× হোম রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া সিটিজেন জার্নালিজম বিচিত্র ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য আফগানিস্তান ১৫ আগস্ট কী-কেন স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও যৌনতা-প্রজনন ইউরোপ অন্যান্য উদ্ভাবন প্রবাসী আফ্রিকা ক্রিকেট শারীরিক স্বাস্থ্য আমেরিকা দক্ষিণ এশিয়া সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ মানসিক স্বাস্থ্য ব্লকচেইন অন্যান্য ভাষান্তর ফুটবল অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
An exceptional initiative of Police Lines in Naogaon started the journey of Library Batighar
google_news print-icon

নওগাঁয় পুলিশ লাইন্সের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ ‘লাইব্রেরি বাতিঘর’ এর পথচলা শুরু

নওগাঁয়-পুলিশ-লাইন্সের-ব্যতিক্রমী-উদ্যোগ-লাইব্রেরি-বাতিঘর-এর-পথচলা-শুরু
ছবি: সংগৃহীত

সভ্যতার অগ্রযাত্রায় বই কেবল জ্ঞানের আধারই নয়, বরং একটি জাতির ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও মূল্যবোধের নির্ভরযোগ্য বাহক। একটি সমৃদ্ধ গ্রন্থাগার নতুন চিন্তার দুয়ার খুলে দেয়, মননকে বিকশিত করে এবং মানুষকে আলোকিত জীবনের পথে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করে। বিশিষ্ট প্রাবন্ধিক প্রমথ চৌধুরীর ভাষায়, লাইব্রেরি হচ্ছে এক ধরনের মনের হাসপাতাল। অর্থাৎ, মানসিক সুস্থতা, আত্মিক বিকাশ ও জ্ঞানচর্চার অন্যতম আশ্রয়স্থল একটি গ্রন্থাগার।

এই দর্শনকে সামনে রেখে পুলিশ সদস্যদের মধ্যে বইপাঠের অভ্যাস গড়ে তোলা এবং জ্ঞানচর্চার পরিবেশ নিশ্চিত করতে নওগাঁ জেলা পুলিশ নিয়েছে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। এরই অংশ হিসেবে জেলা পুলিশ লাইন্সের লাইব্রেরি ‘বাতিঘর’কে আরও আধুনিক ও পাঠকবান্ধব করে গড়ে তোলা হয়েছে। বইপাঠের অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করতে সেখানে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ (এসি) ব্যবস্থাও সংযোজন করা হয়েছে, যাতে দায়িত্ব পালনের ফাঁকে পুলিশ সদস্যরা স্বাচ্ছন্দ্যে বই পড়তে পারেন।

নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, যুগে যুগে লাইব্রেরি বা গ্রন্থাগার মানুষের মেধা, মনন, ইতিহাস ও সংস্কৃতিকে ধারণ ও লালন করার অন্যতম বিশ্বস্ত মাধ্যম হিসেবে কাজ করে আসছে। মানুষের মানসিক সুস্থতা ও আত্মিক বিকাশে বই পড়ার কোনো বিকল্প নেই।

তিনি আরও বলেন, পুলিশিং অত্যন্ত ব্যস্ত ও চ্যালেঞ্জিং পেশা। তারপরও আমি আমার সহকর্মীদের সবসময় বলি, সুযোগ পেলেই বই পড়ুন। অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার কমিয়ে বইয়ের সঙ্গে সময় কাটান। একটি ভালো বই শুধু জ্ঞানই বাড়ায় না, এটি একজন মানুষকে আরও বিচক্ষণ, মানবিক ও দায়িত্বশীল করে তোলে। একজন দক্ষ ও পেশাদার পুলিশ সদস্য গড়ে তুলতেও বই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

সম্প্রতি বাংলাদেশ পুলিশের নতুন ইউনিফর্মে দায়িত্ব পালনের প্রথম দিনেই পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম জেলা পুলিশ লাইন্সের লাইব্রেরি ‘বাতিঘর’ পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি লাইব্রেরির সার্বিক পরিবেশ ঘুরে দেখেন, বইয়ের সংগ্রহ সম্পর্কে খোঁজখবর নেন এবং পুলিশ সদস্যদের নিয়মিত বইপাঠে উদ্বুদ্ধ করেন। তিনি বলেন, প্রযুক্তির এই যুগে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার যেমন প্রয়োজন, তেমনি বইপাঠের অভ্যাসও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বই মানুষকে গভীরভাবে চিন্তা করতে শেখায় এবং পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধিতে কার্যকর ভূমিকা রাখে।

