কুমিল্লা নগরীর কোতয়ালী মডেল থানা এলাকায় র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-১১-এর পৃথক দুইটি মাদকবিরোধী অভিযানে ৫০ কেজি গাঁজাসহ দুই মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাও জব্দ করা হয়।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুর এবং বুধবার (১ জুলাই) সকালে র্যাব-১১, সিপিসি-২, কুমিল্লার পৃথক অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। বুধবার (১ জুলাই) র্যাব-১১-এর অধিনায়কের কার্যালয় থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ৩০ জুন দুপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কোতয়ালী মডেল থানার টিক্কারচর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে র্যাবের একটি বিশেষ আভিযানিক দল। অভিযানে মাহমুদুল হাসান জিদান (২৫) নামে এক মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার হেফাজত থেকে ২০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়।
একইভাবে, ১ জুলাই সকালে কোতয়ালী মডেল থানার তেলীকোনা এলাকায় পরিচালিত পৃথক আরেকটি অভিযানে মো. মনির হোসেন (৩৭) নামে এক মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার হেফাজত থেকে ৩০ কেজি গাঁজা এবং মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা জব্দ করা হয়।
র্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার দুজনই দীর্ঘদিন ধরে কুমিল্লার সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে গাঁজা সংগ্রহ করে কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে বিক্রি করে আসছিলেন বলে স্বীকার করেছেন।
র্যাব-১১ জানায়, মাদকের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। মাদক নির্মূলে র্যাবের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। গ্রেপ্তার দুই আসামির বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
উল্লেখ্য, র্যাব-১১ জানায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত তাদের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় পরিচালিত বিভিন্ন অভিযানে ৭৫০ জনের বেশি মাদক কারবারিসহ হত্যা, অস্ত্র, ধর্ষণ, অপহরণ, ছিনতাই ও অন্যান্য অপরাধে জড়িত বিপুল সংখ্যক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গোলাবারুদ ও মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে।
ছবি: নিউজ বাংলা
মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার বলধারা ইউনিয়নের নবগ্রাম কাশতা এলাকার একটি পাটক্ষেত থেকে সাকিবুল ইসলাম (১৭)নামের অটোরিকশাচালকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা অটোরিকশার সূত্র ধরে অভিযান চালিয়ে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে নিহতের কাছে থাকা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে তার পরিচয় শনাক্ত করেন পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া তিনটি স্যান্ডেলকেও গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় একজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) দিবাগত রাত প্রায় ১২ টার দিকে এ মরদেহ উদ্ধার করেন থানা পুলিশ। নিহত সাকিবুল ইসলাম মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার মিতরা গ্রামের রহম আালী ওরফে টুলুর ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাতে নবগ্রাম কাশতা গোলাই এলাকায় একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা পড়ে থাকতে দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আশপাশে তল্লাশি চালিয়ে একটি পাটক্ষেত থেকে সাকিবুলের মরদেহ উদ্ধার করে। সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মানিকগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
পুলিশ জানায় , প্রথমে অটোরিকশার সূত্র ধরে ঘটনাস্থলে অনুসন্ধান চালানো হয়। পরে নিহতের কাছে থাকা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে তার পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। এছাড়া ঘটনাস্থল থেকে তিনটি স্যান্ডেল জব্দ করা হয়েছে। এসব আলামত গুরুত্ব দিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে পুলিশ।
এ ব্যাপারে সিংগাইর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মাজহারুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। নিহতের শরীরে দৃশ্যমান কোনো আঘাতের চিহ্ন না থাকলেও প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পূর্ব শত্রুতার জেরে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার সন্দেহে স্বপন (২২) নামে এক ফার্নিচার ডিজাইনারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
বুধবার (১ জুলাই) দুপুরে মানিকগঞ্জের পুলিশ সুপার সারওয়ার আলম এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সালাউদ্দিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তারা তদন্তের অগ্রগতি পর্যালোচনা করে দ্রুত রহস্য উদ্ঘাটনের নির্দেশনা দেন।
