গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় খরিফ-২ মৌসুমে আমন ধানের আবাদ সম্প্রসারণ ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ৩ হাজার ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের মধ্যে বিনামূল্যে বীজ ও রাসায়নিক সার বিতরণ করা হয়েছে। বুধবার (১ জুলাই) সকালে উপজেলা অডিটোরিয়ামে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে এ উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাহিদ ভুঞা। প্রধান অতিথি ছিলেন গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ডা. এস. এম. রফিকুল ইসলাম বাচ্চু।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুমাইয়া সুলতানা বন্যা স্বাগত বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান, শ্রীপুর ইউসিসিএর সভাপতি এস. এম. মাহফুল হাসান হান্নান, কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন এলাকার কৃষকেরা উপস্থিত ছিলেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, সরকারি কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় উপজেলার ৩ হাজার ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের প্রত্যেককে ৫ কেজি আমন ধানের বীজ, ১০ কেজি ডিএপি সার এবং ১০ কেজি এমওপি সার দেওয়া হয়েছে। উৎপাদন ব্যয় কমিয়ে আমনের আবাদ বাড়ানো এবং কৃষকদের আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহারে উৎসাহিত করাই এ কর্মসূচির লক্ষ্য।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য ডা. এস. এম. রফিকুল ইসলাম বাচ্চু বলেন, দেশের খাদ্য নিরাপত্তা টেকসই রাখতে কৃষিকে আরও আধুনিক, বিজ্ঞানভিত্তিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করে গড়ে তুলতে হবে। নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে পারলে উৎপাদন যেমন বাড়বে, তেমনি কৃষকদের আয়ও বৃদ্ধি পাবে।
তিনি বলেন, কৃষিকাজে যেকোনো সমস্যায় কৃষকদের উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ নিতে হবে। কৃষি বিভাগ সব সময় কৃষকদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত রয়েছে।
অনুষ্ঠান শেষে সরকারি কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় কৃষকদের হাতে বীজ ও সারের প্যাকেজ তুলে দেওয়া হয়।
ছবি: সংগৃহীত
রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার চারটি কেন্দ্রে ২০২৬ সালের উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি), আলিম ও কারিগরি (বিএম) শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। পরীক্ষা চলাকালে কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় পরীক্ষা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার চারটি কেন্দ্রে মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১ হাজার ২৩৫ জন। এর মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেয় ১ হাজার ১৯৫ জন এবং অনুপস্থিত ছিল ৪০ জন। কেন্দ্রভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, গঙ্গাচড়া সরকারি কলেজ কেন্দ্রে মোট ৩৪২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৩৩৭ জন উপস্থিত ছিল এবং ৫ জন অনুপস্থিত। গঙ্গাচড়া মহিলা কলেজ কেন্দ্রে ৪৭৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৪৫৬ জন উপস্থিত এবং ২২ জন অনুপস্থিত ছিল। কারিগরি (বিএম) কেন্দ্রের ২২১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২১৯ জন পরীক্ষায় অংশ নেয়, অনুপস্থিত ছিল ২ জন। অপরদিকে হাজী দেলোয়ার হোসেন উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে আলিম পরীক্ষার্থী ছিল ১৯৪ জন। এর মধ্যে ১৮৩ জন উপস্থিত এবং ১১ জন অনুপস্থিত ছিল।
