মাদকের ভয়াবহ বিস্তার রোধ, এর কুফল সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং একটি সুস্থ-স্বচ্ছ যুবসমাজ গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে পিরোজপুরে ‘মাদকের বিস্তার-আমাদের করণীয়’ শীর্ষক এক বিশেষ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২০ জুন) সকাল ১০টায় পিরোজপুর সদর উপজেলা অডিটোরিয়ামে এই সভার আয়োজন করা হয়।
পিরোজপুর প্রেসক্লাবের আয়োজনে এবং পিরোজপুর জেলা পরিষদের সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ সভায় সভাপতিত্ব করেন পিরোজপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি এস. এম. রেজাউল ইসলাম শামিম।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, "মাদকের বিস্তার রোধে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপের পাশাপাশি একটি শক্তিশালী সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা অপরিহার্য। প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় মাদকের বিরুদ্ধে সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে এবং মাদকের সাথে সম্পৃক্তদের সামাজিকভাবে বয়কট করতে হবে।" জেলা প্রশাসক মাদকের তালিকা তৈরি করে তা প্রকাশ্যে টানিয়ে দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে বলেন, এতে সমাজের সর্বস্তরের মানুষ তাদের সম্পর্কে সচেতন হতে পারবে।
তিনি আরও জানান, পিরোজপুরে একটি মাদক নিরাময় কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা জেলা প্রশাসনের রয়েছে এবং দ্রুতই এ বিষয়ে উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পিরোজপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর আহমেদ সিদ্দিকী, জেলা পরিষদ প্রশাসক অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন, সরকারি সোহরাওয়ার্দী কলেজের অধ্যক্ষ রফিকুল ইসলাম, সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ পান্না লাল রায়, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এস এম সাইদুল ইসলাম কিসমত এবং চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি গাজী ওয়াহিদুজ্জামান লাভলু।
বক্তারা বলেন, মাদক এখন পরিবারের শান্তি বিনষ্ট করছে, বাবা-ছেলের সম্পর্ক ধ্বংস করছে এবং তরুণ প্রজন্মকে অকাল মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তাই মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করে প্রশাসন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, অভিভাবক এবং সামাজিক সংগঠনগুলোকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
এই আলোচনা সভায় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানগণ, সাংবাদিকবৃন্দ, স্থানীয় সুধীজন এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। অংশগ্রহণকারী প্রত্যেকেই পিরোজপুরকে মাদকমুক্ত জেলা হিসেবে গড়ে তুলতে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানটিতে মাদকবিরোধী লড়াইয়ে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সর্বস্তরের মানুষকে সম্পৃক্ত করে একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম তৈরির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়, যা ভবিষ্যতে পিরোজপুরকে মাদকের ছোবল থেকে রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু। ছবি: সংগৃহীত
চলতি বাজেটকে একটি জনবান্ধব বাজেট উল্লেখ করে সরকার দলীয় হুইপ ও নাটোর ২ আসনের সংসদ সদস্য রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেছেন, দেশের তৃনমুল পর্যায়ের মানুষের জন্য যে বাজেট দরকার। ধান, চাল, তেল ও আটা থেকে শুরু করে মসলা পর্যন্ত সমস্ত ক্ষেত্রে কৃষক বান্ধব ও জনবান্ধব বাজেট পেশ করেছে সরকার। গত ৫০ বছরের ইতিহাসে এমন সুন্দর বাজেট হয়নি।
