× হোম রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া সিটিজেন জার্নালিজম বিচিত্র ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য আফগানিস্তান ১৫ আগস্ট কী-কেন স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও যৌনতা-প্রজনন ইউরোপ অন্যান্য উদ্ভাবন প্রবাসী আফ্রিকা ক্রিকেট শারীরিক স্বাস্থ্য আমেরিকা দক্ষিণ এশিয়া সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ মানসিক স্বাস্থ্য ব্লকচেইন অন্যান্য ভাষান্তর ফুটবল অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
Milk production of brucellosis affected cows decreases to an average of 101 liters per day Bakrbis study
google_news print-icon

ব্রুসেলোসিসে আক্রান্ত গরুর দুধ উৎপাদন দৈনিক গড়ে ১.০১ লিটার পর্যন্ত কমে: বাকৃবির গবেষণা

ব্রুসেলোসিসে-আক্রান্ত-গরুর-দুধ-উৎপাদন-দৈনিক-গড়ে-১০১-লিটার-পর্যন্ত-কমে-বাকৃবির-গবেষণা
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশে গবাদিপশুর ব্রুসেলোসিস রোগ শুধু দুগ্ধ খামারের অর্থনীতিতেই বড় আঘাত হানছে না, বরং খামারিদের অজান্তেই কোটি কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি করছে।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) একদল গবেষকের দীর্ঘ দুই বছরের গবেষণায় উঠে এসেছে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য। গবেষণায় দেখা গেছে, সক্রিয় ব্রুসেলোসিসে আক্রান্ত একটি গাভী সুস্থ গাভীর তুলনায় দৈনিক গড়ে ১.০১ লিটার এবং কোনো বাহ্যিক লক্ষণ ছাড়াই সুপ্ত বা লুকিয়ে থাকা রোগে আক্রান্ত গাভী দৈনিক গড়ে ০.৫৩ লিটার কম দুধ দেয়। এর ফলে দেশের বড় ডেইরি খামারগুলোতে বছরে গড়ে প্রায় ২ কোটি ৪১ লাখ টাকা পর্যন্ত ক্ষতি হচ্ছে।

সম্প্রতি আন্তর্জাতিক গবেষণা সাময়িকী অ্যানিমেল ডিজিজ-এ প্রকাশিত এ গবেষণায় দেখা যায়, গাভী বাচ্চা প্রসবের পর ফুল না পড়া বা ‘রিটেইন্ড প্লাসেন্টা’ ব্রুসেলোসিসের সবচেয়ে বড় ঝুঁকিপূর্ণ কারণ।

গবেষণাটির সার্বিক বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন এর প্রধান গবেষক বাকৃবির মেডিসিন বিভাগের ল্যাবরেটরি অব এপিডেমিওলজি অ্যান্ড প্রিভেন্টিভ মেডিসিন-এর অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. আনিসুর রহমান।

অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. আনিসুর রহমানের নেতৃত্বে পরিচালিত এই গবেষণায় আরো ছিলেন একই বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সিদ্দিকুর রহমান, অধ্যাপক ড. এম. আরিফুল ইসলাম। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ও পিএইচডি শিক্ষার্থী মো. শফিউল আলম। গবেষক দলের অন্য সদস্যরা হলেন মো. নাজমুল ইসলাম, বিশ্ব জ্যোতি অধিকারী, শান্তা ইসলাম, আর. এস. মাহমুদ এবং মুহাম্মদ আকতারুজ্জামান।

এছাড়া রোগ শনাক্তের আধুনিক গাণিতিক পদ্ধতি নিয়ে এই দলের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করেছেন গ্রিসের থেসালি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই বিশেষজ্ঞ লেফটেরিস মেলেটিস ও পলিক্রোনিস কস্তুলাস। সরকারের লাইভস্টক অ্যান্ড ডেইরি ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (এলডিডিপি)-এর অর্থায়নে এবং প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় এই গবেষণা মাঠপর্যায়ে সম্পন্ন হয়।

২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের প্রধান দুধ উৎপাদনকারী অঞ্চলের ১৭টি বড় বাণিজ্যিক ডেইরি খামার থেকে মোট ২,৬৯৬টি দুগ্ধবতী গাভীর তথ্য ও দুধের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। আধুনিক ল্যাব পরীক্ষা এবং উন্নত গাণিতিক পদ্ধতি (বায়েসিয়ান মিক্সড-ইফেক্টস মাল্টিনোমিয়াল রিগ্রেশন) ব্যবহার করে গাভীগুলোকে সুস্থ, সুপ্ত সংক্রমণ এবং সক্রিয় ব্রুসেলোসিসে আক্রান্ত এই তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়।