পরীক্ষা সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত রাখতে প্রতিটি কেন্দ্রের ২০০ গজের মধ্যে পরীক্ষার্থী ছাড়া অন্য ব্যক্তিদের প্রবেশে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারার আওতায় নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কেন্দ্রগুলোতে সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করেন।
পরীক্ষা চলাকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন আক্তার বিভিন্ন কেন্দ্র পরিদর্শনের সময় বলেন, প্রশাসনের সার্বিক তত্ত্বাবধান ও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির ফলে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পরীক্ষার স্বচ্ছতা, শৃঙ্খলা ও নকলমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রথম দিনের পরীক্ষা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হওয়ায় পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যেও স্বস্তি বিরাজ করছে। আগামী পরীক্ষাগুলোও একইভাবে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে প্রশাসনের তৎপরতা অব্যাহত থাকবে।
ছবি: সংগৃহীত
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ১নং ওয়ার্ডের গোয়ালন্দ নাজির উদ্দিন পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিশ্বনাথ পাড়া বেড়িবাঁধ অভিমুখী ১ দশমিক ৬৮০ কিলোমিটার খাল খনন প্রকল্পের স্থানে অবৈধভাবে গড়ে উঠা বিসমিল্লাহ এগ্রো ফার্ম (হ্যাচারি) নামে একটি প্রতিষ্ঠান উচ্ছেদ করেছে গোয়ালন্দ উপজেলা প্রশাসন।
বুধবার (১ জুলাই) এ উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাথী দাস।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মুনতাসির হাসান খান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সৈয়দ রায়হানুল হায়দার, উপজেলা এলজিডি প্রকৌশলী ফয়সাল জাহাঙ্গীর স্বপ্নীল, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আবু বকর, গোয়ালন্দ ঘাট থানা পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. রাশিদুল ইসলাম, উজানচর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান গোলজার হোসেন মৃধাসহ অন্যান্য কর্মকর্তা ও স্থানীয় নেতারা।
জানা যায়, প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্প ‘খাল পুনঃখনন কর্মসূচির’ আওতায় গত ১২ মে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী ও রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম উজানচর ইউনিয়নের গোয়ালন্দ নাজির উদ্দিন পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিশ্বনাথপাড়া বেড়িবাঁধ অভিমুখী ১ দশমিক ৬৮০ কিলোমিটার খাল খনন প্রকল্প, যার ব্যয় ধরা হয়েছে ২১ লাখ ৬৭ হাজার ১৭২ টাকা।
এ ছাড়া উজানচর হাবিল মণ্ডল পাড়া কালামের বাড়ি থেকে ফৈজদ্দিন মাতব্বর পাড়া সলিম মাতুব্বরের বাড়ি পর্যন্ত ০ দশমিক ৯৩০ কিলোমিটার খাল ২৭ লাখ ৭ হাজার ৮৯০ টাকা ব্যয়ে খনন কাজ উদ্বোধন করেন। তারই ধারাবাহিকতায় উজানচর বেড়িবাঁধ প্রকল্পে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। জানা যায়, উদ্বোধনের পর থেকেই খালের ওপর গড়ে ওঠা বিসমিল্লাহ এগ্রো ফার্ম মালিককে বারবার নোটিশ করার পরও তারা স্থাপনা স্থানান্তর না করার কারণে আজকের এ উচ্ছেদ কার্যক্রম চালানো হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাথী দাস বলেন, ‘সরকারের অগ্রাধিকারভিত্তিক একটি প্রকল্প হচ্ছে খাল খনন। জনদুর্ভোগ কমাতে ও পরিবেশ রক্ষায় খাল উদ্ধার অভিযানে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। এ বিষয়ে সকলের সহযোগিতা কামনা করছি।’
