দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে প্রায়ই দেখা যায়, একটি দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের প্রভাব সীমান্ত পেরিয়ে প্রতিবেশী দেশের ওপর গিয়ে পড়ে। তবে যখন সেই প্রভাব মানবাধিকার, কূটনৈতিক শিষ্টাচার এবং আন্তঃরাষ্ট্রীয় আস্থার প্রশ্নে রূপ নেয়, তখন বিষয়টি আর কেবল একটি দেশের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার থাকে না। সাম্প্রতিক সময়ে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ককে ঘিরে ঘটে যাওয়া দুটি ঘটনা, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কথিত ‘পুশইন’ এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমানের দিল্লি বিমানবন্দর থেকে ফিরে আসা, এমনই একটি বাস্তবতার দিকে ইঙ্গিত করছে।
প্রথম ঘটনাটি মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রশ্নকে সামনে নিয়ে এসেছে। দ্বিতীয় ঘটনাটি কূটনৈতিক সৌজন্য, রাষ্ট্রীয় মর্যাদা এবং রাজনৈতিক আস্থার সংকটকে সামনে এনেছে। দুটি ঘটনাই আলাদা হলেও উভয়ের মধ্যে একটি সাধারণ সূত্র রয়েছে, বাংলাদেশ সম্পর্কে ভারতের নীতিগত অবস্থান এবং সেই অবস্থানের ওপর অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপের সম্ভাব্য প্রভাব।
সীমান্তে পুশইন: মানবাধিকার নাকি অভিবাসন রাজনীতি?
গত কয়েক মাস ধরে বাংলাদেশ সীমান্তে কথিত ‘পুশইন’ নিয়ে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে। বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি জানিয়েছে, জুন মাসের শুরু থেকে শিশুসহ দুই শতাধিক মানুষকে বাংলাদেশে ঢুকিয়ে দেওয়ার অন্তত ২১টি প্রচেষ্টা তারা প্রতিহত করেছে।
এই অভিযোগগুলো আন্তর্জাতিক গুরুত্ব পায় যখন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) প্রকাশ্যে উদ্বেগ জানায়। সংস্থাটি বলেছে, ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ বাংলাভাষী জনগোষ্ঠীর সদস্যদের, বিশেষ করে মুসলমানদের, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করছে।
এইচআরডব্লিউর এশিয়া অঞ্চলের উপপরিচালক মীনাক্ষী গাঙ্গুলীর বক্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি বলেছেন, ‘কোনো রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব প্রশ্নে বিরোধ থাকতে পারে; কিন্তু সেই বিরোধের সমাধান কখনোই সীমান্তে নারী, শিশু ও পরিবারকে আটকে রেখে করা যায় না। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, কাউকে জোরপূর্বক বহিষ্কার করার আগে তার পরিচয়, নাগরিকত্ব, আইনি অধিকার এবং আপিলের সুযোগ নিশ্চিত করতে হয়।’
এখানে একটি মৌলিক প্রশ্ন ওঠে আসে। যদি এসব মানুষ সত্যিই বাংলাদেশি হন, তাহলে তাদের প্রত্যাবাসনের জন্য বিদ্যমান কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া রয়েছে। আর যদি তারা ভারতীয় নাগরিক হন, তাহলে তাদের বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন। দুই ক্ষেত্রেই ‘পুশইন’ কোনো গ্রহণযোগ্য সমাধান নয়।
বিশ্বব্যাপী রাষ্ট্রগুলো অনিয়মিত অভিবাসন মোকাবিলা করে। যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্ত, ইউরোপ-মধ্যপ্রাচ্য রুট কিংবা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার রোহিঙ্গা সংকট, সব ক্ষেত্রেই আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের কেন্দ্রীয় বিষয় হলো ‘ডিউ প্রসেস’ বা আইনি প্রক্রিয়া। সেই প্রক্রিয়া এড়িয়ে সরাসরি সীমান্তে মানুষ ঠেলে দেওয়া আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ব্যবস্থার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ।
ভোটার তালিকা, নাগরিকত্ব ও রাজনৈতিক বাস্তবতা
এইচআরডব্লিউ তাদের প্রতিবেদনে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উল্লেখ করেছে। পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বাস্তবতায় নাগরিকত্ব ও ভোটার পরিচয়ের প্রশ্ন একটি বড় রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে ‘অনুপ্রবেশকারী’ এবং ‘অবৈধ অভিবাসী’ প্রসঙ্গ রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। বিশেষত বাংলাভাষী মুসলমান জনগোষ্ঠীকে ঘিরে এই বিতর্ক অনেক সময় রাজনৈতিক মেরুকরণের উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।
২০১৯ সালে আসামের জাতীয় নাগরিকপঞ্জি (এনআরসি) প্রক্রিয়ার সময় প্রায় ১৯ লাখ মানুষের নাগরিকত্ব প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতা এখনো আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর আলোচনার বিষয়। বর্তমান পরিস্থিতি সেই পুরোনো উদ্বেগকেই নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।
অতএব প্রশ্ন ওঠছে, সীমান্তে পুশইনের অভিযোগ কি কেবল নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার অংশ, নাকি এটি বৃহত্তর অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপের বহিঃপ্রকাশ?
