রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নতুন উপশহর পূর্বাচলও ঢুকছে ঢাকার পেটে। দেশের সবচেয়ে বড় পরিকল্পিত এই শহর মূলত ঢাকা, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ- এই তিন জেলার অংশ নিয়ে তৈরি করা হয়েছে। এতে শহরটির প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা, আইনশৃঙ্খলা, ভূমি রেকর্ড এবং নাগরিক সেবা পরিচালনায় নানা জটিলতা সৃষ্টি হওয়ায় এটি ঢাকা জেলার সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বুধবার (১ জুলাই) প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে সচিবালয়ে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) ১২১তম সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বৈঠকে নতুন তিনটি উপজেলা গঠনসহ মোট ছয়টি প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হলে পাঁচটি প্রস্তাব অনুমোদন পেয়েছে বলে প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব হাসান শিপলু নিশ্চিত করেছেন।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্র জানায়, পূর্বাচল নতুন শহরের বড় একটি অংশ পড়েছে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলায় এবং কিছু অংশ পড়েছে গাজীপুরের কালীগঞ্জে। তিন জেলায় বিভক্ত হওয়ায় এ প্রকল্পের প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনায় জটিলতা হচ্ছিল। সেই সমস্যা দূর করতে প্রকল্পটির পুরো এলাকা ঢাকা জেলায় অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছিল গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। নিকার বৈঠকে সেটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়াও, বৈঠক চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন নিয়ে ‘ফটিকছড়ি উত্তর’, কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন নিয়ে ‘বাঙ্গরা’ এবং ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার পাগলা থানার আটটি ইউনিয়ন নিয়ে ‘দক্ষিণ গফরগাঁও’ উপজেলা গঠনের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
একইসঙ্গে চট্টগ্রামের হাটহাজারী থানাকে বিভক্ত করে ‘হালদা থানা’ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবও অনুমোদন পেয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত নিকার এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লি উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তারসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবেরা।
প্রস্তাব অনুযায়ী, পূর্বাচলের প্রায় ৬ হাজার ২১ একর জমি ঢাকা জেলার আওতায় আসবে। একই সঙ্গে দেশের সবচেয়ে বড় পরিকল্পিত আবাসন প্রকল্পটি সম্পূর্ণভাবে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) অধীনে চলে আসবে। এতে ঢাকা জেলার আয়তন বাড়বে, আর কিছুটা ছোট হবে গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ জেলা।
গৃহায়ণ ও গণপূর্ত সচিব মো. নজরুল ইসলাম বলেছেন, ‘নিকারের সভায় অনুমোদন পাওয়ায় প্রকল্প এলাকাটি ঢাকা উত্তর সিটির আওতায় আনা হবে। ফলে পুরো পূর্বাচল নতুন শহর পরিচালিত হবে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) এবং ঢাকা ওয়াসার আওতায়। এতে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ, ভূমি ব্যবস্থাপনা, নাগরিক সেবা এবং অবকাঠামো পরিচালনায় সমন্বয় অনেক সহজ হবে।
এই উদ্যোগের পেছনে রয়েছে কয়েক মাসের প্রশাসনিক প্রক্রিয়া। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর গত ২৫ মার্চ গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক হয়। পরে ২৩ এপ্রিল মন্ত্রিসভার বৈঠকে পূর্বাচলকে ঢাকা জেলার আওতায় আনার নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়।