শনিবার (২০ জুন) নাটোর সদর উপজেলা পরিষদের হলরুমে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে প্রান্তিক কৃষকদোর মাঝে সার, বীজ ও কীটনাশক বিতরণ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।
এসময় তিনি আরও বলেন, কৃষক, শ্রমিক রিক্সা চালক থেকে শুরু করে সকল মানুষের জীবনযাত্রা অতিবাহিত করার জন্য যে বাজেট প্রয়োজন সেই বাজেট ঘোষনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন,জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক মোস্তাফিজুর রহমান শাহীন, সাইফুল ইসলাম আফতাব সহ বিএনপির নেতৃবৃন্দ।
ছবি: সংগৃহীত
খাদ্য অধিদপ্তরের অধীনে সহকারী উপখাদ্য পরিদর্শক নিয়োগ পরীক্ষায় অসাধুপন্থা অবলম্বনের অভিযোগে ঢাকা কলেজ কেন্দ্রে ৫০ জন পরীক্ষার্থীকে আটক করা হয়েছে। অভিযুক্তদের কাছ থেকে পরীক্ষা চলাকালে অবৈধ ইলেকট্রনিক ডিভাইস ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।
এ ঘটনায় অন্তত ১৬ জনকে তাৎক্ষণিক বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড প্রদান করেছেন ঢাকা জেলা প্রশাসনের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট।
শুক্রবার (১৯ জুন) বেলা ১২টার দিকে ঢাকা কলেজ কেন্দ্রে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক এ কে এম ইলিয়াস বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
জানা যায়, শুক্রবার (১৯ জুন) বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর ঢাকা কলেজে খাদ্য অধিদপ্তরের সহকারী উপখাদ্য পরিদর্শক পদের পরীক্ষা শুরু হয়। পরীক্ষা চলাকালে ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. শরীফুল্লাহর নেতৃত্বে বিশেষ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে জালিয়াতির অভিযোগে মোট ৫০ জনকে আটক করা হয়, যার মধ্যে ৪৫ জন পুরুষ ও ৫ জন নারী রয়েছেন।
অভিযুক্তদের মধ্যে ২৮ জনকে পরীক্ষাকেন্দ্রের ভেতর থেকে ইলেকট্রনিক ডিভাইসসহ এবং বাকি ২২ জনকে কেন্দ্রের বাইরে ঢাকা কলেজের মূল ফটক থেকে আটক করা হয়। আটককৃতদের মধ্যে অন্তত ১৬ জনকে ফৌজদারি দণ্ডবিধির ২৪৫ ও ২৫৮ ধারা অনুযায়ী ১ থেকে ৭ দিন পর্যন্ত বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক এ কে এম ইলিয়াস বলেন, পরীক্ষার সময় যাদের সন্দেহজনক মনে হয়েছে, পরবর্তীতে চেক করে তাদের কাছে ইলেকট্রনিক ডিভাইস পাওয়া গেছে। মোবাইলে মেসেজ পাওয়া গেছে। পরীক্ষার সময় তারা প্রশ্ন স্ক্যান করে বাইরে পাঠিয়েছে, এরপর বাইরে থেকে সেই উত্তর এসেছে।
তিনি আরও বলেন, এর মধ্যে দুইটা গ্রুপ আছে। একটা হলো যারা গেটের বাইরে ঢোকার সময় ধরা পড়েছে। আরেক গ্রুপকে পরীক্ষার হল থেকে ধরা হয়েছে। এরপর জালিয়াতির সঙ্গে যুক্ত পরীক্ষার্থীদের বিভিন্ন রুম থেকে ধরে এনে আলাদা দুইটা রুমে রাখা হয়েছিল। কেন্দ্রের যে ম্যাজিস্ট্রেট আছে তার কাছে সোপর্দ করা হয়েছে। আটককৃতদের বিরুদ্ধে ম্যাজিস্ট্রেট আইনানুগ ব্যবস্থা নিচ্ছেন।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রমনা জোনের নিউমার্কেট অঞ্চলের সহকারী কমিশনার জাহাঙ্গীর আলম জানান, পরীক্ষায় জালিয়াতির সঙ্গে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হবে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের আদালতে পাঠানো হবে। জালিয়াতি চক্রের সাথে আর কেউ জড়িত আছে কিনা, তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
