বহুল আলোচিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলসহ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে আনা কয়েকটি বিষয় অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের রায় বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে পাঁচজন বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেছেন।
এর আগে, গত বুধবার (৮ জুলাই) তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলসহ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে আনা কয়েকটি বিষয় অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের শুনানি শেষ হয়। টানা তিন দিন শুনানি শেষে রায়ের জন্য আজ দিন ধার্য করা হয়।
রায়ের পর অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিল খারিজ করে রায় ঘোষণা করেছেন আপিল বিভাগ। ফলে হাইকোর্টের রায় বহাল থাকছে।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। রিটের পক্ষে ছিলেন ড. শরীফ ভূঁইয়া, জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির।
এর আগে, বুধবার (৮ জুলাই) তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলসহ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে আনা কয়েকটি বিষয় অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের শুনানি শেষ হয়। টানা তিন দিন শুনানি শুনানি শেষে রায়ের জন্য ৯ জুলাই দিন ধার্য করা হয়।
গত বছরের ১৩ নভেম্বর বহুল আলোচিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলসহ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে আনা কয়েকটি বিষয় অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতি দেন সর্বোচ্চ আদালত। প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন।
গত ৩ নভেম্বর তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলসহ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে আনা কয়েকটি বিষয় অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল দায়ের করা হয়। আপিলে পঞ্চদশ সংশোধনীর পুরোটা বাতিল চাওয়া হয়েছে। রিটকারী সুজনের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারের পক্ষে আইনজীবী ড. শরীফ ভূঁইয়া এ আপিল দায়ের করেন।
গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলসহ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে আনা কয়েকটি বিষয় অবৈধ ঘোষণা করেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে সংবিধানে গণভোটের বিধান ফিরিয়ে আনেন উচ্চ আদালত। তবে পঞ্চদশ সংশোধনী পুরোটা বাতিল করা হয়নি সেই রায়ে।
সেই রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত বলেন, গণতন্ত্র হচ্ছে আমাদের সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর অংশ। এই গণতন্ত্র বিকশিত হয় অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপক্ষে এবং প্রভাবমুক্ত নির্বাচনের মধ্য দিয়ে। কিন্তু দলীয় সরকারের অধীনে বিগত তিনটি সংসদ নির্বাচনে জনগণের ইচ্ছার কোনো প্রতিফলন হয়নি। দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচনের আত্মবিশ্বাস জনগণের মধ্যে জন্ম নেয়নি। যার ফলশ্রুতিতে হয়েছে জুলাই গণঅভ্যুত্থান।
হাইকোর্ট বলছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা জনগণের অভিপ্রায় অনুযায়ী সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল এবং এটি সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর অংশে পরিণত হয়েছে। বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্তি সংক্রান্ত পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের ২০ ও ২১ অনুচ্ছেদ সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও বাতিল ঘোষণা করে এ রায় দেন হাইকোর্ট। রায়ে আদালত বলেন, অনুচ্ছেদ দুটি সংবিধানের মৌলিক কাঠামোকে ধ্বংস করেছে, যেটি হচ্ছে গণতন্ত্র। পঞ্চদশ সংশোধনী মাধ্যমে সংবিধানে যুক্ত ৭ক, ৭খ, ৪৪ (২) অনুচ্ছেদ সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও বাতিল ঘোষণা করেছেন আদালত। পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে ৫৪টি ক্ষেত্রে সংযোজন, পরিমার্জন ও প্রতিস্থাপন আনা হয়েছিল।
