× হোম রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া সিটিজেন জার্নালিজম বিচিত্র ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য আফগানিস্তান ১৫ আগস্ট কী-কেন স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও যৌনতা-প্রজনন ইউরোপ অন্যান্য উদ্ভাবন প্রবাসী আফ্রিকা ক্রিকেট শারীরিক স্বাস্থ্য আমেরিকা দক্ষিণ এশিয়া সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ মানসিক স্বাস্থ্য ব্লকচেইন অন্যান্য ভাষান্তর ফুটবল অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

বাংলাদেশ
Even though the production of the national jute mill is stopped the monthly expenditure of the government is Tk 70 lakh
google_news print-icon

জাতীয় জুট মিলের উৎপাদন বন্ধ থাকলেও মাসে সরকারের ব্যয় ৭০ লাখ টাকা

জাতীয়-জুট-মিলের-উৎপাদন-বন্ধ-থাকলেও-মাসে-সরকারের-ব্যয়-৭০-লাখ-টাকা
ছবি: সংগৃহীত

উৎপাদন নেই, তবুও থেমে নেই ব্যয়। দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা সিরাজগঞ্জের জাতীয় জুট মিলের নিরাপত্তা, রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রশাসনিক কার্যক্রম চালাতে সরকারের প্রতি মাসে ব্যয় হচ্ছে প্রায় ৬৫ থেকে ৭০ লাখ টাকা। বছরে এই ব্যয়ের পরিমাণ দাঁড়াচ্ছে ৮ কোটিরও বেশি, অথচ উৎপাদন থেকে সরকারের কোনো আয় নেই। এদিকে কোটি কোটি টাকার যন্ত্রপাতিতে মরিচা ধরছে, আর কর্মহীন হয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন হাজারো শ্রমিক।

একসময় উত্তরবঙ্গের অন্যতম বৃহৎ শিল্পপ্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত জাতীয় জুট মিলকে ঘিরে গড়ে উঠেছিল প্রায় পাঁচ হাজার মানুষের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থান। জেলার অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত এই রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল আজ বন্ধের তালায় বন্দি। ফলে শ্রমিক, কৃষক ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে মিলটি দ্রুত চালুর দাবি দিন দিন জোরালো হচ্ছে।

জানা যায়, ১৯৬০ সালে সিরাজগঞ্জ পৌরসভার রায়পুর এলাকায় প্রায় ৭৫ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত হয় নর্দান পিপলস জুট মিল। স্বাধীনতার পর জাতীয়করণের মাধ্যমে এর নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় কওমি জুট মিল, পরে যা জাতীয় জুট মিল নামে পরিচিতি পায়। একসময় প্রতি মাসে ৫০ থেকে ৬০ টন পাট সংগ্রহ করে বিভিন্ন ধরনের পাটজাত পণ্য উৎপাদন করা হতো। দেশীয় চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি এসব পণ্য বিদেশেও রপ্তানি করা হতো।

দীর্ঘদিন লাভজনকভাবে চললেও দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও আর্থিক সংকটের কারণে ২০০৭ সালে প্রথমবার উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। শ্রমিকদের আন্দোলনের মুখে ২০১১ সালে পুনরায় চালু হলেও সংকট কাটেনি। পরে ২০২০ সালের ১ জুন লোকসান, ঋণের বোঝা ও কাঁচামাল সংকটের অজুহাতে আবারও উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করা হয়। ২০২২ সালে কুষ্টিয়ার রশিদ গ্রুপ ২০ বছরের জন্য মিলটি লিজ নিয়ে উৎপাদন শুরু করলেও শ্রমিকদের বেতন-ভাতা ও বোনাস বকেয়া রেখেই ২০২৪ সালে কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়।

জাতীয় জুট মিল সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে উৎপাদন বন্ধ থাকলেও মিলটির নিরাপত্তা, যন্ত্রপাতি সংরক্ষণ ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ১৮৯ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের বেতন-ভাতা, বিদ্যুৎ বিল ও অন্যান্য প্রশাসনিক ব্যয় মিলিয়ে প্রতি মাসে সরকারের খরচ হচ্ছে প্রায় ৬৫ থেকে ৭০ লাখ টাকা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব, দলীয়করণ, দুর্নীতি ও লুটপাটের কারণেই বারবার বন্ধের মুখে পড়েছে এই শিল্পপ্রতিষ্ঠান। তাদের মতে, দ্রুত মিলটি চালু করা গেলে যেমন হাজারো শ্রমিকের কর্মসংস্থান হবে, তেমনি পাটচাষিরাও তাদের উৎপাদিত পাটের ন্যায্য মূল্য পাবেন। এতে স্থানীয় অর্থনীতিও ফিরে পাবে নতুন গতি।