একুশে পদকপ্রাপ্ত বরেণ্য কবি বীর মুক্তিযোদ্ধা আল মুজাহিদী। ছবি: সংগৃহীত
একুশে পদকপ্রাপ্ত বরেণ্য কবি এবং মুক্তিযোদ্ধা আল মুজাহিদী মারা গেছেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজিউন)। শুক্রবার (১৯ জুন) দুপুরে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর।
প্রায় এক বছর আগে চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার পর থেকেই এই কবি শয্যাশায়ী ছিলেন। বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন সমস্যা ও হৃদরোগে তিনি দীর্ঘদিন ধরেই ভুগছিলেন।
কবিতা, উপন্যাস ও শিশুসাহিত্যে আল মুজাহিদীর অবদান অপরিসীম। ‘হেমলকের পেয়ালা’, ‘ধ্রুপদ ও টেরাকোটা’ এবং ‘যুদ্ধ নাস্তি’-র মতো কালজয়ী কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা তিনি। সাহিত্যে অসামান্য অবদানের জন্য তিনি একুশে পদকসহ দেশি-বিদেশি বহু সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন।
ছবি: সংগৃহীত
চট্টগ্রাম বন্দরের পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল (পিসিটি) এক নতুন যুগে প্রবেশ করতে যাচ্ছে। টার্মিনালটি পরিচালনার দায়িত্বে থাকা সৌদি আরবের রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল (আরএসজিটি) বাংলাদেশ জানিয়েছে, প্রায় ৩০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (৩০০ কোটি টাকার বেশি) মূল্যের চারটি অত্যাধুনিক শিপ-টু-শোর (এসটিএস) ক্রেন পৌঁছালে আগামী জুলাই মাস থেকে টার্মিনালটি পূর্ণ সক্ষমতায় পরিচালিত হবে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের (সিপিএ) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এই বিশেষায়িত ক্রেনগুলো নিয়ে জাহাজ ‘এম.ভি. ল্যান হাই হং ইউন’ টার্মিনালের ভেড়ার অপেক্ষা করছি। নিরাপদ খালাস কার্যক্রম নিশ্চিত করতে বন্দর কর্তৃপক্ষ পতেঙ্গা টার্মিনালের আশেপাশে চলাচলকারী সকল সমুদ্রগামী জাহাজ, কোস্টার, ট্যাঙ্কার ও মাছ ধরার ট্রলারসহ সব ধরনের নৌযানকে জেটি থেকে অন্তত ১০০ মিটার দূরত্ব বজায় রাখতে বলেছে। এছাড়া কর্ণফুলী চ্যানেলের পূর্ব দিক দিয়ে চলাচলের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
চীনের ‘স্যানি মেরিন হেভি ইন্ডাস্ট্রি’র তৈরি এই চারটি ক্রেন টার্মিনালের জাহাজ হ্যান্ডলিং সক্ষমতা ও কনটেইনার ওঠানো-নামানোর গতি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দেবে আশা করা হচ্ছে। এর আগে গত বছর ২৬ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে ১৪টি রাবার টায়ার গ্যান্ট্রি (আরটিজি) ক্রেন সংগ্রহ করেছিল আরএসজিটি।
এ বিষয়ে আরএসজিটি বাংলাদেশের বাণিজ্যিক ও জনসংযোগ প্রধান সৈয়দ আরিফ সারোয়ার বলেন, ‘এই ক্রেনগুলো টার্মিনালের জন্য একটি বড় প্রযুক্তিগত মাইলফলক। এটি আমাদের ভবিষ্যতের ক্রমবর্ধমান কনটেইনার ট্রাফিক সামলানোর সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করবে।’
বড় জাহাজ হ্যান্ডলিংয়ে সক্ষমতা বৃদ্ধি: নতুন এই ক্রেনগুলো এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যা ১৬ সারি কনটেইনার বিশিষ্ট বড় জাহাজ পরিচালনা করতে পারবে। বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরে মূলত ১২ থেকে ১৩ সারির জাহাজ বেশি আসে।
সৈয়দ আরিফ সারোয়ার জানান, বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান বাণিজ্যের কথা মাথায় রেখে বড় আধুনিক জাহাজ ভেড়ানোর দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই বিনিয়োগ করা হয়েছে। প্রতিটি ক্রেন একক কনটেইনার অপারেশনে ৪০ টন, টুইন-লিফট মোডে ৪৫ টন এবং বিশেষায়িত কার্গোর ক্ষেত্রে ৬০ টন পর্যন্ত ওজন তুলতে সক্ষম। এছাড়া চট্টগ্রাম বন্দরের উচ্চতা সংক্রান্ত সীমাবদ্ধতা মাথায় রেখেই এগুলো তৈরি করা হয়েছে।
পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ও উচ্চ উৎপাদনশীলতা : এই ক্রেনগুলোর অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এগুলো সম্পূর্ণ বিদ্যুৎচালিত। আরএসজিটি কর্মকর্তাদের মতে, এই প্রযুক্তির ফলে কার্বন নিঃসরণ শূন্যের কোঠায় থাকবে, যা পরিবেশ রক্ষায় এবং জ্বালানি তেলের ওপর নির্ভরতা কমাতে সহায়ক হবে।
রেল ট্র্যাকে বসানো এই চারটি ক্রেন ব্যবহার করে টার্মিনালে একসাথে দুটি জাহাজে কাজ করা সম্ভব হবে। জাহাজ জেটিতে ভেড়ার পরপরই খালাস প্রক্রিয়া শুরু হবে, যা সম্পন্ন হতে ৩ থেকে ৪ দিন সময় লাগতে পারে।
পূর্ণ সক্ষমতায় ফেরার প্রস্তুতি: পতেঙ্গা টার্মিনালটির বার্ষিক কনটেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা প্রায় ৪ লাখ ৫০ হাজার টিইইউস। তবে ২০২৫ সালে এখানে ১৫৪,৫৬৪ টিইইউস কনটেইনার এবং ৭৮টি জাহাজ হ্যান্ডেল করা হয়েছে, যা মূল সক্ষমতার চেয়ে অনেক কম। এর মধ্যে রপ্তানি ছিল ৯৩,৩৪০ টিইইউস এবং আমদানি ছিল ৬১,২২৪ টিইইউস।
২০২৫ সালের শুরুর দিকে আমদানি কনটেইনার পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় স্ক্যানার না থাকায় কার্যক্রমে কিছুটা স্থবিরতা ছিল। পরবর্তীতে মে মাসে আরএসজিটি নিজস্ব অর্থায়নে ৩ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে স্ক্যানার স্থাপন করলে কার্যক্রমের গতি বাড়ে। এরপর গত বছরের আগস্ট মাসে টার্মিনালটি রেকর্ড ২৪,৫৯৯ টিইইউস কনটেইনার হ্যান্ডেল করে।
সৈয়দ আরিফ সারোয়ার বলেন, ‘আমরা ইজারা চুক্তির প্রথম দুই বছর অবকাঠামো উন্নয়ন ও যন্ত্রপাতি সংগ্রহের পেছনে ব্যয় করেছি যাতে আগামী ২০ বছর টার্মিনালটি পূর্ণ সক্ষমতায় চলতে পারে।’
তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, নতুন এসটিএস ক্রেনগুলো যুক্ত হওয়ার ফলে ২০২৬ সালের জুলাই থেকে টার্মিনালটি তার সর্বোচ্চ সক্ষমতায় কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে।
উল্লেখ্য, ২২ বছরের চুক্তিতে ২০২৪ সালের এপ্রিলে পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল আরএসজিটি-র কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং ২০২৪ সালের জুন থেকে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করে।
ছবি: সংগৃহীত
আগামী ছয় মাসের মধ্যে খুলনা, বরিশাল, রংপুর ও রাজশাহী বিভাগে এবং কুমিল্লা জেলায় একটি করে ২০০ শয্যাবিশিষ্ট বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল চালু করতে যাচ্ছে সরকার। এর মধ্যে বরিশাল ও খুলনা বিভাগের হাসপাতাল দুটি আগস্টের প্রথম দিকে চালুর সকল প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রতিটি হাসপাতালে ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (আইসিইউ) সুবিধা, কেন্দ্রীয় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং ভবিষ্যতে সম্প্রসারণের সুযোগ রাখা হবে। পাশাপাশি বড় পরিসরের আইসিইউ ইউনিটও থাকবে হাসপাতালগুলোতে।
এসব হাসপাতালের আসবাবপত্র ও চিকিৎসা সরঞ্জাম ক্রয়ের দরপত্র প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। আগামী ছয় মাসের মধ্যে হাসপাতালগুলোর কার্যক্রম উদ্বোধন করা হবে। পুরোদমে কার্যক্রম চালুর জন্য প্রতিটি হাসপাতালে ১ হাজার ৪৭৫ জন জনবলের প্রয়োজন হবে। প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ নিশ্চিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইতোমধ্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দিয়েছেন।