দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর স্থানীয় সরকার নির্বাচনের একটি সমন্বিত ও সুদূরপ্রসারী কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। চলতি বছরের অক্টোবর থেকে ২০২৭ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত ছয় মাসের এই সময়সীমাকে কেন্দ্র করে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি), পৌরসভা ও উপজেলা নির্বাচনগুলো সম্পন্ন করার একটি খসড়া রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে। মূলত প্রশাসনিক জটিলতা নিরসন এবং স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় জনপ্রতিনিধিত্ব ফিরিয়ে আনতেই ইসি এই মহাযজ্ঞের প্রস্তুতি নিচ্ছে। পরবর্তীতে সিটি করপোরেশনগুলোর ভোট আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে কমিশনের। খবর ইসি সচিবালয় সূত্রের।
ভৌগোলিক ও পরিবেশগত বাস্তবতায় নতুন কৌশল: এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কমিশন গতানুগতিক ধারার বাইরে গিয়ে স্থানীয় ভৌগোলিক পরিস্থিতি, আবহাওয়া এবং যাতায়াত ব্যবস্থাকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের উপসচিব মো. মনির হোসেনের তৈরি প্রতিবেদনে প্রতিটি অঞ্চলের জন্য আলাদা সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।
হাওর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চল যেমন—সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ ও হবিগঞ্জের একাংশে সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বরের মধ্যে পানি বেশি থাকে, যা যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় বাধা। আবার পার্বত্য ও উপকূলীয় অঞ্চল (রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি ও উপকূলীয় দ্বীপসমূহ) নভেম্বরের আগে ভোটের জন্য কিছুটা প্রতিকূল। তাই কমিশন এই বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে ধাপে ধাপে নির্বাচন আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সমতল এবং শহরাঞ্চলে বর্ষাকাল বাদে যেকোনো সময় নির্বাচন হলেও, দুর্গম ও চর এলাকাগুলোর ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়সূচি মানার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনিক জটিলতা নিরসনে সময়ের ব্যবধান: অতীতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ধাপগুলোর মধ্যে সময়ের ব্যবধান ছিল খুবই কম। এর ফলে মাঠ পর্যায়ে নির্বাচনী সরঞ্জাম পাঠানো, ব্যালট পেপার পরিবহন, ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় দ্রুত স্থানান্তরের ক্ষেত্রে বড় ধরনের সংকট সৃষ্টি হতো।
এবার ইসি সেই ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে প্রতিটি ধাপের মধ্যে সময়ের ব্যবধান বাড়ানোর নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই বাড়তি সময় নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং মনোনয়ন যাচাই-বাছাই ও আপিল নিষ্পত্তির মতো আইনি কার্যক্রমগুলো আরও নিখুঁতভাবে সম্পন্ন করতে সহায়ক হবে। প্রতিটি ভোটের আগে অন্তত ৪৫ দিন সময় হাতে রেখে তফশিল ঘোষণা করা হবে বলে কমিশন সূত্রে জানা গেছে।
একাডেমিক ক্যালেন্ডার ও শিক্ষার পরিবেশ: প্রতিটি নির্বাচনের সময়সূচি নির্ধারণের ক্ষেত্রে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বার্ষিক একাডেমিক ক্যালেন্ডারকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। সাধারণত নভেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত দেশের স্কুল-কলেজগুলোতে বার্ষিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে মাধ্যমিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার ঘোষণা রয়েছে। নির্বাচন কমিশন এবার এমনভাবে নির্বাচনের ধাপগুলো সাজাচ্ছে যেন পরীক্ষার সময়সূচির সাথে ভোটের তারিখ কোনোভাবেই সাংঘর্ষিক না হয়। পরীক্ষা এবং নির্বাচনের দিনগুলোতে যেন কোনো শিক্ষার্থী বা অভিভাবক ভোগান্তিতে না পড়েন, তা নিশ্চিত করতে আবহাওয়া অধিদপ্তর ও শিক্ষা বোর্ডসমূহের সাথে সমন্বয় করে দিন নির্ধারণ করা হবে।
