টানা বর্ষণ ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ফেনীর মুহুরী, কহুয়া ও সিলোনীয়া নদীর পানি আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। সুনামগঞ্জের সুরমা, রক্তি, যাদুকাটা, বোলাইসহ অন্যান্য নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। টানা গত দুই দিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বান্দরবানের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। এ ছাড়া, রেললাইন পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। এদিকে, দেশের ৪ বিভাগে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। বুধবার (৮ জুলাই) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগ এবং তৎসংলগ্ন উজানে ভারতের ত্রিপুরা, আসাম, মেঘালয় ও পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে।
দেশের পূর্বাঞ্চল ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় চট্টগ্রাম বিভাগের গোমতী, মুহুরী, ফেনী, সেলোনিয়া, হালদা, সাঙ্গু ও মাতামুহুরি নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে। এর ফলে বান্দরবান ও কক্সবাজার জেলার বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে এবং ফেনী, চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ি জেলায় এসব নদীর পানি কিছু কিছু স্থানে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে কোথাও কোথাও স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির উদ্ভব হতে পারে। এ ছাড়া লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালী জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলও কোথাও কোথাও সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে।
এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের মনু, ধলাই, খোয়াই, কংস, সারিগোয়াইন, সোমেশ্বরী, যাদুকাটা ও ভুগাই নদীগুলোর পানি সমতল বৃদ্ধি পেয়েছে। ৩ দিন এসব নদীর পানিও দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে। সেই সঙ্গে আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টায় সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, নেত্রকোনা, শেরপুর ও ময়মনসিংহ জেলার কিছু কিছু স্থানে এসব নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে ও নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে কোথাও কোথাও স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির উদ্ভব হতে পারে।
অন্যদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় উত্তরাঞ্চলীয় রংপুর বিভাগের তিস্তা নদীর পানি সমতল বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি সমতল স্থিতিশীল থাকলেও এসব নদীর পানিও দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে। ফলে আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে এবং নীলফামারী, লালমনিরহাট ও রংপুর জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির উদ্ভব হতে পারে। এ ছাড়াও আগামী ৭২ ঘণ্টায় লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম জেলায় ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে এবং নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল কোথাও কোথাও সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে।
পূবার্ভাসে আরও বলা হয়, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সুরমা নদীর পানি সমতল বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি কুশিয়ারা নদীর পানি সমতল স্থিতিশীল ছিল। তবে এসব নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলায় সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে এবং নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল কোথাও কোথাও সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে।
ফুঁসছে মুহুরী-কহুয়া-সিলোনীয়া নদী, ফেনীতে বন্যার শঙ্কা:
টানা বর্ষণ ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ফেনীর মুহুরী, কহুয়া ও সিলোনীয়া নদীর পানি আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে জেলার পরশুরাম, ফুলগাজী ও ছাগলনাইয়া উপজেলার নদীতীরবর্তী এলাকায় নতুন করে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বন্যার শঙ্কায় লাখো মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন জরুরি সভা ডেকে আগাম প্রস্তুতি শুরু করেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতি বছরই মুহুরী ও কহুয়া নদীর বাঁধ ভেঙে ফুলগাজী ও পরশুরামের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। অনেক সময় গভীর রাতে হঠাৎ লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়ায় গবাদিপশু, আমনের বীজতলা, মৎস্য ঘের ও ঘরবাড়ির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। এবারও নদীর পানির তীব্রতা দেখে তীরবর্তী মানুষের রাত কাটছে চরম উৎকণ্ঠায়।