রায়ে আদালত বলেন, পঞ্চদশ সংশোধনী আইন পুরোটা বাতিল করা হচ্ছে না। বাকি বিধানগুলোর বিষয়ে আগামী জাতীয় সংসদ আইন অনুসারে জনগণের মতামত নিয়ে সংশোধন, পরিমার্জন ও পরিবর্তন করতে পারবে। এর মধ্যে জাতির পিতার স্বীকৃতির বিষয়, ২৬ মার্চের ভাষণের বিষয়গুলো রয়েছে।
গণভোটের বিষয়ে রায়ে হাইকোর্ট বলেন, গণভোটের বিধান বিলুপ্ত করা হয়, যেটি সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদের অংশ ছিল। এ বিধান বিলুপ্তি সংক্রান্ত পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের ৪৭ ধারা সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ায় বাতিল ঘোষণা করা হলো। ফলে দ্বাদশ সংশোধনীর ১৪২ অনুচ্ছেদ পুনর্বহাল করা হলো।
হাইকোর্টের রায়ে ৭ ক, ৭ খ এবং ৪৪ (২) অনুচ্ছেদও বাতিল করা হয়েছে। ৭ ক অনুচ্ছেদে সংবিধান বাতিল, স্থগিতকরণ, ইত্যাদি অপরাধ এবং ৭ খ সংবিধানের মৌলিক বিধানাবলি সংশোধন অযোগ্য করার কথা বলা ছিল। এদিকে ৪৪ অনুচ্ছেদে মৌলিক অধিকার বলবৎকরণ বিষয়ে বলা আছে। এই অনুচ্ছেদের ২ ধারা বলছে, এই সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীন হাইকোর্ট বিভাগের ক্ষমতার হানি না ঘটিয়ে সংসদ আইনের দ্বারা অন্য কোনো আদালতকে তার এখতিয়ারের স্থানীয় সীমার মধ্যে ওইসব বা এর যে কোনো ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষমতা দান করতে পারবেন। এই অনুচ্ছেদটি বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে রায়ে।
গত বছরের ১৯ আগস্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল করে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী কেন অবৈধ হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি শশাঙ্ক শেখর সরকারের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেছিলেন। সুজনের সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদারসহ অন্যদের রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে আদালত এ রুল জারি করেন।
পরে রুলে পক্ষভুক্ত হন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। এছাড়া, ইনসানিয়াত বিপ্লব, গণফোরাম ও চার আবেদনকারী রুলে ইন্টারভেনর হিসেবে পক্ষভুক্ত হন।
২০১১ সালের ৩০ জুন জাতীয় সংসদে পঞ্চদশ সংশোধনী পাস হয়। এই সংশোধনীর মাধ্যমে শেখ মুজিবুর রহমানকে জাতির জনক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। এই সংশোধনীর দ্বারা তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করা হয়। এছাড়া, জাতীয় সংসদে নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসন সংখ্যা বিদ্যমান ৪৫-এর স্থলে ৫০ করা হয়। এছাড়া, বেশকিছু বিষয়ে সংশোধনী আনা হয়।
ছবি: সংগৃহীত
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, দেশের শিল্প খাত শক্তিশালী করতে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা অব্যাহত থাকবে। শিল্প ভালো না হলে অর্থনীতি শক্তিশালী হবে না। তাই শিল্পের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে পর্যায়ক্রমে সমাধান করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) আগারগাঁওয়ের এনবিআর ভবনে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ) ও সৌদি আরব-বাংলাদেশ চেম্বারের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি এ কথা বলেন।
এ সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য পূরণে সরকার আশাবাদী আর জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ‘গিয়ার্ড আপ’ বা পুরোপুরি প্রস্তুত।
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, বিটিএমএ’র পক্ষ থেকে বিভিন্ন সমস্যা ও দাবি তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি বিষয় বৈঠকেই সমাধান হয়েছে। আর যেগুলো বাকি রয়েছে সেগুলো সরকার বিবেচনা করবে। আমরা চাই আমাদের শিল্পগুলো ভালো করুক। অর্থনীতি দাঁড়াতে হলে শিল্পখাত ভালো করতে হবে।
