ঢাকা মহানগরের যানজট নিরসনে আগামী ছয় মাসের মধ্যে ১২০টি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে সেমি-অটোমেটিক ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থা চালুর মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। বর্তমানে ১২টি পয়েন্টে এই প্রযুক্তি চালু থাকলেও আগামী এক মাসের মধ্যে এর পরিধি ৬০টি মোড় ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেছে ট্রাফিক বিভাগ। প্রযুক্তিনির্ভর এই ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি যানজট কমাতে গত এক বছরে শহরের ৭৫টি স্থানে রাস্তার নকশা ও চলাচলের পথে কৌশলগত পরিবর্তন আনা হয়েছে। ভবিষ্যতে জিপিএস ভিত্তিক নজরদারির মাধ্যমে রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থাকে আরও উন্নত করার লক্ষ্য রয়েছে ডিএমপির।
ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) আনিছুর রহমান রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই আধুনিকায়ন পরিকল্পনার বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি জনবল সংকট ও কর্মঘণ্টার হিসাব দিয়ে বলেন, "বর্তমানে ডিএমপি ট্রাফিকে প্রায় ৪ হাজার ১০০ সদস্য কর্মরত রয়েছেন। তবে ছুটি, প্রশিক্ষণ ও অসুস্থতার কারণে প্রায় ৩ হাজার ৬০০ থেকে ৩ হাজার ৭০০ সদস্য রাজধানীর ৬৬৮টি ট্রাফিক পয়েন্টে দায়িত্ব পালন করেন।" এর মধ্যে প্রায় ২৫টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে বিরতিহীনভাবে তিন পালায় দায়িত্ব পালন করতে হয় এবং বাকি পয়েন্টগুলোতে দুই পালায় ডিউটি চলে বলে তিনি জানান।
সীমিত জনবল দিয়ে মেগাসিটির ট্রাফিক সামলানোর চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে আনিছুর রহমান বলেন, "সীমিত জনবল দিয়েই রাজধানীর যানজট কমাতে গত প্রায় এক বছরে ৭৫টি পয়েন্টে ডাইভারশন ও বিভিন্ন ধরনের মডিফিকেশন করা হয়েছে। কোথাও ডাইভারশন দেওয়া হয়েছে, কোথাও সড়কের চলাচল ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা হয়েছে।" এই উদ্যোগের ফলে মাঠপর্যায়ে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে এবং কোথাও নতুন করে কোনো জটিলতা তৈরি হয়নি। বিশেষ করে আসাদ গেট সংলগ্ন চার রাস্তার মোড়ে সরাসরি চলাচল বন্ধ করে ইউটার্ন ব্যবস্থা করায় যানজট অনেকাংশে কমেছে। তিনি জানান, সেখানে এখন বাম লেন সর্বদা সচল থাকছে এবং জনবল নিয়োগের প্রয়োজনীয়তাও কমেছে।
একই ধরনের প্রকৌশলগত পরিবর্তন মোহাম্মদপুরের বসিলা, বনানীর কাকলী এবং মিরপুরের কালশী ফ্লাইওভারের নিচেও কার্যকর করা হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনারের মতে, "রাজধানী ঢাকা একটি অত্যন্ত জনবহুল মেগাসিটি। এখানে শুধু ট্রাফিক সদস্যের সংখ্যা বাড়িয়ে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। সড়কের নকশা বিশ্লেষণ করে বৈজ্ঞানিকভাবে ডাইভারশন ও মডিফিকেশন করা গেলে সেটিই সবচেয়ে বেশি কার্যকর হয়।" তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে, দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য সনাতন পদ্ধতির বদলে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটানো অপরিহার্য। সেই লক্ষ্যেই পর্যায়ক্রমে সেমি-অটোমেটিক ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থা বিস্তৃত করা হচ্ছে যা আগামী ছয় মাসের মধ্যে প্রধান ১২০টি পয়েন্টে কার্যকর হবে।
ছবি: সংগৃহীত
