পাবনার ভাঙ্গুড়ার নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান গোলাম হাসনাইন রাসেল ও তার সহযোগী বশির উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেলে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পাবনা ডিবির ওসি রাশিদুল ইসলাম। এর আগে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত সোমবার রাত ৩টার দিকে পাবনা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি দল ঢাকার মিরপুর এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে। রাসেল পাবনা-৩ আসনের আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি মকবুল হোসেনের বড় ছেলে ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। আর তার সহযোগী বশির আহমেদ উপজেলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক ও স্থানীয় এপিক প্রিন্টার্সের মালিক।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গত ১৬ বছর এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল রাসেল ও তার ছোট ভাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ইবনুল হাসান শাকিলসহ প্রভাবশালী কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতা। তাদের ক্ষমতার দাপটে এলাকার সব শ্রেণিপেশার মানুষ ছিলেন অসহায়। সে সময়কার বিরোধী দল বিএনপি-জামায়াতের নেতা-কর্মীদের নামে মিথ্যা ও গায়েবি মামলা দিয়ে হয়রানি করা হতো। এমনকি নিজ দলের একটি অংশকে দল থেকে বিতাড়িত করার মিশন চালিয়েছিলেন তারা।
এ ছাড়া ভাঙ্গুড়া, ফরিদপুর ও চাটমোহর উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়োগ-বাণিজ্য করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে ওই নেতার বিরুদ্ধে।
এরপর ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের পতনের পর জনগণের রোষানল থেকে বাঁচতে রাতের আঁধারে এলাকা থেকে পালিয়ে যান তিনি।
পাবনা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ওসি রাশিদুল ইসলাম বলেন, ‘ঢাকায় গ্রেপ্তারের পর পাবনা ডিবি কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে পাবনা আদালতে পাঠানো হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘উপজেলার অষ্টমনিষা ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয়ের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।’
ছবি: সংগৃহীত
সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার সাবেক সেনা কর্মকর্তা মোজাফফর হোসেনকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকাল ১০টার মধ্যে তাকে হাজির করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে।
বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ মঙ্গলবার (২১ জুলাই) মোজাফফর হোসেনকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ দেন। এই ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো.আমিনুল ইসলামের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। চিফ প্রসিকিউটর ট্রাইব্যুনালে বলেন, ‘আসামি মোজাফফর হোসেন বর্তমানে সেনা হেফাজতে আছেন।’
আদেশে ট্রাইব্যুনাল বলেন, ‘কার্যকর ও যথাযথ তদন্তের স্বার্থে মানবতাবিরোধী অপরাধের এই মামলায় মোজাফফর হোসেনকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা প্রয়োজন।’
১৯৮১ সালের ৩০ মে ভোররাতে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে একদল বিপথগামী সেনা কর্মকর্তা তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে নৃশংসভাবে হত্যা করেন। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান আগের দিন চট্টগ্রামে গিয়েছিলেন দলের স্থানীয় বিরোধ মেটাতে। জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ড নিয়ে প্রকাশিত বিভিন্ন ঐতিহাসিক বর্ণনা, বয়ান বা বইয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮১ সালের ৩০ মে ভোরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে যাওয়া সশস্ত্র সেনা কর্মকর্তাদের একজন ছিলেন মোজাফফর। জিয়াকে হত্যার মুহূর্তে তার কাছেই ছিলেন তিনি। জিয়াউর রহমান হত্যার পর মোজাফফর পালিয়ে যান। তাকে ধরিয়ে দেওয়ার জন্য তখন পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল।
