রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার পিরোজপুর-রাওথা সীমান্ত দিয়ে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ২৩ জনকে বাংলাদেশে পুশ ইন করার চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) কঠোর অবস্থান ও সীমান্তে বাড়তি নজরদারির কারণে সেই চেষ্টা পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে।
শনিবার (১৩ জুন) ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত কয়েক দফায় এই পুশ ইনের চেষ্টা চালানো হয়। পদ্মা নদীর ভারতীয় অংশ থেকে দুটি নৌকায় করে এসব মানুষকে বাংলাদেশে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হলেও সীমান্তে বিজিবির সতর্ক অবস্থানের কারণে নৌকাগুলো বাংলাদেশ অভিমুখে মোটেও অগ্রসর হতে পারেনি।
স্থানীয় জেলে ও সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, চারঘাট সীমান্তের বিপরীতে ভারতের মুর্শিদাবাদ জেলার কাগমারি চর এলাকায় প্রায় ১৫০ জন নারী, পুরুষ ও শিশুকে জড়ো করে রাখা হয়েছে। তাদের মধ্য থেকে প্রথম দফায় ২৩ জনকে কাগমারি ও খালিশপুর বিএসএফ ক্যাম্পের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে সীমান্ত এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বিজিবি সদস্যরা তাদের নিয়মিত টহল ও নজরদারি ব্যাপক জোরদার করেছেন। সীমান্ত এলাকায় মাইকিং করে স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হচ্ছে, পাশাপাশি বিএসএফের সম্ভাব্য পুশ ইন প্রতিহত করতে স্থানীয়দের সহযোগিতাও কামনা করছে বিজিবি।
দেশের সুরক্ষায় এ সময় স্থানীয় অনেক বাসিন্দাকেই বিজিবির সঙ্গে সীমান্ত এলাকায় কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে অবস্থান নিতে দেখা যায়। স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম জানান, ভোর থেকেই বিএসএফ কর্তৃক কিছু মানুষকে বাংলাদেশে পুশ ইনের চেষ্টা করার খবর তারা জানতে পারেন। বিজিবি তাদের সহযোগিতা চাওয়ায় দেশের স্বার্থে তাঁরাও জওয়ানদের পাশে এসে অবস্থান নিয়েছেন।
বিজিবির চারঘাট বিকল্প বিওপির কমান্ডার সুবেদার দেলোয়ার হোসেন বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা আগে থেকেই সীমান্তে অত্যন্ত সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করেছিলেন।
বিজিবির এই কঠোর নজরদারির কারণেই পুশ ইনের ভারতীয় প্রচেষ্টাটি ব্যর্থ হয়েছে। এলাকাবাসীর স্বতঃস্ফূর্ত সহযোগিতায় সীমান্তে এখন আরও নিটোল নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে এবং কোনোভাবেই অবৈধভাবে কাউকে বাংলাদেশের ভূখণ্ডে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।
ছবি: সংগৃহীত
ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় মো. ইসমাইল (২৬) নামে এক ব্রাজিল সমর্থকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় মো. সবুজ (২৪) নামে এক পথচারী গুরুতর আহত হয়েছেন। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
শনিবার (১৩ জুন) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ভোলা-চরফ্যাশন আঞ্চলিক মহাসড়কের বোরহানউদ্দিন উপজেলার দৌলতখান রাস্তার মাথা সংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত ইসমাইল উপজেলার কাচিয়া ইউনিয়নের চকঢোষ গ্রামের চৌকিদার বাড়ির বাসিন্দা মো. মাকসুদ ও জাহানারা বেগম দম্পতির ছেলে। আহত সবুজের বাড়ি ঘটনাস্থলের পাশেই।