× হোম রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া সিটিজেন জার্নালিজম বিচিত্র ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য আফগানিস্তান ১৫ আগস্ট কী-কেন স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও যৌনতা-প্রজনন ইউরোপ অন্যান্য উদ্ভাবন প্রবাসী আফ্রিকা ক্রিকেট শারীরিক স্বাস্থ্য আমেরিকা দক্ষিণ এশিয়া সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ মানসিক স্বাস্থ্য ব্লকচেইন অন্যান্য ভাষান্তর ফুটবল অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
A hostage town in the shadow of the mountain
google_news print-icon

পাহাড়ের ছায়ায় অপহরণের বিভীষিকায় জিম্মি জনপদ

* তিন বছরে ২৯৫ অপহরণ * অপহরণের ভয়ে বাড়ি ছেড়ে প্রাণ বাঁচাচ্ছে মানুষ * পুলিশকে খবর দিলে ভয়াবহ নির্যাতন করে অপহকারীরা
পাহাড়ের-ছায়ায়-অপহরণের-বিভীষিকায়-জিম্মি-জনপদ
ছবি: সংগৃহীত

‘সেদিন ছিল ২৮ জুন, সোমবার রাত ১১টা। হঠাৎ আমাদের বাড়ির উঠানের চারদিকে গোলাগুলির শব্দ শুরু হয়। ভয়ে পুরো শরীর কাঁপছিল। ছোট মেয়েকে নিয়ে প্রথমে আলমারির পেছনে লুকিয়ে থাকি। প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে থেমে থেমে গোলাগুলি চলতে থাকে। একপর্যায়ে আমার বাড়ির সামনের দরজায় তিন রাউন্ড গুলি করে এবং দরজায় লাথি মারে। আমি ভয়ে শুধু আল্লাহকে ডাকছিলাম।

বাইরে অস্ত্রধারীদের চিৎকার-চেঁচামেচির শব্দ শুনতে পাচ্ছিলাম। প্রায় এক ঘণ্টা পর গুলির শব্দ কমে আসে। পরদিন সকাল সাতটায় বাড়ি থেকে বের হয়ে দেখি, আমার কোনো প্রতিবেশী বাড়িতে নেই। সবার বাড়িতে তালা ঝুলছে। ভয়ে সবাই আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে চলে গেছে। এরপর আমিও বাচ্চাকে নিয়ে অস্ত্রধারী অপহরণকারীদের ভয়ে টেকনাফের মহেশখালী পাড়ায় আমার বোনের বাড়িতে চলে আসি।’

কথাগুলো টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের নোয়াখালী জুম্মাপাড়া এলাকার পাহাড়সংলগ্ন বাড়ির বাসিন্দা খালেদা বেগমের। গত তিন সপ্তাহ ধরে এলাকাজুড়ে এমন আতঙ্কজনক পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

সর্বশেষ গত ২৮ জুন প্রকাশ্য দিনের বেলায় অস্ত্রের মুখে অপহরণ করা হয় পল্লী চিকিৎসক কামাল উদ্দিনকে। পরে তিনি মুক্তিপণ দিয়ে ফিরে আসেন। এর মধ্যে গত ১৭ জুলাই ফের একটি শিশু অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। ওই দিন বিকেলে বাহারছড়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর নয়াপাড়া এলাকার পাহাড়ের পাদদেশে এ ঘটনা ঘটে। ওই এলাকার আবদুল মাবুদের শিশুপুত্র আরাফাত (১২) মহিষ আনতে গেলে সন্ত্রাসীরা তাকে অপহরণ করে ১২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। গত সোমবার চার লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে তাকে উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় লোকজন জানায়, বাহারছড়া এলাকার অন্তত ২০০ পরিবারের সদস্যরা প্রাণভয়ে বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে। এসব পরিবারের অনেক সদস্য এখনো নিজ বাড়িতে ফেরার সাহস পাচ্ছে না।

বাহারছড়া ইউনিয়নের জুম্মাপাড়া এলাকায় আজ ( ২২ জুলাই ) বুধবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, পুরো এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। জুম্মাপাড়ার পাহাড়সংলগ্ন এলাকায় এগোতে চাইলে স্থানীয় এক ব্যক্তি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ‘ভাই, কোথায় যাচ্ছেন? ওদিকে গেলে আপনাকেও ধরে নিয়ে যেতে পারে।’

পরে স্থানীয় পরিচিত দুই যুবককে সঙ্গে নিয়ে কিছুটা সামনে এগিয়ে দেখা যায়, পাহাড়ের পাদদেশের বাড়িগুলো জনশূন্য। চারদিকে সুনসান নীরবতা।

ফেরার পথে দেখা মেলে একজন নারীর। তিনি নিজের বাড়ির দিকে যাচ্ছেন। তার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বাড়ি থেকে কিছু মালপত্র নিয়ে আসতে যাচ্ছি।’

কোথা থেকে এসেছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘তিন সপ্তাহ ধরে এক আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছি। জরুরি কিছু জিনিস নিতে এসেছি।’

কেন নিজের বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র যেতে হয়েছে, জানতে চাইলে রুবী আক্তার নামের ওই নারী বলেন, ‘রাতে প্রায় প্রতিদিনই সশস্ত্র লোকজন এসে আমাদের পাড়ায় গুলি চালায়। ঘরের দরজা ভাঙচুর করে, লুটপাট চালিয়ে চলে যায়। এমন আতঙ্ক নিয়ে কিভাবে থাকি? শেষে নিজের বাড়িঘর ছেড়ে আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছি।’