সাবেক শ্রমিক রতন আলী বলেন, মিল চালু থাকাকালে প্রতি সপ্তাহে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা আয় করতেন। বর্তমানে ঘটকালি ও সামান্য কৃষিকাজ করে কোনোমতে সংসার চালাতে হচ্ছে।

আরেক শ্রমিক বেলাল হোসেন বলেন, জুট মিলই ছিল পরিবারের প্রধান আয়ের উৎস। মিল বন্ধ হওয়ার পর বিভিন্ন অস্থায়ী কাজ করে কষ্টে দিন কাটছে। মিল পুনরায় চালু হলে পুরনো শ্রমিকদের অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি জানান তিনি।

সিরাজগঞ্জ জেলা শ্রমিক দলের (ভারপ্রাপ্ত) সভাপতি বিশা শেখ বলেন, জাতীয় জুট মিল শুধু একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠান নয়, এটি জেলার অর্থনীতি, পাটচাষি ও হাজারো শ্রমিকের জীবিকার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। মিলটি চালু হলে কর্মসংস্থান বাড়বে, কৃষক ন্যায্যমূল্য পাবেন এবং পরিবেশবান্ধব পাটপণ্যের উৎপাদনও বৃদ্ধি পাবে।

জাতীয় জুট মিলের মজদুর ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি আনোয়ার হোসেন বলেন, সরকারের উচিত দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নিয়ে মিলটি পুনরায় চালু করা। এতে শ্রমিক, কৃষক, ব্যবসায়ী এবং স্থানীয় অর্থনীতি সবাই উপকৃত হবে।

সিরাজগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান বাচ্ছু বলেন, জাতীয় জুট মিল জেলার অর্থনীতি, শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানের অন্যতম ভিত্তি। দীর্ঘদিন ধরে মিলটি বন্ধ থাকায় শুধু হাজারো শ্রমিকই কর্মহীন হননি, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন পাটচাষি, ব্যবসায়ী, পরিবহন খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং স্থানীয় অর্থনীতির ওপর নির্ভরশীল অসংখ্য মানুষ। বর্তমান সময়ে পরিবেশবান্ধব পাটপণ্যের বিশ্ববাজারে চাহিদা বাড়ছে। তাই সরকারের উচিত দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নিয়ে জাতীয় জুট মিল পুনরায় চালু করা। এতে একদিকে যেমন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, অন্যদিকে পাটচাষিরা তাদের উৎপাদিত পাটের ন্যায্যমূল্য পাবেন এবং সিরাজগঞ্জের অর্থনীতিও নতুন করে প্রাণ ফিরে পাবে।

জাতীয় জুট মিলের মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন জানান, মিলটি বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশনের (বিজেএমসি) অধীনে রয়েছে। বর্তমানে ১৮৯ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী মিলটির দেখভালের দায়িত্বে রয়েছেন। তাদের বেতন, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য খাতে প্রতি মাসে প্রায় ৬৫ থেকে ৭০ লাখ টাকা ব্যয় হচ্ছে। তবে নতুন করে লিজ দেওয়ার উদ্যোগ চলছে। উপযুক্ত বিনিয়োগকারী পাওয়া গেলে পুনরায় উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হবে। এছাড়া দেশের কয়েকটি রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল পুনরায় চালুর বিষয়েও সরকারের উদ্যোগ রয়েছে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

চার বছর ধরে বন্ধ পড়ে থাকা জাতীয় জুট মিল এখন শুধু একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠান নয়, এটি হাজারো পরিবারের স্বপ্ন, জীবিকা এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষার এক বড় পরীক্ষার নাম। এখন প্রশ্ন একটাই নতুন লিজের মাধ্যমে কি আবারও ঘুরবে জাতীয় জুট মিলের উৎপাদনের চাকা, নাকি কোটি কোটি টাকার যন্ত্রপাতি মরিচা ধরেই ইতিহাসের অংশ হয়ে থাকবে?

