প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলছেন, নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকার নিরলস কাজ করছে। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ড ও স্বাস্থ্য কার্ডের মতো কর্মসূচি বাস্তবায়নে কোনো ঘাটতি রাখা হচ্ছে না এবং এগুলো নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে শুক্রবার (৩ জুলাই) রাজধানীর ঢাকেশ্বরী মন্দিরে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান একটি ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ সমুদ্রের মধ্যে এমন একটি ভূখণ্ড দেখিয়েছিলেন, যে ভূখণ্ডে সবার আশ্রয় হয়, প্রত্যেকটি জাতিসত্তার আশ্রয় হয়। সেই ভূখণ্ডটির নাম বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ।
রিজভী বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এমন একটি রাষ্ট্রচিন্তার ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন, যেখানে ধর্ম, জাতিসত্তা ও সম্প্রদায়–নির্বিশেষে সবাই সমান মর্যাদায় আশ্রয় পায়। সেই রাষ্ট্রচিন্তার নাম ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’।
জাতীয় পরিচয়ের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘আমি ‘বাঙালি’ বলার সঙ্গে সঙ্গে আমার পায়ের নিচে কোনো বৃত্তিকার স্পর্শ পাই না। কারণ প্রশ্ন আসবে, আপনি কোথাকার বাঙালি? আমেরিকার বাঙালি, না ফ্রান্সের বাঙালি, না পশ্চিমবঙ্গের বাঙালি, না ত্রিপুরার বাঙালি? কিন্তু ‘বাংলাদেশি’ বলার সঙ্গে সঙ্গে অপূর্ব এক ধরনের প্রেরণা বুকের মধ্যে জেগে ওঠে যে আমরা একটি স্বতন্ত্র দেশের মানুষ। আমাদের আলাদা পতাকা আছে, আলাদা মানচিত্র আছে, আলাদা জাতীয় সংগীত আছে, আলাদা ভাষা আছে। আর যে কোনো বিপদে আমরা একসঙ্গে দাঁড়াই।’
জুলাই আন্দোলনের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে রুহুল কবির রিজভী বলেন, ওই আন্দোলনে ধর্ম-বর্ণ-সম্প্রদায় নির্বিশেষে সবাই একসঙ্গে ছিল। সেদিন মুসলমান গুলি খেয়েছে, হিন্দুও গুলি খেয়েছে, খ্রিস্টানও গুলি খেয়েছে। আজ সারা বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন সম্প্রদায় ও নৃগোষ্ঠীর মানুষ এখানে এসেছেন। সমতলের সাঁওতাল, রাজবংশীসহ বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মানুষ যেমন আছেন, তেমনি পাহাড় থেকেও অনেকে এসেছেন। সবাই এক কাতারে, এক ব্যানারের নিচে মিলিত হয়েছেন।
দেশের মানুষের এই ভ্রাতৃত্ব কেউ ভাঙতে পারবে না বলেও মন্তব্য করেন রিজভী। তিনি বলেন, স্বাধীন সত্তা রক্ষায় সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করবে, একসঙ্গে লড়াই করবে, দেশ গড়বে এবং যেকোনো আক্রমণ সম্মিলিতভাবে প্রতিরোধ করবে।
অনুষ্ঠানের প্রসঙ্গ টেনে রিজভী বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকীতে তার আত্মার শান্তি ও সদগতি কামনায় বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান দেবালয়ে বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠ করা হয়েছে। এতে সব সম্প্রদায়ের মানুষের অংশগ্রহণ তাকে অভিভূত করেছে। তিনি এ জন্য সব সম্প্রদায়ের মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
যাদের বার্ষিক আয় চার লাখ টাকা, তাদের আয়কর দিতে হবে না। এ ছাড়া মুদির দোকানে ভ্যাট আরোপের প্রস্তাব জনমতের পরিপ্রেক্ষিতে প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ১২ কেজি গ্যাস সিলিন্ডারের দাম ৩৫৭ টাকা কমানো হয়েছে। জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
শিক্ষা খাতের বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে রিজভী করে বলেন, এবার ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষার জন্য নিবন্ধন করা শিক্ষার্থীদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি। কেন এত শিক্ষার্থী ঝরে যাচ্ছে, তা শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখতে হবে। একটি গণতান্ত্রিক ও জবাবদিহিমূলক সরকারের দায়িত্ব হলো শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিশ্চিত করা এবং কোনো শিক্ষার্থী যাতে ঝরে না পড়ে, সে ব্যবস্থা নেওয়া।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। ছবি: সংগৃহীত