এর আগে গত ১৬ জুলাইয়ের কথা। এশার নামাজের আগে অজু করতে ঘরের বাইরে বের হয়েছিলেন জুম্মাপাড়া এলাকার নাজমা আক্তার। পাহাড়সংলগ্ন এলাকা থেকে কিছুটা দূরে তার বাড়ি। স্বামী প্রবাসে। দুই সন্তান নিয়ে তার বসবাস।

নাজমা আক্তার বলেন, ‘অজু করছিলাম। হালকা বৃষ্টি হচ্ছিল। হঠাৎ বাড়ির উঠানের পাশে গোলাগুলির শব্দ শুরু হয়। আতঙ্কে দৌড়ে ঘরের দরজা বন্ধ করে দিই। প্রায় ১০ মিনিট ধরে চলে গোলাগুলি। ওরা দেখতে চাচ্ছিল কেউ ঘর থেকে বের হয় কি না। এখন মাঝেমধ্যেই অস্ত্রধারীরা আমাদের এলাকায় আসে। অনেক বাড়িতে মানুষ না থাকায় আমরা আতঙ্কে আছি।’

মুক্তিপণ দিয়ে ফিরলেন পল্লী চিকিৎসক : গত ২৮ জুন জুম্মাপাড়া এলাকা থেকে অস্ত্রধারীরা পল্লী চিকিৎসক কামাল মাস্টারকে অপহরণ করে। দুই লাখ টাকা মুক্তিপণের বিনিময়ে আট দিন পর গত ৬ জুলাই রাতে তাকে মৌচনী এলাকায় রেখে যাওয়া হয়। তার পরিবারের সদস্যদের দাবি, অপহরণের পর নির্যাতনের কারণে কামাল মাস্টার এখনো অসুস্থ।

এ ঘটনায় টেকনাফ মডেল থানার ওসি মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘মুক্তিপণ আদায়ের তথ্য পাওয়া গেছে। জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারে দ্রুতই যৌথ অভিযান চালানো হবে।’

অপহরণ আতঙ্কে জুম্মাপাড়া এলাকার যে বাসিন্দারা এখনো বাড়ি ফেরেনি তাদের মধ্যে রয়েছেন মোহাম্মদ হোসেন, জাহেদ হোসেন, মোহাম্মদ রফিক, মুজিব উল্লাহ, নব্বী হোসেন, লিয়াকত আলী, ফেরদৌস, মোহাম্মদ শফিক, ছৈয়দ আলম, মোহাম্মদ আয়ুব, খালেদা বেগম, মাহফুজ আক্তার, রুবী আক্তার, আবুল হাশিম, মুজিবুল্লাহ প্রমুখ। তারা বলছেন, অপহরণের ভয়ে নিজ বাড়িতে ফিরতে সাহস পাচ্ছেন না তারা।

টেকনাফ উপজেলা সদর থেকে বাহারছড়া ইউনিয়নের জুম্মাপাড়ার দূরত্ব প্রায় ২০ কিলোমিটার। আর বাহারছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র থেকে এলাকাটির দূরত্ব প্রায় ১০ কিলোমিটার। অপহরণ কিংবা সশস্ত্র হামলার খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছতে আধাঘণ্টা সময় লেগে যায়। এই সময়ের মধ্যে সন্ত্রাসীরা তাদের কাজ সেরে সটকে পড়ে।

অপহরণে জড়িত রেদওয়ান, বুলেট ও আবুল গ্রুপ :

বাহারছড়া ইউনিয়নের বাসিন্দাদের অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের বিষয়ে স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, রোহিঙ্গা ও বাঙালি সন্ত্রাসীদের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা অন্তত তিনটি সশস্ত্র গ্রুপ এ অপহরণকাণ্ডে সক্রিয়। এই গ্রুপগুলো হলো রেদওয়ান গ্রুপ, বুলেট গ্রুপ ও আবুল গ্রুপ। অপহরণের পর ভুক্তভোগীদের বাহারছড়ার দুর্গম পাহাড়ি আস্তানায় আটকে রেখে পরিবারের কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায় করা হয়। তবে এসব অপহরণের ঘটনায় কারা জড়িত, তা নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ।

অনুসন্ধানে জানা যায়, আবুল গ্রুপকে সবচেয়ে শক্তিশালী গোষ্ঠী হিসেবে বিবেচনা করেন স্থানীয়রা। এ গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা অপহরণের অভিযোগও রয়েছে।

পুলিশকে জানালে নেমে আসে নির্যাতন : জুম্মাপাড়া এলাকার নোয়াখালী কচ্ছপিয়া পাহাড় থেকে ১০০ মিটার দূরে মো. ইমরানের বাড়ি। গত মে মাসে তিনি অস্ত্রধারীদের হাতে অপহরণের শিকার হন। পরিবারের সদস্যরা দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ নিয়ে তাকে মুক্ত করে আনে।

ইমরান বলেন, ‘অপহরণের পর আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী যদি উদ্ধারের জন্য পাহাড়ে অভিযান চালায় তখন হাত-পা, চোখ-মুখ বেঁধে আমাদের মারধর করা হয়। মুক্তিপণ আদায়ে যত ধরনের নির্যাতন আছে, সব প্রয়োগ করে সন্ত্রাসীরা।’

অপহরণকারী গ্রুপের নেতা কে এই রেদওয়ান?