এর আগে গত ১০ এপ্রিল জারি হওয়া ‘রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০২৬’-এ রাজউকের কার্যপরিধি নতুনভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে। আইনের ১(২) ধারায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, রাজউকের আওতা ঢাকা মহানগরী ছাড়াও ঢাকা জেলার সাভার ও কেরানীগঞ্জ এবং নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর জেলার নির্ধারিত এলাকাজুড়ে বিস্তৃত থাকবে। নতুন আইনে রাজউকের ভৌগোলিক কার্যপরিধি বহাল থাকলেও প্রশাসনিক সুবিধার জন্য পূর্বাচল প্রকল্পের অংশবিশেষকে ঢাকা জেলায় অন্তর্ভুক্ত করার পৃথক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ আগে পূর্বাচলকে ঢাকার মধ্যে আনার কারণ জানিয়ে রাজউকের নগর পরিকল্পনাবিদ প্রকৌশলী মোহাম্মদ নূর-ই-খোদা বলেছিলেন, প্রকল্প হস্তান্তরের পরই রাজউকের দায়িত্ব শেষ। সেক্ষেত্রে পূর্বাচল প্রকল্পের রাস্তাঘাট নির্মাণ, নিরাপত্তা, বিদ্যুৎ, পানিসহ সেবা-পরিসেবার বিষয়টি দেখভাল করবে কে? এ সবকিছুর সুষ্ঠু সমাধানের জন্যই পুরো প্রকল্পটি ঢাকা জেলার অধীনে আনা হচ্ছে।
১৯৯৫ সালে রাজউকের নিজস্ব অর্থায়নে শুরু হওয়া পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্প বর্তমানে প্রায় ৬ হাজার ২৬১ একর জমির ওপর গড়ে উঠেছে। এখানে ৩০টি সেক্টরে রয়েছে ২৬ হাজারের বেশি আবাসিক প্লট এবং সাড়ে তিন হাজারের বেশি বাণিজ্যিক, প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক প্লট।
আধুনিক অবকাঠামো গড়ে উঠলেও প্রশাসনিক বিভাজনের কারণে নাগরিক সেবা ও ব্যবস্থাপনায় যে জটিলতা এতদিন ছিল, সরকার আশা করছে এই নতুন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে তার অবসান ঘটবে। ফলে পূর্বাচল শুধু পরিকল্পিত শহর হিসেবেই নয়, প্রশাসনিকভাবেও একটি একক ও সমন্বিত নগর হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।
ছবি: সংগৃহীত
দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবন সংগ্রাম, সাফল্য, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এবং বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর বহুমাত্রিক অবদানকে জাতীয় পরিসরে তুলে ধরার লক্ষ্যে বাহিনীর নতুন মিডিয়া সেল ‘প্রান্তিক কণ্ঠস্বর’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে
বুধবার (১ জুলাই) বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদর দপ্তরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন মিডিয়া সেলটির উদ্বোধন করেন। তিনি ‘প্রান্তিক কণ্ঠস্বর’-কে সরকারের উন্নয়ন এজেন্ডা বাস্তবায়ন এবং মাটি ও মানুষের কল্যাণে বাহিনীর কর্মকাণ্ড জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার একটি কার্যকর সেতুবন্ধন হিসেবে অভিহিত করেন।
বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ-এর সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রেলপথ এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, এমপি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর বিশাল সদস্যশক্তিকে প্রচলিত কর্মকাঠামোর মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে পরিবর্তনশীল বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, প্রযুক্তিনির্ভর ও গতিশীল কর্মধারায় সম্পৃক্ত করতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, বাহিনীর প্রায় ৬০ লাখ সদস্যকে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের আওতায় আনার মাধ্যমে তাদের দক্ষতা, সক্ষমতা ও ইতিবাচক কর্মকাণ্ডকে আরও কার্যকরভাবে জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরা সম্ভব হবে।
তিনি আরও বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি ও দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে আনসার ও ভিডিপি একটি আরও আধুনিক, দক্ষ ও যুগোপযোগী বাহিনী হিসেবে গড়ে উঠবে। এ লক্ষ্য অর্জনে ‘প্রান্তিক কণ্ঠস্বর’ একটি সময়োপযোগী ও দূরদর্শী উদ্যোগ, যা প্রান্তিক জনগোষ্ঠী এবং দেশ ও জাতির কল্যাণে নিরলসভাবে কাজ করে যাওয়া মানুষের অবদান তুলে ধরার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ বলেন, আজকের আয়োজন কেবল একটি মিডিয়া সেলের উদ্বোধন নয়; বরং বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর তথ্য ও জনসংযোগ কার্যক্রমকে আরও আধুনিক, গতিশীল ও কার্যকর করার নতুন সূচনা। তিনি বলেন, এই উদ্যোগ সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে বাহিনীর ভূমিকা আরও সুদৃঢ় করবে এবং সরকারের আস্থাশীল অংশীদার হিসেবে বাহিনীর কার্যক্রমকে নতুন মাত্রা প্রদান করবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘প্রান্তিক