× হোম রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া সিটিজেন জার্নালিজম বিচিত্র ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য আফগানিস্তান ১৫ আগস্ট কী-কেন স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও যৌনতা-প্রজনন ইউরোপ অন্যান্য উদ্ভাবন প্রবাসী আফ্রিকা ক্রিকেট শারীরিক স্বাস্থ্য আমেরিকা দক্ষিণ এশিয়া সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ মানসিক স্বাস্থ্য ব্লকচেইন অন্যান্য ভাষান্তর ফুটবল অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
Widow Fuljans inhuman life in a dilapidated house in Goland
google_news print-icon

গোয়ালন্দে জরাজীর্ণ ঘরে বিধবা ফুলজানের মানবেতর জীবনযাপন

গোয়ালন্দে-জরাজীর্ণ-ঘরে-বিধবা-ফুলজানের-মানবেতর-জীবনযাপন
ছবি: সংগৃহীত

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে জরাজীর্ণ ঘরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন ফুলজান বিবি (৮৫)। সামান্য ঝড়-বৃষ্টিতে ওই জরাজীর্ণ ঘরে দুর্ভোগ ও ভোগান্তিতে পড়েন তিনি। এ বিড়ম্বনা থেকে রক্ষা পেতে সরকারের কাছে একটি ঘর চেয়েছেন তিনি।

ফুলজান গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের রিয়াজ উদ্দিন পাড়া এলাকার মৃত গিরানি শেখের স্ত্রী। প্রায় দুই যুগ আগে তাঁর স্বামী মারা গেছেন। তাঁর এক ছেলে

বুদ্ধি প্রতিবন্ধী নুর ইসলাম (৩২) শ্রমিকের কাজ করেন। ঘরটিতে মা, ছেলে, মেয়ে ও নাততি নিয়ে তারা বসবাস করেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ছোট্ট একটি টিনের ঝুপড়ি ঘরের ভাঙা চকিতে অসহায়ভাবে শুয়ে আছেন বৃদ্ধা ফুলজান বিবি। ঘরে বেড়া নেই বললেই চলে। ঘরটিতে ভাঙাচোড়া টিন দিয়ে কোনমতে আটকানো আছে। রোদ-বৃষ্টি খুব সহজেই ঘরে প্রবেশ করে। ব্রেইন স্ট্রোক ও বয়সের ভারে ন্যুব্জ ফুলজান বিবি কিছুই বুঝতে পারেনা। তার মেয়ে ও নাততি প্রতিদিনের মতো সকালেই ভিক্ষা করতে বেরিয়ে যায়। ফুলজান দু-একটি কথা বলেন, তা–ও অস্পষ্ট।

ফুলজানের ছেলে নুর ইসলাম বলেন, তিনি অসুস্থ, গরিব মানুষ। কোনরকম বিভিন্ন চায়ের দোকান ও অন্যান্য স্থানে শ্রমিকের কাজ করে বোন, ভাগ্নি ও মাকে নিয়ে জরাজীর্ণ ঘরে একটি চৌকিতে থাকেন। তিনি বিবাহ করেননি। সামান্য আয়ে সংসার চালানো কষ্ট হয়। এর মধ্যে মা ফুলজান বিবির ও বোন ভাগ্নির ভরণপোষণ তিনিই চালান। তাঁর থাকার ঘরটিও জরাজীর্ণ। ভাত জোগাড় করাই যেখানে কঠিন, সেখানে ঘর করে দেবেন কে ?