বাহারছড়া এলাকার অপহরণচক্রের অন্যতম নেতৃত্বে রয়েছেন ২৭ বছর বয়সি রেদওয়ান। তার বাবা আব্দুল মালেক, যিনি এলাকায় ‘বেলুম ডাকাত’ নামে পরিচিত ছিলেন। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, আব্দুল মালেক দীর্ঘদিন ডাকাতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ২০০৬ সালে ডাকাতির একটি মামলায় গ্রেপ্তারের পর থানায় নেওয়ার পথে পুলিশের গাড়ি থেকে পালানোর চেষ্টা করলে তার মৃত্যু হয়।

স্থানীয়দের দাবি, বাবার মৃত্যুর পর বড় হওয়া রেদওয়ান ছোটবেলা থেকেই বাবার অপরাধজগতের নানা গল্প শুনে বেড়ে ওঠেন। পরে তিনি একই পথে জড়িয়ে পড়েন।

যাদের টার্গেট করে অপহরণ করা হচ্ছে : বাহারছড়া ইউনিয়নের কচ্ছপিয়া ও জুম্মাপাড়া এলাকা দীর্ঘদিন ধরে মানবপাচার ও অপহরণের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে পরিচিত। জানা গেছে, আগে মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত কয়েকটি চক্র এখন অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এসব চক্রের একটি তথ্যদাতা নেটওয়ার্ক রয়েছে। কোন পরিবারের আর্থিক অবস্থা ভালো, কার স্বজন প্রবাসে আছে বা কাকে অপহরণ করলে দ্রুত মুক্তিপণ পাওয়া যাবে—এমন তথ্য সংগ্রহ করে তারা পরিকল্পিত অপহরণ করে। এ কারণে প্রবাসী পরিবারের সদস্যরা বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে বলে জানায় স্থানীয় বাসিন্দারা।

যা জানা গেছে : স্থানীয় বাসিন্দা, ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সূত্রের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে বেরিয়ে আসা কিছু ব্যক্তি এবং স্থানীয় বেকার যুবকের সমন্বয়ে অন্তত তিনটি সশস্ত্র গোষ্ঠী অপহরণকাণ্ডে সক্রিয়। এসব গোষ্ঠীর সদস্যরা বাহারছড়া ইউনিয়নের কচ্ছপিয়া, জুম্মাপাড়া পাহাড়, হ্নীলা ইউনিয়নের উনচিপ্রাংয়ের জুম পাহাড়, মিজ্জির পাহাড়সহ দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় অবস্থান নিয়ে সেখান থেকে তাদের সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

অপহরণের শিকার ব্যক্তিদের প্রথমে জুম্মাপাড়া পাহাড়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে পরে হ্নীলার জুম পাহাড়ে স্থানান্তর করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, এই জুম পাহাড়ে বসেই ভুক্তভোগীর পরিবারের কাছে কত টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হবে, কিংবা মুক্তিপণ না পেলে কী করা হবে, সেসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এসব কর্মকাণ্ডে তারা আধুনিক তথ্য-প্রযুক্তি ও ভারী অস্ত্র ব্যবহার করছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের তথ্যমতে, এসব গোষ্ঠীর সদস্য হিসেবে যাদের নাম উঠে এসেছে, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন মো. মুহিন, আব্দুর রহিম, সালাহউদ্দিন, এনামুল হাসান (রোহিঙ্গা), আবুল কালাম, নুরু মুহাম্মদ, শফি উল্লাহ, সিরাজুল মাঝি ওরফে বার্মাইয়া সিরাজ, আবু হুরায়রা, শহিদ উল্লাহ, আয়াতুল মজিদ, ফরিদ আহমদ, মিজানুর রহমান, নুর মোহাম্মদ, মনির আহাম্মদ, আবুল বশর, মকবুল আহমদ, মো. রুবেল (২২), মো. রিয়াজসহ আরও অনেকে।

পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগে নাম আসা ব্যক্তিদের অবস্থান শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

তিন বছরে অপহৃত ২৯৫ জন : আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ থেকে ২০২৫ সাল—এই তিন বছরে টেকনাফের বাহারছড়া এলাকাসহ আরো কয়েকটি এলাকায় অন্তত ২৯৫ জন অপহরণের শিকার হয়েছে। আর চলতি বছর এ পর্যন্ত আরো অন্তত ২০টি অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। একই সময়ে ওই এলাকায় হত্যা ও সশস্ত্র সহিংসতার ঘটনাও বেড়েছে।

গত ৩ মে নোয়াখালীপাড়ার ব্রিজ এলাকায় অপহরণের চেষ্টাকালে শহিদ উল্লাহ (১৯) নামের এক তরুণ গুলিবিদ্ধ হন। এর আগে এপ্রিল মাসে সন্ত্রাসীদের গুলিতে সুমাইয়া নামের এক তরুণী নিহত হন। একই মাসে পাহাড়ি এলাকা থেকে বস্তাবন্দি অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির মরদেহের খণ্ডাংশসহ আরো তিনজনের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

যৌথ অভিযান পরিচালনার প্রস্তুতি

গত (৪ জুলাই) টেকনাফে জেলার ও উপজেলার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত চার ঘণ্টাব্যাপী বিশেষ আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত আসে অপহরণপ্রবণ (হটস্পট) এলাকায় পুলিশ চৌকি স্থাপন, চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের সলিমপুর পাহাড়ে পরিচালিত অভিযানের আদলে বিশেষ যৌথ অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, ধারাবাহিক অপহরণ, হত্যা ও সহিংসতার পর অবশেষে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সক্রিয় হওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। তারা আশা করছেন, ঘোষিত পদক্ষেপগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে এবং এলাকায় কার্যকর নিরাপত্তা নিশ্চিত হলে বাড়িঘর ছেড়ে চলে যাওয়া পরিবারগুলো আবার নিজ বাড়িতে ফিরতে পারবে।

