দক্ষিণবঙ্গের বরিশালে ১৩ ই জুলাই সফরকে কেন্দ্র করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মাদারীপুর অংশে হাজার-হাজার বিএনপি দলীয় নেতাকর্মী, শুভানুধ্যায়ী ও স্বতঃস্ফূর্ত জনতার উষ্ণ অভ্যর্থনায় সিক্ত হলেন । সোমবার (১৩ ই জুলাই) প্রত্যুষে ঢাকা থেকে নির্ধারিত বিশেষায়িত বুলেটপ্রুফ বাসযোগে সড়কপথে রওনা হয়ে সকাল ৮:৩০ টার দিকে ভাঙ্গা-বরিশাল মহাসড়ক হয়ে তিনি দক্ষিণবঙ্গের উদ্দেশ্যে মাদারীপুর অংশ অতিক্রম করেন।
বরিশালে তার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের উদ্বোধন ও জনসভায় যোগ দেয়ার কথা রয়েছে। মাদারীপুর জেলা অতিক্রমকালে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে এসময় মাদারীপুরের শিবচর পদ্মা সেতু এলাকা, পাচ্চর, রাজৈর উপজেলার টেকেরহাট, রাজৈর বাসষ্ট্যান্ড, মাদারীপুর সদরের মস্তফাপুর বাসষ্ট্যান্ড, কালিকিনি ও ডাসার উপজেলার ভূরঘাটায় হাজার-হাজার বিএনপি'র নেতা-কর্মী-সমর্থক, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, পথচারী ও স্বতঃস্ফূর্ত উৎসুক জনতা তাদের প্রিয় প্রধানমন্ত্রীকে একনজর দেখার জন্য মহাসড়কের দু'পাশে ভিড় জমান এবং উষ্ণ অভ্যর্থনা প্রদান করেন। প্রধানমন্ত্রী এসময় বাসের অগ্রভাগে থেকে সবাইকে ছালাম বিনিময় করে ও হাত নেড়ে শুভেচ্ছা-অভিনন্দন জানান।
প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানাতে নেতা-কর্মী-সমর্থকদের সাথে নিয়ে সকাল থেকেই সক্রিয় উপস্থিত ছিলেন মাদারীপুর সদর-২, ৩ ও নারী সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য যথাক্রমে- জাহান্দার আলী মিয়া, আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন ও হেলেন জেরিন খান এমপি সহ জেলা বিএনপি'র আহবায়ক এডভোকেট জাফর আলী মিয়া, সদর উপজেলা বিএনপি'র সভাপতি এডভোকেট গুলজার আহম্মেদ চিশতী মস্তফা (জিপি জজকোর্ট), পৌর বিএনপি'র সভাপতি (পিপি) শরীফ সাইফুল কবীর সহ অঙ্গসংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। এসময় তারা মুহুর্মুহু বিভিন্ন স্লোগানে মুখরিত করে তাদের প্রিয় প্রধানমন্ত্রীকে দক্ষিণবঙ্গে স্বাগত জানান।
ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর লালবাগের আজিমপুর মেডিকেল স্টাফ কোয়ার্টারে বাসা ভাড়ার বকেয়া মাত্র ১ হাজার টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে মো. স্বপন (৬০) নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ।
সোমবার (১৩ জুলাই) ভোরে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় স্বপনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত স্বপনের বাড়ি মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলার তাহের ফকির কান্দি গ্রামে। তার বাবার নাম মৃত আব্দুল মান্নান। তিনি আজিমপুর মেডিকেল স্টাফ কোয়ার্টারের নিচতলায় ভাড়া থাকতেন এবং কসমেটিক্স ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
নিহতের ভাই রাজা মোহাম্মদ সেলিম জানান, তারা দুই ভাই সাবলেটে বসবাস করতেন। বাসার বরাদ্দপ্রাপ্ত ব্যক্তি রিজভী মাস শেষ হওয়ার আগেই ভাড়া পরিশোধের জন্য চাপ দিতেন। চলতি মাসের ভাড়ার মধ্যে এক হাজার টাকা বকেয়া ছিল। রোববার (১২ জুলাই) রাতে রিজভী ওই টাকা চাইলে তারা দু-এক দিনের মধ্যে পরিশোধ করবেন বলে জানান। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে রিজভী তাদের গালাগাল করেন এবং দেখে নেওয়ার হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সেলিমের অভিযোগ, রাতের ঘটনার পর সোমবার (১৩ জুলাই) ভোর ৪টার দিকে রিজভী ও তার চাচাতো ভাই রোহান তাদের কক্ষের সামনে এসে আবারও বকেয়া ভাড়া নিয়ে কথা-কাটাকাটি শুরু করেন। একপর্যায়ে তিনি বাধা দিতে গেলে তাকে লাথি মেরে ফেলে দেওয়া হয়।
এরপর তার ভাই স্বপনকে কিলঘুষি মারতে মারতে টেনে হিঁছড়ে কোয়ার্টারের সামনের মাঠে নিয়ে যাওয়া হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক মো. ফারুক চিকিৎসকের বরাত দিয়ে স্বপনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে এবং বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ তদন্ত করছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুইজনকে আটক করা হয়েছে। তবে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ এবং ঘটনার প্রকৃত বিবরণ ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্ত শেষে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