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আগামীদিনের প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান অনেকটাই শিল্পের ওপর নির্ভর করছে। তাই ব্যবসায়ীদের সমস্যা নিয়ে ধারাবাহিক আলোচনা করতে হবে এবং সমাধানের চেষ্টা চলবে।
তিনি বলেন, ব্যবসা সহজ করতে সরকার এরই মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ শিথিল (ডি-রেগুলেশন) করেছে। এরপরও যেসব সমস্যা রয়েছে সেগুলো নিয়েও আলোচনা চলছে এবং পর্যায়ক্রমে সমাধান করা হবে। এতে সৌদি আরবের সঙ্গে দক্ষতা উন্নয়ন, ব্যবসা সম্প্রসারণ ও বিকল্প অর্থায়নের সুযোগ নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
ফাইল ছবি
চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত ও পলাতক থাকা ৫৭ জন পুলিশ কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) তিন পুলিশ কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
বরখাস্ত হওয়া তিন কর্মকর্তা হলেন ৩৩তম বিসিএস ব্যাচের মিশু বিশ্বাস, জুয়েল চাকমা এবং ৩৬তম বিসিএস ব্যাচের মাহমুদুল হাসান।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (শৃঙ্খলা) কাজী সাইফুল ইসলাম গণমাধ্যমকে এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে পুলিশের অন্তত ৮২ জন ক্যাডার কর্মকর্তা পলাতক আছেন। তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া শেষে বরখাস্ত করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ৫৭ জনের একটি তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে আজ তিনজনকে বরখাস্ত করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। বাকিদেরও পর্যায়ক্রমে বরখাস্ত করা হবে।’
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বরখাস্তের তালিকায় থাকা অন্য কর্মকর্তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন—সাবেক অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ, সাবেক যুগ্ম পুলিশ কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার, সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি প্রলয় কুমার জোয়ারদার, সাবেক ডিআইজি সৈয়দ নুরুল ইসলাম, সাবেক ডিআইজি নূরে আলম মিনা, সাবেক ডিআইজি মো. আনিসুর রহমান, ডিআইজি এ কে এম এহসানউল্লাহ, ডিআইজি বিপ্লব বিজয় তালুকদার এবং ডিআইজি টুটুল চক্রবর্তী।
তালিকায় আরও আছেন—সাবেক যুগ্ম পুলিশ কমিশনার এস এম মেহেদী হাসান, রিফাত রহমান শামীম, সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, সঞ্জিত কুমার রায়, সাবেক উপপুলিশ কমিশনার কাজী আশরাফুল আজীম, মো. ইকবাল হোসাইন, মো. নাজমুল ইসলাম, মানস কুমার পোদ্দার, কাজী মনিরুজ্জামান, মো. শাহ নূর আলম পাটওয়ারী ও এটিইউর সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন।
এছাড়া পুলিশ সুপার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের মধ্যে তালিকায় রয়েছেন—মো. আলী আশরাফ ভূঞা, জেসমিন কেকা, মো. আবু মারুফ হোসেন, আয়েশা সিদ্দিকা, মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন, মো. রহমত উল্লাহ চৌধুরী, মো. তারেক বিন রশিদ, মো. আসাদুজ্জামান, আরিফুর রহমান মন্ডল, মোহাম্মদ জায়েদুল আলম, মো. শাহজাহান, গোলাম মোস্তফা রাসেল, হাসান আরাফাত, রাজীব দাস, হাসানুজ্জামান মোল্যা, মো. হাফিজ আল ফারুক, রুবাইয়াত জামান, এস এম জাহাঙ্গীর হাছান, রাজন কুমার দাস, মো. মাসুদুর রহমান মনির, মোৎ. রাশেদুল ইসলাম, তোহিদুল ইসলাম, মো. রওশানুল হক সৈকত ও এস এম শামীম।
সহকারী পুলিশ সুপার ও সহকারী কমিশনার পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের মধ্যে বরখাস্তের তালিকায় আছেন—মো. হাবিবুল্লাহ দালাল, মো. আরিফুজ্জামান, মো. আল ইমরান হোসেন, মোহাম্মদ ইমরুল, শাহ আলম মো. আখতারুজ্জামান ইসলাম, ইফতেখারুল ইসলাম, পলাশ রঞ্জন দে, মফিজুর রহমান পলাশ, মো. গোলাম রুহানী ও নাহিদ ফেরদৌস। তাদের মধ্যে কয়েকজন বর্তমানে সাময়িক বরখাস্ত অবস্থায় রয়েছেন।
