মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী বন্যাকবলিত এলাকার মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বন্যার কারণে যোগাযোগ-বিচ্ছিন্ন ও স্বাস্থ্যঝুঁকিতে থাকা দুর্গত মানুষের দোরগোড়ায় চিকিৎসাসেবা ও মানবিক সহায়তা পৌঁছে দিতে এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে শ্রীমঙ্গল ব্যাটালিয়ন (৪৬ বিজিবি)।
বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুরে উপজেলার কুরমাছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিজিবির পক্ষ থেকে একটি জরুরি মেডিকেল ক্যাম্প ও বিনামূল্যে ওষুধ বিতরণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। একই সাথে বন্যাকবলিত পরিবারগুলোর মাঝে রান্না করা খাবারও বিতরণ করা হয়।
দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা ও বিশুদ্ধ পানির সংকটের কারণে বন্যা-পরবর্তী বিভিন্ন পানিবাহিত ও অন্যান্য রোগব্যাধির ঝুঁকি বিবেচনা করে এই ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়। ক্যাম্পে বিজিবির চারজন অভিজ্ঞ চিকিৎসক দায়িত্ব পালন করেন। তারা দিনব্যাপী প্রায় ৪৫০ জন নারী, পুরুষ, শিশু ও বয়স্ক রোগীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বিনামূল্যে ওষুধ ও পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট বিতরণ করেন। চিকিৎসাদানের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক বিভিন্ন পরামর্শও দেওয়া হয়।
শুধু চিকিৎসাসেবা নয়, বন্যার কারণে চরম দুর্ভোগে থাকা ১০০টি পরিবারের মাঝে রান্না করা দুপুরের খাবার বিতরণ করা হয়। কয়েকদিন ধরে পানিবন্দি অবস্থায় থাকা পরিবারগুলো বিজিবির এই মানবিক সহায়তায় স্বস্তি প্রকাশ করেছে।
কার্যক্রম চলাকালে দুর্গত মানুষের খোঁজখবর নেন শ্রীমঙ্গল ব্যাটালিয়ন (৪৬ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সরকার আসিফ মাহমুদ। এ সময় তার সাথে বিজিবির অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
বিজিবি অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সরকার আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘সাম্প্রতিক বন্যায় সীমান্তবর্তী এলাকার বহু মানুষ চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছেন। যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় তাদের কষ্ট লাঘব এবং জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতেই আমাদের এই উদ্যোগ। দেশের যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিজিবি সবসময় সাধারণ মানুষের পাশে ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। পরিস্থিতি বিবেচনায় বন্যাকবলিত এলাকায় আমাদের এই মানবিক সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।’
ছবি: সংগৃহীত
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেছেন, ‘ইটভাটায় জ্বালানি হিসেবে কোনোভাবেই কাঠ পোড়ানো যাবে না। বুধবার (১৫ জুলাই) সচিবালয়ের মন্ত্রণালয়ে সভাকক্ষে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে বাংলাদেশ ব্রিকস ম্যানুফ্যাকচারিং ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিবিএমওএ) সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সাথে এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভায় মন্ত্রী এ মন্তব্য করেন।
ইটভাটা শিল্পের পরিবেশগত প্রভাব, বায়ুমান ব্যবস্থাপনা এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার উদ্দেশ্যে এই সভার আয়োজন করা হয়।
মন্ত্রী বলেন, ‘ইটের বিকল্প এখনো পুরোপুরি তৈরি হয়নি। তাই ইটভাটা বন্ধ না করে, কীভাবে ইটভাটা থেকে সৃষ্ট দূষণ কমানো যায়, সেদিকে দৃষ্টি দিতে হবে। নতুন নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে দূষণ কমাতে হবে।’
মন্ত্রী আরও বলেন, ‘ইট বানাতে জমির উপরিভাগের মাটি ব্যবহার করা হলে জমির উর্বরতা নষ্ট হয়। এর ফলে আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ দিন দিন কমছে। এর বিকল্প ব্যবস্থা নিয়ে আমাদের ভাবতে হবে।’
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘অবৈধ ইটভাটার বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। উচ্চ মাত্রার সালফার সমৃদ্ধ কয়লা ইটভাটায় ব্যবহারের ফলে পরিবেশ দূষিত করে।’ তাই কয়লা ব্যবহারের ক্ষেত্রে এর গুণগত মানের নীতিমালা করা জরুরি বলে মন্তব্য করেন পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী।