ছবি: সংগৃহীত
দেশের সাতটি জেলায় প্রবল বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও ভূমিধসে জনজীবন চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। বন্যার ভয়াবহতায় এ পর্যন্ত প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ৫১ জনে দাঁড়িয়েছে এবং পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন ১০ লাখেরও বেশি মানুষ। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের ৫৯টি উপজেলা বর্তমানে প্লাবিত। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সংখ্যা ২ লাখ ৬৭ হাজার ছাড়িয়েছে। প্রাণ হারানোদের মধ্যে সর্বোচ্চ ২৮ জন কক্সবাজারের বাসিন্দা। এছাড়া চট্টগ্রামে ১৩ জন, বান্দরবানে ৬ জন, রাঙামাটিতে ৩ জন এবং মৌলভীবাজারে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে।
চট্টগ্রামের বাঁশখালী, সাতকানিয়া, লোহাগাড়া ও চন্দনাইশসহ দক্ষিণ চট্টগ্রামের বিস্তীর্ণ জনপদ বর্তমানে কার্যত বিচ্ছিন্ন। বসতঘর ও গ্রামীণ সড়ক পানির নিচে তলিয়ে থাকায় নৌকাই এখন চলাচলের একমাত্র মাধ্যম। বাঁশখালীর বাহারছড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা শেলী আক্তারের ঘরের মেঝেতে এখনও পানি বইছে। চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটানো এই নারী আক্ষেপ করে বলেন, ‘চোখত ঘুম নাই, পেডত ভাত নাই। বইন্যার পানি হত্তে নামিব, ন জানি। এরহম দুর্দশাত ক্যানে পইড়লাম। আরেক্কান ঘর তুলিবার টিঁয়াও নাই।’ তাঁর মতো লাখো মানুষের ঘরে উনুন জ্বলছে না এবং বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। অধিকাংশ নলকূপ তলিয়ে থাকায় পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি বাড়ছে।
এদিকে সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জেও বন্যা পরিস্থিতি অবনতির দিকে। হবিগঞ্জে প্রায় সাড়ে ছয় হাজার পরিবার পানিবন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে। জেলার নিচু এলাকাগুলোতে এখনও দুই থেকে আড়াই ফুট পানি স্থির হয়ে আছে। হবিগঞ্জ সদর উপজেলার বনগাঁও গ্রামের সিরাজ মিয়া তাঁর দুরাবস্থা বর্ণনা করে বলেন, ‘ঘরে পানি। গরু-ছাগল নিরাপদ জায়গায় রাখতে হয়েছে। কৃষিজমির সব ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। কয়েক দিনের মধ্যেই পানি না নামলে আরও বড় ক্ষতি হবে।’ সুনামগঞ্জ ও নেত্রকোনাতেও নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা করা হচ্ছে। কুড়িগ্রামে নদ-নদীর তীব্র ভাঙনে ঘরবাড়ি হারানোর শঙ্কায় রয়েছেন নদীপাড়ের বাসিন্দারা।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ৫ জুলাই থেকে চট্টগ্রামে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়েছে এবং আগামী কয়েকদিনও এই ধারা অব্যাহত থাকতে পারে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, চট্টগ্রামের পরিস্থিতি আগামী এক দিনের মধ্যে কিছুটা উন্নত হতে পারে, তবে সিলেট অঞ্চলের উন্নতি নির্ভর করছে বৃষ্টিপাতের পরিমাণের ওপর। তিন পার্বত্য জেলা বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িতে পানি নামতে শুরু করলেও সেখানে অবকাঠামো ও ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি দৃশ্যমান হচ্ছে। জুম খেত ও আমন-আউশের বীজতলা নষ্ট হওয়ায় কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। যাতায়াত ব্যবস্থা স্বাভাবিক করার চেষ্টা চললেও অনেক এলাকার সড়ক ও সেতু ধসে পড়ায় যোগাযোগ পুনরুদ্ধার কঠিন হয়ে পড়েছে।
ছবি: নিউজ বাংলা
সরকার গঠনের পর প্রথম বরিশাল সফরকে ঘিরে ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের মাদারীপুরের শিবচর অংশে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। আষাঢ়ের টানা বৃষ্টি উপেক্ষা করে ভোর থেকেই মহাসড়কের দুই পাশে জড়ো হন বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মী, সমর্থক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। সবার লক্ষ্য ছিল একটিই—প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে একনজর দেখা এবং তাঁকে স্বাগত জানানো।