ছবি: সংগৃহীত
ময়মনসিংহের ধোবাউড়ায় পাঁচ বছরের শিশু নিছামনিকে ধর্ষণ ও হত্যার চাঞ্চল্যকর মামলায় মাত্র ১২ কর্মদিবসের মধ্যে রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। রায়ে তিন আসামিকে ফাঁসির আদেশ এবং একজনকে সাড়ে ১২ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ময়মনসিংহ জেলা জজ আদালত চত্বরে ভিন্ন ভিন্ন ট্রাইব্যুনালে এই রায় ঘোষণা করা হয়। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত সকল আসামি আদালতে উপস্থিত ছিল।
ময়মনসিংহের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সুদীপ্তা সরকার তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং একই সাথে জনপ্রতি ২ লাখ টাকা জরিমানার আদেশ দেন। ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- আরিফ (১৯), রাকিব (১৯) ও সাইফ (২১)।
আসামিদের মধ্যে মারুফ (১৬) অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক তনয় সাহা তাকে সাড়ে ১২ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেন।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, গত ১৪ জুন সন্ধ্যায় ১৬ বছর বয়সি আসামি মারুফ ফুসলিয়ে শিশু নিছামনিকে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করে। পরবর্তীতে অপর তিন আসামি আরিফ, রাকিব ও সাইফও এই সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডে যুক্ত হয়। পরে তারা শিশুটির মরদেহ কংস নদীতে ফেলে দেয়। ১৫ জুন নদীতে শিশুটির মরদেহ ভেসে উঠলে তা উদ্ধার করা হয়।
ওই দিনই নিছামনির বাবা রাজু মিয়া বাদী হয়ে ধোবাউড়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর আসামিরা আদালতে বিচারক তনয় সাহার কাছে অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে।
ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত শেষে মামলার মাত্র ৯ দিনের মাথায় গত ২৩ জুন ৪ আসামির বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেন ধোবাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম। ২৪ জুন বিজ্ঞ আদালত মামলাটি আমলে নেন। এরপর মাত্র ১২ কর্মদিবসের মধ্যে সাক্ষ্যগ্রহণ ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে আজ এই চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করা হলো।
রাষ্ট্রপক্ষে এই মামলা পরিচালনা করেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) বজলুল করিম চৌধুরী। আসামি পক্ষে মামলা লড়েন অ্যাডভোকেট মকবুল হোসেন সরকার।
ছবি: সংগৃহীত
টানা অতিবর্ষণে রাঙামাটিসহ পার্বত্যাঞ্চলে দুর্যোগ পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। জেলার বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ধস, সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া এবং নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বহু মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ে সরে গেছেন। ভারি বর্ষণের ফলে বান্দরবান জেলার লামায় পাহাড়ধসে ঘুমন্ত অবস্থায় ১ শিশুসহ দুই পরিবারের ৫ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া কক্সবাজারের চকরিয়ার বরইতলীতে পাহাড়ধসে আরও দুই শিশু এবং চট্টগ্রামে পানিতে ডুবে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর ফলে এ অঞ্চলে অনেক ঝুঁকিতে রয়েছে সাধারণ বাসিন্দারা।
রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেল ৪টা পর্যন্ত জেলার ৩৪টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৪ হাজার ২৬৫ জন আশ্রয় নিয়েছেন। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে বর্তমানে মোট ৪ হাজার ২৬৫ জন অবস্থান করছেন। আশ্রয় নেওয়া সবাইকে প্রতিদিন তিন বেলা খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, এখন পর্যন্ত ১০০টি স্থানে পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে কাপ্তাইয়ে ১৫টি, বাঘাইছড়িতে ৩টি, কাউখালীতে ৩০টি, রাঙামাটি সদরে ১৩টি, বিলাইছড়িতে ৩৭টি এবং নানিয়ারচরে ২টি স্থানে পাহাড়ধসের খবর পাওয়া গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেটও বিতরণ করা হয়েছে।
