মাত্র আট বছর বয়সে ডান (আক্রান্ত) পা অস্বাভাবিকভাবে ফুলতে শুরু করেছিল। প্রথমে পরিবার বিষয়টিকে সাধারণ শারীরিক সমস্যা মনে করলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পায়ের আকার ও ওজন বাড়তে থাকে। এখন ২৫ বছর বয়সি আবু বক্করের জন্য স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা করাই হয়ে উঠেছে কঠিন। দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে একটি বিরল শারীরিক সমস্যার সঙ্গে লড়াই করে চলেছেন তিনি।
আবু বক্করের বাড়ি শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার নন্নী ইউনিয়নের আমলাতুলি গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের বাসিন্দা মো. সাইদুল ইসলামের একমাত্র ছেলে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, ছেলেকে সুস্থ করার আশায় জেলা ও বিভাগীয় শহরের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা করানো হলেও কোনো আশানুরূপ সুফল মেলেনি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আক্রান্ত পায়ের আকার আরও বড় হয়েছে। পরিবারের দাবি, আগের কিছু চিকিৎসার পর তার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটেছে।
আবু বক্করের বাবা মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, ‘ছেলের চিকিৎসার জন্য আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। ২০২২ সালে উন্নত চিকিৎসার আশায় তাকে ভারতের চেন্নাইয়ে নিয়ে যাই। সেখানে চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে জানান, কয়েক ধাপে অস্ত্রোপচার করতে হবে। এতে প্রায় ১৫-২০ লাখ টাকা খরচ হবে। আমাদের মতো পরিবারের পক্ষে এত টাকা জোগাড় করা অসম্ভব।’
বর্তমানে আবু বক্কর বাড়িতেই থাকেন। শারীরিক সীমাবদ্ধতার মধ্যেও সংসারের ছোটখাটো কাজে সহযোগিতা করার চেষ্টা করেন। তবে পায়ের অতিরিক্ত ওজনের কারণে নিয়মিত চলাফেরা, কাজ করা কিংবা স্বাভাবিক জীবনযাপন—সবকিছুই তার জন্য কষ্টসাধ্য হয়ে উঠেছে।
ছেলের চিকিৎসার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি এবং মানবিক সংগঠনগুলোর সহযোগিতা কামনা করেছেন সাইদুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘মানুষের একটু সহযোগিতা পেলে হয়তো আমার ছেলেটা আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে।’
স্থানীয়দেরও আশা, সরকারি সহায়তা ও সমাজের বিত্তবান মানুষের সহযোগিতা মিললে আবু বক্করের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত হবে এবং দীর্ঘদিনের এই দুর্বিষহ জীবন থেকে মুক্তির সুযোগ তৈরি হবে।
শেরপুর জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘রোগীকে নিয়ে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাক্তারের পরামর্শক্রমে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট যোগাযোগ করলে সহায়তা করা হবে।’
ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর যানজট নিরসন এবং সুশৃঙ্খল গণপরিবহন ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে মহাখালী বাস টার্মিনাল থেকে পূর্বাচলের নবনির্মিত অস্থায়ী ডিপোতে বাস স্থানান্তর কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুরে মহাখালী বাস টার্মিনালের সামনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উদ্বোধন করেন পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ। সভাপতিত্ব করেন ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) আনিছুর রহমান। এ সময় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব মো. সাইফুল ইসলাম, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সেক্রেটারি হুমায়ুন কবির খান, ঢাকা সড়ক পরিবহন সমিতির সভাপতি আব্দুল বাতেন, পরিবহন মালিক-শ্রমিক নেতৃবৃন্দ, ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় মহাখালী টার্মিনালকেন্দ্রিক যানজট নিরসনের লক্ষ্যে গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পূর্বাচলের নবনির্মিত অস্থায়ী ডিপোতে বাস স্থানান্তরের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। বক্তারা বলেন, এ উদ্যোগের মাধ্যমে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এ এলাকায় যানজট কমবে, যাত্রীসেবার মান উন্নত হবে এবং সড়ক ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর হবে। পাশাপাশি নগরবাসীর নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
