মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার জুগিন্দা গ্রামের একটি মাছ চাষের পুকুরের ২০ লক্ষাধিক টাকার মাছ মারা গেছে।
পুর্বশত্রুতার জের ধরে অজ্ঞাত কেউ বিষ ঢেলে মাছ নিধন করেছে বলে অভিযোগ মাছ চাষী কামরুজ্জামানের।
আজ বৃহস্পতিবার ভোরে মাছ মরে ভেসে উঠলে বিষয়টি তার নজরে আসে।
স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, কামরুজ্জামান ৩ বিঘা পুকুরে মাছ চাষ করেছেন। দুই বছর ধরে পাঙ্গাস জাতীয় মাছ চাষ করছেন । একেকটি মাছ ৭-১২ কেজি পর্যন্ত ওজন হয়েছে। কয়েকদিন পরেই মাছ বিক্রি করতেন তিনি।
অথচ আজ সকালে স্থানীয়রা পুকুরে মাছ মরে ভেসে উঠতে দেখেন। পুকুর মালিক লোকজন নিয়ে মাছ তুলে বিক্রির চেষ্টা করেছেন। তবে বিষে আক্রান্ত নেই বেশিরভাগ মাছে পচন ধরেছে। এতে তার ২০ লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানান মাছ চাষী কামরুজক্জামান।
দ্রুততম সময়ে বিষয়টির তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
গাংনী থানার ওসি পরিদর্শক (তদন্ত) আল মামুন জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পক্রিয়া চলছে।
ছবি: সংগৃহীত
চায়ের রাজ্যখ্যাত মৌলভীবাজারের পাহাড়ি টিলাজুড়ে এখন রসালো ফল আনারসের সুবাস। অনুকূল আবহাওয়া, উর্বর মাটি আর স্থানীয় কৃষকদের দীর্ঘ অভিজ্ঞতায় চলতি মৌসুমে জেলায় আনারসের বাম্পার ফলন হয়েছে। এবার মৌলভীবাজারের আনারস ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ফিলিপাইন থেকে আমদানিকৃত উচ্চফলনশীল ও আন্তর্জাতিক মানের ‘এমডি-২’ জাত, যা স্থানীয় চাষিদের মাঝে নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে।
কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে জেলার শ্রীমঙ্গল, কমলগঞ্জ, রাজনগর, কুলাউড়া ও বড়লেখার পাহাড়ি টিলায় মোট ১ হাজার ২২৩ হেক্টর জমিতে আনারসের চাষ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এমডি-২, হানিকুইন (জলচুপি) ও জায়েন্ট কিউ জাতের প্রায় ২২ হাজার ৭৭৪ মেট্রিক টন আনারস উৎপাদিত হয়েছে, যার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৬৮ কোটি ৩২ লাখ ২০ হাজার টাকা।
জেলার বিভিন্ন উপজেলার পাহাড়ি ও সমতল মিলিয়ে মোট ১,২২৩ হেক্টর জমিতে এবার আনারসের আবাদ করা হয়েছে। মৌসুম শেষে জেলাজুড়ে উৎপাদিত আনারসের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২২,৭৭৪ মেট্রিক টন। উৎপাদিত এই বিশাল পরিমাণ আনারসের বর্তমান বাজারমূল্য ধরা হয়েছে প্রায় ৬৮ কোটি ৩২ লাখ ২০ হাজার টাকা।
জেলায় মোট উৎপাদনের একটি বড় অংশই এসেছে শ্রীমঙ্গল উপজেলা থেকে। দেশের আনারস উৎপাদনের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত এই উপজেলায়
৪২৫ হেক্টর জমি থেকে মোট ৬,৮২১ মেট্রিক টন আনারস উৎপাদিত হয়েছে। শুধু শ্রীমঙ্গল থেকেই উৎপাদিত এই ফলের সম্ভাব্য বাজারমূল্য প্রায় ১২ কোটি ৪২ লাখ টাকা।