বিলাইছড়ি উপজেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, উপজেলায় ১৪টি আশ্রয়কেন্দ্রের মধ্যে বর্তমানে ৪টি আশ্রয়কেন্দ্রে ১২২ জন আশ্রয় নিয়েছেন। এছাড়া এক বহিরাগত ব্যবসায়ী বুধবার থেকে নিখোঁজ রয়েছেন। নতুন করে অন্য কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
এদিকে, রাঙামাটি সদর উপজেলার মগবান ইউনিয়নের দলমনি চাকমা (পিতা: অলা চাকমা) গত ৭ জুলাই নদী পারাপারের সময় স্রোতে ভেসে নিখোঁজ হন। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
অন্যদিকে, বাঘাইছড়ি-মারিশ্যা-দিঘীনালা সড়কের ৩ কিলোমিটার এলাকায় রাস্তা ধসে যাওয়ায় যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।
জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী আশ্রয়কেন্দ্রগুলো নিয়মিত পরিদর্শন করছেন। জেলা প্রশাসন, স্থানীয় প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবীরা সার্বক্ষণিক দুর্যোগ মোকাবিলা এবং আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা মানুষের নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছেন।
লামায় পাহাড়ধসে ঘুমন্ত শিশুসহ নিহত ৫: টানা চার দিনের ভারি বর্ষণের ফলে বান্দরবান জেলার লামা উপজেলায় পাহাড় ধসে ঘুমন্ত অবস্থায় ১ শিশুসহ দুই পরিবারের ৫ জন নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ভোরে উপজেলার আজিজনগর ইউনিয়নের দুর্গম পাহাড়ি মিশন পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- মো. ইউনুছ (২৮), তার স্ত্রী রানু আক্তার (২২) ও চার বছরের ছেলে মো. সোলেমান, মো. জুয়েল ( ২৭) ও তার স্ত্রী কুলসুমা আক্তার (২৩)। অপরদিকে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে উপজেলা শহরসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের এক হাজার ঘরবাড়ি প্লাবিত ও পাহাড়ধসে পড়ে দুই শতাধিক ঘরবাড়ি বিধস্ত হয়েছে। এছাড়া লামা-আলীকদম সড়কের কেয়ারারঝিরি, রেপারপাড়া আবাসিক ও লাইনঝিরি এলাকা ঢলের পানিতে ডুবে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। অপরদিকে বিভিন্ন ইউনিয়নে চলতি মৌসুমের বীজতলা এবং বিভিন্ন ফসলাদি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। সড়করে উপর পাহাড়ধসে পড়ে, সড়কধসে ও ঢলের পানিতে প্লাবিত হয়ে অভ্যন্তরীণসহ লামা-আলীকদম সড়ক যোগযোগও বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানায়, উজান থেকে নেমে আসা সৃষ্ট পাহাড়ি ঢলের পানি পৌর এলাকাসহ উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের নিচু এলাকায় ঢুকে পড়ে। এতে ওইসব এলাকার ঘরবাড়ি, দোকান পাঠ, সরকারি বেসরকারি কার্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্লাবিত হয়। মাতামুহুরী নদী, লামা খাল, বমু খাল, ইয়াংছা খাল, বগাইছড়ি খাল, ও পোপা খালসহ বিভিন্ন স্থানের পাহাড়ি ঝিরিগুলোতে অস্বাভাবিক ভাবে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় গৃহবন্দি হয়ে পড়েছে বিভিন্ন পেশাজীবীর প্রায় ১২ হাজার মানুষ। কর্মহীন হয়ে বেকায়দায় পড়েছে ওইসব এলাকার শ্রমজীবী মানুষ। গত মঙ্গলবার সকাল থেকে শহরের দোকান ও ঘরবাড়ির মালামালসহ গৃহ পালিত পশু নিরাপদে সরিয়ে নিতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে বন্যা আক্রান্তরা। এদিকে প্রবল বর্ষণে পাহাড়ধসে প্রাণহানির আশঙ্কায় পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারীদেরকে নিরাপদে আশ্রয় নিতে বিভিন্ন মাধ্যমে মাইকিং শুরু করে উপজেলা প্রশাসন, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদগুলো। এর পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থা আশিকার উদ্যোগেও দুর্যোগ আগাম বার্তা ও আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুতি কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। দুযো©গ কবলিতরা আশ্রয় নিতে ৫৫ বিদ্যালয়কে অস্থায়ী আশ্রয়ন কেন্দ্র হিসেবে খুলে দেয় প্রশাসন। এতে কয়েকশ পরিবার আশ্রয়ন নিয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুর নাগাদ মাতামহুরী নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে প্রবাহিত হয়। টানা ভারি বর্ষণ অব্যাহত থাকলে ভয়াবহ বন্যাসহ পাহাড়ধসে আরো মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন আজিনগর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোবারক হোসেন। তিনি বলেন, অব্যাহত ভারি বর্ষণের ফলে আজিজনগর ইউনিয়নের মিশনপাড়ায় বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ভোর চারটার দিকে পৃথকভাবে আচমকা পাহাড় ধসে মো. ইউনুছ ও জুয়েল এর বসত ঘরের উপর পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সদস্যরা স্থানীয়দের সহায়তায় আক্রান্তদের উদ্ধার করেন। ততক্ষণে দুই পরিবারের ঘুমন্ত ৫ সদস্য মারা যান। এদিকে একই রাত দেড়টার দিকে ইউনিয়নের উত্তর পাড়ায় আজিজনগর ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য রেহানা বেগমের ঘরে পাহাড়ধসে পড়ে। এতে তিনি গুরুত্বর আহত হন। ফাইতং ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক জানান, তার ইউনিয়নে ৫০টির মত ঘরবাড়ি পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। লামা সদর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম জানায়, পাহাড় ধসে ৫০টি ও ঢলের পানিতে প্লাবিত হয়েছে ১০০ ঘরবাড়ি। পানি বন্দি হয়েছে ১০০০ পরিবার। ফাসিয়াখালী ইউনিয়নে ব্যাপক হারে পাহাড় ধসে ঘরবাড়ি ও রাস্তা ঘাটের ব্যাপক ক্ষতি হয় বলে জানান ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য জিয়াবুল হক। এছাড়া গজালিয়া, সরই, রুপসীপাড়া ইউনিয়নেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয় বলে জানা গেছে।
পাহাড়ধসে পাঁচজন নিহত হওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে লামা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকতা© মো. কাইছার হামিদ বলেন, পাহাড়ধসে নিহতদের লাশ উদ্ধার করে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ঘটনাটি খুবই মর্মান্তিক।
এ বিষয়ে লামা পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মঈন উদ্দিন বলেন, টানা বর্ষণের শুরুতেই ঢলের পানিতে ও পাহাড় ধসের ঝুঁকিপূর্ণ পৌরবাসিদেরকে যথাসময়ে নিরাপদে সরে যেতে মাইকিং করে সতর্ক করা হয়। শুধু তায় নয়, বাড়ি বাড়ি গিয়েও তাগাদা দেওয়া হয়। এরপরেও পাহাড়ধসে আজিজনগরের মিশন পাড়ায় শিশুসহ ৫জন নিহত ও পাহাড়ি ঢলের পানিতে এক হাজারের মত দোকানপাট-ঘরবাড়ি প্লাবিত হয়েছে। পৌরসভার পক্ষ থেকে আশ্রয় কেন্দ্রসহ বন্যা কবলিতদের মাঝে খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানি বিতরণ করা হয়। মোবাইল নেটওয়ার্ক সচল না থাকায় ও রাস্তা ঘাট ভেঙেচুরে তছনছ হওয়ার কারণে বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) পর্যন্ত চুড়ান্তভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমান নিরুপন করা সম্ভব হয়নি।
চকরিয়ায় পাহাড়ধসে দুই জনের মৃত্যু :
কক্সবাজারের চকরিয়ার বরইতলীতে পাহাড়ধসে ঘুমন্ত দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ভোররাতে উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নের মোহছেনিয়া কাটা এলাকায় এই ঘটনাটি ঘটে।
নিহত এক কিশোরীর নাম রুমি আক্তার (১৫)। সে মোহছেনিয়া কাটা গ্রামের মোহাম্মদ কাজলের কন্যা এবং বরইতলী দাখিল মাদরাসার দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। অপর শিশুর নাম মোহাম্মদ তৌসিফ (১০)। সে একই এলাকার আবদুল মজিদের পুত্র এবং চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী। তারা সর্ম্পকে একে অপরের চাচাতো জেঠাতো ভাইবোন।