জীবন বাঁচাতে রক্তদানের গুরুত্ব জরুরি মুহূর্তেই বোঝা যায়। নওগাঁয় সাড়ে ছয় হাজার ব্যাগ রক্তদান করেছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন নওগাঁ ব্লাড সার্কেল। সেই রক্তদাতাদের সম্মান জানাতে মানবিক আয়োজন করেছে সংগঠনটি।
গত সোমবার (২০ জুলাই) শহরের নওগাঁ সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট অডিটোরিয়ামে প্রায় দেড়শ রক্তদাতাকে নিয়ে এই সম্মাননা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক রাহাদ হাসান আকাশের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নওগাঁ সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ মো. নাসিমুজ্জামান। এতে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাক্তার মো. আব্দুল মতিন।
নওগাঁ ব্লাড সার্কেলের আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সহযোগিতায় ছিল বিআরএফ ইয়ুথ ক্লাব। স্পন্সর হিসেবে ছিল নওগাঁ পিপলস সিটি এবং জিমা ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন।
নওগাঁ ব্লাড সার্কেলের সদস্য রাহাদ হাসান আকাশ বলেন, ‘ঢাকার মতো বড় শহরগুলোতে রক্তের খোঁজ পাওয়া যতটা সহজ, মফস্বল বা জেলা শহরগুলোতে সেই লড়াইটা অনেক বেশি কঠিন ও চ্যালেঞ্জিং। প্রত্যন্ত অঞ্চলে রক্তদাতার অভাব, যাতায়াতের সমস্যা এবং রক্তের গ্রুপ সম্পর্কে অসচেতনতার কারণে বহু রোগীকে চরম সংকটে পড়তে হয়। এই সংকট দূর করতে এবং নওগাঁ জেলায় রক্তের অভাবে যেন কোনো মানুষের প্রাণ না যায়, সেই স্বপ্ন নিয়ে একঝাঁক তরুণের হাত ধরে ২০১৭ সালে যাত্রা শুরু করে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন নওগাঁ ব্লাড সার্কেল। আলহামদুলিল্লাহ, আমরা এখন পর্যন্ত সাড়ে ছয় হাজার ব্যাগের বেশি রক্তদান করতে সক্ষম হয়েছি।’
প্রধান অতিথি অধ্যক্ষ মো. নাসিমুজ্জামান বলেন, ‘আমার শিক্ষার্থীদের এই মানবিক উদ্যোগ আমাকে আনন্দিত করেছে। আশা করি, তারা ভালো স্টুডেন্ট হওয়ার পাশাপাশি ভালো মানুষ হিসেবেও দেশ ও সমাজের জন্য ভূমিকা রাখবে।’
এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন নওগাঁ ব্লাড সার্কেলের উপদেষ্টা কাজী আলমগীর, আব্বাস আলী, আরমান হোসেন রুমন, সাজু রহমান সুজন, শাহনেওয়াজ রক্সি প্রমুখ।
অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সাদিয়া আফরিন, রিজভী আহম্মেদ রিজোয়ান, সূচনা আফরিন, বর্ষা, কাজী জেরিন, স্নেহা নন্দী, সাব্বির আহমেদ প্রমুখ।
ছবি: সংগৃহীত
বগুড়ার কাহালু উপজেলায় ফুটবল খেলা শেষে বল ধুতে গিয়ে পুকুরের পানিতে ডুবে আপন ভাই-বোনসহ তিন শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দুপুরে উপজেলার মুরইল ইউনিয়নের ভালতা গুচ্ছগ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে। সাঁতার না জানায় তারা পানিতে তলিয়ে যায় বলে জানা গেছে।
নিহত শিশুরা হলেন-ভালতা গুচ্ছগ্রামের আসাদুল ইসলামের ছেলে জাকিরুল (৬) একই গ্রামের ফারুক মন্ডলের ছেলে ফাইম (৮) ও মেয়ে সুরাইয়া (৫)। ফাইম ও সুরাইয়া আপন ভাই-বোন।
জানা যায়, মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে তিন শিশু নিজ নিজ বাড়ি থেকে বের হয়ে খেলার পর বল ধোয়ার জন্য তারা গুচ্ছগ্রামের পাশের পুকুরে নামে। বেলা একটার দিকে স্থানীয় এক নারী পুকুরের পানিতে জাকিরুলের লাশ ভাসতে দেখে চিৎকার দেন।
পরে স্থানীয় বাসিন্দারা এসে জাকিরুলকে উদ্ধার করে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
অন্যদিকে ফাইম ও সুরাইয়া ঘরে না ফেরায় তাদের পরিবার খুঁজে না পেয়ে স্থানীয় মিন্টু প্রামানিক নামের এক ব্যক্তি পুকুরে নামেন। পুকুর থেকে তিনি ফাইমের লাশ উদ্ধার করেন। তবে সুরাইয়ার সন্ধান না মেলায় ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হয়। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে খাসের পুকুর থেকে শিশু সুরাইয়ার লাশ উদ্ধার করেন।
