সাতক্ষীরার সুন্দরবন সংলগ্ন একটি ব্যস্ত বাজারের হার্ডওয়্যার দোকানের ভেতর থেকে একটি বিশাল আকৃতির অজগর সাপ উদ্ধার করেছে বন বিভাগ। সোমবার (২৯ জুন) সকাল সাড়ে নয়টায় শ্যামনগর উপজেলার নীলডুমুর বাজার থেকে স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় বনবিভাগ ও কমিউনিটি পেট্রোলিং গ্রুপের (সিপিজি) সদস্যরা যৌথ অভিযান চালিয়ে সাপটি অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেন।
নীলডুমুর বাজারের সংশ্লিষ্ট হার্ডওয়্যার ব্যবসায়ী হারুন ঘটনার বিবরণ দিয়ে জানান, প্রতিদিনের মতো সকালে দোকান খোলার পরপরই ভেতরে একটি বড় অজগর সাপ কুণ্ডলী পাকিয়ে থাকতে দেখে তিনি ভয়ে চিৎকার করে ওঠেন। তাঁর চিৎকার শুনে মুহূর্তের মধ্যে আশেপাশের অন্যান্য ব্যবসায়ী ও স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। পরবর্তীতে বাজারের লোকজন সাপটিকে ঘিরে রেখে দ্রুত বনবিভাগকে খবর দিলে বনকর্মীরা সিপিজি সদস্য ও স্থানীয়দের সাথে নিয়ে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে অজগরটি খাঁচাবন্দি করতে সক্ষম হন।
বাজারের স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, নীলডুমুরের মতো একটি জনবহুল ও ব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকায় এত বড় অজগর সাপ এর আগে কখনো দেখা যায়নি। সাপটি ঠিক কীভাবে রাতের আঁধারে দোকানের ভেতরে প্রবেশ করেছে তা নিশ্চিত হওয়া না গেলেও বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের ধারণা, তীব্র তাপদাহ ও সুন্দরবনের আশপাশের বনাঞ্চল বা ঝোপঝাড়ে খাদ্যসংকট দেখা দেওয়ায় খাবারের সন্ধানে এটি লোকালয়ে চলে এসেছিল।
নীলডুমুর বনবিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইরফান উদ্দিন সাপটির শারীরিক অবস্থা নিশ্চিত করে জানান, উদ্ধার করা অজগরটি সম্পূর্ণ সুস্থ ও অক্ষত রয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া ও প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ শেষে এটিকে আজই নিরাপদে সুন্দরবনের গভীর ও উপযোগী প্রাকৃতিক আবাসস্থলে অবমুক্ত করা হবে। এর পাশাপাশি তিনি সাধারণ মানুষকে বন্যপ্রাণী লোকালয়ে চলে এলে আতঙ্কিত না হয়ে কিংবা নিজেরা আইন হাতে তুলে নিয়ে প্রাণীর ক্ষতি না করে, দ্রুততম সময়ে বনবিভাগকে খবর দেওয়ার জন্য বিশেষ আহ্বান জানান।
আকস্মিক এই ঘটনায় বাজারের ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের মধ্যে কিছু সময়ের জন্য তীব্র আতঙ্ক বিরাজ করলেও বনবিভাগের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপের কারণে অল্প সময়ের মধ্যেই পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়ে আসে।
ছবি: সংগৃহীত
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) আওতাধীন মুসলিম বাজার খালসহ ২৯টি খাল পর্যায়ক্রমে দখলমুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন ডিএনসিসির প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান। সোমবার (২৯ জুন) রাজধানীর মিরপুর-১০ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ ঘোষণা দেন।
প্রশাসক বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের অব্যবস্থাপনা, ময়লা-আবর্জনা ও দখলের কারণে রাজধানীর অধিকাংশ খাল কার্যত ভরাট হয়ে গেছে। এসব খাল উদ্ধার করা না গেলে ঢাকা শহরকে জলাবদ্ধতা ও পরিবেশগত সংকট থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে না। নগরবাসীর স্বার্থে এবং টেকসই নগর উন্নয়নের জন্য ২৯টি খাল দখলমুক্ত করা হবে। এ কাজে জনগণের সহযোগিতা নেওয়া হবে এবং যেকোনো বাধা মোকাবিলা করে অভিযান পরিচালনা করা হবে।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার আলোকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন পাঁচ লাখ গাছ রোপণের উদ্যোগ নিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে এ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে।
নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে শফিকুল ইসলাম খান বলেন, পরিবেশ দূষণ কমাতে সবাইকে ছাদবাগান গড়ে তুলতে হবে। তবে ছাদবাগানে যেন কোথাও পানি জমে ডেঙ্গু মশার প্রজননস্থল তৈরি না হয়, সে বিষয়েও সতর্ক থাকতে হবে।