নির্বাচন উপযোগী স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের পরিসংখ্যান: বর্তমানে দেশের স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের একটি বিশাল অংশ প্রশাসকদের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য চ্যালেঞ্জিং।
নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, দেশে মোট ৪,৫৮০টি ইউপি রয়েছে। এর মধ্যে ৩,৯৮১টি বর্তমানে নির্বাচন উপযোগী। বাকিগুলো ২০২৭ ও ২০২৮ সালে ধাপে ধাপে ভোটের আওতায় আসবে। মোট ৩৩০টি পৌরসভার মধ্যে ৩২০টি নির্বাচন উপযোগী। ১০টি পৌরসভায় আইনি জটিলতা থাকায় আপাতত সেগুলো বাদ রাখা হয়েছে। নতুন ৫টিসহ দেশের ৫০০টি উপজেলাই এখন নির্বাচন উপযোগী। প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে গঠিত নতুন উপজেলাগুলোকেও ভোটের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে।
এছাড়া দেশের ১৩টি সিটি করপোরেশনই এখন নির্বাচন উপযোগী। তবে বর্তমানে বড় চ্যালেঞ্জ হলো ইউপি এবং উপজেলা পর্যায়ে নিয়মিত প্রতিনিধিদের অনুপস্থিতি।
ভোটার তালিকা ও প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি: নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকা হালনাগাদের ওপর জোর দিচ্ছে। ৩১ জুলাই ২০২৬ তারিখের মধ্যে যাদের বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হবে, তাদের নাম ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। এছাড়া স্বচ্ছতা বজায় রাখতে প্রতি ৫০০ থেকে ৬০০ ভোটারের জন্য একটি করে ভোটকক্ষ রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে, যা কেন্দ্রভিত্তিক ভিড় কমাতে সাহায্য করবে। এছাড়া, বেসরকারি কলেজের শিক্ষকদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে আইন সংশোধনের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, যা নির্বাচনী ব্যবস্থায় নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
কমিশনের লক্ষ্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা: জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, প্রস্তুতি নিয়ে কমিশন নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে সবুজ সংকেত পাওয়া মাত্রই তফসিল ঘোষণা করা হবে। মূলত ইউপি নির্বাচন দিয়ে এই কর্মযজ্ঞ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন মানেই স্থানীয় পর্যায়ে শক্তির লড়াই ও মাঠ পর্যায়ের তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা। তাই প্রতিটি ধাপেই বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। বিশেষ করে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ, ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্পন্ন করা ইসির সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
অক্টোবর থেকে মার্চের এই সময়সীমা যদি সফলভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়, তবে বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় প্রশাসনিক স্থবিরতা কেটে গিয়ে পুনরায় জনপ্রতিনিধিদের সক্রিয় ভূমিকা ফিরবে। সাধারণ নাগরিকরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন তাদের ভোটের অধিকার প্রয়োগের জন্য। এখন কেবল অপেক্ষার পালা, কবে আনুষ্ঠানিকভাবে তফশিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন এই ভোটের উৎসবের যাত্রা শুরু করে।
