চট্টগ্রামে পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুকে নির্মমভাবে হত্যার পর মরদেহ ছয় টুকরো করে সাগর পাড় ও খালের ধারে ফেলে দেওয়ার ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত প্রতিবেশী আবির আলীকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত। বুধবার (১৭ জুন) চট্টগ্রামের ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মুহাম্মদ আলী আক্কাস এই চাঞ্চল্যকর মামলার রায় ঘোষণা করেন।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২২ সালের ১৫ নভেম্বর চট্টগ্রাম নগরের ইপিজেড থানা এলাকা থেকে ওই শিশুটি নিখোঁজ হয়। শিশুর পরিবার থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার পর পিবিআই (পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন) ছায়া তদন্ত শুরু করে। তদন্তে বেরিয়ে আসে যে, শিশুটির পরিবারের বাসার ভাড়াটে আবির আলীই এই অপহরণ ও হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা। ওই বছরের ২৫ নভেম্বর আবিরকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং পরবর্তীতে তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অতিরিক্ত পিপি জালাল উদ্দিন জানান যে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিচারে মোট ৩৩ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য প্রদান করেন। পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ ও সাক্ষ্যের ভিত্তিতে অপরাধটি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত আসামিকে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছেন। এই রায়ের মাধ্যমে ভুক্তভোগী পরিবারটি দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ন্যায়বিচার পেল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ছবি: সংগৃহীত
গ্রামবাংলার চিরচেনা রূপ আর গ্রামীণ জীবনের এক শান্ত-স্নিগ্ধ ছবি ফুটে উঠেছে সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার তালম ইউনিয়নের মানিকচাপর এলাকায় ফসলের মাঠে দেখা মিলেছে এক অপরূপ গ্রামীণ দৃশ্যের।
সেখানে দেখা যায়, সবুজ ফসলের মাঠের এক কোণে শান্ত মনে ঘাস খাচ্ছে ৬টি মহিষ। আর তাদের যেন কোনো বিঘ্ন না ঘটে এবং মহিষগুলো যাতে ফসলের ক্ষতি না করে, সেজন্য পাশেই লাঠি হাতে শান্ত ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে পাহারা দিচ্ছেন এক কৃষক আবেদ আলী ।
স্থানীয়রা জানান, আধুনিক যান্ত্রিক সভ্যতার ছোঁয়ায় গ্রামবাংলার অনেক ঐতিহ্যবাহী দৃশ্যই এখন বিলুপ্তপ্রায়। একসময় তাড়াশের চলনবিল অঞ্চলে লাঙল-জোয়াল আর মহিষের পালের অবাধ বিচরণ ছিল নিত্যদিনের চিত্র। কালের বিবর্তনে ট্রাক্টর আর পাওয়ার টিলার সেই জায়গা দখল করে নিলেও, মানিকচাপর এলাকার এই দৃশ্যটি যেন মুহূর্তের জন্য সবাইকে অতীতে ফিরিয়ে নিয়ে যায়।
মাঠে মহিষ চড়ানোর সময় কথা হয় সেই কৃষক আবেদ আলীর সাথে। মুখে ক্লান্তির ছাপ থাকলেও চোখে ছিল সন্তুষ্টির হাসি। নিজের জীবনের গল্প ও মহিষ পালনের অভিজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, এখনকার দিনে তো মাঠের হাল চাষ থেকে শুরু করে সব কাজই মেশিনে হয়। মহিষের গাড়ি বা মহিষের হাল এখন আর চোখে পড়ে না। কিন্তু আমি বাপ-দাদার আমলের এই অভ্যাসটা ছাড়তে পারি নাই। প্রতিদিন বিকেলে এই ছয়টা মহিষ নিয়া মাঠে আসি খোলা হাওয়া আর তাজা ঘাসের খোঁজে।