জেলা আবহাওয়া কর্মকর্তা মুজিবুর রহমান জানান, মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে অঞ্চলটিতে বৃষ্টিপাত আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে।
ফেনী পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘বৃষ্টি ও উজানের ঢল অব্যাহত থাকলে নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। আমরা সার্বক্ষণিক নদীর বাঁধ ও পানির উচ্চতা পর্যবেক্ষণ করছি এবং ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো চিহ্নিত করার কাজ চলছে।’
বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জে বাড়ছে নদ-নদীর পানি:
ভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে সুনামগঞ্জের সুরমা, রক্তি, যাদুকাটা, বোলাইসহ অন্যান্য নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। বুধবার (৮ জুলাই) দুপুরে পাওয়া তথ্যানুযায়ী সুরমা নদীর পানি দুটি পয়েন্টে ৩৩ ও ৩৫ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, বুধবার (৮ জুলাই) সকাল ৯টায় সুনামগঞ্জে ১০০ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। জেলার মধ্যনগর উপজেলার মহেশখলা এলাকায় ১০২ মিলিমিটার ও দিরাই উপজেলা সদর এলাকায় ১১০ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। সুরমা নদীর পানি সুনামগঞ্জ শহরের ষোলঘর পয়েন্ট বিপৎসীমার ১.০৮ মিটার নিচ দিয়ে ৬.৭১ মিটারে প্রবাহিত হয়েছে।
ছাতক উপজেলার সদর এলাকায় ৭৬ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে এবং সুরমা নদীর পানি ৩৫ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ০.৯৭ মিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী-২ মো. এমদাদুল হক বলেন, ‘সুনামগঞ্জ ও ভারতের মেঘালয় এলাকায় আরও তিন দিন অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের পানি আসায় সুরমা ও অন্যান্য নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে, তবে বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢল হলে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে এবং স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।
টানা বৃষ্টিতে বান্দরবানের বন্যা পরিস্থিতির অবনতি:
টানা দুই দিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বান্দরবানের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। বান্দরবানে ১৩৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার। এই টানা বৃষ্টিতে বান্দরবানের বিভিন্ন উপজেলার নদী ও পাহাড়ি ছড়ার পানি বৃদ্ধি পেয়ে প্লাবিত হয়েছে নিম্নাঞ্চল। নদীর তীরবর্তী বসতঘর এবং শত শত একর ফসলি জমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে।
অন্যদিকে আলীকদম উপজেলার সদর ইউনিয়ন ও চৈক্ষ্যং ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা বন্যায় প্লাবিত হয়ে লামা-আলীকদম-ফাঁসিয়াখালী সড়কের রেপারপাড়া ও শীবাতলীসহ একাধিক স্থানে সড়কের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। কোথাও কোথাও স্থানীয়দের ভ্যানগাড়ি ও নৌকায় করে পারাপার হতে দেখা গেছে। এতে সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী এবং জরুরি সেবাগ্রহীতারা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
আলীকদম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনজুর আলম জানিয়েছেন, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করে মানুষকে সতর্ক করা হচ্ছে। সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় ১৫টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এ ছাড়া শুকনা খাবার, বিশুদ্ধ পানি, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেটসহ প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী মজুত রাখা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস ও বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি সমন্বিতভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে।