মন্তব্য

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ
Expatriate Shafiul Alams body in a coffin came to the country 15 days after his death

প্রবাসী শফিউল আলমের কফিনবন্দি লাশ দেশে এলো মৃত্যুর ১৫ দিন পর

প্রবাসী শফিউল আলমের কফিনবন্দি লাশ দেশে এলো মৃত্যুর ১৫ দিন পর ছবি: সংগৃহীত

মৃত্যুর ১৫ দিন পর প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে শনিবার (৪ জুলাই) সৌদি আরব থেকে একটি বিমানে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রবাসী শফিউল আলমের মরদেহ পৌঁছায়। এ সময় পরিবারের সদস্যরা কফিন গ্রহণ করেন।

শফিউল আলম সীতাকুণ্ড উপজেলার ভাটিয়ারী ইউনিয়নের মাদামবিবির হাট খাদেমপাড়া গ্রামের মৃত আরিফুর রহমানের ছেলে।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ১৮ জুন সৌদি আরব সময় রাত প্রায় ২টার দিকে হঠাৎ করে তার বুকে তীব্র ব্যথা অনুভূত হয়। সহকর্মীরা দ্রুত তাকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল মাত্র ৫৫ বছর।

তার মৃত্যুতে স্ত্রী, তিন কন্যা ও একমাত্র পুত্র সন্তানসহ স্বজনরা ভেঙে পড়েছেন। যে মানুষটি বছরের পর বছর প্রিয়জনদের মুখে হাসি ফোটাতে প্রবাসে কঠোর পরিশ্রম করেছেন, সেই মানুষটির নিথর দেহ দেশে ফিরবে— এমন বাস্তবতা মেনে নিতে প্রস্তুত ছিলেন না পরিবারের সদস্যরা।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শফিউল আলম ছিলেন অত্যন্ত সৎ, পরিশ্রমী ও বিনয়ী একজন মানুষ। এলাকার বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডেও তার অবদান ছিল। প্রবাসে থেকেও তিনি গ্রামের মানুষের খোঁজখবর নিতেন এবং অসহায়দের সহযোগিতা করতেন।

এলাকাবাসী বলেন, ‘শফিউল ভাই আগামী মাসে দেশে আসবেন বলে পরিবারের সবাই অপেক্ষায় ছিল। সন্তানরা বাবাকে বরণ করে নেওয়ার স্বপ্ন দেখছিল। কিন্তু সেই অপেক্ষা আজ পরিণত হয়েছে শোকে।’

নিহত শফিউল আলমের মেয়ের জামাই মামুনুর রশিদ বলেন, ‘আমার শ্বশুর সৌদি আরবে মারা যান। দূতাবাসের মাধ্যমে তার মরদেহ দেশে আনা হয়েছে। গতকাল শনিবার দুপুরে জোহরের নামাজের পর উপজেলার মাদাম বিবির হাট খাদেম পাড়ায় মরহুম শফিউল আলমের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Inauguration of modern and sustainable dumping station in Madaripur municipality

মাদারীপুর পৌরসভায় আধুনিক ও টেকসই ডাম্পিং ষ্টেশনের উদ্বোধন

মাদারীপুর পৌরসভায় আধুনিক ও টেকসই ডাম্পিং ষ্টেশনের উদ্বোধন ছবি: সংগৃহীত

প্রথম শ্রেণির মাদারীপুর পৌরসভায় দীর্ঘদিনের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে সড়কের পাশে দুর্গন্ধ ছড়ানো বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সমস্যার সমাধানের লক্ষ্যে আধুনিক ও টেকসই ডাম্পিং ষ্টেশনের উদ্বোধন করা হয়েছে। শনিবার (৪ জুলাই) সকালে মাদারীপুর পৌরসভা প্রশাসক (উপসচিব) জেসমিন আক্তার বানুকে সাথে নিয়ে এর উদ্বোধন করেন মাদারীপুর সদর-২ আসনের সংসদ সদস্য জাহান্দার আলী মিয়া।

