নাটোরে বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কের তালবাড়িয়া এলাকায় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের রুশ কর্মীদের বহনকারী একটি মিনিবাস ও পণ্যবাহী ট্রাকের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষে একজন নিহত ও অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনায় ট্রাকের সহকারী ইমন (২২) প্রাণ হারান এবং আহতদের মধ্যে রূপপুর প্রকল্পের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিকিমথ-এর আটজন রুশ নাগরিক রয়েছেন। নিহত ইমন নাটোর সদর উপজেলার খোলাবাড়িয়া এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা থেকে রূপপুরগামী মিনিবাসটির সঙ্গে নাটোর থেকে ঢাকাগামী ট্রাকটির সংঘর্ষ হলে ট্রাকের সামনের অংশ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
দুর্ঘটনার পর গুরুদাসপুর ও বনপাড়া ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেন। গুরুদাসপুর ফায়ার সার্ভিসের সাব-অফিসার রুস্তম আলী বলেন, “আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে গুরুতর আহত কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।” এই দুর্ঘটনার কারণে মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হলেও প্রায় দুই ঘণ্টার প্রচেষ্টায় দুর্ঘটনাকবলিত যানগুলো সরিয়ে নিলে রাত ১১টার দিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করে। আহত রুশ নাগরিকদের মধ্যে চারজন নারী রয়েছেন এবং আহতদের কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
ছবি: সংগৃহীত
সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর) আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচিত অনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে এবং তাঁর পদত্যাগের দাবিতে শ্যামনগরে উত্তাল বিক্ষোভ মিছিল ও কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয়েছে।
বুধবার (২২ জুলাই) দুপুর ১২টায় শ্যামনগর বাসস্ট্যান্ড মোড়ে ‘শ্যামনগরের সচেতন নাগরিক সমাজ’-এর ব্যানারে স্থানীয় সাধারণ জনগণের অংশগ্রহণে এই প্রতিবাদ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
কর্মসূচির অংশ হিসেবে শ্যামনগর বাসস্ট্যান্ড থেকে একটি বিশাল প্রতিবাদী বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলটি উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে শ্যামনগর উপজেলা প্রেসক্লাবের সামনে এসে এক প্রতিবাদ সমাবেশে রূপ নেয়। এই বিক্ষোভ কর্মসূচিতে এলাকার সর্বস্তরের সাধারণ জনগণের পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক ক্ষুব্ধ নারী সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।
মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা এই জনপ্রতিনিধির এমন অনৈতিক ও বিতর্কিত আচরণে তীব্র ক্ষোভ ও ধিক্কার প্রকাশ করেন। তাঁরা সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের অবিলম্বে সংসদ পদ থেকে পদত্যাগ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোরালো দাবি জানান। সমাবেশ চলাকালেই ক্ষুব্ধ জনতা সংসদ সদস্যের কুশপুত্তলিকা দাহ করে তাঁদের চরম প্রতিবাদ ব্যক্ত করেন।
বিক্ষোভকালে অংশগ্রহণকারীদের হাতে প্রতিবাদী ব্যানার, সুনির্দিষ্ট দাবিসংবলিত প্ল্যাকার্ড এবং সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিতর্কিত ঘটনার ছবি সংবলিত নানা রকম ফেস্টুন দেখা যায়। সমাবেশে বক্তব্য রাখা সাধারণ প্রতিবাদকারীরা মন্তব্য করেন যে, একজন দায়িত্বশীল জনপ্রতিনিধির থেকে এমন অনৈতিক কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না এবং এটি পুরো এলাকার জন্য চরম লজ্জাজনক।
