× হোম রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া সিটিজেন জার্নালিজম বিচিত্র ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য আফগানিস্তান ১৫ আগস্ট কী-কেন স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও যৌনতা-প্রজনন ইউরোপ অন্যান্য উদ্ভাবন প্রবাসী আফ্রিকা ক্রিকেট শারীরিক স্বাস্থ্য আমেরিকা দক্ষিণ এশিয়া সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ মানসিক স্বাস্থ্য ব্লকচেইন অন্যান্য ভাষান্তর ফুটবল অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
There is a stir in the district of Pabna due to the yield of Saudi dates
google_news print-icon

সৌদি জাতের খেজুরের ফলনে পাবনায় জেলাজুড়ে আলোড়ন

সৌদি-জাতের-খেজুরের-ফলনে-পাবনায়-জেলাজুড়ে-আলোড়ন
ছবি: সংগৃহীত

মরুভূমির তপ্ত বালু আর তীব্র রোদে যে খেজুরের ফলন হয়, সেই সুস্বাদু ও দামি বিদেশি খেজুর এখন ফলছে বাংলাদেশের মাটিতে। একসময় যে উন্নত জাতের খেজুর পুরোপুরি আমদানির ওপর নির্ভরশীল ছিল, তা সফলভাবে চাষ করে পাবনায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছেন তরুণ উদ্যোক্তা সাইফুদ্দিন হিরুক। তার এই ব্যতিক্রমী ও সাহসী উদ্যোগ ইতোমধ্যে জেলাজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

সরেজমিনে পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার একদন্ত ইউনিয়নে গিয়ে দেখা যায়, সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে ঝুলছে থোকা থোকা খেজুর। বিস্তীর্ণ মাঠে যেন এক টুকরো মধ্যপ্রাচ্যের আবহ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০২২ সালে গয়েশপুর এলাকার এক ব্যক্তির কাছ থেকে কয়েকটি উন্নত জাতের খেজুরের চারা সংগ্রহ করে যাত্রা শুরু করেন সাইফুল ইসলাম হিরুক। প্রথমে মাত্র ৩৩ শতাংশ জমিতে চারটি চারা রোপণ করেন তিনি। শুরুতে এই উদ্যোগে অনেকেই তাকে নিরুৎসাহিত করেছিলেন।

অনেকেই বলেছিলেন, বাংলাদেশের আবহাওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের খেজুর ফলানো অসম্ভব। কিন্তু হিরুক থেমে যাননি। নিয়মিত পরিচর্যা, ধৈর্য ও কৃষি বিভাগের পরামর্শ মেনে অক্লান্ত পরিশ্রম করে গেছেন। মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে সেই ছোট্ট উদ্যোগ আজ পরিণত হয়েছে প্রায় ৬০টি গাছের এক সমৃদ্ধ খেজুর বাগানে। হিরুকের এই বাগানে ঠাঁই পেয়েছে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের জনপ্রিয় ১০ থেকে ১২টি উন্নত জাতের খেজুর।

এর মধ্যে রয়েছে— আজওয়া, মরিয়ম, মেজুল, ছুক্কারি, ওয়ারহিছ, বড়ই খেজুরসহ বিভিন্ন আকর্ষণীয় জাত। উদ্যোক্তা জানান, প্রতিটি জাতের আলাদা বৈশিষ্ট্য রয়েছে। অনেক গাছ থেকে উন্নতমানের ‘সাকার’ বা চারা উৎপন্ন হচ্ছে, যা দিয়ে নতুন করে বাগান সম্প্রসারণ করা সম্ভব। বাগানে খেজুরের বাম্পার ফলন দেখতে প্রতিদিনই দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসছেন কৃষক, শিক্ষার্থী, বেকার যুবক ও সাধারণ মানুষ। কেউ আসছেন শখের বসে ছবি তুলতে, আবার কেউ আসছেন হিরুকের কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে নতুন বাগান গড়ার স্বপ্ন বুক বেঁধে। পুষ্পপাড়া এলাকা থেকে আসা দর্শনার্থী আব্দুল কাইয়ুম বলেন, ‘লোকমুখে শোনে বিশ্বাস হচ্ছিল না। তাই নিজের চোখে দেখতে এসেছি। এসে তো আমি অভিভূত! আমরা জানতাম খেজুর শুধু সৌদি আরবেই হয়। এখন দেখছি আমাদের পাশেই হচ্ছে। আমার নিজেরও এখন একটা বাগান করার শখ জাগছে।’

