রাজধানীতে আরও ৪৬৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। একই সময়ে ৩৮টি মামলা করা হয়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়।
ডিএমপির মিডিয়া ও পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী শনিবার (১৮ জুলাই) এ তথ্য জানান। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলেও জানিয়েছেন তিনি।
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রমনা বিভাগে ৪৭, লালবাগ বিভাগে ৩২, ওয়ারী বিভাগে ৪৫, মতিঝিল বিভাগে ৫০, তেজগাঁও বিভাগে ৫০, মিরপুর বিভাগে ১১৪, গুলশান বিভাগে ৪৭, উত্তরা বিভাগে ৬৪, সিটিটিসিতে একজন ও গোয়েন্দা বিভাগে ১৩ জন রয়েছেন।
এ সময় তাদের কাছ থেকে ১৫ হাজার ৩৬৪ পিস ইয়াবা, ৪৫ কেজি ৫৮০ গ্রাম গাঁজা, একটি সিএনজি, একটি মোটরসাইকেল, ১০টি মোবাইল, চারটি অটোরিকশার ব্যাটারি, একটি চাকু, একটি চাপাতি ও একজন ভিকটিমকে উদ্ধার করা হয়।
ছবি: সংগৃহীত
আলজেরিয়ার রাষ্ট্রদূত ড. আবদেলউহাব সাইদানি শনিবার (১৮ জুলাই) চট্টগ্রামের সাতকানিয়া এবং কক্সবাজারের মাতারবাড়ীতে বন্যাকবলিত ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেছেন। সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর প্রতি সংহতি প্রকাশের অংশ হিসেবে তিনি এ কার্যক্রম পরিচালনা করেন।
ঢাকাস্থ আলজেরিয়ান দূতাবাসের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সাতকানিয়ার কেওচিয়া ইউনিয়নের কেওচিয়া মুজহেরুল হক ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসায় প্রাঙ্গণে ত্রাণ বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে সাম্প্রতিক বন্যায় চরম দুর্ভোগে পড়া পরিবারগুলোর মধ্যে সহায়তা প্রদান করা হয়।
রাষ্ট্রদূত সাইদানি ব্যক্তিগতভাবে, ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের হাতে প্রয়োজনীয় সামগ্রী সংবলিত ত্রাণের প্যাকেট তুলে দেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের প্রতি সহানুভূতি ও সংহতি প্রকাশ করেন। তিনি প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও মানবিক জরুরি পরিস্থিতিতে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়ানোর ব্যাপারেও গুরুত্বারোপ করেন।
রাষ্ট্রদূত সাইদানি ছিলেন সাতকানিয়া সফরকারী প্রথম বিদেশি কূটনীতিক, যিনি নিজ হাতে বন্যাদুর্গত মানুষের মধ্যে মানবিক সহায়তা বিতরণ করেন। তিনি তার এ সফরকে স্থানীয় জনগণের প্রতি সংহতির একটি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন হিসেবে উল্লেখ করেন।
চট্টগ্রামে ত্রাণ বিতরণ কর্মসূচি শেষে আলজেরিয়ার রাষ্ট্রদূত কক্সবাজারের মাতারবাড়িতে যান। সেখানে তিনি বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যেও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ করেন। বন্যাকবলিত বাসিন্দারা আলজেরিয়ার রাষ্ট্রদূতের এই মানবিক উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, ‘এই সহায়তা তাদের তাৎক্ষণিক প্রয়োজন মেটাতে এবং বন্যার দুর্ভোগ মোকাবিলায় সহায়ক হবে।’
আলজেরিয়ান দূতাবাস জানায়, এ উদ্যোগ বাংলাদেশ ও আলজেরিয়ার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের পাশাপাশি বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর প্রতি আলজেরিয়ার মানবিক সংহতিরও প্রতিফলন।
ছবি: সংগৃহীত
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দূরদর্শী রাষ্ট্রচিন্তা, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ও জনগণের ক্ষমতায়নের রাজনৈতিক দর্শন আজও ক্ষুধা, দারিদ্র্য এবং বৈষম্যমুক্ত সমাজ বিনির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করছে বলে মন্তব্য করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব।
শনিবার (১৮ জুলাই) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের রাষ্ট্রদর্শন’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন এবং সেন্টার ফর রিসার্চ অন ন্যাশনালিজম অ্যান্ড ডেমোক্রেসি (সিআরএনডি)’র আনুষ্ঠানিক যাত্রা উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, আজকের আয়োজন কেবল একটি গ্রন্থ প্রকাশের অনুষ্ঠান নয়, বরং বাংলাদেশের রাষ্ট্রচিন্তা, জাতীয়তাবাদ ও গবেষণার ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা। একই সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা প্রতিষ্ঠানের যাত্রা শুরু হওয়ায় রাষ্ট্রচিন্তা নিয়ে একাডেমিক গবেষণার নতুন দ্বার উন্মোচিত হয়েছে।