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, বর্তমান বিশ্ব এক গভীর ও বহুমাত্রিক সংকটের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করছে। জাতিগত, ধর্মীয়, ভাষাগত, সাংস্কৃতিক ও ভৌগোলিক পরিচয়কে ঘিরে সৃষ্ট নানা সংঘাতের স্থায়ী সমাধান আধিপত্যে নয়; বরং পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সংলাপ ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের মধ্যেই নিহিত। মানবসভ্যতার টেকসই অগ্রযাত্রার জন্য বৈচিত্র্যের প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং অভিন্ন মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার কোনো বিকল্প নেই।
শনিবার (৪ জুলাই) রাজধানীর একটি হোটেলে আল উম্মাহ ফাউন্ডেশনের ওয়েবসাইট ও ‘আল উম্মাহ জার্নাল’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, বিশ্বব্যাপী বিদ্যমান অস্থিরতা ও বিভাজনের প্রেক্ষাপটে আল উম্মাহ ফাউন্ডেশনের এই উদ্যোগ অত্যন্ত সময়োপযোগী। বিভিন্ন দর্শন, মতাদর্শ ও চিন্তার মানুষের জন্য একটি উন্মুক্ত বুদ্ধিবিনিময়ের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে এ উদ্যোগ সভ্যতার চলমান সংকট মোকাবিলায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তিনি বলেন, ভাষা, জাতিসত্তা, ধর্মীয় পরিচয়, সংস্কৃতি ও ভৌগোলিক অবস্থান মানবসভ্যতার স্বাভাবিক বৈচিত্র্যের অংশ। মহান আল্লাহ মানুষকে বৈচিত্র্যের মধ্যেই সৃষ্টি করেছেন। ফলে কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী, জাতি বা মতাদর্শের পক্ষে সমগ্র বিশ্বে আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করা যেমন বাস্তবসম্মত নয়, তেমনি তা মানবসভ্যতার কল্যাণও বয়ে আনতে পারে না।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, বর্তমান বিশ্বের বহু সংঘাত পরিচয়ের সংকটকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হয়েছে। কখনো জাতিগত, কখনো ধর্মীয়, কখনো ভাষাগত কিংবা সাংস্কৃতিক বিভাজন সংঘর্ষের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব সংকট উত্তরণে গবেষক, চিন্তাবিদ ও বিভিন্ন মতাদর্শের প্রতিনিধিদের একটি অভিন্ন মানবিক অবস্থান গড়ে তুলতে হবে, যেখানে সংলাপ ও পারস্পরিক বোঝাপড়াই হবে প্রধান ভিত্তি।
তিনি বলেন, ইতিহাস প্রমাণ করে, যুদ্ধ, শক্তির প্রদর্শন কিংবা আধিপত্য কখনো সভ্যতার স্থায়ী সমাধান দিতে পারেনি। বরং মুক্ত চিন্তার বিনিময়, জ্ঞানচর্চা ও পারস্পরিক সম্মানই মানবসভ্যতাকে এগিয়ে নিয়েছে।
বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে আল উম্মাহ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের নীতি - শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান, সম্প্রীতি ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বিশ্বব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার পক্ষে। আমরা এমন একটি পৃথিবী চাই, যেখানে সব জাতি, ধর্ম, ভাষা ও সংস্কৃতি নিজ নিজ মর্যাদা অক্ষুণ্ন রেখে একসঙ্গে এগিয়ে যাবে এবং মানবসভ্যতার সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ নির্মাণে অংশীদার হবে।
তিনি তুরস্ক সফরের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে বলেন, সেখানে তিনি উপলব্ধি করেছেন যে ইসলামের প্রকৃত শক্তি কেবল আনুষ্ঠানিক ধর্মীয় আচারে নয়; বরং এর মানবিক চেতনা, নৈতিক মূল্যবোধ ও আত্মিক দর্শনের মধ্যেই নিহিত।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, আল উম্মাহ জার্নাল ও ওয়েবসাইট বিভিন্ন দেশ, সংস্কৃতি ও চিন্তার মানুষের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া, জ্ঞানচর্চা এবং সভ্যতার সংলাপকে আরও সমৃদ্ধ করবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন তুরস্কের জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টির সাবেক ডেপুটি চেয়ারম্যান প্রফেসর ইয়াসিন আকতে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন। ছবি: সংগৃহীত