একদন্ত এলাকার স্থানীয় যুবক রুহুল আমিন বলেন, ‘মরুভূমির খেজুর যে আমাদের দেশের মাটিতেও এত সুন্দরভাবে জন্মাতে পারে, হিরু ভাই তা প্রমাণ করে দিয়েছেন। এলাকার যুবকদের জন্য এটি একটি বড় অনুপ্রেরণা।’

নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে সফল চাষি সাইফুদ্দিন হিরুক বলেন, ‘শখের বশে যখন শুরু করি, তখন অনেকেই তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করেছিলেন। কিন্তু আমি দমে যাইনি। আজ যখন গাছে ফল এসেছে, তখন মনের ভেতর অন্যরকম এক আনন্দ কাজ করছে। সরকারি সহযোগিতা ও ঋণ সুবিধা পেলে এই বাগানকে আরও বড় পরিসরে সম্প্রসারণ করার পরিকল্পনা রয়েছে আমার।’

কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, উপযুক্ত জাত নির্বাচন, সঠিক পরাগায়ন এবং আধুনিক কৃষিপদ্ধতি ব্যবহার করলে বাংলাদেশের মাটিতেও উন্নত জাতের বাণিজ্যিক খেজুর চাষ বিপুল সম্ভাবনাময়।

এ বিষয়ে পাবনা জেলা প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘হিরুক যে উদ্যোগ নিয়েছেন তা সত্যিই প্রশংসনীয়। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে তাকে নিয়মিত কারিগরি পরামর্শ ও সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। আমরা আশা করছি, তার এই সাফল্য দেখে জেলার আরও অনেক তরুণ উদ্যোক্তা এই অর্থকরী ফসল চাষে এগিয়ে আসবেন।’

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Rural electricity next to flood affected people in Chittagong

চট্টগ্রামে বন্যাকবলিত মানুষের পাশে পল্লী বিদ্যুৎ

চট্টগ্রামে বন্যাকবলিত মানুষের পাশে পল্লী বিদ্যুৎ ছবি: সংগৃহীত

গত কয়েকদিনের টানা ও রেকর্ড ভাঙা অতিভারী বর্ষণে চট্টগ্রাম জেলার অধিকাংশ নিচু এলাকা ও জনপদ প্লাবিত হওয়ায় চরম সংকটে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বন্যাকবলিত এই সমস্ত সাধারণ মানুষের অবর্ণনীয় দুর্ভোগ লাঘবের লক্ষ্যে এবং মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ।

এরই অংশ হিসেবে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (বিআরইবি) ও স্থানীয় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির যৌথ উদ্যোগে মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বন্যাদুর্গত ও পানিবন্দি পরিবারের মাঝে প্রয়োজনীয় শুকনো ও নিত্যপ্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা জানান, আকস্মিক বন্যায় বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি গ্রামীণ জনপদের মানুষ তীব্র খাদ্য ও পানীয় সংকটে পড়েছেন। এই মানবিক বিপর্যয়ের সময়ে একটি দায়িত্বশীল রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াতে তাঁরা দ্রুত এই সমন্বিত ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন করেন।

আক্রান্ত এলাকার বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্র ও প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে গিয়ে দুর্গত মানুষের হাতে এই সমস্ত জরুরি ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হয় এবং বন্যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত পল্লী বিদ্যুতের পক্ষ থেকে এই ধরনের মানবিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা অব্যাহত থাকবে বলেও আশ্বস্ত করা হয়েছে।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Child dies after being hit by an autorickshaw in Tejgaon

তেজগাঁওয়ে অটোরিকশার ধাক্কায় শিশুর মৃত্যু

তেজগাঁওয়ে অটোরিকশার ধাক্কায় শিশুর মৃত্যু ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর তেজগাঁওয়ে অটোরিকশার ধাক্কায় নওরীন নামে তিন বছর বয়সি এক শিশু নিহত হয়েছে। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সাড়ে ৫টার দিকে বেগুনবাড়ি মসজিদ মার্কেটের পার্শ্ববর্তী ঢালে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত শিশুর বাবা মো. নাজিম জানান, তাদের গ্রামের বাড়ি জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায়। তারা বেগুনবাড়িতে থাকেন। তিনি পেশায় রিকশাচালক আর শিশুটির মা শিরিন আক্তার গৃহিণী। তাদের একমাত্র সন্তান নওরীন।

