হেমায়েতপুর-সিংগাইর-মানিকগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের মেদুলিয়া ডাবল ব্রীজ এলাকায় ট্রাক-সিএনজি মুখোমুখি সংঘর্ষে এক যাত্রী নিহত হয়েছে। আরো ৩ জন আহত হয়েছেন।
ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকাল ৮ টার দিকে হেমায়েতপুর- সিংগাইর-মানিকগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের উপজেলার ধল্লা ইউনিয়নের মেদুলিয়া ডাবল ব্রীজ এলাকার সড়কে।
স্থানীয়রা জানান, সাভার উপজেলার হেমায়েতপুর থেকে ছেড়ে আসা একটি সিএনজি মেদুলিয়া ডাবল ব্রীজ এলাকায় পৌছালে বিপরীত দিকে আসা ঢাকাগামী একটি ট্রাকের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে সিএনজি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। সিএনজি'র অজ্ঞাতনামা এক যাত্রী ঘটনাস্থলে তার মৃত্যু হয়। অপর ৩ যাত্রী গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে আহতদের উদ্ধার করে সিংগাইর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। পরে থানা পুলিশ খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল পৌছে নিহতের লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
পুলিশ সূত্র জানায়, নিহত ব্যক্তির কাছ থেকে একটি জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) উদ্ধার করা হয়েছে। পরিচয়পত্রে তার নাম মো. রফিকুল ইসলাম এবং ঠিকানা টাঙ্গাইল সদর উপজেলার খোর্দ্দযোগিনী উল্লেখ থাকলেও প্রাথমিক অনুসন্ধানে ওই পরিচয়পত্রের তথ্যের সঙ্গে নিহত ব্যক্তির পরিচয়ের মিল পাওয়া যায়নি। ফলে তার প্রকৃত পরিচয় নিশ্চিত করতে তদন্ত চলছে। দুর্ঘটনার পর ট্রাকচালক ট্রাকটি নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পলাতক ট্রাক ও চালককে শনাক্ত করে আটকের চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।
সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাজহারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, নিহত ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিতের চেষ্টা চলছে। আহতরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। একই সঙ্গে পালিয়ে যাওয়া ট্রাক ও চালককে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানান তিনি।
ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর মুগদা থানা এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে মুগদা থানা পুলিশ। সোমবার (২১ জুলাই) অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
ডিএমপির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গতকাল মঙ্গলবার এ তথ্য জানানো হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলো মো. রাব্বি (১৮), মো. সুমন (৩৩), মো. আব্দুল রাব্বি (২৯), মো. প্রান্ত হোসেন (২৪), বাবুল হোসেন ওরফে হৃদয় (২২), মো. শামীম (২৮), মো. সাজ্জাত হোসেন (২৫), সাঈম (২২) ও আব্দুর আজিজ (২৪)।
গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। অপরাধ দমন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ছবি: সংগৃহীত
ঢাকার মধ্যবাড্ডা এলাকায় প্রায় ৯ বছর আগে স্ত্রীকে ছুরি দিয়ে জবাই করে হত্যার অভিযোগে করা মামলায় স্বামী মনির হোসেনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ঢাকার ৬ষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. সাদেকীন হাবীব বাপ্পী এ রায় ঘোষণা করেন। মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি তাকে ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে।
জানা যায়, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হলেন মনির হোসেন। আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. আবুল কাশেম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