বাহারছড়া ইউনিয়নের নোয়াখালী জুম্মাপাড়া এলাকার ইউপি সদস্য ইলিয়াস বলেন, ‘আমরা দ্রুত যৌথ অভিযান চাই। অপহরণকারী চক্রের আস্তানা গুঁড়িয়ে দিতে হবে। আমার ওয়ার্ডের দুই শতাধিক পরিবার ভয়ে বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে। এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হলে তারা আবার নিজ বাড়িতে ফিরে আসবে।’

বাহারছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন খোকন বলেন, ‘বিশেষ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সভায় বাহারছড়াবাসীকে অপহরণ থেকে মুক্ত করতে যৌথ অভিযান চালানোর প্রস্তাব দিয়েছি। তারা দ্রুত যৌথ অভিযান এবং একটি চৌকি করার কথা জানিয়েছেন।

উখিয়া-টেকনাফ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী বলেন, ‘টেকনাফকে নিরাপদ ও অপরাধমুক্ত করতে আমরা কাজ করছি। এ লক্ষ্যে সব আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করতে একমত হয়েছে। প্রথমে যেসব মানুষ আতঙ্কে বাড়িঘর ছেড়ে চলে গেছেন, তাদের ফিরিয়ে এনে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইনশাআল্লাহ, খুব শিগগিরই পরিস্থিতির উন্নতি হবে।’

এ বিষয়ে জানতে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল মান্নান বলেন, টেকনাফে মাদক ও অপহরণ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীকে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে যেসব এলাকায় অপহরণের ঘটনা বেশি ঘটছে, সেখানে টহল জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

কক্সবাজারের পুলিশ সুপার সাজেদুর রহমান বলেন, ‘গত ৪ জুলাই বিশেষ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সভায় সীদ্ধান্ত হয়েছে। যৌথ অভিযান পরিচালনার কিন্তু টানা বৃষ্টির কারণে এটি সম্ভব হয়নি। এখন দ্রুত যৌথ অভিযান পরিচালনার জন্য আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি। সবার সহযোগিতা না পেলে কার্যকরভাবে অভিযান পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়বে।

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
After 25 years Ahmed Chafar was buried in the grave of intellectuals

২৫ বছর পর বুদ্ধিজীবীদের কবরে ঠাঁই হলো আহমদ ছফার

২৫ বছর পর বুদ্ধিজীবীদের কবরে ঠাঁই হলো আহমদ ছফার ছবি: সংগৃহীত

মৃত্যুর প্রায় ২৫ বছর পর রাজধানীর মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে স্থানান্তর করা হয়েছে প্রখ্যাত লেখক ও বুদ্ধিজীবী আহমদ ছফার কবর। বুধবার (২২ জুলাই) দুপুরে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ব্যবস্থাপনায় শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানের যে অংশে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বুদ্ধিজীবী ও মুক্তিযোদ্ধাদের দাফন করা হয়, সেখানে তার দেহাবশেষ স্থানান্তর করা হয়।

একুশে পদকপ্রাপ্ত আহমদ ছফা ২০০১ সালের ২৮ জুলাই মারা যান। সে সময় তাকে মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানের সাধারণ অংশে দাফন করা হয়েছিল। তার কবর নম্বর ছিল ১০৮০। বুদ্ধিজীবী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা হওয়া সত্ত্বেও তখন তাকে শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফনের অনুমতি মেলেনি।

আহমদ ছফার ভাতিজা নূরুল আনোয়ার জানালেন, তৎকালীন প্রশাসনের অসহযোগিতার কারণে ছফাকে শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন করা সম্ভব হয়নি। তাই বাধ্য হয়ে সাধারণ কবরে দাফন করা হয়েছিল। সাধারণ কবর নির্দিষ্ট সময় পর ভেঙে ফেলার নিয়ম রয়েছে। এ কারণে তার স্মৃতি স্থায়ীভাবে সংরক্ষণের লক্ষ্যে পরিবারের পক্ষ থেকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের কাছে কবর স্থানান্তরের আবেদন করা হয়।

বুধবার (২২ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে পুরনো কবর থেকে আহমদ ছফার দেহাবশেষ উত্তোলনের কাজ শুরু হয়। বৃষ্টির কারণে কিছুটা বিলম্ব হয়। পরে আনুমানিক দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে পৌনে ১টার মধ্যে স্থানান্তরের কাজ শেষ হয়।

বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে গত ১১ জানুয়ারি পরিবারের পক্ষে নূরুল আনোয়ার কবরটি শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে স্থানান্তরের আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের শিল্প, সাহিত্য, রাজনীতি ও সমাজচিন্তায় আহমদ ছফার গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। কিন্তু তাকে যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি। তাই রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রদর্শনের অংশ হিসেবে তার কবরটি সাধারণ কবরস্থান থেকে শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে স্থানান্তরের অনুরোধ জানানো হয়।

পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৩ এপ্রিল ডিএনসিসির ১৪তম বোর্ড সভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। সেখানে সর্বসম্মতিক্রমে কবর স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে ঢাকা জেলা প্রশাসনের অনুমতি পাওয়ার পর বুধবার (২২ জুলাই) দেহাবশেষ স্থানান্তরের কাজ সম্পন্ন করা হয়।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
There is no shortage of fuel oil and gas supply is normal
মন্ত্রণালয়ের ব্রিফিং