দিল্লি বিমানবন্দরের ঘটনা: প্রশাসনিক যাচাই নাকি রাজনৈতিক বার্তা?
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান ভারত সরকারের আমন্ত্রণে আয়োজিত ইন্ডিয়ান ওশান রিম অ্যাসোসিয়েশন (আইওআরএ)-এর বৈঠকে অংশ নিতে দিল্লি যান। সফরের বিষয়ে আগাম কূটনৈতিক নোট পাঠানো হয়েছিল। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ আগে থেকেই তার সফর সম্পর্কে অবগত ছিল।
কিন্তু দিল্লি বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর তাকে দুই ঘণ্টারও বেশি সময় ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়ায় আটকে রাখা হয়। পরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হলেও তিনি অপমানিত বোধ করে দেশে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ভারতীয় সূত্রগুলোর বক্তব্য আরও তাৎপর্যপূর্ণ। তারা স্বীকার করেছে যে জাহেদ উর রহমানের অতীতের ভারতবিষয়ক বক্তব্য এবং ইউটিউব আলোচনাগুলো যাচাইয়ের অংশ ছিল। এখানেই মূল প্রশ্নটি নিহিত।
একজন আমন্ত্রিত বিদেশি সরকারি প্রতিনিধিকে তার অতীত রাজনৈতিক মতামতের ভিত্তিতে বিমানবন্দরে আলাদা করে যাচাই করা হলে সেটি কি কেবল প্রশাসনিক বিষয় হিসেবে বিবেচিত হবে, নাকি তা রাজনৈতিক বার্তাও বহন করবে? বিশ্বের গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলো সাধারণত সমালোচনাকে নিরাপত্তা ঝুঁকির সমার্থক হিসেবে বিবেচনা করে না। বিশেষত যখন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি একটি স্বীকৃত সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি।
ভারত যদি শেষ পর্যন্ত তাকে প্রবেশের অনুমতি দিয়েই থাকে, তাহলে প্রশ্ন থেকেই যায়, দুই ঘণ্টার বিলম্বের প্রয়োজন কী ছিল? এই ঘটনাকে হয়তো অনেকেই একটি বিচ্ছিন্ন প্রশাসনিক ঘটনা হিসেবে দেখবেন। কিন্তু কূটনীতিতে প্রতীকী ঘটনা অনেক সময় বাস্তব নীতির চেয়েও বড় প্রভাব ফেলে। বাংলাদেশের নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে আস্থার নতুন ভিত্তি গড়ে তোলার প্রয়োজন ছিল। কিন্তু দিল্লি বিমানবন্দরের ঘটনাটি উল্টো বার্তা দিয়েছে।
বাংলাদেশে অনেকেই এটিকে ভারতের পক্ষ থেকে একটি ‘সিগন্যাল’ হিসেবে দেখছেন। অন্যদিকে ভারতের একটি অংশ এটিকে নিরাপত্তাজনিত নিয়মিত প্রক্রিয়া হিসেবে ব্যাখ্যা করছে। বাস্তবতা সম্ভবত মাঝামাঝি কোথাও। তবে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ধারণাই অনেক সময় বাস্তবতার চেয়ে বেশি
গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। যদি একটি দেশ মনে করে যে তাকে সন্দেহের চোখে দেখা হচ্ছে, তাহলে সেই অনুভূতি সম্পর্কের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।
বাংলাদেশের জন্যও কিছু প্রশ্ন
এই আলোচনায় বাংলাদেশের দায়িত্বও এড়িয়ে যাওয়া যায় না।
দিল্লি বিমানবন্দরের ঘটনায় প্রতিনিধিদলের বাকি সদস্যরা বৈঠকে যোগ দেওয়ার জন্য এগিয়ে যান। বাস্তবিক দৃষ্টিকোণ থেকে এটি হয়তো রাষ্ট্রীয় প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার সিদ্ধান্ত ছিল। কিন্তু কূটনৈতিকভাবে এটি একটি প্রশ্নও তৈরি করেছে, সংকট মুহূর্তে একটি প্রতিনিধিদল কতটা ঐক্যবদ্ধ ছিল? আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে ব্যক্তি নয়, রাষ্ট্রের মর্যাদা মুখ্য। ফলে ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাংলাদেশেরও আরও সুসংগঠিত কৌশল প্রয়োজন।
বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক বর্তমানে একটি পরিবর্তনশীল পর্যায়ে রয়েছে। ২০২৪ পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনৈতিক রূপান্তরের পর দুই দেশই নতুন বাস্তবতায় নিজেদের অবস্থান পুনর্নির্ধারণ করছে। ভারতের জন্য বাংলাদেশ কেবল একটি প্রতিবেশী রাষ্ট্র নয়; এটি উত্তর-পূর্ব ভারতের নিরাপত্তা, আঞ্চলিক বাণিজ্য, বঙ্গোপসাগরীয় কৌশল এবং সংযোগনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
অন্যদিকে বাংলাদেশের জন্য ভারত একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও ভৌগোলিক অংশীদার। এই বাস্তবতায় সীমান্তে মানবাধিকার বিতর্ক এবং কূটনৈতিক অস্বস্তি কোনো পক্ষের জন্যই লাভজনক নয়।
সামনে করণীয়
বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে প্রয়োজন তিনটি বিষয়।
প্রথমত, সীমান্তে পুশইনসংক্রান্ত অভিযোগের স্বাধীন ও যৌথ তদন্ত।
দ্বিতীয়ত, নাগরিকত্ব ও প্রত্যাবাসন প্রশ্নে আন্তর্জাতিক আইনের পূর্ণ অনুসরণ।
তৃতীয়ত, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর সৃষ্ট আস্থার ঘাটতি দূর করতে উচ্চপর্যায়ের নিয়মিত কূটনৈতিক সংলাপ।
কারণ শেষ পর্যন্ত ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক কোনো একটি সরকার, কোনো একটি রাজনৈতিক দল বা কোনো একটি নির্বাচনের চেয়েও বড়।
সীমান্তে আটকে থাকা একটি শিশু, দিল্লি বিমানবন্দরে অপেক্ষমাণ একজন সরকারি প্রতিনিধি কিংবা দুই দেশের জনগণের পারস্পরিক বিশ্বাস, এসবই মনে করিয়ে দেয় যে প্রতিবেশী সম্পর্কের ভিত্তি শক্তি নয়, আস্থা; চাপ নয়, সম্মান; এবং রাজনৈতিক সুবিধা নয়, দীর্ঘমেয়াদি পারস্পরিক স্বার্থ।
দিল্লি বিমানবন্দর থেকে সীমান্তের শূন্যরেখা পর্যন্ত বিস্তৃত সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো সেই আস্থার ভিত্তিকেই নতুন করে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। এখন দেখার বিষয়,
দুই দেশ সেই প্রশ্নের উত্তর সংঘাত দিয়ে দেয়, নাকি সংলাপ ও সহযোগিতার মাধ্যমে।
লেখক: শিক্ষার্থী, চতুর্থ বর্ষ অন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।
ফাইল ছবি
ভোলা জেলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় ভূয়া ঠিকানা ব্যবহার করে রোহিঙ্গাদের জন্মনিবন্ধন সনদ ও জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংগ্রহের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, একটি সংঘবদ্ধ দালালচক্র অর্থের বিনিময়ে রোহিঙ্গা ও ভিন্ন জেলার লোকজনকে স্থানীয় বাসিন্দা পরিচয়ে জন্মসনদ ও ভোটার করার কাজে জড়িত। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর উপজেলাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং জননিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
জানা যায়, উপজেলার কুতুবা ইউনিয়নের ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডে সম্প্রতি দুই ব্যক্তির নামে জন্মনিবন্ধন সনদ ইস্যু হওয়ার ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। তাদের পরিচয় ও স্থায়ী ঠিকানা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর বিষয়টি আলোচনায় আসে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রকৃত বাসিন্দা না হয়েও কিছু ব্যক্তি স্থানীয় ঠিকানা ব্যবহার করে সরকারি নথিপত্র সংগ্রহ করছেন।
