কক্সবাজারের টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নে ফের এক শিশুকে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে। মহিষ আনতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়ার একদিন পর পরিবারের কাছে ১২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্বজনরা। গত শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিকেলে বাহারছড়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর নয়াপাড়া এলাকার পাহাড়ের পাদদেশে এ ঘটনা ঘটে। অপহৃত শিশু মো. আরাফাত (১২) ওই এলাকার আবদুল মাবুদের ছেলে।
অপহৃত শিশুর বাবা আবদুল মাবুদ জানান, প্রতিদিনের মতো তার ছেলে মহিষ আনতে বাড়ি থেকে বের হয়। সন্ধ্যা পর্যন্ত ফিরে না আসায় আত্মীয়-স্বজন ও পরিচিতদের কাছে খোঁজ নেওয়া হয়, কিন্তু কোথাও তার সন্ধান মেলেনি। শনিবার (১৮ জুলাই) বিকেলে এক পরিচিত ব্যক্তির মোবাইল নম্বরে ফোন করে দুর্বৃত্তরা ১২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে।
তিনি বলেন, ‘আমি একজন সাধারণ মানুষ। এত টাকা দেওয়ার সামর্থ্য আমার নেই। আমার ছেলেকে জীবিত উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জরুরি সহযোগিতা চাই।’
স্থানীয় কয়েকজন জানান, ঘটনার পেছনে পারিবারিক বিরোধ থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাদের দাবি, পূর্বের শত্রুতার জেরে পরিকল্পিতভাবে শিশুটিকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
এর আগে গত ২৮ জুন টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের জুম্মাপাড়া এলাকা থেকে দিনের বেলায় অস্ত্রধারীরা পল্লী চিকিৎসক কামাল মাস্টারকে অপহরণ করে। পরিবারের দাবি, আট দিন পর গত ৬ জুলাই রাতে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণের বিনিময়ে তাকে মৌচনী এলাকায় ছেড়ে দেওয়া হয়। অপহরণের সময় নির্যাতনের কারণে তিনি এখনো অসুস্থ রয়েছেন।
টেকনাফ মডেল থানার ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে শিশুটিকে উদ্ধারে প্রয়োজনীয় অভিযান পরিচালনা করা হবে।
উল্লেখ্য, গত ৪ জুলাই টেকনাফে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত চার ঘণ্টাব্যাপী বিশেষ আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় অপহরণপ্রবণ (হটস্পট) এলাকায় পুলিশ চৌকি স্থাপন এবং চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের সলিমপুর পাহাড়ে পরিচালিত অভিযানের আদলে বিশেষ যৌথ অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, এখনো কার্যকরভাবে সেই যৌথ অভিযান শুরু না হওয়ায় বাহারছড়াসহ সীমান্তবর্তী এলাকায় অপহরণের ঘটনা উদ্বেগজনকহারে বেড়েই চলেছে।
ফাইল ছবি
রাজধানীতে আরও ৪৬৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। একই সময়ে ৩৮টি মামলা করা হয়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়।
ডিএমপির মিডিয়া ও পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী শনিবার (১৮ জুলাই) এ তথ্য জানান। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলেও জানিয়েছেন তিনি।
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রমনা বিভাগে ৪৭, লালবাগ বিভাগে ৩২, ওয়ারী বিভাগে ৪৫, মতিঝিল বিভাগে ৫০, তেজগাঁও বিভাগে ৫০, মিরপুর বিভাগে ১১৪, গুলশান বিভাগে ৪৭, উত্তরা বিভাগে ৬৪, সিটিটিসিতে একজন ও গোয়েন্দা বিভাগে ১৩ জন রয়েছেন।