উল্লেখ্য, গত সোমবার (২০ জুলাই) রাতে এক তরুণীর সঙ্গে এমপি গাজী নজরুলের একটি আপত্তিকর ও অন্তরঙ্গ ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ পাওয়ার পর দেশজুড়ে তীব্র তোলপাড় সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তিনি ওই তরুণীকে নিজের দ্বিতীয় স্ত্রী বলে দাবি করলেও, তাঁদের বিয়ের তথ্যাদি ও কাবিননামা নিয়ে নানাবিধ গুরুতর অসঙ্গতি জনসম্মুখে চলে এসেছে।
ছবি: সংগৃহীত
সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত জীবনের কিছু আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় দেশজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা নিয়ে জনসমক্ষে কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছেন সুপরিচিত বক্তা মাওলানা গিয়াস উদ্দিন তাহেরী। একটি ধর্মীয় মাহফিলে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এই জনপ্রতিনিধির নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, "এমপি গাজী নজরুল ইসলাম নিয়ে সাতক্ষীরায় কী চলতাছে। সাতক্ষীরা মেয়ের বয়স ১৪, মেয়ের বাপের বয়স ৩৬ আর ওনার বয়স হলো ৭৪, না কত? কী হিসাব-নিকাশ। ধরা পড়ার আগে রোমান্টিক, ধরা পড়লে কয় বউ। এগুলো বিকৃত মানসিকতা।"
ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট এমপির পক্ষ থেকে নানা ব্যাখ্যা দেওয়া হলেও মাওলানা তাহেরী সেগুলোকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি এই ঘটনাকে সামাজিক ও নৈতিক অবক্ষয় হিসেবে অভিহিত করে বলেন, "এসব ঘটনা এআই বলে চালিয়ে দেওয়া বিকৃত যৌনাচার। আবার ধরা খাওয়ার পর দ্বিতীয় বিয়ে বলে চালিয়ে দেওয়া পাক্কা মিথ্যাচার। প্রশাসনকে বলব, সঠিক তদন্ত করেন।" তিনি আরও যোগ করেন, "এই মিথ্যাবাদীদের মুখোশ উন্মোচনের সুযোগ এসেছে, এই মোনাফেকদের মুখোশ উন্মোচনের সুযোগ এসেছে। এদের মুখে ইসলাম আছে; কিন্তু অন্তরে ইসলাম নাই। এদের বট বহিনী আছে, হারামকে হালার বলতে তারা বট বাহিনী লাগিয়ে দেয়।"
নির্বাচনী প্রচারণার সময় ওই এমপির কর্মকাণ্ডের বৈপরীত্য তুলে ধরে তাহেরী সভায় উপস্থিত শ্রোতাদের উদ্দেশ্যে বলেন, "এই লোকটা দেখলাম নির্বাচনের সময় সাদা পর্দা লাগাইছে। একপাশে মেয়েরা আর একপাশে উনি, দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে পর্দার কাছে যায় আর বলে —আপনারা ভালো করে চলবেন, পর্দা করবেন।" ধর্মীয় আদর্শের দোহাই দিয়ে ব্যক্তিগত জীবনে এমন আচরণের কঠোর সমালোচনা করে মাওলানা তাহেরী এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের মুখোশ উন্মোচনের দাবি জানান।
ছবি: নিউজ বাংলা
কারাবন্দীদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা ও চক্ষুস্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নীলফামারী জেলা কারাগারে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ও ছানি অপারেশন ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে। সৈয়দপুরের মরিয়ম চক্ষু হাসপাতালের উদ্যোগে আয়োজিত এ ক্যাম্পে প্রায় ২০০ কারাবন্দী চিকিৎসাসেবা পেয়েছেন।
সোমবার (২০ জুলাই ২০২৬) নীলফামারী জেলা কারাগার চত্বরে দিনব্যাপী এ ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা কারাগারের জেল সুপার জাবেদ মেহেদী। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নীলফামারীর জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান চৌধুরী শামীম।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নীলফামারীর সিভিল সার্জন ডা. মো. আব্দুর রাজ্জাক, জেলা কারাগারের কর্মকর্তা-কর্মচারী, কারারক্ষী এবং কারাবন্দীরা।
ক্যাম্পে প্রায় ২০০ কারাবন্দীর চোখ পরীক্ষা করা হয়। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী তাদের বিনামূল্যে চশমা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ দেওয়া হয়। পাশাপাশি যেসব কারাবন্দীর ছানি অপারেশনের প্রয়োজন রয়েছে, তাদের বিনামূল্যে অস্ত্রোপচারের জন্য নির্বাচন করা হয়।