বিকেলে বাবা-মা দুজনের হাত ধরে বাসার সামনে বের হয়েছিল। তখন বাবার হাত থেকে ছুটে রাস্তা পার হওয়ার জন্য দৌড় দেয় শিশুটি। সঙ্গে সঙ্গে একটি অটোরিকশা এসে তাকে সজোরে ধাক্কা দেয়। ছিঁটকে রাস্তায় পড়লে মাথায় গুরুতর আঘাত পায় সে।

নাজিম আরও জানান, সঙ্গে সঙ্গে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে গেলে চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

চিকিৎসকের বরাত দিয়ে ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ভারপ্রাপ্ত মো. ফারুক মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে রাখা হয়েছে।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Local government minister calls for inter ministerial meeting to deal with floods

বন্যা মোকাবিলায় আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা, সমন্বিতভাবে কাজের আহ্বান স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর

বন্যা মোকাবিলায় আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা, সমন্বিতভাবে কাজের আহ্বান স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর ছবি: সংগৃহীত

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সাম্প্রতিক ভারি বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলের কারণে সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলা, জরুরি সাড়াদান এবং সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে সমন্বয় জোরদারের লক্ষ্যে মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সভায় সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সভার শুরুতে তিনি উদ্ভূত বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায়সংশ্লিষ্ট সকল মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থাকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে সমন্বিত উদ্যোগের কোনো বিকল্প নেই। প্রত্যেক মন্ত্রণালয় ও সংস্থাকে নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে দ্রুত সেবা ও সহায়তা পৌঁছে দিতে হবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের সব প্রতিষ্ঠানকে সমন্বয়ের ভিত্তিতে কাজ করতে হবে। উদ্ধার, ত্রাণ বিতরণ, স্বাস্থ্যসেবা, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ এবং ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনরুদ্ধারে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দায়িত্ব পালন করতে হবে।’

সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় সরকার দুর্যোগ মোকাবিলায় সর্বাত্মকভাবে কাজ করছে।’ তিনি বন্যাকবলিত এলাকায় ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, ‘কোনো ধরনের দুর্নীতি ছাড়াই প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে ত্রাণ পৌঁছে দিতে হবে।’

অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের একটি নির্ভুল ডাটাবেজ তৈরি করতে হবে, যাতে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম আরও সুশৃঙ্খল ও কার্যকর হয়।’ একই সঙ্গে তিনি সরবরাহ ব্যবস্থা (সাপ্লাই চেইন) এবং যোগাযোগ অবকাঠামো সচল রাখার ওপর গুরুত্ব দেন।

সভায় বন্যাপরবর্তী পুনর্বাসন ও ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব বিভাগ নিজ নিজ কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে। পানি নেমে যাওয়ার পর প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির চিত্র মূল্যায়ন করে খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি পরিচালনা করা হবে।
এ ছাড়া কৃষি খাতের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সক্রিয়ভাবে কাজ করার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে নতুন বীজ সরবরাহের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বন্যাকবলিত এলাকায় বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং রোগব্যাধি প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা জোরদার করারও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সভায় আরও সিদ্ধান্ত হয়, এলজিইডির আওতাধীন ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আওতাধীন ক্ষতিগ্রস্ত মহাসড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ সড়ক যোগাযোগ দ্রুত পুনরুদ্ধারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সরকারি সূত্র জানিয়েছে, বন্যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে উদ্ধার, ত্রাণ, স্বাস্থ্যসেবা এবং পুনর্বাসন কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Human chain and protest meeting held by transport workers in Nilphamari

নীলফামারীতে পরিবহন শ্রমিকদের মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত

নীলফামারীতে পরিবহন শ্রমিকদের মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত ছবি: সংগৃহীত

নীলফামারী জেলা বাস মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়ন (রেজি. নং রাজ-২২০) সৈয়দপুরভিত্তিক নেতাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা, বানোয়াট ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য, চাঁদাবাজি এবং শ্রমিক নির্যাতনের অভিযোগে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে শহরের চৌরঙ্গী মোড়ে এ কর্মসূচির আয়োজন করে নীলফামারী জেলা বাস মিনিবাস ও কোচ পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের (রেজি. নং রাজ-৩৪৪৬) শ্রমিকরা।

এ সময় বক্তব্য দেন জেলা বাস মিনিবাস ও কোচ পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি নূর আলম, সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানা মানিক, জেলা শ্রমিকদলের সাধারণ সম্পাদক জামিয়ার রহমান এবং সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের অর্থ সম্পাদক আবু তাহের প্রমুখ।

বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, ‘সৈয়দপুরভিত্তিক নীলফামারী জেলা বাস মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়ন দীর্ঘ ৪৮ বছর ধরে জেলার পরিবহন খাতে প্রভাব বিস্তার করে আসছে।’ এ সময় বিভিন্নভাবে জেলার বাস-মিনিবাস ও কোচ পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের হয়রানি ও নির্যাতন করা হয়েছে বলেও তারা দাবি করেন।

তাদের ভাষ্য, ‘মালিক ও শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষার উদ্দেশ্যে জেলাকেন্দ্রিক নীলফামারী জেলা বাস মিনিবাস ও কোচ পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন গঠন করা হয়েছে। নতুন এই সংগঠনকে নিয়ে মিথ্যা, বানোয়াট ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করা হচ্ছে, যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।’

বক্তারা আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘ভবিষ্যতে কেউ যদি সংগঠনটির নেতা বা শ্রমিকদের সম্পর্কে মিথ্যা, বানোয়াট ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন, তাহলে শ্রমিকরা প্রচলিত আইনের আওতায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Relief distribution by Sylhet Range Police among flood affected people in Moulvibazar

মৌলভীবাজারে বন্যাদুর্গত মানুষের মাঝে সিলেট রেঞ্জ পুলিশের ত্রাণ বিতরণ

মৌলভীবাজারে বন্যাদুর্গত মানুষের মাঝে সিলেট রেঞ্জ পুলিশের ত্রাণ বিতরণ ছবি: সংগৃহীত

মৌলভীবাজারের রাজনগরে বন্যাদুর্গত অসহায় মানুষের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ এবং বিশেষ মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালনা করেছে সিলেট রেঞ্জ পুলিশ। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকালে রাজনগর উপজেলার টেংরা ইউনিয়নের একামধু বেড়িবাঁধ এলাকায় এই মানবিক কার্যক্রমের আয়োজন করা হয়।

সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি ড. জিল্লুর রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই ত্রাণসামগ্রী বিতরণ ও মেডিকেল ক্যাম্পের কার্যক্রম পরিদর্শন করেন।

আকস্মিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কষ্ট লাঘবে রেঞ্জ পুলিশের পক্ষ থেকে চাল, ডাল, তেল, পেঁয়াজ, লবণ, আলু, চিড়া, মুড়ি ও বিস্কুটসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়।

একই সাথে চিকিৎসাসেবা বঞ্চিত বানভাসি মানুষের জন্য মৌলভীবাজার পুলিশ লাইন্স হাসপাতালের চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে একটি বিশেষ মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালনা করা হয়। ক্যাম্পে বন্যার্তদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা প্রদানের পাশাপাশি বিনামূল্যে জরুরি ওষুধ, ওরস্যালাইন এবং বিশুদ্ধ পানির জন্য পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট বিতরণ করা হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন সিলেট রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি আনোয়ারুল হক, পুলিশ সুপার মুহাম্মদ শরিফুল ইসলাম, পুলিশ সুপার আমিনুল ইসলাম, মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মনিরুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আসিফ মহিউদ্দীন, অতিরিক্ত সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) নভেল চাকমা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আবুল খয়েরসহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Protest of HSC examinees in Comilla to protest against Education Ministers speech

শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিবাদে কুমিল্লায় এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিবাদে কুমিল্লায় এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ছবি: সংগৃহীত

বন্যা পরিস্থিতি, টানা বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যে এইচএসসি পরীক্ষা আয়োজন এবং শিক্ষামন্ত্রীর সাম্প্রতিক বক্তব্যের প্রতিবাদে কুমিল্লায় বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) নগরীর কান্দিরপাড় পূবালী চত্বরে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের সামনে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এ কর্মসূচিতে অংশ নেন।

পরে তারা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের দিকে অগ্রসর হলে আদর্শ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাতেমাতুজ জোহরা এবং কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। এরপর শিক্ষার্থীরা শিক্ষা বোর্ডের প্রধান ফটকের বাইরে অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

শিক্ষার্থীদের তিন দফা দাবির মধ্যে রয়েছে, দুর্যোগ পুরোপুরি শেষ না হওয়া পর্যন্ত এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত রাখা, ১৩ জুলাই বৈরী আবহাওয়ার কারণে যারা পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি তাদের জন্য পুনঃপরীক্ষার ব্যবস্থা করা এবং আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলনের প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া।

