ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডু উপজেলার হিজলি গ্রামে ছাঁদ বাগানে আনার ফলের আবাদ করে বাজিমাত করেছে প্রবাস ফেরত যুবক মনোজিৎ বিশ্বাস। ফলন ভালো পাওয়ায় বাণিজ্যিক ভাবে আনার বাগান শুরু করেছেন তিনি।
জানা যায়, বিদেশে দীর্ঘদিন কর্মজীবন শেষে দেশে ফিরে শখের বশে বাড়ির ছাদে আনার চাষ শুরু করেন মনোজিত বিশ্বাস। ধীরে ধীরে সেই শখই পরিণত হয়েছে সফল একটি ছাদ বাগানে। বর্তমানে তার বাগানে অস্ট্রেলিয়ান বিগ, থাই, রিমন, মেক্সিকান, মৃদুলাসহ ১১টি জাতের মোট ৩৩টি আনার গাছ রয়েছে।
ঘুরে দেখা যায়, লালচে-গোলাপি আনারে নুয়ে পড়েছে গাছের ডাল। কোথাও পাকা ফলের ভার। কোথাও আবার ফুটে আছে টকটকে লাল ফুল। সবুজ পাতার ফাঁকে ঝুলে থাকা আনার আর লাল ফুলের মেলবন্ধনে পুরো ছাদজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে এক মনোমুগ্ধকর পরিবেশ। যেন প্রকৃতি নিজেই এঁকেছে রঙিন এক ক্যানভাস। এবার গাছগুলোতে দ্বিতীয়বারের মতো ফল ধরেছে। প্রতিটি গাছে গড়ে ২০ থেকে ২৫টি করে আনার শোভা পাচ্ছে। ফলে ছাদ বাগানটি এখন লাল-সবুজের অপরূপ সৌন্দর্যে ভরে উঠেছে। প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ এই বাগান দেখতে আসছেন।
মনোজিত বিশ্বাস জানান, বিদেশে থাকাকালীন আধুনিক ফল চাষের বিভিন্ন পদ্ধতি দেখে দেশে ফিরে সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর চেষ্টা করেন। শুরুতে অল্প কয়েকটি গাছ দিয়ে বাগান শুরু করলেও ভালো ফলন পাওয়ায় ধীরে ধীরে বিভিন্ন জাতের আনার সংগ্রহ করেন। নিয়মিত পরিচর্যা, সঠিক সার প্রয়োগ ও সময়মতো সেচ দেওয়ার ফলে এবারও ভালো ফলন পেয়েছেন। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে আনার চাষের পরিকল্পনা করছেন তিনি।
হরিণাকুন্ডু উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শরীফ মোহাম্মদ তিতুমীর বলেন, কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে মনোজিত বিশ্বাসকে নিয়মিত কারিগরি পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। কৃষি বিভাগ এ ধরনের উদ্যোগকে আরও ছড়িয়ে দিতে কাজ করছে।
ছবি: সংগৃহীত
পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে ঘুমন্ত বাবাকে শিল-পাটা দিয়ে আঘাত করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে ছেলের বিরুদ্ধে। উপজেলার পূর্ব সুবিদখালী গ্রামে শুক্রবার (৩ জুলাই) ভোর ৪টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত উত্তম দেবনাথ (৬০) পেশায় দিনমজুর ছিলেন। ঘটনার পর অভিযুক্ত ছেলে তাপস দেবনাথকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।
মির্জাগঞ্জ থানার ওসি মো. তৌহিদুজ্জামান জানান, বৃহস্পতিবার রাতের খাবার শেষে উত্তম ও তার ছেলে তাপস একই ঘরে ঘুমাতে যান। নিহতের স্ত্রী কানন বারান্দার ঘরে ঘুমাচ্ছিলেন।
ভোর ৪টার দিকে তাপস ঘুম থেকে উঠে ঘরে থাকা শিল-পাটা নিয়ে ঘুমন্ত বাবার কপালে আঘাত করেন। স্বামীর চিৎকার শুনে বারান্দায় ঘুমিয়ে থাকা কানন ঘরে এসে চিৎকার শুরু করেন। পরে প্রতিবেশীরা ঘটনাস্থলে এসে ঘরে উত্তমকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে। বিষয়টি স্থানীয় ইউপি সদস্য মোশারেফ হোসেনকে জানালে সকাল ৭টার দিকে তিনি পুলিশকে জানান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার ও অভিযুক্ত ছেলে তাপস দেবনাথকে আটক করে।
ওসি মো. তৌহিদুজ্জামান বলেন, 'স্থানীয় জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে সংবাদ পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। অভিযুক্ত তাপসকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। হত্যার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে। প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।'
ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর গুলশানে যৌথ ব্যবসার নামে ১৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ‘ট্রাস্ট গোল্ড অ্যান্ড ডায়মন্ড লিমিটেড’ এর মালিক সৌমেন সাহাকে (৩৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। শুক্রবার (৩ জুলাই) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে হাতিরঝিল থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে গুলশান থানার পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছে বলে জানিয়েছে ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগ।
পুলিশ জানায়, ২০২০ সালে ধানমন্ডির মেট্রো শপিং মলে ব্যবসায়িক সূত্রে ভুক্তভোগী বিপ্লব চক্রবর্তীর সঙ্গে সৌমেন সাহার পরিচয় হয়। পরে পারিবারিক সম্পর্ক ও বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে ২০২৩ সালে দুবাই থেকে স্বর্ণ কেনার কথা বলে প্রথমে ৫০ লাখ টাকা ধার নেন সৌমেন সাহা।
এরপর গুলশানের পুলিশ প্লাজা কনকর্ড শপিং মলে ‘ট্রাস্ট গোল্ড অ্যান্ড ডায়মন্ড লিমিটেড’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান চালুর প্রস্তাব দিয়ে ভুক্তভোগীকে ব্যবসার অংশীদার করার আশ্বাস দেন। এভাবে বিভিন্ন সময়ে নগদ অর্থ ও চেকের মাধ্যমে মোট ১৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন সৌমেন সাহা।
অভিযোগে বলা হয়, অর্থ বিনিয়োগের পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও ব্যবসার কোনো হিসাব বা লভ্যাংশ দেননি তিনি। বরং হিসাব চাইলে ভুক্তভোগীকে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেন। পরে এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে গুলশান থানায় মামলা দায়ের করা হয়।
মামলার পর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে হাতিরঝিল এলাকা থেকে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে গুলশান থানা–পুলিশের একটি দল।
ছবি: সংগৃহীত
আইন, বিচার, সংবিধান ও মানবাধিকার বিষয়ক সাংবাদিকদের সংগঠন ল' রিপোর্টার্স ফোরামের (এলআরএফ) ২০২৬-২০২৭ মেয়াদে সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন ইংরেজি দৈনিক অবজারভারের সিনিয়র রিপোর্টার মুহাম্মদ ইয়াছিন। সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশ প্রতিদিনের আরাফাত মুন্না।
কার্যনির্বাহী কমিটিতে সহ-সভাপতি পদে সমকালের আবু সালেহ রনি, যুগ্ম সম্পাদক পদে বাংলানিউজের তানভীর আহমেদ, কোষাধ্যক্ষ পদে চ্যানেল টোয়েন্টি ফোরের মনজুর হোসাইন, সাংগঠনিক সম্পাদক পদে টাইমস অব বাংলাদেশের আহমেদ আল আমীন, দপ্তর সম্পাদক পদে খবরের কাগজের মাহমুদুল আলম, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের জাহিদুল বাশার এবং কার্যনির্বাহী সদস্য পদে চ্যানেল ওয়ানের জান্নাতুল ফেরদৌসী মানু ও আমাদের সময়ের আসাদুর রহমান নির্বাচিত হয়েছেন।
শুক্রবার (৩ জুলাই) সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির দক্ষিণ হলে ভোট গ্রহণ শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার আরটিভির হেড অব নিউজ ইলিয়াস হোসেন এই ফলাফল ঘোষণা করেন। এ সময় কমিশনের অপর দুই সদস্য এটিএন নিউজের হেড অব নিউজ মাশহুদুল হক ও সিনিয়র সদস্য সাজেদুল হক উপস্থিত ছিলেন। কমিশনের সাচিবিক সহায়তায় ছিলেন বাংলানিউজের স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট ইলিয়াছ সরকার।