সাধারণত ব্রুসেলোসিস আক্রান্ত গরুকে কেবল 'সুস্থ' কিংবা 'আক্রান্ত' হিসেবে বিবেচনা করা হলেও এই গবেষণায় প্রথমবারের মতো সুপ্ত সংক্রমণকে বিশেষভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ বিষয়ে অধ্যাপক আনিস বলেন, "ব্রুসেলোসিস সবসময় বাইরে থেকে বোঝা যায় না। অনেক গরুর শরীরে রোগটি লুকিয়ে বা সুপ্ত অবস্থায় থাকে। বাইরে থেকে সুস্থ মনে হলেও ওই গরুর দুধ উৎপাদন কমছে এবং পরবর্তীতে এই রোগ সক্রিয় হতে পারে।"

অন্যদিকে সক্রিয় রোগে আক্রান্ত গরুর ক্ষেত্রে গর্ভপাত, গর্ভফুল আটকে যাওয়া এবং প্রজনন ব্যর্থতার মতো স্পষ্ট লক্ষণ দেখা দেয়। জীবাণুটি গাভীর জরায়ু ও গর্ভফুলের ক্ষতি করার কারণে গাভী সময়মতো গরম হয় না এবং দীর্ঘ মেয়াদে উৎপাদনক্ষমতা হারিয়ে ফেলে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ে দুধ উৎপাদনে।

গবেষণার অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বড় ডেইরি খামারগুলোতে ব্রুসেলোসিসের কারণে বছরে গড়ে প্রায় ২ কোটি ৪১ লক্ষ টাকার ক্ষতি হতে পারে, যার সিংহভাগই আসে দুধ উৎপাদন কমে যাওয়ার কারণে।

ড. আনিস বলেন, "খামারিরা সাধারণত গাভীর গর্ভপাত হলেই ব্রুসেলোসিসের কথা ভাবেন। কিন্তু লক্ষণহীন সুপ্ত রোগের কারণেও প্রতিদিন গাভীপ্রতি প্রায় আধা লিটার দুধ কমছে। সক্রিয় রোগ হলে ক্ষতি এক লিটার বা তারও বেশি। ফলে খামারিরা বুঝতে না পেরেই প্রতিদিন বড় অংকের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। তাই খামারে গর্ভপাত, গর্ভফুল আটকে যাওয়া, গাভী গরম না হওয়া বা বারবার প্রজনন ব্যর্থতা দেখলে দেরি না করে ভেটেরিনারিয়ানদের পরামর্শ নিয়ে পরীক্ষা করানো উচিত।"

তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, ব্রুসেলোসিস মানুষের জন্যও একটি বিপজ্জনক জুনোটিক রোগ। আক্রান্ত গরুর কাঁচা দুধ পান করা বা সংক্রমিত প্রাণীর সংস্পর্শে এলে মানুষও এ রোগে আক্রান্ত হতে পারে।

ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে এই গবেষণায় বিভিন্ন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার খরচ ও লাভের হিসাবও করা হয়েছে। অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. আনিসুর রহমান বলেন, "আমাদের অর্থনৈতিক গবেষণায় দেখা গেছে, পরিকল্পিত গণটিকাদানই হলো সবচেয়ে লাভজনক ব্যবস্থা। এই পদ্ধতিতে প্রতি ১ টাকা বিনিয়োগে গড়ে ৮ টাকা ১৪ পয়সা পর্যন্ত ক্ষতি এড়ানো সম্ভব। অন্যদিকে, আক্রান্ত গরু শনাক্ত করে খামার থেকে বাদ দেওয়ার পদ্ধতিটি সরকারি ক্ষতিপূরণ না থাকলে সাধারণ খামারিদের জন্য বেশ ব্যয়বহুল।"

বাংলাদেশে ব্রুসেলোসিস নিয়ন্ত্রণে উচ্চ ঝুঁকির গাভী দ্রুত শনাক্তকরণ, নিয়মিত রোগ নজরদারি এবং প্রজননস্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা জোরদার করার পাশাপাশি বড় খামারের মতো দেশের ছোট ছোট খামারগুলোতেও এ বিষয়ে আরও বিস্তৃত গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
A few villages are in fear of Domra Bill waterlogging due to the navigable crisis of Hari river