জ্বালানি তেলের সংকট নেই, স্বাভাবিক হচ্ছে গ্যাস সরবরাহ

জ্বালানি তেলের সংকট নেই, স্বাভাবিক হচ্ছে গ্যাস সরবরাহ ফাইল ছবি

দেশে জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই বলে জানিয়েছে জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়। তারা বলছে, এ নিয়ে গুজব ছড়ানো হচ্ছে। বুধবার (২২ জুলাই) বিকেলে সচিবালয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলন করে জ্বালানি তেলের মজুত নিয়ে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়। সংবাদ সম্মেলনে সার্বিক চিত্র তুলে ধরে জনগণকে সঠিক তথ্য দিতে সংবাদমাধ্যমকে অনুরোধ জানান মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দেশে ডিজেলের মজুত আছে ৩১ দিনের। এ ছাড়া ৩৬ দিনের অকটেন, ২০ দিনের পেট্রল, ২৫ দিনের ফার্নেস ওয়েল ও ২০ দিনের জেট ফুয়েল মজুত আছে।

জ্বালানির এই মজুত স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে বেশি দাবি করে মনির হোসেন বলেন, ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে ১ লাখ ৮০ হাজার টন ডিজেল আসবে। আগামী আগস্টে ডিজেল আসবে আরও ২ লাখ ৪০ হাজার টন। আগামী ৪৮ দিনের মধ্যে জ্বালানি তেলের সংকট হবে না।

তেলের সংকট না থাকার কথা জানানো হলেও গ্যাস–সংকটের বিষয়টি স্বীকার করেছে জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ। বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশের একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে (এফএসআরইউ) কারিগরি ত্রুটির কারণে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ দৈনিক প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) কমে গেছে। এর প্রভাবে দেশের বিভিন্ন এলাকায় শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র, সিএনজি স্টেশন ও আবাসিক গ্রাহকের গ্যাস সরবরাহে চাপ কমেছে। কোথাও কোথাও সিএনজি স্টেশনে দীর্ঘ সারি ও সাময়িক ভোগান্তিও দেখা দিয়েছে।

তবে সংবাদ সম্মেলনে মনির হোসেন আশা দিয়েছেন, এটি সাময়িক সমস্যা এবং দুই থেকে তিন দিনের মধ্যেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে। তিনি আরও বলেন, দুটি এফএসআরইউর একটিতে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে সাময়িকভাবে জাতীয় গ্যাস গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এর ফলে গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় কিছু সিএনজি স্টেশন প্রয়োজনীয় পরিমাণ গ্যাস নিতে পারছে না এবং কয়েকটি এলাকায় দীর্ঘ সারির সৃষ্টি হয়েছে। এটি সাময়িক সমস্যা। মেরামতের কাজ চলছে এবং দুই থেকে তিন দিনের মধ্যেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

যুগ্ম সচিব জানান, পরিবহনে এই সংকট শুধু সিএনজি স্টেশনেই সীমাবদ্ধ, জ্বালানি তেল সরবরাহে এর কোনো প্রভাব পড়েনি। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর গত মার্চে সারা বিশ্বে জ্বালানির বাজার অস্থির হয়ে ওঠায় বাংলাদেশেও সংকট দেখা দিয়েছিল। তখন ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেলের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়েছিল। আবার তেমন সংকটের খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে গতকাল মঙ্গলবার রাতে রাজশাহী নগরের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন দেখা দেয়।

মনির হোসেন বলেন, দুয়েকটি মিডিয়ায় লক্ষ্য করা যাচ্ছে জ্বালানি তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হচ্ছে। প্রকৃত ঘটনা জনগণকে জানানো উচিত। অনেক সময় গুজব পীড়াদায়ক হয়। মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি দেখা দেয়। দেশে গ‍্যাস ও এলএনজি মিলিয়ে চাহিদা ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট জানিয়ে তিনি বলেন, সরবরাহ করা যাচ্ছে ২ হাজার ৭০০ থেকে ২ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। কিছু ঘাটতি রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এ সমস্যা। সরকার চেষ্টা করছে ঘাটতি কমাতে।

এদিকে মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এফএসআরইউর কারিগরি ত্রুটি দ্রুত মেরামত করে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও কারিগরি বিশেষজ্ঞরা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছেন। একই সঙ্গে সীমিত গ্যাসের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে জরুরি ও অগ্রাধিকারভিত্তিক খাতে সরবরাহ অব্যাহত রাখার চেষ্টা চলছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বর্তমান সংকটের তাৎক্ষণিক কারণ এফএসআরইউর কারিগরি সমস্যা হলেও দীর্ঘদিনের আমদানিনির্ভরতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। অতীতে দেশি গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ যথেষ্ট না হওয়ায় আমদানি করা এলএনজির ওপর নির্ভরতা বেড়েছে। ফলে আমদানি অবকাঠামোর কোনো একটি অংশে সমস্যা দেখা দিলেই জাতীয় গ্যাস সরবরাহব্যবস্থা চাপে পড়ছে।

এই নির্ভরতা কমাতে সরকার স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানান যুগ্ম সচিব মনির হোসেন। তিনি বলেন, এর অংশ হিসেবে পর্যায়ক্রমে ১০০টি গ্যাসকূপ খননের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

একনেক সভায় নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ এলাকায় ৭২৯ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩টি নতুন কূপ খননের একটি প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আধুনিক জাতীয়তাবাদের ধারণায় কোনো নির্দিষ্ট গোত্র, ভাষা, বর্ণ কিংবা ধর্ম আর জাতীয় পরিচয়ের একক নির্ধারক নয়। বরং একটি ভূখণ্ডের বহুমাত্রিকতা, অভিন্ন স্বার্থ ও যৌথ ভবিষ্যৎ নির্মাণের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করেই এই আধুনিক জাতীয় পরিচয় গড়ে উঠেছে।’

