আগামী ৫ ও ১৫ আগষ্টে নিষিদ্ধ আওয়ামীলীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল সমাবেশ রুখতে সর্তকতা অবলম্বন করেছে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ। ইতোমধ্যেই ফেসবুকে উসকানি, মিছিল মিটিং, সমাবেশ কিংবা অর্থ জোগান দিয়েছেন-এমন ৬০জন প্রভাবশালী আওয়ামীলীগ ও তার অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের একটি চাঞ্চল্যকর তালিকা তৈরী করেছে গোয়েন্দা সংস্থা। তবে ওই দুই দিবসে ঝটিকা মিছিল হওয়ার আশংকা থাকলেই নগরীতে নাশকতার কোনো আশঙ্কা নেই।
পুলিশের একাধিক সূত্র জানায়, সদ্য তৈরী করা তালিকা মহানগরীর ৮ থানাসহ সকল ফাঁড়ির কাছে দেওয়া হয়েছে। তালিকা অনুযায়ি তাদের গ্রেপ্তারেরও নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।
সূত্রটি আরো জানায়, বিভাগীয় শহর চট্রগ্রাম ও খুলনা থেকে সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে নামে ও বেনামে ভুয়া একাউন্টের মাধ্যমে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এতে পুলিশ আরও কঠোর অবস্থানের রয়েছে বলে কেএমপি’র একটি সূত্র জানায়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট সাবেক প্রধান মন্ত্রী ও কর্মকান্ড নিষিদ্ধ আওয়ামীলীগের সভাপতি শেখ হাসিনা ভারতে চলে যান। ফলে ওইদিন এই দলটি খুলনাসহ সারাদেশে প্রতিবাদ কর্মসূচি দিতে পারে। এছাড়া ১৫ আগষ্ট সাবেক রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদত বার্ষিকী। ফলে নিষিদ্ধ আওয়ামীলীগের জন্য দিবসটি গুরুত্বপূর্ণ।
কেএমপি’র অপরাধ বিভাগের একটি সূত্র জানায়, জুলাই ও আগষ্ট মাস জুড়ে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। নিষিদ্ধ সংগঠন নগরীতে যেন কোনো ধরনের তৎপরতা চালাতে না পারে সে জন্য কঠোর অবস্থানে রয়েছে পুলিশ। ছাত্রলীগ ও যুবলীগ নেতাদের নামের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।
এ নামের তালিকাগুলো মহানগরীর আটটি থানা ও থানার অধিনে সকল ফাঁড়িতে দেওয়া হয়েছে।
সূত্রটি আরও জানায়, দেশের দুইটি বিভাগীয় শহর থেকে ভুয়া আইডির মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচার চলাচ্ছে সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা। তাদেরকে শনাক্ত করা গেছে। তারা উভয় খুলনার প্রোগ্রামগুলো চট্রগ্রাম থেকে এবং চট্রগ্রামেরগুলো খুলনা থেকে প্রচার করছেন। অতিদ্রুত তাদের গ্রেপ্তারের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করবে পুলিশ।
কেএমপি পুলিশ কামিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান বলেন, আগস্টের দুইটি দিবসে পুলিশ সতর্ক এবং ব্যাপক পস্তুতি নিয়েছে। এ দিবসগুলোকে কেন্দ্র করে নগরীতে চেকপোষ্টের সংখ্যা ও পুলিশের ডিউটি বাড়ানো হয়েছে।
ছবি: সংগৃহীত
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার তারাবো-কাঞ্চন পৌরসভা, ভুলতা, গোলাকান্দাইলসহ আশপাশের প্রায় লক্ষাধিক মানুষ এখন পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। হান্ডি মার্কেট-ডেওরি বিল খাল, চিপা খাল, কালাদি-ভুলতা খাল, বাড়ৈপাড়-ডুলুরদিয়া-নলপাথর খাল, ইকবালেরটেক-নরাবো-নলপাথর খাল বেদখলসহ পানি নিষ্কাশনের খাল বাধাগ্রস্ত হওয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