হরি নদীর নাব্য সংকটে ডোমরা বিল, পানিবন্দির শঙ্কায় কয়েকটি গ্রাম

হরি নদীর নাব্য সংকটে ডোমরা বিল, পানিবন্দির শঙ্কায় কয়েকটি গ্রাম ছবি: সংগৃহীত

খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার খর্নিয়া ইউনিয়নের সর্ববৃহৎ ডোমরা বিলে চরম জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। সাম্প্রতিক অতিরিক্ত বৃষ্টির পানি নিষ্কাশিত হতে না পেরে স্থবির হয়ে পড়েছে। ফলে বিলসহ সংলগ্ন বিস্তৃত এলাকা তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় রাত কাটাচ্ছেন স্থানীয় কৃষক ও মৎস্য চাষিরা।

ডুমুরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলের কৃষি ও মৎস্য সম্পদের বড় একটি অংশ নির্ভর করে ডোমরা বিলের ওপর। প্রতি বছর পলি জমে হরি নদীর নাব্য হ্রাস পাওয়া এবং সাময়িক খননের পর তা টেকসই না হওয়া এখানকার দীর্ঘদিনের সমস্যা।

সূত্রে জানা গেছে, হরি ভদ্র নদী সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে খনন করা হলেও খর্নিয়া থেকে পরবর্তী ৫-৬ কিলোমিটার অংশ পুনরায় পলিতে ভরাট হয়ে গেছে। ড্রেজার দিয়ে পলি তোলার কথা থাকলেও এক দেড় ঘণ্টা কাজ করে বাকি সময় বন্ধ থাকছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নদীর নাব্য কমে যাওয়ায় বিলে জমে থাকা পানি স্বাভাবিক গতিতে নামতে পারছে না।

বিল পরিচালনা কমিটির সভাপতি আব্দুল হালিম সরদার জানান, হরি ভদ্র নদীর কয়েক কিলোমিটার পলি পড়ে ভরাট হয়ে যাওয়ার কারণে বিলের পানি নামতে পারছে না। দ্রুত কোনো ব্যবস্থা না নিলে খর্নিয়া, আঙ্গারদোহার, টিপনা, পাচপোতা ,পাচুড়িয়া,ভদ্রদিয়া, বাহাদুর পুর, বালিয়া খালী, বামন্দিয়া ও গোনালীসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়বে। একই সাথে শত শত মাছের ঘের পানিতে তলিয়ে গিয়ে অপূরণীয় ক্ষতি হবে।

বিলের পানি সময়মতো না সরলে কোটি টাকার ক্ষতির মুখে পড়বেন চাষিরা।

চিংড়িচাষি নজরুল ইসলাম ও ঘের মালিক আব্দুল হালিম জানান, বৃষ্টির পানি যেভাবে বিলে জমে আছে, তাতে ঘেরের পাড় ভেসে যাওয়া এখন সময়ের ব্যাপার। ঘের তলিয়ে গেলে আমাদের পুঁজি তো যাবেই, বিশাল ঋণের মুখে পড়তে হবে।

ইউপি সদস্য মোল্লা আবুল কাশেম ও বিল কমিটির সাধারণ সম্পাদক শেখ রবিউল ইসলাম জানান, এটি শুধু একক কোনো গ্রামের সমস্যা নয়; পুরো ইউনিয়নের কৃষি ও মৎস্য অর্থনীতি এর সাথে জড়িত। পলি অপসারণ করে হরি ভদ্র নদীর প্রবাহ সচল করা না গেলে আসন্ন মৌসুমে চাষাবাদ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাবে।

খর্নিয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক মো. মোসলেম আলী বলেন, ‘জলাবদ্ধতার বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সাথে পর্যবেক্ষণ করছি। দ্রুততম সময়ে স্থানীয়দের স্বস্তি দিতে তাৎক্ষণিক কী পদক্ষেপ নেওয়া যায়, সে বিষয়ে আলোচনা চলছে।’

ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজ সবিতা সরকার বলেন, ‘ডোমরা বিলের জলাবদ্ধতা ও স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্বেগের বিষয়টি আমরা জেনেছি। পানি নিষ্কাশনের পথ সুগম করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সাথে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী উজ্জ্বল কুমার সেন বলেন, ‘হরি নদীর যে অংশটিতে পলি জমে ভরাট হয়েছে, তা সরেজমিনে পরিদর্শন করে দ্রুত পলি অপসারণ ও নদী পুনঃখননের বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে, যাতে বিলের পানি দ্রুত নিষ্কাশিত হতে পারে।’