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Plantation program was held in joint initiative of Kuwait and KMP

কুয়েট ও কেএমপির যৌথ উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত

কুয়েট ও কেএমপির যৌথ উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত ছবি: সংগৃহীত

পরিবেশ সংরক্ষণ, সবুজায়ন সম্প্রসারণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) ও খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি)-এর যৌথ উদ্যোগে ‘বৃক্ষরোপণ সপ্তাহ-২০২৬’ উপলক্ষে মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

অনুষ্ঠানে কুয়েটের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মুহাম্মদ মাছুদ, মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান, বিপিএম (সেবা), পুলিশ কমিশনার, খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি) এবং এ.কে.এম. মোশাররফ হোসেন মিয়াজী, কমান্ড্যান্ট (ডিআইজি), পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার (পিটিসি), খুলনা-এর উপস্থিতিতে ক্যাম্পাসে বৃক্ষরোপণ করা হয়।

এ সময় ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মুহাম্মদ মাছুদ বলেন, ‘একটি গাছ শুধু পরিবেশের ভারসাম্যই রক্ষা করে না, এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ পৃথিবী গড়ে তোলার অন্যতম ভিত্তি। পরিবেশ রক্ষায় প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে বৃক্ষরোপণ ও বৃক্ষ সংরক্ষণে এগিয়ে আসতে হবে। কুয়েট একটি সবুজ, পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব ক্যাম্পাস গড়ে তুলতে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে।

বৃক্ষরোপণ সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষে এ মহৎ উদ্যোগে অংশগ্রহণ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যৌথভাবে কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য আমি খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সুদর্শন কুমার রায়, উপপুলিশ কমিশনার (উত্তর বিভাগ); জাকিয়া সুলতানা, অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (উত্তর); শিহাব করিম, সহকারী পুলিশ কমিশনার (দৌলতপুর জোন); মো. গোলাম মোর্শেদ, সহকারী পুলিশ কমিশনার (স্টাফ অফিসার) সহ খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

কুয়েটের পক্ষে অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিনবৃন্দ, ইনস্টিটিউটের পরিচালকবৃন্দ, রেজিস্ট্রার, বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধানগণ, দপ্তর ও শাখা প্রধানগণ, শিক্ষক, কর্মকর্তা এবং কর্মচারীগণ অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে দেশীয়, ফলজ, বনজ ও ঔষধি প্রজাতির বৃক্ষরোপণ করা হয়।

বক্তারা বলেন, পরিবেশ সংরক্ষণ ও টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এ ধরনের যৌথ উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দেবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে পরিবেশ সচেতন করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

অনুষ্ঠান শেষে অতিথিবৃন্দ ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে বৃক্ষরোপণ করেন এবং সবুজ ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয়ে সকলকে অন্তত একটি করে গাছ রোপণ ও পরিচর্যার আহ্বান জানান।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
3 lakh people suffer from potholes on Pannarpool Nahal Chaumuhani road in Devidwar

দেবিদ্বারের পান্নারপুল-নহল চৌমুহনী সড়কে খানাখন্দ, দুর্ভোগে ৩ লাখ মানুষ

দেবিদ্বারের পান্নারপুল-নহল চৌমুহনী সড়কে খানাখন্দ, দুর্ভোগে ৩ লাখ মানুষ ছবি: সংগৃহীত

সংস্কারের প্রতিশ্রুতি মিলেছে বারবার। সর্বশেষ টেন্ডারও সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। কিন্তু বাস্তবে সাত বছর ধরে ভাঙাচোরা অবস্থায় পড়ে আছে কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার পান্নারপুল থেকে মুরাদনগর উপজেলার নহল চৌমুহনী পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার সড়ক। ফলে এ এলাকার অন্তত তিন লাখ মানুষ সীমাহীন দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন দিনের পর দিন বছ‌রের পর বছর।

গুরুত্বপূর্ণ এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন হাজারো পথচারী, শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, কৃষক, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচল করলেও বর্তমানে এটি কার্যত চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

