× হোম রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া সিটিজেন জার্নালিজম বিচিত্র ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য আফগানিস্তান ১৫ আগস্ট কী-কেন স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও যৌনতা-প্রজনন ইউরোপ অন্যান্য উদ্ভাবন প্রবাসী আফ্রিকা ক্রিকেট শারীরিক স্বাস্থ্য আমেরিকা দক্ষিণ এশিয়া সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ মানসিক স্বাস্থ্য ব্লকচেইন অন্যান্য ভাষান্তর ফুটবল অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
47 mobile phones recovered in Rangamati have been handed over to their owners
google_news print-icon

রাঙামাটিতে উদ্ধার হওয়া ৪৭টি মোবাইল ফোন মালিকদের কাছে হস্তান্তর

রাঙামাটিতে-উদ্ধার-হওয়া-৪৭টি-মোবাইল-ফোন-মালিকদের-কাছে-হস্তান্তর
ছবি: সংগৃহীত

রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পুলিশের সাইবার ক্রাইম মনিটরিং সেলের সফল প্রচেষ্টায় তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় উদ্ধার করা হয়েছে হারিয়ে যাওয়া ৪৭টি মোবাইল ফোন। উদ্ধারকৃত মোবাইল ফোনগুলো মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রকৃত মালিকদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব। তিনি বলেন, ‘জনসেবার মান উন্নয়নে এবং অপরাধ দমনে প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশিংকে আরও কার্যকর করতে জেলা পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।’

পুলিশ সূত্র জানা গেছে, রাঙামাটি জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে হারিয়ে যাওয়া মোবাইল ফোনগুলো তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে শনাক্ত ও উদ্ধার করে জেলা পুলিশের সাইবার ক্রাইম মনিটরিং সেল।

অনুষ্ঠানে মোবাইল ফোন ফিরে পেয়ে ভুক্তভোগীরা সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং পুলিশ সুপারসহ রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পুলিশের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. ইকবাল হোছাইন, সাইবার ক্রাইম মনিটরিং সেলের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং সেলের অন্যান্য সদস্যরা।

রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পুলিশ জানিয়েছে, জনসেবায় সর্বদা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থেকে প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশিংয়ের মাধ্যমে নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাদের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Human trafficking and money embezzlement 56 arrested with passports 7

মানবপচার ও অর্থ আত্মসাৎ ৫৬ পাসপোর্টসহ গ্রেপ্তার ৭

মানবপচার ও অর্থ আত্মসাৎ ৫৬ পাসপোর্টসহ গ্রেপ্তার ৭ ছবি: সংগৃহীত

ভিসা জালিয়াতির মাধ্যমে প্রকৃত পাসপোর্টধারীর পরিবর্তে অন্যজনকে ইতালিতে পাঠানোর মতো মরর‌্যপাচার এবং বিদেশে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে বিপুল অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে সংঘবদ্ধ মানবপাচার চক্রের সাত সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে জালিয়াতির মাধ্যমে মানবপাচার, প্রতারণা এবং ইতালিতে নেওয়ার নামে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সিআইডির অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার আবু তালেব জানান, সিআইডির মানবপাচার শাখা (টিএইচবি) অভিযান চালিয়ে এ আসামিদের গ্রেপ্তার করে। এ সময় গ্রেপ্তারকৃতদের অফিস থেকে তিনটি সিপিইউ, একটি এইচপি ল্যাপটপ, বিভিন্ন ব্যক্তির নামে থাকা ৫৬টি পাসপোর্ট, সরকারি, বেসরকারি ও বিদেশি বিভিন্ন ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠানের নামে ব্যবহৃত ১৫৩টি সিল, একটি লোহার তৈরি এম্বোস সিল এবং নগদ দুই লাখ ৫০ হাজার টাকা জব্দ করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মো. বেলায়েত হোসেন (৪০), নাজমুল হাসান (১৯), মেহেদী হাসান (৩৭), মো. সোলাইমান সুমন (৩২), ফজলে রাব্বী (২৭), মো. তৌহিদুর রহমান (২৪) ও কাওসার হোসেন (৪২)।