বাংলাদেশ ব্রিকস ম্যানুফ্যাকচারিং ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি ফিরোজ হায়দার খান এবং মহাসচিব মমিন উল্লা খানের নেতৃত্বে দেশের বিভিন্ন জেলার উপদেষ্টা ও সহসভাপতিসহ একটি প্রতিনিধিদল সভায় অংশগ্রহণ করেন।
সভায় টেকসই ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির মাধ্যমে ইট উৎপাদন এবং পরিবেশ দূষণ কমিয়ে আনার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়, পাশাপাশি অ্যাসোসিয়েশনের নেতারাও তাদের বিভিন্ন দাবি ও প্রস্তাবনা তুলে ধরেন। তাদের যৌক্তিক দাবি বিবেচনা করা হবে বলে সভায় সিদ্ধান্ত হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানম।
সভায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ ও আইন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. মো. সাইদুর রহমান, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. লুৎফর রহমান, অতিরিক্ত মহাপরিচালকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ছবি: সংগৃহীত
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মানিকনগর এলাকায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে এডিস মশার লার্ভা ও প্রজনন স্থান ধ্বংসে বিশেষ ভ্রাম্যমাণ আদালত (মোবাইল কোর্ট) পরিচালনা করা হয়েছে।
বুধবার (১৫ জুলাই) ডিএসসিসির অঞ্চল-৫ এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবু আসলামের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
ডিএসসিসি কর্তৃক বারবার সচেতন ও সতর্ক করার পরও অবহেলা করায় অভিযানে ৫টি বাসাবাড়ি ও স্থাপনায় এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যায়। এ অপরাধে স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন, ২০০৯ অনুযায়ী ৫টি মামলায় সর্বমোট ৩১ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। পাশাপাশি, লার্ভা পাওয়া স্থানগুলো লাল চিহ্ন দিয়ে চিহ্নিত করে দেওয়া হয়েছে।
ডিএসসিসি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চলমান বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গুর প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের এই বিশেষ মশকনিধন অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের সংখ্যা আরও বৃদ্ধি করা হবে।
ছবি: সংগৃহীত
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, ‘প্রাণিসম্পদ ও মৎস্য খাতের টেকসই উন্নয়নে দেশের উদ্যোক্তাদের সমন্বিত তালিকা প্রণয়ন করা হবে।’
তিনি বলেন, ‘শিক্ষিত তরুণরা বাণিজ্যিক ও বিজ্ঞানভিত্তিক খামার ব্যবস্থাপনায় এগিয়ে এলে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পাবে, ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং দেশের খাদ্য নিরাপত্তা আরও সুদৃঢ় হবে।’
বুধবার (১৫ জুলাই) মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত বিভাগীয় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ পরিচালকদের সঙ্গে ভার্চুয়াল (জুম) সভায় অংশগ্রহণ করে প্রতিমন্ত্রী এ কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বিভাগীয় পরিচালক, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে সারাদেশের খামারি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতসংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তাদের জাতীয় ডাটাবেজ তৈরির মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করে সমস্যার সমাধানে কাজ করতে হবে।’
সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, ‘শিক্ষিত উদ্যোক্তা পরিকল্পিতভাবে খামার পরিচালনা করেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সার, খাদ্য ও অন্যান্য উপকরণ ব্যবহার করেন। ফলে উৎপাদন ব্যয় কমে এবং লাভজনকতা বাড়ে। অন্যদিকে অপরিকল্পিতভাবে উপকরণ ব্যবহার করলে উৎপাদন খরচ বেড়ে যায় এবং খামারিরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন।’
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘তালিকা প্রণয়নের পর বিভাগভিত্তিক খামারিদের সঙ্গে ধারাবাহিক মতবিনিময় সভা হবে। এসব সভায় তাদের সমস্যা, সম্ভাবনা, প্রতিবন্ধকতা ও করণীয় বিষয়ে সরাসরি মতামত নেওয়া হবে। এর মাধ্যমে বাস্তবসম্মত নীতি ও কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা সহজ হবে।’
