খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলায় চলতি মৌসুমে সুস্বাদু ফল আঁশফলের বাম্পার ফলন হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া, রোগবালাইয়ের কম প্রকোপ এবং স্থানীয় কৃষি বিভাগের সঠিক ও নিয়মিত পরামর্শে এবার উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে গাছে গাছে ফল ধরেছে রেকর্ড পরিমাণে। বাজারে এই ফলের ব্যাপক চাহিদা এবং ভালো দাম পাওয়ায় চাষি ও ব্যবসায়ী উভয়ের মুখেই ফুটেছে স্বস্তির হাসি।
স্থানীয়ভাবে ‘কাঠলিচু’ বা ‘লংগান’ নামে পরিচিত এই ফলটি দেখতে অনেকটা লিচুর মতো এবং স্বাদে অত্যন্ত মিষ্টি ও রসালো হওয়ায় ক্রেতাদের কাছে এর জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বী।
জানা গেছে, ডুমুরিয়ার ১৪টি ইউনিয়নের মধ্যে ধামালিয়া, রঘুনাথপুর, রুদাঘরা, খর্নিয়া, আটলিয়া, মাগুরা ঘোনা, শোভনা, সাহস, গুটুদিয়া এবং রংপুরসহ বিভিন্ন গ্রামে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা গাছগুলোতে এবার অভাবনীয় ফলন হয়েছে। উৎপাদন খরচ কম এবং পরিচর্যা তুলনামূলক সহজ হওয়ায় ডুমুরিয়ায় প্রতি বছরই বাণিজ্যিকভাবে আঁশফল চাষের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। বিশেষ করে এলাকার শিক্ষিত তরুণ উদ্যোক্তারা এখন এই ফলের বাগান গড়তে দারুণভাবে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন।
বর্তমানে উপজেলার আটলিয়া ইউনিয়নের চুকনগর এবং ডুমুরিয়া সদর বাজারে প্রতিদিন ভোরে বসছে আঁশফলের জমজমাট পাইকারি হাট। খুলনা জেলাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত এবং রাজধানী ঢাকার পাইকারি ব্যবসায়ীরা ভোরেই ছুটে আসছেন এই হাটে।
বাজারে ১টি আঁশফল খুচরা ৩ থেকে ৪ টাকা। ফলভর্তি একটি গাছের পাইকারি দাম ১২০০ থেকে ৩২০০ টাকা (আকার ও ফলন ভেদে)।ব্যবসায়ীরা এখান থেকে সরাসরি ফল কিনে ট্রাক ও অন্যান্য পরিবহনে করে পাঠিয়ে দিচ্ছেন দেশের বিভিন্ন বড় বড় আড়তে।
উপজেলার রুদাঘরা গ্রামের আঁশফল ব্যবসায়ী মোসলেম উদ্দিন বলেন,‘ফল পাকার পর দ্রুত সংগ্রহ না করলে তা এমনিতেই ঝরে পড়ে। তার ওপর বাদুড় একবার গাছে বসলে এক রাতেই প্রায় সব ফল নষ্ট করে দিয়ে যায়। তাই খরচ একটু বেশি হলেও এখন বাধ্য হয়ে অধিকাংশ চাষিই পুরো গাছ নেট (জাল) দিয়ে ঢেকে ফল রক্ষার ব্যবস্থা করছেন।’
ডুমুরিয়ার মাটি ও জলবায়ু আঁশফল চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী বলে জানিয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।
ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. নাজমুল হুদা বলেন, ‘চলতি মৌসুমে ডুমুরিয়ায় আঁশফলের ফলন অত্যন্ত সন্তোষজনক হয়েছে। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে চাষিদের নিয়মিত কারিগরি পরামর্শ ও মাঠপর্যায়ে সহযোগিতা দেওয়া হয়েছে। অল্প খরচে অধিক লাভজনক হওয়ায় ভবিষ্যতে এই অঞ্চলে আঁশফলের চাষ আরও ব্যাপকভাবে সম্প্রসারিত হবে বলে আমরা আশাবাদী।’
স্থানীয় বাজারগুলোতে এখন সাধারণ ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় প্রমাণ করে যে, পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ এই দেশি ফলের কদর দিন দিন বাড়ছে। ভালো ফলন ও উপযুক্ত বাজারদরের কারণে চলতি মৌসুমটিকে ডুমুরিয়ার আঁশফল চাষিদের জন্য একটি অত্যন্ত সফল ও লাভজনক বছর হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীতে অটোরিকশা চালককে অজ্ঞান করে হত্যার ঘটনায় অজ্ঞানপার্টি চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ওয়ারী থানা পুলিশ। গ্রেপ্তাররা হলেন মো. দেলোয়ার হোসেন ওরফে হৃদয় (৪০), মো. মানিক সরদার (৫২) ও মো. লিটন (৫০)।