এ সময় তাদের কাছ থেকে ১৫ হাজার ৩৬৪ পিস ইয়াবা, ৪৫ কেজি ৫৮০ গ্রাম গাঁজা, একটি সিএনজি, একটি মোটরসাইকেল, ১০টি মোবাইল, চারটি অটোরিকশার ব্যাটারি, একটি চাকু, একটি চাপাতি ও একজন ভিকটিমকে উদ্ধার করা হয়।
ছবি: সংগৃহীত
গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে আলোচিত হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসের মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ। সংগঠনটির নেতারা তার নিঃশর্ত মুক্তির পাশাপাশি গাইবান্ধায় রামমূর্তিসহ শ্রীশ্রী রাধাগোবিন্দ ও কালীমন্দির নির্মাণে সরকারি সহযোগিতা দাবি করেছেন। শনিবার (১৮ জুলাই) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে এসব দাবি জানানো হয়।
সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে ঐক্য পরিষদের সভাপতি নির্মল রোজারিও বলেন, মন্দির নির্মাণ ধর্মীয় স্বাধীনতার অংশ। প্রতিটি ধর্মের মানুষের নিজস্ব উপাসনালয় নির্মাণ, রক্ষা ও সংরক্ষণের অধিকার রয়েছে। সেই অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়েরও অংশগ্রহণ ছিল। সরকার গঠনের আগে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না।
গাইবান্ধায় মন্দির নির্মাণে বাধা দেওয়া হয়েছে অভিযোগ করে ওই ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
ঐক্য পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মনীন্দ্র কুমার নাথ বলেন, মন্দিরে কত উচ্চতার মূর্তি নির্মাণ করা হবে, তা নিয়ে আইনি কোনো নির্ধারিত সীমা নেই।
আর যে মন্দিরকে কেন্দ্র করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে, সেটি দীর্ঘদিন ধরে নির্মাণাধীন ছিল এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও বিষয়টি জানতেন। এর পরও মন্দিরের তত্ত্বাবধায়ক হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ধর্ম অবমাননার অভিযোগে সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হলেও সংখ্যালঘুদের ধর্ম নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্যকারীদের বিরুদ্ধে একই ধরনের পদক্ষেপ দেখা যায় না।
যুব ঐক্য পরিষদের সভাপতি শিমুল সাহার সঞ্চালনায় সমাবেশে আরো বক্তব্য দেন সংগঠনের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সুব্রত চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক হেমন্ত আই কোরাইয়া, ঢাকা মহানগর শাখার সভাপতি অতুল মণ্ডল প্রমুখ।
সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল প্রেস ক্লাব থেকে শুরু হয়ে পুরানা পল্টন এলাকা প্রদক্ষিণ করে।
প্রসঙ্গত, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের একটি মামলায় গাইবান্ধার পলাশবাড়ীর আলোচিত হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি।
ছবি: সংগৃহীত
চীনা মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান হুয়ারান টেক্স কোম্পানি লিমিটেড চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চলে টেক্সটাইল পণ্য উৎপাদন কারখানা স্থাপনে ৩০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করবে।
সম্প্রতি ঢাকার বেপজা কমপ্লেক্সে বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেপজা) এবং হুয়ারান টেক্স কোম্পানি লিমিটেডের মধ্যে এ বিষয়ে ভূমি ইজারা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।
চুক্তিতে বেপজার সদস্য (বিনিয়োগ উন্নয়ন) মো. তানভীর হোসেন এবং হুয়ারান টেক্স কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিন ওয়াং নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে স্বাক্ষর করেন| অনুষ্ঠানে বেপজার নির্বাহী চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মোহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