নুর ইসলাম আরও বলেন, তাঁর মা বয়স্ক ভাতা পাননা। তাঁদের আড়াই শতাংশ জমি আছে। সরকার থেকে ওই জমিতে একটি ঘর করে দিলে বৃদ্ধ মাকে নিয়ে একটু শান্তিতে থাকতে পারতেন। তাই মায়ের জন্য একটি ঘর চেয়েছেন নুর ইসলাম।

স্থানীয় বাসিন্দা স্কুল শিক্ষক মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, দরিদ্র বৃদ্ধ ফুলজান বিবি খুবই মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তাঁর অসুস্থ ছেলে তাঁকে খুব কষ্টে ভরণপোষণ দেন। সরকারিভাবে একটি ঘর দিলে তাঁদের খুব উপকার হতো।

গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাথী দাস বলেন, আমি শুনেছি তারা জরাজীর্ণ একটি ঘরে মানবেতর জীবন যাপন করছে এবং শুনেছি তারা ভিক্ষা করেন। আমি খোঁজ নিয়ে দেখছি তাদের ভিক্ষুক পুনর্বাসন করে দিতে পারি নাকি। তবে খুব শিগগিরই তিনি ফুলজান বিবি ও তার জরাজীর্ণ ঘরটি দেখতে যাবেন।

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
The family wants investigation into the mystery surrounding the death of national medalist diver Sadiq

রাষ্ট্রীয় পদকপ্রাপ্ত ডুবুরি সাদিকের মৃত্যু ঘিরে রহস্য, তদন্ত চায় পরিবার

রাষ্ট্রীয় পদকপ্রাপ্ত ডুবুরি সাদিকের মৃত্যু ঘিরে রহস্য, তদন্ত চায় পরিবার ছবি: সংগৃহীত

আমার বুকের ধন, আমার চোখের মনি, কোথায় চলে গেলিরে তুই! আমার বুকে আর কোনো দিন ফিরে আসবে না আমার সোনার ছেলে। রাষ্ট্রীয় পদকপ্রাপ্ত ডুবুরি সাদিক হোসেন শুভর পদক বুকে নিয়ে এভাবেই আহাজারি করছেন সাদিকের মা।

সাদিকের মা কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) আমার বুকের ধন সাদিক ওর বাবার কাছে ফোন করে ৫ হাজার টাকা চেয়েছিল। সাদিকের সাথে আমার তিন দিন আগে কথা হয়েছিল। সামনে সপ্তাহে বাড়িতে আসবে বলে জানিয়েছিল। আমার সোনার ছেলে আর মা বলে আমাকে ডাকবে না, আমি কি নিয়ে বেঁচে থাকব। আমার ছেলে এভাবে চলে যাবে আমি তা মেনে নিতে পারছি না। আমি আমার ছেলের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি।’

নিহত সাদিক রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ড কুমড়াকান্দি গ্রামের আশরাফ আলী শেখের ছেলে। দুই ভাই, দুই বোনের মধ্যে সাদিক মেজো। ডুবুরি হিসেবে রাষ্ট্রীয়ভাবে ফায়ার সার্ভিস পদক পাওয়া সাদিক চমৎকার ফুটবলও খেলতেন।

জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সন্ধ্যার দিকে নারায়ণগঞ্জ কেরোসিন ঘাট এলাকা থেকে নিখোঁজের ৮ ঘণ্টা পর নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স সদস্যরা সাদিকের মরদেহ উদ্ধার করেন। এর আগে বেলা ১১টার দিকে নগরীর নিতাইগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীর ফায়ার ঘাট এলাকায় পন্টুনের সামনে কচুরিপানা পরিষ্কার করতে গিয়ে স্পিডবোট থেকে পড়ে নিখোঁজ হন সাদিক। নারায়ণগঞ্জ নদী ফায়ার স্টেশনের একজন প্রশিক্ষিত ডুবুরি ছিলেন তিনি। পানিতে ডুবে নিখোঁজ ব্যক্তিদের উদ্ধার করাই ছিল তার কাজ। তিনি সেরা ডুবুরি হিসেবে রাষ্ট্রীয়ভাবে ফায়ার সার্ভিস পদক পেয়েছিলেন।