ডিএমপি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, গত ২৮ জুন রাত প্রায় ৯টার দিকে খিলগাঁও থেকে অটোরিকশা নিয়ে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন চালক দিদারুল ইসলাম। পরদিন ২৯ জুন ভোর প্রায় ৪টার দিকে ওয়ারী থানাধীন নবাবপুর রোড থেকে অচেতন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাত প্রায় ১০টার দিকে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় প্রথমে ওয়ারী থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা রুজু করা হয়।
মামলার তদন্তে ওয়ারী থানা পুলিশের একটি দল সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অভিযুক্তদের শনাক্ত করে। পরে বুধবার (৮ জুলাই) রাত প্রায় ৩টার দিকে গাজীপুরের শ্রীপুর, ঢাকার কেরানীগঞ্জ এবং ডিএমপির লালবাগ এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।
অভিযানের সময় তাদের হেফাজত থেকে ছিনতাইকৃত একটি অটোরিকশা, ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত একটি সিএনজি অটোরিকশা এবং তিনটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তাররা অজ্ঞানপার্টি চক্রের সক্রিয় সদস্য বলে স্বীকার করেছে। তারা যাত্রী সেজে অটোরিকশা চালকদের অজ্ঞান করে অটোরিকশা ও অন্যান্য মালামাল ছিনতাই করত বলে জানা গেছে। গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
ছবি: সংগৃহীত
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে সংরক্ষিত বনভূমি দখল করে গড়ে তোলা একটি বিশাল অবৈধ পান বাগান উচ্ছেদ করেছে বন বিভাগ। উপজেলার রাজকান্দি রেঞ্জের অধীন কুরমা বন বিটের কুরমা খাসিয়া পুঞ্জিসংলগ্ন ছোট পিকল এলাকায় এ অভিযান চালিয়েছে বন বিভাগ। অভিযানে প্রায় ৩ দশমিক ২৯ হেক্টর (প্রায় ৮ একর) বনভূমি দখলমুক্ত করার পাশাপাশি আনুমানিক এক হাজার পানের চারা উপড়ে ফেলা হয়েছে।
বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, সংরক্ষিত বনভূমি রক্ষা ও অবৈধ পান চাষের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে গত মঙ্গলবার সকাল থেকে শুরু হয়ে রাত ৮টা পর্যন্ত এই চিরুনি অভিযান চালানো হয়।
রাজকান্দি রেঞ্জ কর্মকর্তা ও সহকারী বন সংরক্ষক প্রীতম বড়ুয়া অভিযানের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সংরক্ষিত বনের জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং ভূমি গ্রাসকারীদের হাত থেকে বনভূমি ফিরিয়ে আনতে তাদের এই নিয়মিত কার্যক্রম।
তিনি বলেন, ‘আমরা প্রায় ৩.২৯ হেক্টর বনাঞ্চল অবৈধ দখলদারদের কবল থেকে মুক্ত করেছি। বনের পরিবেশ ধ্বংস করে যারা এই বাগান গড়ে তুলেছিল, তাদের বিরুদ্ধে বন আইনে একটি পিওআর (POR) মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দিনব্যাপী পরিচালিত এই অভিযানে কুরমা বিট কর্মকর্তা মো. জুয়েল রানা, বন বিভাগের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সঙ্গীয় বনরক্ষী বাহিনীর সদস্যরা সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।
বন বিভাগের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, বনের ভারসাম্য রক্ষা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং যেকোনো ধরনের অবৈধ চাষাবাদ ও দখলদারিত্ব উচ্ছেদে ভবিষ্যতেও এ ধরনের কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকবে।