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, যেখানে অবহেলা ও দুর্নীতি, সেখানেই চাকরিচ্যুত। আমি বদলিতে বিশ্বাস করি না। সততার সঙ্গে কাজ করতে হবে। দুর্নীতি ও ঘুষ-বাণিজ্য বন্ধ করতে হবে। এ ধরনের কোনো অনিয়মকে সরকার প্রশ্রয় দেবে না। শনিবার (৪ জুলাই) নরসিংদী শিশু একাডেমি মিলনায়তনে আয়োজিত নরসিংদী ডায়াবেটিক সমিতির ৩১তম বার্ষিক সাধারণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, দেশের প্রতিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫০ শয্যার ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপন করা হবে। ইউনিয়নের কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো সংস্কার করে নতুনভাবে সাজানো হবে এবং সেখানে আরও চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে। পাশাপাশি পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রগুলোও আধুনিকায়ন করা হবে।
সাখাওয়াত হোসেন বলেন, স্বাস্থ্য খাতে চলতি বছরই একটি বিপ্লবের সূচনা করতে চায় সরকার। প্রতিটি ক্ষেত্রে নতুন নতুন কর্মসূচি হাতে নেওয়া হচ্ছে, যাতে জনগণের জীবনমান উন্নত হয় এবং বাংলাদেশ বিশ্ব মানচিত্রে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে। এবারের বাজেট শুধু টাকার বাজেট নয়, এটি আদর্শের বাজেট। প্রতিটি আদর্শ দুর্নীতিমুক্তভাবে বাস্তবায়ন করা হবে।
নরসিংদীর জেলা প্রশাসক ও নরসিংদী ডায়াবেটিক সমিতির সভাপতি ইসরাত জাহান কেয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন নরসিংদী সদর আসনের সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকন।
এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নরসিংদী-৩ (শিবপুর) আসনের সংসদ সদস্য মঞ্জুর এলাহী, নরসিংদী-৫ (রায়পুরা) আসনের সংসদ সদস্য আশরাফ উদ্দিন বকুল, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেনসহ অনেকে। অনুষ্ঠানে নরসিংদী ডায়াবেটিক সমিতির সদস্যরাও অংশগ্রহণ করেন।
ফাইল ছবি
রাজধানীর বনানীর সাততলা বস্তি এলাকায় বিদ্যুতের লাইনে সংযোগ দিতে গিয়ে বিদ্যুতায়িত হয়ে ইকবাল হোসেন (৩৫) নামের এক ইলেকট্রিশিয়ানের মৃত্যু হয়েছে।
শনিবার (৪ জুলাই) বনানী সাততলা বস্তির একটি বাসায় বিদ্যুতের সংযোগ দেওয়ার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় স্বজনরা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে চিকিৎসক বিকাল পৌনে ৫টার দিকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত ইকবালের শ্যালক মো. জীবন হোসেন জানান, নিহতের বাড়ি নোয়াখালীর মাইজদী উপজেলার শিবপুর গ্রামে। তবে ইকবাল পরিবার নিয়ে বনানীর সাততলা বস্তিতে বসবাস করতেন। গতকাল শনিবার একটি বাসায় বিদ্যুতের লাইনে সংযোগ দেওয়ার সময় অসাবধানতাবশত তিনি বিদ্যুতায়িত হন। পরে দ্রুত তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে মৃত ঘোষণা করেন।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. ফারুক বলেন, ‘মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ঘটনাটি তদন্তের জন্য বনানী থানাকে অবহিত করা হয়েছে।’
ছবি: সংগৃহীত
পিরোজপুরে তিন দিনব্যাপী ‘নজরুল বর্ষ’ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পুরস্কার বিতরণীর মধ্য দিয়ে সমাপনী অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে।
শনিবার (৪ জুলাই) বিকেল ৫টায় জেলা প্রশাসনের আয়োজনে পিরোজপুর উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামের শহীদ ওমর ফারুক মিলনায়তনে এই সমাপনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক বলেন “জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য, সংগীত ও মানবতার চেতনা নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে এ ধরনের আয়োজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তরুণ সমাজকে নজরুলের অসাম্প্রদায়িক, সাম্য ও মানবিক আদর্শ ধারণ করে দেশ গঠনে এগিয়ে আসতে হবে।”
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. আলাউদ্দীন ভূঞা জনী, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন,সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মামুনুর রশীদ ও সরকারি সোহরাওয়ার্দী কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক রহিমা খাতুন।
সমাপনী অনুষ্ঠানে নজরুল বর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথিবৃন্দ।