তিনি আরও বলেন, এদের পেছনে খাটুনি যেমন আছে, তেমনি লাভও আছে। এই মহিষের খাঁটি দুধ বিক্রি করেই প্রতিদিন আমার সংসার চলে। আবার কোরবানির হাটে ভালো দামে বিক্রি করলে একবারে অনেকগুলো টাকা হাতে পাওয়া যায়। কষ্ট হলেও এদের আমি নিজের সন্তানের মতো লালন-পালন করি। এই ছয়টা মহিষই আমার সংসারের মূল চাকা।
সবুজ মাঠ, অলস ভঙ্গিতে মহিষের ঘাস খাওয়া আর কৃষক আবেদ আলীর এই পাহারার চিত্রটি ওই পথ দিয়ে যাতায়াতকারী অনেক পথচারীকেই আকৃষ্ট করছে। যান্ত্রিক জীবনের কোলাহল ছেড়ে গ্রামীণ এই শান্ত ও মনোরম পরিবেশ এক টুকরো মানসিক প্রশান্তি এনে দেয়।
ছবি: সংগৃহীত
মাগুরা সদর উপজেলার বেরইন পলিতা ইউনিয়নের রামদের গাতি গ্রামে মায়ের অগোচরে বাবা কর্তৃক এক নবজাতক শিশু বিক্রির ঘটনা ঘটেছে। মাগুরা জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে অবশেষে শিশুটিকে উদ্ধার করে মায়ের কোলে ফিরিয়ে দেয়া হয়। এ ব্যাপারে শিশুটির বাবাসহ মোট চারজনকে আটক করেছে পুলিশ।
গত বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে মঘী ইউনিয়নের দক্ষিণ বীরপুর গ্রামের শাহানুর ও মনিরা দম্পতির বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ সূত্র জানায়, মাগুরা সদরের বেরইল পলিতা ইউনিয়নের রামদের গাতি গ্রামের বাসিন্দা মো. সাগর হোসেন (৩৪) ও তার স্ত্রী মনিরা খাতুনের (২৫) ঘরে একটি কন্যা শিশুর জন্ম হয়। অর্থের লোভে শিশুটির বাবা সাগর হোসেন মাত্র ২৫ হাজার টাকায় মায়ের অগোচরে শিশুটিকে মঘী ইউনিয়নের দক্ষিণ বীরপুর গ্রামের মো. সাহাবুর ও তার স্ত্রী মনিরা খাতুন এর কাছে বিক্রি করেন। পরবর্তীতে শিশুটির বয়স একমাস ২৫ দিন হলে তার মা বিষয়টি জানতে পেরে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা চান।
অভিযোগের পর মাগুরা জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় শত্রু জিতপুর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই শুভঙ্কর রায়ের নেতৃত্বে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে শিশুটিকে উদ্ধার করে আইনি প্রক্রিয়া শেষে তার মায়ের কোলে ফিরিয়ে দেয়া হয়।
শিশুটির পিতা সাগর হোসেনকে আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি জানান, অভাবের তাড়নায় তিনি এ কাজ করেছেন এবং পরে জীনে নিয়ে গেছে বলে একটি নাটক সাজান।
গত বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাতে এক প্রেস ব্রিফিং এ পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন জানান, এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তিনি আরো বলেন, জনগণের নিরাপত্তা, মানবাধিকার সুরক্ষা ও অপরাধ দমনে মাগুরার পুলিশের এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
কুমিল্লা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মো. মনির হোসেন পাটোয়ারী ও অ্যাডভোকেট সাইদুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত
বহিষ্কৃত শিবির নেতা জিসান আহমেদ প্রধানের পক্ষে গণমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ার ঘটনায় কুমিল্লা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের দুই সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটরের (এপিপি) নিয়োগ বাতিল করেছে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) আইন ও বিচার বিভাগের সলিসিটর অনুবিভাগ (জিপি-পিপি শাখা) থেকে জারি করা এক আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।