মহাখালী বাস টার্মিনালটি ঢাকা শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত। টার্মিনালের ভেতরে আনুমানিক ৪০০টি বাস রাখার স্থান থাকলেও প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১ হাজার ৫০০টি বাস সেখানে আসা-যাওয়া করে। ফলে মূল সড়কে বাস পার্কিংসহ পুরো এলাকায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। এ সমস্যা নিরসনে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক-শ্রমিক সমিতি, রাজউক, সিটি করপোরেশন ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার সমন্বয়ে পূর্বাচলের ৩ নম্বর সেক্টরে রাজউকের মালিকানাধীন প্রায় ১০ একর জমিতে অস্থায়ী বাস ডিপো নির্মাণ করা হয়েছে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস বলেন, এ উদ্বোধনের মাধ্যমে সরকারের নেওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগের বাস্তবায়ন শুরু হলো। এর ফলে মহাখালীকেন্দ্রিক যানজট বহুলাংশে কমবে এবং ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তিনি এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট পরিবহন মালিক-শ্রমিক সংগঠন, ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ, রাজউক, সিটি করপোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে ধন্যবাদ জানান।
ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ঢাকার যানজট নিরসনে এটি একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ। এর সফল বাস্তবায়ন রাজধানীর সড়ক ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
উদ্বোধন শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে বাস স্থানান্তর কার্যক্রমের সূচনা করা হয়। এ কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
ছবি: সংগৃহীত
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি, চেতনা ও মুক্তির আকাঙ্ক্ষাকে শিল্পের ভাষায় ধারণ ও উদযাপনের লক্ষ্যে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী আর্টক্যাম্প ‘ক্যানভাস ২৪: মুক্তির মহাকাব্য’। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির চারুকলা বিভাগের ব্যবস্থাপনায় বুধবার (১৫ জুলাই) জাতীয় চিত্রশালা প্লাজায় এই আর্টক্যাম্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
বুধবার (১৫ জুলাই) থেকে আগামী শুক্রবার পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিতব্য এই আর্টক্যাম্পে দেশের ৫৫ জন শিল্পী অংশগ্রহণ করছেন। তারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস, আত্মত্যাগ, গণমানুষের সংগ্রাম এবং মুক্তির আকাঙ্ক্ষাকে শিল্পের ভাষায় ক্যানভাসে রূপায়িত করবেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, ‘বিগত সময়ে যে অনিয়ম-অবিচার হয়েছে, তা যেন আর না হয় সেদিকে আমাদের খেয়াল রাখতে হবে। এরই প্রেক্ষাপটে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি, চেতনা ও মুক্তির আকাঙ্ক্ষাকে উপজীব্য করে তিন দিনব্যাপী আর্টক্যাম্প আয়োজন করা হয়েছে। এই আর্টক্যাম্পে যেসব শিল্পী অংশগ্রহণ করছেন, তাদের তুলির ছোঁয়ায় ভেসে উঠবে সেই জুলাইয়ের স্মৃতিগুলো।’