ছবি: সংগৃহীত
ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় গত মঙ্গলবার (৭ জুলাই) থেকে অতি বর্ষণে পৌর শহর ও উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। রাস্তাঘাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বাজার, দোকান ঘর ও আবাসিক এলাকার নিচু অংশ পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় জনজীবন বিপর্যন্ত হয়ে পড়েছে। অনেক পরিবার ঘরবন্দি হয়ে পড়েছে, ব্যাহত হচ্ছে যান চলাচল ও দৈনন্দিন কার্যক্রম। পানি নিষ্কাশনের ধীরগতির কারণে দুর্ভোগ আরও বাড়ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
জানা যায়, গত মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাত থেকে বুধবার (৮ জুলাই) সকাল পর্যন্ত একটানা কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতে পৌর শহরের নিচু এলাকার বসতবাড়ি, দোকানপাট ও রাস্তার ওপর এক হাটু পানি জমে জনসাধারণের চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষার হলে যাওয়ার সময় ব্যাপক দুর্ভোগের স্বীকার হতে হয়। যানবাহনের স্বল্পতা ও রাস্তায় পানি থাকায় পরীক্ষার্থীদের কাপড় ভিজিয়েই পরীক্ষার হলে উপস্থিত হতে হয়েছে।
মুক্তাগাছা পৌর শহরের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা জানান, বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকাই এ ধরনের জলাবদ্ধতা সৃষ্টির মূল কারণ। ড্রেনেজ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা এবং কিছু স্থানে ড্রেনে ময়লা-আবর্জনা জমে থাকায় পানি নামতে দেরি হচ্ছে। ফলে সামান্য সময়ের ভারী বৃষ্টিতেই সড়ক ও বাড়ি-ঘরে পানি ঢুকে পড়ছে।
জলাবদ্ধতার কারণে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ। অনেক দোকানপাটে পানি ঢুকে ব্যবসায়ীদের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বাজারে ক্রেতার উপস্থিতিও কমে গেছে। বিভিন্ন এলাকার রিকশা ও অটোরিকশা চলাচল সীমিত হয়ে পড়ায় যাতায়াতে অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। তা ছাড়া ব্যটারিচালিত অটোরিকশাগুলো পানিতে চালাতে গিয়ে মটর বিকল হওয়ার ঘটনাও ঘটছে। এতে অটোরিকশাচালকরা আর্থিক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী আব্দুল ওয়াহাব তানজীল জানান, পৌরসভার ড্রেন মেরামত ও নিষ্কাশনের ব্যবস্থার জন্য পৌর প্রশাসককে মৌখিক এবং লিখিতভাবে আবেদন করা হলেও তিনি কোনো ব্যবস্থা নেননি। বিশেষ করে বড় মসজিদ রোডে হাজী শুকুর আলীর নির্মাণাধীন মার্কেট তৈরির নির্মাণসামগ্রী তিন বৎসর যাবৎ রাস্তায় রেখে মার্কেটের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। এতে বৃষ্টি হলেই মার্কেটে তৈরিতে ব্যবহৃত বালু ও সুরকি ভেসে গিয়ে ড্রেন ভরাট হয়ে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যায় এবং জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। বিশেষ করে মুক্তাগাছা বড় মসজিদ, দরিচারিআনী বাজার ও আটানী বাজার রোড এলাকায় রাস্তার ওপর পানি জমে যাওয়ায় মুসল্লিদের মসজিদে নামাজ পড়তে যাওয়া, সাধারণ মানুষের দরিচারআনী বাজার ও আটানী বাজারে যাওয়ায় খুবই সমস্যা হচ্ছে। বিশেষ করে মহিলাদের চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এলাকার সাধারণ মানুষের বক্তব্য, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি না থাকায় প্রশাসকের পক্ষে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের বিষয়টি গভীরভাবে উপলব্ধি করা সম্ভব নয়। তাছাড়া একজন প্রশাসক উপজেলা প্রশাসনের দায়িত্ব পালন করার পর উপজেলা পরিষদ ও পৌরসভার প্রশাসক হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করাও অনেকটা কষ্টসাধ্য।