জিয়া হত্যার পর ‘বিদ্রোহের’ অভিযোগে সামরিক আদালতে ১৮ সেনা কর্মকর্তার বিচার হয়। তাদের মধ্যে ১৩ জনের মৃত্যুদণ্ড এবং অন্যদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড হয়। তবে মেজর এস এম খালেদ ও মেজর মোজাফফর পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। ৪৫ বছর ধরে পলাতক ছিলেন তিনি। তবে গত বুধবার রাতে রাজধানীর বনানীর একটি বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করার কথা জানায় পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ। পরদিন বৃহস্পতিবার তাকে ঢাকা সেনানিবাসের মিলিটারি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
ছবি: সংগৃহীত
ভেঙে ফেলা বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য নতুন করে নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেছেন, ‘ঝিনাইদহ পৌর এলাকায় বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের অসম্পূর্ণ ভাস্কর্যটি নির্মাণগত ত্রুটির কারণে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্কের বিষয় ছিল। উপযুক্ত স্থানে মুক্তিযুদ্ধের এই বীরের অবয়ব যথাযথভাবে তুলে ধরে নতুন একটি ভাস্কর্য নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সচিবালয়ে নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে ভাস্কর্যটি ভাঙচুরের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘প্রায় ১০ বছর আগে ভাস্কর্যটির নির্মাণকাজ শুরু হলেও তা শেষ হয়নি। এ নিয়ে দুটি প্রধান অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং সেগুলো যৌক্তিক। প্রথমত ভাস্কর্যের আবক্ষ মূর্তির সঙ্গে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের প্রকৃত চেহারার মিল নেই। দ্বিতীয়ত, বেদী অতিরিক্ত উঁচু হওয়ায় সড়কের মোড়টি দুর্ঘটনাপ্রবণ হয়ে উঠেছে।’
ডা. জাহেদ বলেন, ‘জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের প্রকৃত অবয়ব ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে যথাযথভাবে তুলে ধরে আরও মানসম্মত একটি আবক্ষ ভাস্কর্য সুবিধাজনক স্থানে নির্মাণ করা হবে।’
প্রসঙ্গত, ২০১২ সালে ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. সাইদুল করিম মিন্টু পৌরসভার মেয়র থাকাকালে মাগুরা সড়কের চার রাস্তা মোড়ে ‘বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান চত্বর’ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছিল ৩২ লাখ টাকা।
তবে দীর্ঘদিন পর প্রকল্পটির কাজ শুরু হয়। ২০১৬ সালে আংশিক নির্মাণকাজ হলেও সেটি শেষ করা হয়নি। ফলে ভাস্কর্যটির উদ্বোধনও আর হয়নি এবং এটি দীর্ঘদিন অসমাপ্ত অবস্থায় পড়ে ছিল।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ওই দিন বিকেলে শত শত মানুষ ঝিনাইদহ শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় নির্মাণাধীন বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্যে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে। এরপর গত বুধবার থেকে কিছু শ্রমিক আবার ভাস্কর্যটি ভাঙার কাজ শুরু করে।
এ নিয়ে সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। এরই মধ্যে রোববার থেকে ভাস্কর্যটি ভাঙার কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে।
ছবি: সংগৃহীত
কমপ্রেসড ন্যাচারাল গ্যাস (সিএনজি) বিক্রিতে কমিশন বাড়ানোর দাবিতে আগামী ৩০ জুলাই ভোর ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত দেশজুড়ে সিএনজি ফিলিং স্টেশন বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ সিএনজি ফিলিং স্টেশন অ্যান্ড কনভার্সন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন। দাবি পূরণ না হলে আগামী ২৩ আগস্ট থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য সারা দেশে সিএনজি ফিলিং স্টেশন বন্ধেরও ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাজধানীর বিজয়নগরের আকরাম টাওয়ারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করে সংগঠনটি।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য গঠিত স্টিয়ারিং কমিটির আহ্বায়ক আমিরুজ্জামান চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘আগামী ৩০ জুলাই দেশের সব সিএনজি ফিলিং স্টেশন বন্ধ থাকবে। এর মধ্যে সরকারের সঙ্গে আলোচনা চলবে। দাবি পূরণ না হলে আগামী ২৩ আগস্ট থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য সারা দেশে সিএনজি ফিলিং স্টেশন বন্ধ করে দেওয়া হবে।’
অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা বলেন, ‘২০১৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর প্রতি ঘনমিটার সিএনজি বিক্রিতে ৮ টাকা কমিশন নির্ধারণ করা হয়েছিল। গত ১১ বছরে মূল্যস্ফীতি, শ্রমিকের মজুরি, যন্ত্রাংশের দাম, ব্যাংক কমিশন, সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) জমির ইজারা ফি এবং বিভিন্ন সরকারি লাইসেন্স ফি বহুগুণ বেড়েছে। ফলে বর্তমান কমিশনে ফিলিং স্টেশন পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে।’
তাদের দাবি, প্রতি ঘনমিটারে কমিশন ৮ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৩ টাকা ৯৬ পয়সা নির্ধারণ করতে হবে। অর্থাৎ, বর্তমানে প্রতি ঘনমিটারে কমিশন ৫ টাকা ৯৬ পয়সা বাড়ানোর দাবি জানানো হয়েছে।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়েছে, ভবিষ্যতে গ্যাসের দাম বাড়লে কমিশনও স্বয়ংক্রিয়ভাবে সমন্বয় করতে হবে। গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির কারণে পুরোনো গ্রাহকদের কাছ থেকে নতুন করে জামানত নেওয়া বন্ধ করতে হবে। পাশাপাশি সওজের ইজারা ফি এবং বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের লাইসেন্স ফি যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ফারহান নূর বলেন, ‘তারা নতুন করে অতিরিক্ত মুনাফার দাবি করছেন না। সরকারের আগের হিসাব, মূল্যস্ফীতি এবং পরিচালন ব্যয় বিবেচনায় নিয়েই বর্তমান কমিশনের দাবি নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০১৭ সালে গঠিত সরকারি কমিটি সিএনজি ফিলিং স্টেশনের জন্য প্রতি ঘনমিটারে অতিরিক্ত ১ টাকা ৯৮ পয়সা মার্জিনের সুপারিশ করেছিল। সেই সুপারিশকে ভিত্তি ধরে মূল্যস্ফীতি, শ্রমিকের মজুরি ও যন্ত্রাংশের মূল্যবৃদ্ধির হিসাব করলে ২০২৪ সালের শুরুতে এই মার্জিন দাঁড়ায় ৩ টাকা ৭০ পয়সা।
সরকারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, গ্যাসের দামের সঙ্গে আনুপাতিক সমন্বয়ে আরও ৩ টাকা ৩০ পয়সা এবং বিদ্যুতের দাম ৮ দফা বাড়ানোর কারণে ২ টাকা ৪৬ পয়সা যুক্ত হওয়ার কথা। সব মিলিয়ে ২০২৪ সালের শুরুতেই তাদের ন্যায্য দাবি প্রতি ঘনমিটারে ৫ টাকা ১০ পয়সা ছিল বলে জানিয়েছেন ফারহান নূর।
অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আরও বলেন, ‘সর্বশেষ গত জুনে বিদ্যুতের দাম ১৯ শতাংশ বাড়ায় প্রতি ঘনমিটারে খরচ আরও ৮৬ পয়সা বেড়েছে। তবে অন্যান্য পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধি হিসাবের মধ্যে ধরা হয়নি। শুধু সরকারি সুপারিশ, মূল্যস্ফীতি এবং বিদ্যুতের ব্যয় বৃদ্ধির হিসাব বিবেচনায় নিয়েই বর্তমান কমিশন ১৩ টাকা ৯৬ পয়সা নির্ধারণের দাবি জানানো হয়েছে।’
অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা বলেন, ‘এসব দাবি নিয়ে বিইআরসি ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হলেও কোনো ফল মেলেনি। মন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার অনুমতিও পাওয়া যায়নি। তাই বাধ্য হয়ে গত শনিবার জরুরি সাধারণ সভা ডেকে ১২ সদস্যের স্টিয়ারিং কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছে।’
সংবাদ সম্মেলনে অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মনোরঞ্জন ভক্তসহ সংগঠনের অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
ছবি: সংগৃহীত