আদেশ অনুযায়ী, কুমিল্লা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মো. মনির হোসেন পাটোয়ারী ও অ্যাডভোকেট সাইদুল ইসলামের নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে। ২০২৪ সালের ২৯ অক্টোবর জারি করা নিয়োগসংক্রান্ত স্মারকের মাধ্যমে তাদের যে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল, তা প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়।
জানা যায়, গত ১৬ জুন কুমিল্লা আদালত প্রাঙ্গণে ছাত্রশিবির নেতা জিসান আহমেদ প্রধানকে ঘিরে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন ওই দুই আইনজীবী। এ সময় অ্যাডভোকেট মনির হোসেন পাটোয়ারী অভিযোগ করেন, প্রশাসন জিসানের সঙ্গে আইনজীবী ও স্বজনদের কথা বলতে দেয়নি।
নিয়োগ বাতিলের বিষয়ে অ্যাডভোকেট মনির হোসেন পাটোয়ারী বলেন, ‘আমরা জিসানের মামলায় ওকালতনামা নেইনি। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে কথা বলেছি। নিয়োগ বাতিলের আদেশে কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি। তবে জিসানের মামলার বিষয়ে কথা বলার কারণেই এ সিদ্ধান্ত হয়ে থাকতে পারে।’
কুমিল্লার পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট কাইমুল হক রিংকু বলেন, ‘আইন মন্ত্রণালয় থেকে আমাকে আদেশের কপি পাঠানো হয়েছে। তারা দুজনই সরকারি আইনজীবী ছিলেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হয়ে রাষ্ট্রের বিপক্ষে কোনো আসামির পক্ষে অবস্থান নেওয়া সমীচীন নয়।’
এ বিষয়ে কুমিল্লা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি অ্যাডভোকেট বদিউল আলম সুজন বলেন, ‘আইন মন্ত্রণালয় যেকোনো সময় সরকারি আইনজীবীদের নিয়োগ বাতিল করতে পারে। খোঁজ নিয়ে জেনেছি, নিয়োগ বাতিল হওয়া দুই আইনজীবী জিসানের পক্ষে ওকালতনামা না নিলেও আদালতের সামনে দাঁড়িয়ে তার পক্ষে গণমাধ্যমে বক্তব্য দিয়েছিলেন।’
উল্লেখ্য, গত ১১ জুন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক সম্পাদক ও কুমিল্লা পশ্চিম অঞ্চলের সাবেক সভাপতি জিসান আহমেদ প্রধান নিখোঁজ হয়েছেন বলে তার পরিবার দাবি করে। পরদিন দাউদকান্দি মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। পরে একই দিন রাতে জেলার লাকসাম জংশন এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। এদিকে দাউদকান্দি থানায় ২৫ বছর বয়সি এক বিধবা নারী তার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের করেছেন।
ছবি: সংগৃহীত
খাল, বিল ও নদী-অধ্যুষিত কিশোরগঞ্জের হাওর উপজেলা অষ্টগ্রাম। এক সময়ের উত্তাল ধলেশ্বরীর পাড় ঘেঁষে গড়ে ওঠা এই হাওর জনপদ বর্ষায় প্লাবিত হয় বিশাল জলরাশিতে। আবার শুকনো মৌসুমে দেখা দেয় তীব্র খরা; খাল-বিল ফেটে হয় চৌচির।
প্রমত্তা ধলেশ্বরী তখন রূপান্তরিত হয় সবুজ ফসলের মাঠে। ‘মাছের ভাণ্ডর’ বলে খ্যাত এই হাওরে শুকনো মৌসুমে দেখা দেয় দেশীয় মাছের তীব্র সংকট। ফলে জেলেরা বেকার হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হন।
অষ্টগ্রাম উপজেলায় প্রায় ৮৭৭৯ জেলে পরিবারের বসবাস। খাল-বিল ও নদী-নালায় পানি না থাকায় বছরের প্রায় ৬ মাস তাদের বেকার থাকতে হয়। ফলে এই জনগোষ্ঠীর অধিকাংশই দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছে। মহাজনদের কাছ থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে মেয়ের বিয়ে, সংসারের ভরণপোষণ এবং নৌকা-জাল কিনতে গিয়ে দিন দিন তাদের ঋণের বোঝা বাড়ছে। ঋণ পরিশোধের দুশ্চিন্তা ও গভীর উৎকণ্ঠায় কাটছে তাদের দিন।
