হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার তেলিয়াপাড়া সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক অবৈধভাবে ভারতীয় নাগরিকদের বাংলাদেশে পুশ-ইনের একটি বড় ধরনের প্রচেষ্টা প্রতিহত করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (৫৫ বিজিবি)। শনিবার (২৭ জুন) রাত ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, হবিগঞ্জ বিজিবি ব্যাটালিয়নের তেলিয়াপাড়া বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকার ১৯৮২ নম্বর মেইন পিলারের ১১-এস সাব-পিলার সংলগ্ন জিরো লাইনে এই পুশ-ইনের চেষ্টা চালানো হয়। গভীর রাতের অন্ধকারে বিএসএফ সীমান্তে তাদের সিকিউরিটি লাইট বন্ধ করে দিয়ে অজ্ঞাতসংখ্যক ভারতীয় নাগরিককে জোরপূর্বক বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করে।
এ সময় ৫৫ বিজিবির একটি ক্ষিপ্র টহলদল তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পৌঁছে সর্বোচ্চ সতর্কতা, দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে অনুপ্রবেশের সেই প্রচেষ্টা জিরো লাইনেই প্রতিহত করে। পরে বিজিবির কঠোর অবস্থানের মুখে বিএসএফ বাধ্য হয়ে ওই ভারতীয় নাগরিকদের ভারতের অভ্যন্তরে ফেরত পাঠায়।
অভিযান চলাকালে স্থানীয় সীমান্তবাসী ও সাধারণ মানুষও বিজিবিকে সার্বিক সহযোগিতা করেন বলে জানা গেছে।
৫৫ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. তানজিলুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সীমান্তে যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ বা পুশ-ইনের চেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করতে বিজিবি সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে। বর্তমানে তেলিয়াপাড়া সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং ৫৫ বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে দিনরাত দায়িত্ব পালন করছে।
ছবি: সংগৃহীত
ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবল-২০২৬ এর আসরে কানাডার টরন্টো স্টেডিয়ামে বাংলাদেশের লাল-সবুজের পতাকা উড়িয়ে দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন ঝালকাঠির ব্যবসায়ী জানে আলম জনি।
গত শুক্রবার (২৬ জুন) স্থানীয় সময় দুপুর ৩টায় কানাডার বৃহত্তম শহর টরন্টোর স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ইরাক ও সেনেগাল দলের খেলা দেখতে দর্শক গ্যালারিতে উপস্থিত ছিলেন তিনি। লাখো দর্শকের ভিড়ে বাংলাদেশের পতাকা হাতে জানে আলম জনির উপস্থিতি তৈরি করে আলাদা আকর্ষণ।
খেলা চলাকালে স্টেডিয়ামের দুই পাশের গ্যালারিতে ইরাক ও সেনেগালের সমর্থকরা নিজ নিজ দলের রঙের জার্সি পরে উল্লাসে মাতলেও ব্যতিক্রমী সাজে নজর কাড়েন জানে আলম জনি। তিনি পড়েছিলেন আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের জার্সি, আর হাতে ছিল বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা।
বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুটবল আসরে নিজের প্রিয় দল আর্জেন্টিনার প্রতি সমর্থন জানানোর পাশাপাশি নিজের দেশ বাংলাদেশের পরিচয় তুলে ধরতেই তিনি লাল-সবুজের পতাকা নিয়ে স্টেডিয়ামে উপস্থিত হন।
এক ভিডিও বার্তায় জানে আলম জনি দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘আমি মনেপ্রাণে আর্জেন্টিনার সমর্থক। তাই আর্জেন্টিনার জার্সি পড়েছি। তবে আমার হৃদয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। আমি আশা করি, একদিন বাংলাদেশও ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবলে অংশ নেবে। দেশের পরিচয় বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরতেই আমি বাংলাদেশের পতাকা সঙ্গে নিয়ে এসেছি।’