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘মানুষের মধ্যে জুলাই স্পিরিট জাগিয়ে রাখার একটা অংশ হচ্ছে এই আর্টক্যাম্প। যেখানে শিল্পীরা ছবি আঁকবেন এই জুলাইকে কেন্দ্র করে। জুলাইয়ের নানা দিক আছে, ঘটনা আছে, স্পিরিট আছে—নানাভাবে আমরা এটাকে তুলে ধরতে চাই। যত রকম আর্ট ফর্ম আছে সেগুলোর মাধ্যমে আমরা জুলাইকে ধারণ করতে চাই, জুলাইকে ছড়িয়ে দিতে চাই ও জুলাইকে জাগিয়ে রাখতে চাই।’
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক শেখ রেজাউদ্দিন আহমেদ (রেজাউদ্দিন স্টালিন)। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আজহারুল ইসলাম শেখ, শিল্পী মনিরুল ইসলাম এবং শিল্পী ও অধ্যাপক আব্দুস সাত্তার। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলা।
ছবি: সংগৃহীত
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে দুই প্রার্থীর একই স্থানে সভাকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুরে উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের প্রতাপের চর এলাকায় উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি রফিকুল ইসলাম ও উপজেলা যুবদলের সদস্য মাসুম রানার সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়।
বুধবার (১৫ জুলাই) বিকেলে প্রতাপের চর মসজিদের সামনে রফিকুল ইসলামের সভা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এ খবরে মাসুম রানার সমর্থক ইকবাল হোসেন বিশাল প্যান্ডেল করে ভূড়িভোজের আয়োজন করে। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের নেতা-কর্মীর মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। খবর পেয়ে সোনারগাঁ থানা পুলিশ দু’পক্ষের সভা বন্ধ করে দেয়।
জানা যায়, উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম ও উপজেলা যুবদলের সদস্য মাসুম রানা প্রতিদ্বন্দিতা করবেন। এ নিয়ে ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় দুপক্ষের কর্মী সমর্থকদের মধ্যে তর্কবির্তক, হাতাহাতি ও উত্তেজনা চলছে। গতকাল বুধবার বিকেলে রফিকুল ইসলামের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সামনে নির্বাচনী সভা উঠান বৈঠকের আয়োজন করা হয়। এ বিষয়টি জানতে পেরে মাসুম রানার সমর্থক ইকবাল হোসেন গতকাল বুধবার দুপুরে তড়িঘড়ি করে সভা ডেকে ভূড়িভোজের আয়োজন করে। খবর পেয়ে সোনারগাঁ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই পক্ষের সভা বন্ধ করে দেন।
চেয়ারম্যান প্রার্থী রফিকুল ইসলাম জানান, আমাদের সভা পন্ড করার জন্য এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। আমি তাদের সভা অন্যত্র করার জন্য অনুরোধ করার পরও তারা ভূড়িভোজের আয়োজন করে আমাদের ওপর হামলা করার পাঁয়তারা করে। তারা বড় বড় পাতিল এনে রান্না-বান্নার আয়োজন করছিল। তিনি দাবি করেন, মাসুম রানা সমর্থক ইকবাল হোসেন একজন মাদকের ডিলার। পুলিশ তদন্ত করলেই সব পরিষ্কার হয়ে যাবে।
আরেক চেয়ারম্যান প্রার্থী মাসুম রানা জানান, আমরা ১৫ দিন আগেই এ নির্বাচনী সভার আহ্বান করেছি। মা, বোন, কর্মী সমর্থকদের নিয়ে মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন ছিল। হঠাৎ রফিকুল ইসলাম একই জায়গায় সভা ডেকেছেন। পরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুলিশ এসে দু’জনের সভাই বন্ধ করে দিয়েছেন। তবে আমার সমর্থক ইকবাল হোসেনকে নিয়ে মাদকের সম্পৃক্তার বিষয়ে যে মন্তব্য করা হয়েছে তা সত্য নয়।
সোনারগাঁ থানার ওসি মো. গোলাম সারোয়ার বলেন, ‘দুই চেয়ারম্যান প্রার্থী একই স্থানে সভা করার বিষয়টি জানতে পেরে দ্রুত ঘটনা স্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। আইনশৃঙ্খলার অবনতির আশঙ্কায় সভা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।’
সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসিফ আল জিনাত বলেন, ‘দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর একই স্থানে সভা করার বিষয়ে জানেন না। তবে আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটার আশঙ্কায় পুলিশ বন্ধ করে দিয়েছেন।’