জরাজীর্ণ টিন ও বাঁশের নড়বড়ে বাসস্থানে স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ। বাসিন্দাদের চোখে-মুখে হতাশার স্পষ্ট ছাপ। নির্ঘুম চোখ, শরীরে ক্লান্তি আর রোগা জীর্ণ-শীর্ণ দেহ সবকিছুই যেন সাব্ষ্য দিচ্ছে তাদের নিদারুণ দৈন্যতার। চরম দারিদ্র্যের সাথে সংগ্রাম করে হাওরের নিভৃত পল্লীগুলোতে বংশপরম্পরায় বসবাস করছে মূলত হিন্দু ধর্মাবলম্বী এই মৎস্যজীবী গোষ্ঠী। আবহমান কাল ধরে মাছ শিকারই তাদের জীবিকার একমাত্র প্রধান উৎস।
জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে প্রাকৃতিক ভারসাম্য বিনষ্ট হওয়ায় তাদের জীবন আজ দুর্বিষহ। উজান থেকে নেমে আসা পলি ও বালি জমে ভরাট হয়ে গেছে হাওরের নদী, নালা ও খাল-বিল। পর্যাপ্ত জলাধারের অভাব এবং নদীতে মাছের অপ্রতুলতার কারণে তারা উপার্জন ক্ষমতা হারাচ্ছেন। এক সময় ঘাটে ঘাটে সারি সারি মাছ ধরার ডিঙ্গি নৌকা বাঁধা থাকত, মাছ ধরার ক্ষেত্রও ছিল অবাধ। এখন আর সেই চিরচেনা দৃশ্য চোখে পড়ে না।
চলতি বছরের ২৯ মে থেকে ২৮ জুন পর্যন্ত হাওরে মাছ ধরার ওপর সরকারি নিষেধাজ্ঞা চলছে। এই সময়টাতে জেলেরা সম্পূর্ণ কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। কিন্তু নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ে কোনো সরকারি বিকল্প সাহায্য বা পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না থাকায় পরিবার-পরিজন নিয়ে তারা চরম খাদ্য সংকটে ভুগছেন।
জেলেরা জানান, নিষেধাজ্ঞার পর বর্ষাকালে মাছ ধরার সুযোগ থাকলেও জলমহালগুলো থাকে এক শ্রেণির প্রভাবশালী ইজারাদারদের দখলে। দেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তন হলেও বন্ধ হয়নি জলমহাল ইজারা প্রথা; কেবল দখলদারদের হাতবদল হয়েছে। জেলেদের নৌকা প্রতি মোটা অঙ্কের টাকা ইজারাদারদের দিয়ে জলমহালের আশপাশে মাছ ধরার সুযোগ মিললেও পর্যাপ্ত মাছ না পাওয়ায় তাদের অভাব দূর হচ্ছে না।
পক্ষান্তরে, হাওরের অধিকাংশ কৃষক এখন কৃষি কাজের পাশাপাশি মাছ ধরার সকল কৌশল রপ্ত করে নিয়েছেন। বর্ষাকালে তারাও মাছ ধরায় নিয়োজিত হন। মাছ ধরার ক্ষেত্রে প্রভাবশালী ও কৃষকদের দাপটে দুর্বল প্রকৃতির পেশাদার জেলেরা যত্রতত্র জাল ফেলতে ভয় পান। নানা কারণে মাছ ধরা এখন জেলে সম্প্রদায়ের কাছে কঠিন ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ফলে বাধ্য হয়ে অনেকেই বংশানুক্রমিক এই পেশা ছেড়ে বেঁচে থাকার তাগিদে দিনমজুরির মতো বিকল্প পেশায় ঝুঁকছেন। জেলে পরিবারের নারী-পুরুষদের এখন দৈনিক কৃষি মজুর হিসেবে কাজ করতে দেখা যাচ্ছে। তবে অভ্যস্ত না হওয়ায় অন্য পেশায় তারা ঠিকমতো মানিয়ে নিতে পারছেন না।
গভীর রাত কিংবা সারা রাত ঝড়-বৃষ্টি ও কনকনে শীত উপেক্ষা করে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে তাদের মাছ ধরতে হয়। দীর্ঘদিন এই অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে অনেকেই পক্ষাঘাতগ্রস্ত (প্যারালাইজড) হয়ে পড়ছেন। অর্থের অভাবে সঠিক চিকিৎসা করাতে না পেরে পরিবারগুলো চরম দুর্ভোগে পতিত হচ্ছে। এছাড়া সামাজিক অবহেলা ও জাতিভেদ প্রথার কারণেও তারা সামাজিকভাবে এখনো বেশ পিছিয়ে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, সরকারি উদ্যোগে নদী খনন এবং হাওরের জলমহালগুলো ইজারাভুক্ত না করে সাধারণ জেলেদের জন্য উন্মুক্ত করে দিলে তারা অবাধে মাছ ধরার সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি জেলেদের প্রশিক্ষিত করে টেকসই ও বিকল্প জীবিকার উৎস তৈরি করা এখন সময়ের দাবি। সহজ শর্তে ঋণ এবং সরকারি নানামুখী সুবিধা নিশ্চিত করার মাধ্যমেই কেবল এই জনগোষ্ঠীকে দারিদ্র্যের অভিশাপ থেকে মুক্ত করা সম্ভব।