গত কয়েকদিনের অতিবর্ষণে কোথাও হাঁটু, আবার কোথাও কোমরসমান পানি জমেছে। বিশুদ্ধ পানির সংকট, রাস্তাঘাট ডুবে যাওয়া, গবাদিপশু সরিয়ে নেওয়া এবং বাঁশের মাচায় বসবাসের মতো চরম দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয়রা। বেদখল হয়ে যাওয়া খাল উদ্ধার ও সংস্কার করা দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, তারাবো, বরপা, ভুলতা, গোলাকান্দাইল, মধ্যপাড়া, দক্ষিণপাড়া, নাগেরবাগ, বৌবাজার, বাঘমোর্চা, খালপাড়, ইসলামবাগ, নতুন বাজার, কান্দাপাড়া, বলাইখা, বিজয়নগর, মদিনানগর, তারাবো পৌরসভার তেঁতলাবো, পশ্চিম কান্দাপাড়া, উত্তর মাসাবো, যাত্রামুড়া, রূপসী, কাঞ্চন পৌরসভার হাটাবো টেকপাড়া, কালাদি, নলপাথর, নরাবো, কুশাবো, আইতলা, ডুলুরদিয়া ও ভুলতা ইউনিয়নের মাঝিপাড়া, সোনাবো, পাঁচাইখা, ইসলামপুরসহ আশপাশের এলাকায় এখন সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। কারও বাড়ির উঠানে পানি। অনেকের ঘরেই হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি। রাস্তাঘাট তলিয়ে গেছে। জমির ফসল হলদে হয়ে মরে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। গবাদিপশু অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ঘরবাড়িতে পানি ওঠায় কেউ কেউ আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে। আবার কেউ কেউ বাঁশের মাচার ওপর বসবাস করছে। কয়েকটি শিল্পকারখানায়ও জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। কোনো কোনো স্থানে টিউবওয়েল পানিতে তলিয়ে গেছে। সেই সব এলাকায় দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানির অভাব। দেখা দিয়েছে খাবারের সংকট। তা ছাড়া শিল্পকারখানার নির্গত কেমিক্যাল ও দুর্গন্ধযুক্ত কালো পানিতে দূষণ হয়ে রোগাক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। বিশেষ করে মহিলা ও শিশুদের দুর্ভোগ অবর্ণনীয়।
শিশুরা ঠাণ্ডাজনিত ও পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত। জলাবদ্ধতায় শিক্ষার্থীরা স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসায় আসা-যাওয়া করতে পারছে না। তাতে তাদের লেখাপড়া চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। খামারের মাছ ভেসে গেছে। আর্থিক ক্ষতির সম্মুখিন হয়েছেন মাছ চাষিরা। আবাসন প্রকল্প ইস্টউড সিটি বালু ফেলে পানি নিষ্কাশনের খাল ভরাট করে ফেলেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ছাড়া ময়লা, দুর্গন্ধ, আবর্জনাযুক্ত কুচকুচে কালো, দূষিত পানিতে অনেকেই পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ছেন।
নড়াবো গ্রামের গৃহবধূ আকলিমা আক্তার বলেন, ‘তার বসতঘরের ভেতরে পানি ঢুকে গেছে। জলাবদ্ধতায় রান্না বন্ধ হয়ে গেছে।’
বরপা শান্তিনগর এলাকার বাসিন্দা রওশন আলী বলেন, ‘১০-১২ বছর ধরে এখানে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই এই অবস্থার সৃষ্টি হয়। পানির সঙ্গে যুদ্ধ করে বাঁচতে হচ্ছে।’
মাসাবো গ্রামের গৃহবধূ জিন্নাত আরা বলেন, ‘ঘরে হাঁটুপানি। চুলায় আগুন জ্বালাতে পারি না। ঘরে খাবার নেই। বিশুদ্ধ পানি নেই। শুকনো খাবার খেয়ে বাঁচতে হচ্ছে। অনেকে এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছে। সরকারি সহযোগিতা প্রয়োজন।’
নাগেরবাগ গ্রামের বাসিন্দা সোহরাব হোসেন সাজিদ বলেন, ‘সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় অতিকষ্টে চলছে নিম্ন আয়ের মানুষের সংসার। দেখা দিয়েছে খাবারের সংকট। শিল্পকারখানার নির্গত বর্জ্যে পানি নিষ্কাশন খালগুলো বন্ধ হয়ে গেছে। শিল্পকারখানার নির্গত পানি কুচকুচে কালো রং ধারণ করেছে। এই পানিতে হাঁটাচলা করতে গিয়ে মানুষ চর্মরোগে আক্রান্ত হচ্ছে। পানির কীট-পতঙ্গসহ মাছ মরে যাচ্ছে। আশপাশের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে।’
গোলাকান্দাইল এলাকার হাজী আব্দুল মতিন বলেন, ‘রূপগঞ্জ শিল্পাঞ্চল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। সে কারণে জমির দাম বেশি। তুলনামূলকভাবে নিচু জমির দাম কম। তাই অনেকেই নিচু অঞ্চলে কম দামে জমি কিনে ঘরবাড়ি নির্মাণ করছেন। আর সে কারণেই নির্মিত ঘরবাড়িতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।’