ছবি: সংগৃহীত
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী বন্যাকবলিত এলাকার মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বন্যার কারণে যোগাযোগ-বিচ্ছিন্ন ও স্বাস্থ্যঝুঁকিতে থাকা দুর্গত মানুষের দোরগোড়ায় চিকিৎসাসেবা ও মানবিক সহায়তা পৌঁছে দিতে এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে শ্রীমঙ্গল ব্যাটালিয়ন (৪৬ বিজিবি)।
বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুরে উপজেলার কুরমাছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিজিবির পক্ষ থেকে একটি জরুরি মেডিকেল ক্যাম্প ও বিনামূল্যে ওষুধ বিতরণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। একই সাথে বন্যাকবলিত পরিবারগুলোর মাঝে রান্না করা খাবারও বিতরণ করা হয়।
দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা ও বিশুদ্ধ পানির সংকটের কারণে বন্যা-পরবর্তী বিভিন্ন পানিবাহিত ও অন্যান্য রোগব্যাধির ঝুঁকি বিবেচনা করে এই ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়। ক্যাম্পে বিজিবির চারজন অভিজ্ঞ চিকিৎসক দায়িত্ব পালন করেন। তারা দিনব্যাপী প্রায় ৪৫০ জন নারী, পুরুষ, শিশু ও বয়স্ক রোগীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বিনামূল্যে ওষুধ ও পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট বিতরণ করেন। চিকিৎসাদানের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক বিভিন্ন পরামর্শও দেওয়া হয়।
শুধু চিকিৎসাসেবা নয়, বন্যার কারণে চরম দুর্ভোগে থাকা ১০০টি পরিবারের মাঝে রান্না করা দুপুরের খাবার বিতরণ করা হয়। কয়েকদিন ধরে পানিবন্দি অবস্থায় থাকা পরিবারগুলো বিজিবির এই মানবিক সহায়তায় স্বস্তি প্রকাশ করেছে।
কার্যক্রম চলাকালে দুর্গত মানুষের খোঁজখবর নেন শ্রীমঙ্গল ব্যাটালিয়ন (৪৬ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সরকার আসিফ মাহমুদ। এ সময় তার সাথে বিজিবির অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
বিজিবি অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সরকার আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘সাম্প্রতিক বন্যায় সীমান্তবর্তী এলাকার বহু মানুষ চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছেন। যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় তাদের কষ্ট লাঘব এবং জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতেই আমাদের এই উদ্যোগ। দেশের যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিজিবি সবসময় সাধারণ মানুষের পাশে ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। পরিস্থিতি বিবেচনায় বন্যাকবলিত এলাকায় আমাদের এই মানবিক সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।’
ছবি: সংগৃহীত
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় প্রমত্তা পদ্মা নদীর তীব্র ভাঙনে নদীগর্ভে বিলীনের পথে উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের ফয়জুল্লাহপুর গ্রাম। নদীর প্রবল স্রোতে বসতভিটা, ফসলি জমি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ভেঙে পড়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। পৈতৃক ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব হচ্ছেন শত শত পরিবার। প্রতি বছর নদীভাঙনে পদ্মা নদীর তীরবর্তী অনেক মানুষ ভূমিহীন হয়ে এখন নিঃস্ব প্রায়। ইতোমধ্যে ওই এলাকায় নতুন করে নদীভাঙন শুরু হয়েছে।
পদ্মা নদীর তীব্র ভাঙনে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের হার্ডিংঞ্জ ব্রিজ পয়েন্ট থেকে শুরু হয়ে ফয়জুল্লাহপুর এলাকার ওপর দিয়ে নির্মিত বেড়িবাঁধ নদীগর্ভে হারিয়ে গেছে।