দেশের ‘আনারস উৎপাদনের রাজধানী’ হিসেবে পরিচিত শ্রীমঙ্গল উপজেলায় এবার ৪২৫ হেক্টর জমিতে আনারস চাষ হয়েছে। উপজেলার আশিদ্রোন ইউনিয়নের রাধানগর, ডলুছড়া, মহাজিরাবাদ, বালিশিরা, সাতগাঁও, রাজঘাট, কালিঘাট ও মির্জাপুরসহ বিস্তীর্ণ পাহাড়ি টিলাজুড়ে এখন পাকা আনারসের সমারোহ। স্থানীয় বাজারের চাহিদা মিটিয়ে প্রতিদিন ট্রাক ও পিকআপ ভর্তি আনারস চলে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে।
বিশ্বজুড়ে ‘গোল্ডেন সুইট’ বা ‘এক্সট্রা সুইট পাইনআপেল’ নামে পরিচিত ফিলিপাইনের এই এমডি-২ জাতটি দেশের ৭টি জেলায় পরীক্ষামূলকভাবে চাষ করা হয়েছিল। এর মধ্যে শ্রীমঙ্গলে উৎপাদিত আনারস গুণে, মানে ও স্বাদে অন্য সব জেলাকে ছাড়িয়ে গেছে।
মহাজিরাবাদ গ্রামের সফল চাষি রাজু আহমেদ জানান, তিনি ২২ শতাংশ জমিতে ২,২৫০টি এমডি-২ জাতের চারা রোপণ করে ইতোমধ্যে প্রায় এক লাখ টাকার আনারস বিক্রি করেছেন। তার মতে, "এই আনারস দেশীয় জাতের চেয়ে অনেক বেশি সুস্বাদু। পাকার পরও ১০-১৫ দিন ভালো থাকে এবং এক মাসেরও বেশি সময় সংরক্ষণ করা সম্ভব।" একই আশার কথা শোনান মহাজিরাবাদ গ্রামের চাষি শফিক মিয়াও। ৩০ শতাংশ জমিতে ২,৫০০টি চারা রোপণ করে তিনিও দারুণ লাভের মুখ দেখছেন।
শ্রীমঙ্গল কৃষি অধিদপ্তরের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. মাসুকুর রহমান বলেন, "শ্রীমঙ্গলের আনারস বাগান এই অঞ্চলের অন্যতম আকর্ষণ। ফিলিপাইনের এমডি-২ জাতের চারাগুলোর বৃদ্ধি ও ফলের আকৃতি, রং ও স্বাদ সম্পূর্ণ আন্তর্জাতিক মানের হয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দিন জানান, এই অঞ্চলে হেক্টর প্রতি ১৫ থেকে ১৬ টন এমডি-২ আনারস উৎপাদিত হচ্ছে, যা স্থানীয় জাতের চেয়ে অনেক বেশি লাভজনক। ফলন ভালো হওয়ায় আগামীতে এটি ব্যাপকহারে চাষের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
মৌলভীবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. জালাল উদ্দিন বলেন, এমডি-২ জাতের আনারস সহজে নষ্ট হয় না এবং এটি আন্তর্জাতিক বাজারে অত্যন্ত চাহিদাসম্পন্ন। এই জাতের বাণিজ্যিক সম্প্রসারণের মাধ্যমে ভবিষ্যতে বিদেশে আনারস রপ্তানি করে দেশের অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখা সম্ভব।
ষাটের দশকে শ্রীমঙ্গলে বাণিজ্যিকভাবে শুরু হওয়া আনারস চাষ ফিলিপাইনের এই নতুন জাতেৎর হাত ধরে এবার বিশ্ববাজারে রপ্তানির নতুন স্বপ্ন দেখাবে এমনটাই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্ট সকলের।
ছবি: নিউজ বাংলা
মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় এক বিশেষ অভিযান চালিয়ে তিনটি বিদেশি পিস্তল, দেশীয় অস্ত্র ও বিপুল পরিমাণ উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বিস্ফোরক দ্রব্য উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) ভোরের দিকে উপজেলার বড়লেখা সদর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী ‘মিশন’ নামক স্থানে এ অভিযান পরিচালিত হয়। তবে এ ঘটনায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