বিশ্বকাপের আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের পতাকা তুলে ধরা জানে আলম জনির এই উদ্যোগ প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে গর্ব ও আনন্দের সৃষ্টি করেছে।
ছবি: সংগৃহীত
ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার সাখুয়া ইউনিয়নের সাখুয়া গ্রামে সম্পূর্ণ নিজস্ব আট কাঠা জমির ওপর নির্মিত হয়েছে দৃষ্টিনন্দন ও আধুনিক স্থাপত্য দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ‘জামিয়া সিরাজুল উলুম মাদ্রাসা’। মরহুম নানার স্মৃতি ও শেষ ইচ্ছা পূরণ করতেই তার নাতিরা মফস্বল এলাকায় ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে এই আধুনিক মাদ্রাসা ভবনটি প্রতিষ্ঠা করেছেন।
২০২৩ সালে এই মাদ্রাসার নির্মাণ কাজ শুরু হয়। বর্তমানে পাঁচতলা ফাউন্ডেশনের ৪ হাজার ২০০ স্কয়ার ফিটের এই ভবনের দুইতলার ভেতরের কারুকাজ সম্পূর্ণ শেষ হয়েছে এবং বাকি কাজ চলমান আছে।
মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ জানান, সম্পূর্ণ কাজ শেষ হতে এই দৃষ্টিনন্দন বিল্ডিংয়ের মোট নির্মাণ ব্যয় হবে প্রায় ১০ কোটি টাকা। প্রত্যন্ত অঞ্চলে এমন চমৎকার অবকাঠামো নির্মিত হওয়ায় সুধীমহল ও এলাকাবাসীর মাঝে ব্যাপক প্রশংসার সৃষ্টি হয়েছে। মাদ্রাসাটির এই মহতী উদ্যোগের পেছনে মূল অর্থায়ন ও বাস্তবায়নে রয়েছেন তৈরি পোশাক খাতের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ‘মা লেভেল অ্যান্ড এক্সেসরিজ’ এর পরিচালক আশিকুর রহমান সোহেল তালুকদার এবং তার ছোট ভাই প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাওহিদ আহমদ শুভ তালুকদার। তারা দুজনেই সাখুয়া এলাকার আবুল কালাম তালুকদারের সন্তান।
এ বিষয়ে অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে ‘মা লেভেল অ্যান্ড এক্সেসরিজ’ এর পরিচালক এবং মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা আশিকুর রহমান সোহেল তালুকদার বলেন, ‘এই মাদ্রাসাটি নির্মাণের পেছনে আমাদের এক বিশাল স্বপ্ন ছিল। আমাদের পাশাপাশি এলাকাবাসীরও আন্তরিক দোয়া ছিল। মূলত আমাদের মরহুম নানার একটি বড় স্বপ্ন ছিল এখানে একটি দ্বীনিপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার। তার সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতেই আমরা সর্বাধুনিক ডিজাইন ও কারুকার্যে ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে এই মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠা করেছি। তবে পুরো কাজ শেষ হওয়া পর্যন্ত ব্যয় আরও বাড়বে।’
প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাওহিদ আহমদ শুভ তালুকদার বলেন, ‘আমাদের নানা মরহুম মাওলানা সিরাজুল ইসলামের স্বপ্ন পূরণ করাই ছিল আমাদের মূল লক্ষ্য। অত্যন্ত অল্প সময়ের মধ্যে ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে আমরা এই আধুনিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছি। আমাদের উদ্দেশ্য একটি মানসম্মত দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান উপহার দেওয়া।’
মাদ্রাসার প্রধান উপদেষ্টা মুফতি মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন জানান, আমরা এই প্রতিষ্ঠানটিকে দ্বিমুখী শিক্ষা ব্যবস্থার সমন্বয়ে পরিচালনা করছি। এখানে আরবি ও ইসলামিক শিক্ষার পাশাপাশি ইংলিশ মিডিয়াম এবং ইংরেজি ভার্সনে পড়াশোনার সুযোগ থাকছে। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য দক্ষ, আধুনিক এবং সুশিক্ষিত আলেম তৈরি করা।
মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক মুফতি মুক্তার হোসেন জানান, আরবি ও ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি বাংলা ও ইংরেজি ভাষা শিক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানটিতে এতিম ও দুস্থ শিক্ষার্থীদের সম্পূর্ণ বিনামূল্যে আবাসন ও শিক্ষা গ্রহণের ব্যবস্থা রয়েছে। তিনি আরও জানান, বর্তমানে মাদ্রাসার নূরানী কিন্ডারগার্টেন, নাযেরা বিভাগ, হিফজ বিভাগ এবং কিতাব বিভাগে ছাত্র ভর্তি চলছে।
মফস্বল গ্রামে এমন আধুনিক প্রতিষ্ঠান পেয়ে আনন্দিত স্থানীয় বাসিন্দারাও। স্থানীয় বাসিন্দা মাসুদ রানা বলেন, ‘স্থাপত্যশৈলী এবং শিক্ষার পরিবেশের দিক থেকে এটি পুরো ময়মনসিংহ জেলার অন্যতম সেরা একটি প্রতিষ্ঠান হতে যাচ্ছে। ৩ কোটি টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পে প্রত্যন্ত গ্রামে আধুনিকতার এমন ছোঁয়া সত্যিই প্রশংসনীয়।’
আরেক স্থানীয় বাসিন্দা আফতাব উদ্দিন সরদার বলেন, ‘এই মহতী উদ্যোগের শুরু থেকেই আমরা এলাকাবাসী সাথে আছি। মাদ্রাসার যাতায়াতের সুবিধার জন্য আমরা স্থানীয়রা জমি দিয়ে রাস্তা নির্মাণে সহযোগিতা করেছি। আমরা এই প্রতিষ্ঠানের সাফল্য কামনা করি।’
ছবি: সংগৃহীত
নরসিংদী জেলা প্রশাসক এবং বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ইসরাত জাহান কেয়া বলেছেন, মাদকের সমস্যা শুধুমাত্র আজকের সমস্যা নয়, এ সমস্যা দীর্ঘদিনের সমস্যা, এ সমস্যা দূর করতে হলে সকলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।
তিনি গত শুক্রবার (২৫ জুন) বিকেলে নরসিংদী জেলা প্রশাসন সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসন ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর নরসিংদীর যৌথ উদ্যোগে মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস ২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে এক আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি একথা বলেন।
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, নরসিংদী অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আবু তাহের মোঃ শামসুজ্জামান, অতিরিক্ত জালা ম্যাজিস্ট্রেট এম সাজ্জাদুল হাসান, নরসিংদী অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মো. কলিমুল্লাহ, নরসিংদী মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. হাবিব তৌহিদ ইমাম, পরিদর্শক চাহিদা বেগম, উপপরিদর্শক মো. সানাউল্লাহ মিয়া, নরসিংদী জেলা পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি মো. সারোয়ার হোসেন মৃধা, নরসিংদী জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি এম.এ আউয়াল, সিনিয়র সহসভাপতি মো. শফিকুল ইসলাম মতি, এনএসআই এর সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ নুরুল আলম খান, নরসিংদী জেল সুপার মোহাম্মদ তারেক কামাল ও নরসিংদী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসমা জাহান সরকার প্রমুখ।
নরসিংদীর জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান কেয়া আরো বলেন, মাদক শুধুমাত্র নরসিংদীতে নয়, সারাদেশে এর প্রবণতা ব্যাপক আকারে বৃদ্ধি পেয়েছে, এর থেকে আমাদেরকে বের হয়ে আসতে হবে। তিনি আরো বলেন, মাদক সেবীদের আইনের আওতায় আনার সাথে সাথে তাদেরকে সুস্থ করে তুলতে হবে।
পরিশেষে তিনি অভিভাবকদেরকে তাদের সন্তানদের প্রতি নজর রাখার জন্য আহ্বান জানান। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন, নরসিংদী মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী প্রসিকিউট মো. মেহেদী হাসান। ইতোপূর্বে এ উপলক্ষে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়।
ছবি: সংগৃহীত