বক্তব্যের শুরুতে তিনি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের রূপকার এবং আধুনিক বাংলাদেশের অন্যতম স্থপতি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তমকে স্মরণ করেন।
তিনি বলেন, জিয়াউর রহমানের আপসহীন দেশপ্রেম, বাস্তবমুখী রাষ্ট্রচিন্তা এবং জনগণের ক্ষমতায়নের দর্শন বাংলাদেশের রাষ্ট্র ও সমাজ বিনির্মাণে দীর্ঘদিন ধরেই গুরুত্বপূর্ণ প্রেরণার উৎস হয়ে রয়েছে।
তিনি একই সঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে তার ভূমিকা ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
এ সময় তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী বীর মুক্তিযোদ্ধা, সম্ভ্রম হারানো মা-বোন এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের প্রতিও গভীর শ্রদ্ধা জানান। আহতদের দ্রুত ও পূর্ণাঙ্গ সুস্থতা কামনা করেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের রাষ্ট্রদর্শন’ গ্রন্থটি বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের তাত্ত্বিক ভিত্তি নির্মাণের একটি ব্যতিক্রমধর্মী ও মৌলিক প্রয়াস। অতীতে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ নিয়ে রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক আলোচনা হলেও, এটিকে একটি পূর্ণাঙ্গ রাষ্ট্রদর্শন হিসেবে বিশ্লেষণের এমন বিস্তৃত প্রচেষ্টা খুব কমই দেখা গেছে।’
তিনি বলেন, এই গ্রন্থে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদকে কেবল একটি রাজনৈতিক মতবাদ হিসেবে নয়, বরং গণতন্ত্র, সামাজিক ন্যায়বিচার, অর্থনৈতিক মুক্তি, জনগণের ক্ষমতায়ন, ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধ, সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্য, রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব এবং আন্তর্জাতিক বাস্তবতার সঙ্গে সমন্বিত একটি রাষ্ট্রদর্শন হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
তার মতে, গ্রন্থটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদকে গবেষণাযোগ্য একটি তাত্ত্বিক কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসার চেষ্টা। এর ফলে বিষয়টি শুধু রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং রাষ্ট্রবিজ্ঞান, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, জনপ্রশাসন, অর্থনীতি, নিরাপত্তা অধ্যয়ন এবং উন্নয়ন গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয়ে পরিণত হতে পারে।
তিনি বলেন, গ্রন্থের বিভিন্ন প্রবন্ধে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাষ্ট্রচিন্তাকে রাজনৈতিক অর্থনীতি, পররাষ্ট্রনীতি, বহুদলীয় গণতন্ত্র, রাষ্ট্র পুনর্গঠন, শিক্ষা, পুলিশ সংস্কার, সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থার সঙ্গে সংযুক্ত করে বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
বিশেষ করে রাষ্ট্র ও নাগরিকের পারস্পরিক দায়বদ্ধতা, অংশগ্রহণমূলক উন্নয়ন এবং আত্মমর্যাদাশীল রাষ্ট্র গঠনের প্রশ্নগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে। তিনি বলেন, একটি গবেষণাধর্মী গ্রন্থ হিসেবে ভবিষ্যতে আরও সমৃদ্ধ হওয়ার সুযোগ রয়েছে। আগামী সংস্করণগুলোতে যদি আরও বেশি প্রাথমিক দলিল, আন্তর্জাতিক গবেষণার সূত্র, তুলনামূলক বিশ্লেষণ এবং ভিন্নমতের একাডেমিক মূল্যায়ন অন্তর্ভুক্ত করা হয়, তাহলে এর আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা আরও বাড়বে।
কারণ প্রকৃত গবেষণার সৌন্দর্য নিহিত থাকে মতের বহুমাত্রিকতা এবং অনুসন্ধানের সাহসের মধ্যে। সেন্টার ফর রিসার্চ অন ন্যাশনালিজম অ্যান্ড ডেমোক্রেসির (সিআরএনডি) কার্যক্রম প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, একটি বই একটি সময়কে ধারণ করে, কিন্তু একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ভবিষ্যৎ নির্মাণ করে। তাই এই প্রতিষ্ঠানের সামনে রয়েছে বিশাল সম্ভাবনা।
তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, সিআরএনডি ভবিষ্যতে জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, সুশাসন, জনপ্রশাসন, মানবাধিকার, পররাষ্ট্রনীতি, অর্থনীতি, নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, প্রযুক্তিগত রূপান্তর এবং বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রচিন্তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা পরিচালনা করবে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যে জাতীয়তাবাদের ভিত্তির ওপর একটি আত্মমর্যাদাশীল বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন, সেই আদর্শ ধারণ করতে পারলে দেশ আরও এগিয়ে যাবে।
প্রতিটি নাগরিক যদি দেশের প্রতি দায়বদ্ধতা, সততা এবং দায়িত্ববোধ নিয়ে কাজ করেন, তাহলে ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে। তিনি বলেন, বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান একটি বৈষম্যহীন, সমৃদ্ধ, মানবিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠারের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন। এ লক্ষ্যে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
সড়ক প্রতিমন্ত্রী মহান আল্লাহর কাছে দেশ, জনগণ এবং জাতীয় নেতৃত্বের কল্যাণ কামনা করেন। এ সময় তিনি বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জাতীয় ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই। ‘সবার আগে দেশ, গর্বের দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ এই প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
অবসরপ্রাপ্ত জেলা জজ শরীফ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, সংসদ সদস্য শামীম কায়সার লিংকন, সংসদ সদস্য মানসুরা আলম,ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড.এ কে এম ওবায়দুর রহমান, যুবদলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি সাইদ ইকবাল মাহমুদ টিটু প্রমুখ।
ছবি: সংগৃহীত
গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে আলোচিত হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসের মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ। সংগঠনটির নেতারা তার নিঃশর্ত মুক্তির পাশাপাশি গাইবান্ধায় রামমূর্তিসহ শ্রীশ্রী রাধাগোবিন্দ ও কালীমন্দির নির্মাণে সরকারি সহযোগিতা দাবি করেছেন। শনিবার (১৮ জুলাই) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে এসব দাবি জানানো হয়।
সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে ঐক্য পরিষদের সভাপতি নির্মল রোজারিও বলেন, মন্দির নির্মাণ ধর্মীয় স্বাধীনতার অংশ। প্রতিটি ধর্মের মানুষের নিজস্ব উপাসনালয় নির্মাণ, রক্ষা ও সংরক্ষণের অধিকার রয়েছে। সেই অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়েরও অংশগ্রহণ ছিল। সরকার গঠনের আগে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না।
গাইবান্ধায় মন্দির নির্মাণে বাধা দেওয়া হয়েছে অভিযোগ করে ওই ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
ঐক্য পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মনীন্দ্র কুমার নাথ বলেন, মন্দিরে কত উচ্চতার মূর্তি নির্মাণ করা হবে, তা নিয়ে আইনি কোনো নির্ধারিত সীমা নেই।
আর যে মন্দিরকে কেন্দ্র করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে, সেটি দীর্ঘদিন ধরে নির্মাণাধীন ছিল এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও বিষয়টি জানতেন। এর পরও মন্দিরের তত্ত্বাবধায়ক হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ধর্ম অবমাননার অভিযোগে সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হলেও সংখ্যালঘুদের ধর্ম নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্যকারীদের বিরুদ্ধে একই ধরনের পদক্ষেপ দেখা যায় না।