স্থানীয়রা জানান, এ ধরনের ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয়। তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে যোগাযোগ ব্যবহার করে এসব অনিয়ম পরিচালনা করছে। ফলে প্রকৃত তথ্য যাচাই ছাড়া কিছু ব্যক্তি গুরুত্বপূর্ণ নাগরিক সনদপত্র পেয়ে যাচ্ছেন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ঢাকার কয়েকটি ট্রাভেল এজেন্সি ও দালালচক্রের মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাঠানো হচ্ছে। পরে স্থানীয় পর্যায়ে প্রভাবশালী ব্যক্তি ও অসাধু কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় জন্মনিবন্ধন এবং ভোটার নিবন্ধনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ কাজে জনপ্রতি প্রায় দুই লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেন হয় বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা। যদিও এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে যাচাই হয়নি।
এদিকে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রভাবিত করার চেষ্টার অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, কুতুবা ইউনিয়ন পরিষদের এক কর্মকর্তা সংবাদ প্রকাশ ঠেকাতে এক সাংবাদিককে আর্থিক সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব দেন। তবে ওই সাংবাদিক প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে বিষয়টি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে অন্য জেলা থেকে আসা এক নারী বোরহানউদ্দিন উপজেলায় ভোটার হওয়ার চেষ্টা করেন। তিনি তার বাবাসহ উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ে উপস্থিত হন। নির্বাচন কর্মকর্তার অনুপস্থিতিতে তারা স্থানীয় একটি আবাসিক হোটেলে অবস্থান করেন। পরে স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদে তারা অন্য এলাকার বাসিন্দা হওয়া সত্ত্বেও সেখানে ভোটার হওয়ার চেষ্টা করছেন বলে স্বীকার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তাদের সঙ্গে একজন দালালও ছিলেন বলে স্থানীয়রা দাবি করেন। ঘটনার পর বিষয়টি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
সচেতন নাগরিকরা বলছেন, জন্মনিবন্ধন ও জাতীয় পরিচয়পত্র কেবল নাগরিক পরিচয়ের দলিল নয়; এটি রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার অন্যতম ভিত্তি। প্রকৃত পরিচয় গোপন করে কেউ যদি এসব নথি সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়, তাহলে তা জাতীয় নিরাপত্তা, নির্বাচন ব্যবস্থা এবং প্রশাসনিক কাঠামোর জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
বোরহানউদ্দিন মহিলা ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক ও উপজেলা সুজন সভাপতি মনিরুজ্জামান বলেন, ভুয়া পরিচয়ে জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ করা হলে পরবর্তীতে পাসপোর্ট গ্রহণ, ব্যাংক হিসাব খোলা, মোবাইল সিম নিবন্ধন, ভূমি ক্রয়-বিক্রয় এবং বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সেবা গ্রহণ করা সম্ভব হয়। এর ফলে জালিয়াতি, মানবপাচার ও অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ঝুঁকি বাড়তে পারে। একই সঙ্গে ভোটার তালিকায় অনিয়ম প্রবেশ করলে নির্বাচনী ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতাও প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, বিষয়টি নিয়ে বহুবার আলোচনা হলেও কার্যকর তদন্ত হয়নি। তাদের দাবি, উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্ত ছাড়া প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের শনাক্ত করা সম্ভব হবে না।