আবু তালেব আরও জানান, গত সোমবার টিএইচবির একটি দল গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানীর গুলশান-১ এলাকায় অভিযান চালিয়ে আসামিদের গ্রেপ্তার করে। এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গুলশান থানায় মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ এবং দমন আইনে একটি মামলা করেন ভুক্তভোগী এক নারী।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী ওই নারীর স্বামী দীর্ঘদিন ধরে ইতালিতে বসবাস করছেন। স্বামী ও চার সন্তানকে নিয়ে ইতালিতে যাওয়ার আশায় বাদী দীর্ঘদিন ধরে ভিসা পাওয়ার চেষ্টা করে আসছিলেন। একপর্যায়ে ইতালির দূতাবাসে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও পাসপোর্ট জমা দেন। দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পর তার পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে ইতালির দূতাবাস থেকে ফোন করে তার পাসপোর্ট নবায়নের বিষয়ে অবহিত করা হয়।

সূত্রে আরও জানা যায়, পাসপোর্ট সংগ্রহের জন্য ওই নারী দূতাবাসে গেলে সেখানে অত্র মামলার এজাহারনামীয় ২নং আসামি নাজমুল হাসানের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। নাজমুল নিজেকে পাসপোর্ট নবায়নসহ ইতালির ভিসা করে দেওয়ার কাজে সক্ষম ব্যক্তি হিসেবে বাদীর সামনে পরিচয় দেন। পরবর্তীতে তাকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পাসপোর্ট নবায়ন করে দেওয়ার আশ্বাস দেয় নাজমুল। পরবর্তীতে নাজমুল ওই নারীকে রাজধানীর গুলশান-১ এলাকার একটি ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস প্রতিষ্ঠানে নিয়ে যান। সেখানে প্রতিষ্ঠানপ্রধান হিসেবে মামলার এজাহারনামীয় ১নং আসামি মো. বেলায়েত হোসেনের সঙ্গে ওই নারীকে পরিচয় করিয়ে দেন।

আসামিরা বাদীকে ইতালিতে নেওয়ার জন্য ভিসা করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ভুক্তভোগীর সঙ্গে আর্থিক চুক্তি করে। চুক্তিতে ভিসা হয়ে গেলে বাদীকে সম্পূর্ণ টাকা পরিশোধ করতে হবে বলে উল্লেখ করা হয়। পরবর্তীতে চলতি বছরের ১৫ এপ্রিল ভুক্তভোগীর মোবাইল ফোনে একটি বার্তা আসে। বিষয়টি নাজমুলকে জানালে তিনি বাদীকে ইতালির দূতাবাসে যাওয়ার জন্য বলেন।

পরদিন গত ১৬ এপ্রিল বাদী ইতালির দূতাবাস থেকে তার পাসপোর্ট সংগ্রহ করে বাইরে বের হলে নাজমুলসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজন ব্যক্তি তার কাছে চুক্তি অনুযায়ী পুরো টাকা দাবি করে। তার কাছে তাৎক্ষণিক টাকা না থাকায় আসামিরা জোরপূর্বক পাসপোর্ট নিয়ে নেয়।

পাসপোর্ট ফেরত পাওয়ার জন্য এবং ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার আশায় ভুক্তভোগী নারী আসামিদের দেওয়া ব্যাংক হিসাবে গত ১৯ এপ্রিল ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং ১১ মে আরও ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা, সর্বমোট ৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা প্রদান করেন। টাকা দেওয়ার পরের দিন আসামিরা বাদীকে তার পাসপোর্ট ফেরত দেয়।

পরবর্তীতে ভুক্তভোগীর প্রবাসী স্বামী তার স্ত্রী ও সন্তানদের ইতালিতে নেওয়ার উদ্দেশ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটের টিকিট বুকিং করেন। নির্ধারিত তারিখে বাদী তার সন্তানদের নিয়ে বিমানবন্দরে উপস্থিত হয়ে ইমিগ্রেশন কার্যক্রম সম্পন্ন করতে গেলে কর্মকর্তারা জানান, তার পাসপোর্টে সংযুক্ত ইতালির ভিসা ব্যবহার করে তার পরিবর্তে অন্য একজন অজ্ঞাতনামা নারী গত ২৪ এপ্রিল ইতালি চলে গেছেন।