অনুষ্ঠানে জেল সুপার জাবেদ মেহেদী বলেন, "কারাবন্দীদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব। সুস্থ শরীর তাদের মানসিক উন্নয়ন ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার পথকে সহজ করে। এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখতে আমরা কাজ করে যাব।"
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান বলেন, "সরকার কারাবন্দীদের মানবিক অধিকার ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে আন্তরিকভাবে কাজ করছে। চিকিৎসাসেবা মানুষের মৌলিক অধিকার। জেলা কারাগারে এমন বিশেষায়িত চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প আয়োজন নিঃসন্দেহে একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ। প্রশাসন এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমে সবসময় সহযোগিতা করবে।"
জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান চৌধুরী শামীম বলেন, "মানবসেবার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হলো স্বাস্থ্যসেবা। কারাবন্দীদের জন্য বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসার ব্যবস্থা একটি মহৎ উদ্যোগ। সমাজের প্রতিটি মানুষ যেন প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা পায়, সে লক্ষ্যে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।"
আয়োজকরা জানান, কারাবন্দীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের মানবিক কল্যাণে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের স্বাস্থ্যসেবামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
ছবি: সংগৃহীত
সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে সারাদেশে বৃষ্টিপাতের ধারা আগামী পাঁচ দিন অব্যাহত থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। বিশেষ করে খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়াবিদ খো. হাফিজুর রহমান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এই সময়ে দেশের অধিকাংশ অঞ্চলে অস্থায়ী দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। বর্ষণের প্রভাবে সপ্তাহের মাঝামাঝি সময়ে দিনের তাপমাত্রা কিছুটা কমে আসার সম্ভাবনা থাকলেও পরবর্তী সময়ে তা সামান্য বাড়তে পারে।
আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকালের মধ্যে খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অধিকাংশ এলাকা এবং ঢাকা, রাজশাহী, রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কোথাও কোথাও অতি ভারী বর্ষণের সতর্কতা দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায়ও একই পরিস্থিতি বজায় থাকতে পারে, যার ফলে শুক্রবার সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য হ্রাস পেতে পারে। এদিন খুলনা ও বরিশাল ছাড়াও রাজশাহী ও ঢাকা বিভাগের অধিকাংশ এলাকায় বৃষ্টির সক্রিয়তা বেশি থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে, সপ্তাহের শেষদিকে অর্থাৎ শনিবার ও রোববার বৃষ্টির তীব্রতা দেশের দক্ষিণাঞ্চল ও সিলেটে বেশি থাকলেও অন্যান্য অঞ্চলে তা কিছুটা কমে আসতে পারে। শনিবার থেকে সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা পুনরায় সামান্য বাড়তে শুরু করতে পারে। তবে পাঁচ দিনই দেশের কোথাও না কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা বিদ্যমান থাকবে। সার্বিকভাবে আগামী সপ্তাহের শুরু পর্যন্ত সারাদেশে কম-বেশি বৃষ্টিপাতের এই প্রবণতা বজায় থাকবে।
ছবি: সংগৃহীত