হত্যাকাণ্ডের শিকার কোহিনূর আক্তার। ছবি: সংগৃহীত
কিশোরগঞ্জের মিঠামইনে নবম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর হাত-পা বেঁধে নদীতে ফেলে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন দুই যুবককে আটক করেছে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলে দাবি পুলিশের।
হত্যাকাণ্ডের শিকার কোহিনূর আক্তার মিঠামইন উপজেলার তমিজা খাতুন সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। সে মিঠামইন কলেজপাড়া এলাকার মৃত ফজলু মিয়ার ছেলে।
এ ঘটনায় আটক দুইজন হলেন মিঠামইন উপজেলা সদরের মহরপুর বেরীবাঁধ এলাকার মাঈন উদ্দিনের ছেলে হৃদয় মিয়া (২০) ও তার ফুফাতো বোন জামাই ইমরান হোসেন (২৫)। ইমরান হোসেন কুমিল্লা জেলার ভাঙ্গুড়া থানার আকুবপুর গ্রামের বাসিন্দা হান্দু মিয়ার ছেলে। তবে তিনি শ্বশুর বাড়িতেই দীর্ঘদিন যাবৎ বসবাস করছেন।
সরেজমিনে কোহিনূরের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় জরাজীর্ণ একটি ঘরে পড়ার টেবিলে এখনো গুছিয়ে রাখা বই-খাতা ও তার আইডি কার্ড। আলনায়ও গুছিয়ে রাখা আছে জামা-কাপড়। কিন্তু সেই ঘরে আর ফিরবে না নবম শ্রেণির ছাত্রী কোহিনুর আক্তার। মেয়ের স্কুলের আইডি কার্ড বুকে জড়িয়ে বিলাপ করছেন মা। স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে পুরো বাড়ির পরিবেশ। প্রতিবেশীরাও এসে নির্বাক, কারও কাছে নেই এই শোক সইবার ভাষা।
স্বজনরা জানান, গত শনিবার বিকেলে প্রাইভেট পড়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয় কোহিনুর। রাত পর্যন্ত বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। পরদিন রবিবার রাত প্রায় ৮টার দিকে বাড়ি থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে হামিদপল্লী এলাকার নদীতে একটি মরদেহ ভাসতে দেখেন স্থানীয়রা। পোশাক দেখে কোহিনুরকে শনাক্ত করেন তার মা ও এলাকাবাসী। তবে ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছানোর আগেই মরদেহটি নদীর স্রোতে ভেসে যায়।
নিহত কোহিনূরের মা নাহার বেগম বলেন, কিছুদিন ধরে পাশ্ব©বর্তী মহরপুর গ্রামের অটোরিকশাচালক হৃদয় মিয়া (২০) তার মেয়েকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। তবে মেয়েকে লেখাপড়া করাতে চান জানিয়ে সেই প্রস্তাবে রাজি হননি তিনি। এরপর থেকেই হৃদয় বিভিন্নভাবে কোহিনূরকে ফুসলানোর চেষ্টা করছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।
নাহার বেগম বলেন, ঘটনার দিন বিকেলে প্রাইভেট পড়তে বাড়ি থেকে বের হয় কোহিনূর। অন্যদিন বিকেল ৪টার দিকে বের হয়ে এক ঘণ্টার মধ্যেই বাড়ি ফিরলেও সেদিন আর ফেরেনি। রাত পর্যন্ত সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি।
তিনি আরও বলেন, রোববার আবদুল হামিদ পল্লীর উত্তর পাশে নদীতে একটি মরদেহ ভাসতে দেখার খবর পান। স্থানীয়দের ধারণ করা ভিডিও দেখে সেটি তার মেয়ের মরদেহ বলে শনাক্ত করেন। কিন্তু ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই মরদেহটি স্রোতে ভেসে যায়।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে নাহার বেগম বলেন, “আমার মেয়েটাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। বিচার তো পরে, এখন পর্যন্ত আমার মেয়ের মরদেহটিই খুঁজে পাচ্ছি না।”
কোহিনূরের প্রতিবেশী ওমর ফারুক ও শাহিনুল ইসলাম বলেন, কোহিনূরের বাবা ফজলু মিয়া বাকপ্রতিবন্ধী ছিলেন। প্রায় ছয় বছর আগে তিনি মারা যাওয়ার পর থেকে স্থানীয়দের বাসাবাড়িতে কাজ করে সংসার চালিয়ে আসছিলেন তার মা নাহার বেগম। অভাব-অনটনের মধ্যেও মেয়েকে উচ্চশিক্ষিত করার স্বপ্ন ছিল তার।