অন্যদিকে থানচি উপজেলার তিন্দু, রেমাক্রী ও নাফাখুম, আমিয়াখুমসহ কয়েকটি পর্যটন এলাকায় শতাধিক পর্যটক আটকা পড়ার খবর পাওয়া গেছে।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিন বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। তাই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার এবং প্রয়োজন ছাড়া নদীতীর, পাহাড়ের পাদদেশ ও প্লাবিত সড়কে চলাচল না করার পরামর্শ দিয়েছে প্রশাসন।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ, ফায়ার সার্ভিস, সেনাবাহিনী, পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনসহ জেলার বিভিন্ন স্থানে ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে জানান জেলা প্রশাসক সানিউল ফেরদৌস।
জেলা প্রশাসক বলেন, ‘টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে সাঙ্গু নদীর পানি ও স্রোত বেড়ে যাওয়ায় থানচির তিন্দু, রেমাক্রী ও নাফাখুম, আমিয়াখুমসহ কয়েকটি পর্যটন এলাকায় শতাধিক পর্যটক আটকা পড়েছে। সাঙ্গু নদীর পানি স্রোত স্বাভাবিক না হওয়ার পর্যন্ত পর্যটক ভ্রমণের নিরুৎসাহিত করা হয়েছে।’
জলাবদ্ধতায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার ট্রেন চলাচল বন্ধ:
টানা ভারী বৃষ্টিতে রেললাইন পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।
রেলওয়ে সূত্র জানায়, বুধবার (৮ জুলাই) চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারগামী চার জোড়া ট্রেনের যাত্রা বাতিল করা হয়েছে। এগুলো হলো সৈকত এক্সপ্রেস, কক্সবাজার এক্সপ্রেস, প্রবাল এক্সপ্রেস এবং পর্যটক এক্সপ্রেস।
টানা বর্ষণে নগরের মুরাদপুর এলাকার সুন্নিয়া মাদ্রাসাসংলগ্ন স্থানে রেললাইন প্রায় দুই ফুট পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় ষোলশহর-জান আলীহাট সেকশনে ট্রেন চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। এর পরিপ্রেক্ষিতেই ট্রেন চলাচল স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ছবি: সংগৃহীত
হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আসা ও বহির্গামী যাত্রীদের সুবিধার্থে বিনামূল্যে শাটল বাস সার্ভিস চালু করেছে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। বুধবার (৮ জুলাই) বিমানবন্দরের ক্যানোপি এলাকায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ সেবার উদ্বোধন করেন বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ।
বেবিচক জানায়, বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা এবং বেবিচক চেয়ারম্যানের তত্ত্বাবধানে সংস্থাটির নিজস্ব অর্থায়নে এ শাটল সার্ভিস পরিচালিত হবে। বাসগুলো বিমানবন্দর–বিমানবন্দর বাসস্ট্যান্ড, জসিমউদ্দিন মোড়–বিমানবন্দর রেলস্টেশন এবং কাওলা–বিমানবন্দর রুটে চলাচল করবে। যাত্রীরা এসব রুটে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দ্রুত, নিরাপদ ও আরামদায়কভাবে যাতায়াত করতে পারবেন।
এ সেবা বিশেষভাবে প্রবীণ, নারী, শিশু, শারীরিকভাবে অক্ষম এবং ভারী লাগেজ বহনকারী যাত্রীদের জন্য উপকারী হবে বলে জানিয়েছে বেবিচক। পাশাপাশি ব্যক্তিগত যানবাহনের ব্যবহার কমিয়ে বিমানবন্দর এলাকায় যানজট নিরসন, পরিবেশবান্ধব যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং যাত্রীসেবার মানোন্নয়নেও এটি ভূমিকা রাখবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ বলেন, ‘দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রীসেবার মান উন্নয়ন, চলাচলে স্বাচ্ছন্দ্য বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক মানের সেবা নিশ্চিত করতে বেবিচক ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। এরই অংশ হিসেবে চালু করা হয়েছে এই বিনামূল্যের শাটল সার্ভিস, যা যাত্রীদের সময় সাশ্রয়, নিরাপদ চলাচল এবং উন্নত সেবা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।’
অনুষ্ঠানে বেবিচকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, বিভিন্ন অংশীজন এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
ছবি: সংগৃহীত
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন বলেছেন, মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণে কোনো একক কার্যকর পদ্ধতি নেই। সমন্বিত ও বহুমুখী উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমেই এ ধরনের রোগ কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। এ লক্ষ্যে গবেষণা, প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সমন্বিত সহযোগিতা অপরিহার্য বলে উল্লেখ করেন তিনি।
সচিব বুধবার (৮ জুলাই) বাংলাদেশ সচিবালয়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে মশক নিধনে গবেষণা ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন বিষয়ক শোকেসিং পর্যালোচনা উপলক্ষ্যে আয়োজিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