ছবি: নিউজ বাংলা
টাঙ্গাইলের সখীপুরে নিখোঁজের দুইদিন পর বাসার পাশে একটি ডোবা থেকে পারভীন আক্তার (৪৬) নামে এক বিধবা নারীর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বুধবার (১ জুলাই) দুপুরের দিকে সখীপুর পৌর সভার ৭ নং ওয়ার্ডের হাসপাতাল গেইটের দক্ষিণে বাসার কাছ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পারভীন আক্তার ওই ওয়ার্ডের মৃত হুমায়ন খানের স্ত্রী।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, এক ছেলে ও এক মেয়ের জননী তিনি। ছেলে ঢাকার সাভারে চাকরি করার সুবাদে সেখানে থাকেন। মেয়েকেও বিয়ে দিয়েছেন গত দু মাস হলো। এরপর থেকেই পারভীন বাসায় একাই থাকতেন। গত ২৯ জুন রাত সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকার সাভারে চাকুরিরত ছেলে সোাহেল রানা ফাহাদের সঙ্গে মোবাইলে তার সর্বশেষ কথা হয়। পরদিন মঙ্গলবার সকাল থেকে ফাহাদসহ পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা একাধিকবার ফোন করলেও মোবাইল বেজে গেলেও তিনি আর কল রিসিভ করেননি।
পরে ৩০জুন সন্ধায় ফাহাদ ঢাকা থেকে ফিরে সখীপুর থানায় একটি অপহরণ মামলা করেন। গতকাল রাত থেকেই পুলিশ ও পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোজাখুজি শুরু করেন।
খোজাখুজির একপর্যায়ে আজ বুধবার দুপুরের দিকে বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহতের ছেলে মামলার বাদী সোহেল রানা ফাহাদ বলেন, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। দায়ীদের অবিলম্বে গ্রেফতার ও তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
এবিষয়ে সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) বাসাইল-সখীপুর ইনচার্জ এ কে এম মামুনুর রশিদ বলেন, লাশের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন বুঝা যাচ্ছে এটি একটি হত্যাকাণ্ড। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। দায়ীদের সনাক্ত কারণের কাজ অব্যাহত আছে।
ছবি: সংগৃহীত
ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় সাবাজপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের চার শিক্ষার্থী প্রাইভেট পড়তে গিয়ে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল থেকে তাদের কোনো সন্ধান না পাওয়ায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিখোঁজ হওয়া ছাত্রীদের পরিবারের সদস্যরা বালিয়াডাঙ্গী থানায় পৃথক সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।
নিখোঁজ এই ছাত্রীরা সবাই চাড়োল ইউনিয়নের সাবাজপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং একই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। নিখোঁজদের মধ্যে রয়েছে খুশি, মল্লিকা ও ঋতু দেবনাথ, যারা দশম শ্রেণিতে পড়াশোনা করছে। এছাড়া অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী সুজুতি রানী দেবনাথও তাদের সঙ্গে ছিল। তারা চারজনই গত মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে বাড়ি থেকে প্রাইভেট পড়ার কথা বলে বের হওয়ার পর আর ফিরে আসেনি।
স্বজনরা জানান, দীর্ঘ সময় পার হলেও ছাত্রীরা বাড়ি না ফেরায় তারা সম্ভাব্য সকল স্থানে তল্লাশি চালিয়েছেন। আত্মীয়-স্বজন ও পরিচিতদের বাড়িতে খোঁজ নিয়েও তাদের কোনো হদিস মেলেনি। চার ছাত্রীর এমন রহস্যজনকভাবে একসঙ্গে উধাও হওয়ার ঘটনায় গ্রামবাসীর মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। পরিবারের সদস্যরা এখন চরম অনিশ্চয়তা ও আশঙ্কার মধ্যে সময় কাটাচ্ছেন।
এই ঘটনা প্রসঙ্গে বালিয়াডাঙ্গী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বুলবুল ইসলাম বলেন, “সাধারণ ডায়েরির ভিত্তিতে নিখোঁজ চার ছাত্রীর সন্ধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।” পুলিশ নিখোঁজ ছাত্রীদের অবস্থান শনাক্ত করতে তৎপরতা শুরু করেছে এবং বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে।
ছবি: নিউজ বাংলা
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার ঠেকরা রহিমপুরে একটি মাছের ঘের থেকে যুবকের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার (১ জুলাই) ভোরে ঠেকরা-দক্ষিণশ্রীপুর খেজুরতলা সড়কের বড় খালের মাথা সংলগ্ন একটি মাছের ঘের থেকে স্থানীয়রা তার মরদেহ উদ্ধার করেন। নিহত যুবকের নাম সঞ্জিব সরকার (৩০) । সে উপজেলার ঠেকরা রহিমপুর গ্রামের গোপাল চন্দ্র সরকারের ছেলে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাত প্রায় ৮টার দিকে সঞ্জিব সরকার বাড়ি থেকে বের হন। দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও তার কোনো খোঁজ না মেলায় পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে গভীর রাতে স্থানীয়রা তার নিজস্ব মাছের ঘেরে মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পরিবারকে জানায়।