কাহালু থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতদের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলেও জানান ওসি।
ছবি: সংগৃহীত
চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের বন্যাকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়াতে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) চট্টলা সমিতির উদ্যোগে ৮০টি পরিবারের মাঝে নগদ অর্থ সহায়তা বিতরণ করা হয়েছে। এ কার্যক্রমে মোট ১ লাখ ৯০ হাজার ১৮০ টাকা ব্যয় করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন বাকৃবি চট্টলা সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. সাজিদ হোসেন।
তিনি জানান, সমিতির সভাপতি ও ফিশারিজ ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অধ্যাপক ড. হারুনুর রশীদের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত ত্রাণ তহবিলে বিকাশ, নগদ ও ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়েছে ২২ হাজার ৫০০ টাকা। এছাড়া পূর্ববর্তী ত্রাণ তহবিল থেকে যুক্ত করা হয়েছে ৪০ হাজার ৫০০ টাকা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন আবাসিক হল ও অনুষদের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের অনুদান থেকে এসেছে ১ লাখ ২৭ হাজার ৩১০ টাকা।
ত্রাণ কার্যক্রমের আওতায় চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার সরল ইউনিয়নের ৪৫টি পরিবারকে জনপ্রতি ২ হাজার ৫০০ টাকা করে মোট ১ লাখ ১২ হাজার ৫০০ টাকা এবং বাহারছড়া ইউনিয়নের ১৫টি পরিবারকে একই হারে মোট ৩৭ হাজার ৫০০ টাকা প্রদান করা হয়। পাশাপাশি কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার ২০টি পরিবারকে জনপ্রতি ২ হাজার টাকা করে মোট ৪০ হাজার টাকা সহায়তা দেওয়া হয়েছে। ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে অংশ নেন সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. সাজিদ হোসেন ও দপ্তর সম্পাদক জুলফিকার সুলতানুল আমির।
এসময় সাজিদ হোসেন বলেন, 'প্রথমবারের মতো বন্যাকবলিত এলাকায় গিয়ে মানুষের অসহনীয় দুর্ভোগ খুব কাছ থেকে দেখেছি। বাস্তবতা এতটাই কঠিন যে, একই দেশের নাগরিক হয়েও তা বিশ্বাস করা কঠিন। আমাদের সামর্থ্য সীমিত হলেও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি। ভবিষ্যতেও যেকোনো মানবিক দুর্যোগে চট্টলা সমিতির এ ধরনের সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।'
ছবি: সংগৃহীত
যে ভবন থেকে ছড়িয়ে পড়ার কথা ছিল নাটক, আবৃত্তি, নৃত্য আর গানের সুর, আজ সেখানে অনেকাংশেই নীরবতার দীর্ঘশ্বাস। যেন বাধ্য হয়ে জীর্ণতাকে আলিঙ্গন করেছে সংস্কৃতি চর্চার এ ঘর। ঠাকুরগাঁও শিল্পকলা একাডেমি জেলার সাংস্কৃতিক চর্চার প্রাণকেন্দ্র হওয়ার কথা থাকলেও, জীর্ণতা আর অবহেলায় নিজেই যেন হারিয়ে ফেলতে বসেছে নিজের পরিচয়। এই জীর্ণতা কাটিয়ে আবারও প্রাণবন্ত পরিবেশ ও নিজের জৌলুস ফিরে পাবে জেলা শিল্পকলা একাডেমি প্রত্যাশা জেলার সংস্কৃতিমনা মানুষের।
একটি জেলার সংস্কৃতি শুধু মঞ্চে সীমাবদ্ধ থাকে না। সেটি ছড়িয়ে পড়ে মানুষের চিন্তায়, মননে, নতুন প্রজন্মের স্বপ্নে। আর সেই স্বপ্নের কারিগর হওয়ার কথা যে শিল্পকলা একাডেমির, আজ সে একাডেমির দিকে তাকালেই মনে হয়— সময়ের ভারে ক্লান্ত এক পরিত্যক্ত ভবন। খসে পড়ছে দেয়ালের পলেস্তারা। বিভিন্ন জায়গায় ফুটে উঠেছে অবহেলার চিহ্ন। আধুনিকতার ছোঁয়া না পড়ায় জৌলুস হারিয়ে নীরবে দাঁড়িয়ে আছে জেলা শিল্পকলা একাডেমি।