গোয়ালন্দ ফুটবল একাডেমির চেয়ারম্যান মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ‘সাদিক চমৎকার ফুটবল খেলতেন। গোয়ালন্দ ফুটবল একাডেমিসহ গোয়ালন্দের অনেক ফুটবল দলের গোলরক্ষকের দায়িত্ব পালন করতেন। সাদিক একজন নম্র-ভদ্র ও ভালো ছেলে। সাদিকের অকাল মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত।’

ঢাকা ফায়ার সার্ভিসের প্রধান কার্যালয়ে জুম্মার নামাজ শেষে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে তার মরদেহ বাড়িতে এনে সন্ধ্যার পর জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়। তার মৃত্যুতে রহস্য লুকিয়ে আছে। প্রকৃতভাবে তদন্ত করে বিষয়টি পরিষ্কার করতে সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করছি।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Perennial watermelon cultivation is becoming popular in Kurigram as a climate adaptation method

কুড়িগ্রামে জলবায়ু অভিযোজন পদ্ধতিতে জনপ্রিয় হচ্ছে বারোমাসি তরমুজ চাষ

কুড়িগ্রামে জলবায়ু অভিযোজন পদ্ধতিতে জনপ্রিয় হচ্ছে বারোমাসি তরমুজ চাষ ছবি: সংগৃহীত

জলবায়ু ও আবহাওয়ার পরিবর্তন এখন দৃশ্যমান কুড়িগ্রামে। প্রতি বছর জলবায়ুর প্রভাবে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ে জেলার কৃষকরা। এসব ক্ষতি মোকাবিলায় জেলার কৃষকরা এখন জলবায়ু অভিযোজন পদ্ধতিতে অমৌসুমি বা বারোমাসি ফসল চাষাবাদ করে ক্ষতি কাটিয়ে উঠছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, জেলার রাজারহাট উপজেলার ছিনাই ইউনিয়নের ঝাড়খোলা গ্রামের কৃষক জামান মিয়া অমৌসুমি বা বারোমাসি তরমুজ চাষ করেছেন। মাত্র ২৫ শতক জমিতে পলিটানেল পদ্ধতিতে ব্যবহার করে তিনি সাড়ে ৩ শতাধিক তরমুজের চারা রোপণ করেছেন। জমির চারপাশে নাইলন জালের বেড়া এবং পলিটানেল পলিথিনের সুড়ঙ্গাকার ছাউনি দিয়েছেন। এর মধ্যে জিআই তার ও বাঁশের তৈরি মাচাসহ ফেরোমন, বিষটোপ ও হলুদ ফাঁদ ব্যবহার করেছেন। যা কৃষিতে গ্রিনহাউসের মতো কাজ করে। এটি ফসলকে অতিরিক্ত ঠাণ্ডা, অতিবৃষ্টি এবং তাপমাত্রাসহ ক্ষতিকারক পোকামাকড় এবং পাখির আক্রমণ থেকে গাছ ও ফল রক্ষা করে। এ ছাড়া ছত্রাকজনিত রোগের প্রভাবও হ্রাস পায়। পলিটানেলের ভেতরে আর্দ্রতা সংরক্ষিত থাকে। এর ফলে বাষ্পীভবন কমে যায় এবং মাটিতে জলের অপচয় অনেক কম হয়। নিয়ন্ত্রিত ও অনুকূল পরিবেশ পাওয়ার কারণে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি পরিমাণে এবং উন্নত মানের ফসল উৎপাদন করার পাশাপাশি উৎপাদন খরচ কম হয়।