রায় ঘোষণার সময় আদালত বলেন, ‘আগামী সাত দিনের মধ্যে আসামি এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করতে পারবেন।’
মামলায় মনির হোসেন জামিনে ছিলেন। গত ১৪ জুলাই রায়ের দিন ধার্যের পর (যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে) আদালত জামিন বাতিল করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
এদিন রায় ঘোষণার আগে তাকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। রায় শেষে সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাকে আবার কারাগারে পাঠানো হয়েছে। রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট আদালতের অ্যাডিশনাল পাবলিক প্রসিকিউটর মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০০৩ সালে মনির হোসেনের সঙ্গে শাকিলা খাতুন সোমার বিয়ে হয়। তাদের একটি মেয়ে আছে। সাংসারিক জীবনের একপর্যায়ে মনির ও তার পরিবারের সদস্যরা সোমাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতে শুরু করেন। সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে সোমা তা মেনে নেন। মনির ব্যবসার কথা বলে সোমাকে টাকার জন্য চাপ দিতেন। সোমার পরিবার বিভিন্ন সময় তাকে ১১ লাখ টাকা দেয়। কিন্তু আরও টাকার জন্য স্ত্রীকে নির্যাতন করতেন মনির। ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তিনি মারধর করে তাকে বাসা থেকে বের করে দেন। ওই সময় সোমা তার মায়ের বাসা বাড্ডায় চলে যান। আর কখনো এমন করবেন না—এমন প্রতিশ্রুতি দিয়ে সোমাকে কয়েক দিন পর নিয়ে আসেন মনির। কিন্তু আবার নির্যাতন শুরু করেন।
২০১৭ সালের ৬ অক্টোবর দুপুরে টাকা-পয়সা নিয়ে তাদের মধ্যে ঝগড়া বাঁধে। একপর্যায়ে মনির ছুরি দিয়ে সোমাকে গলা কেটে হত্যাচেষ্টা করেন। সোমার আর্তচিৎকারে আশপাশের লোকজন এসে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসক সোমাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় সোমার মা মোসা. আক্তার বানু ওই দিনই বাড্ডা থানায় হত্যা মামলা করেন। গ্রেপ্তার করা হয় মনিরকে। তিনি আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।
মামলার তদন্ত শেষে একই বছরের ৭ ডিসেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন তদন্ত কর্মকর্তা বাড্ডা থানার এসআই বায়েজীদ বোস্তামী। ২০১৮ সালের ১৭ মে মনিরের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। মামলার বিচার চলাকালে আদালত ২০ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৫ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। আসামির আত্মপক্ষ শুনানি, মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) আদালত থেকে আসামির সাজার রায় এলো।
ছবি: সংগৃহীত
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, ‘প্রাথমিক শিক্ষায় ভ্যালু-বেইজড (মূল্যবোধভিত্তিক) শিক্ষা, ডিজিটাল নিরাপত্তা, লাইফ স্কিল, জেন্ডার সংবেদনশীলতা ও নাগরিক মূল্যবোধকে নতুন কারিকুলামের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।’ একই সঙ্গে তিনি শিশুদের প্রযুক্তি থেকে দূরে না রেখে নিরাপদ ও দায়িত্বশীল ব্যবহার শেখানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাজধানীর গুলশানের হোটেল লেকশোরে বিবিসি মিডিয়া অ্যাকশন আয়োজিত ‘ডিজিটাল জেন্ডার নরমস: জাতীয় শিখন-অভিজ্ঞতা বিনিময়’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘প্রযুক্তির অগ্রযাত্রা থামবে না। তাই শিশু-কিশোরদের ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করতে নিরাপদ ও ইতিবাচকভাবে প্রযুক্তি ব্যবহারের সক্ষমতা গড়ে তুলতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ইন্টারনেট বন্ধ করেও জনগণের কণ্ঠ রোধ করা সম্ভব হয়নি। সেই অভিজ্ঞতা প্রমাণ করেছে, ডিজিটাল মাধ্যম এখন সমাজ ও রাষ্ট্রের অবিচ্ছেদ্য অংশ।