তিনি আরও বলেন, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য নগর গড়ে তুলতে যেখানে-সেখানে ময়লা-আবর্জনা না ফেলে সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে সহযোগিতা করা প্রয়োজন। ‘ক্লিন ঢাকা, গ্রিন ঢাকা’ বাস্তবায়নে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে প্রশাসক বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার এবং জনগণের কল্যাণে কাজ করে যাবে।
অনুষ্ঠান শেষে প্রশাসকের নেতৃত্বে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। এতে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, স্থানীয় বাসিন্দা ও বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা অংশ নেন।
ছবি: সংগৃহীত
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, শিক্ষা সংস্কারে সরকারের মূল লক্ষ্য লার্নিং আউটকাম বৃদ্ধি। এ লক্ষ্য অর্জনে সরকার পাঁচটি বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। সেগুলো হলো— কারিকুলাম, শিক্ষক, প্রশাসন, অবকাঠামো ও প্রযুক্তি। এই পাঁচটি ক্ষেত্রকে কেন্দ্র করেই ভবিষ্যতের শিক্ষা সংস্কার বাস্তবায়ন করা হবে।
সোমবার (২৯ জুন) রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে ‘জিও-এনজিও কোলাবোরেশন ডায়ালগ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত উন্নয়নে সরকার কার্যকর অংশীদারত্বের ভিত্তিতে এনজিওগুলোর সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করতে চায়। সরকারের একার নয়, সরকারব্যবস্থা ও উন্নয়ন সহযোগীদের সম্মিলিত উদ্যোগেই শিক্ষায় কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনা সম্ভব।
ববি হাজ্জাজ বলেন, সরকার প্রাথমিক শিক্ষাকে আরও আধুনিক, দক্ষ ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে চায়। শিক্ষক প্রশিক্ষণ, শিক্ষক নিয়োগ ও বদলি ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধি, ডিজিটাল মনিটরিং এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থাপনায় নতুন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। দেশের ৬৫ হাজারের বেশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একযোগে পরিবর্তন আনতে হলে বাস্তবসম্মত, সম্প্রসারণযোগ্য এবং টেকসই উদ্যোগ প্রয়োজন। এক্ষেত্রে এনজিওগুলোর মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা ও উদ্ভাবনী মডেল সরকার কাজে লাগাতে চায়।
তিনি বলেন, প্রতিবন্ধী শিশু, প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা, নন-ফরমাল শিক্ষা, শহরমুখী অভিবাসী শিশু, চা-বাগান এলাকার শিশু এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
অনুষ্ঠানে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর ও ব্র্যাকসহ বিভিন্ন এনজিওর কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ছবি: সংগৃহীত
কুমিল্লায় স্কুলছাত্র ইথান আহমেদ গুলিবিদ্ধের আলোচিত ঘটনায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে একটি বিদেশি পিস্তল, ছয় রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধারসহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে জেলা পুলিশ।
পুলিশ জানায়, গত বুধবার (২৪ জুন) রাত থেকে কাটাবিল এলাকায় মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ‘অপু গ্রুপ’ ও ‘সাব্বির গ্রুপ’-এর মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুরে দুই পক্ষের মধ্যে সশস্ত্র সংঘর্ষ ও গুলিবিনিময়ের ঘটনা ঘটে। এ সময় রফিক উদ্দিন মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী ও পথচারী ইথান আহমেদ গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়।
ঘটনার পরপরই কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপারের সরাসরি নির্দেশনায় অপরাধীদের গ্রেফতার ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ অভিযান শুরু হয়। জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে ঘটনার মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যেই কোতোয়ালি থানা এলাকা থেকে মূল অভিযুক্ত জামসেদ হোসেন শ্রাবণ (২২), পিতা- জামাল হোসেনকে একটি বিদেশি পিস্তল ও ছয় রাউন্ড তাজা গুলিসহ গ্রেফতার করা হয়।