আয় এবং ব্যয় সমান রেখে ২০২৬-২৭ অর্থ বছরে ৩৮ কোটি ১১ লাখ ৫৫ হাজার টাকার বাজেট ঘোষণা করেছে নড়াইল জেলা পরিষদ। গত শনিবার (২৭ জুন) বেলা ১১টায় জেলা পরিষদ হল রুমে জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মোস্তাফিজুর রহমান আলেক উন্মুক্ত অধিবেশণে এই বাজেট উপস্থাপন করেন।
বাজেটে উন্নয়ন খাতে অগ্রাধিকার: গ্রামীণ সড়ক, কালভার্ট নির্মাণ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন, ধর্মীয়-সামাজিক প্রতিষ্ঠান এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কল্যাণে বরাদ্দে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
নিজস্ব আয়ের ওপর জোর: জেলা পরিষদের আর্থিক ভিত্তি মজবুত করতে হাট-বাজার, জলমহাল ও সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা থেকে নিজস্ব রাজস্ব আয় বাড়ানোর বিশেষ পরিকল্পনা রয়েছে।
বাজেট বিশ্লেষণে দেখা গেছে, অবকাঠামো ও জনকল্যাণমূলক খাতে বরাদ্দ থাকলেও প্রশাসনিক ও পরিচালন ব্যয় (কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, অফিস রক্ষণাবেক্ষণ) বেশ উল্লেখযোগ্য।
স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম সচল রাখতে প্রশাসনিক ব্যয় অপরিহার্য হলেও, উন্নয়ন ব্যয়ের তুলনায় এর ভারসাম্য রক্ষা করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। বাজেটের প্রকৃত সফলতা নির্ভর করবে প্রকল্পগুলোর সঠিক বাস্তবায়ন, নিয়মিত মনিটরিং এবং আর্থিক স্বচ্ছতার ওপর।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নড়াইল-১ আসনের সংসদ সদস্য বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য আতাউর রহমান বাচ্চু।
ছবি: সংগৃহীত
যমুনা যেন এবার শুধু মাটি নয়, মানুষের স্বপ্ন, স্মৃতি আর অস্তিত্বও গিলে খাচ্ছে। প্রতিদিন নদীর বুকে হারিয়ে যাচ্ছে একের পর এক বসতভিটা, ফসলি জমি, মসজিদ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, এমনকি পূর্বপুরুষদের কবরও। নদীর তীব্র স্রোতের সামনে অসহায় হয়ে দাঁড়িয়ে আছে সিরাজগঞ্জের সদর, কাজিপুর ও চৌহালী উপজেলার হাজারো মানুষ।
জানা যায়, গত ২ সপ্তাহের টানা নদীভাঙনে শতাধিক বসতবাড়ি, মসজিদ, মাদ্রাসা, স্কুল, দোকানপাট, অসংখ্য গাছপালা এবং শত শত বিঘা আবাদি জমি যমুনার গর্ভে বিলীন হয়েছে। পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রতিদিনই নতুন নতুন এলাকা ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়ছে। ঘর হারানোর আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটছে নদীপাড়ের মানুষের।
সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি বিরাজ করছে কাজীপুর উপজেলার চরগিরিশ ইউনিয়নে। একসময় যেখানে ৫০০-৬০০ পরিবারের কোলাহলে মুখর ছিল পুরো চর, সেখানে এখন সর্বত্র ভাঙনের ক্ষতচিহ্ন। স্থানীয়দের ভাষ্য, মাত্র ২ সপ্তাহে অন্তত ৩০-৪০টি বসতবাড়ি নদীতে বিলীন হয়েছে। যেভাবে নদীতীর ভাঙছে, তাতে আরও শতাধিক পরিবার যেকোনো সময় গৃহহীন হয়ে পড়তে পারে।
একই চিত্র চৌহালী উপজেলার বাগুটিয়া ইউনিয়নের চরসলিমাবাদ, ভূতের মোড়, বিনানুই ও ভুসুরিয়া চরাঞ্চলেও। প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকাজুড়ে চলমান ভাঙনে অন্তত ৪০-৫০টি বসতবাড়ি, মসজিদ, মাদ্রাসা, স্কুল ও দোকানপাট নদীগর্ভে চলে গেছে। কৃষকের বছরের পর বছর পরিশ্রমে গড়ে ওঠা শত শত বিঘা ফসলি জমিও নিমিষেই বিলীন হচ্ছে যমুনার বুকে।