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশের সঙ্গে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের ব্যবধান তৈরি হয়েছে। এ ব্যবধান দূর করতে শিক্ষা, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।’ পাশাপাশি শিশু-কিশোরদের তথ্য যাচাই, অনলাইন নৈতিকতা ও নিরাপদ ডিজিটাল আচরণ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া ছবি, ভুয়া ভিডিও, চরিত্রহনন ও ডিজিটাল হয়রানি উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিশেষ করে নারী, কিশোরী ও নারী রাজনীতিবিদরা এসবের বড় শিকার। তাই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে জবাবদিহিতা নিশ্চিত এবং শিশু ও নারীদের সুরক্ষায় কার্যকর আইন ও নীতিমালা বাস্তবায়ন প্রয়োজন।’
প্রতিমন্ত্রী জানান, নতুন শিক্ষাব্যবস্থায় ধাপে ধাপে শ্রেণিকক্ষে ইন্টারঅ্যাকটিভ ডিজিটাল ব্যবস্থা চালু, শিক্ষকদের জন্য ট্যাব সরবরাহ এবং ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষাবান্ধব ডিজিটাল ডিভাইস প্রদানের পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কমিউনিটি সম্পৃক্ততা বাড়াতে স্কুল-মিল কার্যক্রম তদারকির জন্য অভিভাবক কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষাব্যবস্থার বিভিন্ন কার্যক্রমে অভিভাবক ও স্থানীয় জনগণকে আরও সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।’
অনুষ্ঠানে বিবিসি মিডিয়া অ্যাকশন, ইউএন উইমেন, প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল, জাগো ফাউন্ডেশনসহ বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধি, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
ছবি: সংগৃহীত
মাদারীপুরের বিভিন্ন মাছের বাজারে অতি মুনাফার লোভে এখন হরহামেশা কেমিক্যাল মিশ্রিত চাষ করা শিং মাছ হলুদ রঙের বানিয়ে দেশি শিং মাছ বলে বিক্রি করছেন কিছু অসাধু মাছ ব্যবসায়ী। এতে ক্যান্সার ও কিডনি ড্যামেজ হওয়াসহ দুরারোগ্য নানা জটিল রোগের আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দুপুরে মাদারীপুরের প্রসিদ্ধ ইটেরপুল মাছ বাজারে সরেজমিনে দেখা যায় ওই বাজারের বেশ কয়েকজন মাছ বিক্রেতা এই ধরনের শিং মাছ বিক্রি করছেন। এ ব্যাপারে ওই বাজারে খুচরা বিক্রেতা মো. শহীদ মিয়ার কাছে জানতে চাইলে তিনি ভিডিও সাক্ষাৎকারে তা অকপটে স্বীকার করে বলেন, ‘আমরা খুচরা মাছ বিক্রেতা, মাদারীপুরের বৃহত্তর মস্তফাপুর মাছের আড়ত থেকে এই শিং মাছসহ অন্যান্য মাছ পাইকারি ক্রয় করে এখানের বাজারে এনে খুচরা বিক্রি করি।’ তিনি আরও বলেন, ‘সেখানকার আড়তদাররা ময়মনসিংহসহ দেশের বিভিন্ন আড়ত থেকে চাষ করা শিং মাছ প্লাস্টিকের ড্রামে করে মস্তফাপুর আড়তে এনে বিক্রি করেন, মূলত মস্তফাপুর আড়ত থেকেই মাছ হলুদ করার কেমিক্যাল ড্রামের পানির মধ্যে ছেড়ে দেওয়া হয় এবং মাছগুলো ওই ড্রামের পানি খেয়েই হলুদ আকার ধারণ করে।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেক ক্রেতা বলেন, ‘চাষের শিং মাছের দাম কম, আর দেশি শিং মাছের দাম অনেক বেশি। তাই অসাধু মাছ বিক্রেতারা ক্রেতাদের ঠকিয়ে বেশি দামে বিক্রির জন্যই এমন অনৈতিক, বেআইনি ও কেমিক্যাল মিশ্রিত করে তা বিক্রি করছেন, যা স্বাস্থ্যের জন্য ভয়ানক ক্ষতিকর হবে নিঃসন্দেহে।’ তারা এ ব্যাপারে মাদারীপুর জেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ভোক্তা অধিকার কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছেন।
ছবি: সংগৃহীত
কয়েকদিন আগেও মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে ছিল ফসল ও সবজি ক্ষেতের সবুজ সমারোহ। আউশ ধান, আমনের বীজতলা আর মৌসুমি সবজির ফলন দেখে কৃষকের মুখে ছিল স্বস্তির হাসি। ব্যাংক ঋণ ও ধারদেনা করে ফলানো সেই ফসল ঘরে তুলে ঋণ শোধের পাশাপাশি পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর স্বপ্ন ছিল তাদের। তবে আকস্মিক বন্যা মুহূর্তেই সব স্বপ্ন তছনছ করে দিয়েছে।