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Farewell reception for the khatib of the mosque after 60 years of service in Debidwar

দেবিদ্বারে ৬০ বছরের চাকরি শেষ মসজিদের খতিবকে বিদায় সংবর্ধনা

দেবিদ্বারে ৬০ বছরের চাকরি শেষ মসজিদের খতিবকে বিদায় সংবর্ধনা ছবি: সংগৃহীত

কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার গোপালনগর সিএন্ডবি বাজার বাইতুল সালাত জামে মসজিদের দীর্ঘ ৬০ বছরের খতিব মাওলানা মো. শামসুল হককে বিদায় সংবর্ধনা প্রদান করেছে মসজিদ কমিটি। শুক্রবার (২৪ জুলাই) জুমার নামাজ শেষে মসজিদ প্রাঙ্গণে মসজিদ কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তার দীর্ঘদিনের দ্বীনি খেদমতের স্বীকৃতিস্বরূপ একটি সম্মাননা ক্রেস্ট ও নগদ ৫০ হাজার টাকা প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ৩ নম্বর রসুলপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান সরকার, ৩ নম্বর রসুলপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. হানিফ ভূঁইয়া, কামাল ব্রিকসের স্বত্বাধিকারী হাজী কামাল উদ্দিন, বায়তুল্লাহ ইলেক্ট্রনিক্সের স্বত্বাধিকারী এম. এ. ইউনুস মিয়া বাবুল, ৩ নম্বর রসুলপুর ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি কাজী হাসান আহমাদ, স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. বদিউল আলম বাদল, মসজিদ কমিটির সেক্রেটারি আবুল বাশারসহ বাজারের ব্যবসায়ী, মুসল্লি ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

বিদায়ী বক্তব্যে মাওলানা মো. শামসুল হক বলেন, ‘মহান আল্লাহর অশেষ রহমতে তিনি টানা ৬০ বছর এই মসজিদে খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করার সুযোগ পেয়েছেন। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি এলাকার মানুষ ও মসজিদের মুসল্লিদের জন্য দোয়া করে যাবেন।’ বিদায় সংবর্ধনার এমন আন্তরিক আয়োজন তাকে আবেগাপ্লুত করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন এবং মসজিদ কমিটি, মুসল্লি ও এলাকাবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

মসজিদ কমিটির সেক্রেটারি আবুল বাশার বলেন, ‘মাওলানা শামসুল হকের ছয় দশকের দ্বীনি খেদমত এই মসজিদ ও এলাকার জন্য এক অনন্য দৃষ্টান্ত। তিনি শুধু একজন খতিব নন, বরং এলাকার ধর্মীয় ও নৈতিক পথপ্রদর্শক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তার অবদান এলাকাবাসী শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।’

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে দেশ, জাতি ও এলাকার সার্বিক কল্যাণ এবং মাওলানা মো. শামসুল হকের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন মুফতি হোসাইন আহমাদ।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Relief distribution of UNO among victims of Teesta river erosion in Gangachara

গঙ্গাচড়ায় তিস্তা নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ইউএনওর ত্রাণ বিতরণ

গঙ্গাচড়ায় তিস্তা নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ইউএনওর ত্রাণ বিতরণ ছবি: সংগৃহীত

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার নোহালী ইউনিয়নের তিস্তা নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন আক্তার। গত বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে তিনি পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন এবং তাদের হাতে সরকারি ত্রাণসামগ্রী তুলে দেন। একই সঙ্গে নদীভাঙনের ভয়াবহতা তুলে ধরে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জরুরি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সুপারিশ পাঠানো হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, নোহালী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের চর নোহালী কাচারীপাড়া এলাকায় তিস্তার ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। নদীর পানি বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও পানি কমতে শুরু করার পর থেকেই ভাঙনের তীব্রতা বেড়েছে। গত কয়েক দিনে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে অন্তত ৮টি বসতবাড়ি এবং শত বিঘা আবাদি জমি। অনেক পরিবার শেষ সম্বলটুকু রক্ষায় ঘরবাড়ি খুলে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছেন।

