সরকারি সহায়তা বিতরণে কোনো ধরনের স্বজনপ্রীতি বা পক্ষপাতিত্ব করা যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। তিনি বলেন, প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত ও সহায়তা পাওয়ার যোগ্য ব্যক্তিদের হাতেই সরকারি সহায়তা পৌঁছে দিতে হবে।
শুক্রবার (১০ জুলাই) বেলা ১১টায় পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার সোনাহার ইউনিয়নের মল্লিকাদহ চৌধুরীপাড়া এলাকায় অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ১৭টি পরিবারের মাঝে নগদ অর্থ ও ঢেউটিন বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, সরকারি সহায়তা বিতরণে কোনো ধরনের স্বজনপ্রীতি বা পক্ষপাতিত্ব করা যাবে না। যারা প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত ও সহায়তা পাওয়ার যোগ্য, তাদের হাতেই সরকারি সহায়তা পৌঁছে দিতে হবে।
তিনি বলেন, আমি দল-মত নির্বিশেষে সবার প্রতিনিধি। তাই সরকারি সহায়তা প্রদানের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা করা উচিত নয়। আগুন লাগার সময় তো আগুন দেখেনি কে বিএনপি, কে জামায়াত কিংবা কে অন্য কোনো দলের।
এ সময় প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, আমি তালি দেওয়ার কিংবা তালি পাওয়ার জন্য রাজনীতি করি না। আমি রাজনীতি করি জনগণের জন্য। আপনাদের প্রয়োজনে, আপনাদের দুর্দিনে পাশে থাকার রাজনীতি করি। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বোদা ও দেবীগঞ্জ উপজেলার কোনো মসজিদ, মন্দির কিংবা গির্জা আমার অনুদানের বাইরে থাকবে না। বর্তমান সরকারের আমলে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে এ অঞ্চলের কোনো কাঁচা রাস্তা থাকবে না। সব রাস্তা পর্যায়ক্রমে পাকাকরণ করা হবে। নদীভাঙন প্রতিরোধে সরকারের অবস্থান তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এক ছটাক জমিও যেন নদীগর্ভে বিলীন না হয়, সে লক্ষ্যে সরকারের পক্ষ থেকে যা যা করণীয়, আমরা তা করব।
অনুষ্ঠানে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ১৭টি পরিবারের মাঝে সরকারি সহায়তা হিসেবে ঢেউটিন ও নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়। এ সময় দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইন্দ্রজিৎ সাহা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।
ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর বংশাল থানার মুকিম বাজার রোডের শিয়াগলি এলাকায় একটি মোটর পার্টসের দোকানে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে দেলওয়ার হোসেন (৩৫) নামে এক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় নাজমুল হোসেন (৩৩) নামে আরও একজন গুরুতর দগ্ধ হয়েছেন। শুক্রবার (১০ জুলাই) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
তাদের হাসপাতালে নিয়ে আসা ওই দোকানের কর্মচারী মো. হামিদুল ইসলাম জানান, ভোরে মোটর পার্টসের দোকানে হঠাৎ গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এ সময় দোকানের একটি ভারী বস্তু দেলওয়ার হোসেনের মাথার ওপর পড়লে তিনি গুরুতর আঘাত পান এবং সেই সঙ্গে অগ্নিদগ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান।
হামিদুল ইসলাম আরও জানান, ঘটনাটি দেখার পরপরই তারা ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেন আশেপাশের লোকজন। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে হতাহতদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন। সকাল ৬টা ৩০ মিনিটে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে দেলওয়ার হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত দেলওয়ার হোসেনের গ্রামের বাড়ি যশোরের শার্শা উপজেলার ৪নং ডিহি ইউনিয়নের ডিহি উত্তর এলাকায়। তার বাবার নাম আব্দুল খালেক। তিনি বংশাল এলাকায় মোটর পার্টসের ব্যবসা করতেন। অন্যদিকে দগ্ধ নাজমুল হোসেন সম্পর্কে নিহতের খালাতো ভাই। তিনি বর্তমানে ঢামেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসা অবস্থায় রয়েছেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বর্তমানে তার অবস্থা শঙ্কামুক্ত।