উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিপাতের কারণে পদ্মা ও যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার বাঘুটিয়া, বাচামারা, জিয়নপুর, চরকাটারী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ভয়াবহ নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে দৌলতপুর উপজেলার বাঘুটিয়া চরকালিকাপুর মুকুরিয়া দাখিল মাদ্রাসা চার তলা ভবনটি যে কোন সময় নদী গভে বিলীন হয়ে যেতে পারে।
দৌলতপুর যমুনা নদীর ভাঙনের তীব্রতায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পুরাতন বাজার ও অসংখ্য বসতভিটা হুমকির মুখে পড়েছে। নদীতীরবর্তী জনপদের বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। নদী ভাঙ্গনে শিকার কয়েক শত পরিবার নৌকা যোগে ঘরবাড়ি, জিনিসপত্র নিয়ে অন্যত্র আশ্রয়ের খোজে ছুটে বেড়াচ্ছে।
সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে দৌলতপুর উপজেলার চরপারুরিয়া-কালিয়াপুর এলাকার শুকুরিয়া দাখিল মাদ্রাসা, ওমর আলী উচ্চ বিদ্যালয় এবং বাঘুটিয়া পুরাতন বাজার। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে এসব গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও আশপাশের বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে।
আজ সরেজমিনে বাঘুটিয়া এলাকার গোলাম আজম বলেন, গত কয়েকদিনে নদীর পানি দ্রুত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভাঙনের তীব্রতাও বেড়েছে। নদীর তীরের বড় বড় অংশ ধসে পড়ছে। চরকালিকাপুর শুকুরিয়া দাখিল মাদ্রাসাটি আজ দিনের মধ্যে চার তলা ভবনটি নদী গভে বিলীন হতে পারে । এছাড়া বাঘুটিয়া ওমর আলী উচ্চ বিদ্যালয়, বাঘুটিয়া পুরাতন বাজারসহ নদীতীরবর্তী বিভিন্ন এলাকায় ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে ঘরবাড়ি ও সহায়-সম্পদ রক্ষা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে চরম উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। তীরবর্তী শত শত পরিবার আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
নদীভাঙন রোধে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে জরুরি ভিত্তিতে প্রতিরোধমূলক কাজ শুরু করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। শিবালয় ও ঘিওর উপজেলার প্রায় ৭৭০ মিটার এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন প্রতিরোধের কাজ চলছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আরও প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মানিকগজ্ঞ-১ আসনের সংসদ সদস্য এস এ জিন্নাহ কবীরের নিদেশে জরুরী ভিত্তিতে পাটুরিয়া ৫ নং ফেরিঘাট এলাকায়, বাঘুটিয়া, বাচামারা, চরকাটারী, ঘিওর কুস্তা,
পানি উন্নয়ন বোর্ড জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙ্গন রোধে কাজ করছে । পানি উন্নয়ন বোর্ড নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আক্তারুজ্জামান জানান, নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় ভাঙনের ঝুঁকিও বাড়ছে। ক্ষয়ক্ষতি কমাতে পাটুরিয়া ৫ নম্বর ফেরিঘাট সংলগ্ন বরুরিয়া এলাকায় ৩৫০ মিটার, স্যোশাল প্যান্ড এলাকায় ৩০০ মিটার, দৌলতপুরের বাঘুটিয়া ৩০০ এবং ঘিওর কুস্তা এলাকায় ১২০ মিটার এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছে। এছাড়া জেলার অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ স্থানও চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তিনি আরও জানান, নদীভাঙনের স্থায়ী সমাধানে একটি বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর আগে গত ১৭ মে পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ পাটুরিয়া ফেরিঘাট এলাকা পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের জানান, নদীভাঙন রোধে প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে এ অঞ্চলের নদীভাঙন সমস্যার দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এ দিকে উপেজলা নিবাহী অফিসার নাহিয়ান নুরেন জানান, সরকারি ভাবে পানি উন্নয়ন বোর্ড জরুরী ভিত্তিতে ভাঙ্গন রোধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। যমুনা নদীর স্রোত এতো বেশি জিও ব্যাগ ফেলে রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড চেস্টা করে যাচ্ছে চরকালিকাপুর শুকুরিয়া দাখিল মাদ্রাসা রক্ষা করার।
রবিবার (৫ জুলাই) পানি উন্নয়ন বোর্ড নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আক্তারুজ্জামান, উপেজলা নিবাহী অফিসার নাহিয়ান নুরেন পরিরদশন করেছেন ।
এদিকে স্থানীয়দের দাবি, জিও ব্যাগ ফেলে আপাতত ভাঙন কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হলেও স্থায়ী নদীশাসন প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে প্রতি বর্ষা মৌসুমেই একই ধরনের দুর্ভোগের শিকার হতে হবে নদীতীরবর্তী হাজারো মানুষকে।
ছবি: সংগৃহীত
চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার পাহাড়ি এলাকার কয়েকটি গ্রামে ধান ও পাকা কাঁঠালের সন্ধানে প্রায় প্রতিরাতেই হানা দিচ্ছে বন্যহাতির পাল। এতে নির্ঘুম রাত কাটছে স্থানীয়দের। হাতির তাণ্ডবে বসতবাড়ির সীমানা প্রাচীর, গাছপালা ও ফসলের ক্ষতি হচ্ছে। স্থায়ী সমাধানে সরকারি উদ্যোগের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয়রা জানান, গত এক সপ্তাহ ধরে উপজেলার জ্যৈষ্ঠপুরা, ধোরলা ও করলডেঙ্গা গ্রামে প্রায় প্রতি রাতেই লোকালয়ে নেমে আসছে বন্যহাতির পাল। গত শনিবার (৪ জুলাই) রাত ২টার দিকে জ্যৈষ্ঠপুরার ফতেয়ারখীল এলাকায় স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য মো. জাহাঙ্গীর আলমের বাড়ির সীমানা প্রাচীর ভেঙে ফেলে দুটি হাতি। এ সময় সবজিক্ষেত ও গাছপালাও নষ্ট হয়। এতে প্রায় অর্ধ লাক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ভোরে একই এলাকার আবু সুফিয়ানের বাড়ির আঙিনায় ঢুকে গাছের পাকা কাঁঠাল খেয়ে যায় বন্যহাতির একটি দল।
শ্রীপুর-খরণদ্বীপ ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান হাসান চৌধুরী বলেন, প্রতিদিনই হাতির পাল লোকালয়ে নেমে এসে ক্ষয়ক্ষতি করছে। এতে গ্রামবাসীর মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটতে পারে।
তিনি বলেন, বর্ষা মৌসুমে হাতি তাড়ানো কঠিন হয়ে পড়ে। এখন মশাল দেখিয়েও হাতিকে ভয় দেখানো যায় না। ফলে প্রচলিত উপায়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলাও সম্ভব হচ্ছে না।
ইলিফ্যান্ট রেসকিউ টিমের সদস্য আবু সুফিয়ান বলেন, পাহাড়ে খাদ্যের সংকট দেখা দেওয়ায় হাতিরা লোকালয়ে চলে আসছে। তারা মূলত গোলায় রাখা ধান ও গাছের পাকা কাঁঠালের সন্ধানে গ্রামে ঢুকছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মেহেদী হাসান ফারুক বলেন, হাতির পাল লোকালয়ে আসার খবর পেলে ফায়ার সার্ভিসের টিম পাঠানো হয়। তারা সাইরেন বাজিয়ে হাতির পালকে বনে ফিরে দেওয়া যায় চেষ্টা করে। ইতোমধ্যে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তাদের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করে বনবিভাগ থেকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।
ছবি: সংগৃহীত
খুলনা জেলার কৃষিতে ডুমুরিয়ায় গ্রীষ্মকালীন ইউনাইটেডসহ বিভিন্ন কোম্পানির তরমুজ চাষ যুক্ত হয়েছে। যা একটি নতুন ও সম্ভাবনাময় ফসল। অল্প সময়ে ফসল তোলা যায়, উৎপাদন খরচ কম এবং উচ্চ ফলনশীল সংকর জাতের কারণে জেলার কৃষকদের মধ্যে গ্রীষ্মকালীন তরমুজ চাষের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে।
ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, উপজেলায় ৩শ ১৫ একর জমিতে গ্রীষ্মকালীন সবজি চাষ করা হচ্ছে। এর মধ্যে বরবটি, ঝিঙে, চিচিঙ্গা, করলা, লতিকচু, মিষ্টিকুমড়াসহ বিভিন্ন সবজি চাষ করা হলেও, এই জেলায় কৃষি অফিসের সহযোগিতায় এ অঞ্চল কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থায়নে গ্রীষ্মকালীন তরমুজ চাষ করা হয়েছে।
মাঠ পর্যায়ে পরিদর্শনে দেখা গেছে, ডুমুরিয়া সদর উপজেলার শোভনা, খর্নিয়া, সাহস, শরাফপুর ইউনিয়নের চাদগড় সুন্দর মহল, কালিকাপুর গ্রামের রেজাউন তার ৩৩ শতাংশ জমিতে মালচিং পদ্ধতিতে 'স্মার্ট বয়' নামক হাইব্রিড তরমুজ চাষ করেছেন। চারা রোপণের ৬০-৬৫ দিনের মধ্যেই তার জমিতে ফসল চলে আসে। এ অঞ্চল কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে উপজেলা কৃষি অফিস থেকে বীজ, সার, কীটনাশক ও অন্যান্য উপকরণের জন্য নগদ অর্থ পেয়েছেন।
তিনি বলেন, "আমি ৩ বছর আগে সৌদি আরব থেকে এসে গ্রামে বাণিজ্যিক কৃষি কাজ শুরু করি। আমি টমেটো, মরিচ, বেগুন ও এগপ্ল্যান্ট-এর মতো উচ্চ ফলনশীল ফসল উৎপাদন করে আসছি। কিন্তু এই প্রথম আমি কৃষি অফিসের পরামর্শে গ্রীষ্মকালীন তরমুজ চাষ করেছি।"
আমি এগুলো বাজারে পাইকারিভাবে প্রতি কেজি ৬০-৭০ টাকায় বিক্রি করেছি। আমি ৩৩শতাংশ জমি থেকে ২লক্ষ, টাকার তরমুজ বিক্রি করেছি। কৃষক রেজাউল বলেছেন যে, আমার সমস্ত খরচ বাদ দেওয়ার পর প্রায় ১লক্ষ ৫০ হাজার টাকা আয় হয়েছে,” তিনি বলেন “পরের বার আমি এই গ্রীষ্মকালীন তরমুজ বড় আকারে চাষ করার ইচ্ছা রাখি”, তিনি আরও যোগ করেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ নাজমুল হুদা বলেন, "জলবায়ু-সহনশীল ও গ্রীষ্মকালীন উচ্চ ফলনশীল ফসলের চাষ সম্প্রসারণের মাধ্যমে এই ধরনের প্রদর্শনী কার্যক্রম কৃষকদের আয় বাড়াতে এবং কৃষিকে আরও লাভজনক করে তুলবে। প্রকল্পটির সফল বাস্তবায়ন কৃষকদের মধ্যে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর তরমুজ চাষের প্রতি আগ্রহ বাড়িয়েছে এবং আশা প্রকাশ করেন যে, এটি ভবিষ্যতে বৃহত্তর পরিসরে এই ফসলের চাষ সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।"
ইউনাইটেড সীড কোম্পানি লিমিটেডের মার্কেটিং সেলস অফিসার পলাশ মল্লিক বলেন, "কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কৃষকদের আয় বাড়ানোর লক্ষ্যে কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের অধীনে খুলনা জেলায় ডুমুরিয়া উপজেলার একটি তরমুজ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। প্রদর্শনীতে উন্নত জাত এবং আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে কৃষকরা প্রত্যাশিত ফলন পাচ্ছেন এবং আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন।"
ছবি: সংগৃহীত
গাজীপুরের টঙ্গীর তুরাগ নদে গোসল করতে নেমে সাঁতার কাটতে গিয়ে শামীম (১১) ও আফনান (১৩) নামে দুই কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। রোববার (৫ জুলাই) টঙ্গীর মিরাশ পাড়া এলাকায় তুরাগ নদে এই ঘটনা ঘটে।
খবর পেয়ে লাশ উদ্ধার করেছে টঙ্গী ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দল।
নিহতরা হলেন, টঙ্গীর পূর্ব আরিচপুর বউ বাজার এলাকার আনিসুর রহমানের ছেলে শামীম মিয়া ও একই এলাকার সাইফুল ইসলামের ছেলে আফনান। তারা উভয়ই টঙ্গীর সিরাজ উদ্দিন সরকার বিদ্যানিকেতনের ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, বেলা ১১টার দিকে খেলাধুলা করে নদীতে গোসল করতে নামেন তিন বন্ধু শামীম, আফনান ও শীপন। এ সময় সাঁতার কাটতে গিয়ে দুই বন্ধু তলীয়ে গেলে অপর বন্ধু শীপন দ্রুত নদী থেকে উঠে স্থানীয়দের খবর দেয়। পরে স্থানীয়রা ফায়ার সার্ভিসে খবর দিলে ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পোঁছে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে দুই কিশোরের লাশ উদ্ধার করে।