এসময় উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াদিয়া শাবাব, পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা আবু আহম্মেদ মো. ফিরোজ ইলিয়াস, জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক (সাবেক) নজরুল ইসলাম লিটু, যুগ্ম-আহবায়ক মিজানুর রহমান মুরাদ, উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট গুলজার আহম্মেদ চিশতী, কৃষকদল নেতা অহিদ খান, স্বেচ্ছাসেকদল নেতা শাহাদাত হোসেন সহ গণমাধ্যম কর্মী এবং বিএনপির অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

মাদারীপুরের সদরের ঝাউদি ইউনিয়নের চরব্রাম্মন্দিতে মাদারীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে পৌরসভার অনুকূলে হস্তানকৃত প্রায় তিন একর জায়গায় ৬২ কোটি টাকা ব্যয়ে আধুনিক এই ডাম্পিং ষ্টেশনটির কাজ উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথি এমপি জাহান্দার আলী মিয়া বলেন, দীর্ঘদিন যাবত মাদারীপুর পৌরবাসী জনাকীর্ণ জায়গায় সড়কের পাশে অপরিকল্পিতভাবে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কষ্ট পাচ্ছিলেন, তার থেকে পৌরবাসিকে পরিত্রাণের লক্ষ্যে বর্তমান সরকারের গৃহীত অন্যান্য কর্মসূচির পাশাপাশি আধুনিক ও টেকসই এই ডাম্পিং ষ্টেশনের কাজটি উদ্বোধন করা হলো, এটির নির্মান কাজ সম্পন্ন হলে মানুষের আর দূর্গন্ধ সহ্য করতে হবে না ও নানাবিধ রোগবালাই থেকে পরিত্রাণ পাবে।

পৌর প্রশাসক জেসমিন আক্তার বানু তার বক্তব্যে বলেন, সরকারের গৃহীত উন্নয়ন কর্মসূচির সুফল যাতে মানুষ ভোগ করতে পারে সেজন্য মাদারীপুর পৌরসভা সম্পূর্ণ আন্তরিকভাবে কাজ করছে। তিনি এসময় প্রধান অতিথি এমপি জাহান্দার আলী মিয়াসহ উপস্থিত সবাইকে এমন উন্নয়ন কাজের সহযোগিতা করার জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Decision to set up a permanent police post in the abduction prone area of ​​Teknaf   

টেকনাফের অপহরণপ্রবণ এলাকায় স্থায়ী পুলিশ চৌকি স্থাপনের সিদ্ধান্ত   

টেকনাফের অপহরণপ্রবণ এলাকায় স্থায়ী পুলিশ চৌকি স্থাপনের সিদ্ধান্ত    ছবি: সংগৃহীত

কক্সবাজারের টেকনাফের পাহাড়ঘেঁষা বাহারছড়া এলাকায় অপহরণ, মুক্তিপণ, মাদক ও মানবপাচার দমনে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের সলিমপুর পাহাড়ে পরিচালিত অভিযানের আদলে বিশেষ যৌথ অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অপহরণপ্রবণ এলাকায় স্থায়ী পুলিশ চৌকি স্থাপন, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে চিরুনি অভিযান এবং রোহিঙ্গাদের অনিয়ন্ত্রিত চলাচল নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে।

শনিবার (৪ জুলাই) কক্সবাজারের টেকনাফে অনুষ্ঠিত চার ঘণ্টাব্যাপী বিশেষ আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় এসব সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন কক্সবাজার জেলা প্রশাসক আবদুল মান্নান। প্রধান অতিথি ছিলেন কক্সবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী। এ ছাড়া পুলিশ, বিজিবি, উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় বাহারছড়ার বর্তমান পরিস্থিতিকে গুরুত্ব দিয়ে আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা এলাকাটিকে সন্ত্রাসী ও অপহরণকারী চক্রের দখলমুক্ত করতে দ্রুত সমন্বিত যৌথ অভিযান পরিচালনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে অপহরণপ্রবণ এলাকায় পুলিশ টহল ও নজরদারি বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়।

সভা শেষে সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের ব্যবহার করে সংঘটিত অপহরণ, মাদক ও অন্যান্য অপরাধ দমনে দ্রুত যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হবে। অপরাধীরা যাতে সহজে জামিনে বের হয়ে পুনরায় অপরাধে জড়াতে না পারে, সে জন্য কার্যকর আইনগত উদ্যোগও নেওয়া হবে।’

এদিকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা রোহিঙ্গাদের অবৈধ জাতীয় পরিচয়পত্র শনাক্ত, মোবাইল আর্থিক সেবার অপব্যবহার বন্ধ এবং অপহরণকারী ও মানবপাচারকারী চক্রের তালিকা তৈরি করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। সভায় টেকনাফকে অপরাধমুক্ত, নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ জনপদ হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Safe Khulna chair human chain was held to prevent the spread of drugs in Dumuria

ডুমুরিয়ায় মাদকের বিস্তার রোধে ‘নিরাপদ খুলনা চাই’র মানববন্ধন অনুষ্ঠিত

ডুমুরিয়ায় মাদকের বিস্তার রোধে ‘নিরাপদ খুলনা চাই’র মানববন্ধন অনুষ্ঠিত ছবি: সংগৃহীত

খুলনার ডুমুরিয়া অঞ্চলে মাদকদ্রব্যের ভয়াবহ বিস্তার রোধ, তরুণ সমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা এবং একটি সুস্থ-সুন্দর সমাজ গঠনের লক্ষ্যে এক বিশাল মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৪ জুলাই) সামাজিক সংগঠন ‘নিরাপদ খুলনা চাই’ ডুমুরিয়া উপজেলা কমিটির উদ্যোগে ডুমুরিয়া বাসস্ট্যান্ড চত্বরে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

নিরাপদ খুলনা চাই ডুমুরিয়া উপজেলা কমিটির সদস্য সচিব শেখ ফরহাদ হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট সমাজসেবক এবং সংগঠনের উপজেলা আহ্বায়ক মো. শাহজাহান জোমাদ্দার, মাদক নির্মূলে একাট্টা জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় প্রশাসন।

সমাবেশে প্রধান অতিথি সাবেক উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান গাজী আব্দুল হালিম বলেন, ‘মাদক একটি পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে নীরবে ধ্বংস করে দিচ্ছে। আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বাঁচাতে হলে দল-মত নির্বিশেষে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। ডুমুরিয়াকে যেকোনো মূল্যে মাদকমুক্ত করতে প্রশাসনকে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করতে হবে।’

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ‘নিরাপদ খুলনা চাই’-এর খুলনা জেলা সভাপতি সরদার বাদশা বলেন, ‘মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। আমরা প্রশাসনিক অভিযানের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বাড়াতে সব ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছি।’

অনুষ্ঠানের এবং নিরাপদ সড়ক চাই’র সভাপতি মো. শাহজান জমাদার তার বক্তব্যে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ‘মাদকের অভয়ারণ্য ডুমুরিয়াতে হতে দেওয়া হবে না। যারা এই ব্যবসার সঙ্গে জড়িত, তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।’ এ সময় পুলিশকে সঠিক তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি। আরও বক্তব্য রাখেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. মো. আব্দুল মান্নান, নিরাপদ খুলনা চাই’র জেলা সভাপতি সরদার বাদশা, সাধারণ সম্পাদক শেখ মো. ওলিয়ার রহমান, ডুমুরিয়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শেখ মাহতাব হোসেন, খুলনা জেলা ঠিকাদার কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক শেখ বদরুজ্জামান বাবলু, রঞ্জন সরদার মো. ওলিয়ার রহমান, অ্যাড. মমিনুর রহমান নয়ন, বিএনপি নেতা শেখ শাহিনুর রহমান, আজিজুর রহমান মোড়ল, ডুমুরিয়া বাজার কমিটির সভাপতি শেখ মাহাবুবুর রহমান, হাফেজ মতিয়ার রহমান, মাওলানা তৌফিকুল রহমান, নুর মোহাম্মদ শেখ ও মো. ফারুক শেখসহ প্রমুখ।

মন্তব্য

বাংলাদেশ
97 Crore bridge of Ariyal Khan River in Shivchar is at risk of erosion

শিবচরে ‘আড়িয়াল খাঁ নদী’ ভাঙন ঝুঁকিতে ৯৭ কোটি টাকার সেতু

শিবচরে ‘আড়িয়াল খাঁ নদী’ ভাঙন ঝুঁকিতে ৯৭ কোটি টাকার সেতু ছবি: সংগৃহীত

মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার উৎরাইল-শিবচর সড়কে আড়িয়াল খাঁ নদের ওপর নির্মিত ৯৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ‘লিটন চৌধুরী’ সেতুর পশ্চিম প্রান্তে তীব্র নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। সেতুর একটি পিলার ও সংযোগ সড়কের অতি কাছ পর্যন্ত ভাঙন পৌঁছে যাওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে গুরুত্বপূর্ণ এ সেতুটি মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।