তাদের ভাষ্য, কোহিনূর ছিল অত্যন্ত মেধাবী, ভদ্র ও মিশুক স্বভাবের। তার এমন নির্মম মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না এলাকার কেউ।
এ ঘটনার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার দুপুরে মিঠামইনের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেন। পরে তারা দোষীদের দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।
কোহিনূরের সহপাঠী আনিকা তাহরীন ইকরা ও নিশাত তাসনীম লাবণ্য বলেন, কোহিনূরের সঙ্গে কাটানো প্রতিটি মুহূর্ত এখন তাদের স্মৃতিতে ভেসে উঠছে। এমন প্রাণচঞ্চল, হাসিখুশি একটি মেয়ের এভাবে নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়ার ঘটনা তারা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না। তারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান।
তমিজা খাতুন সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক খালেদা আক্তার বলেন, কোহিনূর বিদ্যালয়ের নিয়মিত ও শান্ত স্বভাবের একজন ছাত্রী ছিল। তার মতো একজন শিক্ষার্থীর এমন নির্মম মৃত্যুতে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সবাই গভীরভাবে শোকাহত।
তিনি বলেন, এ ধরনের নৃশংস ঘটনা এ এলাকায় আগে কখনো ঘটেনি। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি। তার ভাষায়, অপরাধীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে তা কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
রোববার রাতে আবদুল হামিদ পল্লী এলাকায় নদীতে ভাসমান মরদেহটি প্রথম দেখেন স্থানীয় জেলে আল-আমিন। তার চিৎকার শুনে ঘটনাস্থলে ছুটে যান স্থানীয় বাসিন্দা আকবর বাদশাহ বাবু ও মহরম আলী।
আকবর বাদশাহ বাবু ও মহরম আলী জানান, মরদেহটির দুই হাত ও দুই পা বাঁধা ছিল। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর তারা দ্রুত মিঠামইন থানায় ফোন করে পুলিশকে খবর দেন। তাদের দাবি, ঘটনাস্থল থেকে থানার দূরত্ব প্রায় এক কিলোমিটার হলেও পুলিশ আসতে দেরি হওয়ায় তারা দ্বিতীয়বারও ফোন করেন।
তারা আরও বলেন, দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর দুর্গন্ধের কারণে ঘটনাস্থলে থাকা সম্ভব হয়নি। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই নদীর স্রোতে মরদেহটি ভেসে যায়। পুলিশ এসে আর মরদেহটি উদ্ধার করতে পারেনি।
মিঠামইন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. লিয়াকত আলী বলেন, ঘটনার পর থেকেই পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত চালাচ্ছে। আটক দুইজন স্বীকারোক্তিমূলক বক্তব্য দিয়েছে। তাদের শুক্রবার (৩ জুলাই) আদালতে সোপর্দ করা হয়। একই সঙ্গে মরদেহ উদ্ধার এবং ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
ছবি: সংগৃহীত
প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলের বিশেষ বরাদ্দের আওতায় নোয়াখালীর কবিরহাটে ২২০ জন অসহায় ও দুস্থ নারীর হাতে আর্থিক সহায়তা তুলে দেওয়া হয়েছে। এ সহায়তা পেয়ে উপকারভোগীদের মুখে ফুটে ওঠে স্বস্তি ও আনন্দের হাসি। শুক্রবার (৩ জুলাই) দুপুরে কবিরহাট সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের হলরুমে এক অনুষ্ঠানে নোয়াখালী-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. ফখরুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে এ আর্থিক সহায়তা বিতরণ করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলের বিশেষ বরাদ্দ থেকে কবিরহাট উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের ১৪০ জন, কবিরহাট পৌরসভার ৪০ জন এবং নোয়াখালী সদর উপজেলার অশ্বদিয়া ও নেওয়াজপুর ইউনিয়নের ৪০ জনসহ মোট ২২০ জন অসহায় নারীর হাতে অনুদানের অর্থ তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন নোয়াখালী-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. ফখরুল ইসলাম। তিনি বলেন, সমাজের অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মুখে হাসি ফোটানোই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। তিনি এ ধরনের মানবিক সহায়তা কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে আশ্বাস দেন।