ক্ষতিগ্রস্ত আলহাজ মোত্তালিব বলেন, চোখের সামনে আমার বসতবাড়ি নদীতে চলে গেল। এখন পরিবার নিয়ে কোথায় থাকব জানি না। সরকারের কাছে স্থায়ী সমাধান চাই। সুরুজ মিয়া বলেন, ত্রাণ পেয়েছি, কিন্তু ভাঙন বন্ধ না হলে আমাদের বাঁচার কোনো উপায় থাকবে না। আনোয়ার হোসেন বলেন, ঘরবাড়ি, জমিজমা সব নদীতে চলে গেছে। এখন আমরা মানবেতর জীবন কাটাচ্ছি।

এদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন আক্তারের পাঠানো প্রতিবেদনের ভিত্তিতে রংপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন ২৩ জুলাই বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলীর কাছে জরুরি চিঠি পাঠিয়েছেন। ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, নোহালী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের চর নোহালী কাচারীপাড়ায় ২২টি এবং ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডে আরও ১৪টি পরিবারের ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এছাড়া চর বাগডহরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভাঙনরত নদীতীর থেকে মাত্র ১০০ মিটার দূরে রয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বিদ্যালয়টিও নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Rumors of oil shortage in Satkhira lead to overcrowding at petrol pumps

সাতক্ষীরায় তেল সংকটের গুজব, পেট্রোল পাম্পে উপচেপড়া ভিড়

সাতক্ষীরায় তেল সংকটের গুজব, পেট্রোল পাম্পে উপচেপড়া ভিড় ছবি: সংগৃহীত

জ্বালানি তেলের সংকটের গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর সাতক্ষীরার বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে গত বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দিনভর মোটরসাইকেল ও অন্যান্য যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন তথ্যের প্রভাবে অনেকেই প্রয়োজনের আগেই জ্বালানি সংগ্রহে পাম্পে ছুটে আসেন। এতে জেলার বেশির ভাগ পাম্পে অস্বাভাবিক ভিড় সৃষ্টি হয়।

শহরের বাইপাস, পুরাতন সাতক্ষীরা, খুলনা রোডসহ বিভিন্ন এলাকার পেট্রোল পাম্পে গিয়ে দেখা যায়, মোটরসাইকেল, ব্যক্তিগত গাড়ি ও অটোরিকশার চালকেরা দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে জ্বালানি নিচ্ছেন। অনেকেই আশঙ্কা প্রকাশ করেন, পরবর্তী সময়ে তেল পাওয়া না–ও যেতে পারে। তবে এমন আশঙ্কার পক্ষে কোনো সরকারি তথ্য পাওয়া যায়নি।

পরিস্থিতি বিবেচনায় সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসন ও জেলা তথ্য অফিস মাঠে নামে। জেলা তথ্য অফিসের উদ্যোগে শহরের বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করে জানানো হয়, যমুনা, পদ্মা ও মেঘনা পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই। জেলার সব পেট্রোল পাম্পে স্বাভাবিক নিয়মে সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে। সাতক্ষীরা

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষের প্রতি গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, অপ্রয়োজনীয়ভাবে জ্বালানি কিনতে গিয়ে পাম্পে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি না করে স্বাভাবিক প্রয়োজন অনুযায়ী জ্বালানি সংগ্রহ করতে।

প্রশাসনের এই বার্তার পর বিকেলের দিকে কয়েকটি পাম্পে চাপ কিছুটা কমতে শুরু করলেও অনেক স্থানে এখনও ভিড় লক্ষ্য করা যায়। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সঠিক তথ্য দ্রুত মানুষের কাছে পৌঁছালে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়ে আসবে। উল্লেখ্য গুজবে কান না দেওয়ার জন্য গত বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজ এর পক্ষ থেকে সাতক্ষীরার গণমাধ্যমকর্মীদের নিকট একটি প্রেস রিলিজ প্রেরণ করেন।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The fear of free roaming of elephants in Boalkhali is increasing in the public mind

বোয়ালখালীতে লোকালয়ে হাতির অবাধ বিচরণ, জনমনে বাড়ছে আতঙ্ক

বোয়ালখালীতে লোকালয়ে হাতির অবাধ বিচরণ, জনমনে বাড়ছে আতঙ্ক ছবি: সংগৃহীত

রাত যত গভীর হয়, ততই বাড়ে আহমদুল হকের উৎকণ্ঠা। বয়স সত্তর ছুঁইছুঁই। অন্য সময় এ বয়সে মানুষ বিশ্রাম খোঁজেন, কিন্তু তিনি রাতভর জেগে থাকেন পাহারায়। ঘুম নয়, হাতে থাকে টর্চলাইট। কান খোলা, চোখ খোলা। কারণ, যে কোনো মুহূর্তে পাহাড় থেকে নেমে আসতে পারে বন্য হাতির পাল।