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন ইতোমধ্যে খুলনা, বরিশাল ও কুমিল্লা গিয়ে হাসপাতাল ভবনগুলো পরিদর্শন করেছেন। বরিশাল শিশু হাসপাতাল পরিদর্শনকালে তিনি আগামী আগস্টের শুরুতে হাসপাতালটি চালুর ঘোষণা দেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, নিউনেটাল ভেন্টিলেটর, সিটি স্ক্যান, এক্সরে মেশিন, পোর্টেবল এক্স-রে, মাল্টি প্যারামিটার বা কার্ডিয়াক মনিটর, ফটোথেরাপি মেশিনসহ ২০০ বেডের শিশু হাসপাতাল চালু করতে যেসব যন্ত্রাংশ প্রয়োজন, সেগুলো জুলাইয়ের মধ্যে পৌঁছে দেওয়া হবে। আগামী ১ আগস্ট হাসপাতালটি উদ্বোধন করা হবে।
এর আগে গত ১০ মে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে দেশের ছয় বিভাগে অব্যবহৃত পড়ে থাকা ছয়টি শিশু হাসপাতাল দ্রুত চালুর নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হাসপাতালগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করে আগামী ২ জুনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলেরও নির্দেশ দেন। মূলত এরপরই হাসপাতালগুলো চালুর তোড়জোড় শুরু হয়।
এ বিষয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আগামী ছয় মাসের মধ্যে দেশের পাঁচ বিভাগে একটি করে ২০০ শয্যাবিশিষ্ট শিশু হাসপাতাল চালু হচ্ছে। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত এসব হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রের (আইসিইউ) ব্যবস্থাও থাকবে।
তিনি আরও বলেন, এই পাঁচটি হাসপাতালের জন্য প্রয়োজনীয় ফার্নিচার ও যন্ত্রপাতির টেন্ডার ইতোমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে। প্রতিটি হাসপাতালে ১ হাজার ৪৭৫ জন করে জনবল প্রয়োজন। পূর্ণ জনবল বরাদ্দ করার জন্য ইতোমধ্যেই প্রধানমন্ত্রী জনপ্রশাসন মন্ত্রীকে নির্দেশনা দিয়েছেন।
হাসপাতালের সুযোগ-সুবিধা নিয়ে সাখাওয়াত হোসেন জানান, প্রতিটি শিশু হাসপাতালে আইসিইউ থাকবে। সেন্ট্রালি এয়ার কন্ডিশন ব্যবস্থা থাকবে। একটি করে আইসিইউ থাকবে এবং ভবিষ্যতে বেড বাড়ানোর পরিসরও রাখা হবে। আইসিইউর জন্য একটি বড় স্পেস রাখা হবে।
প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দারও ২০০ শয্যাবিশিষ্ট বিশেষায়িত বরিশাল শিশু হাসপাতালটি পরিদর্শন করেছেন। তিনি জানান, এই শিশু হাসপাতালটিও আগস্টে চালু হবে। প্রথম ধাপে জরুরি বিভাগের কার্যক্রম শুরু করা হবে।
প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পর খুলনা বিভাগীয় শিশু হাসপাতাল চালু করতেও জোরোশোরে কাজ শুরু হয়েছে। গত ২০ মে স্বাস্থ্যমন্ত্রী খুলনায় নির্মাণাধীন শিশু হাসপাতালটি পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি কাজের অগ্রগতি খতিয়ে দেখেন এবং আগামী ৬ মাসের মধ্যেই হাসপাতালটি চালু করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. মো. মুজিবুর রহমান বলেন, গণপূর্ত বিভাগ ও সিভিল সার্জনকে সঙ্গে নিয়ে আমরা খুলনা বিভাগীয় শিশু হাসপাতাল পরিদর্শন করেছি। নতুন শিশু হাসপাতাল সম্পর্কে আমাদের কাছ থেকে তথ্য নিচ্ছে মন্ত্রণালয়। পরবর্তীতে সেখান থেকে যে নির্দেশনা আসবে, সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব।
এদিকে গত ২৫ মে কুমিল্লার সদর দক্ষিণের বেলতলী এলাকায় নির্মাণাধীন শিশু হাসপাতাল পরিদর্শনে যান মন্ত্রী। এই হাসপাতালটিও আগামী ছয় মাসের মধ্যে চালুর ঘোষণা দেন তিনি।
নির্মাণকাজ শেষেও দীর্ঘ ছয়বছর অব্যবহৃত পড়ে থাকার পর চালু হতে যাচ্ছে বিশেষায়িত রংপুর শিশু হাসপাতালও। তারেক রহমানের নির্দেশের প্রেক্ষিতে দ্রুত এই হাসপাতাল চালু করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে হাসপাতালটির অবকাঠামো পরিদর্শন করেছেন স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তারের মহাপরিচালক ডা. নাজমুল হোসেন।