টানা বৃষ্টির প্রভাবে রাজধানীর কাঁচাবাজারগুলোতে সবজির দাম আবারও বাড়তে শুরু করেছে। সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটায় বর্তমানে অধিকাংশ সবজির দাম ১০০ টাকা বা তার বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে কাঁচা মরিচের দাম দ্বিগুণ হয়ে বর্তমানে প্রতি কেজি ২৪০ টাকায় ঠেকেছে। বেগুন ও শসাসহ অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় সবজির দামও কেজিপ্রতি ৪০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে বলে গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে।
রাজধানীতে বর্তমানে প্রতি কেজি বেগুন ১২০ টাকা এবং করলা ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া পটল ৮০ টাকা, ঢ্যাঁড়স ১০০ টাকা, ঝিঙা ১০০ টাকা এবং চিচিঙ্গা ৮০ থেকে ১০০ টাকায় লেনদেন হচ্ছে। শসার দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২০ থেকে ১৩০ টাকায়। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে লাউয়ের দাম বেড়ে ৮০ থেকে ৯০ টাকায় পৌঁছেছে, যা আগে ৬০ টাকার মধ্যে ছিল। পেঁপের দাম কিছুটা স্থিতিশীল থাকলেও তা ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে গাজর ১৬০ টাকা, টমেটো ১২০ থেকে ১৪০ টাকা এবং কাঁকরোল ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
ব্যবসায়ীদের মতে, টানা বর্ষণের কারণে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সবজি খেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং অনেক এলাকায় পানিবদ্ধতার কারণে খেত থেকে পণ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে পাইকারি বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ায় খুচরা বাজারে এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে। আবহাওয়া স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই দামের ঊর্ধ্বগতি কমার সম্ভাবনা কম বলে আশঙ্কা করছেন বিক্রেতারা। তবে বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে আগামী কয়েক দিন বাজারে দামের চাপ আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নিত্যপণ্যের এই আকাশছোঁয়া দামে সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে কাঁচা মরিচ ও বেগুনের মতো প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে। বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সরবরাহ ব্যবস্থা দ্রুত স্বাভাবিক না হলে সাধারণ ভোক্তার নাভিশ্বাস আরও বাড়তে পারে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বাজার তদারকি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন ক্রেতারা।
ছবি: সংগৃহীত
ভিসা জালিয়াতির মাধ্যমে প্রকৃত পাসপোর্টধারীর পরিবর্তে অন্যজনকে ইতালিতে পাঠানোর মতো মরর্যপাচার এবং বিদেশে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে বিপুল অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে সংঘবদ্ধ মানবপাচার চক্রের সাত সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে জালিয়াতির মাধ্যমে মানবপাচার, প্রতারণা এবং ইতালিতে নেওয়ার নামে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সিআইডির অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার আবু তালেব জানান, সিআইডির মানবপাচার শাখা (টিএইচবি) অভিযান চালিয়ে এ আসামিদের গ্রেপ্তার করে। এ সময় গ্রেপ্তারকৃতদের অফিস থেকে তিনটি সিপিইউ, একটি এইচপি ল্যাপটপ, বিভিন্ন ব্যক্তির নামে থাকা ৫৬টি পাসপোর্ট, সরকারি, বেসরকারি ও বিদেশি বিভিন্ন ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠানের নামে ব্যবহৃত ১৫৩টি সিল, একটি লোহার তৈরি এম্বোস সিল এবং নগদ দুই লাখ ৫০ হাজার টাকা জব্দ করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মো. বেলায়েত হোসেন (৪০), নাজমুল হাসান (১৯), মেহেদী হাসান (৩৭), মো. সোলাইমান সুমন (৩২), ফজলে রাব্বী (২৭), মো. তৌহিদুর রহমান (২৪) ও কাওসার হোসেন (৪২)।