এ সময় কবিরহাট উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আব্দুর রহিম, কামরুল হুদা চৌধুরী লিটন, কবিরহাট পৌরসভা বিএনপির আহ্বায়ক মোস্তাফিজ মঞ্জু, নোয়াখালী জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য গোলাম মোমিত ফয়সাল ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব সৌরভ হোসেন কামালসহ বিএনপি, এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং উপকারভোগীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
ছবি: সংগৃহীত
দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর হিসেবে পরিচিত বেনাপোল বন্দর আবারও আলোচনায় এসেছে ব্যাপক রাজস্ব ঘাটতি ও একের পর এক অনিয়মের ঘটনায়। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বেনাপোল কাস্টমস হাউসে সরকারের নির্ধারিত রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় আদায় হয়েছে অনেক কম। এতে রাজস্ব ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৭৩১ কোটি টাকা, যা অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের জন্যও উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে।
জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১১ হাজার ২৯০ কোটি টাকা। কিন্তু বছর শেষে আদায় হয়েছে মাত্র ৬ হাজার ৫৫৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় ৪২ শতাংশ কম রাজস্ব আদায় হয়েছে।
একই সময়ে বন্দর দিয়ে আমদানি হয়েছে ১৪ লাখ ২ হাজার ১৪৪ মেট্রিক টন পণ্য। এর আগের অর্থবছর ২০২৪-২৫ সালে রাজস্ব আদায় হয়েছিল ৭ হাজার ২৯ দশমিক ৩৮ কোটি টাকা এবং আমদানির পরিমাণ ছিল ১৫ লাখ ৯৯ হাজার ২০৯ মেট্রিক টন। তুলনামূলক হিসাবে দেখা যাচ্ছে, এক বছরে আমদানি কমেছে প্রায় ১ লাখ ৯৭ হাজার মেট্রিক টন এবং রাজস্ব আদায় কমেছে প্রায় ৪৭০ কোটি টাকা।
ব্যবসায়ীদের মতে, আমদানি কমে যাওয়া সরাসরি রাজস্ব আদায়ে প্রভাব ফেলে। আন্তর্জাতিক বাজারে মন্দা, বৈদেশিক মুদ্রার চাপ, আমদানি নীতির পরিবর্তন এবং কিছু পণ্যে শুল্কহার সমন্বয়ের কারণে বাণিজ্যিক কার্যক্রমে ধীরগতি এসেছে।
বেনাপোলের ব্যবসায়ীরা বলছেন, ভারত থেকে আগের তুলনায় কম পণ্য আসায় রাজস্ব কমেছে। বিশেষ করে শিল্পকারখানার কাঁচামাল ও ভোগ্যপণ্যের আমদানি হ্রাস পাওয়ায় কাস্টমস আদায়ে বড় প্রভাব পড়েছে।
রাজস্ব ঘাটতির পাশাপাশি বন্দরে ডিজিটাল ওজনযন্ত্রে কারচুপির অভিযোগ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সম্প্রতি বেনাপোল কাস্টমস হাউসের একটি দাপ্তরিক চিঠি প্রকাশ্যে আসে, যেখানে দেখা যায় একই দিনে একই ভারতীয় খালি ট্রাকের দুটি আলাদা ওজন দেখানো হয়েছে।
চিঠিতে উল্লেখ রয়েছে, একটি তালিকায় ট্রাকটির ওজন ৪ হাজার ৮৮০ কেজি, অন্য তালিকায় ৪ হাজার ৯২০ কেজি। মাত্র ৪০ কেজির এই পার্থক্যও বড় চালানের ক্ষেত্রে রাজস্বে বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হতে পারে। এই ঘটনায় কাস্টমস কর্তৃপক্ষ চালান আটক করে তদন্ত শুরু করেছে।
ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকদের অভিযোগ, বন্দরের একটি অসাধু সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে কম শুল্কের পণ্যের ঘোষণা দিয়ে উচ্চ শুল্কের পণ্য খালাস করছে। এতে সরকার কোটি কোটি টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে।
তাদের দাবি, কিছু কর্মকর্তা আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে এসব কাজ সহজ করে দিচ্ছেন। এতে পণ্যের প্রকৃত মূল্য গোপন রেখে কম শুল্কে ছাড়পত্র নেওয়া সম্ভব হচ্ছে।
চলতি বছরের মার্চ মাসে বেনাপোল বন্দরের ৩৭ নম্বর শেড থেকে বড় ধরনের পণ্য আত্মসাতের ঘটনা ঘটে। ‘সাফা ইমপেক্স’-এর নামে বেকিং পাউডার ঘোষণার আড়ালে প্রায় ৬ কোটি টাকা মূল্যের ভারতীয় শাড়ি ও থ্রি-পিস আনা হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে।
এর কয়েকদিন পর ২৬ নম্বর শেডে ‘টি এস ইন্টারন্যাশনাল’-এর নামে ইরেজার ও পেনসিল ঘোষণার আড়ালে প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ টাকার উচ্চ শুল্কের পণ্য জব্দ করা হয়।
এই ঘটনাগুলো প্রমাণ করে বন্দরের অভ্যন্তরে শক্তিশালী একটি চক্র সক্রিয় রয়েছে।
জুন মাসজুড়ে শুল্ক ফাঁকি ও পণ্য পাচারের অভিযোগে চারটি পৃথক মামলা হয়েছে। এসব মামলায় মোট ৫৪ জনকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেন কাস্টমস কর্মকর্তা, রাজস্ব বিভাগের কর্মচারী এবং কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি।
এই মামলাগুলোকে কেন্দ্র করে বন্দরের অভ্যন্তরে দুর্নীতির বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়েছে।
বেনাপোল আমদানি-রপ্তানি সমিতির সভাপতি মতিয়ার রহমান জানিয়েছেন, শেড ইনচার্জদের অনেক ক্ষেত্রে মামলার বাইরে রাখা হচ্ছে, যা প্রশ্ন তৈরি করছে। তার মতে, শেড ইনচার্জের সহযোগিতা ছাড়া শেডের ভেতর থেকে কোনো পণ্য সরানো সম্ভব নয়।
অনেক ব্যবসায়ী বলছেন, বর্তমানে বন্দরে অনিয়ম আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী, আনসার সদস্য, শেড ইনচার্জ এবং কর্মকর্তারা মিলে একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন।
সিএন্ডএফ ব্যবসায়ী হাবিবুর রহমান বলেন, ওজন নির্ধারণে সামান্য গরমিলও সরকারের বিপুল রাজস্ব ক্ষতির কারণ হতে পারে। তবে তার মতে, চলতি অর্থবছরে আমদানি কম হওয়াও রাজস্ব ঘাটতির অন্যতম কারণ।
বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক শামীম হোসেন জানিয়েছেন, ওজনযন্ত্রে কারচুপি এবং অন্যান্য অনিয়মের অভিযোগ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। কোনো ধরনের অনিয়ম প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে কাস্টমস কমিশনার ফাইজুর রহমান বলেছেন, সরকারের একটি টাকার রাজস্বও যাতে ফাঁকি না যায়, সেজন্য সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। শুল্ক ফাঁকি, মিথ্যা ঘোষণা এবং ওজন জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।
বেনাপোল দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য প্রবেশদ্বার। তাই এখানে অনিয়ম, দুর্নীতি ও শুল্ক ফাঁকি রোধে কার্যকর নজরদারি জরুরি। ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া গেলে রাজস্ব ঘাটতি কমানো সম্ভব হবে।
সরকারের জন্য এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো বেনাপোল বন্দরের অনিয়ম বন্ধ করে রাজস্ব আদায়ের স্বাভাবিক ধারা ফিরিয়ে আনা।
ছবি: সংগৃহীত
বাজারে বেড়েছে ব্রয়লার মুরগির দাম। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে বর্তমানে ব্রয়লার বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ১৯০ টাকায়। একই সঙ্গে অধিকাংশ মাছের দামও চড়া থাকায় স্বস্তি নেই সাধারণ ক্রেতাদের। তবে ডিম ও গরুর মাংসের বাজারে তেমন কোনো পরিবর্তন নেই। শুক্রবার (৩ জুলাই) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
