সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর) আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচিত অনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে এবং তাঁর পদত্যাগের দাবিতে শ্যামনগরে উত্তাল বিক্ষোভ মিছিল ও কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয়েছে।
বুধবার (২২ জুলাই) দুপুর ১২টায় শ্যামনগর বাসস্ট্যান্ড মোড়ে ‘শ্যামনগরের সচেতন নাগরিক সমাজ’-এর ব্যানারে স্থানীয় সাধারণ জনগণের অংশগ্রহণে এই প্রতিবাদ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
কর্মসূচির অংশ হিসেবে শ্যামনগর বাসস্ট্যান্ড থেকে একটি বিশাল প্রতিবাদী বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলটি উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে শ্যামনগর উপজেলা প্রেসক্লাবের সামনে এসে এক প্রতিবাদ সমাবেশে রূপ নেয়। এই বিক্ষোভ কর্মসূচিতে এলাকার সর্বস্তরের সাধারণ জনগণের পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক ক্ষুব্ধ নারী সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।
মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা এই জনপ্রতিনিধির এমন অনৈতিক ও বিতর্কিত আচরণে তীব্র ক্ষোভ ও ধিক্কার প্রকাশ করেন। তাঁরা সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের অবিলম্বে সংসদ পদ থেকে পদত্যাগ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোরালো দাবি জানান। সমাবেশ চলাকালেই ক্ষুব্ধ জনতা সংসদ সদস্যের কুশপুত্তলিকা দাহ করে তাঁদের চরম প্রতিবাদ ব্যক্ত করেন।
বিক্ষোভকালে অংশগ্রহণকারীদের হাতে প্রতিবাদী ব্যানার, সুনির্দিষ্ট দাবিসংবলিত প্ল্যাকার্ড এবং সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিতর্কিত ঘটনার ছবি সংবলিত নানা রকম ফেস্টুন দেখা যায়। সমাবেশে বক্তব্য রাখা সাধারণ প্রতিবাদকারীরা মন্তব্য করেন যে, একজন দায়িত্বশীল জনপ্রতিনিধির থেকে এমন অনৈতিক কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না এবং এটি পুরো এলাকার জন্য চরম লজ্জাজনক।
উল্লেখ্য, গত সোমবার (২০ জুলাই) রাতে এক তরুণীর সঙ্গে এমপি গাজী নজরুলের একটি আপত্তিকর ও অন্তরঙ্গ ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ পাওয়ার পর দেশজুড়ে তীব্র তোলপাড় সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তিনি ওই তরুণীকে নিজের দ্বিতীয় স্ত্রী বলে দাবি করলেও, তাঁদের বিয়ের তথ্যাদি ও কাবিননামা নিয়ে নানাবিধ গুরুতর অসঙ্গতি জনসম্মুখে চলে এসেছে।
ছবি: সংগৃহীত
দেশের সামগ্রিক নদ-নদীর পানির স্তর আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে সিলেট, সুনামগঞ্জ ও নেত্রকোণা—এই তিন জেলার তিনটি নির্দিষ্ট নদী স্টেশনে পানি বর্তমানে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর পাশাপাশি আবহাওয়ার মেজাজ বুঝে আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় দেশের চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগে স্থানভেদে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের স্পষ্ট পূর্বাভাস দিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (এফএফডব্লিউসি)। জলবায়ু ও আবহাওয়াগত এই পরিস্থিতির কারণে দেশের কয়েকটি উপকূলীয় ও নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা সৃষ্টি হওয়া এবং নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার প্রবল আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বুধবার (২২ জুলাই) এফএফডব্লিউসি থেকে প্রকাশিত দেশের সাম্প্রতিক বন্যা পরিস্থিতি ও আবহাওয়া সংক্রান্ত এক বিশেষ নিয়মিত বিজ্ঞপ্তিতে এই আশঙ্কাজনক তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র থেকে প্রকাশিত বুলেটিন অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের কুশিয়ারা নদীর ফেঞ্চুগঞ্জ (সিলেট) ও মারকুলি (সুনামগঞ্জ) পয়েন্টে এবং সোমেশ্বরী নদীর কলমাকান্দা (নেত্রকোণা) স্টেশনে পানি বিপজ্জনকভাবে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বিগত ২৪ ঘণ্টায় অঞ্চলটির সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা আগামী একদিন পর্যন্ত বৃদ্ধির এই ধারা অব্যাহত থাকতে পারে এবং পরবর্তী দুই দিন কিছুটা স্থিতিশীল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এই বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে সিলেট ও সুনামগঞ্জের সুরমা-কুশিয়ারা নদীসংলগ্ন বিভিন্ন নিচু এলাকাগুলোতে সাময়িকভাবে বা স্বল্পমেয়াদে তীব্র বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