চুক্তি অনুযায়ী, ৩৬ হাজার বর্গমিটার জমির ওপর কারখানাটি স্থাপন করা হবে| পূর্ণ উৎপাদনে গেলে কারখানাটি বছরে ২৪ হাজার টন সুতা এবং ২০ মিলিয়ন মিটার গ্রে ওভেন ফেব্রিক উৎপাদনে সক্ষম হবে| এছাড়া প্রকল্পটিতে ৫৮০ জন বাংলাদেশি নাগরিকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বেপজার নির্বাহী চেয়ারম্যান বাংলাদেশ তথা বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চলকে বিনিয়োগের গন্তব্য হিসেবে বেছে নেওয়ায় হুয়ারান টেক্স কোম্পানি লিমিটেডকে ধন্যবাদ জানান।
তিনি আরও বলেন, বিনিয়োগকারীদের জন্য নিরাপদ, আধুনিক ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতে বেপজা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ| পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির সফল ও নির্বিঘ্ন ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনায় সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
অনুষ্ঠানে বেপজার সদস্য (প্রকৌশল) আবদুল্লাহ আল মামুন, সদস্য (অর্থ) আ ন ম ফয়জুল হক, নির্বাহী পরিচালক (এন্টারপ্রাইজ সার্ভিসেস) মো. খুরশিদ আলম, নির্বাহী পরিচালক (প্রশাসন) সমীর বিশ্বাস, বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চলের প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ এনামুল হক, নির্বাহী পরিচালক (জনসংযোগ) এ.এস.এম. আনোয়ার পারভেজসহ বেপজার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং হুয়ারান টেক্স কোম্পানি লিমিটেডের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর গাবতলী বাস টার্মিনাল এলাকায় একটি স্পোর্টস কারে তল্লাশি চালিয়ে বিদেশি পিস্তল ও একটি ম্যাগাজিনসহ এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার (১৮ জুলাই) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক মিরপুর বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আটক সাজ্জাদ হোসেন আশিক (২০) শাহআলী থানাধীন তুরাগ সিটির বাসিন্দা সাহাদাত হোসেন বাপ্পির ছেলে।
জানা যায়, শনিবার (১৮ জুলাই) সকাল আনুমানিক ৬টা ৪০ মিনিটে দারুসসালাম ট্রাফিক জোনে দায়িত্ব পালনকালে সার্জেন্ট অনিরুদ্ধ রায় বেপরোয়া গতিতে চলা হলুদ রঙের একটি নতুন স্পোর্টস কারকে থামানোর সংকেত দেন। চালক প্রথমে গাড়ি থামালেও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে অস্বীকৃতি জানান। এতে তাদের আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে তল্লাশির জন্য চালক ও আরোহীকে গাড়ি থেকে নামতে বলা হয়।
এ সময় চালক হঠাৎ দ্রুতগতিতে গাড়ি নিয়ে পালানোর চেষ্টা করলে সার্জেন্ট অনিরুদ্ধ রায় তাৎক্ষণিক ধাওয়া করেন। পরে গাবতলী বাস টার্মিনাল সংলগ্ন সেলফি কাউন্টারের সামনে থেকে গাড়িটি আটক করা হয়।
খবর পেয়ে সংশ্লিষ্ট এলাকার পুলিশ পরিদর্শক (শহর ও যানবাহন) বিকাসুজ্জামান রনিসহ ট্রাফিক মিরপুর বিভাগের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে গাড়ির আরোহী সাজ্জাদ হোসেন আশিককে আটক করা হয়। পরে তার দেহ তল্লাশি করে একটি বিদেশি পিস্তল ও একটি ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়। আটক ব্যক্তিকে অস্ত্রসহ দারুসসালাম থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনি কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।