কণ্ঠস্বর’ সত্য, নির্ভুল ও যাচাইকৃত তথ্য প্রচারের একটি নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হিসেবে কাজ করবে। একই সঙ্গে বাহিনীর সাফল্য, উদ্ভাবন এবং জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড জনগণের সামনে যথাযথভাবে তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সভাপতির বক্তব্যে মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ বলেন, আনসার ও ভিডিপির বিশাল জনশক্তিকে কাজে লাগিয়ে সরকারের আর্থসামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড আরও সুসংগঠিত ও গতিশীলভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব। নিরাপত্তা প্রদানের পাশাপাশি সমাজ বিনির্মাণে বাহিনীর সদস্যদের অবদান, প্রান্তিক মানুষের জীবনসংগ্রাম, সাফল্যের গল্প এবং বিভিন্ন ইতিবাচক উদ্যোগ এই অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে দেশবাসীর সামনে তুলে ধরা হবে।
তিনি আরও বলেন, প্রান্তিক পর্যায়ে এমন অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও বাস্তব চিত্র রয়েছে, যা মূলধারার সংবাদমাধ্যমে সবসময় স্থান পায় না। ‘প্রান্তিক কণ্ঠস্বর’ সেইসব তথ্য তুলে ধরার পাশাপাশি গুজব ও ভুয়া তথ্য প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। একই সঙ্গে বর্তমান সরকারের কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, তথ্যভিত্তিক যোগাযোগ জোরদার এবং জনগণ ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আস্থার সম্পর্ক সুদৃঢ় করতেও এ প্ল্যাটফর্ম গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
অনুষ্ঠানে বাহিনীর অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মামুনূর রশিদ, উপমহাপরিচালকবৃন্দ, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি সাফল্যমণ্ডিত হয়। ‘প্রান্তিক কণ্ঠস্বর’-এর যাত্রা বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর তথ্যপ্রবাহকে আরও আধুনিক, স্বচ্ছ ও জনমুখী করে তোলার পাশাপাশি প্রান্তিক মানুষের কণ্ঠস্বরকে জাতীয় পরিসরে পৌঁছে দেওয়ার একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন।
ছবি: সংগৃহীত
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সাবেক মন্ত্রী ও রাঙামাটি আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান পদত্যাগের প্রায় এক মাস পর নিজ নির্বাচনী এলাকা রাঙামাটিতে এসে দলীয় নেতাকর্মীদের সংবর্ধনায় সিক্ত হয়েছেন।
বুধবার (১ জুলাই) রাঙামাটিতে পৌঁছালে জেলার প্রবেশদ্বার বেতবুনিয়া থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্থানে বিএনপির নেতাকর্মীরা মিছিল, স্লোগান ও ফুল দিয়ে তাকে স্বাগত জানান। পরে গাড়িবহরসহ তিনি শহরের কাঠালতলীস্থ জেলা বিএনপির কার্যালয়ে পৌঁছান। সেখানে আবেগঘন পরিবেশে নেতাকর্মীদের সংবর্ধনার জবাবে বক্তব্য রাখেন তিনি।
দীপেন দেওয়ান বলেন, "বিএনপিকে নিয়ে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। আমি সেই ষড়যন্ত্রের মোকাবিলায় তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে আছি। আমাদের নেতা তারেক রহমান, তাঁর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। তাঁর নেতৃত্বে তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে আমি এগিয়ে যেতে চাই।"
মন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগের ঘটনায় হতাশ না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, "আমি এখনো সংসদ সদস্য আছি। আপনাদের সুখ-দুঃখে পাশে থেকে এলাকার মানুষের সমস্যা সমাধানে আগের মতোই কাজ করে যাব।"
তিনি আরও বলেন, "বিএনপির বিরুদ্ধে কোনো ষড়যন্ত্র বরদাশত করা হবে না। দলের বিরুদ্ধে যেকোনো ষড়যন্ত্র ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিহত করতে হবে।" এ সময় তিনি নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, গত ১ জুন শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান। এরপর তিনি ঢাকায় অবস্থান করলেও জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে অংশ নেন।