চট্টগ্রামের বোয়ালখালীর শ্রীপুর-খরণদ্বীপ ইউনিয়নের মহৎবাড়ী এলাকার এই কৃষকের প্রায় এক লাখ টাকার শুকনা ধান রাখা আছে ঘরের সামনের উঠানে গোলাভরা ধান। সেই ধান রক্ষা করতেই প্রতিটি রাত কাটে উদ্বেগে।

ভোরের আলো ফোটার পরও স্বস্তি মেলে না। আহমদুল হক বলেন, ‘আজ ভোরেও আমার ঘরের সামনে দিয়ে হাতি চলে গেছে। প্রায় প্রতিদিনই নির্ঘুম রাত কাটাতে হচ্ছে।

শুধু আহমদুল হক নন, গত দুই মাস ধরে একই আতঙ্কে দিন কাটছে ফতেরখীল, জৈষ্ঠ্যপুরা ও আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষের। সন্ধ্যা নামলেই গ্রামজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে অজানা ভয়। আর ভোর হলে শোনা যায় নতুন কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর।

স্থানীয়দের ভাষ্য, এই সময়ের মধ্যে হাতির তাণ্ডবে অন্তত ৪৮০ শতক জমির ধানের বীজতলা নষ্ট হয়েছে। বহু কৃষকের বছরের পরিশ্রম মুহূর্তেই মাটিতে মিশে গেছে।

পল্লী চিকিৎসক লিটন বড়ুয়ার ধানের গোলা উল্টে দিয়ে ধান খেয়ে ও নষ্ট করেছে হাতির পাল। একইভাবে আরও অনেক কৃষকের ক্ষেত, ফসল ও সম্পদের ক্ষতি হয়েছে।

জৈষ্ঠ্যপুরা এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, সম্প্রতি গভীর রাতে হাতির দল তার বসতবাড়ির সীমানা প্রাচীর ভেঙে ভেতরে ঢুকে পড়ে। একই এলাকার জুনু মিয়ার ৪০ শতকের আখক্ষেত তছনছ করে দেয়।

চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের পটিয়া রেঞ্জের বন কর্মকর্তা এমদাদুল হক বলেন, বোয়ালখালী এলাকায় জনবল ও সক্ষমতা সীমিত। কর্মকর্তা কম থাকায় সব জায়গায় সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো কঠিন হচ্ছে। তবে নিয়মিত বন্য হাতি তাড়ানোর কাজ করা হচ্ছে। জৈষ্ঠ্যপুরা ও আশপাশের এলাকা হাতির স্বাভাবিক বিচরণভূমি হওয়ায় পরিস্থিতি সামাল দিতে কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে।

চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা সোহেল রানা বলেন, লোকালয়ে হাতি প্রবেশের বিষয়টি তাদের জানা আছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় এলিফ্যান্ট রেসকিউ টিম কাজ করবে। হাতির আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিরা আবেদন করলে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
7 teachers of Comilla Government Womens College transferred due to waterlogging

কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ৭ শিক্ষককে বদলি, কারণ জলাবদ্ধতা

কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ৭ শিক্ষককে বদলি, কারণ জলাবদ্ধতা ছবি: সংগৃহীত

কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের এইচএসসি পরীক্ষাকেন্দ্রে জলাবদ্ধতার কারণে সাত শিক্ষককে কক্সবাজার, সিলেট, বরগুনাসহ বিভিন্ন জেলায় বদলি করা হয়েছে। তারা সবাই ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষাকেন্দ্র ব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তাদেরকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ওএসডি করে। এরপর বিভিন্ন কলেজে বদলি করে সংযুক্ত করে। এক সঙ্গে এতো শিক্ষকের বদলি এই কলেজে আর হয়নি।

গত বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সরকারি কলেজ-২ শাখার উপসচিব আ. কুদদুস স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, আগামী ২৯ জুলাইয়ের মধ্যে সাত শিক্ষককে বর্তমান কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত হতে হবে। কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের উপাধ্যক্ষ এ কে এম জহিরুল আলমকে চৌদ্দগ্রামের চিওড়া সরকারি কলেজের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগে, গণিত বিভাগের অধ্যাপক আবদুল মালেককে কক্সবাজার সরকারি কলেজ, উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কনক বড়ুয়াকে নোয়াখালীর হাতিয়া দ্বীপ সরকারি কলেজে, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ উল্লাহ মজুমদারকে লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজ, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নূর মোহাম্মদ নূর উল্লাহকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর সরকারি কলেজ, হিসাববিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক আল-আমিনকে সিলেটের বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজে ও ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ মহসীনকে বরগুনা সরকারি কলেজে বদলি করা হয়।