সরেজমিনে গি‌য়ে দেখা যায়, পৌর এলাকার পান্নারপুল থে‌কে নহল চৌমুহনী পর্যন্ত সড়ক‌টি দীর্ঘ‌দিন সংস্কার না হওয়ায় সড়ক‌টির বিভিন্ন স্থানে ইট-পাথর বেরিয়ে এসেছে। সৃ‌স্টি হ‌য়ে‌ছে বড় বড় গর্ত, কোথাও ছোট-বড় খানাখন্দ। সামান্য বৃষ্টিতেই গর্তগুলো পানিতে তলিয়ে থাকায় কোনটি রাস্তা আর কোনটি গর্ত, তা বোঝার উপায় থাকে না। ফলে যানবাহন ধীরগতিতে চলাচল করছে এবং প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছে রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স। জরুরি রোগী নিয়ে হাসপাতালে যেতে অনেক সময় বিলম্ব হচ্ছে, যা রোগীর জন্যও ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। সড়‌কের মুরাদনগর উপ‌জেলাধীন বাকী অং‌শেরও একই অবস্থা।

জানা গেছে, পান্নারপুল-নহল চৌমু‌হনী-বাখরাবাদ সড়কটি একসময় পেট্রোল বাংলার অধীনে ছিল। পরে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আওতায় আনা হয়। পরবর্তীতে ইলিয়টগঞ্জ থেকে নহল চৌমুহনী হয়ে মুরাদনগর পর্যন্ত অংশ সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের অধীনে স্থানান্তর করা হয়। এই সড়ক ব্যবহার করে দুই উপজেলার লাখো মানুষ অল্প সময়ে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করেন।

স্থানীয় বাসিন্দা কাজী নাছির উদ্দিন বলেন, সড়কের পাশে কয়েকটি উচ্চ বিদ্যালয়, মাদ্রাসা ও প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। প্রায়ই যাত্রী বহনকারী অটোরিকশা উল্টে দুর্ঘটনা ঘটছে। খানাখ‌ন্দে প‌ড়ে দীর্ঘ সময় আট‌কে থা‌কে মালামাল প‌রিবহ‌নের পিকআপ ভ‌্যান। কয়েক বছর ধরে সংস্কারের আশ্বাস শুনে আসছি, কিন্তু বাস্তবে কোনো কাজ হয়নি। দেবিদ্বার ও মুরাদনগর উপজেলার মধ্যে সড়কটির দায়িত্ব নিয়ে টানাপড়েন চলছে। এর খেসারত দিচ্ছেন সাধারণ মানুষ।

দেবিদ্বার পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. আব্দুল কাদের বলেন, মরিচাকান্দা জিয়া স্মৃতি আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনের অংশে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। পান্নারপুল থেকে নহল চৌমুহনী পর্যন্ত পুরো সড়কের একই অবস্থা। মানুষ প্রতিনিয়ত অভিযোগ করছে, কিন্তু তাদের সন্তোষজনক কোনো জবাব দিতে পারছি না। দুই উপজেলার মধ্যে সমন্বয়ের অভাব এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর দায়িত্ব নিয়ে টানাপোড়েনের কারণেই সংস্কারকাজ দীর্ঘদিন ঝুলে আছে। একাধিকবার আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে কোনো কাজ হয়নি।

দেবিদ্বার উপজেলা এলজিইডির সহকারী প্রকৌশলী মো. নাজমুল হাসান বলেন, সড়কের একটি অংশ দেবিদ্বারের হলেও সংস্কার প্রকল্পটি মুরাদনগর উপজেলার আওতায় হয়েছে। আমাদের জানা মতে, কাজের টেন্ডার ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।

মুরাদনগর উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফয়সাল বারী বলেন, পান্নারপুল থেকে নহল চৌমুহনী পর্যন্ত সড়ক সংস্কারের টেন্ডার সম্পন্ন হয়েছে। ঠিকাদারও কাজের প্রস্তুতি নিয়েছেন। বর্ষা মৌসুমের কারণে কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। বর্ষার পরপরই কাজ ধরবে বলে তিনি জানিয়েছেন।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Residents of Narail suffer from flooding after 1 day of rain

১ দিনের বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা, ভোগান্তিতে নড়াইল পৌরবাসী

১ দিনের বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা, ভোগান্তিতে নড়াইল পৌরবাসী ছবি: সংগৃহীত