সরকারের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের প্রায় তিন মাসের মাথায় তাঁর পদত্যাগ দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। পরে তাঁর পদত্যাগ প্রত্যাহার করে পুনর্বহালের দাবিতে দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরাও আন্দোলন ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন।
ছবি: সংগৃহীত
সব দেশের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক অনন্য। এক দেশের সাথে ভাল সম্পর্ক হলে তা অন্য দেশের সাথে সম্পর্কে প্রভাব ফেলবে না-বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে সব দেশের সাথে সু সম্পর্ক রেখে আমাদের দেশের স্বার্থ হাসিল করা। বুধবার (১ জুলাই) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামিনীর জানাযায় অংশ নিতে স্পিকারের ইরান গমনের বিষয়টি ঢাকা ও তেহরানের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের প্রতিফলন। বিরোধী দলের কেউ ইরানে ব্যক্তিগতভাবে গেলে এটি তাদের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। বিগত ১৭ বছরে যে দেশগুলোতে টাকা পাচার হয়েছে সে নামগুলো আপনারাও জানেন। সে সকল দেশের সাথে আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কও জোরদার আছে।
তিনি আরও বলেন, দশটি দেশ থেকে পাচার হওয়া টাকা ফেরাতে বাংলাদেশের সাথে যে চুক্তি এটি আমাদের জন্য বড় অগ্রগতি। টাকা ফেরতের বিষয়ে একটি প্রপার মেকানিজম আছে। এটা রাতারাতি হওয়ার মতো কোন বিষয় না। টাকা ফেরতের কাজ চলমান আছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফর নিয়ে প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেন, চীন আমাদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে শক্তিশালী অংশীদার। তাদের সাথে আমাদের দেশের সম্পর্ক বরাবরই ভাল ছিল। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই সফরের মধ্য দিয়ে তা আরো জোরদার হয়েছে। আমরা আমাদের দেশে চীনা বিনিয়োগ বাড়ার আশা করছি।
চীনের প্রস্তাবিত টু প্লাস টু বৈঠক ও করিডোরের প্রস্তাব পর্যালোচনা করছে বাংলাদেশ। দেশের স্বার্থ রক্ষা হলে তা বাস্তবায়ন করা হবে বলেও জানান তিনি।
ফাইল ছবি
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুলিশ বাহিনীর বিরুদ্ধে একটি স্বার্থান্বেষী চক্র পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন। বাহিনীর কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন, মনগড়া ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে সংগঠনটি।
বুধবার (১ জুলাই) ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার ও অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধি শামীমা পারভীন স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এই প্রতিবাদ জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, সম্প্রতি বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপ, পেজ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, বানোয়াট ও মনগড়া তথ্য ছড়িয়ে দ্রুত ভাইরাল করা হচ্ছে।
অ্যাসোসিয়েশনের মতে, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লবের মধ্য দিয়ে দেশে ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটে। পরবর্তীতে অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করে। এরপর দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং জনগণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে পুলিশ বাহিনী নতুন উদ্যমে কাজ শুরু করেছে। কিন্তু বর্তমান সরকারের সময়ে বাহিনীর কার্যক্রম, জনসেবা ও পেশাদারিত্ব জোরদার করার এই কার্যকলাপে বাধা সৃষ্টি করতে একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে অপতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।
পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন জানায়, অপপ্রচারকারী চক্রটি বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপ ও পেজে একযোগে মিথ্যা ও গুজব সম্বলিত পোস্ট তৈরি করে তা দ্রুত ভাইরাল করছে। বিশেষ করে বিগত সময়ে বৈষম্যের শিকার যেসব দক্ষ, সৎ ও যোগ্য কর্মকর্তা বর্তমানে দুর্নীতি, অপরাধ ও অনিয়ম দমনে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছেন, তারাই বেশি এই অপপ্রচারের শিকার হচ্ছেন। এর উদ্দেশ্য হলো পুলিশ সদস্যরা নতুন উদ্যমে যেন কাজ করতে না পারেন এবং বাহিনীর কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয়।