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Government has adopted action plan to monitor project implementation Jonaid Saki

প্রকল্প বাস্তবায়নে তদারকি কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার: জোনায়েদ সাকি

প্রকল্প বাস্তবায়নে তদারকি কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার: জোনায়েদ সাকি ছবি: সংগৃহীত

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি বলেছেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব কমানো, জবাবদিহিতা জোরদার করা, প্রকল্প পরিচালক (পিডি) নিয়োগে নতুন নীতিমালা প্রণয়ন, নির্মাণ খরচের রেট শিডিউল সংশোধন এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে তদারকি বাড়াতে একটি পূর্ণাঙ্গ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার।

বুধবার (২২ জুলাই) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে একনেক চেয়ারপারসন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠক শেষে তথ্য অধিদপ্তরে (পিআইডি) সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারকে অগ্রাধিকার দিয়ে সরকার উন্নয়ন প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন, অপ্রয়োজনীয় ব্যয় রোধ এবং সরকারি বিনিয়োগকে আরও কার্যকর করার লক্ষ্যে এসব উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।’

তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকার এমন একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন ব্যবস্থা উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছে, যেখানে দীর্ঘসূত্রতা, দুর্বল সমন্বয়, দায়িত্বের ওভারল্যাপ এবং জবাবদিহির অভাবের কারণে প্রকল্পের ব্যয় বেড়েছে এবং বাস্তবায়ন বিলম্বিত হয়েছে।’

তিনি জানান, আজকের একনেক সভায় মোট ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকা ব্যয়ে ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া ভোলা সদর ও দৌলতখান উপজেলার শিবপুর, ধনিয়া ও মেদুয়া এলাকা মেঘনা নদীর ভাঙন থেকে রক্ষার একটি প্রকল্প পর্যবেক্ষণসহ ফেরত দেওয়া হয়েছে। একনেকের সুপারিশ অনুযায়ী সংশোধন করে প্রকল্পটি পরবর্তী সভায় উপস্থাপন করা হবে।

সাকি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী প্রতিটি প্রকল্প বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করেছেন এবং অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানো, আর্থিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা এবং জনগণের করের অর্থের সর্বোচ্চ সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করতে প্রকল্পভিত্তিক দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।’ তিনি বলেন, ‘এখন থেকে অনুমোদিত প্রতিটি প্রকল্প এই নির্দেশনা অনুসারেই বাস্তবায়ন করা হবে।’

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের শীর্ষ নীতিনির্ধারকরা প্রকল্প প্রস্তুতি, অর্থায়ন ও বাস্তবায়নের প্রতিটি ধাপ পর্যালোচনা করছেন। কোথায় অপ্রয়োজনীয় ব্যয় হচ্ছে তা চিহ্নিত করা হচ্ছে এবং জনগণের প্রতিটি টাকা যেন আরও দক্ষতার সঙ্গে ব্যয় হয়, তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।’

প্রতিমন্ত্রী জানান, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে অস্বাভাবিক দীর্ঘ সময় লাগা সরকারের অন্যতম প্রধান উদ্বেগের বিষয়। তিনি উল্লেখ করেন, প্রচলিত নিয়মে একনেকের অনুমোদনের পরও কেবল আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে কার্যাদেশ (ওয়ার্ক অর্ডার) পেতেই দেড় থেকে দুই বছর সময় লেগে যায়। অনেক ক্ষেত্রে মাঠপর্যায়ের কাজ দেরিতে শুরু হওয়ায় উন্নয়ন কাজের গতি কমে যায় এবং প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে যায়।

তিনি বলেন, ‘এই দীর্ঘসূত্রতা বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং সরকারি বিনিয়োগের প্রত্যাশিত অর্থনৈতিক সুফল পেতে বিলম্ব ঘটায়। উন্নয়ন প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ত্বরান্বিত করা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

সাকি জানান, সরকার তাই প্রকল্প অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ করতে, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমাতে এবং দ্রুত বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে একটি সমন্বিত বাস্তবায়ন কাঠামো তৈরি করছে। তিনি জানান, চলমান প্রকল্প এবং এডিপির ‘গ্রিন পেজ’-এ অন্তর্ভুক্ত প্রকল্পগুলো ‘রি-স্কোপিং’ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। প্রয়োজন ও অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে প্রকল্পের বিভিন্ন উপাদান সংযোজন, বিয়োজন, সম্প্রসারণ বা সংকোচন করা হবে।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
China has always stood by Bangladesh during its crisis Chinese ambassador

বাংলাদেশের সংকটকালে চীন বরাবরই পাশে রয়েছে: চীনের রাষ্ট্রদূত

বাংলাদেশের সংকটকালে চীন বরাবরই পাশে রয়েছে: চীনের রাষ্ট্রদূত ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বুধবার (২২ জুলাই) বলেছেন, বাংলাদেশ যখনই কোনো দুর্যোগ বা মানবিক সংকটের সম্মুখীন হয়েছে, চীন বরাবরই তার পাশে দাঁড়িয়েছে। তিনি প্রয়োজনের সময়ে ঢাকার প্রতি বেইজিংয়ের অব্যাহত সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