সরকার এই খাতের উন্নয়নে অত্যন্ত আন্তরিক জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের উদ্যোক্তার সংখ্যা বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং উৎপাদন বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। সে লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকার মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতকে আরও শক্তিশালী করতে কাজ করছে।’
খামারিদের সঠিক তথ্য সংগ্রহ ও দ্রুত তালিকা প্রস্তুত করতে কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি এ বিষয়ে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করতে কর্মকর্তাদের আহ্বান জানান।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. ইমাম উদ্দীন কবীর, অতিরিক্ত সচিব সৈয়দা নওয়ারা জাহান, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনক, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. মো. বয়জার রহমান, প্রতিমন্ত্রীর একান্ত সচিব মো. আবুবকর সরকার। সভায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের বিভাগীয় পরিচালকরা ভার্চুয়ালি অংশ নেন।
ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর যানজট নিরসন এবং সুশৃঙ্খল গণপরিবহন ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে মহাখালী বাস টার্মিনাল থেকে পূর্বাচলের নবনির্মিত অস্থায়ী ডিপোতে বাস স্থানান্তর কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুরে মহাখালী বাস টার্মিনালের সামনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উদ্বোধন করেন পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ। সভাপতিত্ব করেন ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) আনিছুর রহমান। এ সময় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব মো. সাইফুল ইসলাম, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সেক্রেটারি হুমায়ুন কবির খান, ঢাকা সড়ক পরিবহন সমিতির সভাপতি আব্দুল বাতেন, পরিবহন মালিক-শ্রমিক নেতৃবৃন্দ, ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় মহাখালী টার্মিনালকেন্দ্রিক যানজট নিরসনের লক্ষ্যে গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পূর্বাচলের নবনির্মিত অস্থায়ী ডিপোতে বাস স্থানান্তরের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। বক্তারা বলেন, এ উদ্যোগের মাধ্যমে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এ এলাকায় যানজট কমবে, যাত্রীসেবার মান উন্নত হবে এবং সড়ক ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর হবে। পাশাপাশি নগরবাসীর নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
মহাখালী বাস টার্মিনালটি ঢাকা শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত। টার্মিনালের ভেতরে আনুমানিক ৪০০টি বাস রাখার স্থান থাকলেও প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১ হাজার ৫০০টি বাস সেখানে আসা-যাওয়া করে। ফলে মূল সড়কে বাস পার্কিংসহ পুরো এলাকায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। এ সমস্যা নিরসনে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক-শ্রমিক সমিতি, রাজউক, সিটি করপোরেশন ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার সমন্বয়ে পূর্বাচলের ৩ নম্বর সেক্টরে রাজউকের মালিকানাধীন প্রায় ১০ একর জমিতে অস্থায়ী বাস ডিপো নির্মাণ করা হয়েছে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস বলেন, এ উদ্বোধনের মাধ্যমে সরকারের নেওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগের বাস্তবায়ন শুরু হলো। এর ফলে মহাখালীকেন্দ্রিক যানজট বহুলাংশে কমবে এবং ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তিনি এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট পরিবহন মালিক-শ্রমিক সংগঠন, ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ, রাজউক, সিটি করপোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে ধন্যবাদ জানান।
ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ঢাকার যানজট নিরসনে এটি একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ। এর সফল বাস্তবায়ন রাজধানীর সড়ক ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