এদিকে ২০ জুন বিকালে সদর উপজেলার বাহুকা এলাকায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ তীররক্ষা বাঁধের প্রায় ৩০ মিটার অংশ নদীতে ধসে পড়েছে। সেখানে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ও জিও টিউব ফেলে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা চালাচ্ছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। তবে স্থানীয়দের আশঙ্কা, পানি আরও বাড়লে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
ভাঙনের শিকার পরিবারগুলোর অনেকেই এখন আত্মীয়স্বজনের বাড়ি কিংবা অন্যের জমিতে অস্থায়ীভাবে আশ্রয় নিয়েছে। শুধু বসতভিটাই নয়, হারিয়ে যাচ্ছে মানুষের শেকড়, স্মৃতি, পূর্বপুরুষের কবরস্থান এবং জীবিকার একমাত্র অবলম্বন কৃষিজমি।
চরগিরিশ গ্রামের ভাঙনকবলিত বাসিন্দা আব্দুল মমিন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘এই চরে বাবা-দাদার ভিটা ছিল। জীবনের সব সঞ্চয় দিয়ে ঘর তুলেছিলাম। কয়েক দিনের মধ্যেই সব নদীতে চলে গেল। এখন অন্যের জমিতে আশ্রয় নিয়েছি।’
রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘চোখের সামনে সবকিছু নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এখন পরিবার নিয়ে কোথায় যাব, কী খাব সেটাই সবচেয়ে বড় চিন্তা।’
চরসলিমাবাদের কোহিনুর খাতুন বলেন, ‘আমরা গরিব মানুষ। যা ছিল সব নদী নিয়ে গেছে। সরকারি সহায়তা না পেলে খোলা আকাশের নিচেই থাকতে হবে।’
রেজাউল করিমের ভাষায়, নদী শুধু ঘরবাড়ি কেড়ে নেয়নি, আমাদের স্বপ্নও কেড়ে নিয়েছে। নিজের দেশেই আমরা যেন উদ্বাস্তু হয়ে গেছি। আমাদের পূর্বপুরুষদের কবর আর মসজিদও নদীতে চলে গেছে। এই কষ্ট ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।
ষাটোর্ধ্ব রশিদ মিয়ার অসহায় আর্তনাদ, জীবনে অনেক কষ্ট করেছি, কিন্তু এমন অসহায় কখনো লাগেনি। এখন কোথায় যাব, কিছুই বুঝতে পারছি না।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর যমুনার ভাঙন চললেও কার্যকর ও স্থায়ী প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারেনি পানি উন্নয়ন বোর্ড। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা আগে থেকেই চিহ্নিত থাকলেও সময়মতো প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ভাঙন শুরু হওয়ার পর জিও ব্যাগ ও জিও টিউব ফেলা হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তা নদীর ভয়াল আগ্রাসন ঠেকাতে পারছে না। তাদের দাবি, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় টেকসই তীররক্ষা বাঁধ নির্মাণ ছাড়া এই দুর্ভোগের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।
চরগিরিশ ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আল আমিন সরকার বলেন, ‘একসময় এই চরে অনেক পরিবারের বসবাস ছিল। আগের ভাঙনে প্রায় ১৫০টি পরিবার এলাকা ছেড়ে চলে গেছে। গত ২ সপ্তাহের ভাঙনে আরও অন্তত ৩০টি পরিবার গৃহহীন হয়েছে। পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে আরও শতাধিক পরিবার ভিটেমাটি হারাবে।’
যমুনার পানি বৃদ্ধির কারণে নদীতীরবর্তী অনেক এলাকায় ভাঙনের আশঙ্কা ছড়িয়ে পড়েছে। নিচু এলাকার বিস্তীর্ণ কৃষিজমি ইতোমধ্যে পানিতে তলিয়ে গেছে। কোথাও কোথাও নৌকা ছাড়া চলাচলও অসম্ভব হয়ে পড়েছে।’
পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে যমুনার পানি ৩ সেন্টিমিটার এবং কাজীপুর পয়েন্টে ৬ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ১৪৮ সেন্টিমিটার এবং কাজীপুর পয়েন্টে ১৯৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
চৌহালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুরুল আমিন জানান, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড ভাঙন রোধে জরুরি ভিত্তিতে কাজ করছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সরকারি সহায়তা দেওয়া হবে।
সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান বলেন, ‘যমুনার পানি বৃদ্ধির কারণে সদর, কাজীপুর, শাহজাদপুর ও চৌহালীর কয়েকটি এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ও জিও টিউব ফেলে তীর সংরক্ষণের কাজ চলছে। একই সঙ্গে স্থায়ী সমাধানের প্রস্তাবও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।
ছবি: সংগৃহীত
জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন অনুষ্ঠান রোববার (২৮ জুন) খুলনা খালিশপুর কলেজিয়েট গালর্স স্কুলের অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু।
প্রধান অতিথি বলেন, প্রত্যেক শিশুর সুস্থ ও স্বাভাবিক বিকাশে মাতৃদুগ্ধের কোনো বিকল্প নেই। শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি ও দৃষ্টিশক্তি সুরক্ষায় ভিটামিন ‘এ’ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে বিভিন্ন প্রতিরোধযোগ্য রোগ থেকে শিশুকে সুরক্ষিত রাখতে সময়মতো টিকা প্রদান নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, সরকার দেশের প্রতিটি শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সারাদেশে নিয়মিত ও প্রয়োজনে জরুরি টিকাদান কর্মসূচি পরিচালনা করছে। আজকের শিশুরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। তাই একটি শক্তিশালী জাতি গড়ে তুলতে হলে শৈশব থেকেই শিশুদের সুস্বাস্থ্য ও সুরক্ষার ভিত্তি নিশ্চিত করতে হবে। ঠিক যেমন একটি মজবুত ভবন নির্মাণে শক্ত ভিত্তি অপরিহার্য, তেমনি উন্নত জাতি গঠনে সুস্থ ও নিরাপদ শৈশবের কোনো বিকল্প নেই।
খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সিভিল সার্জন ডা. মোছা. মাহফুজা খাতুন, কেসিসির সচিব মো: রেজা রশীদ, পরিবার পরিকল্পনা দপ্তরের উপপরিচালক মো: আকিব উদ্দিন, স্বাস্থ্য দপ্তরের সহকারী পরিচালক ডা. অপর্ণা বিশ্বাস, কলেজিয়েট গালর্স স্কুলের অধ্যক্ষ মো: শহিদুল ইসলাম, প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা রহিমা সুলতানা বুশরা, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শরীফ শাম্মীউল ইসলাম, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিভাগীয় সমন্বয়কারী ডা. মো: আরিফ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
মহানগরীতে মোট এক লাখ আট হাজার নয়শত ৫২ জন শিশুকে ১টি করে নীল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল এবং ১টি করে লাল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এর মধ্যে ৬-১১ মাস বয়সী শিশুর সংখ্যা ১২ হাজার তিন শত ৩৭ এবং ১২-৫৯ মাস বয়সী শিশুর সংখ্যা ৯৬ হাজার ৬৫৫ জন। এবারে সিটি কর্পোরেশনের ৩১টি ওয়ার্ডে মোট এক হাজর চারশত ২০জন ভলেন্টিয়ার, ওয়ার্ড ভিক্তিক কেন্দ্র সংখ্যা ৫৮০টি, মোট কেন্দ্র সংখ্যা ৭১০ টি, মোবাইল কেন্দ্র ৮০টি, এনজিও পরিচালিত কেন্দ্র ৫০টি এবং ৬২ জন সুপারভাইজার কাজ করবে।
ছবি: সংগৃহীত
সরকারি নীতিমালা ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা উপেক্ষা করে নওগাঁ সদর উপজেলার দুবলহাটী রাজা হরনাথ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে নিজ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের নিয়ে কোচিং বাণিজ্য পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্তরা হলেন বিদ্যালয়ের গণিত বিষয়ের সহকারী (ভোকেশনাল) শিক্ষক ফিরোজ হোসেন এবং ট্রেড ইন্সট্রাক্টর আব্দুল জলিল।