এর মধ্যে উপাধ্যক্ষ এ কে এম জহিরুল আলম পরীক্ষা ব্যবস্থাপনায় ছিলেন না, তার ছেলে এইচএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে। আবদুল মালেক কনিষ্ঠ অধ্যাপক, সিনিয়ররা দায়িত্ব না নেওয়ায় তাকে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা করা হয়। কনক বড়ুয়া পরীক্ষা কমিটির আহ্বায়ক। মোহাম্মদ মহসীন কলেজের শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক।

গত শনিবার ১৮ জুলাই দুপুর দুইটায় কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী কলেজে যান। এই সময়ে তিনি কলেজে জলাবদ্ধতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তবে শিক্ষকদের দাবি, এই কলেজে প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে পরীক্ষাকেন্দ্র আছে। সকালের বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা হয়। কিন্তু এই কেন্দ্রে কোনো পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল না। পরীক্ষা যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গত ১৩ জুলাই সকালে অতিবৃষ্টির কারণে কলেজে জলাবদ্ধতা হয়। তখন কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু ডিঙি নৌকা, ভ্যানগাড়ি এনে পরীক্ষার্থীদের বিবেক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের মাধ্যমে কলেজে পৌঁছান। কলেজের শিক্ষকরাও ছাত্রীদের এগিয়ে নেন কেন্দ্রে।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Integrated initiatives to reduce the suffering of patients and their relatives due to traffic congestion in Chittagong city are increasing

বাড়ছে চট্টগ্রাম নগরের যানজট, রোগী-স্বজনের দুর্ভোগ কমাতে সমন্বিত উদ্যোগ

বাড়ছে চট্টগ্রাম নগরের যানজট, রোগী-স্বজনের দুর্ভোগ কমাতে সমন্বিত উদ্যোগ ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রাম নগরের দীর্ঘদিনের অসহনীয় যানজটের অন্যতম কারণ হিসেবে বেসরকারি হাসপাতালগুলোর অপর্যাপ্ত পার্কিং ব্যবস্থাকে চিহ্নিত করেছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। নগরের অধিকাংশ হাসপাতাল অনুমোদিত নকশা ও ইমারত নির্মাণ বিধিমালা অনুসরণ না করে পার্কিং সুবিধা ছাড়াই বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এর ফলে প্রতিদিন হাসপাতালগুলোর সামনে রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স, ব্যক্তিগত গাড়ি, মাইক্রোবাস, সিএনজি অটোরিকশা ও অন্যান্য যানবাহন সড়কের ওপর দাঁড়িয়ে থাকে। এতে হাসপাতালসংলগ্ন সড়কগুলোতে সৃষ্টি হয় দীর্ঘ যানজট, যার ভোগান্তি পোহাতে হয় হাজারো নগরবাসীকে।

এ পরিস্থিতির অবসানে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সিডিএ। সংস্থাটির চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, অবিলম্বে সব বেসরকারি হাসপাতালকে নিজস্ব স্থায়ী ও পর্যাপ্ত পার্কিং ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় কোনো ধরনের ছাড় না দিয়ে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি এটিকে হাসপাতালগুলোর প্রতি ‘শেষ সতর্কবার্তা’ বলেও উল্লেখ করেছেন। গত সোমবার (২০ জুলাই) দুপুরে নগরের বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

এর আগে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সিডিএর একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন দল নগরের রয়েল হাসপাতাল, মেডিকেল সেন্টার, সিএসসিআর হাসপাতালসহ বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল সরেজমিন পরিদর্শন করে। দলে উপস্থিত ছিলেন সিডিএর প্রধান প্রকৌশলী আহমেদ আনোয়ারুল নজরুল, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. সেলিম, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের প্রকল্প পরিচালক মাহফুজুর রহমান, অথরাইজড অফিসার-১ কাজী কাদের নেওয়াজ এবং অথরাইজড অফিসার-২ মো. তানজীব হোসেন।