সদর উপজেলার কাঁঠালবাড়ি ইউনিয়নের খালিশা কালোয়া গ্রামের কৃষক জিয়াউর রহমান ১৫ শতক জমিতে ৩ শতাধিক বারোমাসি তরমুজ চাষ করেছেন। যা দেখতে ছোট, লম্বাটে, ডিম্বাকার, কালো খোসা, ভেতরে টকটকে লাল শাঁসযুক্ত তরমুজ। তরমুজগুলো অসময়ে ওঠার কারণে বাজারে চাষিরা ভালো দাম পাচ্ছেন। দিন দিন অমৌসুমি তরমুজ চাষ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে জেলায়। ছোট আকারের বারোমাসি তরমুজের বেশ কয়েকটি জাতের বীজ এ দেশে এখন পাওয়া যাচ্ছে। এসব জাতের মধ্যে হাইব্রিড চায়না, থাইল্যান্ড, সুইট বেবিু, সুইটকর্ন ইত্যাদি। এসব জাত বছরের যেকোনো সময় চাষ করা যায়। মার্চের মাঝামাঝি থেকে জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত এ জাতের তরমুজের চারা লাগানো যায়। বিঘায় ১২০০ থেকে ১৪০০টি চারা লাগানো যায়। এ ছাড়া বারোমাসি তরমুজ চাষের জন্য বিঘাপ্রতি জৈব সার বা ভামিং কম্পোস্ট ২০০ কেজি, ইউরিয়া ৪০ কেজি, টিএসপি ৪০ কেজি, এমওপি ৪০ কেজি, জিপসাম ২০ কেজি, জিংক সালফেট ১ কেজি ও বোরণ সার দেড় কেজি। সব সার বেড তৈরির সময় বেডের মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে হয়।

কৃষক গোলজার বলেন, ‘আমি মে মাসের শুরুতে এই তরমুজের চারা রোপণ করেছি। এতে আমার বাঁশের মাচা, শ্রমিক, সারসহ প্রায় ২৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। চলতি মাসের শুরুতেই প্রথম দফায় আমি ৭০টি তরমুজ তুলেছি। প্রতিটি তরমুজ গড়ে ৩-৪ কেজি ওজন হয়েছে, দুই হাজার টাকা দরে মণ বিক্রি করেছি। সামনে আরও দুইবার এই তরমুজ তুলতে পারব। সামনে আরও দুইবার ফলন তোলার পাশাপাশি কোনো খরচ না করে পুনরায় দুবার তরমুজ রোপণ করা যাবে। এতে করে বছরে তিনবার তরমুজ এবং একবার সবজি চাষ করা যাচ্ছে।’ ফলে এক জমিতে একাধিকবার আবাদ করে অর্থনৈতিক ভাবে লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা।

জামান মিয়া বলেন, ‘জেলার আবহাওয়ার এখন ঠিক নেই। অতিবৃষ্টি আর তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় আবাদে সমস্যা হচ্ছে। এমনও হয় আবাদ নষ্ট হয়ে যায়। সেই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে এবার পলিটানেল ব্যবহার করে প্রথমবার তরমুজ চাষ করতেছি। পলিটানেল ব্যবহারের ফলে অতিবৃষ্টি ও অতিতাপ নিয়ন্ত্রণ হয়। এ ছাড়া জৈব সার, মালচিং পদ্ধতি, বাঁশের তৈরি মাচা, জিআই তার, নাইলনের জাল, ফেরোমন, হলুদ ফাঁদ, বিষটোপ ব্যবহার করে বারোমাসি তরমুজ আবাদ করছেন।

কৃষাণি জেসমিন আরা এবং খাদিজা বলেন, ‘অমৌসুমি বা বারোমাসি তরমুজ আবাদ করে কৃষকরা বছরে ৩ থেকে ৪ বার ফসল ফলিয়ে খাদ্য নিজেদের চাহিদা পূরণ করে বাজারে বিক্রি করে আর্থিক লাভবান হচ্ছেন।’

আরডিআরএস, বাংলাদেশ রংপুর বিভাগীয় ব্যবস্থাপক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের এই অঞ্চলের কৃষকরা তাদের জমি যেন সারা বছর উৎপাদনমুখী হয় সে জন্য আরডিআরএস ও পল্লী-কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের আর্থিক-কারিগরি সহায়তা প্রদান করছে। এই কার্যক্রম জেলায় ছড়িয়ে দিতে আমরা কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করছি।’

কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক কৃষিবিদ মেহিদী হাসান বলেন, ‘কুড়িগ্রাম সদর, রাজারহাট, ভূরুঙ্গামারী এবং উলিপুর ৩৫ একর জমিতে তরমুজ চাষ হয়েছে। অমৌসুমি বা বারোমাসি তরমুজ চাষ করে এই অঞ্চলের কৃষকরা ভালো মুনাফা পাচ্ছেন। ফলে অনেক কৃষক আগ্রহী হয়ে উঠছেন। আমরা কৃষক বিভাগ থেকে তাদের প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দিচ্ছি।’

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Hajimuls life has changed in bamboo handicrafts earning 40000 a month

বাঁশের হস্তশিল্পে বদলেছে হাজিমুলের জীবন, মাসে আয় ৪০ হাজার

বাঁশের হস্তশিল্পে বদলেছে হাজিমুলের জীবন, মাসে আয় ৪০ হাজার ছবি: সংগৃহীত

অভাবের সংসারে একসময় দিনমজুর হিসেবে অন্যের বাড়িতে কাজ করেই জীবিকা নির্বাহ করতেন হাজিমুল ইসলাম। পরিবারের নিত্যপ্রয়োজন মেটাতেই যেখানে হিমশিম খেতে হতো, সেখানে আজ তিনি সফল উদ্যোক্তা। নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নের ঠেলাপীর এলাকার উত্তর সোনাখুলী ডাঙ্গাপাড়ার এই উদ্যোক্তার প্রতিষ্ঠিত ‘আরিফুল হস্ত শিল্প’-এ তৈরি পরিবেশবান্ধব বাঁশ ও বেতের পণ্য এখন দেশের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রের পাশাপাশি বায়ারদের মাধ্যমে ইউরোপের বাজারেও পৌঁছাচ্ছে।

হাজিমুল ইসলামের উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার গল্পটি সংগ্রামের। দীর্ঘদিন অন্যের অধীনে সিলিং তৈরির কাজ ও দিনমজুরি করলেও নিজের কিছু করার স্বপ্ন ছিল। অর্থের সংকট সেই স্বপ্নকে থামাতে পারেনি। স্মার্টফোনে ইউটিউব দেখে বাঁশের বিভিন্ন পণ্য তৈরির কৌশল রপ্ত করেন তিনি। পরে বাড়ির পাশের বাঁশঝাড় থেকে বাঁশ কেটে কয়েকটি পানির মগ তৈরি করেন। সেই মগের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের পরই আসে ক্রেতাদের সাড়া। সেখান থেকেই শুরু হয় তার উদ্যোক্তা হওয়ার পথচলা।

ক্রমেই চাহিদা বাড়তে থাকলে ছোট উদ্যোগকে সম্প্রসারণ করে গড়ে তোলেন ‘আরিফুল হস্ত শিল্প’। বর্তমানে সেখানে আধুনিক ডিজাইনের বাঁশের মগ, ট্রে, ল্যাম্পশেড, ফুলদানি, শোপিস, ফল ও সবজি রাখার ঝুড়ি, ঘর সাজানোর বিভিন্ন সামগ্রী এবং বাঁশের তৈরি সোফাসেটসহ নানা ধরনের হস্তশিল্প তৈরি হচ্ছে।

অনলাইনের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকার ও খুচরা ক্রেতারা নিয়মিত অর্ডার দিচ্ছেন। রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান ও কক্সবাজারের পর্যটন এলাকাগুলোতেও এসব পণ্যের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এ ছাড়া বায়ারদের মাধ্যমে ইউরোপের বিভিন্ন দেশেও রপ্তানি হচ্ছে এসব পরিবেশবান্ধব পণ্য।