জলাবদ্ধতার নোংরা পানি দীর্ঘ সময় ধরে জমে থাকায় জনস্বাস্থ্য নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এমতাবস্থায় দ্রুত পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, ড্রেন পরিষ্কার এবং দীর্ঘমেয়াদি ড্রেনেজ উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন নগরবাসী।
ছবি: সংগৃহীত
নরসিংদীতে সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত নিহত ও আহত ১১টি পরিবারকে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটি) কর্তৃক অনুমোদিত মোট ৪১ লাখ টাকার চেক হস্তান্তর করা হয়েছে।
বুধবার (৮ জুলাই) সকালে জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে এক অনুষ্ঠানে নরসিংদী জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ইসরাত জাহান কেয়া প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে চেক বিতরণ করেন।
চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নরসিংদীর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এম. সাজ্জাদুল হাসান, বিআরটিএ নরসিংদী সার্কেলের সহকারী পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার বখতিয়ার উদ্দিন, মোটরযান পরিদর্শক মো. রাসেল আহমেদ, মেকানিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট মো. মিনহাজ উদ্দীন আহমেদসহ অন্যান্য কর্মকর্তা।
সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত নিহত ও আহত পরিবারের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট বিভাগে ক্ষতিপূরণের আবেদন করা হয়। পরে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত নিহতের স্বজন ও আহতদের প্রত্যেক ব্যক্তির মধ্যে অনুদানের টাকা প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
বিআরটি সূত্রে জানানো হয়েছে, দুর্ঘটনার ৩০ দিনের মধ্যে উপযুক্ত প্রমাণসহ নির্ধারিত ফরমে আবেদন করলে ট্রাস্টি বোর্ড আবেদন যাচাই-বাছাইপূর্বক আর্থিক সহায়তা মঞ্জুর করে।
ছবি: সংগৃহীত
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার মাধবখালী সীমান্তে অভিযান চালিয়ে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন, দুই রাউন্ড গুলি এবং ২২ বোতল এসকাফ সিরাপ উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দিবাগত রাত ১টা ৪০ মিনিটে মহেশপুর-৫৮ বিজিবির সদস্যরা এ অভিযান পরিচালনা করেন।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, মাধবখালী বিওপির হাবিলদার সাইফুর রহমানের নেতৃত্বে একটি টহল দল জীবননগর উপজেলার সীমান্ত পিলার ৭০/৬-এস থেকে প্রায় ৩০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে মাধবখালী গ্রামের জসিম উদ্দিনের বাঁশবাগান এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় সন্দেহভাজন এক চোরাকারবারীকে ধাওয়া করলে সে একটি প্লাস্টিকের নেটের বস্তা ফেলে ভারতের দিকে পালিয়ে যান।
পরে স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে বস্তাটি তল্লাশি করে ২২ বোতল এসকাফ সিরাপ উদ্ধার করা হয়। একই বস্তার ভেতরে পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় একটি ৭.৬৫ মিলিমিটার বিদেশি পিস্তল (মেড ইন ইউএসএ), একটি ম্যাগাজিন এবং দুই রাউন্ড গুলি পাওয়া যায়।
ফাইল ছবি
দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া, জলাবদ্ধতা এবং পরিবহন সংকটের কারণে গত মঙ্গলবার (৭ জুলাই) চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) সকল ক্লাস ও নির্ধারিত পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিরূপ আবহাওয়া, বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা এবং শিক্ষার্থী-শিক্ষকদের যাতায়াতে সৃষ্ট পরিবহন সংকট বিবেচনায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া, জলাবদ্ধতা এবং পরিবহন সংকটের প্রেক্ষাপটে গতকাল বুধবারের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ক্লাস ও অনুষ্ঠিতব্য পরীক্ষা আদেশক্রমে স্থগিত করা হয়েছে।
স্থগিত হওয়া ক্লাস ও পরীক্ষার পরবর্তী সময়সূচি পরে সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও প্রশাসনের মাধ্যমে জানানো হবে বলে বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে।
ছবি: সংগৃহীত
ফেনীর ফুলগাজী উপজেলা পরিষদের উন্নয়ন প্রকল্পের ২৬টি চেকে টাকার অঙ্ক ও বানান পরিবর্তন করে প্রায় ৫১ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে উপজেলা পরিষদের বর্তমান ও সাবেক তিন কর্মচারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত মঙ্গলবার (৭ জুলাই) তাদের এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা হলেন- ফুলগাজী উপজেলা পরিষদের সাবেক সাঁট মুদ্রাক্ষরিক-কাম-কম্পিউটার অপারেটর পার্থ সারথী পাল (বর্তমানে ছাগলনাইয়া উপজেলা পরিষদে কর্মরত), অফিস সহায়ক মো. ফিরোজ এবং নূর ইসলাম।
জানা গেছে, সম্প্রতি বদলিজনিত কারণে দায়িত্ব হস্তান্তরের প্রস্তুতির সময় ফুলগাজী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও উপজেলা পরিষদের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসক ফাহরিয়া ইসলাম উন্নয়ন প্রকল্পের আর্থিক হিসাব পর্যালোচনা করেন। এ সময় চেক বইয়ের কাউন্টারফয়েলে উল্লেখ থাকা অঙ্কের সঙ্গে ব্যাংক থেকে উত্তোলিত অর্থের হিসাবের অসঙ্গতি ধরা পড়ে।
পরে যাচাই-বাছাই করে দেখা যায়, ২৬টি চেকে স্বাক্ষর নেওয়ার পর টাকার অঙ্ক ও কথায় লেখা পরিমাণ পরিবর্তন করে ব্যাংক থেকে প্রায় ৫১ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। তবে কাউন্টারফয়েলে মূল অঙ্কই সংরক্ষণ করা হয়েছিল।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, প্রায় এক বছর ধরে একই কৌশলে এ জালিয়াতি চলছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, ইউএনওর স্বাক্ষর নেওয়ার পর চেকে অতিরিক্ত সংখ্যা যোগ করে টাকার পরিমাণ বাড়ানো হতো। একই সঙ্গে কথায় লেখা অঙ্কও পরিবর্তন করা হতো। সর্বশেষ চলতি বছরের ১ মার্চ এভাবে অর্থ উত্তোলনের তথ্য পাওয়া গেছে। পরে মূল অভিযুক্ত পার্থ সারথী পাল বদলি হয়ে অন্য উপজেলায় যোগ দিলে এ ধরনের অনিয়ম বন্ধ হয়।
পরে সোমবার ফুলগাজী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফাহরিয়া ইসলাম অভিযুক্ত তিন কর্মচারীকে কার্যালয়ে ডেকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করেন। পরে তাদের ফুলগাজী থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
ফেনী জেলা প্রশাসক মনিরা হক বলেন, অভিযুক্ত তিনজনের বিরুদ্ধে এসআর দায়ের করা হয়েছে। বদলেজনিত কারণে আমাদের ফুলগাজী উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাজগুলো রিকনসিলেশন করার সময় এটা ওনার চোখে পড়েছে। ঘটনাটা আসলে দুর্ভাগ্যজনক, এটা হয়ে গেছে। আমি মনে করি এটা উচিত হয়নি।
মন্তব্য