সমাবেশে শিক্ষার্থীরা বলেন, টানা বৃষ্টি, বন্যা ও জলাবদ্ধতার কারণে অনেক পরীক্ষার্থী চরম দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছাতে বাধ্য হয়েছেন। অনেক এলাকায় সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় এবং যানবাহন সংকটের কারণে সময়মতো কেন্দ্রে পৌঁছানো অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে পরীক্ষা নেওয়া শিক্ষার্থীদের প্রতি অবিচার।

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের এক এইচএসসি পরীক্ষার্থী বলেন, বৈরী আবহাওয়ার কারণে গতকালের পরীক্ষা অনেকেরই খারাপ হয়েছে। এই পরীক্ষার ফল বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেলে ভর্তি প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই দুর্যোগকালীন সময়ে পরীক্ষা স্থগিত রাখতে হবে। একই সঙ্গে শিক্ষামন্ত্রীকে জনসম্মুখে ক্ষমা চাইতে হবে।

সমাবেশে শিক্ষার্থীরা আরও অভিযোগ করেন, শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষার্থীদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। ওই মন্তব্যের জন্যও তারা প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান। পাশাপাশি কিছু শিক্ষার্থী শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতেও স্লোগান দেন।

উল্লেখ্য, সোমবার টানা ভারি বৃষ্টিতে কুমিল্লা নগরীর বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রসহ কয়েকটি কেন্দ্রে কোমরসমান পানি পাড়ি দিয়ে পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রে পৌঁছাতে হয়। এ ঘটনায় অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তারা এ পরিস্থিতির জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদারকির ব্যর্থতার অভিযোগ তোলেন।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Patients suffering due to shortage of doctors in 250 bed hospital in Chapainawabganj

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ২৫০ শয্যা হাসপাতালে চিকিৎসক সংকটে রোগীদের ভোগান্তি

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ২৫০ শয্যা হাসপাতালে চিকিৎসক সংকটে রোগীদের ভোগান্তি ছবি: সংগৃহীত

নাতনিকে নিয়ে শিশু চিকিৎসকের খোঁজে হাসপাতালের একতলা থেকে আরেকতলায় ঘুরছিলেন শাহাবাজপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা মাহতাব উদ্দিন। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পরও কাঙ্খিত চিকিৎসকের দেখা না পেয়ে হতাশ তিনি। মাহতাব উদ্দিন বলেন, ‘শিশু ডাক্তারকে খুঁজছি, কিন্তু কোথায় পাব বুঝতে পারছি না।’

মাহতাব উদ্দিনের মতো প্রতিদিনই অনেক রোগী ও স্বজনকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে। চিকিৎসক ও অন্যান্য জনবল সংকটে ব্যাহত হচ্ছে হাসপাতালের স্বাভাবিক চিকিৎসাসেবা। বিশেষ করে মেডিসিন, সার্জারি ও শিশু বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের ঘাটতির কারণে জটিল রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে।

হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, চিকিৎসকদের অনুমোদিত ৮৫টি পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত আছেন ৩৮ জন। শূন্য রয়েছে ৪৭টি পদ। এর মধ্যে সিনিয়র কনসালট্যান্টের ১০টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র দুজন। জুনিয়র কনসালট্যান্টের ১৪টি পদের মধ্যে কর্মরত রয়েছেন সাতজন।

এ ছাড়া ইমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসারের আটটি পদের মধ্যে কর্মরত আছেন দুজন। সহকারী সার্জনের ২৮টি পদের বিপরীতে রয়েছেন ১০ জন। প্যাথলজিস্ট ও রেডিওলজিস্টের চারটি পদের মধ্যে দুটি এবং সহকারী রেজিস্ট্রারের নয়টি পদের মধ্যে চারটি পদ শূন্য রয়েছে।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, গত এক মাসে সাতজন চিকিৎসক বদলি হয়েছেন। এর বিপরীতে নতুন যোগ দিয়েছেন মাত্র একজন। এতে চিকিৎসক সংকট আরও বেড়েছে। বিশেষ করে সার্জারি ও মেডিসিন বিভাগে এর প্রভাব পড়েছে।

চর অনুপনগরের বাসিন্দা আজিজুর রহমান গতকাল মঙ্গলবার বলেন, সোমবার দুপুরে তার মা ফাতেমাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করেছিলেন। পরে মঙ্গলবার তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। আজিজুর রহমান বলেন, এখানে ভর্তি করে লাভ কী, যদি চিকিৎসা না পাওয়া যায়?