নিহতের পরিবারের দাবি, এটি কোনো স্বাভাবিক মৃত্যু নয়; বরং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। তাদের অভিযোগ, দুর্বৃত্তরা অন্যত্র সঞ্জিব হত্যা করে ঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার উদ্দেশ্যে রাতের অন্ধকারে তার মরদেহ নিজস্ব মাছের ঘেরের সামনে ফেলে রেখে যায়। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত রহস্য উদঘাটন এবং জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্বজনরা।
কালিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি মোঃ শহিদুল ইসলাম জানান পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। একই সঙ্গে ঘটনাটির প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে রহস্যজনক এ মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাস্থলে উৎসুক মানুষের ভিড় জমে।
ছবি: সংগৃহীত
পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিতে ব্যাপক অবকাঠামো নির্মাণের মহাপরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। বুধবার সকালে ওই এলাকায় ‘বরকাউ পুলিশ ক্যাম্প’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি জানান, দ্রুত বর্ধনশীল এই এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ৪টি নতুন থানা ও ৬টি তদন্ত কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। আইজিপি বলেন, “পূর্বাচলে আইন-শৃঙ্খলা জোরদারে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) আওতায় ৪টি থানা, ৬টি তদন্ত কেন্দ্র, ২টি পুলিশ লাইনস, ৩টি ডিসি অফিস এবং ৪১টি পুলিশ বক্স স্থাপনের কার্যক্রম চলছে।” তিনি আরও জানান যে, পুলিশের অনুকূলে নির্ধারিত ২৯ দশমিক ২১ একর জমির মধ্যে ইতোমধ্যে ১৮ দশমিক ৬৩ একরের রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হয়েছে।
ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে আইজিপি ভবিষ্যৎ প্রশাসনিক কাঠামোর রূপরেখা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “ভবিষ্যতে পূর্বাচলকে ডিএমপির আওতায় এনে একজন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনারের নেতৃত্বে পৃথক বিভাগ গঠন এবং প্রায় ৬ হাজার ৫২৪ জন জনবল সৃষ্টির পরিকল্পনা রয়েছে।” পুলিশের এই শীর্ষ কর্মকর্তার মতে, পরিকল্পিত অবকাঠামো গড়ে উঠলে অপরাধ দমন ও নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি দ্রুততম সময়ে সেবা প্রদান করা সম্ভব হবে। পুলিশের এই শক্তিশালী উপস্থিতি পূর্বাচলের টেকসই নগরায়ন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। আইজিপি বিশ্বাস করেন, আধুনিক পুলিশি ব্যবস্থার মাধ্যমে এই নতুন শহরে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও নাগরিক সেবা প্রদানের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। এ সময় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ছবি: নিউজ বাংলা
পাবনা সদর উপজেলার আতাইকুলায় পুকুরে মাছ ধরতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে স্বামী-স্ত্রীর করুণ মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও একজন গুরুতর আহত হয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার (৩০ জুন) সন্ধ্যা ৭টার দিকে আতাইকুলা ইউনিয়নের কুচিয়ামাড়া উত্তরপাড়া গ্রামে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন—সদর উপজেলার কৈজুরী শ্রীপুর এলাকার সাদেক আলী প্রামাণিকের ছেলে শবদুল প্রামাণিক (৩৫) এবং তাঁর স্ত্রী আশা খাতুন (২৫)। আহত ব্যক্তির নাম আলম মোল্লা (৩০)। তিনি নিহত আশা খাতুনের ভাই।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শবদুল প্রামাণিক কিছুদিন আগে স্ত্রীকে নিয়ে কুচিয়ামাড়া উত্তরপাড়া গ্রামে শ্বশুর আবুল হোসেন চৌকিদারের বাড়িতে বেড়াতে আসেন। মঙ্গলবার বিকেলে তাঁরা বাড়ির পাশের একটি পুকুর সেচ দিয়ে মাছ ধরছিলেন। এ সময় পানি তোলার পাম্পের (মোটর) বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে হঠাৎ পুকুরের পানির মধ্যে পড়ে যায়। এতে মুহূর্তের মধ্যে পুরো পুকুরটি বিদ্যুতায়িত হয়ে পড়ে এবং পানিতে থাকা স্বামী-স্ত্রী দুজনেই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন।
বিষয়টি টের পেয়ে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত মেইন সুইচ বন্ধ করে তাঁদের উদ্ধার করেন। পরে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে পথেই তাঁদের মৃত্যু হয়। এদিকে বোন ও দুলাভাইকে বাঁচাতে গিয়ে গুরুতর আহত হন আশা খাতুনের ভাই আলম মোল্লা। তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে আতাইকুলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবর রহমান দৈনিক তৃতীয় মাত্রাকে বলেন, "খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এটি একটি দুর্ঘটনা। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য