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (পরিদর্শক) মো. ফারুক মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, নিহত দেলওয়ারের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ঘটনাটি সংশ্লিষ্ট বংশাল থানাকে অবগত করা হয়েছে।
ছবি: সংগৃহীত
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান রাজধানীর মিরপুর-১০, কাজীপাড়া ও শেওড়াপাড়া মেট্রোরেল এলাকায় রাস্তার দুই পাশে জমে থাকা বৃষ্টির পানি এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থার সার্বিক পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন।
শুক্রবার (১০ জুলাই) জুমার নামাজের পর প্রবল বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতা পরিদর্শনকালে তিনি ডিএনসিসির পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের দ্রুত পানি নিষ্কাশনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।
পরিদর্শনের সময় প্রশাসক নিজেই পানির মধ্যে নেমে ড্রেন ও পানি নিষ্কাশন নালার কার্যকারিতা পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় তিনি স্থানীয় দোকানদারদের ড্রেনে ময়লা-আবর্জনা না ফেলার আহ্বান জানান।
পরে, তিনি মিরপুর-১২ এলাকার ৬ নম্বর কাঁচাবাজার পরিদর্শন করে বাজারের অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও যত্রতত্র ফেলে রাখা ময়লা-আবর্জনা দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
তাৎক্ষণিকভাবে দোকানদার, বাজার কমিটি ও স্থানীয় প্রতিনিধিদের ডেকে সমস্যার দ্রুত সমাধানের নির্দেশ দেন তিনি। একই সঙ্গে ডিএনসিসির জোন-২ এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাকে বাজারের পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।
পরিদর্শনকালে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ছবি: সংগৃহীত
কুমিল্লার গোমতী নদীর পানি কিছুটা বৃদ্ধি পেলেও বন্যার কোনো আশঙ্কা নেই। তবে ২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যার পুরনো ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে ছড়িয়ে পড়ায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন গোমতীপাড়ের বাসিন্দারা।
পানি উন্নয়ন বোর্ড ও জেলা প্রশাসন গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
সরেজমিনে শুক্রবার (১০ জুলাই) কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার চিকারচর, জগন্নাথপুর এবং বুড়িচং উপজেলার কামারখাড়া, বালিখাড়া ও ভান্তি এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, নদীর চরে পানি প্রবেশ করলেও তা এখনো বেড়িবাঁধের ৬ থেকে ৮ ফুট নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কোথাও কোথাও চরাঞ্চলের নিচু জমি তলিয়ে গেলেও বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়নি।
পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, গোমতী নদীর পানির উচ্চতা ১১ দশমিক ৩০ ফুটে পৌঁছালে বিপৎসীমা ধরা হয়। বর্তমানে নদীর পানি সেই সীমার অনেক নিচে রয়েছে। টানা ভারি বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢল না হলে বন্যার আশঙ্কা নেই।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেসব ভিডিও ও ছবি ছড়ানো হচ্ছে, সেগুলো ২০২৪ সালের বন্যার সময়কার বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