এখানে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির জাতীয় সদর দপ্তরে সংস্থাটিকে (বিডিআরসিএস) জরুরি সহায়তা হিসেবে ১ লাখ মার্কিন ডলার হস্তান্তরকালে তিনি বলেন, ‘এই কঠিন সময়ে চীনের জনগণ বাংলাদেশের জনগণের প্রতি গভীর সহানুভূতি প্রকাশ করছে।’

রাষ্ট্রদূত চীনের রেড ক্রস সোসাইটির পক্ষ থেকে দেশজুড়ে সাম্প্রতিক বন্যা ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর জন্য বিডিআরসিএস-এর চলমান জরুরি কার্যক্রমে সহায়তার জন্য এই অর্থ দান করেন।

বিডিআরসিএস-এর চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার মো. আবদুস সালাম সংস্থার পক্ষ থেকে এই সহায়তা গ্রহণ করেন।

সাম্প্রতিক ভারী বর্ষণে সৃষ্ট ধ্বংসযজ্ঞের কথা উল্লেখ করে ইয়াও বলেন, ‘ভয়াবহ বন্যায় বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে, লাখ লাখ মানুষ আটকা পড়েছেন এবং কৃষিজমি ও অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘এই অনুদান বাংলাদেশের জনগণের প্রতি চীন সরকার ও জনগণের আন্তরিক উদ্বেগ এবং সংহতির প্রতিফলন।’ ইয়াও বলেন, ‘বাংলাদেশ যখনই কোনো দুর্যোগ বা মানবিক সংকটের সম্মুখীন হয়েছে, চীন বরাবরই সহায়তা প্রদান করেছে।’

তিনি বলেন, ‘জরুরি সহায়তার বাইরেও চীন বার্ষিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি এবং বন্যা মোকাবিলার সরঞ্জাম সরবরাহের মাধ্যমে বাংলাদেশের দুর্যোগ প্রস্তুতি সক্ষমতা শক্তিশালী করতে সহায়তা করে আসছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘গত বছর চীন বিডিআরসিএস-কে জরুরি সরঞ্জাম দান করেছিল, যা এখন চলমান বন্যা মোকাবিলায় কার্যকরভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

রাষ্ট্রদূত মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখা এবং প্রয়োজনে বিডিআরসিএস স্বেচ্ছাসেবকদের প্রশিক্ষণ প্রদানের ব্যাপারে চীনের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।’

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিডিআরসিএস চেয়ারম্যান আবদুস সালাম চীন সরকার ও জনগণ এবং রেড ক্রস সোসাইটি অফ চায়নার অব্যাহত মানবিক সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, ‘এই কঠিন সময়ে বাংলাদেশের জনগণের পাশে দাঁড়ানোর জন্য আমরা চীন সরকার ও জনগণকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাই। আমাদের নিবেদিতপ্রাণ স্বেচ্ছাসেবকরা ইতোমধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এবং দুর্গম কিছু এলাকায় কাজ করছেন।’

সালাম বলেন, ‘চীনের এই সহায়তা বিডিআরসিএস-কে তার জরুরি কার্যক্রম আরও প্রসারিত করতে সক্ষম করবে, যার মধ্যে রয়েছে খাদ্য সহায়তা, নিরাপদ পানীয় জল, অস্থায়ী আশ্রয় ও স্বাস্থ্যবিধি কিট বিতরণ এবং চিকিৎসা সেবা প্রদান।’

বাংলাদেশ-চীনের দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বের কথা তুলে ধরে সালাম দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক স্থাপনে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ভূমিকার কথা স্মরণ করেন।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক চীন সফরের পর মানবিক, অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন খাতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও গভীর হবে। অনুষ্ঠানে বিডিআরসিএস গত মঙ্গলবার পর্যন্ত পরিচালিত তাদের জরুরি কার্যক্রমের একটি সার্বিক চিত্র তুলে ধরে জানায়, জরুরি কার্যক্রমের জন্য এ পর্যন্ত ৩.৩৯ মিলিয়ন টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।

বিডিআরসিএস ২,৫০০-এর বেশি খাদ্য প্যাকেজ বিতরণ করেছে, ২২ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছে, ২ হাজারের বেশি মানুষকে চিকিৎসা সহায়তা প্রদান করেছে এবং ৩৭ হাজার লিটারের বেশি নিরাপদ পানি বিতরণ করেছে।

এ ছাড়াও, জরুরি কার্যক্রমের জন্য সংস্থাটি ১২টি রেড ক্রিসেন্ট ইউনিট সক্রিয় করেছে এবং ৩,৫০০-এর বেশি স্বেচ্ছাসেবক মোতায়েন করেছে।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বিডিআরসিএস-এর ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল কবির, কোষাধ্যক্ষ ড. আবু মো. মোফাখখারুল ইসলাম রানা এবং মহাসচিব ড. কবির মো. আশরাফ আলম (এনডিসি) উপস্থিত ছিলেন। আন্তর্জাতিক রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি ফেডারেশন (আইএফআরসি), চীনা দূতাবাস এবং রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট আন্দোলনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
If Ziaur Rahman was not born Bangladesh would not have been born Jobi VC

জিয়াউর রহমানের জন্ম না হলে বাংলাদেশের জন্ম হতো না: জবি ভিসি

জিয়াউর রহমানের জন্ম না হলে বাংলাদেশের জন্ম হতো না: জবি ভিসি ছবি: সংগৃহীত

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন বলেছেন, জিয়াউর রহমানের জন্ম না হলে এই বাংলাদেশের জন্ম হতো না। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ছিলেন বলেই আমরা একটি দেশ, একটি মানচিত্র, স্বাধীনতা ও ভূখণ্ড পেয়েছি। দেশের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার রক্ষায় বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দর্শন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