বন্যার পানি নেমে গেলেও রেখে গেছে শুধুই কাদামাটিতে চাপা পড়ে থাকা কৃষকের ঘাম, শ্রম ও নিঃশ্বাসের নির্মম চিহ্ন। বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এখন ক্ষতবিক্ষত জমি আর হতাশ কৃষকের দীর্ঘশ্বাস। তবুও বুকভরা কষ্ট চেপে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর সংগ্রামে মাঠে নেমেছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা।
সাম্প্রতিক এ বন্যায় উপজেলার আউশ ধান, আমনের বীজতলা ও মৌসুমি সবজি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক জমিতে বানের সঙ্গে ভেসে আসা পলি ও বালু জমে থাকায় নতুন করে আবাদ শুরু করতে অতিরিক্ত খরচ গুণতে হচ্ছে। তবুও ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে কেউ বীজতলা প্রস্তুত করছেন, কেউ জমি পরিষ্কার করছেন, আবার কেউবা রোপা আমনের জন্য জমি তৈরি করছেন। তাদের একটাই লক্ষ্য—আমন মৌসুমের মাধ্যমে অন্তত আউশের ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নেওয়া।
জানা গেছে, সাম্প্রতিক বন্যায় উপজেলায় প্রায় ৭০ হেক্টর আউশ ধানের জমি, ৩০ হেক্টর আমনের বীজতলা এবং ২৬ হেক্টর সবজি ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
উপজেলার মখাবিল এলাকার টমেটো চাষি আব্দুর রহিম আকুতি জানিয়ে বলেন, ‘ঋণ করে দুই কিয়ার জমিতে টমেটো চাষ করেছিলাম। বানের পানিতে সব শেষ হয়ে গেছে। ঋণের টাকা কীভাবে পরিশোধ করব, সেই চিন্তায় রাতে ঘুম আসে না।’
পতনউষার ইউনিয়ন এলাকার কৃষক শাহাজাহান মিয়া বলেন, ‘আমাদের এলাকা সরাসরি নদীভাঙনের শিকার না হলেও নিচু হওয়ায় ধানের জমি তলিয়ে ছিল। এখন ফসল আদৌ হবে কি না, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।’
বীজতলা হারানো কৃষক রাজ্জাক মিয়া আক্ষেপ করে বলেন, ‘বানের পানিতে আমার আমনের বীজতলা পুরো নষ্ট হয়ে গেছে। এখন কীভাবে রোপা আমনের আবাদ করব বুঝতে পারছি না।’
কৃষক জাহাঙ্গীর মিয়া ক্ষোভ ও কষ্টে বলেন, ‘ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে টমেটো চাষ করেছিলাম। এখন সংসার চালানো আর ঋণ শোধ করা নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছি।’
এ বিষয়ে কমলগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার রায় জানান, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা ও ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহের কাজ দ্রুতগতিতে চলছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলমান রয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে যত দ্রুত সম্ভব ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে বীজ ও সারসহ প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ বিতরণের ব্যবস্থা করা হবে।’
বন্যার আঘাতে স্বপ্ন চুরমার হলেও থেমে নেই কমলগঞ্জের কৃষকরা। ক্ষতি সামলে নতুন আশায় ও উদ্যমে আবারও মাঠে ফিরেছেন তারা।
ছবি: সংগৃহীত
জামায়াতে ইসলামীর নেতা ও সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের ফাঁস হওয়া অন্তরঙ্গ ভিডিও এবং ব্যক্তিগত মুহূর্তের দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনার তীব্র সমালোচনা করেছেন দেশের আলোচিত ইসলামী বক্তা মাওলানা রফিক উল্লাহ আফসারী। একই সঙ্গে তিনি এমপি গাজী নজরুল ইসলামকে প্রয়োজনে আরও দুই বিয়ে করার পরামর্শ দিয়েছেন।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশ পেয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হওয়ার পর মঙ্গলবার (২১ জুলাই) নিজস্ব ভিডিও বার্তায় তিনি এই মন্তব্য করেন।