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার (১৩ জুন) বিকেলে বোরহানউদ্দিন পৌর ভবনের সামনে থেকে ব্রাজিল সমর্থকদের পূর্বনির্ধারিত মোটর শোভাযাত্রা বের হয়। শোভাযাত্রাটি দৌলতখান রাস্তার মোড়ে পৌঁছানোর পর সমর্থকেরা সড়কের পাশে ব্রাজিলের জার্সি পরিহিত এক যুবককে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটিও দুমড়ে-মুচড়ে যায়। ধারণা করা হচ্ছে, ইসমাইল শোভাযাত্রায় অংশ নিতে অথবা ব্যক্তিগত কাজে নিজ বাড়ি থেকে উপজেলা সদরের দিকে আসছিলেন।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও চিত্রগ্রাহক মো. শাকিল বলেন, “ব্রাজিল সমর্থকদের শোভাযাত্রার ড্রোন ফুটেজ ধারণের উদ্দেশ্যে আমি আগে থেকেই ঘটনাস্থলে অবস্থান করছিলাম। এ সময় কুঞ্জেরহাট দিক থেকে দ্রুতগতিতে আসা একটি জিক্সার মোটরসাইকেলের চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের কংক্রিটের ব্লকের সঙ্গে ধাক্কা খান। এতে তিনি মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে পড়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পান।”
আহত সবুজের চাচী লাইজু বেগম বলেন, “দ্রুতগতিতে আসা মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় সবুজকে ধাক্কা দেয়। এতে দুজনই গুরুতর আহত হন।” পরে সবুজকে প্রথমে বোরহানউদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে সেখান থেকে ভোলা সদর হাসপাতালে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালে পাঠানো হয়।
ব্রাজিল সমর্থকদের কয়েকজন জানান, শোভাযাত্রাটি ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই দুর্ঘটনা ঘটে। পরে তারা ইসমাইলকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে বোরহানউদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. রাফসানা বলেন, “হাসপাতালে আনার পর পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে ইসমাইলকে মৃত ঘোষণা করা হয়েছে।”
ছবি: সংগৃহীত
গাইবান্ধা জেলার সদর, সাঘাটা ও ফলুছড়ি উপজেলার ওপর দিয়ে বয়ে গেছে আলাই নদী। একসময় এ অঞ্চলের প্রাণরেখা ও বাণিজ্যপথের একটি মাধ্যম ছিল নদীটি। কিন্তু দখল, ভরাট ও দূষণে অনেক আগেই যৌবন হারিয়েছে আলাই। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দখল-দূষণ বাড়ায় মারাত্মক হুমকিতে নাব্যতা হারিয়ে এখন প্রাণ যায় যায় অবস্থা আলাই নদীর।
জেলার শহরের ডেভিট কোম্পানি পাড়া হয়ে পুলবন্দি ও লোহাচোরা ব্রিজ এলাকা অতিক্রম করে ফুলছড়ি উপজেলা দিয়ে প্রবেশ করেছে আলাই নদী। প্রায় ৮ কিলোমিটার দূরে ফুলছড়ি উপজেলার উড়িয়া এলাকায় নদীটি দুই ভাগে বিভক্ত। এরপর প্রায় ২২ কিলোমিটার আঁকাবাঁকা পথ পেরিয়ে আলাই নদী ফুলছড়ি উপজেলার ব্রহ্মপুত্র নদে গিয়ে মিলিত হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, নদীর দুই তীর দখল করে গড়ে উঠেছে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বসতবাড়ি। সদর উপজেলার বাদিয়াখালী ইউনিয়নে নদীর প্রবাহ প্রশস্ত ও পানি চলাচল বাড়াতে একটি সেতু নির্মাণ করা হলেও তা কার্যত শুধু যোগাযোগের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। নদীর দুই পাড় মাটি দিয়ে ভরাট করায় স্বাভাবিক গতিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এছাড়া সেতুর দুই পাশে বাজারকেন্দ্রিক দোকানপাট গড়ে উঠছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, নদীতীরে শতাধিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও আবাসিক ঘরবাড়ি গড়ে উঠেছে। নদীর কোথাও কোথাও হাঁটুপানি, আবার কোথাও কিছুটা গভীরতা দেখা যায়। নদী ও আশপাশের এলাকায় স্থানে স্থানে আগাছা ও কচুরিপানা জন্মেছে। সেতুর পশ্চিম পাশে ব্যক্তি মালিকানাধীন বাড়ি, চাতাল ও বিভিন্ন স্থাপনা গড়ে উঠছে। সেতুর দক্ষিণ ও উত্তর পাশে মাংসের দোকান রয়েছে। এসব