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) পোলট্রি বিজ্ঞান বিভাগের গবেষকরা দীর্ঘ ১৫ বছরের নিরলস গবেষণায় সফলভাবে একটি নতুন রঙিন মাংস উৎপাদনকারী মুরগির জাত উদ্ভাবন করেছেন।
এই নতুন জাত উন্নয়নের মূল নেতৃত্ব দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পোলট্রি বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. বজলুর রহমান মোল্যা। তিনি জানান, ভোক্তার চাহিদা ও খামারিদের অর্থনৈতিক লাভের কথা মাথায় রেখে দীর্ঘ প্রায় দেড় দশক ধরে বিভিন্ন প্যারেন্ট লাইন সংরক্ষণ, নির্বাচন ও সংকরায়ণের মাধ্যমে এই নতুন লাইন উন্নয়ন করা হয়েছে।
গবেষণা প্রকল্পটি প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্প (এলডিডিপি)-এর অর্থায়নে পরিচালিত হয়েছে।
অধ্যাপক মোল্যা বলেন, ‘গবেষণায় সেক্স-লিংক হোয়াইট লাইনকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে এর সমজাতীয়তা বা হোমোজাইগোসিটি ৮৯ থেকে ৯৩.১১ শতাংশে উন্নীত হয়েছে, যা একটি স্থায়ী জাত হিসেবে বাণিজ্যিক উৎপাদনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ছাড়া মুরগির পালকের রঙ নির্ধারণকারী এসওএক্স-১০ জিনের ডিলিশন শনাক্তে একটি সহজ পিসিআর পদ্ধতি উদ্ভাবন করা হয়েছে, যা ভবিষ্যৎ প্রজনন কর্মসূচিতে বড় ভূমিকা রাখবে।’
তিনি বলেন, ‘জাতটির কিছু প্যারেন্ট লাইন ৬২ সপ্তাহে প্রায় ২০৫টি পর্যন্ত ডিম উৎপাদনে সক্ষম হয়েছে। এ ছাড়া প্রচলিত সোনালি মুরগির একদিন বয়সি বাচ্চার ওজন যেখানে সাধারণত ২৬-২৮ গ্রাম হয়, সেখানে নতুন উদ্ভাবিত সংকর লাইনে বাচ্চার ওজন পাওয়া গেছে প্রায় ৩৮ গ্রাম। একদিন বয়সি বাচ্চার ওজনে প্রতি এক গ্রাম বৃদ্ধির ইতিবাচক প্রভাব বাজারজাতকরণের সময় প্রায় ৫০ গ্রাম অতিরিক্ত চূড়ান্ত ওজনে প্রতিফলিত হয়, যা খামারিদের বাড়তি মুনাফা নিশ্চিত করবে।’
এই গবেষণা প্রকল্পের অন্যতম অনন্য বৈশিষ্ট্য ছিল সরাসরি মাঠপর্যায়ে প্রযুক্তি হস্তান্তর। প্রথাগত প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সীমাবদ্ধতা দূর করতে গবেষণা দল সরাসরি গ্রামে গিয়ে ১৫-২৫ জনের ক্লাস্টারভিত্তিক নারী খামারিদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। মাঠপর্যায়ের ফলাফলে দেখা গেছে, যেসব খামারিকে বাচ্চার পাশাপাশি নিয়মিত কারিগরি সহায়তা, সঠিক সময়ে টিকা প্রদান এবং স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করা হয়েছে, তাদের খামারে মুরগির বৃদ্ধি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে, খাদ্য রূপান্তর দক্ষতা উন্নত হয়েছে এবং মৃত্যুহার হ্রাস পেয়েছে। বাজার চাহিদার কারণে অনেক খামারি নির্ধারিত ৫০ দিনের পরিবর্তে ১০-১২ সপ্তাহ পর্যন্ত এই মুরগি পালন করছেন এবং প্রতি কেজি ৭০০ টাকা পর্যন্ত উচ্চ মূল্যে বিক্রি করে লাভবান হচ্ছেন।