যুব ঐক্য পরিষদের সভাপতি শিমুল সাহার সঞ্চালনায় সমাবেশে আরো বক্তব্য দেন সংগঠনের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সুব্রত চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক হেমন্ত আই কোরাইয়া, ঢাকা মহানগর শাখার সভাপতি অতুল মণ্ডল প্রমুখ।
সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল প্রেস ক্লাব থেকে শুরু হয়ে পুরানা পল্টন এলাকা প্রদক্ষিণ করে।
প্রসঙ্গত, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের একটি মামলায় গাইবান্ধার পলাশবাড়ীর আলোচিত হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি।
ছবি: সংগৃহীত
চীনা মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান হুয়ারান টেক্স কোম্পানি লিমিটেড চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চলে টেক্সটাইল পণ্য উৎপাদন কারখানা স্থাপনে ৩০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করবে।
সম্প্রতি ঢাকার বেপজা কমপ্লেক্সে বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেপজা) এবং হুয়ারান টেক্স কোম্পানি লিমিটেডের মধ্যে এ বিষয়ে ভূমি ইজারা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।
চুক্তিতে বেপজার সদস্য (বিনিয়োগ উন্নয়ন) মো. তানভীর হোসেন এবং হুয়ারান টেক্স কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিন ওয়াং নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে স্বাক্ষর করেন| অনুষ্ঠানে বেপজার নির্বাহী চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মোহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
চুক্তি অনুযায়ী, ৩৬ হাজার বর্গমিটার জমির ওপর কারখানাটি স্থাপন করা হবে| পূর্ণ উৎপাদনে গেলে কারখানাটি বছরে ২৪ হাজার টন সুতা এবং ২০ মিলিয়ন মিটার গ্রে ওভেন ফেব্রিক উৎপাদনে সক্ষম হবে| এছাড়া প্রকল্পটিতে ৫৮০ জন বাংলাদেশি নাগরিকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বেপজার নির্বাহী চেয়ারম্যান বাংলাদেশ তথা বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চলকে বিনিয়োগের গন্তব্য হিসেবে বেছে নেওয়ায় হুয়ারান টেক্স কোম্পানি লিমিটেডকে ধন্যবাদ জানান।
তিনি আরও বলেন, বিনিয়োগকারীদের জন্য নিরাপদ, আধুনিক ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতে বেপজা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ| পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির সফল ও নির্বিঘ্ন ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনায় সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
অনুষ্ঠানে বেপজার সদস্য (প্রকৌশল) আবদুল্লাহ আল মামুন, সদস্য (অর্থ) আ ন ম ফয়জুল হক, নির্বাহী পরিচালক (এন্টারপ্রাইজ সার্ভিসেস) মো. খুরশিদ আলম, নির্বাহী পরিচালক (প্রশাসন) সমীর বিশ্বাস, বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চলের প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ এনামুল হক, নির্বাহী পরিচালক (জনসংযোগ) এ.এস.এম. আনোয়ার পারভেজসহ বেপজার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং হুয়ারান টেক্স কোম্পানি লিমিটেডের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর গাবতলী বাস টার্মিনাল এলাকায় একটি স্পোর্টস কারে তল্লাশি চালিয়ে বিদেশি পিস্তল ও একটি ম্যাগাজিনসহ এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার (১৮ জুলাই) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক মিরপুর বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আটক সাজ্জাদ হোসেন আশিক (২০) শাহআলী থানাধীন তুরাগ সিটির বাসিন্দা সাহাদাত হোসেন বাপ্পির ছেলে।
জানা যায়, শনিবার (১৮ জুলাই) সকাল আনুমানিক ৬টা ৪০ মিনিটে দারুসসালাম ট্রাফিক জোনে দায়িত্ব পালনকালে সার্জেন্ট অনিরুদ্ধ রায় বেপরোয়া গতিতে চলা হলুদ রঙের একটি নতুন স্পোর্টস কারকে থামানোর সংকেত দেন। চালক প্রথমে গাড়ি থামালেও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে অস্বীকৃতি জানান। এতে তাদের আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে তল্লাশির জন্য চালক ও আরোহীকে গাড়ি থেকে নামতে বলা হয়।
