‘২৬ জুন মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস’উপলক্ষে পিরোজপুরে জেলা প্রশাসন ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে বর্ণাঢ্য র্যালি, আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৬ জুন) সকালে পিরোজপুর সদর উপজেলা চত্বর থেকে একটি র্যালি বের হয়ে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে টাউন ক্লাব মাঠে গিয়ে শেষ হয়। র্যালি শেষে টাউন ক্লাব মাঠে আলোচনা সভা ও প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তারা মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার রোধে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং তরুণ সমাজকে মাদকের করাল গ্রাস থেকে রক্ষা করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবু সাঈদ-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর (এমপি)। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী (এমপি), জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর আহমেদ সিদ্দিকী এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী বলেন, “মাদক শুধু একটি জীবনকেই ধ্বংস করে না, বরং একটি পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে পঙ্গু করে দেয়। আমাদের তরুণ সমাজই দেশের ভবিষ্যৎ চালিকাশক্তি। এই প্রজন্মকে মাদকের নীল দংশন থেকে রক্ষা করা আমাদের সবার পবিত্র দায়িত্ব।”
তিনি আরও বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি রয়েছে। কেবল প্রশাসন বা পুলিশের পক্ষে মাদক নির্মূল করা সম্ভব নয়, যদি না আমরা পারিবারিক ও সামাজিকভাবে সচেতন হই। প্রত্যেক অভিভাবককে তাদের সন্তানদের বন্ধু-বান্ধব ও চলাফেরার বিষয়ে অধিকতর যত্নশীল হতে হবে।”
প্রতিমন্ত্রী দৃঢ়তার সাথে উল্লেখ করেন, “আমরা পিরোজপুরকে একটি আদর্শ ও মাদকমুক্ত জেলা হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িতরা সমাজের শত্রু, তাদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। আসুন, আমরা সবাই মিলে মাদকের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলি।”
অনুষ্ঠান শেষে মাদকবিরোধী বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। সভায় বক্তারা পিরোজপুর জেলাকে সম্পূর্ণ মাদকমুক্ত রাখতে প্রশাসন ও সাধারণ জনগণকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
ছবি: সংগৃহীত
জামালপুরে একটি প্রাইভেটকারের গ্যাস সিলিন্ডারের নিচে বিশেষভাবে তৈরি করা গোপন চেম্বার থেকে ১৫ কেজি গাঁজাসহ চারজন মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা পুলিশ। অভিনব কায়দায় মাদক পরিবহনের এই ঘটনায় জড়িত থাকার অপরাধে মাদক বহনে ব্যবহৃত সাদা রঙের টয়োটা প্রোবক্স প্রাইভেটকারটিও জব্দ করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৬ জুন) সন্ধ্যায় জেলা পুলিশের এক বিশেষ প্রেস ব্রিফিংয়ে এই চাঞ্চল্যকর অভিযানের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়। এর আগে বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার দিকে জামালপুর-শেরপুর মহাসড়কের উত্তর কুটুরিয়া এলাকায় একটি নিয়মিত পুলিশ চেকপোস্টে অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করা হয়েছিল।
গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা হলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার বড়টোডা বিশনাউড়ি এলাকার আক্তার হোসেন, শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার কুরুয়া ভাটিপাড়া এলাকার মিন মোক্তার ওরফে মনির হোসেন, বিল্লাল হোসেন এবং প্রাইভেটকারচালক সাগর।
পুলিশ জানায়, শেরপুর থেকে একটি প্রাইভেটকারে করে বিপুল পরিমাণ গাঁজা জামালপুরে আনা হচ্ছে—এমন একটি গোপন ও সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে উত্তর কুটুরিয়া এলাকায় বিশেষ চেকপোস্ট বসায় পুলিশ। এ সময় নির্দিষ্ট কারটিকে থামানোর সংকেত দেওয়া হলে এর ভেতরে থাকা আরোহীরা গাড়ি থেকে নেমে পালানোর চেষ্টা করেন। তবে পুলিশ সদস্যরা অত্যন্ত তৎপরতার সাথে ধাওয়া করে তাঁদের চারজনকেই ধরে ফেলেন।