বোরহানউদ্দিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনোরঞ্জন বর্মন বলেন, ‘অভিযোগের বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হবে। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান অনিয়মের সঙ্গে জড়িত থাকলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সুশাসন ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা মনে করেন, জন্মনিবন্ধন ও ভোটার নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় আরও কঠোর যাচাই-বাছাই, বায়োমেট্রিক তথ্যের সমন্বিত ব্যবহার এবং মাঠপর্যায়ে তদারকি বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। পাশাপাশি দালালচক্র ও অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করলে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।
ভোলার বোরহানউদ্দিনে ওঠা এই অভিযোগ এখন শুধু একটি উপজেলার আলোচনার বিষয় নয়; বরং জাতীয় পরিচয়ব্যবস্থা, নির্বাচন প্রক্রিয়া এবং জননিরাপত্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। তাই অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, সত্যতা যাচাই এবং দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন মহল।
ছবি: সংগৃহীত
জাতীয় দৈনিক বাংলা’র তালা উপজেলা প্রতিনিধি ফারুক সাগরের বসতবাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটেছে। গত বুধবার (১৭ জুন) উপজেলার মাগুরা ইউনিয়নের বালিয়াদহ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ফারুক সাগর মৃত খোরশেদ আলমের ১ম পক্ষের সন্তান।
ফারুক সাগর বলেন, ‘আমার পিতা মৃত খোরশেদ আলমের ২য় পক্ষের একমাত্র ছেলে আব্দুল্লাহ আল মামুন ওরফে সৌমিক সম্পত্তির অবৈধ দখল বজায় রাখতে এই হামলা করে। সেই সময় আমি বাড়িতে ছিলাম না।’
ফারুক সাগরের মা আবিদা সুলতানা বলেন, ‘আমার ছেলে পেশাগত কাজে তালা উপজেলা পরিষদে সংবাদ সংগ্রহে যায়। তার অনুপস্থিতিতে বাড়িতে এসে সৌমিক দা দিয়ে দরজায় এবং বাড়ির দেয়ালে কোপ দেয়।’
তার মায়ের অভিযোগ, আমি দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ রক্তচাপজনিত রোগে আক্রান্ত। আমার বয়স ৬০ এর বেশি। আমাকে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করে সৌমিক।
প্রত্যক্ষদর্শী নবা গাজী বলেন, ‘পাশের বাড়ির উঠানে আমি কাজ করছিলাম। সৌমিক দা হাতে চিৎকার করতে করতে আসে এবং দরজায় ও বসতবাড়ির দেয়ালে দা দিয়ে কোপ দেয়।’
ফারুক সাগরের চাচাতো ভাই শাহনেওয়াজ বিশ্বাস বলেন, ‘সব জমি সৌমিক আগেই বিক্রি করেছে। এমনকি তার নিজের বসতবাড়ি তার ১ম পক্ষের ভাইবোনদের জমির উপর।’
স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল শেখ বলেন, ‘পূর্বে আমরা এ বিষয়ে সালিশ করেছিলাম, তখন উভয় পক্ষ মেনে নেয়। পরে সৌমিক সালিশ না মেনে অবৈধভাবে ২০ শতাংশের একটি পুকুর দখল নেয়। পরেও আবার সালিশে বিষয়টি বিবেচনা করার কথা থাকলেও নানা অজুহাত দেখিয়ে আসছে সৌমিক।’
অভিযুক্ত আব্দুল্লাহ আল মামুন (সৌমিক) বলেন, ‘আমি সালিশ মানি না। আমার যা ইচ্ছে তাই করব।’
তালা থানার ওসি (তদন্ত) শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) আশরাফুল হক হলে শিক্ষার্থীদের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যতিক্রমধর্মী ফিস্ট ‘টেল অব রিডাম্পশন’। প্রথমবারের মতো হাতি নিয়ে ফিস্ট উপলক্ষে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়, যা ক্যাম্পাসে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। তিন দিনব্যাপী এই হল ফিস্ট চলবে আজ শনিবার পর্যন্ত।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বিকালে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, আলোকসজ্জা, আতশবাজি ও গ্র্যান্ড ডিনারের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