দোকান থেকে মুরগি ও গরুর রক্ত, উচ্ছিষ্ট নাড়িভুঁড়ি, হাড়, বাজারের পলিথিনসহ নানা ধরনের ময়লা-আবর্জনা সেতুর ওপর দিয়ে নদীতে ফেলা হচ্ছে। এতে পানির রং কালো হয়ে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। এছাড়া সেতুর দুই পাশে পলিথিন, ডিমের খোসা, পচা মুরগির নাড়িভুঁড়িসহ বিভিন্ন ধরনের আবর্জনার স্তূপ জমে রয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, এক সময় এই নদীর পাশে বড় বাজার ছিল। সে সময়ে নৌকা করে দূরদূরান্ত থেকে লোকজন এসে মালামাল ক্রয়-বিক্রয় করত। নদীতে সারা বছর পানি থাকতো। সেই পানি দিয়ে কৃষকরা জমি চাষাবাদ করতো। কিন্তু ধরে ধীরে নদীটি দখল-দূষণের বর্তমানে মরা খালে পরিণত হয়েছে।
তাদের অভিযোগ, গত ১৫ বছরের অনেকেই ক্ষমতার শক্তি দেখিয়ে অনেক জায়গা দখল করে বাড়ি-ঘর দোকানপাট স্থাপনা তৈরি করছেন। আলাই নদী একবারও দখলদারদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এছাড়া সংস্কার ও খনন করা হয়নি। বছরের পর বছর দখল আর ময়লা আবজর্নার স্তূপে নদীটি ভরাট হয়ে গেছে। বর্ষায় উজান থেকে ঢল নামলে নদীটি পানি ধারণ করতে পারে না। এতে ডুবে যায় আশপাশ এলাকা।
স্থানীয় বাসিন্দা খালিক হাসান বলেন, নদীর জায়গা দখল করতে করতে নালায় পরিণত হয়েছে। এসব দখল উচ্ছেদ করে নদী খননের জোর দাবি জানাই।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. সুমন ইসলাম শুভ বলেন, আগে বন্ধুদের সঙ্গে এ নদীতে সাঁতার কাটতাম। তখন নদীতে প্রচুর পানি আর স্রোত ছিল। এখন নদীর পাশে দাঁড়ানোই কঠিন হয়ে গেছে দুর্গন্ধের কারণে। আগের সেই আলাই নদী এখন আর নেই।
বাদিয়াখালি বাজারের ব্যবসায়ী মো. গোলাম রহমান সুমন বলেন, ছোট সময়ে নদীর স্রোত দেখে ভয় পেতাম। তখন বড় নৌকা চলতো। এখন নদী ভরাট হয়ে নালায় পরিণত হয়েছে। নদীর অবস্থা দেখে খুব কষ্ট হয়। নদীটির জায়গা দ্রুত দখলমুক্ত করে খননের দাবি জানান।
বাদিয়াখালী ইউনিয়নের সদস্য নুর আলম বলেন, নাব্য সংকটে আলাই নদীতে পানি নেই। নদীটি খনন করে নাব্য ফেরাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানান তিনি।
গাইবান্ধা সামাজিক সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর কবীর তনু বলেন, নদীশাসন না হলে একসময় হয়তো নদীটি মানচিত্র থেকে মুছে যাবে। তাই অস্তিত্ব রক্ষায় এটি খনন ও সংস্কার করা জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আলাই শুধু একটি নদী নয়, এটি ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীর উৎস। ফলে আলাই নদীটি মারা গেলে এ অঞ্চলের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ওপর ভয়াবহ প্রভাব পড়বে।
গাইবান্ধা সদর ইউএনও মো. লোকমান হোসেন বলেন, মাত্র দুই মাস আগে এখানে জয়েন করছি। খোঁজখবর নিয়ে অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক মো. মাসুদুর রহমান মোল্লা বলেন, আলাই নদী দখল করে বাসা- বাড়ি দোকানপাট নির্মাণের বিষয়টি আমার জানা নেই। দখল তো সহজেই উচ্ছেদ করা যায় না। আইনগত প্রক্রিয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম বলেন, নানান জটিলতায় দখল বন্ধ করা যাচ্ছে না। ইতোমধ্যে খননব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তালিকা পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলে নদী রক্ষায় প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর তেজগাঁও এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ৬১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) এন এম নাসিরুদ্দিন এ তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, গত বৃহস্পতিবার তেজগাঁও বিভাগের আওতাধীন বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ এলাকায় নিয়মিত অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারদের মধ্যে তেজগাঁও থানা থেকে ৫ জন, শেরেবাংলা নগর থানা থেকে ৫ জন, মোহাম্মদপুর থানা থেকে ৩৩ জন, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা থেকে ৫ জন, আদাবর থানা থেকে ৯ জন এবং হাতিরঝিল থানা থেকে ৪ জন রয়েছেন।
গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি।
ছবি: সংগৃহীত
গ্রামীণ বাংলাদেশের মায়েদের অতিরিক্ত গৃহস্থালি ও শ্রমঘন কাজের চাপ শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিতকরণে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে বলে নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে। গবেষণায় দেখা গেছে, মায়েরা শিশুদের পর্যাপ্ত যত্ন নিলেও গৃহস্থালি কাজ, কৃষিকাজ ও অন্যান্য অবৈতনিক শ্রমে দীর্ঘ সময় ব্যয় করলে সেই যত্নের ইতিবাচক প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। ফলে শিশুদের পুষ্টিগত উন্নয়ন প্রত্যাশিত মাত্রায় পৌঁছায় না।
আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সাময়িকী উইমেনস স্টাডিজ ইন্টারন্যাশনাল ফোরাম (ডব্লিউএসআইএফ) এ প্রকাশিত এই গবেষণাটি পরিচালনা করেছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) কৃষি অর্থনীতি ও গ্রামীণ সমাজ বিজ্ঞান অনুষদের অধ্যাপক ড. মাহবুব হোসেন। গবেষণাটিতে গ্রামীণ বাংলাদেশের শিশুদের পুষ্টিগত অবস্থার ওপর মায়েদের সময় ব্যবস্থাপনা, যত্ন এবং কাজের চাপের প্রভাব বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
গবেষণায় তথ্যসূত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে আন্তর্জাতিক খাদ্যনীতি গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইএফপিআরআই) পরিচালিত বাংলাদেশ সমন্বিত পরিবার জরিপ (বিআইএইচএস)। দেশব্যাপী ৬ হাজার ৫০০ গ্রামীণ পরিবারের তথ্যের ভিত্তিতে ১ হাজার ৪৪৭ শিশুর পুষ্টিগত অবস্থা মূল্যায়ন করা হয়। শিশুদের পুষ্টির মান নির্ধারণে বয়স অনুযায়ী উচ্চতা এবং বয়স অনুযায়ী ওজনের সূচক ব্যবহার করা হয়েছে।
গবেষণাটির মূল উদ্দেশ্য ছিল মায়ের যত্ন এবং কর্মঘণ্টার পারস্পরিক সম্পর্ক শিশুদের পুষ্টির ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলে তা নির্ণয় করা। দীর্ঘদিন ধরে শিশু পুষ্টি বিষয়ে পরিচালিত অধিকাংশ গবেষণায় আয়, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক অবস্থানের মতো বিষয়গুলো গুরুত্ব পেলেও মায়েদের সময় ব্যবহারের প্রভাব তুলনামূলকভাবে উপেক্ষিত ছিল। নতুন এই গবেষণা সেই শূন্যতা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে মনে করছেন গবেষক ড. মাহবুব।
গবেষণার ফলাফলে দেখা যায়, মাতৃস্নেহ, পরিচর্যা ও যত্ন শিশুদের পুষ্টি উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে মায়েরা যখন গৃহস্থালি কাজ, কৃষিকাজ কিংবা অন্যান্য শ্রমঘন কর্মকাণ্ডে অধিক সময় ব্যয় করেন, তখন সেই যত্নের কার্যকারিতা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়। বিশেষ করে অবৈতনিক গৃহস্থালি কাজে অতিরিক্ত সময় ব্যয়ের বিষয়টি বিবেচনায় নিলে শিশুর পুষ্টিতে যত্নের ইতিবাচক প্রভাব প্রায় পুরোপুরি বিলীন হয়ে যায়। অর্থাৎ একই মাত্রার শিশুযত্ন ভিন্ন ভিন্ন কর্মঘণ্টার কারণে ভিন্ন ফলাফল তৈরি করতে পারে।