এর আগে ফোরামের বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, বিশেষ অতিথি ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল। সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল, বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সদস্য নাসির উদ্দিন আহমেদ অসীম, মোহাম্মদ শিশির মনির ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক মোহাম্মদ আলী। সাধারণ সভায় সভাপতিত্ব করেন বিাদায়ী কমিটির সভাপতি হাসান জাবেদ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বিদায়ী কমিটিরি সেক্রেটারি মনিরুজ্জামান মিশন।
এসময় আরও উপস্তিত ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার অনীক আর হক, ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক মনোজ কান্তি রায়, প্রতিষ্ঠাতা সদস্য সচিব কাজী আব্দুল হান্নান, ফোরামের সাবেক সভাপতি স্বপন দাশ গুপ্ত, সালেহ উদ্দিন, এম বদি-উজ-জামান, আশুতোষ সরকার, সাঈদ আহমেদ খান, ওয়াকিল আহমেদ হিরণ, শামীমা আক্তার ও আশরাফ উল আলম প্রমুখ।
ছবি: সংগৃহীত
হাওরাঞ্চলের মৎস্যজীবীদের জীবিকা নির্বাহের সুবিধার্থে দেশের সকল উন্মুক্ত জলাশয় প্রকৃত মৎস্যজীবীদের জন্য উন্মুক্ত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। একইসঙ্গে অকাল বন্যা ও জলাবদ্ধতা থেকে বোরো ফসল রক্ষায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নদী ও খাল খনন কর্মসূচি আরও জোরদার করা হচ্ছে।
শুক্রবার (৩ জুলাই) সকাল সাড়ে নয়টায় নেত্রকোনা সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব তথ্য জানান মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার মৎস্যজীবী ও সাধারণ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় বদ্ধপরিকর। সরকারের মূল নীতি হচ্ছে—জাল যার, জল তার। এই নীতি অনুযায়ী সবার জন্য, বিশেষ করে প্রকৃত মৎস্যজীবীদের সুবিধার্থে জলাশয় উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে।
ইজারা প্রথার কারণে সৃষ্ট সমস্যার কথা উল্লেখ করে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, ইজারা দেওয়ার ফলে প্রভাবশালীরা যেভাবে হাওর বা জলাশয় দখল করে রাখতো এবং সাধারণ মানুষকে নামতে বাধা দিত, সেই প্রতিবন্ধকতা দূর করা হবে। সরকার আইনগতভাবে এই ধরনের সকল বাধা দূর করার উদ্যোগ নিয়েছে যাতে সাধারণ মানুষ ও মৎস্যজীবীরা নির্বিঘ্নে জলাশয়ে মৎস্য আহরণ করে জীবিকা নির্বাহ করতে পারে।
হাওরের জলাশয়গুলো ইজারামুক্ত করার প্রশ্নে প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, মহান স্বাধীনতার ঘোষক, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান খাল খনন কর্মসূচি গ্রহণ করেছিলেন তারই যোগ্য উত্তরসূরী প্রধানমন্ত্রী দেশনায়ক তারেক রহমান ইতোমধ্যেই খাল ও নদী খনন এবং জলাশয়কে কিভাবে ঠিক রাখা যায় এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেওয়া শুরু করেছেন এবং উদ্বোধনও করেছেন। তোমধ্যে অনেকগুলো খাল ও নদী খনন করেছি আমরা।
কাজেই এই নদীর নাব্যতা যাতে না কমে যায় এবং জলাবদ্ধতায় যাতে মানুষ দুর্ভোগে না পড়ে, জলাশয়গুলোতে যাতে মৎস্য চাষ করতে পারে, সেই ব্যাপারে আমরা ইতোমধ্যেই পদক্ষেপ নিয়েছি।
মত বিনিময়কালে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে সফরসঙ্গী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ এমপি, নেত্রকোনা-৪ (মদন-মোহনগঞ্জ-খালিয়াজুরী) আসনের সংসদ সদস্য ও সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর।