উক্ত ভিডিও বার্তায় মাওলানা রফিক উল্লাহ আফসারী বলেন, তাঁর সম্মানিত ভাই গাজী নজরুল ইসলামের উচিত আরও দুটি বিয়ে করা, কারণ ইসলামে এটি একটি সম্পূর্ণ হালাল বিষয় এবং এতে লজ্জার কিছু নেই। যারা অন্যায়ভাবে স্বামী-স্ত্রীর গোপন ও পবিত্র মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করে সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল করছে, তাদের একদিন নিশ্চয়ই পরকালে আল্লাহর দরবারে জবাবদিহি করতে হবে। ইসলামের সাহাবিদের বৈবাহিক ও পারিবারিক জীবনের নানা ইতিবাচক উদাহরণ টেনে তিনি আরও স্মরণ করিয়ে দেন যে, দাম্পত্য জীবনে পারস্পরিক ভালোবাসা ও আন্তরিকতা ইসলামেরই স্বাভাবিক সৌন্দর্য এবং বিবাহ একটি অত্যন্ত পবিত্র বন্ধন। ফলে স্বামী-স্ত্রীর অতি ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে জনসম্মুখে ছড়িয়ে দিয়ে কাউকে সামাজিকভাবে হেয় করা কিংবা পরিবারকে বিব্রত করা কোনোভাবেই সুস্থ মানসিকতার পরিচায়ক নয়।
এমপি গাজী নজরুল ইসলামের প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করে এবং তাঁর ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি আরও বলেন, সাতক্ষীরা শহরের সম্মানিত এমপি গাজী নজরুল ইসলাম দ্বীনের একজন অতন্দ্র প্রহরী এবং কোটি কোটি মুসলমানের ভালোবাসার পাত্র। তাঁদের একান্ত স্বামী-স্ত্রীর ব্যক্তিগত ভিডিও ভাইরাল করে সমাজ বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ঠিক কী ধরনের শান্তি পেলেন, তা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন।
একই সাথে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, বিষয়টি এমনভাবে বড় করে উপস্থাপন করা হচ্ছে যেন কোনো মারাত্মক অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। অনৈতিকভাবে এই ধরনের ব্যক্তিগত তথ্য বা ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার সাথে জড়িতদের পরকালে আল্লাহর কঠিন বিচারের সম্মুখীন হতে হবে বলে এই বক্তা হুশিয়ার করেন।
উল্লেখ্য, গত সোমবার (২০ জুলাই) রাতে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের একটি ঘরোয়া ও অন্তরঙ্গ ভিডিও ক্লিপ হঠাৎ করেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা দেশজুড়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে চরম আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ছবি: সংগৃহীত
রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পুলিশের সাইবার ক্রাইম মনিটরিং সেলের সফল প্রচেষ্টায় তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় উদ্ধার করা হয়েছে হারিয়ে যাওয়া ৪৭টি মোবাইল ফোন। উদ্ধারকৃত মোবাইল ফোনগুলো মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রকৃত মালিকদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব। তিনি বলেন, ‘জনসেবার মান উন্নয়নে এবং অপরাধ দমনে প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশিংকে আরও কার্যকর করতে জেলা পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।’
পুলিশ সূত্র জানা গেছে, রাঙামাটি জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে হারিয়ে যাওয়া মোবাইল ফোনগুলো তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে শনাক্ত ও উদ্ধার করে জেলা পুলিশের সাইবার ক্রাইম মনিটরিং সেল।
অনুষ্ঠানে মোবাইল ফোন ফিরে পেয়ে ভুক্তভোগীরা সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং পুলিশ সুপারসহ রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পুলিশের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. ইকবাল হোছাইন, সাইবার ক্রাইম মনিটরিং সেলের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং সেলের অন্যান্য সদস্যরা।
রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পুলিশ জানিয়েছে, জনসেবায় সর্বদা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থেকে প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশিংয়ের মাধ্যমে নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাদের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
মন্তব্য