এ বিষয়ে টঙ্গী ফায়ার সার্ভিসের জেষ্ঠ কর্মকর্তা শাহীন আলম বলেন, ‘খবর পেয়ে টঙ্গী ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল তুরাগ নদ থেকে দুই কিশোরের লাশ উদ্ধার করেছে।’
এ বিষয়ে টঙ্গী নৌপুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক মো. ফিরোজ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’
ছবি: সংগৃহীত
ভেপসা গরমের মধ্যে হঠাৎই আকাশের রঙ বদলে যায়, শুরু হয় গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি, পাশাপাশি চলছিল আমাদের গল্প আড্ডা। এদিকে থরে থরে সাজানো হয়েছে বাহারি রকমের মৌসুমি ফল। বলছিলাম চবিসাসের গল্পে আড্ডায় সাংবাদিকতা ও ফল উৎসবের কথা।
সংবাদ সংগ্রহের ব্যস্ততা, ক্যামেরার ফ্রেম, নোটবুকের পাতায় ছুটে চলাই একজন ক্যাম্পাস সাংবাদিকের প্রতিদিনের গল্প। কিন্তু সেই ব্যস্ততার মাঝেও যদি কিছু সময় থেমে নিজেদের অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করা যায়, প্রবীণদের কাছ থেকে শেখা যায় আর সঙ্গে থাকে মৌসুমি ফলের মিষ্টি আয়োজন তবে সেটি কেবল একটি অনুষ্ঠান থাকে না, হয়ে ওঠে শিক্ষা ও সম্প্রীতির মিলনমেলা।
এমনই এক ব্যতিক্রমী আয়োজন করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (চবিসাস), ‘গল্পে আড্ডায় সাংবাদিকতা ও ফল উৎসব–২০২৬’। এ আয়োজন ছিল একই সঙ্গে সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতা বিনিময়ের আসর এবং সৌহার্দ্যের এক প্রাণবন্ত উৎসব।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মুহূর্তটাকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছিলেন চবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান। তিনি ক্যাম্পাস সাংবাদিকদের স্বাধীনতা নিয়ে কথা বলেন, স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রেখে পেশাগত দায়িত্ব অব্যাহত রাখার আহবান জানান।
অনুষ্ঠানের সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশ ছিল ‘গল্পে আড্ডায় সাংবাদিকতা’। সেখানে বক্তা হিসেবে ছিলেন চবিসাসের সাবেক সভাপতি ওমর ফারুক এবং চবিসাসের সাবেক সদস্য ও চবির প্রভাষক মীর হোসেন মজুমদার।
তাদের আলোচনায় উঠে আসে সংবাদ সংগ্রহের অজানা গল্প, মাঠপর্যায়ের বাস্তব অভিজ্ঞতা, সাংবাদিকতার নৈতিকতা, তথ্য যাচাইয়ের গুরুত্ব এবং ডিজিটাল যুগে ক্যাম্পাস সাংবাদিকতার নতুন চ্যালেঞ্জ।
আলোচনায় অংশ নেওয়া তরুণ সাংবাদিকদের মতামত এবং অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি পুরো পরিবেশকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। মনে হচ্ছিল, এটি কোনো আনুষ্ঠানিক সেমিনার নয়; বরং এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মের হাতে অভিজ্ঞতা তুলে দেওয়ার আন্তরিক আয়োজন।
আলোচনা শেষে অতিথি ও সাংবাদিকদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয় ফল উৎসব। দেশীয় বাহারি রকমের মৌসুমি ফল ভাগাভাগি করে খাওয়ার মধ্য দিয়ে তৈরি হয় এক উষ্ণ, আন্তরিক, সৌহার্দপূর্ণ পরিবেশ। অনানুষ্ঠানিক আলাপচারিতায় যেন দূরত্বের দেয়াল ভেঙে যায়, গড়ে ওঠে পারস্পরিক সৌহার্দ্যের নতুন সেতুবন্ধন।
চবিসাসের সভাপতি রেফায়েত উল্যাহ রুপক সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। ক্যাম্পাসের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি।
দিনশেষে আয়োজনটি প্রমাণ করেছে, সাংবাদিকতা শুধু সংবাদ সংগ্রহের পেশা নয়; এটি শেখার, ভাবনার, সম্পর্ক গড়ে তোলার এবং সত্যের প্রতি দায়বদ্ধ থাকার এক নিরন্তর যাত্রা। সেই যাত্রার নবীন প্রবীণের মধ্যকার সম্পর্ক যেন গড়ে ওঠে নতুনভাবে, নতুন আঙ্গিকে।
ছবি: সংগৃহীত