হাজিমুল ইসলামের এই উদ্যোগ শুধু তার নিজের জীবনই বদলে দেয়নি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে আরও ১৫ জন নারী-পুরুষের। কারখানায় কাজ করে এখন অনেক পরিবারের জীবনযাত্রায় এসেছে সচ্ছলতা।

কারখানার শ্রমিক মনোয়ারা বেগম বলেন, ‘আগে সংসারে সবসময় অভাব ছিল। এখন এখানে কাজ করে নিয়মিত আয় করছি। ছেলে-মেয়েদের পড়াশোনার খরচ চালানোর পাশাপাশি সংসারেও সহযোগিতা করতে পারছি।’

শ্রমিক হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘প্লাস্টিকের ব্যবহার বাড়ার পর বাঁশের কাজ ছেড়ে দিতে হয়েছিল। এখন আবার এই কারখানায় কাজ করে স্বাভাবিকভাবে জীবনযাপন করতে পারছি।’

আরেক শ্রমিক ববিতা রানি রায় বলেন, ‘এই কাজের আয় দিয়ে সন্তানদের পড়াশোনা ও পরিবারের খরচ চালাতে অনেক সহায়তা হচ্ছে।’

উদ্যোক্তা হাজিমুল ইসলাম বলেন, ‘আমি আগে অন্যের বাড়িতে সিলিং তৈরির কাজ করতাম। পরে ইউটিউব দেখে বাঁশের মগ তৈরি শুরু করি। আল্লাহর রহমতে আজ আমার পণ্য দেশের বিভিন্ন জেলায় যাচ্ছে, এমনকি ইউরোপেও রপ্তানি হচ্ছে। মাসে প্রায় ৪০ হাজার টাকা আয় হয়। সবচেয়ে বড় বিষয়, আমার সঙ্গে আরও ১৫টি পরিবার জীবিকা নির্বাহ করছে। সরকারি প্রশিক্ষণ, আধুনিক যন্ত্রপাতি ও সুদমুক্ত ঋণের ব্যবস্থা হলে উৎপাদন ও রপ্তানি আরও বাড়ানো সম্ভব হবে।’

নীলফামারী বিসিক জেলা কার্যালয়ের উপব্যবস্থাপক নূরেল হক বলেন, ‘হাজিমুল ইসলামের উদ্যোগটি অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। বিসিকের পক্ষ থেকে তাকে এক লাখ টাকা বিনাসুদে ঋণ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কারখানার শ্রমিকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। উৎপাদন ও বাজার সম্প্রসারণে প্রয়োজনীয় সহায়তাও অব্যাহত থাকবে।’

স্থানীয় সম্পদকে কাজে লাগিয়ে পরিবেশবান্ধব পণ্য উৎপাদনের মাধ্যমে হাজিমুল ইসলামের এই উদ্যোগ এখন গ্রামীণ ক্ষুদ্র শিল্পের একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং সহজ শর্তে অর্থায়নের সুযোগ বাড়ানো গেলে এমন উদ্যোগ দেশের কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি রপ্তানি আয় বৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Due to continuous rain in Khulna the loss of fish and vegetable cultivation is about 11 crore rupees

খুলনায় টানা বৃষ্টিতে মাছ ও সবজি চাষে ক্ষতি প্রায় ১১ কোটি টাকা

খুলনায় টানা বৃষ্টিতে মাছ ও সবজি চাষে ক্ষতি প্রায় ১১ কোটি টাকা ছবি: সংগৃহীত

গত ৯ থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত টানা ৪ দিনের অতিবৃষ্টিতে খুলনা জেলায় মাছ চাষ ও সবজি চাষে প্রায় ১১ কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে। খুলনা জেলার কৃষি সম্প্রসারণ ও জেলা মৎস্য অধিদপ্তর সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, দুর্যোগপূর্ণ এই আবহাওয়ায় জেলার মৎস্য চাষ ও কৃষি খাতে ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১১ কোটি টাকায়। আকস্মিক এই বন্যায় তলিয়ে গেছে শত শত ঘের ও ফসলি জমি, যা দুশ্চিন্তায় ফেলেছে স্থানীয় চাষিদের।

