পরিবেশ রক্ষা ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গড়তে কিশোরগঞ্জ জেলা পুলিশের এক অভিনব উদ্যোগ সর্বত্র ব্যপক সাড়া জাগিয়েছে। কিশোরগঞ্জের হাওর উপজেলা অষ্টগ্রামে পুলিশ সুপারের উদ্যোগে এবং অষ্টগ্রাম থানার পক্ষ থেকে ‘বৃক্ষ ও বই’ শীর্ষক এক ব্যতিক্রমী কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে পুরষ্কার হিসেবে বই বিতরণ করা হয়েছে।
সোমবার (০৮ জুন) দপুরে উপজেলার আব্দুল ওয়াদুদ উচ্চ বিদ্যালয়ের ১০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে এই কর্মসূচির আওতায় এ বই বিতরণ করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এই কর্মসূচির মূল আকর্ষণ ছিল শিক্ষার্থীদের মাঝে পরিবেশ বিষয়ক সচেতনতা বৃদ্ধি। যে সকল ছাত্র-ছাত্রী নিজ উদ্যোগে অন্তত ৫টি করে গাছ রোপণ ও সেগুলোর পরিচর্যা করেছে, তাদের সেই পরিবেশবান্ধব কাজের উপহারস্বরূপ ২টি করে বই উপহার দেওয়া হয়।
শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া বইগুলো ছিল পুলিশ সুপার, কিশোরগঞ্জ এর নিজের রচিত। তাঁর এই অনন্য উপহার পেয়ে শিক্ষার্থীরা অত্যন্ত আনন্দিত। পুলিশের এমন ব্যতিক্রমী ও মানবিক উদ্যোগ স্থানীয় ছাত্র-ছাত্রী এবং অভিভাবকদের মাঝে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
শিক্ষার্থীরা জানান, গাছ লাগানোর মতো একটি ভালো কাজের জন্য সরাসরি পুলিশ সুপারের লেখা বই উপহার পাওয়া তাদের জন্য অত্যন্ত গৌরব ও অনুপ্রেরণার।
অভিভাবকরা বলেন, এই উদ্যোগ একদিকে যেমন নতুন প্রজন্মকে বৃক্ষরোপণে উদ্বুদ্ধ করে পরিবেশ রক্ষা করবে, অন্যদিকে বই পড়ার মাধ্যমে তাদের মেধার বিকাশ ঘটাবে। তারা বলেন, পুলিশের এই মানবিক ও সামাজিক কার্যক্রম সত্যিই প্রশংসনীয়।
এসময় থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রুকনুজ্জামান, অষ্টগ্রাম থানা পুলিশের কর্মকর্তাবৃন্দ, আব্দুল ওয়াদুদ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত সকলেই পুলিশ সুপারের এই ‘বৃক্ষ ও বই’ মডেলটি জেলার সর্বত্র ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান।
পূর্ব নোটিশ ছাড়াই চাকরিচ্যুতির প্রতিবাদে রাজধানীর রামপুরা সড়কে বিক্ষোভ মিছিল করছেন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। সোমবার (৮ জুন) দুপুরের দিকে হাতিরঝিল ও রামপুরা থানাধীন বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) ভবনের সামনের সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও অবরোধ কর্মসূচি শুরু করেন তারা।
জানা গেছে, বিটিভি সেন্টারের সামনে ‘টেক্সাস ড্রেসেস লিমিটেড’ নামক একটি পোশাক কারখানার কয়েকশ শ্রমিক এই আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন। শ্রমিকদের অবরোধের কারণে মালিবাগ-রামপুরা-বাড্ডা রুটের গুরুত্বপূর্ণ সড়কের এক পাশে সব ধরনের যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।
এর ফলে তীব্র গরমের মধ্যে ওই এলাকায় ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয় এবং চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ পথচারী ও যাত্রীরা।
আন্দোলনরত শ্রমিকদের অভিযোগ, কারখানা কর্তৃপক্ষ শ্রম আইন তোয়াক্কা না করে কোনো ধরনের পূর্ব নোটিশ বা বকেয়া পাওনাদি পরিশোধের সুনির্দিষ্ট ঘোষণা ছাড়াই বেআইনিভাবে তাদের চাকরিচ্যুত করেছে। চাকরি হারিয়ে জীবিকা নির্বাহের সংকটে পড়ে তারা রাস্তায় নামতে বাধ্য হয়েছেন।
দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা বিটিভি ভবনের সামনে বিক্ষোভ মিছিল এবং সংশ্লিষ্ট শ্রমিক ভবন ঘেরাও করে সেখানে অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আন্দোলনরত শ্রমিকদের পক্ষ থেকে কারখানা কর্তৃপক্ষের কাছে অনতিবিলম্বে বাস্তবায়নের জন্য পাঁচ দফা দাবি পেশ করা হয়েছে। দাবিগুলো হলো-
এক. ছাঁটাইকৃত ১৪৭ জন শ্রমিককে অবিলম্বে চাকরিতে পুনর্বহাল করতে হবে।
