ জুলাই) দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। সকাল ৮টায় শ্রীধাম শ্রীঅঙ্গনের উদ্যোগে ব্রাহ্মণকান্দাস্থ শ্রীঅঙ্গন থেকে উল্টো রথযাত্রা শুরু হয়।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে উৎসবের শুভ উদ্বোধন করেন এমপি চৌধুরী নায়াব ইউসুফ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে সংসদ সদস্য উপস্থিত দূর-দূরান্ত থেকে আগত পুণ্যার্থী ও ভক্তদের সাথে শুভেচ্ছা ও কুশল বিনিময় করেন।
শোভাযাত্রাটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে গোয়ালচামট শ্রীঅঙ্গনে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে ধর্মীয় আলোচনা, নাম সংকীর্তন এবং ভক্তদের মাঝে প্রসাদ বিতরণ করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে চৌধুরী নায়াব ইউসুফ বলেন, "ফরিদপুর সবসময়ই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সর্বজনীন ভাতৃত্ববোধের এক অনন্য মিলনমেলা।
এ ধরণের ধর্মীয় ও ঐতিহ্যবাহী উৎসব আমাদের পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও ঐক্যের বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করে। অনুষ্ঠানে বিএনপি দলীয় নেতৃবৃন্দসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, শ্রীঅঙ্গন পরিচালনা পর্ষদের নেতৃবৃন্দ এবং সর্বস্তরের ভক্তবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
ছবি: সংগৃহীত
কিশোরগঞ্জ শহরে সিমেন্টবোঝাই ট্রাকের চাপায় মোহাম্মদ তুহিন (১০) নামে এক স্কুলছাত্র নিহত হয়েছে। মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে ছুটে যাওয়া পুলিশের টহলদলের সদস্যরা জানতে পারেন, নিহত শিশুটি ওই টহলদলে থাকা গাড়িচালক পুলিশ সদস্য শামসুল হকেরই ছেলে। শুক্রবার (২৪ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কিশোরগঞ্জ শহরের জনতা স্কুল রোড এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত মোহাম্মদ তুহিন কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার গাড়িচালক পুলিশ সদস্য শামসুল হকের ছেলে। সে গাইটাল জনতা স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী।
কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ডিউটি অফিসার তানিয়া নাজনীন জানান, সকালে থানায় একটি মোবাইল নম্বর থেকে ফোন করে জানানো হয়, জনতা স্কুল রোড এলাকায় একটি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। সিমেন্টবোঝাই একটি ট্রাকের চাপায় এক স্কুলছাত্র নিহত হয়েছে। তবে নিহত শিশুটির পরিচয় তখনও জানা যায়নি। খবর পেয়ে থানার একটি টহলদল ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা দেয়। ওই টহলদলে ছিলেন গাড়িচালক পুলিশ সদস্য শামসুল হকও।
ঘটনাস্থলে পৌঁছে টহলদলের সদস্যরা দেখতে পান, ট্রাকের চাপায় নিহত স্কুলছাত্রটি আর কেউ নয়, টহলদলে থাকা গাড়িচালক পুলিশ সদস্য শামসুল হকেরই ছেলে তুহিন।
জানা গেছে, সকালে গাইটাল এলাকার বাসা থেকে সাইকেল নিয়ে জনতা স্কুল রোড এলাকায় ঘুরতে বের হয় তুহিন। এ সময় একটি সিমেন্টবোঝাই ট্রাক তাকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি মো. আবুল কালাম ভূঞা জানান, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে হাসপাতালের মর্গে নেওয়া হয়েছে। দুর্ঘটনায় জড়িত ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে। তবে ট্রাকের চালক পালিয়ে গেছেন। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
ছবি: সংগৃহীত
নড়াইলের কালিয়া উপজেলার নড়াগাতী থানার জয়নগর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. মনি মিয়া শেখ (৪৫) দুর্বৃত্তদের হামলায় নিহত হয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাত সাড়ে ১১টার দিকে ইউনিয়নের পানিপাড়া গ্রামের কামরুল ঠাকুরের বাড়ির পাশে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
নিহত মনি মিয়া শেখ চর-জয়নগর গ্রামের বাসিন্দা এবং জয়নগর ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত সদস্য ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাতে পুঠিমারি বাজার থেকে কেনাকাটা শেষে নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন মনি মিয়া শেখ। পথে পানিপাড়া গ্রামের কামরুল ঠাকুরের বাড়ির কাছে পৌছালে আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা একদল দুর্বৃত্ত দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর অবস্থায় ঘটনাস্থলেই ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।
পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কালিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানোর পরামর্শ দেন চিকিৎসক। ঢাকায় নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন মুরুব্বী জানান,এলাকার আধিপত্য বিস্তার ও মাদবরি নিয়ে মনি মিয়া শেখের সঙ্গে আনছার জমাদ্দারের দ্বন্দ্ব সংঘাত চলে আসছে। ধারণা করা হচ্ছে এরই ধারাবাহিকতায় মনি মিয়াকে হত্যা করা হতে পারে।
এ ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে নড়াগাতী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে। হত্যাকাণ্ডের পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
নড়াগাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রহিম জানান, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে। তিনি বলেন,হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে।
মন্তব্য