সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলায় মাদক সেবনরত অবস্থায় নুরুল ইসলাম (৫৭) নামের এক ব্যক্তিকে আটক করেছে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে তাকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ২,০০০ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে তাড়াশ উপজেলার সগুনা ইউনিয়নের ঈশ্বরপুর গ্রামে। দণ্ডিত নুরুল ইসলাম ওই গ্রামের মৃত কলি প্রামাণিকের ছেলে।
আদালত সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একটি দল ঈশ্বরপুর গ্রামে অভিযান চালায়। অভিযানে মাদক সেবনরত অবস্থায় নুরুল ইসলামকে হাতেনাতে আটক করা হয়।
পরবর্তীতে সেখানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন তাড়াশ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এ জেড এম নাহিদ হাসান। তিনি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে আটককৃত নুরুল ইসলামকে ১ মাসের কারাদণ্ড এবং ২,০০০ টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও মেয়াদের শাস্তির আদেশ দেন।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এ জেড এম নাহিদ হাসান জানান, মাদকের বিরুদ্ধে প্রশাসনের এমন অভিযান নিয়মিত চলমান থাকবে। তরুণ সমাজ ও এলাকাকে মাদকমুক্ত করতে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
দণ্ডিত আসামিকে সাজা পরোয়ানা মূলে সিরাজগঞ্জ জেলা কারাগারে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।
ভারতীয় বাহিনী বিএসএফ এর পুশইন নিয়ে যখন বাংলাদেশের সিমান্ত এলাকায় তৎপর বিজিবি। ঠিক তখন মেহেরপুর জেলার প্রশাসনের চোখ ফাকি দিয়ে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করলো ৭ জন।
অথচ এই ৭জনের অনুপ্রবেশের কোন অফিসিয়্যাল তথ্য নেই প্রশাসনের কাছে।
স্থানীয়রা বলছেন আজ শনিবার ভোরে মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার তেতুলবাড়িয়া বাংলাদেশ সিমান্তের ১৪০ এর ৪ এস পিলার এলাকায় পুশইনের এ এঘটনা ঘটে। বিজিবির কর্মব্যাক্তিরা বলছেন পুশইনের ব্যাপারে কোন তথ্য নেই তাদের কাছে।
সিমান্ত এলাকার বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আজ মধ্যরাতে ভারতীয় সিমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ৭ জনকে পুশইন করে। তারা রাতে এই এলাকার বিভিন্ন বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে, ভোরের দিকে গাড়িতে বিভিন্ন এলাকায় চলে যায়। যাদের মধ্যে ৩ জন নারী ও ৪ জন পুরুষ ছিলেন।
অনুপ্রবেশকারিদের বহণ করা ভ্যান চালক আকুববার বলেন,আজ ভোরে আমাকে ৬ জন যাত্রী ব্যাগ হাতে নিয়ে বলে। আমাদের শহরে বাস চলাচল করে এমন স্থানে নিয়ে যাবেন। তাতে ভাড়া কত নেবেন? আমি বলি ৩০০ টাকা লাগবে। তাতে তারা রাজি হয়। এবং বিকাশের মাধ্যমে টাকা উঠিয়ে আমাকে ভাড়া প্রদান করে ও বাকি টাকা তাদের কাছে রাখে। আমার সাথে কথা বলার সময় তারা বলেছিলো আমাদের বাড়ি গোপালগঞ্জ ও মাগুরা জেলাতে।
সিমান্ত এলাকা তেতুলবাড়িয়া গ্রামের মাসুম আলী বলেন, আমার বাড়ি সিমান্ত এলাকার ১৪০ এর ৪ এস সাথেই। গতরাতে মধ্যরাতে এক মেয়ে আমাদের আম বাগানে এসে আশ্রয় নেই। তবে সে কোন কথা বলছে না। শুধু একটা কথা বলছে আমার নাম রোজিনা। বলে কান্না করছে। তবে বিজিবি কিংবা পুলিশ বিষয়টি কেও জানে না।
এই অঞ্চল নিয়ন্ত্রণকারী কুষ্টিয়া ৪৭ বিজিবির সহকারি পরিচালক নুরুল হুদা বলেন, আমাদের জানামতে এঅঞ্চল দিয়ে কোন পুশইনের ঘটনা ঘটেনি। তবে হতে আরে দির্ঘ এলাকায় বিএসএফের সদস্যরা গোপনে তারকাটার যেকোন একপাশ দিয়ে বাংলাদেশ এলাকায় পুশইন করেছে। যার অফিসিয়াল কোন তথ্য আমাদের কাছে নেই। সে ক্ষেত্রে সকলের সহযোগিতা কামনা করছি।
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে যাত্রীবাহী বাস ও পিকআপ ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে লোকমান মিয়া (২২) নামে এক পিকআপচালক নিহত হয়েছেন। শনিবার (৬ জুন) ভোর ৫টা ৪০ মিনিটের দিকে উপজেলার সাতগাঁও চৌমুহনা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের পর পিকআপ ভ্যানটি দুমড়ে-মুচড়ে গেলে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত লোকমান মিয়া উপজেলার পশ্চিম শ্রীমঙ্গল লালবাগ এলাকার শাহ আলমের ছেলে। তিনি দুর্ঘটনাকবলিত পিকআপ ভ্যানটির চালক ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ময়মনসিংহ থেকে সিলেটগামী যাত্রীবাহী একটি বাস সাতগাঁও এলাকায় একটি যানবাহনকে ওভারটেক করার সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি পিকআপ ভ্যানের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে পিকআপ ভ্যানটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