আইন ও নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের বরাত দিয়ে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার নামে এ ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এটি কেবল ব্যক্তিগত সুনামহানির চেষ্টা নয়, বরং রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র। এই ধরনের কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে পুলিশসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা ইতোমধ্যেই কঠোর নজরদারি শুরু করেছে।
বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন আশা প্রকাশ করেছে, এই ধরনের অপপ্রচার ও বিভ্রান্তি রুখে দিয়ে দেশের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বাংলাদেশ পুলিশের সব সদস্য পেশাদারিত্বের সঙ্গে আইন প্রয়োগে আরও কঠোর ও দৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।
ছবি: সংগৃহীত
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্বের একমাত্র প্রতিষ্ঠান যা একটি দেশের জন্ম দিয়েছে। এমন মন্তব্য করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবিএম ওবায়দুল ইসলাম। বুধবার (১ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৫তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে বর্ণাঢ্য র্যালি শেষে এ মন্তব্য করেন তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয়কে বিশ্বের প্রথম সারির প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে সবার সহযোগিতা চান তিনি।
অনুষ্ঠানের উপস্থিত অতিথিরা বলেন, দেশ বিনির্মাণে যারা নেতৃত্ব দিচ্ছেন তাদের বেশিরভাগই এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। বিদেশেও গৌরবজ্জ্বল অবদান রাখছেন তারা।
এ সময় ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, ‘২৪ এর গণঅভ্যুত্থানের পর সবচেয়ে বড় অর্জন হল, ক্যাম্পাসে এখন সব সংগঠন সমানভাবে কাজ করার সুযোগ পাচ্ছে, শূন্যে নেমে এসেছে নৈরাজ্য ও সন্ত্রাসবাদ।
ছবি: সংগৃহীত
ঢাকা-১৫ আসনের দীর্ঘদিনের নাগরিক সমস্যা সমাধানে এক মঞ্চে দাঁড়িয়েছেন সরকারি দল ও বিরোধী দলের শীর্ষ নেতারা। বুধবার (১ জুলাই) সকালে মিরপুর ও শেওড়াপাড়ার চারটি স্থানে পৃথক মতবিনিময় সভায় এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ দেখা যায়। সভায় এলাকার তীব্র পানি ও গ্যাস সংকট নিরসন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ এবং কিশোর গ্যাং দমনে জনগণকে সাথে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান।
বুধবার (১ জুলাই) সকাল ৯টায় পশ্চিম শেওড়াপাড়ার ৩ নম্বর গলিতে প্রথম আনুষ্ঠানিক পরিদর্শন শুরু হয়। পরে নেতারা পূর্ব মনিপুর বাইতুর রহিম জামে মসজিদ এলাকা, বাইশটেকী সরকার বাড়ি মোড় (৪ নম্বর ওয়ার্ড) এবং ইব্রাহিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এলাকা সরজমিনে পরিদর্শন করেন। তারা স্থানীয় জনগণের কাছ থেকে পানি সংকট, গ্যাস সমস্যা, ডেঙ্গু পরিস্থিতি ও পশ্চিম শেওড়াপাড়া খালের অবৈধ দখল ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিয়ে অভিযোগ শোনেন এবং দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেন।
ব্যতিক্রমী এই উদ্যোগের বিষয়ে জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রী জাতীয় সংসদে আমার কথা শুনেছেন এবং রেখেছেন। এরই আলোকে আজ ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সরকারি দল ও বিরোধী দল আমরা একত্রে এলাকার সমস্যা সমাধানে মিলিত হয়েছি এবং জনগণের সহায়তায় আমরা সকল সমস্যার সমাধান করব ইনশাল্লাহ।
এলাকার সংকটের কথা তুলে ধরে জামায়াতের আমির আরও বলেন, এলাকায় তীব্র পানির সংকট রয়েছে, গ্যাসের সমস্যা ও কিশোর গ্যাংয়ের সমস্যাসহ বিভিন্ন সমস্যা রয়েছে। তবে এই সমস্যা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী এবং সরকারের একার পক্ষে সমাধান করা সম্ভব না। এই সমস্যা সমাধানে সরকারি দল ও বিরোধী দল মিলে জনগণের সহায়তায় সমাধান করা হবে। জনগণ যদি এগিয়ে না আসে, তাহলে কোনোদিনও এই সমস্যা সমাধান করা যাবে না।