গবেষণায় আরও উঠে এসেছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গ্রামীণ উন্নয়ন ও কৃষিভিত্তিক বিভিন্ন উদ্যোগের ফলে নারীদের কাজের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু সেই অনুপাতে শিশু পরিচর্যা সহায়তা বা দিবাযত্ন কেন্দ্রের সুবিধা সম্প্রসারিত হয়নি। ফলে অনেক মা একই সঙ্গে গৃহস্থালি কাজ, কৃষিকাজ এবং শিশুর যত্নের দ্বৈত চাপ বহন করছেন।
সমস্যা সমাধানে সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন অধ্যাপক ড. মাহবুব হোসেন। তিনি বলেন, শুধু পুষ্টি কর্মসূচি বা সচেতনতামূলক উদ্যোগ গ্রহণ করলেই শিশু পুষ্টির সমস্যার সমাধান হবে না। মায়েদের অতিরিক্ত কাজের চাপ কমানোর পাশাপাশি গ্রামীণ এলাকায় শিশু পরিচর্যা সহায়তা ব্যবস্থা সম্প্রসারণ, পরিবার ও সমাজভিত্তিক সহায়তা বৃদ্ধি এবং নারীদের শ্রমের ভার লাঘবে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, গ্রামীণ মায়েদের সময় বাঁচাতে প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি, জ্বালানি ও পানির সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা এবং গ্রামীণ পর্যায়ে প্রাতিষ্ঠানিক শিশু যত্ন কেন্দ্র গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি। মায়েদের সময় ও শ্রমের বিষয়টিকে তাই নীতিনির্ধারণের কেন্দ্রে স্থান না দিলে শিশু পুষ্টি উন্নয়নে গৃহীত কর্মসূচিগুলোর প্রত্যাশিত সাফল্য অর্জন কঠিন হবে।
ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর আফতাবনগর এলাকায় বহুতল ভবন থেকে নিচে পড়ে এক নারী নিহত হয়েছেন। স্বজনদের দাবি, মানসিক সমস্যার কারণে তিনি আট তলা ভবন থেকে লাফিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করেছেন।
নিহত নারীর নাম মোছা. মনিকা আক্তার (২৭)। শনিবার বিকেলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে তার মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়।
মনিকা গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার রামপুরা সরকারপাড়ার মহির উদ্দিনের মেয়ে। তার স্বামী লিটন মিয়া আফতাবনগরের ই ব্লকের দুই নম্বর সেক্টরের এক নম্বর রোডের ৩১ নম্বর বাড়ির কেয়ারটেকার এবং স্ত্রী-সন্তান নিয়ে নিচতলায় বসবাস করতেন।
নিহতের বোন মমিনা জানান, মনিকা দীর্ঘদিন ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। আগের দিন তার স্বামী জমিসংক্রান্ত কাজে গ্রামের বাড়িতে যান। এ সুযোগে তিনি ভবন থেকে লাফিয়ে পড়েন।
বাড্ডা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ফাতেমা সিদ্দিকা সোমা বলেন, আমরা জানতে পেরেছি, শুক্রবার বিকেলে ভবন থেকে লাফিয়ে পড়েন মনিকা আক্তার। পরে খবর পেয়ে ৩১ নম্বর ভবনটির সামনে থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করি। এরপর আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।
এসআই ফাতেমা আরও বলেন, পরিবারের কাছ থেকে জানতে পারি, মনিকা মানসিক হতাশা থেকে আত্মহত্যা করেছেন। তবুও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।
ছবি: সংগৃহীত
শিক্ষা মন্ত্রী ড.আ ন ম এহছানুল হক মিলন এমপি বলেছেন, বর্তমানে আদালতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত প্রায় ৮২ হাজার ৫শ’ মামলা চলমান রয়েছে। এ মামলা জটিলতার কারণে সুষ্ঠুভাবে কিছুই করা যাচ্ছে না। এসব মামলার কারণে কাজের গতি কমে যাচ্ছে। এ ব্যাপারে আদালতের সাথে আলোচনা করা হয়েছে, যাতে দ্রুত সময়ের মধ্যে এ মামলাগুলোর নিষ্পত্তি করা যায়।