বিজিবি সূত্র জানায়, বিয়ানীবাজার ব্যাটালিয়ন (৫২ বিজিবি) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে যে, সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে অস্ত্র ও উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বিস্ফোরক দ্রব্যের একটি বড় চালান বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করতে যাচ্ছে। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে বিয়ানীবাজার ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আতাউর রহমান সুজনের নেতৃত্বে বিওসিটিলা বিওপির একটি বিশেষ আভিযানিক দল সীমান্তে অবস্থান নেয়।
পরবর্তীতে বিজিবি টহল দল সীমান্ত পিলার ১৩৮৫/এম হতে আনুমানিক ৫০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে মিশন নামক স্থানে ব্যাপক তল্লাশি চালায়। ভোরের দিকে বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে চোরাকারবারিরা মালামাল ফেলে পালিয়ে যায়। পরে সেখান থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়, বিদেশি পিস্তল ৩টি, উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বিস্ফোরক (পাওয়ারজেল নাইনটি) ৩ কেজি (২৩টি টিউব), ডেটোনেটর ২৪টি, ডেটোনেটর তৈরির তার ১৫ মিটার, ২টি কুকরি চাপাতি।
বিয়ানীবাজার ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আতাউর রহমান সুজন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অত্যন্ত তৎপরতার সাথে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত বিস্ফোরকগুলো অত্যন্ত শক্তিশালী ও মারাত্মক। দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি রক্ষা এবং সীমান্ত সুরক্ষায় বিজিবির এমন কঠোর নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এ ঘটনায় বড়লেখা থানায় মামলা দায়েরসহ উদ্ধারকৃত আগ্নেয়াস্ত্র ও বিস্ফোরক দ্রব্য হস্তান্তরের আইনানুগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে বিজিবি নিশ্চিত করেছে।
ছবি: নিউজ বাংলা
মেহেরপুর গাংনী উপজেলার সহড়াতলা সীমান্ত এলাকা দিয়ে ৭ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা চালিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।
তবে বাংলাদেশ সিমান্তরক্ষাকারি বাহিনী বর্ডার গার্ড (বিজিবি) কঠোর অবস্থান ও স্থানীয়দের বাধার মূখে পুশইনের সেই চেষ্টা এখন পযর্ন্ত ব্যর্থ হয়ে রয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) ভোরে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের শূন্য রেখার ১৪২এর ৫এস সাব পিলারের কাছে শূন্যরেখার ওপারে সাত জনকে দেখতে পান স্থানীয়রা। এ সময় তাদের বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করা হলে বিজিবি কঠোর অবস্থান গ্রহণ করে। ফলে পুশইন ব্যর্থ হয় এবং ওই ব্যক্তিরা বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকা থেকে সরে যায়।
