ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মুন্সীগঞ্জের মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া অংশে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘ সময় যানজটে আটকে থেকে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রী ও যানবাহন চালকরা।
বুধবার (১০ জুন) ভোররাত চারটা থেকে শুরু হওয়া এই যানজট বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মহাসড়কের বিস্তীর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। ঢাকামুখী লেনের বিভিন্ন পয়েন্টে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে আছে পণ্যবাহী ট্রাক, দূরপাল্লার বাস ও ব্যক্তিগত যানবাহন। দীর্ঘসময় যানজটে আটকে থেকে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকরা।
হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গজারিয়া অংশে যানজট থাকলেও এর সূত্রপাত ঘটেছে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ অংশে। সেখানকার আষাঢ়িয়া চর এলাকায় একটি ট্রাক উল্টে গিয়ে ঢাকামুখী লেনে যান চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে সৃষ্ট যানজট সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গজারিয়া অংশেও ছড়িয়ে পড়ে।
সরেজমিনে দেখা যায়, মহাসড়কের ভবেরচর, ভাটেরচর ও জামালদি বাসস্ট্যান্ডসহ গজারিয়ার বিভিন্ন অংশে যানবাহনের চাকা প্রায় ঘুরছেই না। দীর্ঘক্ষণ একই জায়গায় স্থির দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে দূরপাল্লার যানবাহনগুলোকে।
ঢাকামুখী ট্রাকচালক আবুল হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,"আমি ভবেরচর থেকে জামালদী বাসস্ট্যান্ডের এই সামান্য পথ পার হতেই প্রায় দেড় ঘণ্টা জ্যামে আটকে আছি। এভাবে চললে কখন গাজীপুর পৌঁছাবো তা আল্লাহই জানেন।"
বাসচালক আব্দুস সাত্তার জানান, ভোররাতে ভাটেরচর এলাকা থেকে তিনি যানজটে পড়েছেন। দীর্ঘ সময় পার হলেও জট ছাড়ার কোনো লক্ষণ দেখছেন না।
এ বিষয়ে গজারিয়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহ কামাল আকন্দ জানান, গজারিয়া অংশে মূলত কোনো সমস্যা নেই। সোনারগাঁ অংশের আষাঢ়িয়া চর এলাকায় সড়কে একটি ট্রাক উল্টে যাওয়ার কারণে মহাসড়কে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হয়। এর ফলে সৃষ্ট যানজট বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গজারিয়া অংশে এসে পৌঁছায়। দুর্ঘটনাকবলিত গাড়িটি ইতোমধ্যে মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। আশা করছি কিছুক্ষণের মধ্যেই যান চলাচল স্বাভাবিক হয়ে যাবে।
ছবি: নিউজ বাংলা
আগামী ১৭ জুন মৌলভীবাজার সফরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাঁর এই সফরকে কেন্দ্র করে জেলাজুড়ে ব্যাপক প্রস্তুতি ও উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে। সফরকালে তিনি জেলায় তৃতীয় ধাপের ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করবেন বলে জানা গেছে। প্রধানমন্ত্রীর এই আগমনকে সামনে রেখে জেলার শ্রীমঙ্গল ও রাজনগর উপজেলায় সম্ভাব্য অনুষ্ঠানস্থল (ভেন্যু) পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসক ও বিএনপি নেতারা।
মঙ্গলবার (৯ জুন) মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেলের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল সম্ভাব্য ভেন্যুগুলো ঘুরে দেখেন।
পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন— মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. ফয়জুল করিম ময়ূন, সদস্য সচিব মোহাম্মদ আব্দুর রহিম রিপন, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির অন্যতম সদস্য আলহাজ্ব মো. আব্দুল মুকিত, রাজনগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি নুরুল ইসলাম শেলুন এবং সাধারণ সম্পাদক মো. আব্বাস আলীসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।
জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল জানান, প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য সফর উপলক্ষে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রাথমিকভাবে ভেন্যুগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। মঙ্গলবার সকালে শ্রীমঙ্গলের ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ ও মির্জাপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করা হয়। পরবর্তীতে দুপুরে রাজনগর উপজেলা চত্বর এবং রাজনগর ডিগ্রি কলেজ মাঠ ঘুরে দেখেন প্রতিনিধি দলের সদস্যরা।
তিনি আরও বলেন, আগামী ১৭ জুন প্রধানমন্ত্রী মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলা ও শ্রীমঙ্গলের মির্জাপুর ইউনিয়নে তৃতীয় ধাপের ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করতে পারেন। তবে অনুষ্ঠানস্থল এখনও চূড়ান্ত করা হয়নি। স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ) সম্ভাব্য স্থানগুলো পরিদর্শনের পর নিরাপত্তা ও সার্বিক দিক বিবেচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে কেন্দ্র করে স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মাঝে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মোহাম্মদ আব্দুর রহিম রিপন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য আগমনকে ঘিরে দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মাঝে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে মৌলভীবাজারবাসীর বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দাবি রয়েছে। আমরা অত্যন্ত আশাবাদী যে, প্রধানমন্ত্রীর এই ঐতিহাসিক সফরে জেলার দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত ও গুরুত্বপূর্ণ দাবিগুলো পূরণ হবে।
প্রশাসন ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে নিশ্ছিদ্র ও সফল করতে ইতিমধ্যেই জেলা প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দফায় দফায় বৈঠক করছে। একই সাথে দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝেও চলছে ব্যাপক প্রস্তুতিমূলক সভা। সব মিলিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সফরকে স্মরণীয় করে রাখতে প্রস্তুত হচ্ছে মৌলভীবাজার।
ছবি: নিউজ বাংলা
কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার আড়াইওড়া এলাকায় একটি গ্যারেজে ঢুকে গ্যারেজ মালিকের মুখে পিস্তল ঠেকিয়ে ১৬টি অটোরিকশার প্রায় ৮০টি ব্যাটারি লুট করে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা।
বুধবার ভোররাতে এ ঘটনা ঘটে। গ্যারেজ মালিক মো. মবিন মিয়া জানান, রাত সাড়ে ৩টার দিকে ১৫ থেকে ২০ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল টিনের বেড়া টপকে গ্যারেজে প্রবেশ করে। এরপর তারা তাকে হাত-পা বেঁধে ফেলে এবং মুখে পিস্তল ঠেকিয়ে চিৎকার না করার হুমকি দেয়। পরে গ্যারেজে থাকা ১৬টি অটোরিকশার অন্তত ৮০টি ব্যাটারি ও সিসিটিভি ক্যামেরার যন্ত্রপাতি লুট করে নিয়ে যায়।
তিনি আরও জানান, দুর্বৃত্তরা চলে যাওয়ার পর তিনি চিৎকার করলে স্থানীয় লোকজন এসে তাকে উদ্ধার করেন। পরে সকালে কোতোয়ালি মডেল থানায় অভিযোগ জানানো হলে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রায় দুই মাস আগে একই এলাকার আরেকটি গ্যারেজ থেকেও ১৫-১৬টি অটোরিকশার ব্যাটারি লুটের ঘটনা ঘটেছিল। তাদের অভিযোগ, আগের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ব্যবস্থা না নেওয়ায় এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি হচ্ছে।
কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ছবি: নিউজ বাংলা
রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার খাড়ইল মিলঘর এলাকায় রাজশাহী-নওগাঁ মহাসড়কে মাহিন্দ্রা ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুইজন নিহত এবং তিনজন আহত হয়েছেন।বুধবার (১০ জুন) সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটের দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, খাড়ইল মিলঘর এলাকায় একটি যাত্রীবাহী মাহিন্দ্রার সঙ্গে একটি ট্রাকের সংঘর্ষ হলে মাহিন্দ্রাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে মাহিন্দ্রায় থাকা যাত্রীরা গুরুতর আহত হন।