টানা বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতায় নাকাল নড়াইল পৌর এলাকার মানুষ। নাগরিক অসচেতনতা, অপরিকল্পিতভাবে বেড়ে ওঠা দালানকোঠা, বাড়ি-ঘর ও রাস্তা নির্মাণে পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়া, অতিবৃষ্টিতে নদীগুলোর নাব্যতা সংকট, খালের মাঝখানে আড়াআড়ি বাঁধ দেওয়া কিংবা খালগুলো ভরাট করে এক্সক্যাভেটর যাওয়ার জন্য সড়ক নির্মাণ, সার্ভিস ড্রেনগুলো আবর্জনায় ভরে থাকা, নিয়মিত খালগুলো পরিষ্কার না রাখা ইত্যাদি কারণে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে এমন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বলে সচেতন মহলের অভিমত।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পর পৌরসভার নির্বাচিত মেয়রের পদ শূন্য হয়ে পড়ে। বর্তমানে পৌর প্রশাসক হিসেবে দায়িত্বে আছেন জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের ডিডিএলজি মো. নাজমুল হুদা।

আধুনিকীকরণ কালিদাস ট্যাঙ্ক (পুকুর) পাড়ে দাঁড়িয়ে আছে প্রথম শ্রেণির মর্যাদা সম্পন্ন নড়াইল পৌর ভবন। জেলা হেড কোয়ার্টারে পৌরসভার অবস্থান হলেও এখানকার নাগরিকদের শুধু অফিসিয়াল সুযোগ-সুবিধা ছাড়া জীবনমানের কোনো পরিবর্তন হয়নি। এখানে নেই কোনো উন্নতমানের আবাসিকসহ খাবার হোটেল, নেই ভালো মার্কেটসহ বিপণিবিতান, খেলাধুলার উপযুক্ত মাঠ, বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে নাগরিকদের চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন যাপন করতে হয়। ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং সময়োপযোগী পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই নাকাল অবস্থা। প্রতি বছর এই অচলাবস্থার মধ্যে জীবন কাটাতে হয় নাগরিকদের।

সরেজমিন দেখা গেছে, পৌর এলাকার ১২টি ছোট-বড় খাল চিত্রা এবং কাজলা নদীর সঙ্গে সংযোগ ছিল। সেগুলো কালেভদ্রে ভরাট করে দখল হয়ে যাওয়ায় পৌর বাসিন্দাদের বাড়ি-ঘরে হাঁটু পানি উঠছে। জমে থাকা পানি থেকে দুগর্ন্ধ ছড়াচ্ছে। পোকামাকড় কিলবিল করছে। ড্রেন এবং বাথরুমের ময়লা-আবর্জনা বৃষ্টির পানির সঙ্গে ভেসে ঘরে ঢুকছে। অনেকে বাড়ি-ঘর ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে। যাদের যাওয়ার কোনো জায়গা নেই তারা ওই পরিবেশের মধ্যে রাত কাটাতে বাধ্য হচ্ছে।

পৌর ভবন থেকে ঢিল ছোড়া দূরত্বে নড়াইল কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দান। ঈদগাহের পাশে বসবাসকারী সিটি কলেজের সহকারী অধ্যাপক আশীষ হাজরা, সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিখিল দাস, সরকারি চাকরিজীবী এসআই শংকর কুমার, অরুন শীলসহ অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টি হলে এ পাড়া তলিয়ে যায়। এই পাড়ায় প্রায় ৪০টি পরিবার বসবাস করে। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে পৌরসভায় আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু এ ব্যাপারে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি পৌর কর্তৃপক্ষ।’

নড়াইল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাক মাহাবুবুর রশিদ লাবলু ও সাংবাদিক আব্দুস সাত্তার বলেন, ‘এক দিনের বৃষ্টিতে ঘরের মধ্যে পানিতে সয়লাব। পরিবারের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র খাটের উপরে তুলে রেখে তার ওপরই রান্নাবান্না-খাওয়া দাওয়া ও রাত যাপন করতে হচ্ছে। পাশের পুকুর থেকে মাছ ভেসে ঘরে প্রবেশ করছে। মাছের সঙ্গে ভেসে আসছে বাথরুমের ময়লা-আবর্জনাও। নিদারুণ কষ্টের মধ্যে দিনযাপন করতে হচ্ছে।’ তারা বলেন, ‘নড়াইল পৌরসভা প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হওয়া সত্তেও নাগরিদের তেমন কোনো সুযোগ-সুবিধা নেই। পৌরসভা নামেই তাল পুকুর, ঘটি ডোবে না।’