পুরস্কার বিতরণী শেষে একটি মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে স্থানীয় শিল্পীদের আবৃত্তি, নৃত্য ও সংগীত পরিবেশনার মাধ্যমে জাতীয় কবির সাহিত্য, সংগীত ও চেতনার বিভিন্ন দিক ফুটিয়ে তোলা হয়।
অনুষ্ঠানে জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, সাংবাদিকসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
ছবি: সংগৃহীত
বাসাবাড়ির বর্জ্য অপসারণে অতিরিক্ত অর্থ আদায় ও অনিয়ম করলে ঠিকাদারদের টেন্ডার বাতিলের হুঁশিয়ারি দিয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক মো. আবদুস সালাম বলেছেন, বাসাবাড়ি থেকে নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ না করা এবং অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।
তিনি বলেন, অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং ভবিষ্যতে তাদের টেন্ডার দেওয়া হবে না। শনিবার (৪ জুলাই) সকালে রাজধানীর শান্তিনগর বাজারে ‘ক্লিনিং ডে’ কর্মসূচিতে এ কথা বলেন তিনি।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আরও বলেন, ‘মার্কেট ও হকারদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য ফেলতে হবে। নগরকে পরিচ্ছন্ন রাখতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।’
ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে প্রশাসক জানান, দক্ষিণ সিটির বিভিন্ন ওয়ার্ডে পরিচালিত জরিপে প্রায় ৬৫ শতাংশ বাসাবাড়িতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেছে। তাই মশক নিয়ন্ত্রণে নতুন ওষুধ ও লার্ভানাশক ট্যাবলেট ব্যবহার করা হচ্ছে, বিশেষ করে যেসব স্থানে নিয়মিত পৌঁছানো কঠিন।
এ সময় পরিবেশ রক্ষায় বেশি বেশি গাছ লাগানো এবং পরিচ্ছন্ন নগর গড়ে তুলতে নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানান ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক।
ফাইল ছবি
রাজধানীতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের নিয়মিত অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৮০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সময়ে ৬০টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদীর পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে শনিবার (৪ জুলাই) এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে–রমনায় থানায় ৪৭ জন, লালবাগে ২৫, ওয়ায়ীতে ৫৮, মতিঝিলে ৪৬, তেজগাঁওয়ে ৮৪, মিরপুরে ১১৬, গুলশানে ৪৭, উত্তরা ৫০, গোয়েন্দা ৫ জন এবং সিটিটিসি ২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের হেফাজত হতে ৭ কেজি ৪৮৮ গ্রাম গাঁজা, ৬ হাজার ৭৪৬ ইয়াবা, ৩ গ্রাম হেরোইন, ৫ বোতল ফেন্সিডিল, একটি প্রাইভেটকার, একটি অ্যাম্বুলেন্স, একটি মোটরসাইকেল, ৫টি মোবাইল, একটি ভেনিটি ব্যাগ, মাদক বিক্রয়ের নগদ ১ লাখ ২৩ হাজার ৯০০ টাকা উদ্ধার করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ডিএমপির বিভিন্ন অপরাধ ও গোয়েন্দা বিভাগ অস্ত্র ও মাদকদ্রব্য উদ্ধারসহ তাদের গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।
বর্ষীয়ান সাংবাদিক ও শিক্ষক প্রয়াত শাহেদ কামাল। ছবি: সংগৃহীত
বর্ষীয়ান সাংবাদিক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের খণ্ডকালীন শিক্ষক শাহেদ কামাল মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল প্রায় ৮৬ বছর।
শনিবার (৪ জুলাই) সন্ধ্যায় রাজধানীর সিকদার মেডিকেল হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় লাইফ সাপোর্ট প্রত্যাহারের পর তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শাওন্তী হায়দার বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, ‘তিনি বেশ কয়েকদিন ধরে অসুস্থ অবস্থায় সিকদার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। শনিবার (৪ জুলাই) তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।’
কবি সুফিয়া কামালের ছেলে শাহেদ কামাল ১৯৫৭ সাল থেকে সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত হন। ১৯৭৬ সাল থেকে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগে খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
মন্তব্য