এছাড়াও জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ, জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সার্কিট হাউসে এই ব্রিফিং শেষে দিনব্যাপী সরকারি সফরের অংশ হিসেবে প্রতিমন্ত্রী জেলার মদন উপজেলার উচিতপুর ট্রলার ঘাটের পথসভায় অংশগ্রহণ এবং মাছের পোনা অবমুক্তকরণ কর্মসূচিতে অংশ নিতে রওনা হন।
দিনব্যাপী এই সফরে তিনি পরবর্তীতে খালিয়াজুড়ি উপজেলার মেন্দিপুর ইউনিয়নের রোয়াইল ও নাওটানা সংযোগস্থলে ফিশারিতে মাছের পোনা অবমুক্তকরণ, সদরের বাজোয়াইল কীর্তনখোলা ফিশারি এবং মোহনগঞ্জ উপজেলার গাগলাজুর ইউনিয়নের বরান্তর চিরাডুবি হাওরে মাছের পোনা অবমুক্তকরণ কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। সফর শেষে আজ রাতেই প্রতিমন্ত্রীর ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে।
ছবি: সংগৃহীত
সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়কমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, ‘দেশের অভ্যুদয়ের সঙ্গে যে নামটি জড়িত সেটি হচ্ছে মেজর জিয়াউর রহমান। দেশমাতৃকার টানে সাহসিকতার সঙ্গে চট্টগ্রামে প্রথম বিদ্রোহ করেছিলেন ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের একজন মেজর হিসেবে। জাতি যখন কোনো দিকনির্দেশনা পাচ্ছিলেন না, জাতি যখন হতাশাগ্রস্ত, তখন দায়িত্ব নিজ কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন মেজর জিয়া।’
শুক্রবার (৩ জুলাই) দুপুরে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পোমরায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রথম সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন ও দোয়া শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, ‘ইতিহাস থেকে কেউ শিক্ষা নিতে চায় না। বিগত সময়ে ভুল ইতিহাস গেলানোর চেষ্টা করা হয়েছে। আমাদের বাচ্চাদেরকে এবং নতুন প্রজন্মকে ভুল ইতিহাস শেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে। সেই শিক্ষাটা কি ২০২৪-এর ৫ আগস্ট হেলিকপ্টারে করে পালিয়ে যাওয়া? ইতিহাস তৈরি করা যায় না, ইতিহাস সৃষ্টি করা হয়। সেই ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান।’
এর আগে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাঙ্গুনিয়ার পোমরা জিয়ানগরস্থ প্রথম সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান এবং বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন ও গাছের চারা রোপণ করেন। পরে তিনি রাঙ্গুনিয়া এতিম ও দুঃস্থ শিশুদের বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে ৪৮তম ব্যাচের প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে পোশাক ও শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ করেন তিনি।
এ সময় ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, ‘প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে যারা নিজেকে দুর্বল ভাবেন, তারা যাতে আর দুর্বল না ভাবেন, সেজন্য প্রশিক্ষণোত্তর এখানে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হবে। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মতো বীরকে জাতি যাতে আজীবন শ্রদ্ধা জানাতে পারে, সম্মান জানাতে পারে, সেরকম একটি আবহ রাঙ্গুনিয়ার জিয়ানগরে করা হবে।’
চট্টগ্রাম বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয়ের পরিচালক মোহাম্মদ শহীদুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য মো. এরশাদ উল্লাহ, রাঙ্গুনিয়া আসনের সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাজমুল হাসান এবং এতিম ও দুঃস্থ শিশুদের বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের উপ-তত্ত্বাবধায়ক মো. ছানাউল্লাহ। অনুষ্ঠানে উপজেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে নিহত হওয়ার পর প্রথমে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে রাঙ্গুনিয়ার পোমরায় দাফন করা হয়েছিল। পরে তার মরদেহ ঢাকায় নিয়ে গিয়ে চন্দ্রিমা উদ্যানে (বর্তমান জিয়া উদ্যান) সমাহিত করা হয়।