মাছিমদিয়া গ্রামের বাসিন্দা নড়াইল প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি এনামুল করিব টুকু বলেন, ‘টানাবৃষ্টিতে আমার এলাকার চারপাশের প্রায় শতাধিক পরিবার পানিবন্দি। পোকামাকড়ের সঙ্গে রাত কাটাতে হচ্ছে। সর্দি-কাশিসহ বাচ্চাদের নানা ধরনের অসুখ দেখা দিয়েছে।’

বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট এস এ মতিন বলেন, ‘নড়াইল পৌর এলাকায় ছোট বড় ১২টি খাল ছিল। ৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এসব খালের সিংহভাগই দখল ও ভরাট করে মার্কেটসহ বিভিন্ন স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছে। এতে বর্ষার পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় এলাকাবাসী জলাবদ্ধতার শিকার হচ্ছেন।

শহরের প্রবীণ ব্যক্তি ছামি মোল্যা বলেন, ‘নাগরিকদের ভোটে নির্বাচিত পৌরসভার মেয়ররা তাদের দায়িত্ব-কর্তব্য পালনে হীনমন্যতার পরিচয় দিয়েছে। নগর উন্নয়নে বিদেশি সংস্থা থেকে অর্থ বরাদ্দ পাওয়া গেলেও সেগুলো কারচুপির অভিযোগ রয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘পৌরসভা বর্তমানে সরকারি চাকরিজীবী দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। তারা-তো দায়িত্ব পালনে গড়িমসি দেখাবেই। তবে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি থাকাকালিন সময়েও তারা ব্যর্থ।’ ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘কবে মুত্তি পাব আমরা জলাবদ্ধতার হাত থেকে?’

নবনিযুক্ত অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার বিভাগের (ডিডিএলজি) পরিচালক মো. নাজমুল হুদা বলেন, ‘নতুন কর্মস্থলে যোগ দিয়েছি এক সপ্তাহও হয়নি। পৌরসভার দায়িত্ব নেওয়ার পর জলাবদ্ধতার চিত্র ঘুরে ঘুরে দেখেছি। সামান্য বৃষ্টিতে প্রথম শ্রেণির পৌরসভার নাগরিক এভাবে পানিতে নিমজ্জিত হয় তা খুব একটা দেখা যায় না।’ তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, ‘পৌর এলাকার পানি নিষ্কাশনের পথগুলো বেশিরভাগ ভরাট করা হয়েছে। যতটুকু আছে তা ময়লা-আর্বজনায় ভরা। পানি বের হতে পারে না। চেষ্টা করব পৌর নাগরিকদের ভালো লাখার।’ তবে সকল মহলের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Inauguration of week long tree plantation drive and fair in Feni

ফেনীতে সপ্তাহব্যাপী বৃক্ষরোপণ অভিযান ও মেলার উদ্বোধন

ফেনীতে সপ্তাহব্যাপী বৃক্ষরোপণ অভিযান ও মেলার উদ্বোধন ছবি: সংগৃহীত

‘বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’-এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ফেনীতে উৎসবমুখর পরিবেশে সপ্তাহব্যাপী বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকালে ফিতা কেটে ও বেলুন উড়িয়ে মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ফেনী জেলা প্রশাসক মনিরা হক।

​এর আগে বেলা সাড়ে ১১টায় শহরের মিজান রোডস্থ মিজান ময়দান থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের করা হয়। র‍্যালিটি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে জহির রায়হান হল মাঠে এসে শেষ হয়। এবারের মেলায় মোট ২০টি স্টল স্থান পেয়েছে। যেখানে দেশি-বিদেশি নানা প্রজাতির ফলদ, বনজ ও ফুলের চারা প্রদর্শন ও বিক্রির জন্য নিয়ে আসা হয়েছে।

​র‍্যালি শেষে জহির রায়হান মাঠে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ফেনী বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ রুহুল আমিনের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইদুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আল আমিন সরকার, ফেনী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ আতিক উল্লাহ, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুলতানা নাসরিন কান্তা।