গাজীপুরের টঙ্গীতে যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় তুহিন ইসলাম (৩৪) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছেন অহিদুল ইসলাম নামে আরও এক আরোহী।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দুপুরে টঙ্গীর মুন্নুগেট এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় বাসটিকে জব্দ করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে পলাতক আছেন বাসচালক ও হেলপার।
নিহত তুহিন ইসলাম কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর থানার আন্দালবাড়ি গ্রামের নুর ইসলামের ছেলে। তিনি রাজধানীর মোহাম্মদপুরের ঢাকা উদ্যান এলাকায় বসবাস করতেন। পেশায় তিনি একজন ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে পুলিশ জানায়, দুপুরে গাজীপুর থেকে মোটরসাইকেলযোগে ঢাকা যাচ্ছিলেন তুহিন ইসলাম। টঙ্গীর মুন্নুগেট এলাকায় ঢাকাগামী অনাবিল পরিবহনের একটি বাসের ধাক্কায় গুরুতর আহত হন তিনি। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে টঙ্গীর শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এ বিষয়ে টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, ‘বাসটি জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।’
ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর মুগদা থানা এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে মুগদা থানা পুলিশ। সোমবার (২১ জুলাই) অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
ডিএমপির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গতকাল মঙ্গলবার এ তথ্য জানানো হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলো মো. রাব্বি (১৮), মো. সুমন (৩৩), মো. আব্দুল রাব্বি (২৯), মো. প্রান্ত হোসেন (২৪), বাবুল হোসেন ওরফে হৃদয় (২২), মো. শামীম (২৮), মো. সাজ্জাত হোসেন (২৫), সাঈম (২২) ও আব্দুর আজিজ (২৪)।
গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। অপরাধ দমন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ছবি: সংগৃহীত
ঢাকার মধ্যবাড্ডা এলাকায় প্রায় ৯ বছর আগে স্ত্রীকে ছুরি দিয়ে জবাই করে হত্যার অভিযোগে করা মামলায় স্বামী মনির হোসেনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ঢাকার ৬ষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. সাদেকীন হাবীব বাপ্পী এ রায় ঘোষণা করেন। মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি তাকে ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে।
জানা যায়, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হলেন মনির হোসেন। আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. আবুল কাশেম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
রায় ঘোষণার সময় আদালত বলেন, ‘আগামী সাত দিনের মধ্যে আসামি এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করতে পারবেন।’
মামলায় মনির হোসেন জামিনে ছিলেন। গত ১৪ জুলাই রায়ের দিন ধার্যের পর (যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে) আদালত জামিন বাতিল করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
এদিন রায় ঘোষণার আগে তাকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। রায় শেষে সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাকে আবার কারাগারে পাঠানো হয়েছে। রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট আদালতের অ্যাডিশনাল পাবলিক প্রসিকিউটর মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০০৩ সালে মনির হোসেনের সঙ্গে শাকিলা খাতুন সোমার বিয়ে হয়। তাদের একটি মেয়ে আছে। সাংসারিক জীবনের একপর্যায়ে মনির ও তার পরিবারের সদস্যরা সোমাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতে শুরু করেন। সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে সোমা তা মেনে নেন। মনির ব্যবসার কথা বলে সোমাকে টাকার জন্য চাপ দিতেন। সোমার পরিবার বিভিন্ন সময় তাকে ১১ লাখ টাকা দেয়। কিন্তু আরও টাকার জন্য স্ত্রীকে নির্যাতন করতেন মনির। ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তিনি মারধর করে তাকে বাসা থেকে বের করে দেন। ওই সময় সোমা তার মায়ের বাসা বাড্ডায় চলে যান। আর কখনো এমন করবেন না—এমন প্রতিশ্রুতি দিয়ে সোমাকে কয়েক দিন পর নিয়ে আসেন মনির। কিন্তু আবার নির্যাতন শুরু করেন।