হলের ৬৪ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে আয়োজিত এ ফিস্ট উপলক্ষে বিকালে একটি শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থান প্রদক্ষিণ করে পুনরায় আশরাফুল হক হলে এসে শেষ হয়। শোভাযাত্রায় হাতির উপস্থিতি শিক্ষার্থী ও দর্শনার্থীদের মধ্যে বাড়তি আগ্রহ সৃষ্টি করে।
পরে হল প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন হলের হাউস টিউটর জিকেস বর্মন, ইফতেখার জাহান ভূঁইয়া ও ড. মো. শাহিনুর আলম। তাদের উপস্থিতিতে কেক কেটে আনুষ্ঠানিকভাবে ফিস্টের উদ্বোধন করা হয়। এ ছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন হলের শিক্ষার্থীরা।
আয়োজক শিক্ষার্থী রাফিউল হক জানান, আশরাফুল হক হলের শিক্ষার্থীদের পারস্পরিক বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করা এবং সবাইকে এক প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসাই ছিল এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য। তা ছাড়া শোভাযাত্রায় হাতির অন্তর্ভুক্তি ছিল আয়োজনের একটি আকর্ষণীয় দিক। আমরা চেয়েছি প্রচলিত ধারার বাইরে গিয়ে এমন একটি পরিবেশ তৈরি করতে, যা শিক্ষার্থীদের মধ্যে উৎসবের আমেজ সৃষ্টি করবে এবং দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
হলের সিনিয়র শিক্ষার্থী মো. শামীম রেজা বলেন, ‘টেল অব রিডাম্পশন’ শুধু একটি ফিস্ট নয়, এটি সিনিয়র-জুনিয়রদের মধ্যে ঐক্য ও ভ্রাতৃত্ববোধের প্রতিফলন। প্রতি বছরের ন্যায় এবারও ব্যতিক্রমী শোভাযাত্রাসহ নানা আয়োজনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ততা ও উৎসাহকে নতুন মাত্রা দেওয়া হয়েছে। তিন দিনব্যাপী এই আয়োজন নিয়মিত পড়াশোনার একঘেয়েমি ও ক্লান্তি কাটিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা ছড়িয়ে দেবে বলে আমার বিশ্বাস।’
হলের হাউস টিউটর ড. মো. শাহিনুর আলম বলেন, ‘আজকের এই ফিস্ট দেখে আমার ১০-১১ বছর আগের স্মৃতির কথা মনে পড়ে যাচ্ছে। ফিস্ট শিক্ষার্থীদের মাঝে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বন্ধন দৃঢ় করে। আয়োজনটি সফলভাবে সমাপ্ত হোক এই কামনাই করি।’
ছবি: সংগৃহীত
জনগণের হক আদায় না করে যদি কেউ দুর্নীতি বা তছরুপ করেন তবে তাদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন এমপি।
শুক্রবার (১৯ জুন) মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন কার্যক্রম বাস্তবায়নবিষয়ক এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সীমাহীন দুর্নীতির সমালোচনা করে প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘বর্তমান সরকার একটি ভঙ্গুর অর্থনীতির ওপর দাঁড়িয়ে কাজ করছে। এ পরিস্থিতিতে সরকার ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যবর্তী স্থানে যে সকল সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারী রয়েছেন তারা যদি জনগণের হক আদায় না করেন কিংবা কেউ যদি দুর্নীতি করেন বা জনগণের অধিকার তছরুপ করেন তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
সম্প্রতি বর্তমান সরকার কর্তৃক গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সরকার দেশের প্রান্তিক পর্যায়ের জনগণের ভাগ্য উন্নয়নে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড প্রদানসহ বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। অচিরেই আপনারা এর সুফল দেখতে পাবেন।’
মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক সৈয়দা নুরমহল আশরাফীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামান রতন, পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম এবং গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে হাফছা নাদিয়া।
ছবি: সংগৃহীত
নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ১৭ শয্যার হাম ওয়ার্ডে ৮৭ শিশু ভর্তি রয়েছে। এতে নানা সংকটে রোগীদের দুর্ভোগ চরমে ওঠেছে। তবে কর্তৃপক্ষের দাবি, সংকটের মধ্যেও সেবা নিশ্চিতের চেষ্টা চলছে।
শুক্রবার (১৯ জুন) সকালে ঘুরে দেখা যায়, হাম ওয়ার্ডের ভেতরে-বাহিরে বিছানা ও মেঝেতে অসংখ্য রোগী ও তাদের স্বজনরা। বাথরুমের দুর্গন্ধ ও অতিরিক্ত লোকজনের চাপে চিকিৎসা নিতে আসা স্বজনরাও অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় ২৫ শিশুসহ হামের আইসোলেশন ওয়ার্ডে মোট ৮৭ শিশু ভর্তি রয়েছে। এ সময়ে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৪৫ জন। এখানে এ পর্যন্ত তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
জানা গেছে, জনবল সংকটের কারণে এ হাসপাতালের পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা বিঘ্ন ঘটছে। এখানে পরিচ্ছনতা কর্মীর ৩০ পদের বিপরীতে খালি রয়েছে আটটি। এছাড়া সিনিয়র কনসালটেন্ট ১০ পদের ছয়টিই খালি রয়েছে। পাশাপাশি সিনিয়র স্টাফ নার্স ২১, স্টাফ নার্স ছয় ও মিডওয়াইফ নার্স তিনটি পদও খালি রয়েছে।
রোগীর স্বজনরা জানান, রোগী ভর্তি আছে ৮৭ জন। তাদের সঙ্গে আরও দুই শতাধিক স্বজনসহ এ ওয়ার্ডে তিন শতাধিক লোকজন ভিড় করছেন। যেহেতু ব্যাপকহারে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে তাই এ ওয়ার্ডের শয্যা ও চিকিৎসা ব্যবস্থা আরও বাড়ানো জরুরি।
হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. রাজিব আহম্মেদ চৌধুরী বলেন, ১৭ রোগীর শয্যায় ৮৭ জন ভর্তি থাকলে যা হওয়ার তাই হচ্ছে। এ ওয়ার্ডে গত আড়াই মাস ডা. রাশেদ ও ডা. ইউসুফসহ দুজন সিনিয়র স্টাফ নার্স দিয়ে নিরবচ্ছিন্নভাবে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে নতুন তত্ত্বাবধায়ক আরও দুজন সিনিয়র স্টাফ নার্স যুক্ত করেছেন। তবে রোগীর চাপ অনুযায়ী এখানে জনবল আরও বাড়ানো উচিত।
এর আগে গত মঙ্গলবার দুপুরে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে আকষ্মিক পরিদর্শনে আসেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
এসময় নানা অব্যবস্থাপনা ও অনিয়মের দায়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. ফরিদ উদ্দিন চৌধুরীকে তাৎক্ষণিক প্রত্যাহার করে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেন। পরে নোয়াখালী সিভিল সার্জন ডা. আনোয়ার হোসেনকে এ হাসপাতালের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেন।
ছবি: সংগৃহীত
ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আসাদুল হাবীব দুলু বলেছেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে ১২ থেকে ১৩ হাজার কোটি টাকা লাগবে। এটার জন্য আমি মনে করি বিদেশের মুখাপেক্ষী হওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। আমাদের জিওবি ফান্ড থেকে এটা করতে পারব। এটার মেয়াদ আছে দশ বছর। দুই স্তরে কাজ হবে। সুতরাং প্রতি বছর ২ থেকে ৩ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করলেও আমরা করতে পারব। তবে প্রযুক্তির ব্যাপারে আমাদের দেশীয় যারা আছেন তাদের সঙ্গে হয়তো বহির্বিশ্বের আরও উচ্চতর যারা জ্ঞান রাখেন এই ব্যাপারে তাদের সঙ্গে শেয়ার করতে পারেন।