এদিকে দেশের পশ্চিম ও পূর্বাঞ্চলের নদীগুলোর অবস্থাও কিছুটা নাজুক রূপ নিচ্ছে। রাজশাহী বিভাগের আত্রাই নদীর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা আগামী একদিন আরও কিছুটা বেড়ে পরবর্তী দুই দিনে কমতে শুরু করতে পারে; তবে এরই মাঝে নওগাঁ জেলার নদীসংলগ্ন বেশ কয়েকটি নিচু এলাকায় পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে সাময়িক আঞ্চলিক বন্যা দেখা দেওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
অপরদিকে চট্টগ্রাম বিভাগের মুহুরী, ফেনী, সেলোনিয়া, হালদা, সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি সাময়িকভাবে কিছুটা কমলেও আগামী দুই দিনে তা আবার অতি দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে। ফলে বান্দরবান, কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম জেলার বেশ কয়েকটি নদীর পানি সতর্কসীমার খুব কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে এবং নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলগুলো সাময়িকভাবে পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ার শঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
অন্যদিকে উত্তর ও মধ্যঞ্চলের পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে জানানো হয়েছে যে, তিস্তা ও দুধকুমার নদীর পানি এখন কিছুটা কমতির দিকে থাকলেও ধরলা নদীর পানি অপরিবর্তিত বা স্থিতিশীল রয়েছে।
আবহাওয়া বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে যে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রামের নদী তীরবর্তী কিছু পয়েন্টে পানি সতর্কসীমা ছুঁইছুঁই অবস্থায় প্রবাহিত হতে পারে। তবে নেত্রকোণার সোমেশ্বরী নদীর পানি ইতোমধ্যে কমতে শুরু করায় এবং আগামী তিন দিন এই ধারা অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা থাকায় জেলার সামগ্রিক বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতির আশা করা হচ্ছে।
দেশের প্রধান নদ-নদীগুলোর মধ্যে ব্রহ্মপুত্রের পানি স্থিতিশীল থাকলেও যমুনা ও গঙ্গা-পদ্মার পানি সার্বিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যার প্রভাবে আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টায় কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইল জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলগুলোতে পানি প্রবেশ করে প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
ছবি: সংগৃহীত
নাটোরে বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কের তালবাড়িয়া এলাকায় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের রুশ কর্মীদের বহনকারী একটি মিনিবাস ও পণ্যবাহী ট্রাকের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষে একজন নিহত ও অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনায় ট্রাকের সহকারী ইমন (২২) প্রাণ হারান এবং আহতদের মধ্যে রূপপুর প্রকল্পের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিকিমথ-এর আটজন রুশ নাগরিক রয়েছেন। নিহত ইমন নাটোর সদর উপজেলার খোলাবাড়িয়া এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা থেকে রূপপুরগামী মিনিবাসটির সঙ্গে নাটোর থেকে ঢাকাগামী ট্রাকটির সংঘর্ষ হলে ট্রাকের সামনের অংশ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
দুর্ঘটনার পর গুরুদাসপুর ও বনপাড়া ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেন। গুরুদাসপুর ফায়ার সার্ভিসের সাব-অফিসার রুস্তম আলী বলেন, “আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে গুরুতর আহত কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।” এই দুর্ঘটনার কারণে মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হলেও প্রায় দুই ঘণ্টার প্রচেষ্টায় দুর্ঘটনাকবলিত যানগুলো সরিয়ে নিলে রাত ১১টার দিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করে। আহত রুশ নাগরিকদের মধ্যে চারজন নারী রয়েছেন এবং আহতদের কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
ছবি: সংগৃহীত
সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত জীবনের কিছু আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় দেশজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা নিয়ে জনসমক্ষে কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছেন সুপরিচিত বক্তা মাওলানা গিয়াস উদ্দিন তাহেরী। একটি ধর্মীয় মাহফিলে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এই জনপ্রতিনিধির নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, "এমপি গাজী নজরুল ইসলাম নিয়ে সাতক্ষীরায় কী চলতাছে। সাতক্ষীরা মেয়ের বয়স ১৪, মেয়ের বাপের বয়স ৩৬ আর ওনার বয়স হলো ৭৪, না কত? কী হিসাব-নিকাশ। ধরা পড়ার আগে রোমান্টিক, ধরা পড়লে কয় বউ। এগুলো বিকৃত মানসিকতা।"
ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট এমপির পক্ষ থেকে নানা ব্যাখ্যা দেওয়া হলেও মাওলানা তাহেরী সেগুলোকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি এই ঘটনাকে সামাজিক ও নৈতিক অবক্ষয় হিসেবে অভিহিত করে বলেন, "এসব ঘটনা এআই বলে চালিয়ে দেওয়া বিকৃত যৌনাচার। আবার ধরা খাওয়ার পর দ্বিতীয় বিয়ে বলে চালিয়ে দেওয়া পাক্কা মিথ্যাচার। প্রশাসনকে বলব, সঠিক তদন্ত করেন।" তিনি আরও যোগ করেন, "এই মিথ্যাবাদীদের মুখোশ উন্মোচনের সুযোগ এসেছে, এই মোনাফেকদের মুখোশ উন্মোচনের সুযোগ এসেছে। এদের মুখে ইসলাম আছে; কিন্তু অন্তরে ইসলাম নাই। এদের বট বহিনী আছে, হারামকে হালার বলতে তারা বট বাহিনী লাগিয়ে দেয়।"
নির্বাচনী প্রচারণার সময় ওই এমপির কর্মকাণ্ডের বৈপরীত্য তুলে ধরে তাহেরী সভায় উপস্থিত শ্রোতাদের উদ্দেশ্যে বলেন, "এই লোকটা দেখলাম নির্বাচনের সময় সাদা পর্দা লাগাইছে। একপাশে মেয়েরা আর একপাশে উনি, দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে পর্দার কাছে যায় আর বলে —আপনারা ভালো করে চলবেন, পর্দা করবেন।" ধর্মীয় আদর্শের দোহাই দিয়ে ব্যক্তিগত জীবনে এমন আচরণের কঠোর সমালোচনা করে মাওলানা তাহেরী এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের মুখোশ উন্মোচনের দাবি জানান।
ছবি: নিউজ বাংলা
কারাবন্দীদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা ও চক্ষুস্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নীলফামারী জেলা কারাগারে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ও ছানি অপারেশন ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে। সৈয়দপুরের মরিয়ম চক্ষু হাসপাতালের উদ্যোগে আয়োজিত এ ক্যাম্পে প্রায় ২০০ কারাবন্দী চিকিৎসাসেবা পেয়েছেন।
সোমবার (২০ জুলাই ২০২৬) নীলফামারী জেলা কারাগার চত্বরে দিনব্যাপী এ ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা কারাগারের জেল সুপার জাবেদ মেহেদী। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নীলফামারীর জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান চৌধুরী শামীম।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নীলফামারীর সিভিল সার্জন ডা. মো. আব্দুর রাজ্জাক, জেলা কারাগারের কর্মকর্তা-কর্মচারী, কারারক্ষী এবং কারাবন্দীরা।
ক্যাম্পে প্রায় ২০০ কারাবন্দীর চোখ পরীক্ষা করা হয়। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী তাদের বিনামূল্যে চশমা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ দেওয়া হয়। পাশাপাশি যেসব কারাবন্দীর ছানি অপারেশনের প্রয়োজন রয়েছে, তাদের বিনামূল্যে অস্ত্রোপচারের জন্য নির্বাচন করা হয়।
অনুষ্ঠানে জেল সুপার জাবেদ মেহেদী বলেন, "কারাবন্দীদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব। সুস্থ শরীর তাদের মানসিক উন্নয়ন ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার পথকে সহজ করে। এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখতে আমরা কাজ করে যাব।"
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান বলেন, "সরকার কারাবন্দীদের মানবিক অধিকার ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে আন্তরিকভাবে কাজ করছে। চিকিৎসাসেবা মানুষের মৌলিক অধিকার। জেলা কারাগারে এমন বিশেষায়িত চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প আয়োজন নিঃসন্দেহে একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ। প্রশাসন এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমে সবসময় সহযোগিতা করবে।"
জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান চৌধুরী শামীম বলেন, "মানবসেবার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হলো স্বাস্থ্যসেবা। কারাবন্দীদের জন্য বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসার ব্যবস্থা একটি মহৎ উদ্যোগ। সমাজের প্রতিটি মানুষ যেন প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা পায়, সে লক্ষ্যে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।"
আয়োজকরা জানান, কারাবন্দীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের মানবিক কল্যাণে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের স্বাস্থ্যসেবামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