ট্রাফিক মিরপুর বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন বলেন, ট্রাফিক মিরপুর বিভাগ সড়কে শৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি অপরাধ প্রতিরোধ ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বদা সতর্ক, সক্রিয় ও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
ছবি: সংগৃহীত
‘পোলা মরছে চোখের পলকে দুই বছর অইয়া গেছে। পোলা তো আর ফিরবে না বিচারের আশায় মামলা করছিলাম। আজও পোলা হত্যার বিচার পাইলাম না।’ অশ্রুভেজা চোখে কথাগুলো বলছিলেন শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার কেরেঙ্গাপাড়া এলাকার আমজাদ হোসেন।
২০২৪ সালের ১৯ জুলাই (রোববার) এই দিনে কোটা সংস্কার আন্দোলনে মারা যায় তার ছেলে আসিফুর রহমান আসিফ। ছেলের রক্তেভেজা সেদিনের সেই শার্টটা দেখিয়ে তিনি বলেন, ‘এটাই আমার ছেলের শেষ স্মৃতি, আর্থিক সহায়তা পেয়েছি, সম্মান পেয়েছি; কিন্তু বিচার তো পাইলাম না। পোলার স্মৃতিগুলো মনে পড়ে; কিন্তু পোলারে তো আর দেখি না। ছেলে হত্যার দ্রুত বিচার দাবি করেন তিনি।
সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই (রোববার) কোটা সংস্কার আন্দোলনে উত্তপ্ত রাজধানীর মিরপুরে মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন গার্মেন্টসকর্মী আসিফুর রহমান আসিফ (১৯)। আসিফ শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার রামচন্দ্রকুড়া ইউনিয়নের কেরেঙ্গাপাড়া গ্রামের আমজাদ হোসেন ও ফজিলা খাতুন দম্পতির ২য় ছেলে।
পরিবারের দেওয়া তথ্যমতে, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই (রোববার) বিকেলে বন্ধুদের সাথে দেখা করার জন্য বাড়ি থেকে বের হয় আসিফুর। পরে রাস্তাতেই কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে পুলিশের গুলি এসে তার মাথায় লাগে। সেখান থেকে স্থানীয়রা তাকে মিরপুর আলোক হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে তার বাবা আমজাদ আলী ফোনে ছেলের অ্যাক্সিডেন্টের খবর শোনে আলোক হাসপাতাল গিয়ে দেখে আসিফের মাথার ডানপাশে গুলি লেগেছে। সেখান থেকে ছেলেকে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নিয়ে ব্যান্ডেজ করিয়ে রিকশায় নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার আসিফকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে লাশ নিয়ে এসে গ্রামের কবরস্থানে দাফন করা হয়।
আসিফুরের মা ফজিলা খাতুন জানান, দুই ছেলে চার মেয়ের মধ্যে আসিফ ছিল দ্বিতীয়। বাবা আমজাদ হোসেন ছোটখাটো ব্যবসা করে যখন পরিবারের খরচ মেটাতে পারছিল না, তখন আসিফ ঢাকায় গিয়ে গার্মেন্টসে চাকরি নেয়। ১৩ হাজার টাকা বেতনের চাকরিতে ভালোই দিন চলছিল। স্মৃতিচারণের সময় আসিফের পরিবারের সদস্যদের চোখ থেকে পানি পড়ছিল।
পরবর্তীতে সরকার পতনের পর ওই বছরের ২ নভেম্বর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২০১ জনকে আসামি করে ঢাকার একটি আদালতে আসিফুরের বাবা আমজাদ হোসেন বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলা দায়েরের কিছুদিন পর আসিফের গ্রামের বাড়ি কেরেঙ্গাপাড়া কবরস্থান থেকে মরদেহ উত্তোলন করা হয় সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন সম্পন্নের জন্য।
নালিতাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল মালেক বলেন, ‘আমরাও চাই জুলাই আন্দোলনে নিহত সকল শহীদদের হত্যার বিচার হোক।’