অনুষ্ঠানে রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক সালাহ উদ্দিন মামুন, ফেনী সদর বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা বাবুল চন্দ্র ভৌমিক, জেলা করাত কল মালিক সমিতির সভাপতি মোজাম্মেল হোসেন চৌধুরী (আমির) ও নার্সারি মালিক সমিতির সভাপতি আবু বক্কর ছিদ্দিকসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন। সাংস্কৃতিক সংগঠক মাহতাব সোহেলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিরা শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন।

​উদ্বোধনী বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মনিরা হক পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গাছ লাগানোর ওপর বিশেষ জোর দেন। তিনি বলেন, গাছ শুধু আমাদের পরিবেশই রক্ষা করে না, মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সাথেও এটি ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। বিশেষ করে বায়ুমণ্ডলে অক্সিজেনের ভারসাম্য বজায় রাখতে আমাদের বেশি বেশি করে গাছ রোপণ করতে হবে। তবে শুধু গাছ লাগালেই দায়িত্ব শেষ হয় না, সেগুলোর সঠিক পরিচর্যাও নিশ্চিত করতে হবে।

​​উল্লেখ্য, জহির রায়হান হল মাঠে আয়োজিত এই মেলাটি প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। মেলা চত্বরে সাশ্রয়ী মূল্যে মানসম্মত চারার পাশাপাশি দর্শনার্থীদের জন্য গাছের পরিচর্যাবিষয়ক পরামর্শের সুবিধাও রাখা হয়েছে।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
There is a stir in the district of Pabna due to the yield of Saudi dates

সৌদি জাতের খেজুরের ফলনে পাবনায় জেলাজুড়ে আলোড়ন

সৌদি জাতের খেজুরের ফলনে পাবনায় জেলাজুড়ে আলোড়ন ছবি: সংগৃহীত

মরুভূমির তপ্ত বালু আর তীব্র রোদে যে খেজুরের ফলন হয়, সেই সুস্বাদু ও দামি বিদেশি খেজুর এখন ফলছে বাংলাদেশের মাটিতে। একসময় যে উন্নত জাতের খেজুর পুরোপুরি আমদানির ওপর নির্ভরশীল ছিল, তা সফলভাবে চাষ করে পাবনায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছেন তরুণ উদ্যোক্তা সাইফুদ্দিন হিরুক। তার এই ব্যতিক্রমী ও সাহসী উদ্যোগ ইতোমধ্যে জেলাজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

সরেজমিনে পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার একদন্ত ইউনিয়নে গিয়ে দেখা যায়, সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে ঝুলছে থোকা থোকা খেজুর। বিস্তীর্ণ মাঠে যেন এক টুকরো মধ্যপ্রাচ্যের আবহ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০২২ সালে গয়েশপুর এলাকার এক ব্যক্তির কাছ থেকে কয়েকটি উন্নত জাতের খেজুরের চারা সংগ্রহ করে যাত্রা শুরু করেন সাইফুল ইসলাম হিরুক। প্রথমে মাত্র ৩৩ শতাংশ জমিতে চারটি চারা রোপণ করেন তিনি। শুরুতে এই উদ্যোগে অনেকেই তাকে নিরুৎসাহিত করেছিলেন।

অনেকেই বলেছিলেন, বাংলাদেশের আবহাওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের খেজুর ফলানো অসম্ভব। কিন্তু হিরুক থেমে যাননি। নিয়মিত পরিচর্যা, ধৈর্য ও কৃষি বিভাগের পরামর্শ মেনে অক্লান্ত পরিশ্রম করে গেছেন। মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে সেই ছোট্ট উদ্যোগ আজ পরিণত হয়েছে প্রায় ৬০টি গাছের এক সমৃদ্ধ খেজুর বাগানে। হিরুকের এই বাগানে ঠাঁই পেয়েছে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের জনপ্রিয় ১০ থেকে ১২টি উন্নত জাতের খেজুর।