ভোক্তা অধিকার ও স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়ে ড. মোল্যা জানান, ঢাকার একটি উন্নত গবেষণাগারে এই মুরগির মাংস পরীক্ষা করে কোনো অ্যান্টিবায়োটিকের অবশিষ্টাংশ পাওয়া যায়নি। বাজারে দেশি মুরগির নামে চালিয়ে ক্রেতা প্রতারণার কোনো সুযোগ থাকবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি স্পষ্ট করেন, দেশি মুরগির নাম ভাঙানো নয়, বরং উন্নত স্বাদ, পুষ্টিগুণ ও শতভাগ নিরাপদ মাংসের নিশ্চয়তা দিয়ে এটিকে বাজারে একটি স্বতন্ত্র রঙিন মাংসের ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠা করাই তাদের মূল লক্ষ্য।
উদ্ভাবনটির মাঠপর্যায়ে প্রসারের ওপর জোর দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. কে. ফজলুল হক ভূঁইয়া বলেন, ‘শুধু ল্যাবরেটরিতে জাত উদ্ভাবন করলেই হবে না, সেই প্রযুক্তি ও সুফল খামারিদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়াই এই প্রকল্পের মূল দর্শন। এর মাধ্যমে খামারিরা লাভবান হবেন এবং দেশের নিরাপদ প্রাণিজ প্রোটিন উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে।’ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিসম্পদ অনুষদের বন্ধ থাকা বিক্রয় কেন্দ্রটি দ্রুত চালুর নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব গবেষণায় উৎপাদিত দুগ্ধ, মাংস ও পোলট্রিজাত সব পণ্য সরাসরি এই বিক্রয় কেন্দ্রের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে সুলভ মূল্যে পৌঁছে দিতে হবে।’
মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের পোলট্রি বিজ্ঞান বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. মো. শওকত আলীর সভাপতিত্বে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে গবেষণাটির চূড়ান্ত ফলাফল তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক ও পোলট্রি খাতের উদ্যোক্তারা উপস্থিত ছিলেন। শেষে নতুন উদ্ভাবিত এই মুরগির মাংস দিয়ে প্রস্তুত খাবার পরিবেশন করা হয়।
ছবি: সংগৃহীত
এক সময় জেলার ক্রীড়াচর্চার প্রাণকেন্দ্র ছিল নীলফামারী শহরের ঐতিহ্যবাহী বড় মাঠ। ভোর থেকে রাত পর্যন্ত এখানে হাঁটাহাঁটি, ক্রিকেট, ফুটবল, ভলিবল, কাবাডি ও বিভিন্ন ক্রীড়া আয়োজনের মধ্য দিয়ে মুখর থাকত পুরো এলাকা। কিন্তু এখন সেই মাঠের একাংশজুড়ে গড়ে উঠেছে শতাধিক অবৈধ দোকান। ফলে দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে মাঠের উন্মুক্ত পরিবেশ, সংকুচিত হচ্ছে খেলাধুলার পরিসর।
সরেজমিনে দেখা যায়, মাঠের একপাশজুড়ে সারিবদ্ধভাবে বসানো হয়েছে বিভিন্ন অস্থায়ী দোকান। চা, ফাস্টফুড, পান-সিগারেটসহ নানা ধরনের ব্যবসা চলছে সেখানে। দোকানগুলোর কারণে মাঠের উল্লেখযোগ্য অংশ দখল হয়ে গেছে। যেখানে একসময় ভলিবল ও কাবাডি খেলা হতো, সেখানে এখন আর খেলাধুলার সুযোগ নেই। দুটি ক্রিকেট মাঠের মধ্যে একটি কার্যত ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।
বিকেলে মাঠে অনুশীলনে আসা খেলোয়াড়দের মধ্যে দেখা যায় হতাশা। একটি মাত্র ক্রিকেট পিচে একাধিক দলকে অনুশীলন করতে হওয়ায় সৃষ্টি হচ্ছে ভিড় ও সময় সংকট। অনেকেই বাধ্য হয়ে অনুশীলন না করেই ফিরে যাচ্ছেন।
সাবেক ক্রিকেট খেলোয়াড় আব্দুস সালাম বাবলা বলেন, “এই মাঠ থেকেই জেলার অনেক খেলোয়াড় উঠে এসেছে। এখন মাঠের বড় একটি অংশ অবৈধ দোকানের দখলে। এতে খেলাধুলার পরিবেশ নষ্ট হয়েছে। ক্রীড়াঙ্গনের স্বার্থে দ্রুত এসব দোকান উচ্ছেদ করা দরকার।”
ক্রিকেট খেলোয়াড় সোহাগ আলী বলেন, “আগে দুটি ক্রিকেট পিচ ব্যবহার করা যেত। এখন একটি কার্যত দখলে চলে গেছে। কোনো টুর্নামেন্ট চললে অনুশীলনের জন্য আর জায়গা থাকে না। মাঠ দখলমুক্ত হলে খেলোয়াড়রা স্বাভাবিকভাবে অনুশীলন করতে পারবে।”