এ সময় চালক হঠাৎ দ্রুতগতিতে গাড়ি নিয়ে পালানোর চেষ্টা করলে সার্জেন্ট অনিরুদ্ধ রায় তাৎক্ষণিক ধাওয়া করেন। পরে গাবতলী বাস টার্মিনাল সংলগ্ন সেলফি কাউন্টারের সামনে থেকে গাড়িটি আটক করা হয়।
খবর পেয়ে সংশ্লিষ্ট এলাকার পুলিশ পরিদর্শক (শহর ও যানবাহন) বিকাসুজ্জামান রনিসহ ট্রাফিক মিরপুর বিভাগের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে গাড়ির আরোহী সাজ্জাদ হোসেন আশিককে আটক করা হয়। পরে তার দেহ তল্লাশি করে একটি বিদেশি পিস্তল ও একটি ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়। আটক ব্যক্তিকে অস্ত্রসহ দারুসসালাম থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনি কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।
ট্রাফিক মিরপুর বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন বলেন, ট্রাফিক মিরপুর বিভাগ সড়কে শৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি অপরাধ প্রতিরোধ ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বদা সতর্ক, সক্রিয় ও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
ছবি: সংগৃহীত
‘পোলা মরছে চোখের পলকে দুই বছর অইয়া গেছে। পোলা তো আর ফিরবে না বিচারের আশায় মামলা করছিলাম। আজও পোলা হত্যার বিচার পাইলাম না।’ অশ্রুভেজা চোখে কথাগুলো বলছিলেন শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার কেরেঙ্গাপাড়া এলাকার আমজাদ হোসেন।
২০২৪ সালের ১৯ জুলাই (রোববার) এই দিনে কোটা সংস্কার আন্দোলনে মারা যায় তার ছেলে আসিফুর রহমান আসিফ। ছেলের রক্তেভেজা সেদিনের সেই শার্টটা দেখিয়ে তিনি বলেন, ‘এটাই আমার ছেলের শেষ স্মৃতি, আর্থিক সহায়তা পেয়েছি, সম্মান পেয়েছি; কিন্তু বিচার তো পাইলাম না। পোলার স্মৃতিগুলো মনে পড়ে; কিন্তু পোলারে তো আর দেখি না। ছেলে হত্যার দ্রুত বিচার দাবি করেন তিনি।
সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই (রোববার) কোটা সংস্কার আন্দোলনে উত্তপ্ত রাজধানীর মিরপুরে মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন গার্মেন্টসকর্মী আসিফুর রহমান আসিফ (১৯)। আসিফ শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার রামচন্দ্রকুড়া ইউনিয়নের কেরেঙ্গাপাড়া গ্রামের আমজাদ হোসেন ও ফজিলা খাতুন দম্পতির ২য় ছেলে।
পরিবারের দেওয়া তথ্যমতে, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই (রোববার) বিকেলে বন্ধুদের সাথে দেখা করার জন্য বাড়ি থেকে বের হয় আসিফুর। পরে রাস্তাতেই কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে পুলিশের গুলি এসে তার মাথায় লাগে। সেখান থেকে স্থানীয়রা তাকে মিরপুর আলোক হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে তার বাবা আমজাদ আলী ফোনে ছেলের অ্যাক্সিডেন্টের খবর শোনে আলোক হাসপাতাল গিয়ে দেখে আসিফের মাথার ডানপাশে গুলি লেগেছে। সেখান থেকে ছেলেকে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নিয়ে ব্যান্ডেজ করিয়ে রিকশায় নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার আসিফকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে লাশ নিয়ে এসে গ্রামের কবরস্থানে দাফন করা হয়।
আসিফুরের মা ফজিলা খাতুন জানান, দুই ছেলে চার মেয়ের মধ্যে আসিফ ছিল দ্বিতীয়। বাবা আমজাদ হোসেন ছোটখাটো ব্যবসা করে যখন পরিবারের খরচ মেটাতে পারছিল না, তখন আসিফ ঢাকায় গিয়ে গার্মেন্টসে চাকরি নেয়। ১৩ হাজার টাকা বেতনের চাকরিতে ভালোই দিন চলছিল। স্মৃতিচারণের সময় আসিফের পরিবারের সদস্যদের চোখ থেকে পানি পড়ছিল।
পরবর্তীতে সরকার পতনের পর ওই বছরের ২ নভেম্বর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২০১ জনকে আসামি করে ঢাকার একটি আদালতে আসিফুরের বাবা আমজাদ হোসেন বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলা দায়েরের কিছুদিন পর আসিফের গ্রামের বাড়ি কেরেঙ্গাপাড়া কবরস্থান থেকে মরদেহ উত্তোলন করা হয় সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন সম্পন্নের জন্য।
নালিতাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল মালেক বলেন, ‘আমরাও চাই জুলাই আন্দোলনে নিহত সকল শহীদদের হত্যার বিচার হোক।’
মন্তব্য