দুই. আন্দোলন দমাতে পুলিশ প্রশাসন বা বহিরাগতদের দিয়ে শ্রমিকদের ওপর কোনো ধরনের মামলা, হামলা বা হয়রানি করা যাবে না। তিন. কারখানার পূর্ববর্তী স্বাভাবিক নিয়ম ও শৃঙ্খলা বজায় রেখে যেভাবে উৎপাদন কার্যক্রম চলছিল, ঠিক সেভাবেই কারখানা পরিচালনা করতে হবে। চার. কারখানার অভ্যন্তরে শ্রমিকদের জন্য নিরাপদ ও বৈষম্যহীন কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। পাঁচ. প্রত্যেক শ্রমিকের চাকরির আইনি ও স্থায়ী নিশ্চয়তা দিতে হবে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মতিঝিল বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) হারুন অর রশীদ গণমাধ্যমকে জানান, ১৪৭ জন শ্রমিকের চাকরি ফিরিয়ে দেয়ার দাবিতে দুপুরে রামপুরায় শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভে নামেন। এতে প্রায় ১ ঘণ্টা ধরে যান চলাচল বন্ধ ছিল। তবে আমারা তাদের বুঝিয়ে রাস্তা থেকে সরিয়ে দিয়েছি। এখন শ্রমিকদের প্রতিনিধিরা শ্রম অধিদপ্তরে যাচ্ছে, সেখানে আশা করি বিষয়টি সমাধান হবে। বর্তমানে রামপুরা সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে বলেও জানান তিনি।
প্রতীকী ছবি
কুমিল্লা-টু-কোম্পানীগঞ্জ রুটে চলাচলকারী রয়েল ক্লাসিক পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসে সংঘবদ্ধ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। গতকাল সন্ধ্যার পূর্বে কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার কংসনগর বাজার সংলগ্ন সড়কে এ ঘটনা ঘটে। ডাকাতদের হামলায় কয়েকজন যাত্রী আহত হন এবং নগদ টাকা, মানিব্যাগ ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র লুটের অভিযোগ উঠেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বিকেলে আশু ফকিরের বাড়ি সংলগ্ন এলাকায় কালো রঙের একটি হাইএস (Hiace) মাইক্রোবাস বিপরীত দিক থেকে এসে রয়েল ক্লাসিক পরিবহনের বাসটির গতিরোধ করে। এ সময় বাসের চালক সুজন ও হেলপার সাওন গাড়ি সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করলে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। যাত্রীরা চালককে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে হামলাকারীরা তাদের ভয়ভীতি দেখিয়ে বলে, “কংসনগর বাজারে আয়।”
পরে সন্ধ্যার আগ মুহূর্তে বাসটি কংসনগর বাজারে পৌঁছালে হাইএস মাইক্রোবাসে থাকা ১০ থেকে ১২ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে জোরপূর্বক বাসে উঠে যাত্রীদের ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা যাত্রীদের মারধর করে এবং তাদের কাছ থেকে নগদ অর্থ ও মূল্যবান মালামাল ছিনিয়ে নেয়।
ভুক্তভোগীদের দাবি, ডাকাতরা মোট ৫১ হাজার ৩০০ টাকা লুট করে নিয়ে যায়। এর মধ্যে একজন সংবাদকর্মীর কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আফসারের কাছ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা, মানিব্যাগ ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ছিনিয়ে নেওয়া হয়। বাধা দিতে গেলে তাকে মারধর করা হয় এবং তার পরনের জামাকাপড় টানাহেঁচড়া করা হয়। ঘটনার পর ডাকাতরা দ্রুত স্থান ত্যাগ করে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীদের একজন বাদী হয়ে বুড়িচং থানায় মামলা দায়ের করেছেন বলে জানা গেছে।
ঘটনার বিষয়ে বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, “ঘটনার সময় আমরা হাইওয়ে ডিউটির কাজে দেবপুর ফাঁড়িতে ছিলাম। অভিযোগ বা মামলা পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ডাকাত দলের নেতৃত্বে ছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে বুড়িচং উপজেলার উত্তর ভারেল্লা ইউনিয়নের পশ্চিম সিং গ্রামের আব্দুল মতিনের ছেলে সাকিল মিয়ার বিরুদ্ধে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, তার নেতৃত্বে পরিচালিত একটি মাদক ব্যবসায়ী চক্র এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। তবে এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে বুড়িচং উপজেলা বিএনপির সভাপতি মিজানুর রহমান বলেন, “ঘটনাটি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এলাকার সংসদ সদস্য জসিম উদ্দিন বলেন, “ভুক্তভোগীরা মামলা করেছেন। তদন্তের মাধ্যমে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ডাকাতির ঘটনায় যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। আহত যাত্রীরা রয়েল ক্লাসিক পরিবহনের শাসনগাছা কাউন্টারে বিষয়টি বিস্তারিতভাবে জানালেও সংবাদ লেখা পর্যন্ত কোম্পানির পক্ষ থেকে কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে রয়েল ক্লাসিক পরিবহনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জহির উদ্দিনের সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ভুক্তভোগী যাত্রীদের দাবি, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক। একই সঙ্গে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও বাস মালিক সমিতির কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান তারা।