নীলফামারী জেলা পুলিশের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য মাস্টার প্যারেড অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (৫ জুলাই) সকালে নীলফামারী পুলিশ লাইন্স মাঠে বিভিন্ন পদমর্যাদার কর্মকর্তা ও সদস্যদের অংশগ্রহণে এ প্যারেড অনুষ্ঠিত হয়।
প্যারেড পরিদর্শন ও অভিবাদন গ্রহণ করেন পুলিশ সুপার মো. ফরহাদ হোসেন খাঁন। পরে তিনি কর্মকর্তা ও সদস্যদের উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন এবং শৃঙ্খলা, পেশাদারিত্ব ও জনসেবার মানসিকতা নিয়ে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।
প্যারেডে কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেন আর.আই. (ভারপ্রাপ্ত) মো. আব্দুল মতিন মোল্লা। এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মোহসিন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (নীলফামারী সার্কেল) মো. ফারুক আহমেদ, পিপিএম-সেবা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সৈয়দপুর সার্কেল) এ.কে.এম. ওহিদুন্নবীসহ জেলা পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্যারেড শেষে পুলিশ সুপার পুলিশ লাইন্সের মোটরযান শাখা ও অস্ত্রাগার পরিদর্শন করে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
জেলা পুলিশের মাসিক কল্যাণ সভা : রোববার (৫ জুলাই) নীলফামারী পুলিশ লাইন্সের ড্রিল শেডে জেলা পুলিশের মাসিক কল্যাণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন পুলিশ সুপার মো. ফরহাদ হোসেন খাঁন। তিনি পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন পদমর্যাদার পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যদের সুবিধা-অসুবিধার কথা শোনেন এবং সেগুলো দ্রুত সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন।
এ সময় পুলিশ সুপার কর্মকর্তা ও সদস্যদের উদ্দেশে শৃঙ্খলা, পেশাদারিত্ব, দায়িত্বশীলতা এবং জনসেবার মানসিকতা বজায় রেখে দায়িত্ব পালনের বিষয়ে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন। সভায় নীলফামারী জেলা পুলিশের সকল পর্যায়ের কর্মকর্তা ও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
ছবি: সংগৃহীত
জাতীয় পর্যায়ে ঘোষিত ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬–২০২৭’ উদযাপন উপলক্ষে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়েছে।
গত শনিবার (৪ জুলাই) বিকালে উপজেলা ৫০০ আসন বিশিষ্ট অডিটোরিয়াম কাম মাল্টিপারপাস হলরুমে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এক জমকালো অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এই উৎসবের সমাপ্তি হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ১৪৬ ময়মনসিংহ-১ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য সালমান ওমর রুবেল।
হালুয়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফয়সাল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) জাকিয়া সুলতানা রোজী, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আসলাম মিয়া বাবুল, ব্যাবসায়ী উন্নয়ন সমিতির সভাপতি নাদিম আহমদ। এছাড়াও স্থানীয় সরকারি কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সাংস্কৃতিক কর্মী, শিক্ষক ও সাংবাদিকরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় সংসদ সদস্য সালমান ওমর রুবেল বলেন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম শুধু বিদ্রোহের কবি নন, তিনি সাম্য, মানবতা, অসাম্প্রদায়িকতা ও সম্প্রীতির প্রতীক। উনার সাধারণ জীবন যাবন প্রমাণ করে উনি অসাধারণ এর সাধারণ। উনার জীবনী থেকে আমাদের অনেক শিক্ষার আছে। বিদ্রোহী কবি নজরুলকে বিশ্বব্যাপী আরও সুপরিচিত করতে ‘নজরুল বর্ষ’ উদযাপন দারুণ ভূমিকা রাখবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের বই ও গাছ উপহার দেওয়া হয়।
মন্তব্য