খুলনা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বদরুজ্জামান জানান, খুলনা জেলার ৯টি থানায় ৪ দিনের অতি বৃষ্টিতে মোট ৮টি ইউনিয়ন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে সব থেকে বেশি দিঘলিয়াতে হয়েছে ৪টি। মোট খতিগ্রস্ত পুকুর, দিঘি ঘেরের সংখা ১,৪৬২টি।

তিনি আরও জানান, এই চার দিনে মোট ক্ষতির আর্থিক হিসাব প্রায় ১০ কোটি ৭৫ লাখ টাকা, যার ৬০ শতাংশই চিংড়ি চাষিদের ক্ষতির পরিমাণ।

খুলনা বিভাগের চিংড়ি চাষের কেন্দ্র স্থল ডুমুরিয়াতে প্রায় ৬৫০টি ঘেরে মাছ চাষিদের ক্ষতি হয়েছে সব থেকে বেশি, যার পরিমান ৮ কোটি ৬০ লাখ টাকা। এর মধ্যে সাদা মাছ চাষিদের ক্ষতি ৪ কোটি ১০ লাখ টাকা ও চিংড়ি চাষিদের ক্ষতি ৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা। আর অবকাঠামো গত ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৬ লাখ টাকার মতো।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, খুলনা অঞ্চলের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ফয়েজ আহম্মেদ মিনা জানান, জেলায় এ মুহূর্তে আউশ ও রোপা আমন ধানের চাষ হচ্ছে। এর পাশাপাশি বিভিন্ন সবজি, তরমুজ, মরিচ, পান ও ধইঞ্চার ও চাষের তথ্য আছে তাদের কাছে।

খুলনা আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, জুলাই (১৪ তারিখ পর্যন্ত) জেলায় মোট বৃষ্টিপাত হয়েছে ৪২৪ মিমি, যা গত বছর ৩৬০ মিমি ছিল।

আগাম প্রস্তুতি না নেওয়া হলে সামনের দিনগুলোতে ক্ষয়ক্ষতি আরও বাড়বে বলেও জানান বিশেষজ্ঞরা।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Jahangir Alam the late president of Mithamain Upazila BNP has completed his funeral

মিঠামইন উপজেলা বিএনপির প্রয়াত সভাপতি জাহাঙ্গীর আলমের জানাজা সম্পন্ন

মিঠামইন উপজেলা বিএনপির প্রয়াত সভাপতি জাহাঙ্গীর আলমের জানাজা সম্পন্ন ছবি: সংগৃহীত

কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলা বিএনপির প্রয়াত সভাপতি এসএম জাহাঙ্গীর আলমের নামাজে জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। শুক্রবার (১৭ জুলাই) জুমার নামাজের পর মিঠামইন হেলিপ্যাড ময়দানে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেন প্রায় লক্ষাধিক শোকার্ত মানুষ। এর আগে গত বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বাদ এশা কিশোরগঞ্জ শহীদী মসজিদে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

মিঠামইন হেলিপ্যাড ময়দানে আয়োজিত এই জানাজায় বাংলাদেশ সরকারের বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী, কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি জনাব শরীফুল আলম, কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান, কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সেক্রেটারি মাজারুল ইসলাম, জেলা আইনজীবি সমিতির সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম রতন, জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক হাজী ইসরাইল মিয়া, জেলা যুবদলের সভাপতি খসরুজ্জামান জিএস শরিফ, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মাসুদ সুমন, অষ্টগ্রাম উপজেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাঈদ আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন মুকুল, ইটনা উপজেলা বিএনপির সভাপতি এস এম কামাল হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকুজ্জামান ঠাকুর স্বপনসহ জেলা ও উপজেলা বিএনপির বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ এবং অঙ্গসংগঠনের কর্মীরা অংশগ্রহণ করেন। জনপ্রিয় এই নেতার শেষ বিদায়ে পুরো এলাকায় এক শোকাবহ ও আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