আবাসন প্রকল্প ইস্টউড সিটির ল্যান্ড অফিসার জসিম উদ্দিন বলেন, ‘খালের জায়গা রেখেই বালু ভরাট করা হয়েছে। সরকারি জমি কিংবা খাল আমাদের দখলে নেই।’
রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বাদল কুমার সাহা বলেন, ‘চর্ম ও পানিবাহিত রোগীর সংখ্যা দিনদিন বাড়ছে। তাদের চিকিৎসাপত্র ও ওষুধ দেওয়া হচ্ছে।’
পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপপরিচালক রাকিবুল আলম রাজিব বলেন, ‘জলাবদ্ধতার মূল কারণ হলো দখলকৃত পানি নিষ্কাশন খাল। বিশেষ করে তারাবো পৌরসভার খালগুলো শিল্পপ্রতিষ্ঠানের দখলে চলে যাওয়ায় পানি বের হতে পারছে না। খাল উদ্ধার করে স্বাভাবিক পানি প্রবাহ ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।’
রূপগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও কাঞ্চন পৌর প্রশাসক মুহাম্মদ মারজানুর রহমান বলেন, ‘কাঞ্চন পৌরসভা এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে আমরা কাজ করছি। অপরিকল্পিতভাবে সেচ খাল নির্মাণ ও নিয়মিত সংস্কার না করায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হওয়ায় এলাকার জলাবদ্ধতা স্থায়ী রূপ নিচ্ছে। সকল সমস্যা নিরসনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’
রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘ইতোমধ্যে বেদখল হয়ে যাওয়া ৮টি খাল উদ্ধার করা হয়েছে। বেদখল হয়ে যাওয়া খাল পুনরুদ্ধার ও পানি নিষ্কাশনের পথ সচল করার কাজ চলমান রয়েছে। শিগগিরই সকল জলাবদ্ধতা নিরসন করা যাবে। জলাবদ্ধতা এখন স্থায়ী সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। পানি নিষ্কাশনের খালগুলো সংস্কার করা হলে জলাবদ্ধতার সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব।’
ছবি: সংগৃহীত
জাতীয় সংসদে উত্থাপিত চা-শ্রমিকদের দৈনিক ৫০০ টাকা মজুরি অবিলম্বে কার্যকর, কুরমা চা-বাগানের বকেয়া মজুরিসহ সকল পাওনা পরিশোধ এবং শ্রম অধিদপ্তরের অবৈধ হস্তক্ষেপমুক্ত চা-শ্রমিক ইউনিয়নের অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবিতে রাজপথে নেমেছেন সাধারণ চা-শ্রমিকরা। বুধবার (২২ জুলাই) সকালে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার কুরমা চা-বাগানে ‘সাধারণ চা-শ্রমিক ও ছাত্র যুবরা’-এর ব্যানারে এক বিশাল ও উত্তাল বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে বিক্ষুব্ধ বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, ‘জাতীয় সংসদে চা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ৫০০ টাকা করার প্রস্তাব উত্থাপন করেও পরবর্তীতে তা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। সরকারের এমন সিদ্ধান্তে ক্ষোভ ও চরম হতাশায় চা শ্রমিকরা।’ দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতির এই বাজারে বর্তমান স্বল্প মজুরিতে পরিবার চালানো একেবারেই অসম্ভব হয়ে পড়েছে। শিক্ষা, চিকিৎসা ও নিত্যপণ্যের খরচ মেটাতে গিয়ে অধিকাংশ শ্রমিক পরিবার ঋণের জালে জর্জরিত। চা-শিল্প দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি হলেও এর পেছনে জড়িয়ে থাকা মূল কারিগররা আজও ন্যায্য মজুরি ও মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত।
সমাবেশে উঠে আসে কুরমা চা-বাগানের মানবিক বিপর্যয়ের চিত্র। বক্তারা জানান, টানা চার সপ্তাহ ধরে কুরমা চা-বাগানের শ্রমিকদের মজুরি বন্ধ রয়েছে। ফলে শত শত শ্রমিক পরিবার চরম অনাহার ও মানবেতর জীবনযাপন করছে। সমাবেশ থেকে অবিলম্বে এই চার সপ্তাহের বকেয়া মজুরিসহ শ্রমিকদের সকল পাওনা পরিশোধের জোর দাবি জানানো হয়।