ছবি: সংগৃহীত
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলছেন, নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকার নিরলস কাজ করছে। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ড ও স্বাস্থ্য কার্ডের মতো কর্মসূচি বাস্তবায়নে কোনো ঘাটতি রাখা হচ্ছে না এবং এগুলো নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে শুক্রবার (৩ জুলাই) রাজধানীর ঢাকেশ্বরী মন্দিরে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান একটি ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ সমুদ্রের মধ্যে এমন একটি ভূখণ্ড দেখিয়েছিলেন, যে ভূখণ্ডে সবার আশ্রয় হয়, প্রত্যেকটি জাতিসত্তার আশ্রয় হয়। সেই ভূখণ্ডটির নাম বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ।
রিজভী বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এমন একটি রাষ্ট্রচিন্তার ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন, যেখানে ধর্ম, জাতিসত্তা ও সম্প্রদায়–নির্বিশেষে সবাই সমান মর্যাদায় আশ্রয় পায়। সেই রাষ্ট্রচিন্তার নাম ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’।
জাতীয় পরিচয়ের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘আমি ‘বাঙালি’ বলার সঙ্গে সঙ্গে আমার পায়ের নিচে কোনো বৃত্তিকার স্পর্শ পাই না। কারণ প্রশ্ন আসবে, আপনি কোথাকার বাঙালি? আমেরিকার বাঙালি, না ফ্রান্সের বাঙালি, না পশ্চিমবঙ্গের বাঙালি, না ত্রিপুরার বাঙালি? কিন্তু ‘বাংলাদেশি’ বলার সঙ্গে সঙ্গে অপূর্ব এক ধরনের প্রেরণা বুকের মধ্যে জেগে ওঠে যে আমরা একটি স্বতন্ত্র দেশের মানুষ। আমাদের আলাদা পতাকা আছে, আলাদা মানচিত্র আছে, আলাদা জাতীয় সংগীত আছে, আলাদা ভাষা আছে। আর যে কোনো বিপদে আমরা একসঙ্গে দাঁড়াই।’
জুলাই আন্দোলনের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে রুহুল কবির রিজভী বলেন, ওই আন্দোলনে ধর্ম-বর্ণ-সম্প্রদায় নির্বিশেষে সবাই একসঙ্গে ছিল। সেদিন মুসলমান গুলি খেয়েছে, হিন্দুও গুলি খেয়েছে, খ্রিস্টানও গুলি খেয়েছে। আজ সারা বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন সম্প্রদায় ও নৃগোষ্ঠীর মানুষ এখানে এসেছেন। সমতলের সাঁওতাল, রাজবংশীসহ বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মানুষ যেমন আছেন, তেমনি পাহাড় থেকেও অনেকে এসেছেন। সবাই এক কাতারে, এক ব্যানারের নিচে মিলিত হয়েছেন।
দেশের মানুষের এই ভ্রাতৃত্ব কেউ ভাঙতে পারবে না বলেও মন্তব্য করেন রিজভী। তিনি বলেন, স্বাধীন সত্তা রক্ষায় সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করবে, একসঙ্গে লড়াই করবে, দেশ গড়বে এবং যেকোনো আক্রমণ সম্মিলিতভাবে প্রতিরোধ করবে।
অনুষ্ঠানের প্রসঙ্গ টেনে রিজভী বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকীতে তার আত্মার শান্তি ও সদগতি কামনায় বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান দেবালয়ে বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠ করা হয়েছে। এতে সব সম্প্রদায়ের মানুষের অংশগ্রহণ তাকে অভিভূত করেছে। তিনি এ জন্য সব সম্প্রদায়ের মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