আরেক খেলোয়াড় বলেন, বড় মাঠ শুধু খেলোয়াড়দের নয়, পুরো জেলার মানুষের সম্পদ। অবৈধ দোকান উচ্ছেদ করা হলে মাঠের পরিবেশ ফিরে আসবে এবং নতুন প্রজন্ম খেলাধুলার সুযোগ পাবে।
এ নিয়ে জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য আবু মোহাম্মদ সোয়েম বলেন, “অবৈধ দোকান উচ্ছেদের বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। প্রথমে দোকানিদের নোটিশ দিয়ে স্বেচ্ছায় সরে যাওয়ার জন্য সময় দেওয়া হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তারা স্থান ত্যাগ না করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নিয়ে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে।”
ছবি: সংগৃহীত
ইসলামি সভ্যতা বিকাশে মধ্য এশিয়া থেকে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অনেক অঞ্চলেই বিভিন্ন সময়ে শাসকদের হাত ধরে প্রচারিত হয়েছে ইসলাম ধর্ম। দেশের বিভিন্ন এলাকায় গড়ে উঠেছে নান্দনিক মসজিদ। ইসলামি স্থাপত্যকলা ও সৌন্দর্যময় মসজিদগুলোর মধ্যে বেলাবো বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ অন্যতম।
ইতিহাসবিদদের মতে, তিনশ’ বছরের ঐতিহ্য বহন করছে মসজিদটি। বাংলার শাসক ঈশা খাঁর জমিদারী আমলে তার পরবর্তী অধস্তন পুরুষ যারা জমিদারি করেছেন, তাদের মধ্যে দেওয়ান আয়েশা খানম তিনি বেলাবতে খাজনা আদায় করতে আসতেন। তিনি এখানে জনসাধারণের পানি পান করার জন্য কুয়া নির্মাণ করেছিলেন। তিনিই এই মসজিদ নির্মাণ করেছিলেন। ৩ শত বছর আগে ৭টি গম্বুজের সমন্বয়ে মসজিদটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। তবে কালের বিবর্তনে ফিকে হয়ে যায় সেই সৌন্দর্য। এরপর পুননির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়। স্মৃতি ও শ্রুতির মিশেলে কালের স্বাক্ষী হয়ে আজো ইসলাম ধর্মের জ্যোতি ছড়াচ্ছে এই মসজিদটি।
লোকমুখে শোনা যায় এ মসজিদের ভেতর থেকে অলৌকিকভাবে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের আওয়াজ শোনা যেত। এরপর থেকে এ মসজিদটি ফজিলতের মসজিদ হিসেবে এলাকায় পরিচিতি লাভ করে। উক্ত মসজিদে বেলাবো উপজেলা ছাড়াও পার্শ্ববর্তী উপজেলা কুলিয়াচর ও মনোহরদী হতে শত শত ধর্মপ্রাণ মুসল্লি নামাজ পড়তে আসে।
প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই জুমার নামাজে মুসল্লির সংখ্যা ধারণ ক্ষমতার বাইরে চলে যেত। মসজিদটিকে নান্দনিক নতুনরূপে সাজানোর পরিকল্পনা করেন নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার কৃতী সন্তান আবদুল কাদির মোল্লা। দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তর মসজিদটি ২০০৬ সালে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা ব্যয়ে থার্মেক্স গ্রæপের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান আবদুল কাদির মোল্লার অর্থায়নে পুননির্মাণের কাজ শুরু হয় এবং ২০০৮ সালে মসজিদের পুননির্মাণ কাজটি শেষ হয়।
বর্তমানে মসজিদটিতে মুসল্লিদের ধারণ ক্ষমতা ১ হাজার ২শত জন হলেও জুমার দিন কিংবা রমজান মাসে তারাবি নামাজের সময় ধারণ ক্ষমতার চেয়ে তিনগুণ অর্থাৎ ২০ থেকে ২২ হাজার মুসল্লির সমাগম ঘটে। আধুনিক স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত এ মসজিদটিতে ইসলামিক স্থাপত্যের বিভিন্ন উপাদান ব্যবহার করা হয়েছে। বিশাল গম্বুজ, উঁচু মিনার, সুন্দর কারুকার্য এবং প্রশস্ত প্রাঙ্গণ মসজিদটিকে একটি অনন্য রূপ দান করেছে। সামনের অংশে পুকুর এবং দক্ষিণ পাশে এতিমখানা ও মাদরাসা মসজিদকে দিয়েছে পরিপূর্ণ।