একই সাথে শ্রম অধিদপ্তরের কোনো প্রকার অবৈধ হস্তক্ষেপ ছাড়া চা-শ্রমিক ইউনিয়নের একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের জোর দাবি তোলেন শ্রমিক নেতারা, যাতে তারা স্বাধীনভাবে নিজেদের প্রতিনিধি নির্বাচন করার গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরে পান।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন; চা-শ্রমিক নারী নেত্রী গীতা রানী কানু, ইউপি সদস্য নুরুল হক, শমশেরনগর চা-বাগানের শ্রমিক নেত্রী লছমি রানী রাজভর ও সুজিত পাশাসহ স্থানীয় ছাত্র-যুব নেতারা।
বক্তারা অনতিবিলম্বে সংসদে উত্থাপিত দৈনিক ৫০০ টাকা মজুরি কার্যকর, বকেয়া মজুরি পরিশোধ এবং শ্রমিকদের গণতান্ত্রিক অধিকার বাস্তবায়নে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশু ও জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
ছবি: সংগৃহীত
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, একটি দেশের গণতন্ত্র ও রাষ্ট্রব্যবস্থা তখনই সত্যিকার অর্থে শক্তিশালী হয়, যখন তার স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা কার্যকর ও ক্ষমতাবান হয়। তৃণমূলের জনপ্রতিনিধিদের ক্ষমতায়নের মাধ্যমে জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেওয়া এবং গণতন্ত্রের ভিত্তিকে আরও সুদৃঢ় করা সম্ভব।
বুধবার (২২ জুলাই) রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে বাংলাদেশ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান-মেম্বার অ্যাসোসিয়েশনের আয়োজনে ‘স্থানীয় সরকার শক্তিশালী করে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে তৃণমূল জনপ্রতিনিধি ইউপি চেয়ারম্যান-মেম্বারদের করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান-মেম্বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোঃ পয়গাম আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেইন।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, উন্নত দেশগুলোতে স্থানীয় সরকারই প্রশাসন, বিচার, স্বাস্থ্যসেবা ও বিভিন্ন জনসেবামূলক কার্যক্রমের মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। কিন্তু স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে স্থানীয় সরকারকে সেই কাঙ্ক্ষিত শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। এখন সময় এসেছে স্থানীয় সরকারকে প্রকৃত অর্থে ক্ষমতায়নের।
তিনি বলেন, তৃণমূল পর্যায়ে জনগণের সবচেয়ে কাছের প্রতিনিধি হচ্ছেন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যরা। জনগণের সমস্যা, চাহিদা ও সম্ভাবনা সম্পর্কে তাদের মতো আর কেউ এতটা জানেন না। তাই দেশের উন্নয়ন ও গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে স্থানীয় সরকারকে আরও কার্যকর ও শক্তিশালী করতে হবে।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশ দীর্ঘ সংগ্রামের মধ্য দিয়ে স্বৈরাচারী শাসন থেকে মুক্ত হয়েছে এবং গণতন্ত্র পুনর্গঠনের একটি নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। অতীতের শাসনামলে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্বল হয়ে পড়েছিল বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, দেশের উন্নয়ন ও জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে শক্তিশালী স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠার বিকল্প নেই।
মন্ত্রী জানান, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের ভাতা সম্মানজনক পর্যায়ে উন্নীত করার বিষয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করবেন। পাশাপাশি জনপ্রতিনিধিদের কল্যাণে ট্রাস্ট ও তহবিল গঠনের বিষয়েও সরকার ইতিবাচক উদ্যোগ নেবে বলে আশ্বাস দেন।