পরবর্তীতে স্থানীয় উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে সন্দেহভাজন গাড়িটি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তল্লাশি করা হয়। একপর্যায়ে গাড়ির গ্যাস সিলিন্ডারের নিচে লোহা ও স্টিল দিয়ে বিশেষভাবে তৈরি একটি গোপন চেম্বারের সন্ধান মেলে। সেই চেম্বার খুলে খাকি কাগজে নিখুঁতভাবে মোড়ানো ছয়টি বড় প্যাকেটে থাকা মোট ১৫ কেজি গাঁজা উদ্ধার করে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া এই গাঁজার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৩ লাখ টাকা বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
এই ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত চারজনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় জামালপুর সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই চালানের মূল উৎস, সরবরাহকারী চক্র এবং এর পেছনে থাকা অন্যান্য প্রভাবশালী মাদক কারবারিদের শনাক্ত করতে পুলিশের তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
জামালপুরের পুলিশ সুপার মোছা. ফারহানা ইয়াসমিন এই অভিযানের বিষয়ে স্পষ্ট করে বলেন, জেলাকে মাদকমুক্ত করতে পুলিশের এমন কঠোর অভিযান ও নজরদারি সর্বদা জারি থাকবে এবং মাদক কারবারিদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
ছবি: সংগৃহীত
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেছেন, মানবতার সেবায় আত্মনিয়োগে প্রয়োজন ত্যাগের মানসিকতা। কীভাবে মানুষের কল্যাণে কাজ করতে হয়, তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত লায়ন্স ক্লাব।
শুক্রবার (২৬ জুন) খুলনা লায়ন্স আই হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, কোনো কাজ সফল ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে হলে দৃঢ় অঙ্গীকার অপরিহার্য। আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করা গেলে সেবাগ্রহীতার কখনো অভাব হবে না।
তিনি চক্ষু সেবার পাশাপাশি লায়ন্স ক্লাবের মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা এবং অটিজম বিষয়ে কার্যক্রম সম্প্রসারণের আহ্বান জানান। মানবতার সেবা ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়নে তিনি সবসময় পাশে থাকবেন বলেও আশ্বাস দেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, কেডিএর চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট শফিকুল আলম মনা, লায়ন্স এ কে এম গোলাম ফারুক, সাবিনা সিদ্দিকা ও ডা. মো: বোরহান উদ্দিন। এতে সভাপতিত্ব করেন সিনিয়র লায়ন্স ড. রনঞ্জিত কুমার নাথ। স্বাগত বক্তৃতা করেন লায়ন্স ডা. মনোজ কুমার দাস।
ছবি: সংগৃহীত
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) বিশেষ ও নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থায় পবিত্র আশুরা উপলক্ষে রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী প্রধান তাজিয়া শোক মিছিল অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (২৬ জুন) সকাল ১০টায় পুরান ঢাকার ঐতিহাসিক হোসাইনী দালান ইমামবাড়া থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই শোক মিছিলটি শুরু হয়। কারবালার ঐতিহাসিক ও শোকাবহ স্মৃতি স্মরণে হাজারো শিয়া সম্প্রদায়ের মানুষ ও ভক্তরা খালি পায়ে বুক চাপড়িয়ে ‘হায় হোসেন, হায় হোসেন’ ধ্বনিতে মাতম করে মিছিলে অংশ নেন। সুশৃঙ্খল এই মিছিলটি পুরান ঢাকার হোসাইনী দালান থেকে শুরু হয়ে বকশি বাজার লেন, আলিয়া মাদ্রাসা মোড়, বকশী বাজার মোড়, উমেশ দত্ত রোড, উর্দু রোড মোড়, হরনাথ ঘোষ রোড এবং লালবাগ চৌরাস্তা মোড় অতিক্রম করে।
এরপর গোর-এ শহীদ মাজার মোড়, এতিমখানা মোড়, আজিমপুর চৌরাস্তা মোড়, ইডেন কলেজ ও নীলক্ষেত মোড় হয়ে মিছিলটি মিরপুর রোড ধরে ঢাকা কলেজ এবং সাইন্সল্যাব মোড় পার হয়। সর্বশেষ ধানমন্ডি আবাসিক এলাকার ২ নম্বর রোড, বিজিবির ৪ নম্বর গেট ও সাত মসজিদ রোড হয়ে ধানমন্ডি লেকের পাড়ে অবস্থিত প্রতীকী ‘কারবালা’ প্রান্তে গিয়ে দুপুর আড়াইটায় মিছিলটি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়।