সোমবার (১৩ জুলাই) ভোর সাড়ে ৬টার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সড়কপথে গুলশানের বাসভবন থেকে পদ্মা সেতু হয়ে বরিশালের উদ্দেশে রওনা দেন। তাঁর গাড়িবহর শিবচরের কাঁঠালবাড়ি সীমানা এলাকা থেকে পাচ্চর, বন্দরখোলা, সন্ন্যাসীরচর, দত্তপাড়া ও সূর্যনগর এলাকা অতিক্রম করার সময় মহাসড়কের দুই পাশে অপেক্ষমাণ হাজারো মানুষ ফুল ছিটিয়ে, স্লোগান দিয়ে এবং বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে তাঁকে অভ্যর্থনা জানান।
সকাল থেকে কখনও গুঁড়ি গুঁড়ি, আবার কখনও অঝোর ধারায় বৃষ্টি হলেও নেতা-কর্মীদের উৎসাহে ভাটা পড়েনি। অনেকে হাতে ফুল নিয়ে অপেক্ষা করেন। কেউ মাথায় মাথাল ও হাতে ধানের শীষ নিয়ে কৃষকের বেশে, আবার কেউ জেলের সাজে উপস্থিত হয়ে বাংলার ঐতিহ্য তুলে ধরেন।
সকাল সাড়ে ৭টার দিকে প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর শিবচরের পাচ্চর এলাকায় পৌঁছালে মুহূর্তেই স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। উপস্থিত জনতার ভালোবাসা ও উচ্ছ্বাসের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গাড়ির ভেতর থেকেই হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান। তাঁর এই আন্তরিক অভিবাদনে নেতা-কর্মীদের উচ্ছ্বাস আরও বেড়ে যায়।
শিবচর উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি শাওন চৌধুরী বলেন, “দলের পক্ষ থেকে কোনো নির্দেশনা ছিল না। প্রিয় নেতাকে একনজর দেখার আকাঙ্ক্ষা এবং ভালোবাসা থেকেই আমরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে এখানে এসেছি।”
শিবচর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আবু জাফর চৌধুরী বলেন, “দীর্ঘদিন পর আমাদের প্রিয় নেতা ও দেশের প্রধানমন্ত্রী এই পথ দিয়ে বরিশাল যাচ্ছেন। তাঁকে স্বাগত জানাতেই আমরা এখানে উপস্থিত হয়েছি।”
উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক শাহাদাত হোসেন খান বলেন, “প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে একনজর দেখার জন্য ভোর থেকেই উপজেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা মহাসড়কের পাশে অবস্থান নিয়েছেন। এটি ছিল সম্পূর্ণ স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ।”
প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে শিবচর অংশে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা পুরো সফর নির্বিঘ্ন করতে দায়িত্ব পালন করেন।
ছবি: সংগৃহীত
নীলফামারীর ডোমারে পেছন থেকে আসা একটি ট্রাক যাত্রীবাহী ব্যাটারিচালিত ভ্যানে ধাক্কা দেয়। এ ঘটনায় ট্রাকচাপায় একই পরিবারের তিন সদস্যসহ ৪ জন নিহত হয়েছে। অপর নিহত ব্যক্তি ভ্যানচালক। রোববার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ডোমার-জলঢাকা সড়কে এ দুর্ঘটনাটি ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিকেলে একটি যাত্রীবাহী ব্যাটারিচালিত ভ্যান ডোমার-জলঢাকা আঞ্চলিক সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় পেছন দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগতির ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যাত্রীবাহী ভ্যানটিকে ধাক্কা দেয়। এতে ভ্যানটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই ভ্যান চালকসহ একই পরিবারের আরও তিনজন যাত্রী নিহত হন। পরবর্তীতে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় আরও দুইজনকে উদ্ধার করে ডোমার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে তারা চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
দুর্ঘটনায় নিহতরা হলেন নাদিয়াপাড়ার অলি বর্মনের ছেলে ভ্যানচালক পরিমল বর্মন (৪০), একই এলাকার প্রদীপ বর্মনের স্ত্রী প্রতিমা রানি (২৮), দুই ছেলে পিতোসা (৮) ও যাদব (৪)।
মটকপুর নদীরপাড় এলাকায় ট্রাকের ধাক্কায় চারজন নিহত হয়েছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। মরদেহ উদ্ধার করে আইনগত প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হচ্ছে। দুর্ঘটনার কারণ তদন্ত করা হচ্ছে এবং ট্রাকটিকে শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