পরিদর্শনে হাসপাতালগুলোর পার্কিং ব্যবস্থা, যানবাহন চলাচল, রোগী ও স্বজনদের গাড়ি রাখার স্থান এবং সড়কের ওপর যানবাহন দখলের চিত্র নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়। সিডিএর কর্মকর্তারা দেখতে পান, মেট্রোপলিটন হাসপাতালের পার্কিং ব্যবস্থা তুলনামূলকভাবে ভালো বলে অবহিত করা হয়েছে। অন্যদিকে সিএসসিআর হাসপাতাল, মেডিকেল সেন্টার ও রয়েল হাসপাতালের পার্কিং ব্যবস্থা অত্যন্ত অপ্রতুল। এসব হাসপাতালের সামনে নিয়মিত সড়কের ওপর গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকায় যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। পরিদর্শন শেষে সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে অনুমোদিত নকশা অনুসারে দ্রুত পর্যাপ্ত পার্কিং সুবিধা গড়ে তোলার নির্দেশ দেওয়া হয়।

সিডিএ চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন বলেন, ‘নগরের প্রায় সব বেসরকারি হাসপাতালই সিডিএর ইমারত নির্মাণ বিধিমালা লঙ্ঘন করে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। অনেক হাসপাতাল অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী পার্কিং নির্মাণ না করেই রোগীসেবা ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। তারা নিজেরাও জানে কোন কোন আইন ভঙ্গ করেছে। এখন আর এসব অনিয়ম মেনে নেওয়ার সুযোগ নেই।’

তিনি বলেন, ‘আমি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে স্পষ্ট করে বলতে চাই, অবিলম্বে নিজস্ব উদ্যোগে পর্যাপ্ত ও স্থায়ী পার্কিং ব্যবস্থা গড়ে তুলুন। নামমাত্র বা আংশিক পার্কিং ব্যবস্থা করে দায় এড়ানোর চেষ্টা করবেন না। এটি আইওয়াশ ছাড়া কিছুই নয়। ভবিষ্যতে এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আজ আমরা হাসপাতালগুলোকে সতর্ক করেছি। এটিই তাদের প্রতি শেষ সতর্কবার্তা। পরবর্তী পরিদর্শনে হাসপাতালের আকার, রোগীর সংখ্যা ও প্রয়োজন অনুযায়ী পর্যাপ্ত পার্কিং ব্যবস্থা দৃশ্যমান না হলে কোনো অজুহাত শোনা হবে না। সরাসরি কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সিডিএ চেয়ারম্যান বলেন, ‘যানজট এখন শুধু একটি ট্রাফিক সমস্যা নয়; এটি নগরবাসীর দৈনন্দিন জীবন, চিকিৎসাসেবা, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং অর্থনীতির ওপরও বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। জরুরি রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স পর্যন্ত হাসপাতালের সামনের যানজটে আটকে যাচ্ছে। অনেক রোগী সময়মতো হাসপাতালে পৌঁছাতে পারছেন না। এ ধরনের পরিস্থিতি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’

তিনি জানান, নগরের যানজট নিরসনে সিডিএ, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন, চট্টগ্রাম ওয়াসা, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) এবং অন্যান্য সেবা সংস্থা যৌথভাবে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সব সংস্থা একসঙ্গে সমন্বিত পরিকল্পনার মাধ্যমে যানজট কমাতে কাজ করবে।

বেলায়েত হোসেন বলেন, ‘আমরা সবাই একমত হয়েছি যে, যেকোনো মূল্যে চট্টগ্রাম নগরের যানজট কমাতে হবে। নগরবাসীর দুর্ভোগ লাঘবের প্রশ্নে কাউকে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। নিয়মিত মনিটরিং চলবে। যারা আইন মানবে না, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সংশ্লিষ্টরা জানান, চট্টগ্রামের বেশিরভাগ বেসরকারি হাসপাতাল ব্যস্ত সড়কের পাশে গড়ে উঠেছে। কিন্তু হাসপাতালগুলোর অনেকগুলোতেই রোগী ও দর্শনার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় পার্কিং ব্যবস্থা নেই। ফলে প্রতিদিন শত শত যানবাহন সড়কের ওপর দাঁড়িয়ে থাকে। বিশেষ করে পাঁচলাইশ, মেহেদীবাগ, জিইসি মোড়, প্রবর্তক মোড়, গোলপাহাড়, চকবাজার ও ওআর নিজাম রোড এলাকায় হাসপাতালকেন্দ্রিক যানজট এখন নিয়মিত চিত্রে পরিণত হয়েছে।

মন্তব্য

p
উপরে