ঐতিহাসিক এই বড় শোক মিছিলটি নির্বিঘ্নে পরিচালনার জন্য ডিএমপির পক্ষ থেকে পূর্ব থেকেই অত্যন্ত কঠোর ও বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল। নিরাপত্তার স্বার্থে মিছিলে যেকোনো ধরনের দা, ছোরা, কাঁচি, বর্শা, বল্লম, তরবারি ও লাঠির মতো ধারালো বা ভারী অস্ত্রশস্ত্র বহন এবং আতশবাজি ও পটকা ফোটানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করে প্রশাসন।
মিছিলের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পুরো রুটজুড়ে ডিএমপির বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্য ও গোয়েন্দা নজরদারি মোতায়েন ছিল। ডিএমপি কমিশনারের সরাসরি নির্দেশনায় সব স্তরের পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যরা মাঠপর্যায়ে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলেন, যার ফলে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ছাড়াই এবারের তাজিয়া মিছিলটি সফল ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ১০ মহররম পবিত্র আশুরা মুসলিম বিশ্বে অত্যন্ত শোকাবহ ও তাৎপর্যপূর্ণ একটি দিন; আর এই বিশেষ দিনটি উপলক্ষে প্রতিবছরের মতো এবারও পুরান ঢাকার হোসাইনী দালান ও বড় কাটারা ইমামবাড়াসহ রাজধানীর বিভিন্ন ইমামবাড়ায় দিনব্যাপী বিশেষ শোকানুষ্ঠান এবং ঐতিহ্যবাহী তাজিয়া মিছিলের আয়োজন করা হয়।
ছবি: সংগৃহীত
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে টানা ৫ দিন বজ্রসহ ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। শুক্রবার (২৬ জুন) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টার জন্য দেওয়া এক বিশেষ আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর সিনপটিক অবস্থায় জানিয়েছে, বর্তমানে একটি লঘুচাপের বর্ধিতাংশ গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ থেকে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এলাকা পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এর প্রভাবে মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরের অন্যত্র দুর্বল থেকে মাঝারি অবস্থায় বিরাজ করছে। এমন আবহাওয়াজনিত পরিস্থিতির কারণে দেশের বিভিন্ন বিভাগে আগামী পাঁচ দিন টানা ভারী বর্ষণ হতে পারে। এ ছাড়া এই নির্দিষ্ট সময়ে দেশের সব কটি বিভাগেই কম-বেশি বজ্রসহ বৃষ্টি হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে বলেও সংস্থাটি তাদের পূর্বাভাসে স্পষ্ট করেছে।
আবহাওয়ার এই বিশেষ বার্তায় অঞ্চলভিত্তিক বৃষ্টিপাতের চিত্র তুলে ধরে বলা হয়েছে, রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে প্রথম ৩ দিন এবং পরবর্তী দুই দিন রংপুর, ময়মনসিংহ, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। তবে দেশের কোথাও কোথাও বর্ষণের তীব্রতা বাড়লেও কিছু অঞ্চলে ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, রাজশাহী ও নীলফামারী জেলাসহ সমগ্র খুলনা বিভাগের ওপর দিয়ে বর্তমানে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা আরও কিছুকাল অব্যাহত থাকতে পারে।
তাপমাত্রার ওঠানামার বিষয়ে অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। তবে শনিবার সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। রবিবার ও সোমবার সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা আবার কিছুটা কমতে পারে।
এ ছাড়া আগামী মঙ্গলবার (৩০ জুন) সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমলেও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে। বর্ধিত দিনগুলোর আবহাওয়ার অবস্থা সম্পর্কে আবহাওয়াবিদেরা জানিয়েছেন, আগামী পাঁচ দিন পার হওয়ার পরও দেশে বৃষ্টিপাতের এই বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন। ছবি: সংগৃহীত
শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন জানিয়েছেন, কোনো প্রমাণ ছাড়া প্রশ্নপত্র ফাঁসের গুজব ছড়ানো বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালালে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে তাৎক্ষণিকভাবে আটক করা হবে। শুক্রবার (২৬ জুন) বিকেলে দিনাজপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
আসন্ন এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নকলমুক্ত পরিবেশে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, কোনো ধরনের অনিয়ম, গাফিলতি বা অসাধু চক্রের তৎপরতার সুযোগ দেওয়া যাবে না।