ছবি: সংগৃহীত
সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে সারাদেশে বৃষ্টিপাতের ধারা আগামী পাঁচ দিন অব্যাহত থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। বিশেষ করে খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়াবিদ খো. হাফিজুর রহমান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এই সময়ে দেশের অধিকাংশ অঞ্চলে অস্থায়ী দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। বর্ষণের প্রভাবে সপ্তাহের মাঝামাঝি সময়ে দিনের তাপমাত্রা কিছুটা কমে আসার সম্ভাবনা থাকলেও পরবর্তী সময়ে তা সামান্য বাড়তে পারে।
আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকালের মধ্যে খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অধিকাংশ এলাকা এবং ঢাকা, রাজশাহী, রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কোথাও কোথাও অতি ভারী বর্ষণের সতর্কতা দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায়ও একই পরিস্থিতি বজায় থাকতে পারে, যার ফলে শুক্রবার সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য হ্রাস পেতে পারে। এদিন খুলনা ও বরিশাল ছাড়াও রাজশাহী ও ঢাকা বিভাগের অধিকাংশ এলাকায় বৃষ্টির সক্রিয়তা বেশি থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে, সপ্তাহের শেষদিকে অর্থাৎ শনিবার ও রোববার বৃষ্টির তীব্রতা দেশের দক্ষিণাঞ্চল ও সিলেটে বেশি থাকলেও অন্যান্য অঞ্চলে তা কিছুটা কমে আসতে পারে। শনিবার থেকে সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা পুনরায় সামান্য বাড়তে শুরু করতে পারে। তবে পাঁচ দিনই দেশের কোথাও না কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা বিদ্যমান থাকবে। সার্বিকভাবে আগামী সপ্তাহের শুরু পর্যন্ত সারাদেশে কম-বেশি বৃষ্টিপাতের এই প্রবণতা বজায় থাকবে।
ছবি: সংগৃহীত
টানা বৃষ্টির প্রভাবে রাজধানীর কাঁচাবাজারগুলোতে সবজির দাম আবারও বাড়তে শুরু করেছে। সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটায় বর্তমানে অধিকাংশ সবজির দাম ১০০ টাকা বা তার বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে কাঁচা মরিচের দাম দ্বিগুণ হয়ে বর্তমানে প্রতি কেজি ২৪০ টাকায় ঠেকেছে। বেগুন ও শসাসহ অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় সবজির দামও কেজিপ্রতি ৪০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে বলে গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে।
রাজধানীতে বর্তমানে প্রতি কেজি বেগুন ১২০ টাকা এবং করলা ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া পটল ৮০ টাকা, ঢ্যাঁড়স ১০০ টাকা, ঝিঙা ১০০ টাকা এবং চিচিঙ্গা ৮০ থেকে ১০০ টাকায় লেনদেন হচ্ছে। শসার দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২০ থেকে ১৩০ টাকায়। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে লাউয়ের দাম বেড়ে ৮০ থেকে ৯০ টাকায় পৌঁছেছে, যা আগে ৬০ টাকার মধ্যে ছিল। পেঁপের দাম কিছুটা স্থিতিশীল থাকলেও তা ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে গাজর ১৬০ টাকা, টমেটো ১২০ থেকে ১৪০ টাকা এবং কাঁকরোল ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
ব্যবসায়ীদের মতে, টানা বর্ষণের কারণে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সবজি খেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং অনেক এলাকায় পানিবদ্ধতার কারণে খেত থেকে পণ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে পাইকারি বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ায় খুচরা বাজারে এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে। আবহাওয়া স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই দামের ঊর্ধ্বগতি কমার সম্ভাবনা কম বলে আশঙ্কা করছেন বিক্রেতারা। তবে বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে আগামী কয়েক দিন বাজারে দামের চাপ আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নিত্যপণ্যের এই আকাশছোঁয়া দামে সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে কাঁচা মরিচ ও বেগুনের মতো প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে। বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সরবরাহ ব্যবস্থা দ্রুত স্বাভাবিক না হলে সাধারণ ভোক্তার নাভিশ্বাস আরও বাড়তে পারে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বাজার তদারকি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন ক্রেতারা।
মন্তব্য