ফয়জুল্লাহপুর গ্রামের প্রবীণ অধিবাসী ইয়ার কবিরাজ বলেন, ‘কয়েকদফায় নদীর ভয়াবহ ভাঙনে সব হারিয়ে গেছে। এখন বসতবাড়িটুকুই আমার শেষ সম্বল।’ তিনি আরও জানান, প্রায় ৬০-৭০ বছর আগে চাকলার চর থেকে এই এলাকায় তার বাপ-দাদারা এসে বসবাস শুরু করেছিলেন। শেষ সম্বল বাড়িটুকু হারিয়ে গেলে আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না।’
তবে সেটিও আগামী কিছুদিনের মধ্যে মধ্যে নদীতে বিলিন হওয়ার শঙ্কায় কাটছে তার প্রতিটি নির্ঘুম রাত।
আফতাবুল সরদার (৭০) জানান, সবই চলে গেছে পানির নিচে। বেচাকেনা করলেও মানতে পারতাম। কিন্তু এখানে তো সবই গেছে পানির নিচে।
শুধু আফতাবুর সরদারই নন, ভিটেমাটি হারিয়ে এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন বহু সচ্ছল পরিবার।
স্থানীয়রা জানান, এলাকার মানুষ একদম নিঃস্ব হয়ে গেছে। সরকারের পক্ষ থেকে বিষয়টা আরও দেখভাল করলে ভালো হতো।
পদ্মা নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলনকে এই ভাঙনের মূল কারণ বলে মনে করেন স্থানীয়রা।
গত কয়েক বছরে পানি উন্নয়ন বোর্ড বন্যা নিয়ন্ত্রণে কিছু জিওব্যাগ নদীতে ফেলে দিলেও তীব্র স্রোত ও ভৌগোলিক পরিবর্তনে সেসব বাঁধ টেকসই হচ্ছে না। ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বারবার প্রতিরক্ষা বাঁধ দেওয়ার পরও থামানো যায়নি ভাঙন। তাই বসতবাড়ি ও ফসলি জমি বাঁচাতে মজবুত বাঁধ নির্মাণের দাবি স্থানীয়দের।
তারা জানান, সবাই দিন এনে দিন খাওয়া মানুষ। অনেক চেষ্টা করা হয়েছে। অনেক জায়গায় কথা বলে হয়েছে; কিন্তু কোনো উপকার হচ্ছে না।
অনেক নেতাই বারবার এসে প্রতিশ্রুতি দেন; কিন্তু বাস্তবে কাজের কাজ কিছুই হয় না।
কুষ্টিয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল গফুর বলেন, ‘আমি ইতোমধ্যে ওই এলাকা পরিদর্শন করেছি। সেখানে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা প্রয়োজন। তবে জরুরি ভিত্তিতে ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।’
ছবি: সংগৃহীত
যশোরের কেশবপুর উপজেলায় পরপর দ্বিতীয়বার কন্যাসন্তান জন্ম দেওয়ায় এক প্রসূতি নারী ও তার নবজাতক কন্যাশিশুকে হাসপাতালে ফেলে রেখে চলে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে। পরে বিষয়টি জানতে পেরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেকসোনা খাতুন তাদের পাশে দাঁড়ান এবং চিকিৎসার ব্যয়সহ প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা করেন।
জানা গেছে, গত মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) কেশবপুর উপজেলার একটি বেসরকারি ক্লিনিকে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে এক নারী কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। এর আগে তার ঘরে আরও একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। নবজাতক কন্যাশিশুর জন্মের খবর পেয়ে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা প্রসূতি মা ও শিশুটিকে ক্লিনিকে রেখে চলে যান বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অসহায় ওই নারীর বাবা নেই। আর্থিক সংকটের কারণে তার মাও দীর্ঘ সময় হাসপাতালে থাকতে পারেননি। ফলে অপারেশনের পর প্রয়োজনীয় সেবা, পুষ্টিকর খাবার ও মানসিক সমর্থন ছাড়াই নবজাতককে নিয়ে হাসপাতালে মানবেতর অবস্থায় দিন কাটাতে হয় তাকে। এমনকি খাবার ও অর্থের অভাবে অন্যের সহায়তায় কোনোমতে দিন পার করছিলেন তিনি।
ঘটনার বিষয়টি ইউএনও রেকসোনা খাতুন জানতে দ্রুত পদক্ষেপ নেন। প্রসূতি নারীর মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাকে কেশবপুরে আনার ব্যবস্থা করা হয়। পরে তাদের হাতে আর্থিক সহায়তা ও খাদ্যসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়।