স্থানীয়দের দাবি,পুশইনের চেষ্টা করা সাতজনের মধ্যে একজন নারী ও ছয়জন পুরুষ রয়েছে। তবে তাদের পরিচয়, জাতীয়তা কিংবা কী কারণে তাদের সীমান্তে আনা হয়েছিল,সে বিষয়ে এখনও কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় বাসিন্দা রোকনুজ্জামান বলেন, গতকাল মধ্যরাতে কোন একসময় ওই সাতজনকে ভারতের তারকাটা পার করে দেয়া হয়। তখন তারা সিমান্তে এলাকায় ঘোরাঘুরি করতে থাকলে আমরা তাদের দেখতে পেয়ে বিষয়টি বিজিবিকে জানিয়ে তাদের সাথে কাধে কাধ মিলিয়ে ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবেশে বাধা প্রদান করি। পুশইনের আশঙ্কায় সীমান্ত এলাকায় বতর্মানে বিজিবি সিমান্তে লোক সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি নজরদারি অনেক বাড়িয়েছে ।
বিজিবি ৬ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নাজমুল হাসান জানান,আজ বুধবার (২৫ জুন)ভোরে বিএসএফ সাতজনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করেছিল। কিন্তু বিজিবির কঠোর অবস্থানের কারণে তারা বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারেনি। তিনি আরো বলেন,সীমান্তে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। স্থানীয় জনগণের সহযোগিতায় নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।পুশইন প্রতিরোধে বিজিবি বদ্ধপরিকর।
সীমান্তে পুশইনের অভিযোগ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিলেও বিজিবির কঠোর অবস্থানের কারণে পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে। সীমান্ত এলাকায় অতিরিক্ত সর্তকতা অব্যাহত রয়েছে।
ছবি: নিউজ বাংলা
নওগাঁর পাতাড়ী সীমান্তে পুশইন চেষ্টার শিকার হওয়া ৯ নারী-শিশুকে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ফিরিয়ে নিয়েছে বলে ধারণা করছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে নওগাঁ-১৬ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম এক প্রেস নোটের মাধ্যমে এ তথ্য জানায়। প্রেস নোটে বলা হয়, গতকাল সারাদিন সীমান্তের শূন্য লাইন থেকে প্রায় ১০০ গজ ভারতের অভ্যন্তরে অবস্থান করছিল ওই ৯ জন। তবে বর্তমানে তাদের কোনো অবস্থান বা চলাচল দেখা যাচ্ছে না। ধারণা করা হচ্ছে, রাতের কোনো এক সময়ে বিএসএফ তাদের ভারতে ফিরিয়ে নিয়ে গেছে।
এ ঘটনায় নওগাঁর সীমান্ত এলাকায় সতর্কতা বাড়িয়েছে বিজিবি। জেলার প্রতিটি সীমান্ত চৌকিতে (বিওপি) টহল ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
এর আগে গতকাল ভোর ৪টার দিকে নওগাঁর আদাতলা বিওপির ২৪৪ নম্বর সীমান্ত পিলার এলাকা দিয়ে নারী ও শিশুসহ ৯ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। স্থানীয়দের সহায়তায় বিজিবি ওই চেষ্টা প্রতিহত করে।
ছবি: সংগৃহীত
ভোগান্তি কমিয়ে সাধারণ যাত্রীদের সেবার মান আরও উন্নত করতে দেশজুড়ে রেল সম্প্রসারণের মহাপরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে নতুন করে রেলসেবায় যুক্ত করা হচ্ছে ১০ জেলাকে। এছাড়া ৬০ নতুন ইঞ্জিন ও ২০০ নতুন কোচ সংযোজন হচ্ছে অচিরেই।