উদ্বোধন শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে বাস স্থানান্তর কার্যক্রমের সূচনা করা হয়। এ কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
ছবি: সংগৃহীত
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি, চেতনা ও মুক্তির আকাঙ্ক্ষাকে শিল্পের ভাষায় ধারণ ও উদযাপনের লক্ষ্যে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী আর্টক্যাম্প ‘ক্যানভাস ২৪: মুক্তির মহাকাব্য’। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির চারুকলা বিভাগের ব্যবস্থাপনায় বুধবার (১৫ জুলাই) জাতীয় চিত্রশালা প্লাজায় এই আর্টক্যাম্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
বুধবার (১৫ জুলাই) থেকে আগামী শুক্রবার পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিতব্য এই আর্টক্যাম্পে দেশের ৫৫ জন শিল্পী অংশগ্রহণ করছেন। তারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস, আত্মত্যাগ, গণমানুষের সংগ্রাম এবং মুক্তির আকাঙ্ক্ষাকে শিল্পের ভাষায় ক্যানভাসে রূপায়িত করবেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, ‘বিগত সময়ে যে অনিয়ম-অবিচার হয়েছে, তা যেন আর না হয় সেদিকে আমাদের খেয়াল রাখতে হবে। এরই প্রেক্ষাপটে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি, চেতনা ও মুক্তির আকাঙ্ক্ষাকে উপজীব্য করে তিন দিনব্যাপী আর্টক্যাম্প আয়োজন করা হয়েছে। এই আর্টক্যাম্পে যেসব শিল্পী অংশগ্রহণ করছেন, তাদের তুলির ছোঁয়ায় ভেসে উঠবে সেই জুলাইয়ের স্মৃতিগুলো।’
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘মানুষের মধ্যে জুলাই স্পিরিট জাগিয়ে রাখার একটা অংশ হচ্ছে এই আর্টক্যাম্প। যেখানে শিল্পীরা ছবি আঁকবেন এই জুলাইকে কেন্দ্র করে। জুলাইয়ের নানা দিক আছে, ঘটনা আছে, স্পিরিট আছে—নানাভাবে আমরা এটাকে তুলে ধরতে চাই। যত রকম আর্ট ফর্ম আছে সেগুলোর মাধ্যমে আমরা জুলাইকে ধারণ করতে চাই, জুলাইকে ছড়িয়ে দিতে চাই ও জুলাইকে জাগিয়ে রাখতে চাই।’
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক শেখ রেজাউদ্দিন আহমেদ (রেজাউদ্দিন স্টালিন)। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আজহারুল ইসলাম শেখ, শিল্পী মনিরুল ইসলাম এবং শিল্পী ও অধ্যাপক আব্দুস সাত্তার। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলা।
ছবি: সংগৃহীত
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে দুই প্রার্থীর একই স্থানে সভাকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুরে উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের প্রতাপের চর এলাকায় উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি রফিকুল ইসলাম ও উপজেলা যুবদলের সদস্য মাসুম রানার সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়।
বুধবার (১৫ জুলাই) বিকেলে প্রতাপের চর মসজিদের সামনে রফিকুল ইসলামের সভা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এ খবরে মাসুম রানার সমর্থক ইকবাল হোসেন বিশাল প্যান্ডেল করে ভূড়িভোজের আয়োজন করে। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের নেতা-কর্মীর মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। খবর পেয়ে সোনারগাঁ থানা পুলিশ দু’পক্ষের সভা বন্ধ করে দেয়।
জানা যায়, উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম ও উপজেলা যুবদলের সদস্য মাসুম রানা প্রতিদ্বন্দিতা করবেন। এ নিয়ে ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় দুপক্ষের কর্মী সমর্থকদের মধ্যে তর্কবির্তক, হাতাহাতি ও উত্তেজনা চলছে। গতকাল বুধবার বিকেলে রফিকুল ইসলামের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সামনে নির্বাচনী সভা উঠান বৈঠকের আয়োজন করা হয়। এ বিষয়টি জানতে পেরে মাসুম রানার সমর্থক ইকবাল হোসেন গতকাল বুধবার দুপুরে তড়িঘড়ি করে সভা ডেকে ভূড়িভোজের আয়োজন করে। খবর পেয়ে সোনারগাঁ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই পক্ষের সভা বন্ধ করে দেন।