এই তথ্য শুনে ভুক্তভোগী বুঝতে পারেন, তার পাসপোর্ট ও ভিসা ব্যবহার করে জালিয়াতির মাধ্যমে অন্য একজনকে ইতালিতে পাঠানো হয়েছে এবং সংঘবদ্ধ চক্রটি প্রতারণার মাধ্যমে তার কাছ থেকে নেওয়া বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করেছে। পরবর্তীতে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের পরামর্শে তিনি সিআইডির মানবপাচার শাখায় যোগাযোগ করেন এবং বিষয়টি অবহিত করেন।

অভিযোগ পাওয়ার পর সিআইডির মানবপাচার শাখা দ্রুত তদন্ত ও গোয়েন্দা কার্যক্রম শুরু করে। প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা ও ঘটনার সঙ্গে আসামিদের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়। এরই ধারাবাহিকতায় নগদ অর্থ ও অন্যান্য আলামতসহ চক্রটির সাত সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মামলাটির প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, গ্রেপ্তারকৃতরা সংঘবদ্ধভাবে বিদেশে যাওয়ার প্রত্যাশী ব্যক্তিদের টার্গেট করে ইতালির ভিসা ও উন্নত জীবনের প্রলোভন দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ আদায় করত। চক্রটি বিভিন্ন কৌশলে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে পাসপোর্ট সংগ্রহ করে তা নিজেদের হেফাজতে রাখত এবং পরবর্তীতে জালিয়াতির মাধ্যমে ভিসাসংক্রান্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে প্রকৃত পাসপোর্টধারীর পরিবর্তে অন্য ব্যক্তিকে বিদেশে পাঠানোর মতো গুরুতর অপরাধ সংঘটিত করছিল।

এ ছাড়া জব্দকৃত ৫৬টি পাসপোর্ট ও ১৫৩টি বিভিন্ন ধরনের সিলের উপস্থিতি থেকে চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পিতভাবে ভিসা জালিয়াতি ও মানবপাচার সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।

সিআইডির তদন্তে আরও জানা যায়, গ্রেপ্তার চক্রের মূলহোতা ও গ্রেপ্তারকৃত এজাহারনামীয় ১নং অভিযুক্ত মো. বেলায়েত হোসেন দীর্ঘদিন ধরে একই ধরনের প্রক্রিয়ায় বিদেশে লোক পাঠানোর সঙ্গে জড়িত। ২০১৬ সাল থেকে এ পর্যন্ত তিনি একই কৌশলে প্রায় ৩০ জনকে ইতালিতে পাঠানোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন এবং প্রত্যেকের কাছ থেকে বিপুল অর্থ গ্রহণ করা হয়েছিল মর্মে তথ্য পাওয়া যায়।

এ ছাড়া গ্রেপ্তারকৃত প্রধান আসামি মো. বেলায়েত হোসেন একই ধরনের অপরাধের অভিযোগে বিমানবন্দর থানায় ২০২৪ সালে একটি মামলার জামিনে রয়েছে। মামলাটি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

বর্তমানে মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে সিআইডির মানবপাচার শাখা। জব্দকৃত পাসপোর্ট, সিল, কম্পিউটার ও অন্যান্য আলামতের ফরেনসিক ও কারিগরি পরীক্ষা-নিরীক্ষা, অভিযুক্তদের আর্থিক লেনদেনের উৎস ও গন্তব্য অনুসন্ধান এবং এই চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য সদস্য, দেশি-বিদেশি সহযোগী ও সম্ভাব্য ভুক্তভোগীদের শনাক্ত করতে সিআইডির তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে সিআইডি বিদেশে কর্মসংস্থান, অভিবাসন বা ভ্রমণের ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের প্রলোভনে পড়ে যাচাই-বাছাই ছাড়া অর্থ বা পাসপোর্ট হস্তান্তর না করতে দেশের নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। এ ছাড়া বিদেশ যাওয়ার ক্ষেত্রে শুধু সরকার অনুমোদিত ও বৈধ প্রক্রিয়া অনুসরণ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বৈধতা যথাযথভাবে যাচাই করার পাশাপাশি কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যদি ভিসা পাইয়ে দেওয়ার নামে অস্বাভাবিক অঙ্কের অর্থ দাবি করে, পাসপোর্ট জিম্মি করে রাখে অথবা ভিসা জালিয়াতি, মানবপাচার কিংবা অবৈধ অভিবাসনের সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহ হয়, তাহলে দ্রুত নিকটস্থ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অথবা সিআইডিকে অবহিত করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Mozaffar ordered to appear before the tribunal
জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ড

মোজাফফরকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ

মোজাফফরকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ ছবি: সংগৃহীত

সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার সাবেক সেনা কর্মকর্তা মোজাফফর হোসেনকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকাল ১০টার মধ্যে তাকে হাজির করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে।

বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ মঙ্গলবার (২১ জুলাই) মোজাফফর হোসেনকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ দেন। এই ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো.আমিনুল ইসলামের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। চিফ প্রসিকিউটর ট্রাইব্যুনালে বলেন, ‘আসামি মোজাফফর হোসেন বর্তমানে সেনা হেফাজতে আছেন।’

আদেশে ট্রাইব্যুনাল বলেন, ‘কার্যকর ও যথাযথ তদন্তের স্বার্থে মানবতাবিরোধী অপরাধের এই মামলায় মোজাফফর হোসেনকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা প্রয়োজন।’

১৯৮১ সালের ৩০ মে ভোররাতে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে একদল বিপথগামী সেনা কর্মকর্তা তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে নৃশংসভাবে হত্যা করেন। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান আগের দিন চট্টগ্রামে গিয়েছিলেন দলের স্থানীয় বিরোধ মেটাতে। জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ড নিয়ে প্রকাশিত বিভিন্ন ঐতিহাসিক বর্ণনা, বয়ান বা বইয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮১ সালের ৩০ মে ভোরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে যাওয়া সশস্ত্র সেনা কর্মকর্তাদের একজন ছিলেন মোজাফফর। জিয়াকে হত্যার মুহূর্তে তার কাছেই ছিলেন তিনি। জিয়াউর রহমান হত্যার পর মোজাফফর পালিয়ে যান। তাকে ধরিয়ে দেওয়ার জন্য তখন পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল।

জিয়া হত্যার পর ‘বিদ্রোহের’ অভিযোগে সামরিক আদালতে ১৮ সেনা কর্মকর্তার বিচার হয়। তাদের মধ্যে ১৩ জনের মৃত্যুদণ্ড এবং অন্যদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড হয়। তবে মেজর এস এম খালেদ ও মেজর মোজাফফর পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। ৪৫ বছর ধরে পলাতক ছিলেন তিনি। তবে গত বুধবার রাতে রাজধানীর বনানীর একটি বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করার কথা জানায় পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ। পরদিন বৃহস্পতিবার তাকে ঢাকা সেনানিবাসের মিলিটারি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The government will take the initiative to rebuild Birshrestha Hamidur Rahmans sculpture

বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য নতুন করে নির্মাণের উদ্যোগ নেবে সরকার

বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য নতুন করে নির্মাণের উদ্যোগ নেবে সরকার ছবি: সংগৃহীত

ভেঙে ফেলা বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য নতুন করে নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেছেন, ‘ঝিনাইদহ পৌর এলাকায় বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের অসম্পূর্ণ ভাস্কর্যটি নির্মাণগত ত্রুটির কারণে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্কের বিষয় ছিল। উপযুক্ত স্থানে মুক্তিযুদ্ধের এই বীরের অবয়ব যথাযথভাবে তুলে ধরে নতুন একটি ভাস্কর্য নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সচিবালয়ে নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে ভাস্কর্যটি ভাঙচুরের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘প্রায় ১০ বছর আগে ভাস্কর্যটির নির্মাণকাজ শুরু হলেও তা শেষ হয়নি। এ নিয়ে দুটি প্রধান অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং সেগুলো যৌক্তিক। প্রথমত ভাস্কর্যের আবক্ষ মূর্তির সঙ্গে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের প্রকৃত চেহারার মিল নেই। দ্বিতীয়ত, বেদী অতিরিক্ত উঁচু হওয়ায় সড়কের মোড়টি দুর্ঘটনাপ্রবণ হয়ে উঠেছে।’