এর মধ্যে রয়েছে— আজওয়া, মরিয়ম, মেজুল, ছুক্কারি, ওয়ারহিছ, বড়ই খেজুরসহ বিভিন্ন আকর্ষণীয় জাত। উদ্যোক্তা জানান, প্রতিটি জাতের আলাদা বৈশিষ্ট্য রয়েছে। অনেক গাছ থেকে উন্নতমানের ‘সাকার’ বা চারা উৎপন্ন হচ্ছে, যা দিয়ে নতুন করে বাগান সম্প্রসারণ করা সম্ভব। বাগানে খেজুরের বাম্পার ফলন দেখতে প্রতিদিনই দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসছেন কৃষক, শিক্ষার্থী, বেকার যুবক ও সাধারণ মানুষ। কেউ আসছেন শখের বসে ছবি তুলতে, আবার কেউ আসছেন হিরুকের কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে নতুন বাগান গড়ার স্বপ্ন বুক বেঁধে। পুষ্পপাড়া এলাকা থেকে আসা দর্শনার্থী আব্দুল কাইয়ুম বলেন, ‘লোকমুখে শোনে বিশ্বাস হচ্ছিল না। তাই নিজের চোখে দেখতে এসেছি। এসে তো আমি অভিভূত! আমরা জানতাম খেজুর শুধু সৌদি আরবেই হয়। এখন দেখছি আমাদের পাশেই হচ্ছে। আমার নিজেরও এখন একটা বাগান করার শখ জাগছে।’

একদন্ত এলাকার স্থানীয় যুবক রুহুল আমিন বলেন, ‘মরুভূমির খেজুর যে আমাদের দেশের মাটিতেও এত সুন্দরভাবে জন্মাতে পারে, হিরু ভাই তা প্রমাণ করে দিয়েছেন। এলাকার যুবকদের জন্য এটি একটি বড় অনুপ্রেরণা।’

নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে সফল চাষি সাইফুদ্দিন হিরুক বলেন, ‘শখের বশে যখন শুরু করি, তখন অনেকেই তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করেছিলেন। কিন্তু আমি দমে যাইনি। আজ যখন গাছে ফল এসেছে, তখন মনের ভেতর অন্যরকম এক আনন্দ কাজ করছে। সরকারি সহযোগিতা ও ঋণ সুবিধা পেলে এই বাগানকে আরও বড় পরিসরে সম্প্রসারণ করার পরিকল্পনা রয়েছে আমার।’

কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, উপযুক্ত জাত নির্বাচন, সঠিক পরাগায়ন এবং আধুনিক কৃষিপদ্ধতি ব্যবহার করলে বাংলাদেশের মাটিতেও উন্নত জাতের বাণিজ্যিক খেজুর চাষ বিপুল সম্ভাবনাময়।

এ বিষয়ে পাবনা জেলা প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘হিরুক যে উদ্যোগ নিয়েছেন তা সত্যিই প্রশংসনীয়। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে তাকে নিয়মিত কারিগরি পরামর্শ ও সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। আমরা আশা করছি, তার এই সাফল্য দেখে জেলার আরও অনেক তরুণ উদ্যোক্তা এই অর্থকরী ফসল চাষে এগিয়ে আসবেন।’

মন্তব্য

বাংলাদেশ
A preparatory meeting was held in Magura on the occasion of July Martyrs Day and Peoples Uprising Day 

মাগুরায় জুলাই শহীদ দিবস ও গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত 

মাগুরায় জুলাই শহীদ দিবস ও গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত  ছবি: সংগৃহীত

জুলাই শহীদ দিবস ও জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস ২০২৬ উপলক্ষে মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকালে জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে এক প্রস্তুতি সভা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় মাগুরা জেলা প্রশাসক মোতাকাব্বীর আহমেদের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আব্দুল কাদের, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহ শিবলী সাদিক, জেলা পরিষদের প্রশাসক আলি আহমদ, জেলা সিভিল সার্জন ডাক্তার শামীম কবির, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেরুন্নেছা, জেলা তথ্য অফিসার পাভেল দাস, জেলা মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক আব্দুল আউয়াল, মাগুরা প্রেসক্লাবের সভাপতি অধ্যাপক সাইদুর রহমান ও পৌর বিএনপির সভাপতি মাসুদ হাসান খান কিজিল প্রমুখ। তা ছাড়া সভায় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান, সাংবাদিক ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় জানানো হয়, আগামী পাঁচ আগস্ট জুলাই শহীদ দিবস ও আগামী ১৬ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস যথাযথভাবে মাগুরায় পালিত হবে। এ উপলক্ষে ওই দিন জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ, আলোচনা সভা, সংবর্ধনা ও বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে মোনাজাত ও প্রার্থনা হবে।