যাদের বার্ষিক আয় চার লাখ টাকা, তাদের আয়কর দিতে হবে না। এ ছাড়া মুদির দোকানে ভ্যাট আরোপের প্রস্তাব জনমতের পরিপ্রেক্ষিতে প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ১২ কেজি গ্যাস সিলিন্ডারের দাম ৩৫৭ টাকা কমানো হয়েছে। জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
শিক্ষা খাতের বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে রিজভী করে বলেন, এবার ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষার জন্য নিবন্ধন করা শিক্ষার্থীদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি। কেন এত শিক্ষার্থী ঝরে যাচ্ছে, তা শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখতে হবে। একটি গণতান্ত্রিক ও জবাবদিহিমূলক সরকারের দায়িত্ব হলো শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিশ্চিত করা এবং কোনো শিক্ষার্থী যাতে ঝরে না পড়ে, সে ব্যবস্থা নেওয়া।
ছবি: সংগৃহীত
ফুটবল বিশ্বকাপের জয়-পরাজয় নিয়ে সমর্থকদের উচ্ছ্বাস যাতে প্রাণঘাতী সংঘর্ষে রূপ না নেয়, সে জন্য রাজধানীর বিভিন্ন পাড়া-মহল্লা ও জনসমাগমস্থলে, বড় স্ক্রিনে খেলা দেখার স্থানগুলোতে বিশেষ নজরদারি চালাবে থানা-পুলিশ ও ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। শুক্রবার (৩ জুলাই) বিকালে মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ডিবির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম।
রাজধানীর আদাবরে ব্রাজিলের খেলা দেখা ও জয় উদযাপনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে বিএনপি নেতা মো. আবুল বাশার বাদশা হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তার-পরবর্তী এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে বড় স্ক্রিনে খেলা দেখা হয়। এসব স্থান আমরা নজরদারিতে রাখছি। ডিএমপির সব থানাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কোথায় কোথায় বড় স্ক্রিনে খেলা দেখানো হয়, সেসব আয়োজকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হবে। ডিবিও নজরদারি করবে, যাতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে।’
নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আনন্দটা যেন আনন্দের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে, কোনোভাবেই তা বিষাদে পরিণত না হয়। খেলায় হার-জিত থাকবে। সবাই পরস্পরের মতামত ও সমর্থনকে সম্মান করবেন এবং সহনশীল আচরণ করবেন।’
ডিবি জানায়, গত সোমবার (২৯ জুন) রাতে ফুটবল বিশ্বকাপে জাপানের বিপক্ষে ব্রাজিলের জয় উদযাপনকে কেন্দ্র করে আদাবরের নবোদয় হাউজিং এলাকায় স্থানীয় কয়েকজন কিশোর ঢোল ও বাঁশি বাজিয়ে আনন্দ করছিলেন। এ সময় হাবিব নামে এক ব্যক্তি নিরব নামে এক যুবককে মারধর করেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে গত বুধবার রাতে ইউনিট বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. আবুল বাশার বাদশাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
এ ঘটনায় সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে গত বৃহস্পতিবার ময়মনসিংহ থেকে নিরব, রিপন, মজনু ও মিজানুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে ডিবির তেজগাঁও বিভাগ।
অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘গ্রেপ্তার চারজনের মধ্যে রিপন সরাসরি ছুরিকাঘাত করেছে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরিটিও উদ্ধার করা হয়েছে।’
তিনি আরও জানান, হামলায় আহত ইউনিট বিএনপির সভাপতি গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
মন্তব্য