বাজার ঘুরে দেখা যায়, মুরগির বাজারে ব্রয়লার প্রতি কেজি ১৮০ থেকে ১৯০ টাকায় এবং সোনালি মুরগি ৩৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ডিমের বাজারে প্রতি ডজন সাদা ব্রয়লার ডিম ১০০ টাকা এবং ব্রাউন ডিম ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংসের দাম অপরিবর্তিত থেকে প্রতি কেজি ৮০০ টাকায় রয়েছে।
দাম বৃদ্ধির কারণ হিসেবে কারওয়ান বাজারে মুরগি বিক্রেতা রুবেল বলেন, ‘ব্রয়লার মুরগির দাম মূলত সরবরাহের ওপর নির্ভর করে। যেদিন সরবরাহ বেশি থাকে, সেদিন দাম কম থাকে। আজ সরবরাহ কম থাকায় দাম বেড়েছে। গত সপ্তাহের তুলনায় ব্রয়লারের দাম প্রতি কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।’
অন্যদিকে, আকারভেদে রুই মাছ প্রতি কেজি ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা, কাতল ২৩০ থেকে ৫০০ টাকা, ভেটকি ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, টেংরা ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা এবং টাকি ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এছাড়া তেলাপিয়া প্রতি কেজি ২২০ থেকে ২৬০ টাকা, পাঙাশ ২০০ থেকে ২২০ টাকা, মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, বাইম ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, কই ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, শিং ৪০০ টাকা, পোয়া ২৬০ টাকা এবং শোল মাছ ৭০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।
চিংড়ির বাজারেও ঊর্ধ্বমুখী দাম। আকার ও জাতভেদে প্রতি কেজি চিংড়ি ৫৫০ থেকে ৯০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বড় আকারের কিছু চিংড়ির দাম ৮০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত রাখা হয়েছে।
বাজারে একজন ক্রেতা অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ‘২০০ টাকার নিচে কোনো মাছ নেই। এখন মাছ না কিনেই বাসায় ফিরছি।’
এদিকে কারওয়ান বাজারের মাছ বিক্রেতা জব্বার বলেন, মাছের সরবরাহের ওপর দাম নির্ভর করে। চিংড়ির সরবরাহ তুলনামূলক কম থাকায় দাম বেশি। তবে অন্য মাছের দামে গত সপ্তাহের তুলনায় খুব বেশি পরিবর্তন হয়নি।
তিনি আরও বলেন, বছরের এ সময় মাছের দাম কিছুটা বেশি থাকে। বর্ষা মৌসুমে নদীতে মাছের সরবরাহ বাড়লে দামও কিছুটা কমে আসে।
তবে স্বস্তি রয়েছে সবজির বাজারে। পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকায় বেশিরভাগ সবজি ৪০ থেকে ৫০ টাকার মধ্যেই বিক্রি হচ্ছে। ফলে কয়েক সপ্তাহ আগের তুলনায় কিছুটা স্বস্তিতে রয়েছেন ক্রেতারা।
বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকায়। এছাড়া করলা ৫০ টাকা, ঢ্যাঁড়স ৪০ টাকা, কাঁকরোল ৫০ থেকে ৬০ টাকা, পেঁপে ৪০ টাকা, কচি ৫০ টাকা, শসা ৬০ টাকা, ঝিঙে ৫০ টাকা এবং পটল ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
নিত্যপ্রয়োজনীয় সবজির মধ্যে আলু প্রতি কেজি ২৫ টাকা এবং পেঁয়াজ ৪০ থেকে ৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া প্রতি পিস লাউয়ের দাম রাখা হয়েছে ৫০ টাকা।
ছবি: সংগৃহীত
বৈশ্বিক বাজার পরিস্থিতির সঙ্গে সমন্বয় করে সরকার এলপিজি সিলিন্ডারের দাম কমিয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে সুযোগ সৃষ্টি হলে ধাপে ধাপে জ্বালানির দাম আরও কমানো হবে।