পর্যটন নগরী কক্সবাজারে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন নতুন একটি পাওয়ার ট্রান্সফরমার আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হওয়ার পর বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। গত ২৮ মে ঈদুল আজহার দিন শহরের প্রধান একটি উপকেন্দ্রের ট্রান্সফরমার বিকল হয়ে যাওয়ায় টানা আট দিন পুরো শহরজুড়ে তীব্র লোডশেডিং চলছিল। বর্তমানে নতুন ট্রান্সফরমারটি সচল হওয়ায় দীর্ঘদিনের বিদ্যুৎ বিভ্রাট অনেকটা কমে এসেছে। এতে পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী, সাধারণ গ্রাহক এবং ছুটিতে আসা দর্শনার্থীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সূত্রে জানা গেছে, কলাতলী বাইপাস সড়কের উপকেন্দ্রে ১০/১৩ এমভিএ ক্ষমতার একটি ট্রান্সফরমার নষ্ট হওয়ার পর শহরের বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখতে হচ্ছিল। উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে ওই একই উপকেন্দ্রে ১৬/২০ এমভিএ ক্ষমতার অধিক শক্তিশালী একটি নতুন ট্রান্সফরমার স্থাপন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, নতুন এই ইউনিটটি পুরোদমে চালু হওয়ায় শহরের বিদ্যুৎ ঘাটতি এখন প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে এবং বিতরণ ব্যবস্থা আগের চেয়ে অনেক বেশি স্থিতিশীল হয়েছে।
ঈদের দীর্ঘ ছুটিতে এমন ভয়াবহ বিদ্যুৎ সংকটের কারণে কক্সবাজারের পর্যটন খাতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছিল। তীব্র গরমের মধ্যে এসি ও লিফট বন্ধ থাকায় হোটেলে অবস্থানরত পর্যটকেরা চরম ভোগান্তির শিকার হন। হোটেল-রিসোর্ট মালিকদের দাবি অনুযায়ী, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ না থাকায় এবং সেবার মান বিঘ্নিত হওয়ায় অন্তত ৩০ হাজার পর্যটক নির্ধারিত সময়ের আগেই কক্সবাজার ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন। তবে নতুন ব্যবস্থা চালু হওয়ার পর বর্তমানে লোডশেডিং প্রায় ৭০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে এবং তা এখন দিনে এক থেকে তিন ঘণ্টার মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে।
এই বিশেষ ট্রান্সফরমারটি স্থাপনের প্রক্রিয়াটি ছিল বেশ সময়সাপেক্ষ ও চ্যালেঞ্জিং। পর্যটন শহরের গুরুত্ব বিবেচনা করে গত ২৯ মে গাজীপুরের টঙ্গী থেকে ৪০ মেট্রিক টন ওজনের এই বিশালাকার ট্রান্সফরমারটি আনা হয়। এটি উপকেন্দ্রে নিতে সড়ক বিভাগের সহায়তায় ডিভাইডারের অংশ অপসারণ করতে হয়েছিল। এরপর প্রকৌশলী ও কারিগরি দলের কয়েক দিনের নিরলস পরিশ্রমে ওয়েল সেন্ট্রিফিউজিং, কমিশনিং ও সুরক্ষা পরীক্ষা শেষে গত শুক্রবার বিকেলে এটি চালু করা হয়। ওই সময় প্রচণ্ড তাপদাহ ও পর্যটকের আধিক্যের কারণে বিদ্যুতের চাহিদা ৪৫ মেগাওয়াট থেকে বেড়ে ৫০ মেগাওয়াটে পৌঁছেছিল, যা সামাল দিতে হিমশিম খেতে হয়েছে কর্তৃপক্ষকে।
কক্সবাজার বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুল কাদের গণী জানিয়েছেন, বর্তমানে শহরে বিদ্যুতের কোনো সুনির্দিষ্ট ঘাটতি নেই। তবে জেলা শহরে মাত্র একটি গ্রিড উপকেন্দ্র থাকায় সঞ্চালন লাইনে কোনো কারিগরি ত্রুটি দেখা দিলে নিরাপত্তার স্বার্থে সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ বন্ধ রাখতে হয়। পর্যটকদের সুবিধার্থে এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ প্রবাহ নিশ্চিত করতে বর্তমানে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। বিদ্যুৎ বিভাগ আশা করছে, নতুন এই ট্রান্সফরমার স্থাপনের ফলে নিকট ভবিষ্যতে শহরে বড় ধরনের কোনো লোডশেডিং হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