এদিকে কুমিল্লা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মিজানুর রহমান জানান, জানিয়েছে, নদীর পানি বাড়ায় চরাঞ্চলের প্রায় ৬ হেক্টর জমির আগাম সবজি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে বৃষ্টিপাত না বাড়লে ক্ষতির পরিমাণ আর বাড়বে না।
কুমিল্লা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ছৈয়দ আরিফুর রহমান জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। আগামী দুই দিনও বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
ছবি: সংগৃহীত
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার ধলাই নদী থেকে নিয়মবহির্ভূতভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ এবং ভাঙনের কবল থেকে বসতবাড়ি, কবরস্থান ও কৃষিজমি রক্ষার দাবিতে ফুঁসে উঠেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। নদী তীর রক্ষা বাঁধ ও স্থাপনা সংরক্ষণের দাবিতে শুক্রবার (১০ জুলাই) কমলগঞ্জ পৌর এলাকায় এক বিশাল মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
উক্ত কর্মসূচিতে উত্তর আলেপুর, চণ্ডীপুর ও দক্ষিণ কুমড়াকাপন গ্রামের প্রায় পাঁচ শতাধিক নারী-পুরুষ ব্যানার-ফেস্টুন হাতে অংশ নেন। এতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, কৃষক ও ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ সংহতি প্রকাশ করেন।
মানববন্ধন শেষে আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী মহল নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে ড্রেজার মেশিন দিয়ে ধলাই নদীর তলদেশ থেকে বাণিজ্যিকভাবে বালু উত্তোলন করছে। বিশেষ করে নদীর তীর সংলগ্ন এলাকা থেকে অবাধে বালু তোলার কারণে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ নষ্ট হচ্ছে এবং তলদেশের ভারসাম্য বজায় থাকছে না। ফলে উত্তর আলেপুরসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের বসতবাড়ি, বিস্তীর্ণ ফসলি জমি, কবরস্থান ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
সমাবেশে বক্তব্য দেন স্থানীয় ব্যবসায়ী আবুল হোসেন, জমসেদ মিয়া, আজাদ মিয়া, মহরম মিয়া, মনাই মিয়া, মন্নান মিয়া, নজরুল মিয়া, আলাল মিয়া, নূরুল ইসলাম, শিবলু এবং নজরুল ইসলাম বুলবুলসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। সমাবেশে আন্দোলনকারীরা আমরা বৈধ ইজারার বিরোধী নই, তবে তীর ঘেঁষে ড্রেজার বসানো বন্ধ করতে হবে।
কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান জানান, ধলাই নদীর পাশের বাঁধগুলোর অবস্থা আসলেই নাজুক। ইজারাদারদের সঙ্গে কথা বলে নদী তীরসংলগ্ন এলাকা থেকে বালু উত্তোলন বন্ধে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ নদীতীর রক্ষা বাঁধ দ্রুত সংস্কার ও নতুন বাঁধ নির্মাণের বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) সঙ্গে ইতোমধ্যে আলোচনা হয়েছে বলেও আশ্বাস দেন এই কর্মকর্তা।
ছবি: সংগৃহীত
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন দক্ষিণবঙ্গে আগমনকে ঘিরে মাদারীপুরে ব্যাপক প্রস্তুতিসভা অনুষ্ঠিত হচ্ছো। শুক্রবার (১০ জুলাই) বিকেলে মাদারীপুরের কেন্দুয়া, মস্তফাপুর, ঘটমাঝি, ঝাউদি ও খোয়াজপুর এই ০৫ ইউনিয়নের বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মী-সমর্থক, সাধারণ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গদের নিয়ে মস্তফাপুর চাতালে এই প্রস্তুতি সভার আয়োজন করা হয়।
এতে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন কালকিনি-মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটিসহ গণশিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন এমপি।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপি নেতা ও জেলা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মর্তুজা আলম ঢালী, বিএনপি নেতা লেলিন ভূইয়া, স্বেচ্ছাসেবক দল জেলা শাখার সেক্রেটারী এডভোকেট মাসুদ পারভেজ, যুবদল জেলা শাখার আহবায়ক ফারুক বেপারী, ছাত্রদল জেলা শাখার আহবায়ক কামরুল ইসলাম সহ অঙ্গসংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ও কর্মী সমর্থক।