এ বিষয়ে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) আশরাফুল ইসলাম রিয়েল জানান: ‘হাওরের হতদরিদ্র জেলেদের মানবেতর জীবনযাপনের বিষয়টি বিবেচনা করে আগামী বছর থেকে নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ে তাদের জন্য ভিজিএফ কার্ডের মাধ্যমে বিশেষ খাদ্য সহায়তার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।’
ছবি: সংগৃহীত
জাতীয় সংসদ ভবনে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার। বৃহস্পতিবার দুপুরে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সাক্ষাৎকালে পাকিস্তান হাইকমিশনের পলিটিক্যাল কাউন্সেলর কামরান দাংগাল উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে হাইকমিশনার ইমরান হায়দার উল্লেখ করেন যে, পাকিস্তান বাংলাদেশের সঙ্গে একটি ‘ভবিষ্যৎমুখী দৃষ্টিভঙ্গি’ নিয়ে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও উচ্চতায় নিয়ে যেতে আগ্রহী। তিনি জানান, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যকার সম্পর্ক ‘ইতিবাচক ধারায় অগ্রসর হচ্ছে’, যার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে দুই দেশের ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য এবং সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাদের নিয়মিত সফর বিনিময়ের মধ্য দিয়ে। পাকিস্তানের শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিক কাঠামো পর্যবেক্ষণে সম্প্রতি বাংলাদেশের একটি শিক্ষাবিদ প্রতিনিধিদলের সফর এবং তাদের সন্তোষজনক প্রতিক্রিয়ার বিষয়টিও হাইকমিশনার আলোচনায় তুলে ধরেন।
শিক্ষাক্ষেত্রে সহযোগিতার প্রসারে পাকিস্তান সরকারের নেওয়া বিশেষ উদ্যোগের কথা জানিয়ে হাইকমিশনার বলেন, আগামী পাঁচ বছরে পর্যায়ক্রমে বাংলাদেশের ৫০০ জন শিক্ষার্থীকে স্কলারশিপ প্রদান করা হবে। এই প্রকল্পের আওতায় ইতোমধ্যে ৭৪ জন শিক্ষার্থী পাকিস্তানে পড়াশোনা শুরু করেছেন। এছাড়া গত মাসে ঢাকায় অনুষ্ঠিত শিক্ষা মেলার সাফল্যের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, দুই দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে মেধা বিনিময় বৃদ্ধি এবং চলমান ‘নলেজ করিডোর’ প্রকল্পকে ভবিষ্যতে আরও সুসংহত করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে পাকিস্তান।
সংসদীয় পর্যায়ে সম্পর্ক সুদৃঢ় করতে একটি সংসদীয় গ্রুপ গঠনের আহ্বান জানান হাইকমিশনার ইমরান হায়দার। আলোচনার এক পর্যায়ে ডা. শফিকুর রহমান যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরে পাকিস্তানের ঐতিহাসিক ও মধ্যস্থতাকারী ভূমিকার জন্য হাইকমিশনারের মাধ্যমে পাকিস্তান সরকারকে বিশেষ ধন্যবাদ জানান। এই সৌজন্য সাক্ষাতে বিরোধীদলীয় নেতার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম আরমান এবং উপদেষ্টা কমিটির সদস্য আলী আহমাদ মাবরুরও উপস্থিত ছিলেন।
ছবি: নিউজ বাংলা
কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে কালনী নদীর তীর থেকে মুখমণ্ডল থেঁতলানো অবস্থায় এক বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (১৯ জুন) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার খয়েরপুর-আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের আব্দুল্লাহপুর গ্রামের সামনে কালনী নদীর তীর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। রাতের কোন এক সময় তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা পুলিশের।