শুক্রবার (১৯ জুন) নীলফামারীর তিস্তা ব্যারাজ পরিদর্শন শেষে ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এসব কথা বলেন। এসময় পানি সম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ উপস্থিত ছিলেন।
মন্ত্রী বলেন, ‘এখন সমস্যাটা দেখা দিয়েছে যে আমরা দিয়ে উজান থেকে পানি কতটুকু পাবো সেটা কিন্তু এখনো আমাদের কাছে যথেষ্ট সন্দেহের কারণ। পানি চুক্তি ছাড়া আমাদের কাঙিক্ষত পানি পাওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই। বর্ষাকালে প্রচুর পানি হয়। শুকনা মৌসুমে যদি পানি আমরা না পাই তাহলে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করলে এটা কোন কার্যকর কার্যকরী ভূমিকা রাখবে না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সেই জায়গাটি অ্যাড্রেস করছেন। উনি বলছেন যে, যাতে পানির রিজার্ভার তৈরি করা যায় ডিজাইনের মধ্যে সেটাকে গুরুত্ব দিতে বলছেন উনি। যাতে বর্ষাকালে আমরা পানি ধরে রাখতে পারি।’
এক মাসের মধ্যে টেকনিক্যাল কমিটির রিপোর্ট পাওয়ার পর মহাপরিকল্পনার মূল কার্যক্রম শুরু হবে জানিয়ে আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, ‘কিছু লোক দেখতেছি, তারা আবার আন্দোলনের কর্মসূচি দিচ্ছে। কিন্তু দীর্ঘদিন যে আমরা আন্দোলন করলাম, তাদের চেহারা তো আমি একদিনও পাইনি। এখন এরা দেখছে যে কাজ রেডি হয়ে যাচ্ছে। তাই ওরা আন্দোলন করে ক্রেডিট নিতে চায়। তারা কই ছিল এতদিন।
এর আগে মন্ত্রীরা তিস্তা প্রধান সেচ খাল, জলঢাকার ধাইজান নদী, চারালকাটা নদী ও দিনাজপুর সেচ খাল পরিদর্শন করেন। এসময় পানি সম্পদ সচিব ড. এ.কে.এম শাহাবুদ্দিন সহ তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে গঠিত ৯ দস্যের কমিটির অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর শ্যামপুরের পোস্তগোলায় মাইক্রোবাসের ধাক্কায় অজিত বাবু (৫৫) নামে এক পথচারী নিহত হয়েছেন। এদিকে, কলাবাগানে ভুতের গলি মসজিদের পাশে একটি ষষ্ঠতলা নির্মাণাধীন ভবনে কাজ করার সময়ে পড়েএক রাজমিস্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে।
পোস্তগোলায় শুক্রবার (১৯ জুন) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে পোস্তগোলা যাত্রী ছাউনির সামনে রাস্তা পার হওয়ার সময় একটি হাইয়েস মাইক্রোবাস তাকে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে, কলাবাগান থানার ভুতের গলি মসজিদের পাশে একটি ষষ্ঠতলা নির্মাণাধীন ভবনে কাজ করার সময়ে পড়ে গিয়ে মো. ইয়াসিন (৩৮) নামে এক রাজমিস্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (১৯ জুন) সকালে এ দুর্ঘটনা ঘটে। মৃত ইয়াসিন লক্ষীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলার মো. হাবিবুর রহমানের ছেলে।
মৃত মো. ইয়াসিনের সহকর্মী সায়েদুল জানান, নির্মাণাধীন ভবনে কাজ করার সময় অসাবধানতাবশত পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হন। সেখান থেকে, তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল পৌনে ১২টায় চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
সত্যতা নিশ্চিত করে ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক বলেন, মরদেহটি হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানায় জানানো হয়েছে।
মন্তব্য