বাংলাদেশ রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, ২০৩২ সালের মধ্যে দ্রুতগতির ট্রেন চালনা আর আঞ্চলিক বাণিজ্যের কেন্দ্রবিন্দু হওয়ার মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। নতুন অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং চলমান সংস্কার কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নের মাধ্যমে শিগগিরই সাধারণ যাত্রীদের জন্য একটি নিরাপদ, আধুনিক ও মর্যাদাপূর্ণ রেল সেবা নিশ্চিত হতে যাচ্ছে।
রেলওয়ের দীর্ঘমেয়াদি মহাপরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হলো দেশের প্রতিটি জেলাকে একটি সমন্বিত ও পরিবেশবান্ধব রেল নেটওয়ার্কের আওতায় নিয়ে আসা। এই মহাপরিকল্পনার অংশ হিসেবে নতুন করে আরও ১০টি জেলায় দ্রুত রেললাইন চালুর জোরালো উদ্যোগ নিয়েছে বর্তমান সরকার।
অগ্রাধিকার প্রাপ্ত অঞ্চল ও রাজধানীর সাথে সংযোগ: প্রাথমিক ধাপে ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোর পাশাপাশি দেশের অবহেলিত দক্ষিণাঞ্চলকে রেলের আওতায় আনার জোর প্রচেষ্টা চলছে। এই তালিকায় অগ্রাধিকার পাচ্ছে বরিশাল, সাতক্ষীরা, পটুয়াখালী, পিরোজপুর এবং মানিকগঞ্জ। সরকারের লক্ষ্য, এই জেলাগুলোতে আধুনিক লাইন নির্মাণের পাশাপাশি যুগোপযোগী স্টেশন ও সিগন্যালিং ব্যবস্থা স্থাপন করা, যাতে উদ্বোধনের দিন থেকেই পুরোদমে এবং নিরাপদে ট্রেন চালানো সম্ভব হয়।
ঢাকার ওপর থেকে জনসংখ্যার চাপ কমাতে এবং প্রতিদিনের কর্মজীবী মানুষের যাতায়াত সহজ করতে মানিকগঞ্জ ও নরসিংদীর মতো সীমান্তবর্তী জেলাগুলোর সাথে বিশেষ ‘কমিউটার রেল সার্ভিস’ চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর ফলে সাশ্রয়ী ভাড়ায় ঢাকার বাইরে থেকে এসে মানুষ দৈনন্দিন দাপ্তরিক কাজ শেষ করে রাতে নিজ জেলায় ফিরে যেতে পারবেন।
ঢাকা-কুমিল্লা কর্ড লাইন: বাঁচবে সময় ও জ্বালানি: বর্তমান রেল ব্যবস্থাপনায় গতি আনতে এবং দূরত্ব ও সময় কমিয়ে আনতে ‘ঢাকা-কুমিল্লা কর্ড লাইন’ নির্মাণের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এই কর্ড লাইনটি নির্মিত হলে রাজধানী থেকে চট্টগ্রামের দূরত্ব সরাসরি প্রায় ৮০ কিলোমিটার কমে যাবে। এতে প্রতি ট্রিপে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি সাশ্রয় হবে এবং যাত্রীদের মূল্যবান সময় বাঁচবে।
ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথ: ৩৩ হাজার কোটির মেগা মিশন: দেশের প্রধান অর্থনৈতিক করিডোর ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথকে সম্পূর্ণ আধুনিক রূপ দিতে প্রায় ৩৩,৩০৯ কোটি টাকার দুটি বিশাল প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে। এই বিশাল অংকের অর্থায়নে প্রধান সহযোগী হিসেবে আগ্রহ দেখিয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। বাংলাদেশ রেলওয়ে পুরো ৩২৫ কিলোমিটার করিডোরের উন্নয়ন একসাথে এগিয়ে নেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছে, যাতে সমন্বিতভাবে ট্রেনের গতি বৃদ্ধি পায়।
প্রকল্পের উন্নয়ন প্রস্তাবনা (ডিপিপি) অনুযায়ী, ২০৩২ সালের মধ্যে এই কাজ শেষ হলে রেল খাতে আমূল পরিবর্তন আসবে।