পরবর্তীতে দেশের বিভিন্ন স্থানে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করে ঘটনার সঙ্গে জড়িত আরও তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। তারা হলেন— আসিফ (২৬), পিতা- মৃত শাহজাহান মিয়া; আশিক (৩৫), পিতা- মৃত সুলতান; এবং ইমন (১৯), পিতা- ইকবাল। গ্রেফতারকৃতদের সকলের বাড়ি কুমিল্লা কোতোয়ালি থানা এলাকায়।
এ বিষয়ে জেলা পুলিশ সুপার বলেন, "সমাজের নিরাপত্তা বিঘ্নকারী এবং মাদক ও অস্ত্রের সঙ্গে জড়িত কোনো অপরাধীকে কুমিল্লার মাটিতে ছাড় দেওয়া হবে না। স্কুলছাত্র ইথানের ওপর যারা গুলি চালিয়েছে, তাদের দ্রুততম সময়ে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। অস্ত্র ও মাদক নির্মূলে জেলা পুলিশের কঠোর অবস্থান এবং চিরুনি অভিযান অব্যাহত থাকবে।"
জেলা পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় জড়িত পলাতক অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতার এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে
ছবি: নিউজবাংলা
জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলা, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে পিরোজপুরের হুলারহাট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বিশেষ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ও র্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২৯ জুন) দুপুর ২:০০ টায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরাধীন ‘লার্নিং এক্সিলারেশন ইন সেকেন্ডারি এডুকেশন (লেইস)’ প্রজেক্টের আওতায় এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পিরোজপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন। তিনি বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করে কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন বলেন, "জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য ও সবুজ পৃথিবী গড়ে তুলতে শিক্ষার্থীদের এখন থেকেই পরিবেশ সচেতন হতে হবে এবং বাড়িতে অন্তত একটি করে গাছ লাগাতে হবে।" তিনি আরও বলেন, "নিজেকে মাদকমুক্ত রাখতে হবে এবং মোবাইল গেমসের আসক্তি থেকে দূরে থাকতে হবে।"
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাসুম বিল্লাহর সভাপতিত্বে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে শিক্ষক-শিক্ষিকা, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, ম্যানেজিং কমিটির সদস্যবৃন্দ এবং শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বিদ্যালয়ের চারপাশের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে। এতে শিক্ষার্থীরা জলবায়ু সচেতনতা বিষয়ক বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার প্রদর্শন করে।
আয়োজকরা জানান, এই প্রকল্পের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মাঝে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং গাছ লাগানোর প্রয়োজনীয়তা ছড়িয়ে দেওয়াই মূল লক্ষ্য। অনুষ্ঠান শেষে শিক্ষার্থীদের মাঝে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা বিতরণ করা হয়।
ছবি: সংগৃহীত
বাগেরহাটের যুবসমাজকে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের সঙ্গে সংযুক্ত করে কর্মসংস্থান ও টেকসই জীবিকার সুযোগ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছে দক্ষতা উন্নয়ন মেলা ।
সোমবার (২৯জুন) সকালে বাগেরহাট সদর উপজেলা হলরুমে বাঁধন মানব উন্নয়ন সংস্থা অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের সহযোগিতায় এবং অ্যাক্টিভিস্টা বাগেরহাট ও অ্যাক্টিভিস্টা রামপালের আয়োজনে এ মেলার আয়োজনে করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিস আতিয়া খাতুন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তন্ময় দত্ত, বাগেরহাট টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ শংকর কুমার সরকার, বাগেরহাট মেরিন টেকনোলজির অধ্যক্ষ মো. মাজাহারুল হাসান খান, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. সোহেল পারভেজ, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. মফিজুর রহমান, শহর