ইউএনওর অনুরোধে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ প্রসূতি নারীর সিজারিয়ান অপারেশনসহ চিকিৎসার সম্পূর্ণ খরচ মওকুফ করে। পরবর্তীতে মা ও নবজাতককে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দিয়ে তার মায়ের বাড়িতে পাঠানো হয়।
বর্তমানে মা ও নবজাতক শিশুটি তার মাতৃগৃহে অবস্থান করছে। তবে কন্যাসন্তান জন্মের কারণে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন দীর্ঘ সময় তাদের কোনো খোঁজখবর নেয়নি বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে ইউএনও রেকসোনা খাতুন বলেন, ‘প্রসূতি মা ও নবজাতকের দুর্দশার কথা জানতে পেরে আমরা দ্রুত সহায়তার উদ্যোগ নিয়েছি। একজন মায়ের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজনের সময়ে তাকে এভাবে পরিত্যাগ করা অত্যন্ত অমানবিক। সন্তানের লিঙ্গ নিয়ে বৈষম্যের কোনো সুযোগ নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘কেশবপুর থানার অফিসার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সহযোগিতায় শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তারা এখন মা ও শিশুকে নিজেদের কাছে নিয়ে যেতে সম্মতি জানিয়েছে।’
রেকসোনা খাতুন বলেন, ‘বিজ্ঞান ও সভ্যতার এই যুগে দাঁড়িয়ে কন্যাসন্তান জন্মকে অপরাধ হিসেবে দেখা চরম মানসিক দেউলিয়াত্বের পরিচয়। ছেলে-মেয়ে নয়, প্রত্যেক সন্তানই সমান মর্যাদা ও ভালোবাসার দাবিদার। সমাজে কন্যাসন্তানের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে উঠুক, সেটিই আমাদের প্রত্যাশা।’
স্থানীয় সচেতন মহল এ ঘটনাকে অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয় উল্লেখ করে কন্যাসন্তান নিয়ে সামাজিক কুসংস্কার ও বৈষম্যমূলক মানসিকতা দূর করতে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।
ছবি: সংগৃহীত
টানা ৭ দিনের ভারী বর্ষণে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে মাগুরার জনজীবন। অতিবৃষ্টির কারণে জেলার বিভিন্ন এলাকার সড়ক তলিয়ে গেছে পানিতে। কোনো কোনো এলাকার সড়ক এবং সেতুর ব্যাপক ক্ষতি হওয়ায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
শহরের নিচু এলাকাগুলো তলিয়ে যাওয়াই ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীরা। টানা সাত দিন বৃষ্টি নামার পর মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) সূর্যের দেখা মিললেও রাস্তায় পানি কাদার জন্য চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে মাগুরাবাসীকে।
গত শুক্রবার (১১ জুলাই) ভারি বর্ষণের কারণে মাগুরা জেলার শালিখা উপজেলার শতখালী ইউনিয়নের গোবরা গ্রামের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পশ্চিম পাশের সড়কের ছোট্ট সেতুটি পানির প্রবল চাপে ভেঙে পড়েছে। এতে বিপাকে পড়েছে আশেপাশের পাঁচ গ্রামের মানুষ। সেতুটি ভেঙ্গে পড়ায় শালিখা উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। ভেঙে পড়া সেতুটির উপর দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষের চলাচল ছিল। বর্তমানে সাধারণ মানুষের চলাচলে অনেক সমস্যা দেখা দিয়েছে কোমলমতি শিশুরা বিদ্যালয়ে যেতে পারছে না এমনকি কেউ গুরুতর অসুস্থ হলে তাকে সময়মতো হাসপাতালে নেয়া সম্ভব হচ্ছে না।
এলাকাবাসীরা জানান,ঠিকাদারের গাফিলতির জন্য সেতুটি দীর্ঘদিন ঝুঁকিপূর্ণ ছিল বারবার প্রশাসনের দ্বারস্থ হওয়া শর্তেও কোনো কাজ হয়নি অনেক যানবাহন ঝুঁকি নিয়ে এর উপর দিয়ে চলাচল করতো টানা বৃষ্টিতে ব্রিজের নিচের মাটি সরে গিয়ে ভেঙে পড়েছে। দ্রুত সেতুটি সংস্কার করে মানুষের চলাচলের উপযোগী করার দাবি জানান তারা।
এদিকে মাগুরার চারটি উপজেলার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া নবগঙ্গা, কুমার, ফটকি ও মধুমতি নদীর পানি বিপৎসীমার উপর দিয়ে বয়ে চলেছে।