সচিব আরো বলেন, গবেষণায় সফলতা অর্জনের জন্য গবেষকদের দৃঢ় অঙ্গীকার, নিষ্ঠা এবং লক্ষ্যভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা অপরিহার্য। তিনি বলেন, একটি সুস্পষ্ট বৈজ্ঞানিক লক্ষ্য নির্ধারণ করে গবেষণা পরিচালিত হলে তার বাস্তবসম্মত ও কার্যকর ফলাফল পাওয়া সম্ভব।
তিনি মশার জীবনচক্রের বিভিন্ন পর্যায়ে কার্যকর হস্তক্ষেপ নিশ্চিত করতে আধুনিক ও উদ্ভাবনী প্রযুক্তি উদ্ভাবনের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে গবেষণালব্ধ সম্ভাবনাময় প্রযুক্তিগুলো যাচাই-বাছাই করে পর্যায়ক্রমে পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ে পরীক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সভায় অংশগ্রহণকারী গবেষক ও বিশেষজ্ঞরা মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত কৌশল গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার ওপর মতামত প্রদান করেন।
সভায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মুহম্মদ আশরাফ আলী ফারুক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন, আইসিডিডিআরবি, আইইডিসিআর-এর অধ্যাপক ও গবেষকবৃন্দ, অস্ট্রেলিয়া থেকে ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণকারী প্রবাসী বাংলাদেশি গবেষক ড. মুর্শিদা খান, স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রতিনিধিগণ অংশগ্রহণ করেন।
ছবি: সংগৃহীত
ডেঙ্গু প্রতিরোধে পূর্ব সতর্কতা হিসেবে ঢাকার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘ক্লিন স্কুল টিম’ গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকার জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম। বুধবার (৮ জুলাই) জেলা প্রশাসক ফরিদা খানমের সই করা এক আদেশে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।
আদেশে বলা হয়েছে, ‘প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের নির্দেশনার আলোকে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট সবার জন্য পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যসম্মত ও পরিবেশবান্ধব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিশ্চিত করতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’
নির্দেশনায় বলা হয়, ‘প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ডেঙ্গু প্রতিরোধে মনিটরিং কমিটি ‘‘ক্লিন স্কুল টিম’’ গঠন করতে হবে। একই সঙ্গে শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সবার ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা, বিদ্যালয় ভবন ও শ্রেণিকক্ষ নিয়মিত পরিষ্কার রাখা, ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, ছাদ, ড্রেন, খোলা জায়গা ও জমে থাকা পানির স্থান নিয়মিত পরিদর্শন এবং প্রয়োজনীয় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ব্যবস্থা নিতে হবে। এ ছাড়া শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধিতে প্রচারণা চালানো, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে উৎসাহ দিতে পুরস্কারের ব্যবস্থা করাসহ বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
আদেশ অনুযায়ী, প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গঠিত ‘ক্লিন স্কুল টিম’-এর সভাপতি থাকবেন প্রতিষ্ঠানপ্রধান। এ ছাড়া একজন অভিভাবক প্রতিনিধি, সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের স্যানিটারি পরিদর্শক বা উপজেলা পর্যায়ে ইউনিয়ন পরিষদের প্রতিনিধি, দুইজন শিক্ষার্থী এবং একজন শিক্ষক সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, নির্দেশনা পাওয়ার পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘ক্লিন স্কুল টিম’ গঠন করে কার্যক্রম শুরু করতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম বলেন, ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধে আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি হতে পারে সচেতনতা এবং পরিচ্ছন্নতা। এ কারণেই আমরা প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘‘ক্লিন স্কুল টিম’’ গঠনের নির্দেশ দিয়েছি। শিক্ষার্থীদের ছোটবেলা থেকেই পরিচ্ছন্নতা ও জনস্বাস্থ্য সম্পর্কে দায়িত্বশীল হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। বিদ্যালয় পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি নিজেদের বাড়ি ও আশপাশেও যেন তারা একই অভ্যাস অনুসরণ করে, সেটিই আমাদের লক্ষ্য।’
তিনি বলেন, ‘প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত শ্রেণিকক্ষ, ছাদ, বারান্দা, ড্রেন, ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র এবং যেসব স্থানে পানি জমে মশার লার্ভা জন্ম নিতে পারে, সেসব স্থান নিয়মিত পরিদর্শন ও পরিষ্কার রাখতে হবে।’
ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীতে অটোরিকশা চালককে অজ্ঞান করে হত্যার ঘটনায় অজ্ঞানপার্টি চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ওয়ারী থানা পুলিশ। গ্রেপ্তাররা হলেন মো. দেলোয়ার হোসেন ওরফে হৃদয় (৪০), মো. মানিক সরদার (৫২) ও মো. লিটন (৫০)।
ডিএমপি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, গত ২৮ জুন রাত প্রায় ৯টার দিকে খিলগাঁও থেকে অটোরিকশা নিয়ে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন চালক দিদারুল ইসলাম। পরদিন ২৯ জুন ভোর প্রায় ৪টার দিকে ওয়ারী থানাধীন নবাবপুর রোড থেকে অচেতন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাত প্রায় ১০টার দিকে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় প্রথমে ওয়ারী থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা রুজু করা হয়।
মামলার তদন্তে ওয়ারী থানা পুলিশের একটি দল সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অভিযুক্তদের শনাক্ত করে। পরে বুধবার (৮ জুলাই) রাত প্রায় ৩টার দিকে গাজীপুরের শ্রীপুর, ঢাকার কেরানীগঞ্জ এবং ডিএমপির লালবাগ এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।
অভিযানের সময় তাদের হেফাজত থেকে ছিনতাইকৃত একটি অটোরিকশা, ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত একটি সিএনজি অটোরিকশা এবং তিনটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তাররা অজ্ঞানপার্টি চক্রের সক্রিয় সদস্য বলে স্বীকার করেছে। তারা যাত্রী সেজে অটোরিকশা চালকদের অজ্ঞান করে অটোরিকশা ও অন্যান্য মালামাল ছিনতাই করত বলে জানা গেছে। গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
ছবি: সংগৃহীত
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে সংরক্ষিত বনভূমি দখল করে গড়ে তোলা একটি বিশাল অবৈধ পান বাগান উচ্ছেদ করেছে বন বিভাগ। উপজেলার রাজকান্দি রেঞ্জের অধীন কুরমা বন বিটের কুরমা খাসিয়া পুঞ্জিসংলগ্ন ছোট পিকল এলাকায় এ অভিযান চালিয়েছে বন বিভাগ। অভিযানে প্রায় ৩ দশমিক ২৯ হেক্টর (প্রায় ৮ একর) বনভূমি দখলমুক্ত করার পাশাপাশি আনুমানিক এক হাজার পানের চারা উপড়ে ফেলা হয়েছে।
বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, সংরক্ষিত বনভূমি রক্ষা ও অবৈধ পান চাষের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে গত মঙ্গলবার সকাল থেকে শুরু হয়ে রাত ৮টা পর্যন্ত এই চিরুনি অভিযান চালানো হয়।
রাজকান্দি রেঞ্জ কর্মকর্তা ও সহকারী বন সংরক্ষক প্রীতম বড়ুয়া অভিযানের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সংরক্ষিত বনের জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং ভূমি গ্রাসকারীদের হাত থেকে বনভূমি ফিরিয়ে আনতে তাদের এই নিয়মিত কার্যক্রম।
তিনি বলেন, ‘আমরা প্রায় ৩.২৯ হেক্টর বনাঞ্চল অবৈধ দখলদারদের কবল থেকে মুক্ত করেছি। বনের পরিবেশ ধ্বংস করে যারা এই বাগান গড়ে তুলেছিল, তাদের বিরুদ্ধে বন আইনে একটি পিওআর (POR) মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দিনব্যাপী পরিচালিত এই অভিযানে কুরমা বিট কর্মকর্তা মো. জুয়েল রানা, বন বিভাগের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সঙ্গীয় বনরক্ষী বাহিনীর সদস্যরা সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।
বন বিভাগের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, বনের ভারসাম্য রক্ষা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং যেকোনো ধরনের অবৈধ চাষাবাদ ও দখলদারিত্ব উচ্ছেদে ভবিষ্যতেও এ ধরনের কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকবে।
ছবি: সংগৃহীত
ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় গত মঙ্গলবার (৭ জুলাই) থেকে অতি বর্ষণে পৌর শহর ও উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। রাস্তাঘাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বাজার, দোকান ঘর ও আবাসিক এলাকার নিচু অংশ পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় জনজীবন বিপর্যন্ত হয়ে পড়েছে। অনেক পরিবার ঘরবন্দি হয়ে পড়েছে, ব্যাহত হচ্ছে যান চলাচল ও দৈনন্দিন কার্যক্রম। পানি নিষ্কাশনের ধীরগতির কারণে দুর্ভোগ আরও বাড়ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
জানা যায়, গত মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাত থেকে বুধবার (৮ জুলাই) সকাল পর্যন্ত একটানা কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতে পৌর শহরের নিচু এলাকার বসতবাড়ি, দোকানপাট ও রাস্তার ওপর এক হাটু পানি জমে জনসাধারণের চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষার হলে যাওয়ার সময় ব্যাপক দুর্ভোগের স্বীকার হতে হয়। যানবাহনের স্বল্পতা ও রাস্তায় পানি থাকায় পরীক্ষার্থীদের কাপড় ভিজিয়েই পরীক্ষার হলে উপস্থিত হতে হয়েছে।