চেয়ারম্যান প্রার্থী রফিকুল ইসলাম জানান, আমাদের সভা পন্ড করার জন্য এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। আমি তাদের সভা অন্যত্র করার জন্য অনুরোধ করার পরও তারা ভূড়িভোজের আয়োজন করে আমাদের ওপর হামলা করার পাঁয়তারা করে। তারা বড় বড় পাতিল এনে রান্না-বান্নার আয়োজন করছিল। তিনি দাবি করেন, মাসুম রানা সমর্থক ইকবাল হোসেন একজন মাদকের ডিলার। পুলিশ তদন্ত করলেই সব পরিষ্কার হয়ে যাবে।
আরেক চেয়ারম্যান প্রার্থী মাসুম রানা জানান, আমরা ১৫ দিন আগেই এ নির্বাচনী সভার আহ্বান করেছি। মা, বোন, কর্মী সমর্থকদের নিয়ে মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন ছিল। হঠাৎ রফিকুল ইসলাম একই জায়গায় সভা ডেকেছেন। পরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুলিশ এসে দু’জনের সভাই বন্ধ করে দিয়েছেন। তবে আমার সমর্থক ইকবাল হোসেনকে নিয়ে মাদকের সম্পৃক্তার বিষয়ে যে মন্তব্য করা হয়েছে তা সত্য নয়।
সোনারগাঁ থানার ওসি মো. গোলাম সারোয়ার বলেন, ‘দুই চেয়ারম্যান প্রার্থী একই স্থানে সভা করার বিষয়টি জানতে পেরে দ্রুত ঘটনা স্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। আইনশৃঙ্খলার অবনতির আশঙ্কায় সভা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।’
সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসিফ আল জিনাত বলেন, ‘দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর একই স্থানে সভা করার বিষয়ে জানেন না। তবে আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটার আশঙ্কায় পুলিশ বন্ধ করে দিয়েছেন।’
ছবি: সংগৃহীত
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় প্রমত্তা পদ্মা নদীর তীব্র ভাঙনে নদীগর্ভে বিলীনের পথে উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের ফয়জুল্লাহপুর গ্রাম। নদীর প্রবল স্রোতে বসতভিটা, ফসলি জমি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ভেঙে পড়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। পৈতৃক ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব হচ্ছেন শত শত পরিবার। প্রতি বছর নদীভাঙনে পদ্মা নদীর তীরবর্তী অনেক মানুষ ভূমিহীন হয়ে এখন নিঃস্ব প্রায়। ইতোমধ্যে ওই এলাকায় নতুন করে নদীভাঙন শুরু হয়েছে।
পদ্মা নদীর তীব্র ভাঙনে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের হার্ডিংঞ্জ ব্রিজ পয়েন্ট থেকে শুরু হয়ে ফয়জুল্লাহপুর এলাকার ওপর দিয়ে নির্মিত বেড়িবাঁধ নদীগর্ভে হারিয়ে গেছে।
ফয়জুল্লাহপুর গ্রামের প্রবীণ অধিবাসী ইয়ার কবিরাজ বলেন, ‘কয়েকদফায় নদীর ভয়াবহ ভাঙনে সব হারিয়ে গেছে। এখন বসতবাড়িটুকুই আমার শেষ সম্বল।’ তিনি আরও জানান, প্রায় ৬০-৭০ বছর আগে চাকলার চর থেকে এই এলাকায় তার বাপ-দাদারা এসে বসবাস শুরু করেছিলেন। শেষ সম্বল বাড়িটুকু হারিয়ে গেলে আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না।’
তবে সেটিও আগামী কিছুদিনের মধ্যে মধ্যে নদীতে বিলিন হওয়ার শঙ্কায় কাটছে তার প্রতিটি নির্ঘুম রাত।
আফতাবুল সরদার (৭০) জানান, সবই চলে গেছে পানির নিচে। বেচাকেনা করলেও মানতে পারতাম। কিন্তু এখানে তো সবই গেছে পানির নিচে।
শুধু আফতাবুর সরদারই নন, ভিটেমাটি হারিয়ে এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন বহু সচ্ছল পরিবার।
স্থানীয়রা জানান, এলাকার মানুষ একদম নিঃস্ব হয়ে গেছে। সরকারের পক্ষ থেকে বিষয়টা আরও দেখভাল করলে ভালো হতো।
পদ্মা নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলনকে এই ভাঙনের মূল কারণ বলে মনে করেন স্থানীয়রা।
গত কয়েক বছরে পানি উন্নয়ন বোর্ড বন্যা নিয়ন্ত্রণে কিছু জিওব্যাগ নদীতে ফেলে দিলেও তীব্র স্রোত ও ভৌগোলিক পরিবর্তনে সেসব বাঁধ টেকসই হচ্ছে না। ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বারবার প্রতিরক্ষা বাঁধ দেওয়ার পরও থামানো যায়নি ভাঙন। তাই বসতবাড়ি ও ফসলি জমি বাঁচাতে মজবুত বাঁধ নির্মাণের দাবি স্থানীয়দের।
তারা জানান, সবাই দিন এনে দিন খাওয়া মানুষ। অনেক চেষ্টা করা হয়েছে। অনেক জায়গায় কথা বলে হয়েছে; কিন্তু কোনো উপকার হচ্ছে না।
অনেক নেতাই বারবার এসে প্রতিশ্রুতি দেন; কিন্তু বাস্তবে কাজের কাজ কিছুই হয় না।
কুষ্টিয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল গফুর বলেন, ‘আমি ইতোমধ্যে ওই এলাকা পরিদর্শন করেছি। সেখানে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা প্রয়োজন। তবে জরুরি ভিত্তিতে ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।’
মন্তব্য