নিহত মো. শফিক মিয়া (৩১) আব্দুল্লাহপুর গ্রামের মৃত আজিজুল হকের ছেলে। তিনি স্থানীয় আব্দুল্লাহপুর বাজারে শ্রমিকের কাজ করতেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শফিক মিয়া বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী ছিলেন। তার দুটি কন্যাসন্তান রয়েছে। সম্প্রতি স্ত্রীর সঙ্গে তার বিবাহবিচ্ছেদ হয়। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যস্থতায় বিষয়টি মীমাংসা করা হয়। ওই মীমাংসার অংশ হিসেবে সাবেক স্ত্রীকে ভরণপোষণ বাবদ ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল।
স্থানীয়দের দাবি, শফিকের কাছে ৪০ হাজার টাকা ছিল এবং বাকি ১০ হাজার টাকা জোগাড়ের চেষ্টা করছিলেন তিনি। টাকাগুলো সবসময় নিজের কাছেই রাখতেন। এ কারণে টাকার লোভে তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন এলাকাবাসী।
অষ্টগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রোকনুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেছে। তিনি নিজেও ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যাচ্ছেন। মরদেহ উদ্ধার করে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হবে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশ ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ণয়ে কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
ছবি: নিউজ বাংলা
মৌলভীবাজারের হাকালুকি হাওরে মাছ ধরার সময় আকস্মিক বজ্রপাতে তিন জেলের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে হাওরের ফেঞ্চুগঞ্জ অংশের বাঘমারা পূর্ব কাটুটিলা এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার উত্তরভাগ ইউনিয়নের কামালপুর গ্রামের জহির মিয়ার দুই ছেলে হামিদ মিয়া ও কাবিল মিয়া এবং একই এলাকার রফিক মিয়ার ছেলে সাব্বির মিয়া।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকালে হামিদ, কাবিল ও সাব্বির একটি নৌকা নিয়ে হাকালুকি হাওরের ফেঞ্চুগঞ্জ অংশে মাছ ধরতে যান। দুপুর গড়াতেই আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে এবং আকস্মিক ঝড়-বৃষ্টির সঙ্গে প্রচণ্ড বজ্রপাত শুরু হয়। এ সময় বজ্রাঘাতে ঘটনাস্থালেই তিনজনের মৃত্যু হয়।
বজ্রপাতের পর হামিদ ও সাব্বিরের মরদেহ নৌকার ওপরেই পড়ে ছিল। তবে কাবিল মিয়ার মরদেহটি নৌকা থেকে ছিটকে হাওরের গভীর পানিতে তলিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা হামিদ ও সাব্বিরের মরদেহ উদ্ধার করলেও কাবিল মিয়ার সন্ধান পাননি।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি ডুবুরি দল ও স্থানীয় বাসিন্দারা নিখোঁজ কাবিল মিয়ার মরদেহ উদ্ধারের জন্য হাওরে ব্যাপক তল্লাশি অভিযান শুরু করেছেন। তবে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত (বিকেল সাড়ে পাঁচটা) পানিতে তলিয়ে যাওয়া মরদেহের সন্ধান মেলেনি।
ফেঞ্চুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জাফর মোহাম্মদ মাহফুজুল কবির ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বজ্রপাতে তিনজনের মৃত্যুর খবর আমরা পেয়েছি। ঘটনাস্থল থেকে দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হলেও একজনের মরদেহ পানিতে তলিয়ে নিখোঁজ রয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ও স্থানীয়দের সহায়তায় নিখোঁজ জেলের মরদেহ উদ্ধারের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
হাওরপাড়ে তিন তরুণের এমন অকাল ও মর্মান্তিক মৃত্যুতে রাজনগরের কামালপুর গ্রামসহ পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতদের পরিবারে চলছে মাতম।
মন্তব্য