আবু তালেব আরও জানান, গত সোমবার টিএইচবির একটি দল গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানীর গুলশান-১ এলাকায় অভিযান চালিয়ে আসামিদের গ্রেপ্তার করে। এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গুলশান থানায় মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ এবং দমন আইনে একটি মামলা করেন ভুক্তভোগী এক নারী।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী ওই নারীর স্বামী দীর্ঘদিন ধরে ইতালিতে বসবাস করছেন। স্বামী ও চার সন্তানকে নিয়ে ইতালিতে যাওয়ার আশায় বাদী দীর্ঘদিন ধরে ভিসা পাওয়ার চেষ্টা করে আসছিলেন। একপর্যায়ে ইতালির দূতাবাসে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও পাসপোর্ট জমা দেন। দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পর তার পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে ইতালির দূতাবাস থেকে ফোন করে তার পাসপোর্ট নবায়নের বিষয়ে অবহিত করা হয়।
সূত্রে আরও জানা যায়, পাসপোর্ট সংগ্রহের জন্য ওই নারী দূতাবাসে গেলে সেখানে অত্র মামলার এজাহারনামীয় ২নং আসামি নাজমুল হাসানের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। নাজমুল নিজেকে পাসপোর্ট নবায়নসহ ইতালির ভিসা করে দেওয়ার কাজে সক্ষম ব্যক্তি হিসেবে বাদীর সামনে পরিচয় দেন। পরবর্তীতে তাকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পাসপোর্ট নবায়ন করে দেওয়ার আশ্বাস দেয় নাজমুল। পরবর্তীতে নাজমুল ওই নারীকে রাজধানীর গুলশান-১ এলাকার একটি ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস প্রতিষ্ঠানে নিয়ে যান। সেখানে প্রতিষ্ঠানপ্রধান হিসেবে মামলার এজাহারনামীয় ১নং আসামি মো. বেলায়েত হোসেনের সঙ্গে ওই নারীকে পরিচয় করিয়ে দেন।
আসামিরা বাদীকে ইতালিতে নেওয়ার জন্য ভিসা করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ভুক্তভোগীর সঙ্গে আর্থিক চুক্তি করে। চুক্তিতে ভিসা হয়ে গেলে বাদীকে সম্পূর্ণ টাকা পরিশোধ করতে হবে বলে উল্লেখ করা হয়। পরবর্তীতে চলতি বছরের ১৫ এপ্রিল ভুক্তভোগীর মোবাইল ফোনে একটি বার্তা আসে। বিষয়টি নাজমুলকে জানালে তিনি বাদীকে ইতালির দূতাবাসে যাওয়ার জন্য বলেন।
পরদিন গত ১৬ এপ্রিল বাদী ইতালির দূতাবাস থেকে তার পাসপোর্ট সংগ্রহ করে বাইরে বের হলে নাজমুলসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজন ব্যক্তি তার কাছে চুক্তি অনুযায়ী পুরো টাকা দাবি করে। তার কাছে তাৎক্ষণিক টাকা না থাকায় আসামিরা জোরপূর্বক পাসপোর্ট নিয়ে নেয়।
পাসপোর্ট ফেরত পাওয়ার জন্য এবং ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার আশায় ভুক্তভোগী নারী আসামিদের দেওয়া ব্যাংক হিসাবে গত ১৯ এপ্রিল ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং ১১ মে আরও ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা, সর্বমোট ৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা প্রদান করেন। টাকা দেওয়ার পরের দিন আসামিরা বাদীকে তার পাসপোর্ট ফেরত দেয়।
পরবর্তীতে ভুক্তভোগীর প্রবাসী স্বামী তার স্ত্রী ও সন্তানদের ইতালিতে নেওয়ার উদ্দেশ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটের টিকিট বুকিং করেন। নির্ধারিত তারিখে বাদী তার সন্তানদের নিয়ে বিমানবন্দরে উপস্থিত হয়ে ইমিগ্রেশন কার্যক্রম সম্পন্ন করতে গেলে কর্মকর্তারা জানান, তার পাসপোর্টে সংযুক্ত ইতালির ভিসা ব্যবহার করে তার পরিবর্তে অন্য একজন অজ্ঞাতনামা নারী গত ২৪ এপ্রিল ইতালি চলে গেছেন।