সৌন্দর্য বেলাবো বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদটি শুধুমাত্র ধর্মীয় স্থাপনাই নয়, বরং এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবেও কাজ করে। এখানে নিয়মিত ধর্মীয় শিক্ষা ও ধর্ম প্রচার করা হয়। এ ছাড়াও, বিভিন্ন সামাজিক কর্মকান্ড, যেমন- দরিদ্রদের সাহায্য, অসহায়দের পুনর্বাসন ইত্যাদি কার্যক্রম এই মসজিদ থেকে পরিচালিত হয়ে থাকে।
মসজিদটির সৌন্দর্য এবং ঐতিহাসিক গুরুত্বের কারণে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন আকর্ষণে পরিণত হয়েছে। দেশ-বিদেশ থেকে অসংখ্য পর্যটক এই মসজিদ দেখতে আসেন। এ ছাড়াও, মসজিদটি উয়ারী বটেশ্বরের মতো ঐতিহাসিক স্থানের নিকটবর্তী হওয়ায় পর্যটকদের জন্য এটি আরো আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। এর নির্মাণশৈলী প্রাচীন ইসলামিক স্থাপত্যের চার খিলান কাঠামো মেনে তৈরি, যা এই মসজিদের বিশাল গম্বুজকে টিকে থাকার ব্যাপারে সুরক্ষা দিয়েছে।
মসজিদ পরিচালনা কমিটির সদস্যরা বলেন, ইসলামিক স্থাপত্যকলা ও সৌন্দর্যময় মসজিদগুলোর মধ্যে বেলাবো বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদটি দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম। এই মসজিদটি ফজিলতের মসজিদ হিসেবেও এলাকায় পরিচিতি লাভ করেছে। মসজিদের উন্নয়নে উপজেলা প্রশাসন এবং আমরা ব্যক্তিগতভাবে সর্বাত্মক সহযোগিতা করব।
ছবি: সংগৃহীত
ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডু উপজেলার হিজলি গ্রামে ছাঁদ বাগানে আনার ফলের আবাদ করে বাজিমাত করেছে প্রবাস ফেরত যুবক মনোজিৎ বিশ্বাস। ফলন ভালো পাওয়ায় বাণিজ্যিক ভাবে আনার বাগান শুরু করেছেন তিনি।
জানা যায়, বিদেশে দীর্ঘদিন কর্মজীবন শেষে দেশে ফিরে শখের বশে বাড়ির ছাদে আনার চাষ শুরু করেন মনোজিত বিশ্বাস। ধীরে ধীরে সেই শখই পরিণত হয়েছে সফল একটি ছাদ বাগানে। বর্তমানে তার বাগানে অস্ট্রেলিয়ান বিগ, থাই, রিমন, মেক্সিকান, মৃদুলাসহ ১১টি জাতের মোট ৩৩টি আনার গাছ রয়েছে।
ঘুরে দেখা যায়, লালচে-গোলাপি আনারে নুয়ে পড়েছে গাছের ডাল। কোথাও পাকা ফলের ভার। কোথাও আবার ফুটে আছে টকটকে লাল ফুল। সবুজ পাতার ফাঁকে ঝুলে থাকা আনার আর লাল ফুলের মেলবন্ধনে পুরো ছাদজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে এক মনোমুগ্ধকর পরিবেশ। যেন প্রকৃতি নিজেই এঁকেছে রঙিন এক ক্যানভাস। এবার গাছগুলোতে দ্বিতীয়বারের মতো ফল ধরেছে। প্রতিটি গাছে গড়ে ২০ থেকে ২৫টি করে আনার শোভা পাচ্ছে। ফলে ছাদ বাগানটি এখন লাল-সবুজের অপরূপ সৌন্দর্যে ভরে উঠেছে। প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ এই বাগান দেখতে আসছেন।
মনোজিত বিশ্বাস জানান, বিদেশে থাকাকালীন আধুনিক ফল চাষের বিভিন্ন পদ্ধতি দেখে দেশে ফিরে সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর চেষ্টা করেন। শুরুতে অল্প কয়েকটি গাছ দিয়ে বাগান শুরু করলেও ভালো ফলন পাওয়ায় ধীরে ধীরে বিভিন্ন জাতের আনার সংগ্রহ করেন। নিয়মিত পরিচর্যা, সঠিক সার প্রয়োগ ও সময়মতো সেচ দেওয়ার ফলে এবারও ভালো ফলন পেয়েছেন। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে আনার চাষের পরিকল্পনা করছেন তিনি।
হরিণাকুন্ডু উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শরীফ মোহাম্মদ তিতুমীর বলেন, কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে মনোজিত বিশ্বাসকে নিয়মিত কারিগরি পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। কৃষি বিভাগ এ ধরনের উদ্যোগকে আরও ছড়িয়ে দিতে কাজ করছে।
মন্তব্য