শিবচর উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, ৫৫০ মিটার দীর্ঘ দৃষ্টিনন্দন সেতুটি ২০২৩ সালে সর্বসাধারণের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। তবে নির্মাণের মাত্র কয়েক বছরের মধ্যেই আড়িয়াল খাঁ নদের ভয়াবহ ভাঙনের মুখে পড়েছে এ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো।

বর্তমানে সেতুর পশ্চিম প্রান্তের দক্ষিণ পাশে নয়াবাজার এলাকায় নদীতে তীব্র ঘূর্ণিস্রোতের সৃষ্টি হয়েছে। সেই স্রোতের আঘাতে নদীতীর দ্রুত ভেঙে পড়ছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, গত বর্ষা মৌসুমেও একই এলাকায় প্রায় ২০০ মিটার নদীতীর নদীগর্ভে বিলীন হয়েছিল। চলতি বর্ষার শুরুতেই পানি বৃদ্ধি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আবারও ভাঙন শুরু হয়েছে। এখন ভাঙন সেতুর একটি মূল পিলারের ১০০ ফুটেরও কম দূরত্বে পৌঁছে যাওয়ায় যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহ আলম সরদার বলেন, ‘গত বছর বর্ষার শুরুতেই সেতুর নিচের অনেক জায়গা ভেঙে যায়। এবারও একইভাবে ভাঙন শুরু হয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পুরো সেতুই নদীগর্ভে চলে যেতে পারে।’

স্থানীয়দের অভিযোগ, সেতু নির্মাণের আগে কিংবা পরে প্রয়োজনীয় নদীশাসন (রিভার ট্রেনিং) এবং স্থায়ী গাইড বাঁধ নির্মাণ না করায় প্রতিবছর বর্ষা এলেই নদীভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। তাদের মতে, সময়মতো কার্যকর নদীশাসনের ব্যবস্থা নেওয়া হলে বর্তমান পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব হতো।

এলাকাবাসীর আশঙ্কা, দ্রুত ভাঙনরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে শুধু কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত লিটন চৌধুরী সেতুই নয়, এর সংযোগ সড়ক এবং নয়াবাজারের একাংশও নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে। তাই সেতু রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে স্থায়ী তীররক্ষা বাঁধ নির্মাণ এবং প্রয়োজনীয় নদীশাসনের উদ্যোগ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এইচ এম ইবনে মিজান বলেন, ‘বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। ভাঙনের বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে ইতোমধ্যে অবহিত করা হয়েছে।’

মন্তব্য

বাংলাদেশ
Cabinet Secretary inspecting Khulna Shipyard Road Widening Project

খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্প পরিদর্শনে মন্ত্রিপরিষদ সচিব

খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্প পরিদর্শনে মন্ত্রিপরিষদ সচিব ছবি: সংগৃহীত

মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি শনিবার (৪ জুলাই) খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে তিনি প্রকল্পের প্রধান সড়ক, চারটি সুইচগেট, প্রকল্প এলাকার ম্যাপ, রূপসা সেতুর প্রবেশমুখে নির্মাণাধীন ব্রিজ সরেজমিন পর্যবেক্ষণ করেন এবং প্রকল্প এলাকার জনসাধারণের সঙ্গে কথা বলেন।

পরিদর্শন শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খুলনা সার্কিট হাউসে শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন (তৃতীয় সংশোধিত) শীর্ষক প্রকল্প বাস্তবায়ন সভায় যোগ দেন। এর আগে তিনি সার্কিট হাউস চত্বরে একটি গাছের চারা রোপণ করেন।

সভায় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নজরুল ইসলাম, বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি)’র সচিব সিরাজুন নূর চৌধুরী, খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল্লাহ হারুন, জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত, খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, কেডিএ’র চেয়ারম্যান এস এম শফিকুল ইসলাম, প্রকল্প পরিচালক মো. আরমান হোসেনসহ বিভাগীয়, জেলা প্রশাসন ও কেডিএ’র কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য

p
উপরে