শনিবার (১৩ জুন) বিকেলে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে পঞ্চমীঘাট উচ্চ বিদ্যালয়ের চারতলা বিশিষ্ট বিশ্বেশ্বর পোদ্দার ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, দেশের প্রাইমারি স্কুলগুলোতে ৩২ হাজার ৫০০ প্রধান শিক্ষকের পদ দীর্ঘদিন যাবত শূন্য রয়েছে। প্রধান শিক্ষকের এ পদ নিয়ে আদালতে মামলা চলমান থাকায় এ ব্যাপারে শিক্ষক নিয়োগ করা যাচ্ছে না। দ্রুত এর সমস্যা সমাধান করে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি জুলাই মাস থেকে পাইলট প্রকল্পের আওতায় সাড়ে চার লক্ষ শিক্ষার্থীকে স্কুল ড্রেস ও স্কুলের জুতা বিনামূল্যে দেয়া হবে। জুলাইয়ের পর থেকে বাংলাদেশের সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীকে এ প্রকল্পের আওতায় আনা হবে এবং সমগ্র বাংলাদেশে প্রাইমারি স্কুলে মিড ডে মিল চালু করা হবে। আমরা চাই শিশুদের আনন্দময় শিক্ষা। শিক্ষা মানে শুধু বই পড়া নয়, শিক্ষা মানে জিপিএ পাঁচ পাওয়া নয়। সবাইকে আনন্দের সাথে প্রকৃত শিক্ষা অর্জণ করতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, জাতীয় সংসদের হুইপ এবি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান এমপি, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান, নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির ও পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সী। সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসিফ আল জিনাতের সভাপতিত্বে ও পঞ্চমীঘাট উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ড. নুসরাত ফাতেমা'র ব্যবস্থাপনায় বক্তব্য রাখেন, পঞ্চমীঘাট উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সভাপতি বাবু অমল পোদ্দার, নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক খাইরুল ইসলাম সজীব। অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মোশারফ হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুজ্জামান ভূঁইয়া মাসুম প্রমূখ।
মন্ত্রী আরো বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিক্ষা খাতে বাজেট অনেক বেশি বাড়িয়েছেন আওয়ামী লীগ সরকার ৭৮ কোটি টাকার উপরে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ রাখেনি সেখানে তারেক রহমান শিক্ষা খাতে বরাদ্দ রেখেছেন এক লক্ষ ৩৬ হাজার কোটি টাকা।
ছবি: সংগৃহীত
পার্বত্য বান্দরবান জেলার সবচেয়ে জনগুরুত্বপূর্ণ লামা উপজেলা। এ উপজেলার শহর থেকে গ্রামে সরকারের নানা উন্নয়ন ও নাগরিক সেবা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে কাজ করে যাচ্ছেন বিভিন্ন দপ্তরের শতশত কর্মকর্তা-কর্মচারী। কিন্তু এসব কর্মকর্তা কর্মচারীদের জন্য সরকারিভাবে আবাসিকের ব্যবস্থা না থাকার কারণে একদিকে যেমন কর্মকর্তা কর্মচারীরা চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছেন, তেমনি ব্যাহত হচ্ছে উপজেলার জরুরি নাগরিক সেবাও।
একটি পৌরসভা, সাতটি ইউনিয়ন ও একটি থানা নিয়ে গঠিত এ উপজেলার উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা পরিষদসহ বিভিন্ন দপ্তরে ১ হাজার ৩২৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মরত আছেন। চরম আবাসন সংকট নিরসনে দ্রুত আবাসিক গেজেটেড কোয়ার্টার ও ডরমিটরি নির্মাণের দাবি তুলেছেন ভুক্তভোগী কর্মকর্তা কর্মচারীরা।
উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, ১৯২০ সালের ৭ সেপ্টেম্বর লামা থানা গঠিত হয়। ১৯৭০ সালের ৯ অক্টোবর আলীকদম, নাইক্ষ্যংছড়ি, বাইশারী ও গজালিয়া থানাকে নিয়ে এটি ‘লামা মহকুমা’য় উন্নীত হয়। ১৯৮৩ সালে দেশের সব মহকুমা বিলুপ্ত করে জেলা ঘোষণার সময় তৎকালীন সরকারি প্রজ্ঞাপনে লামাকে জেলা ঘোষণা করা হলেও তা মাত্র ৩ দিন স্থায়ী হয়েছিল। তবে মহকুমা ও জেলা ঘোষণার ইতিহাসের কারণে একটি জেলা শহরে সরকারের প্রশাসনিক কাজের যতগুলো দপ্তর থাকে, তার প্রায় সবই রয়ে গেছে এই উপজেলায়। বন বিভাগ ও পোস্ট অফিস বাদে বর্তমানে উপজেলায় সরকারের ৩৩টি দপ্তর রয়েছে। এসব দপ্তরে বর্তমানে ১৪২ জন কর্মকর্তা এবং ১ হাজার ১৮৩ জন কর্মচারীসহ সর্বমোট ১ হাজার ৩২৫ জন কর্মী কর্মরত রয়েছে।