তিনি বলেন, ‘শুধু এই পাঁচটি শিশু হাসপাতালই নয়, স্বাস্থ্য বিভাগে এ ধরণের আরও অনেক স্থাপনা রয়েছে, যেগুলো এখনও চালু হয়নি। বিষয়টি নজরে আসার পর প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে সেগুলো চালু করারও নির্দেশ দেন।’
এদিকে বহুল প্রতীক্ষার পর অবশেষে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে চালু হতে যাচ্ছে কুমিল্লা শিশু হাসপাতালটিও। ইতোমধ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে সচিবের সঙ্গে জরুরি বৈঠক শেষে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. মো. শাহজাহান হাসপাতালটি চালুর বিষয়ে জনবল ও যন্ত্রপাতির চাহিদাপত্র সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা দিয়েছেন।
এছাড়া রাজশাহী শিশু হাসপাতাল চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আগামী তিন মাসের মধ্যে হাসপাতালটি চালু করা হবে। ইতোমধ্যে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস রাজশাহী শিশু হাসপাতাল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন।
স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব বলেন, প্রথম ধাপে শিশু হাসপাতালটিতে আউটডোর সেবা চালু করা হবে। পরবর্তী অর্থবছরে ধাপে ধাপে অন্য সেবাও চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
ফাইল ছবি
বাংলাদেশ পুলিশের ইউনিফর্মে আবারও পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন সংশোধিত বিধিমালা অনুযায়ী জেলা পুলিশ ও অধিকাংশ ইউনিটের সদস্যরা গাঢ় নীল রঙের শার্ট এবং খাকি রঙের ট্রাউজার পরবেন। তবে মহানগর পুলিশের (মেট্রোপলিটন) সদস্যদের জন্য শার্টের রং নির্ধারণ করা হয়েছে লাইট অলিভ।
গত বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ‘পুলিশ ড্রেস রুলস, ২০২৫’ সংশোধন করে এসংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। পুলিশ আইন, ১৮৬১-এর ১২ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির এ সংশোধনী অনুমোদন করেন।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, আগে নির্ধারিত আয়রন রঙের শার্টের পরিবর্তে জেলা পুলিশ ও অন্যান্য ইউনিটের সদস্যদের জন্য গাঢ় নীল রঙের শার্ট নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে মহানগর পুলিশের সদস্যরা পরবেন লাইট অলিভ রঙের শার্ট। একই সঙ্গে কফি রঙের ট্রাউজারের পরিবর্তে খাকি রঙের ট্রাউজার পরিধানের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
শুধু শার্ট-ট্রাউজার নয়, শীতকালীন পোশাকেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। আয়রন রঙের জ্যাকেট, জার্সি, কার্ডিগান ও পুলওভারের পরিবর্তে গাঢ় নীল রঙের পোশাক ব্যবহার করা হবে। তবে মহানগর পুলিশের জন্য জ্যাকেটের রংও লাইট অলিভ নির্ধারণ করা হয়েছে।
নারী পুলিশ সদস্যদের পোশাকেও এসেছে পরিবর্তন। জেলা পুলিশসহ অধিকাংশ ইউনিটের নারী সদস্যদের জন্য গাঢ় নীল শাড়ি ও গাঢ় নীল ব্লাউজ নির্ধারণ করা হয়েছে। আর মহানগর পুলিশের নারী সদস্যরা গাঢ় নীল শাড়ির সঙ্গে লাইট অলিভ রঙের ব্লাউজ পরবেন। অনুমোদিত হেড কভারও গাঢ় নীল রঙের হতে হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সংশোধিত বিধিমালায় গ্রীষ্মকালে অর্ধহাতা এবং শীতকালে পূর্ণহাতা শার্ট পরার বিধান বহাল রাখা হয়েছে। এছাড়া গর্ভবতী নারী পুলিশ সদস্যরা সংশ্লিষ্ট ইউনিট প্রধানের পূর্বানুমোদন নিয়ে সাধারণ পোশাক পরতে পারবেন বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মন্তব্য