এই তথ্য শুনে ভুক্তভোগী বুঝতে পারেন, তার পাসপোর্ট ও ভিসা ব্যবহার করে জালিয়াতির মাধ্যমে অন্য একজনকে ইতালিতে পাঠানো হয়েছে এবং সংঘবদ্ধ চক্রটি প্রতারণার মাধ্যমে তার কাছ থেকে নেওয়া বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করেছে। পরবর্তীতে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের পরামর্শে তিনি সিআইডির মানবপাচার শাখায় যোগাযোগ করেন এবং বিষয়টি অবহিত করেন।
অভিযোগ পাওয়ার পর সিআইডির মানবপাচার শাখা দ্রুত তদন্ত ও গোয়েন্দা কার্যক্রম শুরু করে। প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা ও ঘটনার সঙ্গে আসামিদের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়। এরই ধারাবাহিকতায় নগদ অর্থ ও অন্যান্য আলামতসহ চক্রটির সাত সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মামলাটির প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, গ্রেপ্তারকৃতরা সংঘবদ্ধভাবে বিদেশে যাওয়ার প্রত্যাশী ব্যক্তিদের টার্গেট করে ইতালির ভিসা ও উন্নত জীবনের প্রলোভন দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ আদায় করত। চক্রটি বিভিন্ন কৌশলে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে পাসপোর্ট সংগ্রহ করে তা নিজেদের হেফাজতে রাখত এবং পরবর্তীতে জালিয়াতির মাধ্যমে ভিসাসংক্রান্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে প্রকৃত পাসপোর্টধারীর পরিবর্তে অন্য ব্যক্তিকে বিদেশে পাঠানোর মতো গুরুতর অপরাধ সংঘটিত করছিল।
এ ছাড়া জব্দকৃত ৫৬টি পাসপোর্ট ও ১৫৩টি বিভিন্ন ধরনের সিলের উপস্থিতি থেকে চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পিতভাবে ভিসা জালিয়াতি ও মানবপাচার সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।
সিআইডির তদন্তে আরও জানা যায়, গ্রেপ্তার চক্রের মূলহোতা ও গ্রেপ্তারকৃত এজাহারনামীয় ১নং অভিযুক্ত মো. বেলায়েত হোসেন দীর্ঘদিন ধরে একই ধরনের প্রক্রিয়ায় বিদেশে লোক পাঠানোর সঙ্গে জড়িত। ২০১৬ সাল থেকে এ পর্যন্ত তিনি একই কৌশলে প্রায় ৩০ জনকে ইতালিতে পাঠানোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন এবং প্রত্যেকের কাছ থেকে বিপুল অর্থ গ্রহণ করা হয়েছিল মর্মে তথ্য পাওয়া যায়।
এ ছাড়া গ্রেপ্তারকৃত প্রধান আসামি মো. বেলায়েত হোসেন একই ধরনের অপরাধের অভিযোগে বিমানবন্দর থানায় ২০২৪ সালে একটি মামলার জামিনে রয়েছে। মামলাটি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
বর্তমানে মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে সিআইডির মানবপাচার শাখা। জব্দকৃত পাসপোর্ট, সিল, কম্পিউটার ও অন্যান্য আলামতের ফরেনসিক ও কারিগরি পরীক্ষা-নিরীক্ষা, অভিযুক্তদের আর্থিক লেনদেনের উৎস ও গন্তব্য অনুসন্ধান এবং এই চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য সদস্য, দেশি-বিদেশি সহযোগী ও সম্ভাব্য ভুক্তভোগীদের শনাক্ত করতে সিআইডির তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে সিআইডি বিদেশে কর্মসংস্থান, অভিবাসন বা ভ্রমণের ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের প্রলোভনে পড়ে যাচাই-বাছাই ছাড়া অর্থ বা পাসপোর্ট হস্তান্তর না করতে দেশের নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। এ ছাড়া বিদেশ যাওয়ার ক্ষেত্রে শুধু সরকার অনুমোদিত ও বৈধ প্রক্রিয়া অনুসরণ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বৈধতা যথাযথভাবে যাচাই করার পাশাপাশি কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যদি ভিসা পাইয়ে দেওয়ার নামে অস্বাভাবিক অঙ্কের অর্থ দাবি করে, পাসপোর্ট জিম্মি করে রাখে অথবা ভিসা জালিয়াতি, মানবপাচার কিংবা অবৈধ অভিবাসনের সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহ হয়, তাহলে দ্রুত নিকটস্থ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অথবা সিআইডিকে অবহিত করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
মন্তব্য