অপর একটি সূত্র জানায়, আবাসন সংকটের নেতিবাচক প্রভাব সরাসরি পড়ছে দাপ্তরিক কাজে। দূরবর্তী স্থান থেকে যাতায়াত করতে গিয়ে যেমন সময় অপচয় হচ্ছে, তেমনি অতিরিক্ত মানসিক ও শারীরিক ক্লান্তির কারণে ব্যাহত হচ্ছে নাগরিক সেবা। বিশেষ করে জরুরী সেবার সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কর্মস্থলে সার্বক্ষণিক অবস্থান করতে হিমশিম খাচ্ছেন।
সরেজমিন দেখা যায়, উপজেলা শহরের বিভিন্ন এলাকার সাধারণ মেসে বা জরাজীর্ণ বাসা-বাড়িতে কয়েকজন কর্মচারী একসঙ্গে গাদাগাদি করে বসবাস করছেন। আবার কেউ কেউ বাধ্য হয়ে থাকছেন অতি সাধারণ পাহাড়ি ঘরবাড়িতে, যেখানে ন্যূনতম নাগরিক সুযোগ-সুবিধাও নেই। দূর-দূরান্ত থেকে বদলি হয়ে আসা চাকরিজীবীদের কর্মস্থলে যোগ দিয়েই পড়তে হচ্ছে চরম আবাসন সংকটে। সুনির্দিষ্ট আবাসন ব্যবস্থা না থাকায় স্থানীয় এলাকায় চড়া মূল্যে বাসা ভাড়া নিতে বাধ্য হচ্ছেন সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা কর্মচারীরা। অনেকেই বাধ্য হয়ে পরিবার-পরিজন দূরে রেখে একাকী মেস জীবন কাটাচ্ছেন।
লামা উপজেলা প্রশাসনের উপপ্রশাসনিক কর্মকর্তা উচিংমে চাক বলেন, নারী হিসেবে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় আবাসন সুবিধা না থাকাটা সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা সংকট। পরিবার নিয়ে থাকার মতো ভালো বাসা এখানে পাওয়াই যায় না, আর পেলেও ভাড়া আকাশচুম্বী। এদিকে সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা বামং সিং মার্মা জানায়, অফিস শেষ করে একটু শান্তিতে যে বিশ্রাম নেব, সেই পরিবেশটুকুও নেই। ভাঙাচোরা মেসবাড়িতে থাকতে হয়। ডরমিটরি থাকলে উপজেলাবাসী আরও বেশি সেবা পেত।
উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা কাঞ্চন দে বলেন, পাহাড়ি অঞ্চলের মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে যারা নিজেদের শ্রম ও মেধা উৎসর্গ করছেন, তাদের ন্যূনতম মৌলিক চাহিদা পূরণ করা সময়ের দাবি। সরকারি কর্মচারীদের জন্য একটি আধুনিক ডরমিটরি বা কোয়ার্টার নির্মাণ এখন আর কেবল বিলাসিতা নয়, বরং সেবার মান বজায় রাখার জন্য অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।
সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীদের আবাসন সংকটের সত্যতা স্বীকার করে লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মঈন উদ্দিন জানান, বান্দরবানের ৭টি উপজেলার মধ্যে ৬টিতেই অফিসার্স কোয়ার্টার ও ডরমিটরি থাকলেও, কেবলমাত্র লামা উপজেলাতেই কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কোনো আবাসন ব্যবস্থা নেই।
ইউএনও আরও জানায়, উপজেলায় সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য আবাসিক গেজেটেড কোয়ার্টার ও ডরমিটরি নির্মাণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগের নিকট ইতোমধ্যে অনুরোধ জানিয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে প্রস্তাব আকারে সম্ভাব্য স্থানগুলোর নকশা তৈরি ও পরিচিহ্নিত করে দেওয়া হয়েছে। আশা করি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দ্রুত অনুমোদন পাওয়া গেলে উপজেলায় আবাসিক গেজেটেড কোয়ার্টার ও ডরমিটরি নির্মাণের মাধ্যমে বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা কর্মচারীদের আবাসন সংকট নিরসন সম্ভব হবে।
মন্তব্য