এখানে জনবল সংকট দীর্ঘদিনের। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে দিন দিন হারাচ্ছে ভবনের চাকচিক্য। বিশুদ্ধ খাবার পানির পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। অভিভাবকদের বসার উপযুক্ত স্থানও নেই। আধুনিক বাদ্যযন্ত্র, সাউন্ড সিস্টেম কিংবা প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণের সুযোগ না থাকায় পিছিয়ে পড়ছে এখানকার প্রতিভাবান শিশু-কিশোররা। তাদের স্বপ্ন আছে, মেধা আছে, কিন্তু সেই স্বপ্নকে ডানা মেলার মতো পরিবেশ নেই।
একসময় ঠাকুরগাঁও ছিল সাংস্কৃতিক আয়োজনের প্রাণবন্ত জেলা। নাটক, সংগীত, নৃত্য আর আবৃত্তিতে মুখর থাকত শহর। এখান থেকে উঠে এসেছেন অনেক গুণী শিল্পী।
কিন্তু সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নতুন প্রজন্মের জন্য সেই চর্চার পরিসর আর আগের মতো বিস্তৃত হয়নি। সুযোগ-সুবিধার সীমাবদ্ধতায় অনেক প্রতিভাই হারিয়ে যাচ্ছে অঙ্কুরেই।
মাহাবুব আলম বলেন, ‘সংস্কৃতি শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়। এটি একটি জাতির পরিচয়, মূল্যবোধ আর মানবিকতার ভিত্তি। তাই একটি শিল্পকলা একাডেমির অবহেলা মানে শুধু একটি ভবনের অবক্ষয় নয়— ধীরে ধীরে নিভে যাওয়া অসংখ্য স্বপ্নের আলো।’
গিটার শিখতে আসা মাসুদ রানা বলেন, ‘শিল্পকলা একাডেমিতে আধুনিক কোনো বাদ্যযন্ত্র না থাকায় আমরা যুগের সাথে তাল মিলিয়ে কোনোকিছু শিখতে পারছি না। এমন চলতে থাকলে আমরা পিছিয়ে পড়ব।’
শিশুকে নিয়ে আসা এক অভিভাবক বলেন, ‘এখানে অপেক্ষা করার মতো একটা ঘর বা বসার ব্যবস্থা নেই। বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা নেই। আমরা এ সমস্যাগুলোর সমাধান চাই।’
সাংস্কৃতিক প্রেমি জাফর ইকবাল বলেন, ‘আমাদের শিশুরা এখানে শিখবে, নিজেতের মেধার বিকাশ ঘটাবে। কিন্তু পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা না থাকায় তারা বঞ্চিত হচ্ছে। এখানে সংস্কৃতি চর্চার ব্যাপক প্রসার না ঘটলে সমাজে এর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে।’
ঠাকুরগাঁও জেলা কালচারাল অফিসার মো. আলমগীর কবির বলেন, ‘ঠাকুরগাঁও শিল্পকলা একাডেমিতে ধারাবাহিকভাবে সংস্কারের অভাব লক্ষণীয়। আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে এখানকার সকল শিল্পীগোষ্ঠীর জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি করা সম্ভব হবে। আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে চাহিদামতো বরাদ্দ চেয়েছি। বরাদ্দ পেলে সংস্কৃতি চর্চার প্রসার ঘটবে।’
ঠাকুরগাঁও শান্তিপ্রিয়, সংস্কৃতিমনা মানুষের জেলা। এই জেলার শিশু-কিশোরদের প্রতিভার কোনো ঘাটতি নেই। তাদের প্রয়োজন শুধু একটি আধুনিক, প্রাণবন্ত আর যত্নে গড়ে ওঠা সাংস্কৃতিক ঠিকানা। শিল্পকলার এই নীরব দেয়ালগুলো হয়তো আজও অপেক্ষা করছে— আবারও গান, নাটক আর করতালির শব্দে জেগে ওঠার জন্য।
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ রেলওয়ের পদ্মা এক্সপ্রেস ট্রেনে টিকিট এক্সামিনারের (টিটিই) বিরুদ্ধে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। টিটিইর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে শিক্ষার্থীরা রেললাইন অবরোধ করেন একদল শিক্ষার্থী। বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন এলাকায় এই অবরোধের কারণে সারা দিন রাজশাহীর সঙ্গে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের রেল যোগাযোগ বন্ধ ছিল। আন্তনগর ও লোকালসহ বেশ কয়েকটি ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় যাত্রীরা পড়েন ভোগান্তিতে।