মুক্তাগাছা পৌর শহরের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা জানান, বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকাই এ ধরনের জলাবদ্ধতা সৃষ্টির মূল কারণ। ড্রেনেজ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা এবং কিছু স্থানে ড্রেনে ময়লা-আবর্জনা জমে থাকায় পানি নামতে দেরি হচ্ছে। ফলে সামান্য সময়ের ভারী বৃষ্টিতেই সড়ক ও বাড়ি-ঘরে পানি ঢুকে পড়ছে।
জলাবদ্ধতার কারণে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ। অনেক দোকানপাটে পানি ঢুকে ব্যবসায়ীদের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বাজারে ক্রেতার উপস্থিতিও কমে গেছে। বিভিন্ন এলাকার রিকশা ও অটোরিকশা চলাচল সীমিত হয়ে পড়ায় যাতায়াতে অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। তা ছাড়া ব্যটারিচালিত অটোরিকশাগুলো পানিতে চালাতে গিয়ে মটর বিকল হওয়ার ঘটনাও ঘটছে। এতে অটোরিকশাচালকরা আর্থিক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী আব্দুল ওয়াহাব তানজীল জানান, পৌরসভার ড্রেন মেরামত ও নিষ্কাশনের ব্যবস্থার জন্য পৌর প্রশাসককে মৌখিক এবং লিখিতভাবে আবেদন করা হলেও তিনি কোনো ব্যবস্থা নেননি। বিশেষ করে বড় মসজিদ রোডে হাজী শুকুর আলীর নির্মাণাধীন মার্কেট তৈরির নির্মাণসামগ্রী তিন বৎসর যাবৎ রাস্তায় রেখে মার্কেটের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। এতে বৃষ্টি হলেই মার্কেটে তৈরিতে ব্যবহৃত বালু ও সুরকি ভেসে গিয়ে ড্রেন ভরাট হয়ে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যায় এবং জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। বিশেষ করে মুক্তাগাছা বড় মসজিদ, দরিচারিআনী বাজার ও আটানী বাজার রোড এলাকায় রাস্তার ওপর পানি জমে যাওয়ায় মুসল্লিদের মসজিদে নামাজ পড়তে যাওয়া, সাধারণ মানুষের দরিচারআনী বাজার ও আটানী বাজারে যাওয়ায় খুবই সমস্যা হচ্ছে। বিশেষ করে মহিলাদের চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এলাকার সাধারণ মানুষের বক্তব্য, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি না থাকায় প্রশাসকের পক্ষে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের বিষয়টি গভীরভাবে উপলব্ধি করা সম্ভব নয়। তাছাড়া একজন প্রশাসক উপজেলা প্রশাসনের দায়িত্ব পালন করার পর উপজেলা পরিষদ ও পৌরসভার প্রশাসক হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করাও অনেকটা কষ্টসাধ্য।
জলাবদ্ধতার নোংরা পানি দীর্ঘ সময় ধরে জমে থাকায় জনস্বাস্থ্য নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এমতাবস্থায় দ্রুত পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, ড্রেন পরিষ্কার এবং দীর্ঘমেয়াদি ড্রেনেজ উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন নগরবাসী।
ছবি: সংগৃহীত
নরসিংদীতে সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত নিহত ও আহত ১১টি পরিবারকে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটি) কর্তৃক অনুমোদিত মোট ৪১ লাখ টাকার চেক হস্তান্তর করা হয়েছে।
বুধবার (৮ জুলাই) সকালে জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে এক অনুষ্ঠানে নরসিংদী জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ইসরাত জাহান কেয়া প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে চেক বিতরণ করেন।
চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নরসিংদীর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এম. সাজ্জাদুল হাসান, বিআরটিএ নরসিংদী সার্কেলের সহকারী পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার বখতিয়ার উদ্দিন, মোটরযান পরিদর্শক মো. রাসেল আহমেদ, মেকানিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট মো. মিনহাজ উদ্দীন আহমেদসহ অন্যান্য কর্মকর্তা।
সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত নিহত ও আহত পরিবারের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট বিভাগে ক্ষতিপূরণের আবেদন করা হয়। পরে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত নিহতের স্বজন ও আহতদের প্রত্যেক ব্যক্তির মধ্যে অনুদানের টাকা প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
বিআরটি সূত্রে জানানো হয়েছে, দুর্ঘটনার ৩০ দিনের মধ্যে উপযুক্ত প্রমাণসহ নির্ধারিত ফরমে আবেদন করলে ট্রাস্টি বোর্ড আবেদন যাচাই-বাছাইপূর্বক আর্থিক সহায়তা মঞ্জুর করে।
মন্তব্য