ডা. জাহেদ বলেন, ‘জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের প্রকৃত অবয়ব ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে যথাযথভাবে তুলে ধরে আরও মানসম্মত একটি আবক্ষ ভাস্কর্য সুবিধাজনক স্থানে নির্মাণ করা হবে।’

প্রসঙ্গত, ২০১২ সালে ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. সাইদুল করিম মিন্টু পৌরসভার মেয়র থাকাকালে মাগুরা সড়কের চার রাস্তা মোড়ে ‘বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান চত্বর’ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছিল ৩২ লাখ টাকা।

তবে দীর্ঘদিন পর প্রকল্পটির কাজ শুরু হয়। ২০১৬ সালে আংশিক নির্মাণকাজ হলেও সেটি শেষ করা হয়নি। ফলে ভাস্কর্যটির উদ্বোধনও আর হয়নি এবং এটি দীর্ঘদিন অসমাপ্ত অবস্থায় পড়ে ছিল।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ওই দিন বিকেলে শত শত মানুষ ঝিনাইদহ শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় নির্মাণাধীন বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্যে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে। এরপর গত বুধবার থেকে কিছু শ্রমিক আবার ভাস্কর্যটি ভাঙার কাজ শুরু করে।

এ নিয়ে সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। এরই মধ্যে রোববার থেকে ভাস্কর্যটি ভাঙার কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Announcement of closure of CNG filling stations across the country on July 30

৩০ জুলাই সারা দেশে সিএনজি ফিলিং স্টেশন বন্ধের ঘোষণা

৩০ জুলাই সারা দেশে সিএনজি ফিলিং স্টেশন বন্ধের ঘোষণা ছবি: সংগৃহীত

কমপ্রেসড ন্যাচারাল গ্যাস (সিএনজি) বিক্রিতে কমিশন বাড়ানোর দাবিতে আগামী ৩০ জুলাই ভোর ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত দেশজুড়ে সিএনজি ফিলিং স্টেশন বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ সিএনজি ফিলিং স্টেশন অ্যান্ড কনভার্সন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন। দাবি পূরণ না হলে আগামী ২৩ আগস্ট থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য সারা দেশে সিএনজি ফিলিং স্টেশন বন্ধেরও ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাজধানীর বিজয়নগরের আকরাম টাওয়ারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করে সংগঠনটি।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য গঠিত স্টিয়ারিং কমিটির আহ্বায়ক আমিরুজ্জামান চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘আগামী ৩০ জুলাই দেশের সব সিএনজি ফিলিং স্টেশন বন্ধ থাকবে। এর মধ্যে সরকারের সঙ্গে আলোচনা চলবে। দাবি পূরণ না হলে আগামী ২৩ আগস্ট থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য সারা দেশে সিএনজি ফিলিং স্টেশন বন্ধ করে দেওয়া হবে।’

অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা বলেন, ‘২০১৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর প্রতি ঘনমিটার সিএনজি বিক্রিতে ৮ টাকা কমিশন নির্ধারণ করা হয়েছিল। গত ১১ বছরে মূল্যস্ফীতি, শ্রমিকের মজুরি, যন্ত্রাংশের দাম, ব্যাংক কমিশন, সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) জমির ইজারা ফি এবং বিভিন্ন সরকারি লাইসেন্স ফি বহুগুণ বেড়েছে। ফলে বর্তমান কমিশনে ফিলিং স্টেশন পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে।’

তাদের দাবি, প্রতি ঘনমিটারে কমিশন ৮ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৩ টাকা ৯৬ পয়সা নির্ধারণ করতে হবে। অর্থাৎ, বর্তমানে প্রতি ঘনমিটারে কমিশন ৫ টাকা ৯৬ পয়সা বাড়ানোর দাবি জানানো হয়েছে।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়েছে, ভবিষ্যতে গ্যাসের দাম বাড়লে কমিশনও স্বয়ংক্রিয়ভাবে সমন্বয় করতে হবে। গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির কারণে পুরোনো গ্রাহকদের কাছ থেকে নতুন করে জামানত নেওয়া বন্ধ করতে হবে। পাশাপাশি সওজের ইজারা ফি এবং বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের লাইসেন্স ফি যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনার আহ্বান জানানো হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ফারহান নূর বলেন, ‘তারা নতুন করে অতিরিক্ত মুনাফার দাবি করছেন না। সরকারের আগের হিসাব, মূল্যস্ফীতি এবং পরিচালন ব্যয় বিবেচনায় নিয়েই বর্তমান কমিশনের দাবি নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০১৭ সালে গঠিত সরকারি কমিটি সিএনজি ফিলিং স্টেশনের জন্য প্রতি ঘনমিটারে অতিরিক্ত ১ টাকা ৯৮ পয়সা মার্জিনের সুপারিশ করেছিল। সেই সুপারিশকে ভিত্তি ধরে মূল্যস্ফীতি, শ্রমিকের মজুরি ও যন্ত্রাংশের মূল্যবৃদ্ধির হিসাব করলে ২০২৪ সালের শুরুতে এই মার্জিন দাঁড়ায় ৩ টাকা ৭০ পয়সা।

সরকারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, গ্যাসের দামের সঙ্গে আনুপাতিক সমন্বয়ে আরও ৩ টাকা ৩০ পয়সা এবং বিদ্যুতের দাম ৮ দফা বাড়ানোর কারণে ২ টাকা ৪৬ পয়সা যুক্ত হওয়ার কথা। সব মিলিয়ে ২০২৪ সালের শুরুতেই তাদের ন্যায্য দাবি প্রতি ঘনমিটারে ৫ টাকা ১০ পয়সা ছিল বলে জানিয়েছেন ফারহান নূর।

অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আরও বলেন, ‘সর্বশেষ গত জুনে বিদ্যুতের দাম ১৯ শতাংশ বাড়ায় প্রতি ঘনমিটারে খরচ আরও ৮৬ পয়সা বেড়েছে। তবে অন্যান্য পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধি হিসাবের মধ্যে ধরা হয়নি। শুধু সরকারি সুপারিশ, মূল্যস্ফীতি এবং বিদ্যুতের ব্যয় বৃদ্ধির হিসাব বিবেচনায় নিয়েই বর্তমান কমিশন ১৩ টাকা ৯৬ পয়সা নির্ধারণের দাবি জানানো হয়েছে।’

অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা বলেন, ‘এসব দাবি নিয়ে বিইআরসি ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হলেও কোনো ফল মেলেনি। মন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার অনুমতিও পাওয়া যায়নি। তাই বাধ্য হয়ে গত শনিবার জরুরি সাধারণ সভা ডেকে ১২ সদস্যের স্টিয়ারিং কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছে।’

সংবাদ সম্মেলনে অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মনোরঞ্জন ভক্তসহ সংগঠনের অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
A young man named Tuhin Islam was killed after being hit by a bus in Tongi

টঙ্গীতে বাসের ধাক্কায় তুহিন ইসলাম নামে যুবক নিহত

টঙ্গীতে বাসের ধাক্কায় তুহিন ইসলাম নামে যুবক নিহত ছবি: সংগৃহীত

গাজীপুরের টঙ্গীতে যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় তুহিন ইসলাম (৩৪) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছেন অহিদুল ইসলাম নামে আরও এক আরোহী।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দুপুরে টঙ্গীর মুন্নুগেট এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় বাসটিকে জব্দ করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে পলাতক আছেন বাসচালক ও হেলপার।

নিহত তুহিন ইসলাম কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর থানার আন্দালবাড়ি গ্রামের নুর ইসলামের ছেলে। তিনি রাজধানীর মোহাম্মদপুরের ঢাকা উদ্যান এলাকায় বসবাস করতেন। পেশায় তিনি একজন ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে পুলিশ জানায়, দুপুরে গাজীপুর থেকে মোটরসাইকেলযোগে ঢাকা যাচ্ছিলেন তুহিন ইসলাম। টঙ্গীর মুন্নুগেট এলাকায় ঢাকাগামী অনাবিল পরিবহনের একটি বাসের ধাক্কায় গুরুতর আহত হন তিনি। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে টঙ্গীর শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এ বিষয়ে টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, ‘বাসটি জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।’

মন্তব্য

বাংলাদেশ
9 were arrested in a special operation in Mugda police station area of ​​the capital

রাজধানীর মুগদা থানা এলাকায় বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার ৯