তিনি বলেন, সরকার স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে বদ্ধপরিকর। ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনসহ আগামীতে সকল নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত হবে এবং জনগণের ভোটেই চেয়ারম্যান, সদস্য ও সংরক্ষিত নারী সদস্যরা নির্বাচিত হবেন।
মন্ত্রী সংগঠনের নেতাদের উদ্দেশে বলেন, সব বিভাগ ও জেলার প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করে একটি শক্তিশালী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক কমিটি গঠন করতে হবে। কাউকে বাদ দিয়ে নয়, দেশের স্বার্থে বিশ্বাসী সবাইকে সঙ্গে নিয়েই সংগঠনকে এগিয়ে নিতে হবে।
সভায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেইন বলেন, তৃণমূলের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের মাধ্যমেই সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে যায়। দুর্যোগের সময় ত্রাণ বিতরণসহ সব ধরনের কার্যক্রমে জনপ্রতিনিধিদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।
অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, সদস্য ও স্থানীয় সরকার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন।
ছবি: সংগৃহীত
বরেন্দ্র অঞ্চলের মাঠজুড়ে এখন আমন ধানের চারা রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। কেউ জমি প্রস্তুত করছেন, আবার কেউ ব্যস্ত চারা রোপণে। আষাঢ় শেষ হয়ে শ্রাবণ শুরু হলেও চাঁপাইনবাবগঞ্জে যে বৃষ্টিপাত হয়েছে তা আমন আবাদের জন্য পর্যান্ত নয় বলছেন কৃষকরা। ফলে আমন আবাদে কৃষকদের নির্ভরতা গভীর নলকূপের পানির ওপর। এতে বাড়ছে উৎপাদন খরচ।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার মহাডাঙ্গা এলাকা ও নাচোল উপজেলার নেজামপুর ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়, আমন আবাদ নিয়ে ব্যস্ত কৃষকরা। কোথাও জমি চাষের কাজ চলছে, কোথাও গভীর নলকূপের পানি দিয়ে জমিতে কাদা তৈরি করা হচ্ছে, আবার কোথাও শ্রমিকেরা সারিবদ্ধভাবে আমনের চারা রোপণ করছেন। কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এবার কয়েকদিন কিছুটা বৃষ্টি হয়েও তা আবাদের জন্য পর্যাপ্ত নয়, তাই আমন আবাদে শুরু থেকেই সেচের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এতে জমি প্রস্তুত ও চারা রোপণের খরচ বেড়ে যাচ্ছে।
কৃষকেরা জানান, একসময় বরেন্দ্র অঞ্চলে আমন ধানের আবাদ পুরোপুরি বৃষ্টি নির্ভর ছিল। বর্ষার পানিতেই জমি প্রস্তুত হয়ে যেত এবং চারা রোপণের কাজ সম্পন্ন হতো। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ায় এখন গভীর নলকূপের পানি ছাড়া আমন চাষ প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ছয় বছরে জুন, জুলাই ও আগস্ট মাসে গড় বৃষ্টিপাত ধারাবাহিকভাবে কমেছে। এর প্রভাব পড়ছে বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষিতে। বিশেষ করে আমনের মতো বৃষ্টিনির্ভর ফসল এখন ক্রমেই সেচনির্ভর হয়ে উঠছে।
নাচোল উপজেলার কৃষ্ণপুর গ্রামের কৃষক মনিরুল ইসলাম এবার ১০ বিঘা জমিতে আমনের আবাদ করছেন। তিনি জানান, এর মধ্যে ছয় বিঘা জমিতে পুরোপুরি সেচের পানি ব্যবহার করতে হয়েছে। বাকি চার বিঘা জমিতে কিছুটা বৃষ্টির পানি পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, প্রতি বিঘা জমিতে সেচ বাবদ প্রায় ৬২৫ টাকা, শ্রমিক খরচ প্রায় ৪ হাজার টাকা এবং চারা রোপণসহ অন্যান্য কাজে আরও প্রায় ১ হাজার ৬০০ টাকা ব্যয় হচ্ছে। এতে আগের তুলনায় উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে গেছে।