শ্রীমঙ্গল ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা সোলায়মান আকঞ্জি জানান, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। হাইড্রোলিক স্প্রেডারের সাহায্যে পিকআপ ভ্যানের ভেতর থেকে চালককে উদ্ধার করে শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. নিশাত নওয়াব মুমু বলেন, ভোর পনে ৬টার দিকে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত একজনকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছিল।
সাতগাঁও হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুন রহমান বলেন, দুর্ঘটনায় পিকআপচালক ঘটনাস্থলেই নিহত হন। দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও পিকআপ ভ্যান জব্দ করে হাইওয়ে পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
যশোরের শার্শা উপজেলার বেনাপোল পৌরসভার বড়আচড়া গ্রামে ব্যবসায়িক লেনদেন-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে সোহাগ হোসেন (৩৬) নামে এক যুবককে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ার ঘটনা ঘটেছে।
গতকাল শুক্রবার (৫ জুন) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। তবে গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ায় সোহাগ হোসেন প্রাণে রক্ষা পান।
সোহাগ বড়আচড়া গ্রামের মৃত হায়দার আলীর ছেলে। সে নিজ বাড়িতে থাকেন না। একই গ্রামের চেকপোস্ট এলাকার মশিয়ারের বাড়ির নিচতলায় ভাড়া থাকেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুর্বৃত্তরা ঘরের বাইরে থেকে সোহাগকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। গুলিটি জানালা ভেদ করে ঘরে প্রবেশ করলেও লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে জানালা ও দরজা ভেদ করে বাইরে চলে যায়। এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
সোহাগ জানান, রাত ১০ টার সময় অফিস থেকে বাসায় ফেরার কিছুক্ষণ পরেই ১০ থেকে ১২ জনের একটি দল তাঁর বাড়িতে এসে হুমকি দেয়। একপর্যায়ে তারা ঘরের জানালার কাচ ও দরজা লক্ষ্য করে তিনটি গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়। এ সময় তিনি অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পান।পূর্বের একটি ব্যবসায়িক লেনদেন সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এ হামলা ঘটে থাকতে পারে। ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করলে জড়িতদের শনাক্ত করা সম্ভব হবে।
এলাকাটি জনবসতিপূর্ণ হওয়ায় প্রকাশ্যে গুলির ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অনেকে।
বেনাপোল পোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি আশরাফ হোসেন জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ব্যবহার করা গুলি ও তার খোসাসহ বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ব্যবসায়িক লেনদেন-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এ গুলাগুলির ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।’
‘সবাই মিলে ডেঙ্গু প্রতিরোধ করি, নিজ আঙিনা পরিষ্কার রাখি’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে শেরপুরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি লক্ষ্যে র্যালি ও পরিচ্ছন্নতা প্রচার অভিযান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (৬ জুন) সকালে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের উদ্যোগে জেলা সদর হাসপাতাল প্রাঙ্গণ থেকে র্যালিটির উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন।
এ সময় তিনি বলেন, “ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা অভিযানের পাশাপাশি জনসচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। এডিস মশার বংশবিস্তার রোধে সবাইকে নিজ নিজ বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।”
র্যালিতে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার এ কে এম জহিরুল ইসলাম, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক ও পৌর প্রশাসক আরিফা সিদ্দিকা, সিভিল সার্জন ডা. মুহাম্মদ শাহীন, জেলা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. সেলিম মিয়া, প্রেসক্লাব সভাপতি কাকন রেজাসহ জেলা প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ ও পৌরসভার বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারী।
র্যালিটি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে অতিথিরা পরিচ্ছন্নতা প্রচার কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।