সময় সাশ্রয় হবে: ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পৌঁছাতে বর্তমানে আন্তঃনগর ট্রেনের সময় লাগে প্রায় ৪ ঘণ্টা ৫০ মিনিট, যা ডুয়েলগেজ সম্পন্ন হলে মাত্র ৪ ঘণ্টায় নেমে আসবে (সময় কমবে প্রায় ৩৪ শতাংশ)।
শিডিউল বিপর্যয় রোধ হবে: ট্রেনের সময়সূচি বা শিডিউল মানার হার বর্তমানের ৫৫ শতাংশ থেকে একলাফে ৯৫ শতাংশে উন্নীত হবে।
সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে: বর্তমানে এই রুটে দৈনিক ৫২ জোড়া ট্রেন চলে, যা প্রকল্পের পর ৬৫ জোড়ায় উন্নীত করা সম্ভব হবে।
চট্টগ্রাম বন্দরের পণ্য পরিবহন: পণ্যবাহী ট্রেনের শিডিউল মানার হার ৭০ শতাংশে উন্নীত হবে, যা সড়কপথের ওপর থেকে পণ্য পরিবহনের চাপ কমাবে এবং জাতীয় অর্থনীতিতে গতি আনবে।
আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য: এই করিডোরটি ‘ট্রান্স-এশিয়ান রেলওয়ে নেটওয়ার্ক’-এর অংশ হওয়ায় আখাউড়া সীমান্ত হয়ে ভারতীয় রেলের মালবাহী ও যাত্রীবাহী ট্রেন সরাসরি চট্টগ্রাম বন্দর পর্যন্ত যাতায়াত করতে পারবে।
ভারত থেকে আসছে ২০০ ব্রডগেজ কোচ: ইউরোপীয় বিনিয়োগ ব্যাংকের (EIB) অর্থায়নে ৯১৫ কোটি রুপি ব্যয়ের একটি চুক্তির আওতায় ভারত থেকে মোট ২০০টি অত্যাধুনিক যাত্রীবাহী ব্রডগেজ কোচ আমদানি করছে বাংলাদেশ। ভারতের পাঞ্জাবের কাপুরথালার রেল কোচ কারখানায় (RCF) এই আধুনিক বগিগুলো তৈরি করা হচ্ছে।
চুক্তির প্রথম চালানের ২০টি ব্রডগেজ কোচ আগামী জুলাই মাসেই বাংলাদেশে পৌঁছানোর জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত। দুই দেশের রেল প্রশাসনের চমৎকার সমন্বয়ে কাজ দ্রুত গতিতে চলছে। এই চুক্তির বিশেষত্ব হলো, ভারত দীর্ঘমেয়াদি ডিজাইন সাপোর্ট, প্রয়োজনীয় খুচরা যন্ত্রাংশ (স্পেয়ার পার্টস) এবং বাংলাদেশের রেল প্রকৌশলীদের বিশেষ কারিগরি প্রশিক্ষণ প্রদান করবে। নতুন এই ২০০ কোচ যুক্ত হলে দেশের ব্রডগেজ রুটের (পশ্চিমাঞ্চল) কোচের চাহিদা পুরোপুরি পূরণ হবে।
মিটারগেজ অঞ্চলের আধুনিকায়ন ও চলমান সংস্কার কার্যক্রম: পশ্চিমাঞ্চলে ব্রডগেজ বগি আসার পাশাপাশি পূর্বাঞ্চল বা মিটারগেজ অঞ্চলের (ঢাকা-ময়মনসিংহ-জামালপুর রুট) ট্রেনের আধুনিকায়নেও বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। যুগের চাহিদার সাথে সামঞ্জস্য রেখে পুরনো কোচগুলোর ভেতরের সজ্জা পরিবর্তন এবং সিট ও টয়লেটগুলোর আধুনিকায়নের কাজ শুরু হয়েছে।
নিরাপদ ও আরামদায়ক যাত্রা নিশ্চিত করতে যান্ত্রিক প্রকৌশল বিভাগ নিয়মিত বগিগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ ও ফিটনেস পরীক্ষা করছে। যাতায়াতকারী সম্মানিত যাত্রীরা যাতে শতভাগ স্বাচ্ছন্দ্য পান, সেজন্য ট্রেনের ভেতরের পরিবেশ ও ক্যাটারিং সার্ভিসকে আরও উন্নত ও সুশৃঙ্খল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