রাজধানীর মুগদা থানা এলাকায় বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার ৯ ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর মুগদা থানা এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে মুগদা থানা পুলিশ। সোমবার (২১ জুলাই) অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

ডিএমপির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গতকাল মঙ্গলবার এ তথ্য জানানো হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলো মো. রাব্বি (১৮), মো. সুমন (৩৩), মো. আব্দুল রাব্বি (২৯), মো. প্রান্ত হোসেন (২৪), বাবুল হোসেন ওরফে হৃদয় (২২), মো. শামীম (২৮), মো. সাজ্জাত হোসেন (২৫), সাঈম (২২) ও আব্দুর আজিজ (২৪)।

গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। অপরাধ দমন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
The death penalty for the husband who cut his wifes throat and a fine of lakhs of rupees

স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যা, স্বামীর মৃত্যুদণ্ড ও লাখ টাকা অর্থদণ্ড

স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যা, স্বামীর মৃত্যুদণ্ড ও লাখ টাকা অর্থদণ্ড ছবি: সংগৃহীত

ঢাকার মধ্যবাড্ডা এলাকায় প্রায় ৯ বছর আগে স্ত্রীকে ছুরি দিয়ে জবাই করে হত্যার অভিযোগে করা মামলায় স্বামী মনির হোসেনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ঢাকার ৬ষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. সাদেকীন হাবীব বাপ্পী এ রায় ঘোষণা করেন। মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি তাকে ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে।

জানা যায়, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হলেন মনির হোসেন। আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. আবুল কাশেম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

রায় ঘোষণার সময় আদালত বলেন, ‘আগামী সাত দিনের মধ্যে আসামি এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করতে পারবেন।’

মামলায় মনির হোসেন জামিনে ছিলেন। গত ১৪ জুলাই রায়ের দিন ধার্যের পর (যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে) আদালত জামিন বাতিল করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এদিন রায় ঘোষণার আগে তাকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। রায় শেষে সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাকে আবার কারাগারে পাঠানো হয়েছে। রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট আদালতের অ্যাডিশনাল পাবলিক প্রসিকিউটর মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০০৩ সালে মনির হোসেনের সঙ্গে শাকিলা খাতুন সোমার বিয়ে হয়। তাদের একটি মেয়ে আছে। সাংসারিক জীবনের একপর্যায়ে মনির ও তার পরিবারের সদস্যরা সোমাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতে শুরু করেন। সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে সোমা তা মেনে নেন। মনির ব্যবসার কথা বলে সোমাকে টাকার জন্য চাপ দিতেন। সোমার পরিবার বিভিন্ন সময় তাকে ১১ লাখ টাকা দেয়। কিন্তু আরও টাকার জন্য স্ত্রীকে নির্যাতন করতেন মনির। ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তিনি মারধর করে তাকে বাসা থেকে বের করে দেন। ওই সময় সোমা তার মায়ের বাসা বাড্ডায় চলে যান। আর কখনো এমন করবেন না—এমন প্রতিশ্রুতি দিয়ে সোমাকে কয়েক দিন পর নিয়ে আসেন মনির। কিন্তু আবার নির্যাতন শুরু করেন।

২০১৭ সালের ৬ অক্টোবর দুপুরে টাকা-পয়সা নিয়ে তাদের মধ্যে ঝগড়া বাঁধে। একপর্যায়ে মনির ছুরি দিয়ে সোমাকে গলা কেটে হত্যাচেষ্টা করেন। সোমার আর্তচিৎকারে আশপাশের লোকজন এসে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসক সোমাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় সোমার মা মোসা. আক্তার বানু ওই দিনই বাড্ডা থানায় হত্যা মামলা করেন। গ্রেপ্তার করা হয় মনিরকে। তিনি আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।

মামলার তদন্ত শেষে একই বছরের ৭ ডিসেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন তদন্ত কর্মকর্তা বাড্ডা থানার এসআই বায়েজীদ বোস্তামী। ২০১৮ সালের ১৭ মে মনিরের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। মামলার বিচার চলাকালে আদালত ২০ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৫ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। আসামির আত্মপক্ষ শুনানি, মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) আদালত থেকে আসামির সাজার রায় এলো।

মন্তব্য

p
উপরে