ছবি: সংগৃহীত
ঝালকাঠি শহরের টিএনটি এলাকায় একটি তিনতলা আবাসিক ভবনের প্রতিটি ফ্লোরে একযোগে দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটেছে।
এ সময় ভবনের নিচতলায় একা থাকা এক নারীকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। গত শুক্রবার (১৭ জুলাই) দুপুরের কোনো একসময় এ ঘটনা ঘটে বলে ধারণা করছে পুলিশ। ঘটনাটি বাড়ির মালিক টের পেয়েছে সন্ধ্যার পর।
নিহত চল্লিশোর্ধ্ব নারী মলিনা রায় ভবনটির নিচতলায় ভাড়া থেকে টেইলারিং কাজ করতেন। ভবনটির মালিক তপন হাওলাদার মাঝের তলায় এবং উপরতলায় ভাড়াটিয়ারা বসবাস করেন।
জানা গেছে, ঘটনার সময় ভবনের মালিক ও ভাড়াটিয়াসহ সবাই রথযাত্রায় অংশ নিতে বাইরে ছিলেন। এই সুযোগে দুর্বৃত্তরা ভবনের তিনটি ফ্লোরেই চুরি চালায়।
সন্ধ্যায় বাসায় ফিরে তারা ঘরের মালামাল এলোমেলো অবস্থায় দেখতে পান। নিচতলায় গিয়ে মলিনা রায়কে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে পুলিশকে খবর দিলে ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।
প্রাথমিকভাবে চুরিতে কী পরিমাণ মালামাল খোয়া গেছে, তা এখনো নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। পুলিশ, র্যাব ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহ করেছে।
এ বিষয়ে সদর থানার ওসি মাহমুদ হাসান জানায়, প্রাথমিকভাবে এটি একটি চুরির ঘটনা বলেই মনে হচ্ছে। চুরির সময় মলিনা রায়কে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।
নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনায় এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ দ্রুত জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য কাজ করছে।
ছবি: সংগৃহীত
ভারতীয় নারী রেশমা ও তার সন্তানকে অবৈধ অনুপ্রবেশ আইনে মামলায় পুলিশে সোপর্দ করেছে বিজিবি। শনিবার (১৮ জুলাই) ভোর রাতে বর্ডার গার্ড বিজিবি সদস্যরা তাদের পুলিশে সোপর্দ করে বলে নিশ্চিত করেছেন বেনাপোল পোর্টথানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফ হোসেন।
ওসি জানান, ওই নারী ও তার শিশুসন্তান পুলিশ হেফাজতে আছে। শনিবার (১৮ জুলাই) দুপুরে তাদের যশোর আদালতে সোপর্দ করা হবে।
স্থানীয়রা মনে করছেন, এবার বৈধ প্রক্রিয়ার নিজ দেশে ফেরার পথ তৈরি হবে অসহায় নারী ও তার সন্তানের।
রেশমা খাতুনের দাবি ছিল তিনি ভারতের বাসিন্দা। তার ৩ সন্তান ও স্বামী আছে। তারা ভারতে আছে। মুম্বাইয়ের একটি কারখানায় কাজ করার সময় পুলিশ তাকে এবং আরও কয়েকজনকে আটক করে। তিনি বারবার নিজেকে ভারতীয় নাগরিক বলে পরিচয় দিলেও পুলিশ তা আমলে নেয়নি। পরে তাকে অন্যদের সঙ্গে বিমানে কলকাতায় নেওয়া হয়। সেখান থেকে গভীর রাতে চট্টগ্রাম সীমান্ত দিয়ে জোরপূর্বক বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন।
বাংলাদেশে তার কোনো আত্মীয়-স্বজন বা পরিচিত না থাকায় তিনি চরম বিপাকে পড়েন। পরে স্থানীয় পথচারীরা তাকে সহায়তা করে বাসে তুলে বেনাপোলে পাঠিয়ে দেন।
উল্লেখ্য, ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক বাংলাদেশে পুশইন প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, শুধু ভারতে দির্ঘ বছর ধরে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকই নয়, ভারতীয় বংশোদ্ভূত নাগরিকদেরও অনেককে বাংলাদেশি পরিচয় দিয়ে জোরপূর্বক সীমান্ত পার করে বাংলাদেশে পাঠানো হচ্ছে। এদের মধ্যে রেশমা ও তার সন্তান এমন অমানবিক ঘটনার শিকার।
মন্তব্য