উল্লেখ্য, গত বুধবার (১৫ জুলাই) রাতে মিঠামইন সদর ইউনিয়নের বেড়িবাঁধ এলাকায় নিজ বাড়ির সামনে দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হয়ে গুরুতর আহত হন জাহাঙ্গীর আলম। পরবর্তীতে কিশোরগঞ্জে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Passenger bus robbery on Chuadanga Darshana highway

চুয়াডাঙ্গা-দর্শনা মহাসড়কে যাত্রীবাহী বাসে ডাকাতি

চুয়াডাঙ্গা-দর্শনা মহাসড়কে যাত্রীবাহী বাসে ডাকাতি ছবি: সংগৃহীত

চুয়াডাঙ্গা-দর্শনা মহাসড়কের দামুড়হুদা উপজেলা সদর ওদুদ শাহ ডিগ্রি কলেজের অদূরে ইটভাটা সংলগ্ন এলাকায় যাত্রীবাহী বাসে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (১৭ জুলাই) ভোরের দিকে সংঘবদ্ধ একদল ডাকাত সড়কে গাছ ফেলে পূর্বাশা পরিবহনের একটি বাসসহ কয়েকটি যানবাহনে ডাকাতি চালায়।

দুপুরে চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশ সুপার রুহুল কবির খান এবং দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ মেসবাহ উদ্দীন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

জানা যায়, ৮ থেকে ১০ জনের একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত দল মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে সড়কের ওপর গাছ ফেলে। প্রথমে তারা দামুড়হুদা দশমী গ্রামের নছর আলীর ছেলে ভ্যানচালক জুয়েলের পথরোধ করে তার কাছ থেকে নগদ টাকা ও একটি বাটন মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়।

পরে ডাকাতরা পূর্বাশা পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস থামিয়ে যাত্রীদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা লুট করে।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
In Gangni 12 injured including children were bitten by stray dogs

গাংনীতে বেওয়ারিশ কুকুরের কামড়ে শিশুসহ আহত ১২

গাংনীতে বেওয়ারিশ কুকুরের কামড়ে শিশুসহ আহত ১২ ফাইল ছবি

মেহেরপুরের গাংনীতে বেওয়ারিশ কুকুরের কামড়ে শিশুসহ অন্তত ১২ জন আহত হয়েছে। শুক্রবার (১৭ জুলাই) দুপুরে গাংনী উপজেলার বামন্দী ইউনিয়নের রামনগর পশ্চিমপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন, একই এলাকার রামনাম পশ্চিম পাড়ার মো জিনারুল ইসলাম, সেন্টু মিয়া, আরিফুল ইসলাম ,জিহাদ আলী, একই এলাকার হেলাল উদ্দিনের স্ত্রী মেহেরনিগা, মুন্নাতের স্ত্রী হামিদা খাতুন, আবু হুরাই, আলিফ হোসেন, ও মহির উদ্দিন এবং নাম না জানা আরো অনেকে। আহতরা অনেকেই হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আরিফুল ইসলাম বলেন, বারো জনকে কুকুরে কামড় দিয়েছে। গত সপ্তাহতেও তিনজনকে কামড় দিয়েছে। দুটি কুকুর এক সাথে লোকজনের উপর ঝাপিয়ে পড়েছিল।

একপর্যায়ে এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করে। স্থানীয়রা পরে একহয়ে কুকুর দুটিকে মেরে ফেলেছে। আহতরা বিভিন্ন জায়গা থেকে চিকিৎসা নিচ্ছে।

মন্তব্য

p
উপরে