শুক্রবার (৩ জুলাই) দুপুরে যশোর সার্কিট হাউসে জেলার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ও বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (বাপবিবো) কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অনিন্দ্য ইসলাম এ কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশে ব্যবহৃত এলপিজির প্রায় ৯৮ শতাংশই আমদানি করতে হয় এবং খাতটি পুরোপুরি বেসরকারি খাতনির্ভর। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বেড়েছিল। এতে সাধারণ মানুষের, বিশেষ করে, গৃহস্থালির ব্যয় বেড়েছে। তবে বৈশ্বিক বাজারে পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় সরকার দ্রুত মূল্য সমন্বয় করেছে। এতে সাধারণ মানুষের সংসার পরিচালনায় কিছুটা স্বস্তি ফিরবে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, যখন আন্তর্জাতিক বাজারে অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হবে, তখনই ধাপে ধাপে জ্বালানির দাম কমিয়ে সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে আনার চেষ্টা করা হবে।
ভুতুড়ে বিদ্যুৎ বিল ও লোডশেডিং প্রসঙ্গে অনিন্দ্য ইসলাম বলেন, চলমান গ্রীষ্ম মৌসুমে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিদ্যুৎ বিভাগ কাজ করছে। কয়েকটি এলাকায় বিদ্যুৎ বিল নিয়ে অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য প্রতিটি বিদ্যুৎ অফিসে অভিযোগ গ্রহণ কেন্দ্র খোলা হয়েছে। গ্রাহকদের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিএনপি জনগণের সরকার। তাই জনগণকে সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করতে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তাদের আরও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ সময় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান, জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন, পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেরুল হক সাবুসহ বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ফাইল ছবি
দীর্ঘ ১৭ বছর পর চট্টগ্রাম ওয়াসায় পদোন্নতির জট নিরসন হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রকৌশলী সেলিম মোহাম্মদ জানে আলম দায়িত্ব গ্রহণের এক মাসের মধ্যে ৩২ জন কর্মকর্তাসহ মোট ২৪২ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে পদোন্নতি দিয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) পদোন্নতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছে চট্টগ্রাম ওয়াসা।
দীর্ঘদিন পদোন্নতি না হওয়ায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ ছিল। নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালকের উদ্যোগে সেই দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।
পদোন্নতির সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে চট্টগ্রাম ওয়াসা শ্রমজীবী ইউনিয়ন নবনিযুক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালককে শুভেচ্ছা জানায় এবং মিষ্টিমুখের আয়োজন করে। এ সময় ইউনিয়নের সভাপতি নুরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মো. নওশাদ, সহসভাপতি মো. ওমর, মো. জামাল উদ্দিনসহ পদোন্নতিপ্রাপ্ত শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন।
ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. নওশাদ বলেন, ‘দীর্ঘদিনের বঞ্চনার অবসান হওয়ায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে স্বস্তি ও আনন্দ ফিরে এসেছে। এত বড় পরিসরে পদোন্নতির ঘটনায় কর্মপরিবেশেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আমরা আশা করছি।’
চট্টগ্রাম ওয়াসার নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইউসুফ বলেন, দীর্ঘদিন পর এই পদোন্নতির ফলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাজে আরও গতি আসবে এবং তাদের মনোবল বৃদ্ধি পাবে।
মন্তব্য