এসময় প্রধান অতিথি এমপি আনিসুর রহমান প্রস্তুতি সভায় নেতা-কর্মী-সমর্থক ও ৫ টি ইউনিয়ন থেকে আগত গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ দেখে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা, শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জ্ঞাপন করেন।
তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের দক্ষিণবঙ্গে আগমন আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তার আগমনে দক্ষিণবঙ্গবাসীর উন্নয়নের দুয়ার খুলে যাবে। তাই আমাদের দলে-দলে তার জনসভায় যোগদান করতে হবে, যাতে তিনি এই অঞ্চলের মানুষের গণজোয়ার দেখে অবহেলিত দক্ষিণবঙ্গবাসীর সড়ক ও অবকাঠামো উন্নয়নে তার উদারহস্ত প্রসার করে দেন।
অনুষ্ঠান থেকে বক্তারা প্রধানমন্ত্রীর পথ নিরাপত্তায় ভূমিকা রাখাসহ ব্যাপক সংখ্যক জনসমাগমের আশ্বাস দেন।
ছবি: সংগৃহীত
বিআইডব্লিউটিএ’র আরিচা অঞ্চলের আওতাধীন রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ও মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ও আরিচা লঞ্চ ঘাটের খোলা পন্টুনে প্রতিনিয়ত ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ যাত্রী ও ষ্টাফরা।
বিষয়টি ঊধ্বর্তন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে আধুনিকায়নের জন্য একটি প্রস্তাবনা নৌপরিবহন মন্ত্রনালয়ে পাঠানো হয়েছে। ভুক্তভোগীরা দ্রুত কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
সরেজমিন দেকা যায়, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া এবং দৌলতদিয়া-আরিচা নৌ-রুটের তিনটি লঞ্চ ঘাটের পন্টুনে সাধারণ যাত্রী ও স্টাফরা প্রতিনিয়ত নানাভাবে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। খোলামেলা পন্টুনগুলোতে প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় সাধারণ যাত্রী ও পন্টুনে কর্মরত কর্মচারীদের বৈরী পরিবেশ মোকাবিলা করে কাজ করতে হয়। সাধারণ যাত্রীদের আশ্রয় নেয়ার মতো কোন ব্যবস্থা নেই। নেই টয়লেট ও সুপেয় পানির ব্যবস্থা।
আরিচা লঞ্চ মালিক সমিতির দৌলতদিয়া ঘাট প্রতিনিধি মফিজুল ইসলাম বলেন, দৌলতদিয়া লঞ্চঘাটটি একটা সময় মূল নদী থেকে ভেতরের দিকে অবস্থিত ছিল। অনেকটা পোতাশ্রয় প্রকৃতির ছিল। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে ঘাটের উজানে বিশাল এলাকা নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ায় ঘাটটি বর্তমানে মূল নদীর মুখে পড়েছে। যে কারনে বৈরী আবহাওয়ায় তীব্র ঢেউ,স্রোত ও ঝড়ের আঘাত সরাসরি পন্টুনের উপর এসে পড়ে। শীতকালে ঘন কুয়াশা এবং শৈত্য প্রবাহেও পন্টুনে অবস্হান করা দুরুহ হয়ে ওঠে।
এমতাবস্থায় পন্টুনের দুইপাশে দুইটি আধুনিক সেবা সমৃদ্ধ শেড করে দিলে সাধারণ যাত্রী এবং তাদের অনেক উপকার হতো।
গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাথী দাস বলেন, দৌলতদিয়া লঞ্চ ঘাট পরিদর্শনকালে খোলা পন্টুনে যাত্রী ভোগান্তির বিষয়টি তার নজরে এসেছে। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট ঊধ্বর্তন কতৃ©পক্ষকে অনুরোধ জানিয়েছি।
আরিচার বন্দর কর্মকর্তা সুব্রত পলাশ রায় জানান, গত ঈদুল আজহার আগে নৌমন্ত্রণালয়ের সচিব দৌলতদিয়া ও পাটুরিয়া ঘাট পরিদর্শনে আসলে তখনই খোলা পন্টুনে বিষয়টি অবহিত এবং আধুনিকায়নের জন্য একটি লিখিত প্রস্তাবনাও পাঠানো হয়। আশা করছি দ্রুত পন্টুনে যাত্রী সেবা বাড়ানোর কাজটি অনুমোদন পাবে। আধুনিক রুপ পাবে এ অঞ্চলের তিনটি লঞ্চ ঘাটের পন্টুন।
মন্তব্য