ঢাকাগামী সিল্কসিটি এক্সপ্রেসে ওঠার অপেক্ষায় থাকা সাদমান হক বলেন, ‘চার ঘণ্টা ধরে অপেক্ষা করছি। তার পরেও ট্রেন আসার কোনো খবর নেই তাই বাধ্য হয়ে বসে আছি।
অসুস্থ স্বামীকে নিয়ে ঢাকায় যাওয়া যাত্রী রোকসানা বেগম বলেন, 'আমার স্বামী অসুস্থ। জরুরি ভিত্তিতে আমাদের ঢাকায় যেতে হবে। কিন্তু ট্রেন কখন ছাড়বে, কেউ বলতে পারছে না। কেউ কোনো তথ্যও দিচ্ছে না। অপেক্ষা করব, নাকি বাসে চলে যাব, বুঝতে পারছি না।'
আরেক যাত্রী ফজলুল হকও ভ্রমণ না করেই স্টেশন ছেড়ে চলে যান।
তিনি বলেন, 'এভাবে মানুষকে কষ্ট দেওয়ার কোনো মানে হয় না। শুনেছি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ চলছে। কিন্তু এর ভোগান্তি আমাদের কেন পোহাতে হবে?'
রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশন ব্যবস্থাপক জিয়াউল আহসান জানান, ঢাকাগামী বনলতা এক্সপ্রেস, সিল্কসিটি এক্সপ্রেস, ঢালারচর এক্সপ্রেস, মহানন্দা এক্সপ্রেস, ঢাকা মেইল এবং অন্যান্য যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে।
তিনি বলেন, 'এই সময়ে চলাচলের জন্য নির্ধারিত সব ট্রেনের কার্যক্রম বিঘ্নিত হয়েছে।'
তিনি আরও জানান, রাজশাহী থেকে প্রতিদিন ৩২টি ট্রেন চলাচল করে।
তিনি বলেন, যেসব যাত্রী ভ্রমণ করতে পারছেন না, তাদের টিকিটের অর্থ ফেরত দেওয়া হচ্ছে।
আহসান বলেন, অভিযুক্ত টিটিইকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তবে বিক্ষোভকারীরা তাকে তাদের সামনে হাজির করার দাবি জানাচ্ছেন।
তিনি বলেন, 'অভিযুক্ত টিটিইর সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। প্রশাসনের মাধ্যমেই বিষয়টির সমাধান হওয়া উচিত।'
তিনি আরও জানান, অচলাবস্থা নিরসনে বিভাগীয় কমিশনার, রাবির উপাচার্য এবং বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপককে নিয়ে একটি বৈঠক চলছে।
রাবির আইন বিভাগের শিক্ষার্থী ফুরকান উদ্দিন অভিযোগ করেন, গত রোববার পদ্মা এক্সপ্রেসে সরকারি রসিদ ছাড়া যাত্রীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের প্রতিবাদ করায় তাকে মারধর করা হয়। এ ঘটনার পরই শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামেন। তারা অভিযুক্তের শাস্তি, নিরপেক্ষ তদন্ত, ভুক্তভোগীর ক্ষতিপূরণ এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় রেলওয়ে স্টেশনে সব আন্তনগর ট্রেনের নির্ধারিত যাত্রাবিরতির দাবি জানাচ্ছেন।
ফাইল ছবি
পানিতে ডুবে পৃথক ঘটনায় মাগুরার মৌশা এবং কালিনগর গ্রামে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
মহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শামীম আহমেদ জানান, মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকাল সাড়ে নয়টার দিকে মহম্মদপুর উপজেলার মৌশা গ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে রাফিয়া (২) ও রাইশা (৩) নামে দুই কন্যা শিশুর মারা গেছে। সম্পর্কে তারা আপন চাচাতো বোন।
মৃত দুই শিশুর আত্মীয় রিমা খাতুন জানান, সকালে খাবার খাওয়ার পর দুই শিশু বাড়ি থেকে বের হয়। দীর্ঘ সময় তাদের খোঁজ না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা আশপাশে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে বাড়ির পাশের একটি পুকুরে তাদের ভাসতে দেখে। পরে দ্রুত তাদের উদ্ধার করে মহম্মদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়।
কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. কাজী আবু হাসান পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর দুই শিশুকেই মৃত ঘোষণা করেন। মৃত রাফিয়া মৌশা গ্রামের আমিনুরের কন্যা এবং রাইশা আলিনূরের কন্যা।
একসঙ্গে দুই শিশুর এমন করুণ মৃত্যুতে তাদের পরিবারে চলছে শোকের মাতম।
অন্যদিকে মাগুরা সদর উপজেলার কালিনগর গ্রামের আলী মোল্লার শিশু পুত্র ইয়াসিন মোল্লার (৯) মৃতদেহ মধুমতি নদীর বাগবাড়িয়া এলাকা থেকে সকালে মাগুরা ফায়ার সার্ভিস এর একটি টিম উদ্ধার করেছে।
মাগুরা ফায়ার সার্ভিসের সাব অফিসার জামাল উদ্দিন জানান, গত রবিবার বিকেলে ইয়াসিন তার চাচার সাথে মধুমতি নদীতে যায় পাট জাগ দেয়ার কাজে সাহায্য করতে। অসাবধানতাবশত পা পিছলে শিশুটি নদীতে পড়ে গেলে তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায়না। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকালে সদর উপজেলার বাগবাড়িয়া এলাকায় নদীতে মরদেহ ভাসতে দেখে এলাকাবাসীরা ফায়ার সার্ভিসকে খবর দিলে তারা ঘটনাস্থলে যেয়ে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে।
ছবি: সংগৃহীত
হেমায়েতপুর-সিংগাইর-মানিকগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের মেদুলিয়া ডাবল ব্রীজ এলাকায় ট্রাক-সিএনজি মুখোমুখি সংঘর্ষে এক যাত্রী নিহত হয়েছে। আরো ৩ জন আহত হয়েছেন।
ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকাল ৮ টার দিকে হেমায়েতপুর- সিংগাইর-মানিকগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের উপজেলার ধল্লা ইউনিয়নের মেদুলিয়া ডাবল ব্রীজ এলাকার সড়কে।
স্থানীয়রা জানান, সাভার উপজেলার হেমায়েতপুর থেকে ছেড়ে আসা একটি সিএনজি মেদুলিয়া ডাবল ব্রীজ এলাকায় পৌছালে বিপরীত দিকে আসা ঢাকাগামী একটি ট্রাকের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে সিএনজি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। সিএনজি'র অজ্ঞাতনামা এক যাত্রী ঘটনাস্থলে তার মৃত্যু হয়। অপর ৩ যাত্রী গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে আহতদের উদ্ধার করে সিংগাইর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। পরে থানা পুলিশ খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল পৌছে নিহতের লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
পুলিশ সূত্র জানায়, নিহত ব্যক্তির কাছ থেকে একটি জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) উদ্ধার করা হয়েছে। পরিচয়পত্রে তার নাম মো. রফিকুল ইসলাম এবং ঠিকানা টাঙ্গাইল সদর উপজেলার খোর্দ্দযোগিনী উল্লেখ থাকলেও প্রাথমিক অনুসন্ধানে ওই পরিচয়পত্রের তথ্যের সঙ্গে নিহত ব্যক্তির পরিচয়ের মিল পাওয়া যায়নি। ফলে তার প্রকৃত পরিচয় নিশ্চিত করতে তদন্ত চলছে। দুর্ঘটনার পর ট্রাকচালক ট্রাকটি নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পলাতক ট্রাক ও চালককে শনাক্ত করে আটকের চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।
সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাজহারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, নিহত ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিতের চেষ্টা চলছে। আহতরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। একই সঙ্গে পালিয়ে যাওয়া ট্রাক ও চালককে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানান তিনি।
মন্তব্য