কৃষকরা বলছেন, সেচের খরচের পাশাপাশি শ্রমিকের মজুরি, সার, বীজ ও অন্যান্য কৃষি উপকরণের দামও বেড়েছে। কিন্তু ধানের দাম সেই অনুপাতে না বাড়ায় ধান চাষে লাভ কমে যাচ্ছে।
শাহিন আলী নামে আরেক কৃষক বলেন, ধান করতে যে খরচ তাতে খুব বেশি লাভ হয়না, সামান সমান, বা একটু বেশি থাকে। ওই বেশিটায় হ্যামার দিন মুজুরী বলতে পারেন। সারাবছর জমিতে কাজ করতে পারছি, লাভ বলতে এটায়।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, এবার জেলায় ৫৩ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে আমন ধানের আবাদ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত আবাদ হয়েছে ২ হাজার ৪৯০ হেক্টর জমিতে।
ছবি: সংগৃহীত
কিশোরগঞ্জ-ভৈরব আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে থেকে মানিক মিয়া (৩৮) নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরিবারের দাবি, এটি কোনো সড়ক দুর্ঘটনা নয়; পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। বুধবার (২২ জুলাই) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার বিন্নাটি ইউনিয়নের বিসিআইসি গোডাউনের সামনে থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে কিশোরগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত মানিক মিয়া ইটনা উপজেলার রায়টুটী ইউনিয়নের উত্তরপাড়া গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হেকিমের ছেলে। তিনি ঢাকায় এসএ পরিবহনের গাড়িচালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। চাকরির সুবাদে ঢাকায় থাকলেও নিয়মিত বাড়িতে যাতায়াত করতেন।
নিহতের বড় ভাই এমদাদুল হক শাহিন বলেন, ‘আমার ছোট ভাইয়ের আজ অফিসের কাজে রাজশাহী যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কীভাবে বা কী কারণে সে কিশোরগঞ্জে এলো, তা আমরা বুঝতে পারছি না। কিশোরগঞ্জে এলে আমাদের জানানোর কথা ছিল। সন্ধ্যায় তার অন্যান্য সহকর্মীরা অফিস থেকে গাড়ি নিয়ে বের হন। পরে সে কেন মোটরসাইকেলে করে কিশোরগঞ্জে এলো, বিষয়টি আমাদের কাছে রহস্যজনক মনে হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এটিকে সড়ক দুর্ঘটনা হিসেবে দেখছি না। আমাদের ধারণা, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।’
কটিয়াদী হাইওয়ে থানার ওসি এবিএম মেহেদী মাসুদ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ধারণা করা হচ্ছে, রাতের কোনো একসময় অজ্ঞাত একটি গাড়ি তাকে চাপা দিয়ে চলে যায়। ভোর সাড়ে ৫টার দিকে স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তিনি জানান, ঘটনাস্থল থেকে মানিকের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটিও উদ্ধার করা হয়েছে। এ বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
রায়টুটী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মনোয়ার হোসেন খান মিল্কী জানান, পুলিশের মাধ্যমে খবর পেয়ে নিহতের পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে যায়।
ছবি: সংগৃহীত
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে এক বীর মুক্তিযোদ্ধার বসতবাড়ির বেড়া ভেঙে জায়গা দখলের চেষ্টা এবং পরিবারসহ প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. লোকমান হোসেন (৭৫) ভাঙ্গা থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগে বলা হয়, ভাঙ্গা পৌরসভার রায়পাড়া সদরদী গ্রামের লোকমান হোসেনের সঙ্গে একই এলাকার কয়েকজনের জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এর আগে সরকারি আমিন দিয়ে জমি পরিমাপ করা হলেও তা সঠিক হয়নি দাবি করে তিনি পুনরায় পরিমাপের দাবি জানান। এরপর থেকেই অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে তার বসতবাড়ির টিনের বেড়া ভাঙচুর, জায়গা দখলের চেষ্টা এবং গাছপালা কাটার উদ্যোগ নেয় বলে অভিযোগ।