এলাকার প্রতিটি নাগরিককে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে সরকারকে সহযোগিতা করার অনুরোধ জানান তিনি। একই সাথে, এই জনকল্যাণমুখী মতবিনিময় সভা আয়োজনের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান বিরোধীদলীয় নেতা।
স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশেই তারা ডিএনসিসির পুরো টিমকে নিয়ে জনগণের অভাব ও অভিযোগ শুনতে এসেছেন। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমে ঢাকা-১৫ আসনের সকল সমস্যা সমাধান করা হবে এবং সরকারি ও বিরোধী দল মিলে উন্নত ঢাকা গড়ে তুলবে।
ডিএনসিসি প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেন, ‘ক্লিন ঢাকা, গ্রিন ঢাকা’ গড়ে তুলতে সিটি করপোরেশন নিয়মিত কাজ করছে। ঢাকা-১৫ আসনের উন্নয়নের দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রী নিজে নিয়েছেন উল্লেখ করে তিনি ডেঙ্গু ও কিশোর অপরাধ নিয়ন্ত্রণে নগরবাসীকে সহযোগিতার আহ্বান জানান।
এ সময় পশ্চিম শেওড়াপাড়া ও মনিপুরী পাড়ার দীর্ঘদিনের পানির সমস্যা সমাধানে জরুরি ভিত্তিতে পাঁচটি পানির পাম্প নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাম্পগুলোর জন্য দ্রুত স্থান নির্ধারণ করতে স্থানীয় জনগণকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান নেতারা।
এই প্রকল্প বাস্তবায়নে বিরোধীদলীয় নেতা, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী এবং ডিএনসিসি প্রশাসক প্রত্যেকে তাদের নিজস্ব তহবিল থেকে ২০ লাখ টাকা করে মোট ৬০ লাখ টাকা অনুদান দেওয়ার ঘোষণা দেন।
মতবিনিময় সভায় ওয়াসার এমডি, তিতাসের এমডি, উত্তর সিটি করপোরেশনের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা, প্রধান বর্জ্য কর্মকর্তা ও প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তাসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
ছবি: সংগৃহীত
পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও শক্তিশালী করতে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) চারটি থানা, ছয়টি তদন্ত কেন্দ্র ও দুটি পুলিশ লাইনস স্থাপনের নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। একই সঙ্গে তিনটি ডিসি অফিস, ৪১টি পুলিশ বক্স এবং স্বতন্ত্র ডিএমপি বিভাগ গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির। বুধবার (১ জুলাই) সকালে পূর্বাচলে পুলিশ ক্যাম্প উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এ তথ্য দেন তিনি।
আইজিপি আলী হোসেন ফকির জানান, পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্প এলাকায় ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) চারটি থানা, ছয়টি তদন্ত কেন্দ্র এবং দুটি পুলিশ লাইনস স্থাপনের জন্য নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ ছাড়াও তিনটি ডিসি অফিস স্থাপনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এসবের পাশাপাশি পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের বিভিন্ন সেক্টরে ৪১টি পুলিশ বক্স স্থাপনের প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।
আইজিপি আরও জানান, পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্প ডিএমপির অধীনে এনে এখানে ডিএমপির অন্যান্য বিভাগের মতো একটি স্বতন্ত্র বিভাগ সৃষ্টি করে একজন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনানের তত্ত্বাবধানে আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
তিনি বলেন, ‘পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের জন্য পুলিশের প্রায় ৬ হাজার ৫২৪ জন জনবল সৃষ্টির প্রস্তাব বিবেচনায় রাখা হয়েছে।’
তিনি জানান, ইতোমধ্যে পুলিশের অনুকূলে ২৯.২১ একর জমি বরাদ্দের মধ্যে ১৮.৬৩ একরের রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হয়েছে। ভবিষ্যতে পূর্বাচলকে ডিএমপির আওতায় এনে একজন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনারের নেতৃত্বে পৃথক বিভাগ গঠন এবং প্রায় ৬ হাজার ৫২৪ জন জনবল সৃষ্টির পরিকল্পনা রয়েছে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদসহ পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তারা ও স্থানীয়রা।
মন্তব্য