বিগত বছরগুলোতে এসব শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে, তাঁদের পরিচালিত কোচিং সেন্টারে যে বিষয়গুলো পড়ানো হতো এবং কোচিংয়ের পরীক্ষায় যে ধরনের প্রশ্ন দেওয়া হতো, সেগুলোর সঙ্গে স্কুলের বার্ষিক ও অভ্যন্তরীণ পরীক্ষার প্রশ্নের ব্যাপক মিল পাওয়া যেত। এ কারণে কোচিংয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় তুলনামূলক বেশি নম্বর অর্জন করত, আর কোচিংয়ের বাইরে থাকা শিক্ষার্থীরা বৈষম্যের শিকার হতো বলে অভিযোগ রয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয় শুরুর আগেই সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বিদ্যালয় মাঠের দক্ষিণ পাশে "লেবুর কোচিং সেন্টার" নামে পরিচিত একটি কোচিং সেন্টারে গণিত বিষয়ের ক্লাস নিচ্ছেন শিক্ষক ফিরোজ হোসেন। সেখানে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের প্রায় সবাই দুবলহাটী রাজা হরনাথ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
অন্যদিকে, একই বিদ্যালয়ের ট্রেড ইন্সট্রাক্টর আব্দুল জলিল নিজ বাসায় একাধিক শিক্ষককে নিয়ে কোচিং সেন্টার পরিচালনা করছেন। সেখানে ব্যাচভিত্তিক পাঠদান করা হয় এবং প্রতিটি ব্যাচে ১৫ থেকে ২০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে বলে জানা গেছে। এসব শিক্ষার্থীর বেশিরভাগই একই বিদ্যালয়ের।
স্থানীয় কয়েকজন অভিভাবক ও শিক্ষার্থীর অভিযোগ, শ্রেণিকক্ষের শিক্ষকদের কাছেই কোচিং করতে বাধ্য করা হয়। কোচিং না করলে পরীক্ষায় নম্বর কম দেওয়া কিংবা ফেল করিয়ে দেওয়ার আশঙ্কা থাকে বলে তারা দাবি করেন। এজন্য শিক্ষার্থীরা শ্রেণিভেদে প্রতি মাসে ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত কোচিং ফি দিতে বাধ্য হচ্ছে।
অভিভাবকদের অভিযোগ, বিদ্যালয়ে নিয়মিত পাঠদান থাকলেও অনেক শিক্ষক কোচিংয়ের প্রতিই বেশি মনোযোগী। এতে শ্রেণিকক্ষের স্বাভাবিক পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে এবং শিক্ষার্থীদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি হচ্ছে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে কোচিং সেন্টারে গেলে শিক্ষক ফিরোজ হোসেন বলেন, তিনি বিদ্যালয়ে গিয়ে সবার সামনে কথা বলবেন। পরে বিদ্যালয়ে গিয়ে তার বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের এড়িয়ে চলে যান এবং কোনো মন্তব্য করেননি।
অন্যদিকে, শিক্ষক আব্দুল জলিল বলেন, আমি বিদ্যালয়ে কারিগরি বিভাগের শিক্ষক হলেও কোচিংয়ে সাধারণ বিভাগের শিক্ষার্থীদের গণিত পড়াই।" অতীতে প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাফর আলী শেখ বলেন, বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের নিজ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের কোচিং করানোর কোনো বিধান নেই। এটি নিয়মবহির্ভূত। অতীতে প্রশ্নফাঁসের কিছু ঘটনার পর আমরা এখন আর বিদ্যালয়ে প্রশ্ন তৈরি করি না, বাইরে থেকে প্রশ্ন সংগ্রহ করে পরীক্ষা নেওয়া হয়।
জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শাহাদৎ হোসেন বলেন, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও অভিভাবকদের সিদ্ধান্তে বিদ্যালয়ের সময়ের বাইরে বিশেষ সহায়ক ক্লাসের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। তবে কোচিং বাণিজ্যের কোনো বৈধ নিয়ম নেই। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, ২০১২ সালে শিক্ষকদের কোচিং বাণিজ্য বন্ধে নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়, যা ২০১৯ সালে কার্যকর হয়। ওই নীতিমালা অনুযায়ী এমপিওভুক্ত কোনো শিক্ষক কোচিং বাণিজ্যে জড়িত প্রমাণিত হলে এমপিও স্থগিত বা বাতিল, বেতন-ভাতা ও বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি স্থগিত, পদাবনতি কিংবা চাকরি থেকে সাময়িক বা স্থায়ী বরখাস্তসহ বিভিন্ন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে।
মন্তব্য