দূরদর্শী নীতি পরিবর্তন ও আগামী ৩ বছরের রূপরেখা: অবকাঠামো ও যাত্রীসেবার মানকে একই সমান্তরালে এগিয়ে নিতে রেল মন্ত্রণালয় ও প্রশাসন অত্যন্ত দূরদর্শী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব জানিয়েছেন, সরকারের নীতিগত পরিবর্তনের অংশ হিসেবে এখন থেকে নিয়ম করা হয়েছে—ভবিষ্যতে নতুন কোনো রেলপথ সম্প্রসারণের প্রকল্প নেওয়া হলে, ট্র্যাক নির্মাণের পাশাপাশি একই প্রকল্পের বাজেটের মধ্যে প্রয়োজনীয় ইঞ্জিন ও বগি আমদানির বিষয়টিকেও বাধ্যতামূলকভাবে অন্তর্ভুক্ত রাখা হবে।
বর্তমানে মিটারগেজ ও ব্রডগেজ মিলিয়ে প্রায় ৬০টি নতুন ইঞ্জিন এবং কয়েকশ আধুনিক কোচ সংগ্রহের আন্তর্জাতিক টেন্ডার প্রক্রিয়া চূড়ান্তকরণের কাজ চলছে। এই নতুন কোচগুলো সরবরাহ হতে যে সময়টুকু লাগবে, তার মধ্যেই দ্রুততম সময়ে যাত্রীসেবা সচল রাখতে বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেন এক বিশেষ উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন। তিনি জানান, চট্টগ্রামের পাহাড়তলী ওয়ার্কশপসহ বিভিন্ন উন্নত কারখানায় প্রায় ৫০টি বগিকে জরুরি ভিত্তিতে সম্পূর্ণ নতুন সিট ও অভ্যন্তরীণ আধুনিক অবকাঠামো দিয়ে পুনর্বাসন (Rehabilitation) করা হচ্ছে, যা খুব দ্রুতই লাইনে যুক্ত হয়ে যাত্রীদের আরামদায়ক সেবা নিশ্চিত করবে।
বিশেষজ্ঞদের অভিমত ও আশাবাদ: ঢাকা-চট্টগ্রাম করিডোরকে ডুয়েলগেজ করার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ও যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ মো. হাদিউজ্জামান বলেন, রেল দেশের কোটি মানুষের প্রধান গণপরিবহন। ঢাকা-চট্টগ্রাম করিডোরকে ডুয়েলগেজ করার সিদ্ধান্তটি অত্যন্ত সময়োপযোগী।
তিনি আরো বলেন, এই মেগা প্রকল্পের পাশাপাশি সিগন্যালিং ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং দক্ষ অপারেশনাল ম্যানেজমেন্ট নিশ্চিত করা গেলে বিনিয়োগের সর্বোচ্চ সুফল পাওয়া যাবে এবং দেশের অর্থনীতিতে অভূতপূর্ব গতি আসবে।
ফাইল ছবি
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে মাত্র ১৬ দিনে চার দফায় বাংলাদেশে অবৈধভাবে মানুষ ঠেলে পাঠানোর (পুশইন) অপচেষ্টা চালিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে প্রতিবারই বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং স্থানীয় গ্রামবাসীদের সম্মিলিত প্রতিরোধের মুখে পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে তারা। লাঠিসোটা হাতে মাঠে নামা সাধারণ মানুষের প্রতিরোধের কাছে হার মেনেছে বিএসএফের একের পর এক কৌশল।
বিজিবি ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পুশইন সফল করতে বিএসএফ ভৌগোলিক অবস্থান, বৈরী আবহাওয়া ও মানুষের মনস্তত্ত্বকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে। নজরদারি এড়াতে প্রতিটি পুশইনের জন্য গভীর রাত কিংবা ভোরবেলার সময়টিকে বেছে নেওয়া হয়। স্থলসীমান্তে বিজিবির কড়া অবস্থানের মুখে রুট পরিবর্তন করে নদীপথ বেছে নেয় বিএসএফ। রোকনপুরের নদী সীমান্ত দিয়ে নৌকাযোগে পুশইনের অপচেষ্টা চালানো হয়। অর্থের বিনিময়ে এই কাজে বিএসএফকে সহায়তা করে স্থানীয় কিছু দালাল ও মাঝি।