২০১৭ সালের ৬ অক্টোবর দুপুরে টাকা-পয়সা নিয়ে তাদের মধ্যে ঝগড়া বাঁধে। একপর্যায়ে মনির ছুরি দিয়ে সোমাকে গলা কেটে হত্যাচেষ্টা করেন। সোমার আর্তচিৎকারে আশপাশের লোকজন এসে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসক সোমাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় সোমার মা মোসা. আক্তার বানু ওই দিনই বাড্ডা থানায় হত্যা মামলা করেন। গ্রেপ্তার করা হয় মনিরকে। তিনি আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।
মামলার তদন্ত শেষে একই বছরের ৭ ডিসেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন তদন্ত কর্মকর্তা বাড্ডা থানার এসআই বায়েজীদ বোস্তামী। ২০১৮ সালের ১৭ মে মনিরের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। মামলার বিচার চলাকালে আদালত ২০ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৫ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। আসামির আত্মপক্ষ শুনানি, মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) আদালত থেকে আসামির সাজার রায় এলো।
ছবি: সংগৃহীত
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, ‘প্রাথমিক শিক্ষায় ভ্যালু-বেইজড (মূল্যবোধভিত্তিক) শিক্ষা, ডিজিটাল নিরাপত্তা, লাইফ স্কিল, জেন্ডার সংবেদনশীলতা ও নাগরিক মূল্যবোধকে নতুন কারিকুলামের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।’ একই সঙ্গে তিনি শিশুদের প্রযুক্তি থেকে দূরে না রেখে নিরাপদ ও দায়িত্বশীল ব্যবহার শেখানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাজধানীর গুলশানের হোটেল লেকশোরে বিবিসি মিডিয়া অ্যাকশন আয়োজিত ‘ডিজিটাল জেন্ডার নরমস: জাতীয় শিখন-অভিজ্ঞতা বিনিময়’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘প্রযুক্তির অগ্রযাত্রা থামবে না। তাই শিশু-কিশোরদের ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করতে নিরাপদ ও ইতিবাচকভাবে প্রযুক্তি ব্যবহারের সক্ষমতা গড়ে তুলতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ইন্টারনেট বন্ধ করেও জনগণের কণ্ঠ রোধ করা সম্ভব হয়নি। সেই অভিজ্ঞতা প্রমাণ করেছে, ডিজিটাল মাধ্যম এখন সমাজ ও রাষ্ট্রের অবিচ্ছেদ্য অংশ।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশের সঙ্গে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের ব্যবধান তৈরি হয়েছে। এ ব্যবধান দূর করতে শিক্ষা, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।’ পাশাপাশি শিশু-কিশোরদের তথ্য যাচাই, অনলাইন নৈতিকতা ও নিরাপদ ডিজিটাল আচরণ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া ছবি, ভুয়া ভিডিও, চরিত্রহনন ও ডিজিটাল হয়রানি উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিশেষ করে নারী, কিশোরী ও নারী রাজনীতিবিদরা এসবের বড় শিকার। তাই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে জবাবদিহিতা নিশ্চিত এবং শিশু ও নারীদের সুরক্ষায় কার্যকর আইন ও নীতিমালা বাস্তবায়ন প্রয়োজন।’
প্রতিমন্ত্রী জানান, নতুন শিক্ষাব্যবস্থায় ধাপে ধাপে শ্রেণিকক্ষে ইন্টারঅ্যাকটিভ ডিজিটাল ব্যবস্থা চালু, শিক্ষকদের জন্য ট্যাব সরবরাহ এবং ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষাবান্ধব ডিজিটাল ডিভাইস প্রদানের পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কমিউনিটি সম্পৃক্ততা বাড়াতে স্কুল-মিল কার্যক্রম তদারকির জন্য অভিভাবক কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষাব্যবস্থার বিভিন্ন কার্যক্রমে অভিভাবক ও স্থানীয় জনগণকে আরও সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।’
অনুষ্ঠানে বিবিসি মিডিয়া অ্যাকশন, ইউএন উইমেন, প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল, জাগো ফাউন্ডেশনসহ বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধি, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য