এসময় দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই নিহত হন কেশরহাট ইসলামী ব্যাংকের কর্মরত কর্মকর্তা মো. মারুফ হোসেন (৩৭)। তিনি নওগাঁ জেলার মান্দা উপজেলার চক শ্যামরাই গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে।
এদিকে গুরুতর আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজনের মৃত্যু হয়। আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক এবং আরও তিনজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে মোহনপুর থানার পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। নিহত মারুফ হোসেনের মরদেহ উদ্ধার করে মোহনপুর থানায় নেওয়া হয়েছে।
এই দুর্ঘটনায় মোহনপুর থানার এসআই ইয়ামিন আলী জানান, দুর্ঘটনার পর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
ছবি: নিউজ বাংলা
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের আন্দিউড়া এলাকায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় সিএনজি চালকসহ দুইজন নিহত হয়েছেন। বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মহাসড়কে রাস্তার কাজ করা একটি ট্রাম ট্রাকের সঙ্গে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংঘর্ষ হলে ঘটনাস্থলেই সিএনজি চালক নিহত হন। এ সময় সিএনজিতে থাকা তিন যাত্রী গুরুতর আহত হন।
পরে স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক নারী যাত্রীর মৃত্যু হয়। আহত অপর দুইজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
শায়েস্তাগঞ্জ হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শুভ রঞ্জন চাকমা জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করেছে। নিহতদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে এবং দুর্ঘটনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
দুর্ঘটনার পর মহাসড়কে কিছু সময় যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটলেও পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। নিহত ও আহতদের পরিচয় পাওয়া গেলে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।
ছবি: সংগৃহীত
ব্যভিচার, মানহানি এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া বিয়ের অভিযোগে দায়ের করা মামলা থেকে ক্রিকেটার নাসির হোসাইন ও তাঁর স্ত্রী তামিমা সুলতানা তাম্মিকে খালাস দিয়েছেন আদালত। বুধবার (১০ জুন) দুপুর সাড়ে ১২টায় ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম এই আলোচিত মামলার রায় প্রদান করেন। রায়ের সময় নাসির ও তামিমা সশরীরে আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে বেলা পৌনে ১২টার দিকে নাসির তাঁর স্ত্রী তামিমার হাত ধরে এজলাসে প্রবেশ করলে আদালত প্রাঙ্গণে ভিড় জমান উৎসুক জনতা। মামলার নথিপত্র অনুযায়ী, ১০ জন সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণের পর গত ১৬ এপ্রিল এই মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ পর্ব শেষ হয়েছিল। ক্রিকেটার নাসিরের এই আইনি লড়াই দীর্ঘ তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে চলেছিল।
২০২১ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি তামিমার সাবেক স্বামী রাকিব হাসান বাদী হয়ে এই মামলাটি দায়ের করেছিলেন। মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয় যে, ২০২১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি পেশায় কেবিন ক্রু তামিমা ও ক্রিকেটার নাসির হোসাইনের বিয়ের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা রাকিবের নজরে আসে। রাকিবের দাবি ছিল, তাঁর সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক বলবৎ থাকাকালীনই তামিমা নাসিরকে বিয়ে করেছেন, যা প্রচলিত আইন ও ধর্মীয় রীতির পরিপন্থী।