সমাজসেবা কার্যালয়ের কর্মকর্তা নাজমুছ সাকিব, বাগেরহাট প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক হেদায়েত হোসেন লিটন এবং সহ-সভাপতি এস এম রাজসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।
আয়োজকরা জানান, বাগেরহাট জেলার উল্লেখযোগ্য সংখ্যক যুবক-যুবতী তথ্যের অভাব, আর্থিক সীমাবদ্ধতা এবং প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে দুর্বল যোগাযোগের কারণে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণে (TVET) অংশগ্রহণ করতে পারেন না। এ বাস্তবতা বিবেচনায় তাদের প্রশিক্ষণ, কর্মসংস্থান ও আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সম্পর্কে সচেতন করতে এই মেলার আয়োজন করা হয়েছে।
মেলায় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, সমাজসেবা অধিদপ্তর, সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মেরিন একাডেমি এবং মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর পৃথক বুথ স্থাপন করে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কোর্স, ভর্তি প্রক্রিয়া, যোগ্যতা, প্রশিক্ষণের সময়কাল এবং প্রশিক্ষণ-পরবর্তী কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রদান করে। পাশাপাশি বাঁধন মানব উন্নয়ন সংস্থার নিবন্ধন বুথ থেকে আগ্রহী যুবকদের নিবন্ধনের ব্যবস্থা করা হয় এবং কিউআর কোডের মাধ্যমে সহজে নিবন্ধনের সুযোগ রাখা হয়।
বক্তারা বলেন, দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে যুবসমাজকে কর্মমুখী করে গড়ে তুলতে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে যুবদের দক্ষতা বৃদ্ধি,কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং আত্মনির্ভরশীল সমাজ গঠনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।
ফাইল ছবি
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ফাঁসির দণ্ড মাথায় নিয়ে ভারতে নির্বাসনে থাকা বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরে আদালতে নিজের আইনি লড়াই নিজে লড়ার আহ্বান জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম।
সোমবার (২৯ জুন) নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই আহ্বান জানান। চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, প্রসিকিউশনও আন্তরিকভাবে চায় শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ফিরে আসুক এবং তাঁর বিরুদ্ধে আনা মামলাগুলোর আইনি মোকাবিলা নিজেই করুক। তবে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর দেশে ফিরতে চাওয়ার সাম্প্রতিক বক্তব্য বা ইচ্ছাকে রাজনৈতিক ‘স্টান্টবাজি’ হিসেবে আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, যদি তাঁর প্রকৃত সাহস থাকে, তবে অবিলম্বে দেশে ফিরে জুলাই হত্যাযজ্ঞের ন্যায়বিচারের মুখোমুখি হওয়া উচিত।
একই সময়ে ট্রাইব্যুনালের চলমান বিচারিক কার্যক্রমের হালনাগাদ অগ্রগতি ও সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরে চিফ প্রসিকিউটর জানান, বর্তমানে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সব মিলিয়ে মোট ২৪টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এর বাইরে সাবেক মন্ত্রী শাজাহান খান, আমির হোসেন আমু এবং সাবেক বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিকসহ জুলাই হত্যাযজ্ঞের চাঞ্চল্যকর ১০টি মামলার আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন প্রসিকিউশন টিমের হাতে এসে পৌঁছেছে।
তিনি জানান, এই তদন্ত প্রতিবেদনগুলো বর্তমানে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে এবং আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে খুব দ্রুতই আদালতে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ বা ফরমাল চার্জ হিসেবে দাখিল করা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
মন্তব্য