নওগাঁর সাপাহার সীমান্ত এলাকায় নারী পুরুষ এবং শিশুসহ ১৭ জনকে পুশইনের চেষ্টা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়েছে। সীমান্তে বিজিবির কঠোর অবস্থানে থাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) পুশইনের জন্য আনা সব ব্যক্তিকেই নিজ ফিরিয়ে নিয়েছে।
শুক্রবার (৫ জুন) দিবাগত রাত ১টার দিকে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) সদস্যরা তাদেরকে দেশে ফিরিয়ে নিয়ে যায়।
শনিবার (৬ জুন) সকালে বিষয়টি নওগাঁ ব্যাটালিয়ান ১৬ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে গতকাল শুক্রবার (৫ জুন) সকাল সাড়ে সাতটার সাপাহার উপজেলার হাঁপানিয়া সীমান্তের ২৩৮/এমপি সীমান্ত পিলার দিয়ে ১৭ জনকে পুশইনের চেষ্টা চালায় বিএসএফ। দীর্ঘ ১৯ ঘন্টা যাবত এই চেষ্টা অব্যাহত রাখে দেশটির সীমান্তরক্ষী বাহিনী। ১৭ জনকে অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালানোর সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে কড়া অবস্থান নেয় বিজিবি সদস্যরা। ফলে দিনভর তারা শূন্যরেখা ও ভারতীয় সীমান্তের ভেতরে অবস্থান করলেও বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারেননি। তাদের বাংলাদেশি বলা হলেও বিএসএফের সাথে বিজিবির পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও বিএসএফের পক্ষ থেকে কোন প্রমাণাদি দেখাতে না পারায় তাদের দেশের নেয়া হয়নি। ১৭ জনের মধ্যে ৬ জন পুরুষ ৬ জন নারী এবং পাঁচজন শিশু রয়েছে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী কলমুডাঙ্গা গ্রামের ট্রাক্টর চালক মাহবুব আলম বলেন, ওই ১৭ জনকে বিজিবি সদস্যরা পাহারা দিয়ে রেখেছিল। রাত ১১টার দিকে আমার ট্রাক্টরে ধান লোড দিচ্ছিলাম তখনো বিজিবি সদস্যরা সেখানে ছিলো। এরপর বিএসএফ সদস্যরা তাদেরকে টেনে হিঁচড়ে ভারতে নিয়ে যায়। তারা বিএসএফ সদস্যদের সঙ্গে যেতে চাচ্ছিল না। নিয়ে যাওয়ার সময় তারা অনেক কান্নাকাটি করছিল। তাদের কান্নার শব্দ শুনে আমরা সামনে এগিয়ে গিয়েছিলাম। তখন বিএসএফ আমাদেরকে বাধা দিয়ে তাদেরকে নিয়ে চলে যায়।
নওগাঁ ব্যাটালিয়ান ১৬ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম বলেন, খবর পাওয়ার পর ওই স্থানে বিজিবির টহল বৃদ্ধি করা হয়। মানবিক দিক বিবেচনা করে শুরুতে শূন্য লাইতে থাকতে দিলেও সন্ধ্যার পরে তাদেরকে নো-ম্যান্সল্যান্ডে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। রাত একটার দিকে বিএসএফ সদস্যরা সীমান্তের লাইট বন্ধ করে দেন। এরপর রাতের আঁধারে তারা পুশইনের চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে ভারতে ফিরিয়ে নিয়েছেন বলে ধারণা করা যাচ্ছে। সীমান্তের ওই এলাকাতে বিজিবির টহল জোরদার রয়েছে।
বরগুনার আমতলীতে যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী দুলাভাই ও শ্যালকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও এক কিশোর গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। শুক্রবার (৫ জুন) রাত ৮টার দিকে ঢাকা-কুয়াকাটা আঞ্চলিক মহাসড়কের আমতলী উপজেলার শাখারিয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার লালুয়া গ্রামের মধু হাওলাদারের ছেলে মো. সজীব হাওলাদার (২৫) এবং তাঁর শ্যালক সাইফুল ইসলাম (১৬)। আহত আছাদুল ইসলাম (১৪) সাইফুলের ছোট ভাই। তাঁকে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সজীব হাওলাদার মোটরসাইকেলে তাঁর দুই শ্যালক সাইফুল ও আছাদুলকে নিয়ে পটুয়াখালী থেকে কলাপাড়ার দিকে যাচ্ছিলেন। রাত ৮টার দিকে তারা শাখারিয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকা অতিক্রম করার সময় কুয়াকাটা থেকে ছেড়ে আসা সম্রাট পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দেয়।
ধাক্কার ফলে মোটরসাইকেলটি সড়কে ছিটকে পড়ে। ঘটনাস্থলেই মোটরসাইকেলচালক সজীব হাওলাদারের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় সাইফুল ইসলাম ও আছাদুল ইসলামকে উদ্ধার করে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাইফুল ইসলামের মৃত্যু হয়। আহত আছাদুল বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে ভিড় করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং দুর্ঘটনাকবলিত মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করে।
আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু শাহাদাৎ মোহাম্মদ হাচনাইন পারভেজ বলেন, “দুর্ঘটনার পরপরই বাসটির চালক ও তাঁর সহকারী পালিয়ে যান। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।”
এ ঘটনায় নিহতদের পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একই দুর্ঘটনায় পরিবারের দুই সদস্যের মৃত্যু এবং আরেকজনের গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনায় এলাকাজুড়ে গভীর শোকের সৃষ্টি হয়েছে।
মন্তব্য