এছাড়াও মাগুরা সদর উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন এলাকা যেমন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, কলেজপাড়া, আলামিন স্কুল সংলগ্ন সড়কসহ বিভিন্ন নিম্নাঅঞ্চল সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। কোনো কোনো এলাকার পানি নেমে গেলেও ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সড়কের। যেমন পলি ক্লিনিক সংলগ্ন সড়ক, শুভেচ্ছা প্রিপারেটরি স্কুল সংলগ্ন সড়কের বেহাল দশার জন্য রিক্সা এবং অটো চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এসব সড়কের পিচ ও খোয়া উঠে যাওয়াই বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে ফলে প্রায় সময় নানা রকম দুর্ঘটনা ঘটে। শহরে পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা থাকলেও ময়লা আবর্জনার কারণে সেগুলো বন্ধ হয়ে পানিতে তলিয়ে যায়।
বিশেষ করে কলেজ পাড়ায় বিভিন্ন কোচিং সেন্টার হওয়ায় প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থীরা কোচিং করতে এই সড়ক ব্যবহার করে। বিভিন্ন জায়গায় ড্রেনের মুখ খোলা থাকায় প্রায় সময় ড্রেনের মধ্যে পড়ে শিক্ষার্থীদের জামা কাপড় নোংরা হয়ে যায়। তাছাড়া ভারি বর্ষণের কারণে সময় মত কোনো যানবাহন না পাওয়ায় সাধারণ জনগণ ও শিক্ষার্থীরা অফিস আদালতে বা বিদ্যালয় যেতে পারছেন না। এদিকে সারাদেশে চলছে এইচএসসি পরীক্ষা সেই সাথে হাইস্কুলগুলোতে শুরু হয়েছে অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা। কিছু কিছু এলাকায় পানি উঠে যাওয়ায় ঘর থেকে বেরোতে পারছেন না অনেকেই। পরীক্ষার জন্য বৃষ্টিতে ভিজেই শিক্ষার্থীদের যেতে হচ্ছে পরীক্ষা দিতে। অধিকাংশ সময় বৃষ্টির জন্য যানবাহন না পাওয়ার কারণে কলেজ ও বিদ্যালয়ে পৌঁছাতে দেরি হয়ে যাচ্ছে।
তবে এ ব্যাপারে মাগুরা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নির্মল কুমার জোয়াদ্দার একটি বিশেষ পন্থা অবলম্বন করেছেন। শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে না পৌঁছানো পর্যন্ত পরীক্ষা বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। বৃষ্টিতে ভিজে শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের কথা চিন্তা করে তিনি পরীক্ষার নির্ধারিত সময়ের থেকে ১৫ - ২০ মিনিট দেরিতে পরীক্ষা শুরুর নির্দেশ দিয়েছেন। এ ব্যাপারে অভিভাবকরা বেশ সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
মাগুরা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানায়, টানা সাতদিন বৃষ্টিতে ঘর থেকেই বের হওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। তারপরও পরীক্ষার জন্য আমাদেরকে এই বৃষ্টির মধ্যে বিদ্যালয়ে আসতে হচ্ছে। বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে পানি জমে থাকায় আমাদের জুতা অনেক সময় ভিজে যায় এতে চুলকানি সহ নানা ধরনের সমস্যায় ভুগতে হয়। আবার অনেক সময় পা পিছলে পানিতে পড়ে আমাদের কাপড় নষ্ট হয়ে যায়।
শহরের সততা কাঁচাবাজারের সবজি ব্যবসায়ীরা বলেন, টানা সাত দিনের বৃষ্টিতে মাগুরার বিভিন্ন গ্রামের বাড়িঘর রাস্তা, মাঠঘাট পানিতে তলায় গেছে। সেজন্যি বিভিন্ন শাকসবজি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আর যেগুলো আছে রাস্তায় পানি কাঁদার জন্যি যানবাহন না পাওয়ায় সেগুলো আনা সম্ভব হচ্ছে না। তাই বাজারে সবজির পরিমাণ খুবই কম। এতে আমাদের মতো ছোট ছোট ব্যবসায়ীদের অনেক ক্ষতি হয়ে যাচ্ছে।
মাগুরা পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আহসান বারী জানান, শহরে পানি জমার প্রধান কারণ হচ্ছে ড্রেনেজ ব্যবস্থার অপব্যবহার। পানি নিষ্কাশনের জন্য আমরা সবসময় কাজ করে যাচ্ছি। বিশেষ করে কলেজপাড়া একটি ব্যস্ততম এলাকা এখানে ঘনবসতি হওয়ায় বাসা বাড়ির সমস্ত ময়লা প্রতিনিয়ত পলিথিনে করে ড্রেনের মধ্যে ফেলা হয়। নিষেধ করলেও কেউ শোনে না আর প্রতিনিয়ত এই ময়লা ফেলার কারণে ড্রেনের মুখ বন্ধ হয়ে সৃষ্টি হচ্ছে জলাবদ্ধতা।
মন্তব্য