ডোমার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুল্লাহ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, দুর্ঘটনার কারণ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (ঢামেক) পাশে এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অমর একুশে হলের পেছনের ফুটপাত থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে মৃতদের পরিচয় পাওয়া যায়নি। রোববার সকালে পৃথক দুটি স্থান থেকে ওই তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
রোববার সকাল পৌনে ১০টার দিকে ঢামেক হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ইমারজেন্সি সেন্টার (ওসেক) পেছনে ফুটপাত অচেতন অবস্থায় পড়ে ছিলেন এক ব্যক্তি। তার বয়স আনুমানিক ৩৫ বছর। পরে ঢামেক হাসপাতালের নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
জরুরি বিভাগের ওয়ার্ড মাস্টার আইয়ুব আলী জানান, সকালে খবর পেয়ে অচেতন অবস্থায় ওই যুবককে জরুরি বিভাগের পেছনে পড়ে থাকতে দেখেন। পরে দ্রুত তাকে জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
আইয়ুব আলী জানান, যুবকের মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। এখনো তার নাম পরিচয় জানা যায়নি। তার নাম পরিচয় জানার জন্য এরই মধ্যে সিআইডির ক্রাইমসিনকে খবর দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে বেলা ১১টার দিকে অমর একুশে হলের ফুটপাত থেকে দুই ব্যক্তিকে অচেতন অবস্থায় করা হয়। পরে ঢামেকে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাদেরকেও মৃত ঘোষণা করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে শাহবাগ থানার উপরিদর্শক (এসআই) মামুন জানান, খবর পেয়ে তারা অমর একুশে হলের ফুটপাত থেকে দুই ব্যক্তিকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করেন। পরে ঢামেক হাসপাতালে নেওয়া হলে জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাদের মৃত ঘোষণা করেন। মৃত ব্যক্তিদের বয়স আনুমানিক ৫০ ও ৬০ বছর।
এসআই বলেন, ‘ঘটনাস্থলের আশপাশের লোকদের জিজ্ঞেস করে আমরা ওই ব্যক্তিত্বদের নাম পরিচয় জানতে পারিনি। মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। প্রযুক্তির সহায়তায় তাদের নাম পরিচয় জানার জন্য ইতোমধ্যেই সিআইডির ক্রাইমকে খবর দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।’
ছবি: নিউজ বাংলা
এসএসসি পরীক্ষার উত্তরপত্র নিজে মূল্যায়ন না করে নিজের ছাত্রকে দিয়ে খাতা দেখানোর অভিযোগে কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার এক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও তার এক ছাত্রকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটির ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। পরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে মামলা দায়েরের পর শনিবার রাতে অভিযুক্ত দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার সাধারণ বিজ্ঞান বিষয়ের উত্তরপত্র পরীক্ষক নিজে মূল্যায়ন না করে তার এক ছাত্রকে দিয়ে মূল্যায়ন করাচ্ছেন।
তদন্তে জানা যায়, অভিযুক্ত মো. বাচ্চু মিয়া কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার আব্দুল্লাহপুর হাজী আমির আলী উচ্চবিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক এবং বর্তমানে বিদ্যালয়টির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
ভিডিওতে উত্তরপত্র মূল্যায়ন করতে দেখতে যাওয়া মেহেদী হাসান একই বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পাবলিক পরীক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় এমন অনিয়মের সত্যতা পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করে।
শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের নির্দেশে তদন্ত শেষে শনিবার মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, কুমিল্লার উপপরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বাদী হয়ে দেবিদ্বার থানায় মামলা দায়ের করেন।
মামলায় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. বাচ্চু মিয়া ও ছাত্র মেহেদী হাসানকে আসামি করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে পাবলিক পরীক্ষা (অপরাধ) আইন, ১৯৮০-এর ১০, ১২ ও ১৩ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান জানান, শনিবার রাতে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের কুমিল্লার আদালতে পাঠানো হয়।
মন্তব্য