তিনি বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে কেউ জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরীক্ষার স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখতে সরকার সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, কর্মপরিবেশ যেন আন্দোলন বা বিভিন্ন দাবি দাওয়ার কারণে ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে। শিক্ষা প্রশাসনকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রেখে সবার জন্য সমানভাবে কাজ করার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
বক্তব্যের এক পর্যায়ে শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, আমরা একদলীয় রাষ্ট্র বা একদলীয় রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না। এক সময় সবাই আওয়ামী লীগ করতো, এখন অনেকেই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত হচ্ছে—এটা আমরা বুঝতে পারি, আমরা জানি। তিনি অভিযোগ করে বলেন, বিগত সরকার দেশের ডলার ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ চুরি করেছে। পৃথিবীতে এমন চুরির নজির নেই, শুধু বাংলাদেশেই এটা হয়েছে।
মতবিনিময় সভায় জেলা প্রশাসক রফিকুল ইসলাম, শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান প্রফেসর ইলিয়াস আহমেদ, শিক্ষা বোর্ড সচিব নূর মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক, রংপুর বিভাগের আওতাধীন বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা, বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং শিক্ষা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ফাইল ছবি
সারা দেশে মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়া হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর মিছিল বেড়েই চলেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় (শুক্রবার ২৬ জুন সকাল ৮টা পর্যন্ত) দেশজুড়ে এই রোগের উপসর্গ নিয়ে আরও চার শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।
এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত সারা দেশে হাম এবং এর তীব্র উপসর্গ নিয়ে মৃতের মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭০২ জনে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের হাম বিষয়ক নিয়মিত স্বাস্থ্য বুলেটিন ও প্রতিবেদনে এই উদ্বেগজনক তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
সরকারি ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ৯৭৬ জনের শরীরে হাম এবং এর বিভিন্ন উপসর্গ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ল্যাব টেস্টের মাধ্যমে সরাসরি হাম শনাক্ত হয়েছে ১০৭ জনের শরীরে এবং বাকি ৮৬৯ জনের মধ্যে এই রোগটির নানা স্পষ্ট উপসর্গ দেখা গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদফতর দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি তুলে ধরে জানিয়েছে, গত ১৫ মার্চ থেকে চলতি সপ্তাহের শুক্রবার পর্যন্ত মোট ৯৭ হাজার ৫২২ জনের শরীরে হামের বিভিন্ন উপসর্গ পাওয়া গেছে। একই সাথে এই নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে মোট ১১ হাজার ৫৪৯ জনের শরীরে সরাসরি হামের জীবাণু শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।
সরকারি এই প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে শুরু করে শুক্রবার পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও এর তীব্র উপসর্গ নিয়ে মোট ৮১ হাজার ২৮৩ জন আক্রান্ত রোগী দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি হয়েছেন। তবে আশার কথা হলো, চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে থেকে তাঁদের মধ্যে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ওয়ান বাই ওয়ান রিলিজ বা ছাড়পত্র পেয়েছেন ৭৭ হাজার ৬১৩ জন।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এই পরিস্থিতিতে সন্তানদের সুরক্ষায় অভিভাবকদের আরও সচেতন হওয়ার এবং সময়মতো হামের টিকা নিশ্চিত করার পরামর্শ দিচ্ছেন।
মন্তব্য