দিবসটি পালনের জন্য সবার সহযোগিতা কামনা করা হয়। বক্তারা আরও বলেন, জুলাই শহীদ আন্দোলন আমাদের অনুপ্রেরণার উৎস। ছাত্র-জনতার আন্দোলনের তীব্র প্রতিবাদের মুখে ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন হয়েছে। এ আন্দোলনে মা হারিয়েছে তার সন্তান, পিতা হারিয়েছে তার সন্তান এবং দেশ হারিয়েছে অনেক মেধাবী শিক্ষার্থীদের। ৫ আগস্টের স্মৃতি দেশ ও জাতি কোনোদিন ভুলবে না।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Shailmari sluicegate was opened to relieve the waterlogging of Bill Dakatiya

‘বিল ডাকাতিয়া’―র জলাবদ্ধতা নিরসনে খুলে দেওয়া হলো শৈলমারী স্লুইসগেট

‘বিল ডাকাতিয়া’―র জলাবদ্ধতা নিরসনে খুলে দেওয়া হলো শৈলমারী স্লুইসগেট ছবি: সংগৃহীত

খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার অন্যতম প্রধান সমস্যা ‘বিল ডাকাতিয়া’র ভয়াবহ জলাবদ্ধতা নিরসনে অবশেষে খুলে দেওয়া হয়েছে শৈলমারী স্লুইসগেট (সুইচগেট)। গত রোববার (১২ জুলাই) ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মিজ সবিতা সরকার উপস্থিত থেকে এই স্লুইসগেটটি উন্মুক্ত করেন।

এর ফলে বিল ডাকাতিয়া অঞ্চলের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত পানি নিষ্কাশনের পথ সুগম হলো, যা স্থানীয় লাখো মানুষের মনে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে। ​জলাবদ্ধতা দূরীকরণে প্রশাসনের তৎপরতা, স্লুইসগেটটি খুলে দেওয়ার সময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার সবিতা সরকার বলেন, বিল ডাকাতিয়ার জলাবদ্ধতা এ অঞ্চলের মানুষের জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি দুর্ভোগ। স্থানীয় জনগণের কষ্ট লাঘব এবং কৃষি ও মৎস্য খাতের ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে দ্রুত পানি নিষ্কাশন করা অত্যন্ত জরুরি ছিল।

শাসনের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং পানি নিষ্কাশন প্রক্রিয়া যাতে বাধাগ্রস্ত না হয়, সেদিকে কঠোর নজরদারি রাখা হবে।

​উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ গুরুত্বপূর্ণ এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের সময় ঘটনাস্থলে আরও উপস্থিত ছিলেন:পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী উজ্জ্বকুমার সেন, খুলনা পানি উন্নয়ন বিভাগ-১: আব্দুর রহমান তাযকিয়া, প্রকৌশলী, যিনি কারিগরি ও জলকপাট ব্যবস্থাপনার বিষয়টি তদারকি করেন।

রুদাঘরা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক জিএম আমানুল্লাহ, স্থানীয় বিএনপি নেতা আব্দুর রব আকুঞ্জি, ​উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও সাধারণ কৃষক সমাজ।

​খুলনার ডুমুরিয়া ও ফুলতলা উপজেলার একটি বিশাল অংশজুড়ে বিল ডাকাতিয়া বিস্তৃত। বছরের পর বছর ধরে অপরিকল্পিত পলি ভরাট এবং পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা সংকুচিত হওয়ার কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই এই বিলে কৃত্রিম বন্যা বা স্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এতে হাজার হাজার একর ফসলি জমি পানির নিচে তলিয়ে যায় এবং শত শত মৎস্য ঘের ভেসে যায়, যার ফলে স্থানীয় অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

​শৈলমারী স্লুইসগেটটি খুলে দেওয়ার ফলে বিলে আটকে থাকা অতিরিক্ত পানি পশুর বা শিবসা নদীতে নেমে যাওয়ার সুযোগ পাবে। তবে স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, সাময়িক গেট খোলার পাশাপাশি শৈলমারী নদী ও খালের পলি অপসারণ (ড্রেজিং) করা না হলে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।

মন্তব্য

p
উপরে