বুধবার (২২ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান আলোচকের বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সেমিনারটির আয়োজন করে ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইউট্যাব)-এর জবি শাখা।

জবি উপাচার্য বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বর্বর নির্যাতনে যখন জাতি দিশেহারা, তখন তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে জাতিকে পথ দেখিয়েছিলেন। শুধু ঘোষণা দিয়েই তিনি থেমে থাকেননি, জেড ফোর্স গঠন করে মুক্তিযুদ্ধে সরাসরি নেতৃত্ব দিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, জাতি যখনই ক্রান্তিলগ্নে উপনীত হয়েছে, তখনই পথপ্রদর্শকের ভূমিকা পালন করেছেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। তিনি আজ সশরীরে না থাকলেও জাতিকে সংকট থেকে উত্তরণের জন্য যে দর্শন দিয়ে গেছেন, তার নাম বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ।

বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদকে রাষ্ট্রীয় অস্তিত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষার দর্শন উল্লেখ করে উপাচার্য বলেন, এই দেশকে যদি ফ্যাসিবাদমুক্ত রাখতে হয়, তবে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদী দর্শনকে আত্মস্থ করতেই হবে। আমরা এ দর্শন প্রতিষ্ঠা ও মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দিতে কাজ করে যাব। তবে আমার আদর্শের কোনো শিক্ষক, কর্মকর্তা বা শিক্ষার্থী যাতে কারও ওপর কোনো ধরনের চাপ প্রয়োগ না করেন—সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। এ ধরনের কোনো অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

একই সঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ এবং শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে খাটো করার উদ্দেশ্যে কোনো ধরনের অপপ্রচার বা বট আইডির মাধ্যমে প্রোপাগান্ডা এই ক্যাম্পাসে চলতে দেওয়া হবে না।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, এমপি বলেন, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের মূল কথা হলো—এই ভূখণ্ডে বসবাসকারী প্রত্যেক নাগরিকের অভিন্ন পরিচয় বাংলাদেশি। ধর্ম, ভাষা, বর্ণ ও জাতিগত পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে এই দর্শন জাতীয় ঐক্যের ভিত্তি গড়ে তোলে।

ইউট্যাব জবি শাখার সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. নাছির আহমাদ। স্বাগত বক্তব্য দেন শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. ইমরানুল হক।

সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান হামিদ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. মো. শামছুল আলম, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন এবং শিক্ষক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মঞ্জুর মুর্শেদ ভূঁইয়া। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Dhakas 61 Union Parishad initiative of DC Farida Khan

ঢাকার ৬১ ইউনিয়ন পরিষদে স্বচ্ছ বদলির উদ্যোগ ডিসি ফরিদা খানমের

ঢাকার ৬১ ইউনিয়ন পরিষদে স্বচ্ছ বদলির উদ্যোগ ডিসি ফরিদা খানমের ছবি: সংগৃহীত

ইউনিয়ন পরিষদ সচিবদের বদলি কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে লটারির মাধ্যমে পদায়নের উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা জেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসক ফরিদা খানমের উদ্যোগে বুধবার (২২ জুলাই) জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ লটারির আয়োজন করা হয়।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা জেলার ৫টি উপজেলার ৬১টি ইউনিয়ন পরিষদে মোট ৬২টি সচিবের পদ রয়েছে। বর্তমানে ৫৭ জন কর্মরত থাকলেও ৫টি পদ শূন্য রয়েছে।

কর্মরতদের মধ্যে ৫২ জন বদলি কার্যক্রমে অংশ নেন।

এর মধ্যে ৪৫ জন নিজ নিজ উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদে পদায়নের জন্য লটারিতে অংশগ্রহণ করেন।

অন্যদিকে আবেদন ও যৌক্তিক কারণ বিবেচনায় ৭ জনকে অন্য উপজেলায় পদায়নের সুযোগ দেওয়া হয় এবং তারাও লটারিতে অংশ নেন।

প্রশাসন সূত্রে আরো জানা যায়, কর্মরত বাকি ৫ জনের মধ্যে ৪ জনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ থাকায় তাদের বদলি কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। একজনকে প্রশাসনিক কারণে এ প্রক্রিয়ার বাইরে রাখা হয়েছে।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বদলি কার্যক্রমে কোনো ধরনের পক্ষপাত বা প্রভাবের সুযোগ বন্ধ করতে নির্ধারিত নীতিমালা অনুসরণ করে সম্পূর্ণ স্বচ্ছভাবে লটারির আয়োজন করা হয়। বদলিকৃত কর্মকর্তাদের আগামী ২৩ জুলাইয়ের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম বলেন, সরকারি সেবায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও সুশাসন নিশ্চিত করতে প্রশাসনের প্রতিটি কার্যক্রম নিয়ম ও নীতিমালার ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে।

ইউনিয়ন পরিষদ সচিবদের বদলি কার্যক্রমেও কোনো ধরনের ব্যক্তিগত প্রভাব বা সুপারিশের সুযোগ রাখা হয়নি। লটারির মাধ্যমে পদায়নের ফলে সবাই সমান সুযোগ পাচ্ছেন এবং জনগণের আস্থা আরো বাড়বে।

তিনি আরো বলেন, জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে দক্ষ, জবাবদিহিমূলক ও দায়িত্বশীল প্রশাসন গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য। স্বচ্ছতা ও ন্যায়সংগত প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখবে।

মন্তব্য

p
উপরে