এজাহারে আরও বলা হয়েছিল যে, ক্রিকেটার নাসির হোসাইন তাম্মিকে প্রলুব্ধ করে নিজ আয়ত্তে নিয়ে গেছেন। এই অবৈধ সম্পর্কের ফলে রাকিব এবং তাঁর আট বছর বয়সী কন্যা মানসিকভাবে ভেঙে পড়ার পাশাপাশি সামাজিকভাবেও বড় ধরণের মানহানির শিকার হয়েছেন। সব ধরণের তথ্য-প্রমাণ ও সাক্ষ্য বিশ্লেষণ করে আদালত আজ তাঁদের নির্দোষ ঘোষণা করে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
ছবি: নিউজ বাংলা
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে সন্দেহ জনক জব্দ করা একটি প্রাইভেটকারের গ্যাস সিলিন্ডারের ভেতর থেকে ১ লাখ ২৪ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে সীতাকুণ্ড থানা পুলিশ । উদ্ধার হওয়া ইয়াবার আনুমানিক মূল্য ৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা বলে ধারণা করছে পুলিশ । গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে আটটায় সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিনুল ইসলাম গণমাধ্যমকর্মীদের বিষয়টি নিশ্চিত করেন । তবে এ ঘটনায় জড়িত চালক সহ কাউকে আটক করা যায়নি।
মঙ্গলবার রাতে পুলিশ জানায়, সোমবার ভোররাতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে টহল ডিউটির সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারে, কক্সবাজার থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা পাচার করা হচ্ছে।
এই প্রেক্ষিতে ঢাকামুখী একটি প্রাইভেটকারের গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে সেটিকে থামার সংকেত দেয় পুলিশ। তবে চালক গাড়ি না থামিয়ে দ্রুতগতিতে পালানোর চেষ্টা করেন।
একপর্যায়ে পুলিশ প্রাইভেটকারটিকে ধাওয়া করলে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বড় দারোগারহাট ওজন স্কেলের সামনে গাড়িটি থামে। এরপর চালকসহ ইয়াবা পাচারকারীরা পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থল থেকে প্রাইভেটকারটি জব্দ করে থানা হেফাজতে নেয় পুলিশ।
থানায় নেওয়ার পর প্রাইভেটকারে তল্লাশি চালিয়ে ভেতরে একটি গ্যাস সিলিন্ডার দেখতে পায় পুলিশ। বিষয়টি চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি) রাসেলকে জানানো হয়। মঙ্গলবার রাত আটটায় তাঁর উপস্থিতিতে সিলিন্ডারটি প্রাইভেটকার থেকে উদ্ধার করা হয়। পরে সিলিন্ডারের ভেতর বায়ুনিরোধক মোড়কে মোড়ানো বিপুল পরিমাণ ইয়াবা পাওয়া যায়।
সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিনুল ইসলাম বলেন, “এই ঘটনায় জড়িত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। তবে জব্দ করা প্রাইভেটকারের ভেতরে থাকা সিলিন্ডার থেকে ১ লাখ ২৪ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। যার আনুমানিক মূল্য ৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা বলে ধারণা করা যাচ্ছে । এ বিষয়ে সীতাকুণ্ড থানায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে ।
ছবি: নিউজ বাংলা
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার সাফা ইউনিয়নের দেবীপুর এলাকায় অতিরিক্ত আলুবোঝাই একটি ট্রাকের চাপে বেইলি সেতু ভেঙে খালে পড়ে গেছে। বুধবার (১০ জুন) রাত আনুমানিক ৩টার দিকে মঠবাড়িয়া পাথরঘাটা সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। তবে এতে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
সেতু ধসের ঘটনায় পাথরঘাটার সঙ্গে ঢাকা, বরিশাল ও খুলনাসহ একাধিক রুটে যান চলাচল সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় মানুষ, পথচারী ও যানবাহন চালকেরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা থেকে আলুবোঝাই করে একটি ট্রাক মঠবাড়িয়ার উদ্দেশ্যে আসছিল। গভীর রাতে দেবীপুর এলাকার বেইলি সেতু অতিক্রম করার সময় হঠাৎ সেটি ধসে পড়ে। ঘটনার পর ট্রাকের চালক ও সহকারী পলাতক রয়েছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আকলিমা আক্তার জানান, সেতুটির ধারণক্ষমতা ছিল ২০ মেট্রিক টন। অতিরিক্ত ওজনের ট্রাক ওঠার কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি সড়ক ও জনপথ বিভাগকে জানানো হয়েছে; তারা দ্রুত সেতুটি মেরামতের উদ্যোগ নেবে।
মন্তব্য