দামুড়হুদা সীমান্ত এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৯ লাখ ২ হাজার ৬৫০ টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য ও চোরাচালানী মালামাল জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। গত ৬ ও ৭ জুন চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়নের (৬ বিজিবি) অধীনস্থ দামুড়হুদার বড়বলদিয়া, সুলতানপুর ও বারাদী বিওপির টহল দল সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে এসব মালামাল আটক করে।
রবিবার (৭ জুন) দুপুরে বিজিবির পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আটককৃত অবৈধ মালামালের মধ্যে রয়েছে ৯ দশমিক ৯ কেজি ভারতীয় গাঁজা, ১৯ বোতল ভারতীয় মদ, ৪০৫ পিস ভারতীয় সিলডেনাফিল ট্যাবলেট, ১ হাজার ৮০০ পিস ভারতীয় ডেক্সামেথাসন ট্যাবলেট, ১৪ পিস ভারতীয় শাড়ি এবং ১টি ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক।
চুয়াডাঙ্গা-৬ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হাসান জানান, দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি সর্বদা সতর্ক ও তৎপর রয়েছে। সীমান্ত এলাকায় সকল ধরনের অবৈধ কার্যক্রম দমনে গোয়েন্দা নজরদারি, নিয়মিত টহল এবং বিশেষ অভিযান ভবিষ্যতেও আরও জোরদারভাবে অব্যাহত থাকবে।
তিনি আরও জানান, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সীমান্ত এলাকায় মাদক, চোরাচালান এবং অন্যান্য অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, দায়িত্বশীলতা ও আন্তরিকতার সঙ্গে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
কেএমপি উত্তর ও দক্ষিণ এবং গোয়েন্দা বিভাগ(ডিবি) পরিচালিত বিশেষ যৌথ অভিযানে সন্ত্রাসী পলাশ গ্রুপের সদস্য চিৎড়ি বাবুর সহযোগি কাজী রাফসান মাহমুদ পার্থসহ বিভিন্ন অপরাধে ৩৯ জন গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
কাজী রাফসান মাহমুদ চিহ্নিত সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজী, হত্যা মামলাসহ একাধিক মামলার আসামি।
আজ রোববার বেলা সাড়ে ১১টায় খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে- খুলনা মহানগর এলাকায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের সার্বিক নির্দেশনায় মহানগরীর বিভিন্ন থানা ও গোয়েন্দা বিভাগ কর্তৃক বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।
এরই ধারাবাহিকতায় ৬ জুন সন্ধ্যা ৬ টা হতে আজ রোববার (৭ জুন) সকাল ১০টা পর্যন্ত পরিচালিত বিশেষ অভিযানে বিভিন্ন অপরাধে মোট ৩৯ জন কে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে খুলনা থানা ৯ জন, সোনাডাঙ্গা মডেল থানা ৫ জন, লবণচরা থানা ১ জন, হরিণটানা থানা ৬ জন, খালিশপুর থানা ৪ জন, দৌলতপুর থানা ২ জন, আড়ংঘাটা থানা ৭ জন এবং খানজাহান আলী থানা ৫ জন রয়েছেন।
উল্লেখ্য, অভিযানে সন্ত্রাসী পলাশ গ্রুপের চিৎড়ি বাবুর সহযোগি এবং খুলনা সদর থানা এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজী, হত্যা মামলা সহ একাধিক মামলার আসামি কাজী রাফসান মাহমুদ পার্থ(৩০), ১০ জন মাদক কারবারি এবং ১ জন চোরকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় কেএমপি।
গ্রেফতাকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কর্তৃক মহানগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে সন্ত্রাস,চাঁদাবাজি, মাদক, ছিনতাইসহ সকল প্রকার অপরাধ দমন এবং শান্তিপূর্ণ আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখতে এ ধরনের বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়।
বিশ্বকাপ ফুটবলের মহাযুদ্ধ শুরু হতে আর মাত্র কয়েকটা দিন বাকি। মাঠের লড়াই শুরুর আগেই গ্যালারির পারদ চড়তে শুরু করেছে বাংলাদেশে। আর এই ফুটবল উন্মাদনার মধ্যেই মৌলভীবাজারের রাজনগরে ঘটে গেল এক নজিরবিহীন ও চটকদার ঘটনা! চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিলের 'আঁঁতুড়ঘর' ছেড়ে চিরশত্রু আর্জেন্টিনার শিবিরে যোগ দিয়েছেন ইমরান খান নামের এক যুবক। আর এই ঐতিহাসিক দলবদলকে স্মরণীয় করে রাখতে তাকে দুধ দিয়ে গোসল করিয়ে বরণ করে নিয়েছে আলবিসেলেস্তেরা!