বরইতলী ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ছালেকুজ্জামান বলেন, কয়েকদিনের ভারি বর্ষণে বেশ কয়েকটি গ্রাম পানিতে তলিয়ে গেছে । আমার এলাকায় একটি কিশোর ও একটি শিশুর পাহাড়ধসে মৃত্যু হয়েছে। খুবই মর্মান্তিক ঘটনা।
চট্টগ্রামে পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু: চট্টগ্রামের আনোয়ারায় জমে থাকা বৃষ্টির পানিতে ডুবে মো. ইশতিয়াক নামে ছয় বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুরে উপজেলার বরুমচড়া ইউনিয়নের নলদিয়া ৪ নম্বর ওয়ার্ডের হাসান সর্দ্দারপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ইশতিয়াক ওই এলাকার মোহাম্মদ ইদ্রিসের ছেলে।
নিহতের চাচা আনোয়ার হোসেন বলেন, ইশতিয়াক সকালে খেলতে বের হয়েছিল, দুপুরের দিকে ঘরে না ফেরায় অনেক খোঁজাখুঁজি করেন স্বজনেরা। একপর্যায়ে বাড়ির পাশে জমে থাকা বৃষ্টির পানির মধ্যে দেখতে পান তাকে। সেখান থেকে উদ্ধার করে আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. অনিন্দিতা বলেন, শিশুটিকে হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
ছবি: সংগৃহীত
কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার সেন্টমার্টিন দ্বীপ, শাহপরীর দ্বীপ এবং সদর ইউনিয়নের রাজারছড়া সংলগ্ন সাগর তীর এলাকা থেকে ভাসমান অবস্থায় ৩টি অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুরে টেকনাফ মডেল থানার ওসি মো. সাইফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সাইফুল ইসলাম জানান, গত বুধবার (৮ জুলাই) দুপুর ও বিকালের দিকে টেকনাফ উপজেলার সেন্টমার্টিন দ্বীপ, শাহপরীর দ্বীপ এবং সদর ইউনিয়নের রাজারছড়া সংলগ্ন সাগর তীর এলাকা থেকে ভাসমান অবস্থায় অর্ধগলিত ৩টি অজ্ঞাত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। যেগুলোর অধিকাংশ পচে গেছে বা নষ্ট হয়ে গেছে।
তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, লাশগুলো মিয়ানমারের চলমান সংঘাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তির হতে পারে। উদ্ধারকৃত লাশগুলোর বিষয়ে পরবর্তী আইনি কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে।
ছবি: সংগৃহীত
ফুটবল বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে সহিংসতা, জনদুর্ভোগ ও শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে। একই সঙ্গে সর্বসাধারণের জন্য বিশ্বকাপ প্রদর্শনী ও উদযাপনের সময় নির্ধারণ, আতশবাজি ও লাউড স্পিকারের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে নীতিমালা প্রণয়ন এবং রাত ১১টার পর অবৈধ উচ্চশব্দ ও আতশবাজি বন্ধে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম এই রিট আবেদন করেন। তিনি বলেন, পত্রিকার খবর অনুসারে এ পর্যন্ত ফুটবল বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে ১১ জন মারা গেছেন। এছাড়া রাতে উচ্চ শব্দে আতশবাজি ফুটিয়ে উদযাপন করায় শিশু ও বৃদ্ধসহ জনসাধরণের ঘুমে ব্যাঘাত ঘটে। তাই এ রিট আবেদন করা হয়েছে।
ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বকাপ ফুটবল ঘিরে দুনিয়াজুড়ে বইছে উন্মাদনার ঝড়। ফুটবলের সবচেয়ে বড় এই আসরে বাংলাদেশ খেলার সুযোগ না পেলেও এখানে উত্তেজনার কমতি নেই। জনপ্রিয় দলগুলোর সমর্থকরা বাগ্যুদ্ধেই মাঠ গরম করে রাখছেন। এই বিরোধিতা মাঝেমধ্যে প্রাণঘাতী সংঘাতেও রূপ নিচ্ছে।
তথ্য বলছে, এবারের বিশ্বকাপ ঘিরে নানা ঘটনায় এখন পর্যন্ত অন্তত ১০ জনের প্রাণ গেছে। তাদের মধ্যে ৩ জনকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। এ সময়ে আহত হয়েছেন অন্তত ৪৫ জন। ১০ জনের বাইরে কুমিল্লায় আর্জেন্টিনা সমর্থকদের হামলায় মো. শরিফুল ইসলাম (৩২) নামের এক ব্রাজিল সমর্থকের মৃত্যু হয়েছে। গত মঙ্গলবার রাতে কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের ধনপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ডিবিপ্রধান অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, যেখানে বড়পর্দায় খেলা দেখানো হবে, সেখানে ডিবি নজরদারি করবে।
মন্তব্য