ভুক্তভোগীর দাবি, গত ১৬ জুলাই সকালে অভিযুক্তরা বাড়ির সামনে এসে প্রকাশ্যে হুমকি দেয় এবং ভবিষ্যতে জোরপূর্বক সম্পত্তি দখল ও বাধা দিলে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। এতে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন।
লোকমান হোসেন বলেন, “দেশের জন্য যুদ্ধ করেছি। আজ নিজ বাড়িতেই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু বিচার ও পরিবারের নিরাপত্তা চাই।”
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত মমিন কাজী বলেন, বিরোধপূর্ণ জমি একাধিকবার সালিশ ও সরকারি আমিন দিয়ে পরিমাপ করা হয়েছে। সালিশের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাদের প্রাপ্য জমির মধ্যে থাকা বেড়া সরানো না হওয়ায় তারা বেড়া ভেঙেছেন। কাউকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ সঠিক নয় বলেও দাবি করেন তিনি।
ভাঙ্গা থানার পুলিশ জানিয়েছে, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ছবি: সংগৃহীত
কিশোরগঞ্জের হাওরে বন্ধু ও সহকর্মীদের সঙ্গে হাওরে ঘুরতে এসে নিখোঁজের একদিন পর এক পর্যটকের মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল।
বুধবার (২২ জুলাই) বেলা ১২টার দিকে ইটনা উপজেলার বাদলা ইউনিয়নের বর্শিকুড়া-শেরপুর হাওরের বগাডুবি সেতুর নিচ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর আগে গত মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বেলা আড়াইটার দিকে নিখোঁজ হন তিনি।
নিহত কাউসার ইসলাম পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার বড়িপাশা গ্রামের আবদুর রব শিকদারের ছেলে। তিনি বে কোম্পানির উত্তরা শোরুমে ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
নিহতের বড় ভাই নজরুল ইসলাম জানান, গত মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকালে কাউসারসহ ৫৬ জনের একটি দল ঢাকা থেকে কিশোরগঞ্জের হাওরে ঘুরতে আসেন। তারা গাড়িযোগে ইটনা উপজেলার চৌগাংগা এলাকায় পৌঁছানোর পর নৌকাযোগে বগাডুবি সেতু এলাকায় যান। দুপুর আড়াইটার দিকে সেতু-সংলগ্ন ডুবে যাওয়া সড়কে কয়েকজন গোসল করতে নামেন। এ সময় একজনকে উদ্ধারের চেষ্টা করতে গিয়ে কাউসার পানিতে তলিয়ে যান। পরে আশপাশে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি। কাউসার ইসলাম সাঁতার জানতেন না বলেও জানান তিনি।
কাউসারের সহকর্মী মিজানুর রহমান জানান, গোসলের সময় তাদের আরেক সহকর্মী সাগর ইসলাম স্রোতে তলিয়ে যাচ্ছিলেন। তাকে উদ্ধারের জন্য কাউসারসহ কয়েকজন এগিয়ে যান। একপর্যায়ে উদ্ধারকারীরাও স্রোতে পড়ে যান। পরে সাগর ইসলামকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হলেও কাউসারকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।
বাদলা পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) নঈমুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে গত মঙ্গলবার (২১ জুলাই) পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। তবে সন্ধ্যা হয়ে যাওয়ায় ওইদিন অভিযান স্থগিত করা হয়। বুধবার (২২ জুলাই) সকালে আবারও উদ্ধার অভিযান শুরু হলে বেলা ১২টার দিকে বগাডুবি সেতুর নিচ থেকে কাউসার ইসলামের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
তিনি আরও জানান, নিহতের পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসেছেন। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
মন্তব্য