শনিবার (৬ জুন) রাজনগর উপজেলায় ‘আর্জেন্টিনা ফ্যানস গ্রুপ অব মৌলভীবাজার’ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই ব্যতিক্রমী দৃশ্যের অবতারণা হয়।
ছোটবেলা থেকেই হলুদ জার্সি আর সাম্বার জাদুতে মজেছিলেন ইমরান খান। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সেলেসাওদের একের পর এক ভরাডুবি আর নিতে পারছিলেন না তিনি। দল পরিবর্তনের পর আবেগাপ্লুত ইমরান জানান, "কোপা আমেরিকা থেকে বিশ্বকাপ কোথাও ব্রাজিল কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পাচ্ছে না। প্রতিটি বড় টুর্নামেন্টে বুকভরা আশা নিয়ে বসি, আর দিনশেষে হতাশ হয়ে ফিরি। আর কত সহ্য করব? তাই এবার সব হতাশা ঝেড়ে ফেলে চ্যাম্পিয়নদের শিবিরে নাম লেখালাম।"
শনিবার সকাল থেকেই রাজনগরে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। কেক কেটে আর্জেন্টিনা দলের শুভকামনা জানানোর পাশাপাশি চলে ইমরানকে বরণের প্রস্তুতি। শত শত সমর্থকের উপস্থিতিতে ড্রাম আর বাদ্যযন্ত্রের তালে ইমরানকে দুধ ঢেলে গোসল করানো হয়। আর্জেন্টিনার সমর্থকদের দাবি, "ব্রাজিল সমর্থন করার যে দুঃখ বা কষ্ট ছিল, দুধ দিয়ে গোসল করিয়ে তা ধুয়ে-মুছে তাকে খাঁটি আর্জেন্টাইন বানানো হলো।"
ব্যতিক্রমী এই আয়োজনে রাজনগরের ফুটবলপ্রেমীদের সাথে শামিল হয়েছিলেন স্থানীয় প্রশাসনের শীর্ষ ব্যক্তিরাও। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন,
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিপুল শিকদার,
রাজনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফরিদ উদ্দিন আহমদ ভূঁইয়া, ইউপি চেয়ারম্যান জুবায়ের আহমদ চৌধুরী, স্থানীয় বিএনপি নেতা আব্দুল কাইয়ুম বকুল। আলোচনা সভা শেষে এক বর্ণাঢ্য র্যালি উপজেলার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। নাচ-গান, ভুভুজেলা আর রঙ-বেরঙের পতাকায় পুরো রাজনগর যেন রূপ নেয় এক টুকরো বুয়েনস আইরেসে।
‘আর্জেন্টিনা ফ্যানস গ্রুপ অব মৌলভীবাজার’-এর অ্যাডমিন ফুয়াদ আহমদ মুরাদ বলেন, "বিশ্বকাপের আগে আমাদের উন্মাদনা তো ছিলই, তবে একজন ব্রাজিল সমর্থকের আমাদের শিবিরে চলে আসা এবং তাকে দুধ দিয়ে গোসল করিয়ে বরণ করে নেওয়ার ঘটনাটি পুরো আয়োজনকে ভিন্ন মাত্রা দিয়েছে।"
আগামী ১১ জুন থেকে শুরু হচ্ছে ফুটবল বিশ্বকাপের মহারণ। কার হাতে উঠবে সোনালি ট্রফি, তা জানা যাবে ১৯ জুলাইয়ের ফাইনালে। তবে মাঠের খেলা শুরুর আগেই রাজনগরের এই দুধ-গোসলের গল্প যে এবারের বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা 'টক অব দ্য কান্ট্রি' হতে যাচ্ছে, তা বলাই বাহুল্য!
মন্তব্য