বিএসএফের একটি বড় কৌশল ছিল বাংলাদেশে অবৈধভাবে ঠেলে দেওয়া মানুষের দলে অধিকসংখ্যক নারী ও শিশু রাখা। এর মাধ্যমে তারা বাংলাদেশের ওপর একধরনের মানবিক চাপ সৃষ্টির চেষ্টা চালায়। উদ্দেশে ছিল, নারী ও শিশুদের সামনে দেখে বিজিবি যেন কঠোর অবস্থান থেকে সরে আসে। এ ছাড়া সীমান্তের শূন্যরেখায় বিজিবি বাধা দিলে বিভিন্ন পোস্টে সদস্যসংখ্যা বাড়িয়ে পাল্টা সেনা সমাবেশ ঘটায় বিএসএফ। এটি ছিল মূলত বিজিবিকে ভয় দেখানো ও চাপে ফেলার কৌশল। তবে শেষ পর্যন্ত তাদের এসব কৌশল কাজে আসেনি।
১৬ দিনে চার দফা প্রতিরোধ: গোমস্তাপুর উপজেলার বাঙ্গাবাড়ি সীমান্ত দিয়ে গত ৪ জুন ভোররাত ৩টার দিকে ১২ পুরুষ, ১০ নারী এবং ছয় শিশুসহ মোট ২৮ জনকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা চালায় বিএসএফ। প্রচণ্ড ঝড়-বৃষ্টির মধ্যে সীমান্তের শূন্যরেখায় দীর্ঘ সময় আটকে থাকার পর বিজিবি ও স্থানীয়দের শক্ত অবস্থানের মুখে পরদিন তাদের ভারতে ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয় বিএসএফ।
একই উপজেলার রোকনপুর সীমান্তের নদীপথে গত ১২ জুন রাত ১২টা ৪০ মিনিটে নৌকাযোগে দুই পুরুষ, আট নারী এবং পাঁচ শিশুসহ ১৫ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা চালায় বিএসএফ। বিষয়টি টের পেয়ে বাধা দেয় বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষীরা। প্রায় দুই ঘণ্টা শূন্যরেখায় দাঁড়িয়ে থাকার পর রাত ২টা ৪০ মিনিটে তাদের ফিরিয়ে নেয় বিএসএফ।
১৫ জুন রাত পৌনে ১১টার দিকে একই সীমান্ত দিয়ে এক নারীকে নৌকাযোগে পুশ-ইনের চেষ্টা স্থানীয়দের সহায়তায় প্রতিহত করে বিজিবি। পরবর্তীতে শিবগঞ্জ উপজেলার চৌকা সীমান্ত দিয়ে গত ২০ জুন ভোরে পাঁচ পুরুষ, ১১ নারী ও চার শিশুসহ ২০ জনকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা চালায় বিএসএফ। বিষয়টি টের পেয়ে লাঠিসোঁটা নিয়ে মাঠে নামেন গ্রামবাসী। শেষ পর্যন্ত বিজিবির পাশাপাশি স্থানীয় সম্মিলিত প্রতিরোধের মুখে বিএসএফের ওই পুশ-ইন প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। বাংলাদেশে আর প্রবেশ করতে পারেনি অনুপ্রবেশের অপেক্ষায় থাকা ব্যক্তিরা।
১৫ জুনের ঘটনায় বিএসএফকে সহযোগিতার অভিযোগে স্থানীয় চার দালালসহ সাত বাংলাদেশিকে আটক করে পুলিশ ও বিজিবি। চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত সহকারী পুলিশ সুপার এএনএম ওয়াসিম ফিরোজ এশিয়া পোস্টকে জানান, আইনি প্রক্রিয়া শেষে আটককৃতদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
৫৯ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, সীমান্ত দিয়ে কোনো ধরনের পুশইন কোনোভাবেই হতে দেওয়া হবে না। বিএসএফের যেকোনো চতুর কৌশল নস্যাৎ করতে বিজিবি সতর্কতা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সীমান্ত এলাকায় কঠোর নজরদারি ও সার্বক্ষণিক টহল অব্যাহত রয়েছে।
১৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম বলেন, এই ব্যাটালিয়নের আওতাধীন এলাকায় তিনবার পুশইনের অপচেষ্টা চালানো হয়। বিজিবির অনড় অবস্থানের কারণে বিএসএফের প্রতিটি চেষ্টাই প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে।
মন্তব্য