অন্যদিকে শাহাবাজপুর ইউনিয়নের মাহতাব উদ্দিন বলেন, নাতনীতে চিকিৎসার জন্য নিয়ে এসেছিলেন। কিন্ত শিশু ডাক্তারকে পেলেন না, এখন কি করবেন বুঝতে পারছেন না। র্দীঘক্ষণ বসেছিলেন দোতালায় শিশু ডাক্তারের আশায়, কিন্ত কাউকে পায়নি। শুধু মাহাতাব উদ্দিন নয়, তার মতো আরও অনেক রোগী ও স্বজনকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের জন্য বিভিন্ন ওয়ার্ডে ঘুরতে দেখা গেছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার মানুষের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট এ হাসপাতালে প্রতিদিনই শয্যা সংখ্যা বেশি রোগী ভর্তি থাকেন, অন্যদিকে বহিবিভাগে দুই হাজারের বেশি রোগী দেখতে হয় চিকিৎসকদের।

হাসপাতালের দ্বিতলায় লিফটের পাশেই থাকা কক্ষে এক চিকিৎসক দুপুর ১টার দিকে জানালেন, তিনি এখন পযন্ত ২০০ বেশি রোগী দেখেছেন। তখনও সেই কক্ষের সামনে অন্তত আরো ৩০-৪০ জন অপেক্ষমাণ ছিলেন। এ চিকিৎসক জানান সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টা পযন্ত সময়ে তাদের প্রতিদিনই প্রায় ২০০ কাছাকাছি রোগীকে দেখতে হয়।

পরিচ্ছন্নতা নিয়েও অভিযোগ : চিকিৎসকের পাশাপাশি সংকট রয়েছে হাসপাতালের অন্যান্য জনবলও। হাসপাতালের পরিক্ষার পরিচ্ছন্নতা নিয়েও বিস্তর অভিযোগ রোগী ও তাদের স্বজনদের। যেন হাসাপাতালে স্বজনের চিকিৎসার জন্য এসে নিজেই অসুস্থ হয়ে যাওয়ার উপক্রম বলে অভিযোগ রোগীর স্বজনদের।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের আসিয়া খাতুন, অভিযোগ করেন স্বামী তরিকুল ইসলামকে নিয়ে তিন দিন ধরে হাসপাতালে আছেন, হাসপাতালের পরিবেশে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তার অভিযোগ, হাসপাতালের টয়লেটসহ বিভিন্ন স্থানে দুর্গন্ধে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে। আসিয়া খাতুন বলেন, ‘গত তিন দিন ধরে টয়লেট পরিষ্কার করতে কাউকে আসতে দেখিনি।’

এদিকে, হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক মাহবুব হাসান বলেন, ২৫০ শয্যার বিপরীতে প্রতিদিন প্রায় ৫০০ রোগী ভর্তি থাকেন। বহির্বিভাগে প্রতিদিন গড়ে প্রায় দুই হাজার রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। সীমিত জনবল দিয়ে বিপুলসংখ্যক রোগীর সেবা দিতে চিকিৎসকদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘২৫০ শয্যার বিপরীতে প্রয়োজনীয় জনবল আমরা এখনো পাইনি। জনবল সংকট আমাদের বড় চ্যালেঞ্জ। কয়েকজন চিকিৎসক পদোন্নতিজনিত কারণে বদলি হয়েছেন, বিশেষ করে সার্জারি ও মেডিসিন বিভাগে বিশেষজ্ঞ কেউ নেই, এর প্রভাব পড়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।’

পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে, তিনি বলেন এখানে সরকারি রাজস্ব খাতে তিনজন পরিচ্ছন্নতা কর্মী আছেন, এর বাইওে মাস্টাররোলে আছেন ৮ জন, অন্তত ৩০ জন কর্মীর প্রয়োজন, আমরা চেষ্টা করছি বর্তমান কর্মীদের দিয়ে হাসপাতালকে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে।

২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতাল, চাঁপাইনবাবগঞ্জের তত্ত্বাবধায়ক ডা. জমির মো. হাসিবুস সাত্তার বলেন, বর্তমানে সার্জারি, মেডিসিন ও শিশু বিভাগে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সংকট রয়েছে। রোগীর চাপের তুলনায় চিকিৎসক কম থাকায় সেবা দিতে সমস্যা হচ্ছে।

তিনি বলেন, শূন্য পদে চিকিৎসক নিয়োগের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। নতুন চিকিৎসক যোগ দিলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

মন্তব্য

p
উপরে